Dawah wa Tablig Islamic Website

Site Contact = Mob no. 01783385346 :: Email Address = shalampb@gmail.com
Dua & Jikir

INDEX

  1. ভুমিকা
  2. যিকিরের ফযীলত
  3. যিকিরের উপকারিতা
  4. যিকিরের প্রকার
  5. তিলাঅতের ফযীলত
  6. দু‘আর ফযীলত
  7. দু’আর আদব
  8. কখন ও কোথায় দু‘আ কুবল হয়
  9. দু‘আ কবুল না হওয়ার কারণ
  10. দু‘আ কবুল হওয়ার কারণ
  11. শুদ্ধ দু‘আ
  12. তাসবীহ ও তাহলীল
  13. সকাল সন্ধ্যার যিকর
  14. শয়নকালের দু‘আ ও যিকির
  15. ঘুম না এলে
  16. রাত্রে ভয় পেলে
  17. দুঃস্বপ্ন দেখলে
  18. রাত্রিকালে ইবাদতের ফযীলত
  19. ঘুম থেকে জাগার পর যিকর।
  20. কাপড় পরার দু‘আ
  21. নতুন কাপড় পড়ার দু‘আ
  22. কাউকে নতুন কাপড় পরতে দেখলে
  23. কাপড় খোলার সময়
  24. প্রস্রাব-পায়খানায় প্রবেশের পূর্বে দু‘আ
  25. প্রস্রাব-পায়খানার স্থান থেকে বের হয়ে
  26. ওযুর পূর্বে ও পরে যিকর
  27. ঘর থেকে বের হতে
  28. ঘরে প্রবেশ করতে

সালাত

  1. মসজিদে যেতে পথে দু‘আ
  2. মসজিদে প্রবেশ করতে দু‘আ
  3. মসজিদ থেকে বের হতে দু‘আ
  4. আযানে সময় বলবে
  5. সালাত শুরুর সময় পাঠ করবে
  6. কিতপয় আয়াতের জওয়াব
  7. রুকুর যিকর
  8. রুকু থেকে উঠে
  9. সিজদার যিকর
  10. দুই সিজদার মাঝে
  11. তেলাঅতের সিজদায়
  12. তাশাহহুদ
  13. দরূদ
  14. দু‘আয়ে মাসূরাহ
  15. ফরয সালাতের পরে যিকর
  16. ইস্তিখারার দু‘আ
  17. দু ‘আয়ে কুনূত
  18. ঈদের তাকবীর
  19. হজ্জ
  20. উমরার নিয়তকালে পাঠ
  21. তালবিয়্যাহ
  22. কা‘বা দর্শনের সময়
  23. তাওয়াফ কালে দুই রুকনের মাঝে
  24. মাক্বামে ইবরাহীমে পৌঁছে
  25. স্বাফা পর্বতে পৌঁছে
  26. স্বাফা ও মারওয়ায় চড়ে
  27. সাঈর দু‘আ
  28. আরাফাতের বিশেষ দু‘আ
  29. যবেহ করার সময়

Dua Jikir Jhar-Fuk

Page 1

সহীহ দু‘আ যিকির ও ঝাড়ফুঁক

আব্দুল হামীদ ফাইযী আল-মাদানী

বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক ইসলামী গবেষক, লেখক, মুহাক্কিক আলিম ও দাঈ।

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

ভূমিকা

اَلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، وَالصَّلَاةُ وَالصَّلَامُ عَلَٰى سَيِّدِ الْمُرْسَلِيْنَ، وَعَلَٰى آَلِهِ وَصَحْبِهِ أَجْمَعِينَ- ، بَعْدُ:

সহীহ সুন্নাহ বা হাদীস দ্বারা শুদ্ধ আমল ও ইবাদত করতে বাংলার মুসলিম সমাজকে অনুপ্রাণিত করার উদ্দেশ্যে এটি একটি ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। যেহেতু সন্দিগ্ধ যঈফ হাদীসকে ভিত্তি করে কোন আমল করার চেয়ে সহীহ হাদীসকেই ভিত্তি করে নিঃসন্দেহে নিশ্চিতরূপে আমল করাটাই উত্তম। কারণ যঈফ হাদীস দ্বারা আমল ‘বিদআত’ বলে পরিগণিত। তাঁরা অত্র পুস্তিকা দ্বারা প্রভূত উপকৃত হবেন, এতে কোন সন্দেহ নেই। আল্লাহ আমাদেরকে তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লামের বিশুদ্ধ অনুসরণের সাথে তাঁকে সর্বদা স্মরণকারীদের দলভুক্ত করুন। আমীন।

আব্দূল হামীদ মাদানী

যিকরের ফযীলত

‘যিকর’ এর অর্থ স্মরণ। মু’মিন সর্বদা আল্লাহর রহমত ছায়ায় প্রতিপালিত, তার জীবন আল্লাহর দয়াবারিতে সদা সিক্ত। তার জীবনের সকল কিছুই আল্লাহর দান। প্রতি পদে তাকে আল্লাহরই আনুগত্য করতে হয়। আল্লাহই তার স্রষ্টা, মলিক, বিধানকর্তা এবং একমাত্র উপাস্য। তাই তার নিকটে আল্লাহ সদা স্মরণীয়। অন্তরে, মুখে ও কর্মে তাঁর যিকর করা মুসলিমের অপরিহার্য কর্তব্য। আল্লাহ তাআলা বলেন, ﴿وَلَذِكْرُ اللهِ أَكْبَرُ﴾ অর্থাৎ, আল্লাহর যিকর (স্মরণই) সবচেয়ে বড়। [সূরা আনাকূত ৪৫] তিনি আরো বলেনঃ

فَاذْكُرُونِي أَذْكُرُوكُمْ وَاشْكُرُوالِي وَلَا تَكْفُرُونِ،

অর্থাৎ, অতএব তোমরা আমাকে স্মরণ কর আমিও তোমাদেরকে স্মরণ করব। তোমরা আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হও এবং কৃতঘ্ন হয়ো না। [সূরা বাক্বারাহ ১৫২]

তিনি অন্যত্র বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে অধিক মাত্রায় স্মরণ কর। [সূরা আহযাব ৪১]

তিনি আরো বলেনঃ ‘আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী নারী এদের জন্য আল্লাহ ক্ষমা ও মহা প্রতিদান রেখেছেন’। [সূরা আহযাব ৩৫]

তিনি আরো বলেনঃ ‘হে মু’মিনগণ তোমাদের ঐশ্বর্য ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণে উদাসীন না করে, যারা উদাসীন হবে তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত’। [সূরা মুনাফিকূন ৯]

তিনি আরো বলেনঃ ‘সেই সমস্ত গৃহে – যে সমস্ত গৃহকে আল্লাহ নির্মাণ ও সম্মান করতে এবং তাতে তাঁর নাম স্মরণ করতে আদেশ দিয়েছেন সেখানে সকাল-সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে সে সব লোক, যাদেরকে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ হতে এবং সালাত কায়েম ও যাকাত প্রদান করা হতে বিরত রাখে না। তারা ভয় করে সেদিনকে, যেদিন তাদের অন্তর ও দৃষ্টি ভীত-বহ্বল হয়ে পড়বে। [সূরা নূর ৩৭]

তুমি তোমার প্রতিপালককে মনে মনে সবিনয় ও সশঙ্কচিত্তে অনুচ্চস্বরে প্রত্যুষে ও সন্ধ্যায় স্মরণ কর এবং উদাসীনদের দলভুক্ত হয়ো না। [সূরা আ’রাফ ২০৫]

তিনি অন্যত্র বলেনঃ ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা যখন কোন দলের সম্মুখীন হবে, তখন অবিচলিত থাক এবং আল্লাহকে অধিক অধিক স্বরণ কর; যাতে তোমরা সফলকাম হও। [সূরা আনফাল ৪৫]

তিনি আরো বলেনঃ ‘অতঃপর তোমরা যখন হ্জ্জ সম্পন্ন করে নেবে, তখন আল্লাহকে এমনভাবে স্মরণ করবে যেমন তোমরা তোমাদের পিতৃপুরুষকে স্মরণ করতে অথবা তদাপেক্ষা গভীরভাবে’। [সূরা বাকারাহ ২০০]

তিনি আরো বলেনঃ ‘অতঃপর সালাত সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পর এবং আল্লাহর অনুগ্রহ অনুসন্ধান কর ও আল্লাহকে অধিক মাত্রায় স্মরণ কর; যাতে তোমরা সফলকাম হও’। [সূরা জুমুআহ ১০]

তিনি আরো বলেনঃ ‘সে (ইউনুস) যদি আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা না করত, তাহলে সে পুনরুত্থান-দিবস পর্যন্ত সেথায় (মাছের পেটে) অবস্থান করত’। [সূরা স্বা-ফাফাত ১৪৩-১৪৪]

আল্লাহর রসূল (সাঃ) বলেনঃ ‘কোন সম্প্রদায় আল্লাহর যিকির করতে বসে তখন ফিরিস্তামণ্ডলী তাদেরকে বেষ্টিত করেন, আল্লাহর রহমত তাদেরকে ছেয়ে নেয়, তাদের উপর শান্তি বর্ষণ হয় এবং আল্লাহ তাদের নিকটবর্তী ফিরিস্তাবর্গের নিকট তাদের কথা আলোচনা করেন’। [মুসলিম ৪/২০৭৪]

‘আল্লাহর ভ্রমণরত অতিরিক্ত ফিরিস্তাদল আছেন, যাঁরা যিকিরকারীদের অনুসন্ধান করতে থাকেন’। [বুখারী ৭/১৬৭ ও মসুলিম ৪/২০৬৯]

‘যে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং এবং যে করে না, উভয়ের উপমা জীবিত ও মৃতের ন্যায়’। [বুখারী ৭/১৬৮, মুসলিম ১/৫৩৯]

‘আমি কি তোমাদেরকে তোমাদের উত্তম কাজের সন্ধান দেব না? যা তোমাদের প্রভুর নিকট সবচেয়ে পবিত্র, তোমাদের মর্যদায় সব চেয়ে উচু, সোন-চাঁদি দান করার চেয়ে উত্তম এবং শত্রুর সম্মুখীন হয়ে গর্দান কাটা ও কাটানোর চেয়ে শ্রেয়’। সকলে বললেন, ‘নিশ্চয় বলে দিন’। তিনি বললেন, ‘আল্লাহ তাআলার যিকর’। [তিরমিযী ৫/৪৫৮, ইবনে মাযাহ ২/১২৪৫, সহীহুল জামে ২৬২৯]

‘আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি আমার বন্দার ধারণার কাছে থাকি। যখন সে আমাকে স্মরণ করে তখন আমি তার সঙ্গে থাকি। যদি সে আমাকে অন্তরে স্মরণ করে তাহলে তাকেও আমি আমার অন্তরে স্মরণ করি, যদি সে আমাকে কোন সভায় স্মরণ করে তবে আমি তাকে তার চেয়ে উত্তম সভায় স্মরণ করে থাকি। [বুখারী ৮/১৭১, মুসলিম ৪/২০৬১]

‘মুফার্রিদগণ আগে বেড়ে গেছে’। সকলে জিজ্ঞাসা করল, ‘মুফার্রিদ কারা? তিনি বললেন, ‘আল্লাহকে অধিক অধিক যিকিরকারী পুরুষ ও নারী’। [মুসলিম ৪/২০৬২]

‘এক ব্যক্তি বলল. ‘হে আল্লাহর রসূল! কল্যাণের দরজা তো অনেক। তার সবটা পালন করতে আমি সক্ষম নই। অতএব আমাকে এমন কাজের সন্ধান দিন, যাতে আমি দৃঢ়ভাবে ধরে থাকব, আর অধিক ভার দিবেন না যাতে আমি ভুলে না যাই (যেহেতু আমি বৃদ্ধ হয়েগেছি)’। তিনি বললেন, “তোমার জিহ্বা যেন সর্বদা আল্লহার যিকরে আদ্র থাকে”।

‘যে ব্যক্তি এমন মজলিমসে বসে, যেখানে সে আল্লাহর যিকির করে না (এর জন্য) আল্লাহর তারফ থেকে তার উপর পরিতাপ আসবে’। [আবুদাউদ ৪/২৬৪, সহীহুল জা-মে; ৫/৩৪২]

যিকিরের উপকারিতা

আল্লাহর যিকর ও স্মরণে শতাধিক উপকারিতা ও লাভ আছে। যেমন, শয়তান দূর করে, রহমানকে সন্তুষ্ট করে, অন্তর থেকে দুশ্চিন্তা দূর করে ও অশান্তি অপসারণ করে, হৃদয়ে প্রশান্তি ও উৎফুল্লতা আনে, দেহ-মনকে সবল করে, চিত্তকে জ্যোতির্ময় করে, মুখমণ্ডলকে দীপ্তিময় করে, রুযী আনয়ন করে, আল্লাহর ভালোবাসা দান করে, জীবনে আল্লাহর ভীতি আনে, মু’মিনকে আল্লাহর প্রতি প্রত্যার্বতন করায়, অন্তর জীবিত করে, পাপ মুক্ত করে, পরচর্চা, গীবত, চুগলী, গালমন্দ, মিথ্যা, অশ্লীলতা, বাজে ও অসার কথা থেকে দূরে রাখে, কিয়ামতের পরিতাপ থেকে নিষ্কৃতি দেয়, নির্জনে ক্রন্দনের সাথে যিকরকারীকে ছায়াহীন কিয়ামতে আল্লাহর আরশ তলে ছায়া দান করে, হৃদয়ের শূন্যতা ও প্রয়োজন দূর করে, মু’মিনকে সতর্ক ও সংযমী করে, বন্ধুত্ব, প্রেম, সাহায্য ও প্রেরণার মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গতা দান করে, অত্যাধিক নেকী ও পুরস্কারের অধিকারী করে, হৃদয়ের কঠোরতা দূর করে, মনের রোগ নিরাময় করে।

যিকরকারীর জন্য ফিরিশতা দু’আ করেন, যিকিরকারীদের নিয়ে আল্লাহ তাআলা ফিরিস্তাবর্গের নিকট গর্ব করেন। যিকর কৃতজ্ঞতার মস্তক, যিকর দু’আকে কবুলের যোগ্য করে, মু’মিনকে আল্লাহর আনুগত্যে সহায়তা করে, মুশকিল আসান করে, বিপদ ও বালা দূর করে, অন্তর থেকে সৃষ্টির ভয় দূর করে, মেহনতের কাজে শক্তি প্রদান করে, যিকরে আছে মিষ্টি স্বাদ, আল্লাহর ভালবাসা ইত্যাদি। [বিস্তারিত দ্রষ্টব্য, আল-ওয়া-বিলুস স্বইয়িব, ইবনুল কাইয়্যেম]

যিকর এর প্রকার

যিকির দুই প্রকারঃ
  1. আল্লাহ তাআলার সুন্দরতম নামাবলী এবং মহত্তম গুণাবলীর যিকর করা, এসব দ্বারা তাঁর প্রশংসা ও গুণাগান করা এবং আল্লাহর জন্য যা উপযুক্ত নয় তা থেকে তাঁকে পাক ও পবিত্র মনে করা। এই যিকর আবার দুই প্রকারঃ
  2. ক) আল্লাহর নাম ও গুণাবলী দ্বারা তাঁর প্রশংসা রচনা করা। যেমন ‘সুবহান আল্লাহ’, ‘আলহামদু লিল্লাহ’, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’, ‘আল্লাহু আকবার’ প্রভৃতি।

    খ) আল্লাহর নাম ও গুণাবলী অর্থ ও আহকাম উল্লেখ করা। যেমন বলা যে, আল্লাহ তাআলা বান্দার সমস্ত শব্দ শুনেন, সকল স্পন্দন দেখেন তাঁর নিকট কোন কর্মই গুপ্ত থাকে না, বান্দার মাতা-পিতা অপেক্ষা তিনিই বান্দার উপর অধিক দয়াশীল। তিনি সর্ব বিষয়ে সর্বশক্তিমান ইত্যাদি।

    কিন্তু এ ক্ষেত্রে সতর্কতার বিষয় এই যে, যিকরকারী যেন সেই নাম ও গুণের কথাই উল্লেখ করে, যার দ্বারা আল্লাহ পাক নিজের প্রশংসা করেছেন অথবা তাঁর রসূল (সাঃ) যার দ্বারা তাঁর গুণগান করেছেন। এতে যেন কোন প্রকারের হেরফের ও দৃষ্টান্ত বা উপমা বর্ণনা না করা হয় এবং গুণের দলীলকে নিরর্থক বা আল্লাহকে ঐ গুণহীন মনে না করা হয়। যেমন ঐ সকল নাম ও সিফাতের কোন দূর-ব্যাখ্যা কারাও বৈধ নয়।

    পক্ষান্তরে এই যিকির আবার তিন প্রকারেরঃ হামদ, সানা এবং মাজদ। সন্তোষ ও ভক্তির সাথে আল্লাহর সিফাত-কামাল উল্লেখ করে প্রশংসা করাকে ‘হামদ’ বলা হয়। গুণের পর আরো গুণগানের উল্লেখ করে প্রশংসা করাকে ‘সানা’ বলা হয় এবং আল্লাহর মাহাত্ম্য ও শান-শওকত এবং মহিমা ও সার্বভৌমত্বের গুণাবলী দ্বারা প্রশংসা করাকে ‘মাজদ’ বলা হয়।এই তিন প্রকার প্রশংসা সূরা ফাতিহার প্রারম্ভে একত্রিত হয়েছে। অতএব বান্দা যখন সালাতে বলে ﴿اَلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمينَ﴾ অর্থাৎ, ‘সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর নিমিত্তে’ তখন আল্লাহ বলেন, ‘বান্দা আমার প্রশংসা করল।’ যখন বলে, ﴿اَلرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ﴾ অর্থাৎ, ‘যিনি অনন্ত করুনাময়, পরম দয়ালু’ তখন আল্লাহ বলেন, ‘বান্দা আমার স্তুতি বর্ণনা করল’। আর বান্দা যখন বলে, ﴿مَالِكِيَوْمِ الدِّين﴾ অর্থাৎ ‘বিচার দিনের অধিপতি’ তখন আল্লাহ তাআআ বলেন, ‘বান্দ আমার গৌরব বণনা করল’। [মুসলিম ৩৯৫]

  3. আল্লাহর আদেশ, নিষেধ এবং বিভিন্ন অনুশাসনের যিকর (স্মরণ) করা। এটিও দুই রকমঃ
  4. ক) আল্লাহর বিধান উল্লেখ ও জ্ঞাপন করে তাঁর স্মরণ করা। যেমন- বলা যে, আল্লাহ এই করতে আদেশ করেছেন, অমুক করতে নিষেধ করেছেন, তিনি এই কাজে সন্তুষ্ট, ঐ কাজে রাগন্বিত ইত্যাদি।

    খ) তাঁর বিধান ও অনুশাসন পালন করে তাঁর যিকর (স্মরণ) করা, যেমন- যে কাজ তিনি আদেশ করেছেন সত্বর তা পালন করে তাঁর যিকর করা, যা নিষেধ করেছেন সত্বর তা বর্জন করে তাঁর স্মরণ করা। এই সকল যিকর যদি যিকরকারীর নিকট একত্রিত হয়, তবে তার যিকর শ্রেষ্ঠতম যিকর।

    যিকরের আরো এক প্রকার যিকর- আল্লাহ তা’আলার দেওয়া সম্পদ, দান অনুগ্রহ, সাহায্য ইত্যাদির স্থান ও কাল প্রভৃতি উল্লেখ করে যিকর (কৃতজ্ঞতা) করা। এটাও এক উত্তম যিকর।

সুতরাং উক্ত পাঁচ প্রকার যিকর, যা কখনো অন্তর ও রসনা দ্বারা হয় এবং এটাই সর্বশ্রেষ্ঠ যিকর। আবার কখনো কেবল অন্তর দ্বারা হয়, যা দ্বিতীয় পর্যায়ের এবং কখনো বা কেবল রসনা দ্বারা হয়, যা তৃতীয় পর্যায়ের। ২ নং যিকর হলে অন্যান্য অঙ্গ দ্বারা কার্যে পরিণত করাও যিকর হয়। অতএব মু’মিনের সারা জীবন ও জীবনের প্রতি মুহূর্তটাই যিকরের স্থল। যেমন- রাসূল (সাঃ) এর যিকরে আমরা বুঝতে পারব।

উল্লেখ্য যে, দু’আ অপেক্ষা যিকর উত্তম। যেহেতু যিকরে আল্লাহ তা’আলার সুন্দরতম নাম, মহিমাময় গুণ ইত্যাদির সাথে তাঁর প্রশংসা করা হয়। কিন্তু দু’আতে বান্দা নিজের প্রয়োজন আল্লাহর নিকট জানিয়ে তার পূরণভিক্ষা করে থাকে। যে দুইয়ের মাঝে রয়েছে বিরাট পার্থক্য। আবার যিকর অপেক্ষা কুরআন তেলাঅত উত্তম। কিন্তু যথোপযুক্ত সময়কালে তেলাঅত, যিকর ও দু’আর স্ব স্ব স্থানে শ্রেষ্ঠ। [বিস্তারিত দ্রষ্টব্য আল ওয়াবিলুস সইয়্যেব]

তেলাঅতের ফযীলত

প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি অক্ষর পাঠ করবে, সে এর বিনিময়ে একটি নেকী অর্জন করবে। আর একটি নেকী দশগুণ করা হবে। আর্থাৎ একটি অক্ষর তেলাঅতের প্রতিদানে ১০টি নেকীর অধিকারী হবে। আমি বলছি না যে, ‘আলিফ লাম মীম একটি অক্ষর। [তিরমিযী ৫/১৭৫, সহীহুল জামে ৫/৩৪০]

‘তোমরা কুরআন পাঠ কর। কারণ তা কিয়ামতের দিন পাঠকারীদের জন্য সুপারিশকারী রূপে আবির্ভূত হবে। [মুসলিম] ‘যে ব্যক্তি দশটি আয়াত পাঠ করবে, সে উদাসীনদের মধ্যে লিখিত হবে না, যে ব্যক্তি একশ’টি আয়াত পাঠ করবে, সে অনুগতদের মধ্যে লিখিত হবে। আর যে ব্যক্তি এক হাজারটি আয়াত পাঠ করবে, সে (অশেষ সওয়াবের) ধনপতিদের মধ্য লিখিত হবে। [সিলসিলা সহীহাহ ৬৪২]

‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে কুরআন শিক্ষা করে এবং অপরকে শিক্ষা দেয়। [বুখারী ৬/১০৮] ‘মসজিদে গিয়ে একটি আয়াত শিক্ষা করা বা মুখস্ত করা একটি বৃহদাকার উট লাভ করার চেয়েও উত্তম’। [মুসলিম] ‘যে ব্যক্তি কষ্ট করে কুরআন শুদ্ধ করে পড়ার চেষ্টা করে, তার ডবল সওয়াব’। [বুখারী ও মুসলিম] ‘কুরআন-ওয়ালারাই আল্লাহওয়ালা এবং তাঁর বিশিষ্ট বান্দা’। [সহীহুল জামে ২১৬৫] ‘কুরআন তেলাঅতকারী পরকালে সম্মানের মুকুট ও চোগা পরিধান করবে। আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হবেন এবং আয়াতের সংখ্যা পরিমাণ সে উচ্চ দর্জায় উন্নীত হবে”। [সহীহুল জামে, ৮০৩০, ৮০২২. ৮০২১] ‘মর্যদায় সবচেয়ে বড় সূরা হল, সূরা ফাতেহা’। [বুখারী] ‘যে গৃহে সূরা বাক্বারাহ তেলাঅত হয়, সে গৃহে শয়তান (জিন) প্রবেশ করে না’। [মুসলিম] ‘সূরা বাক্বারাহ ও আল-ইমরান উভয় সূরাই তেলাঅতকারীর জন্য কিয়ামতে আল্লাহর নিকট হুজ্জত করবে’। [মুসলিম]

‘সূরা কাহাফের প্রথম দশ আয়াত মুখস্থ করলে দাজ্জালের ফিতনা থেকে মুক্তি লাভ করা সম্ভব। [মুসলিম] ‘জুমআর দিন সূরা কাহফ পাঠ করলে দুই জুমআর মধ্যবর্তী জীবন আলোকময় হবে’। [সহীহুল জামে ৬৪৭০] ‘সূরা মুলক তার তেলাঅতকারীর জন্য সুপারিশ করে পাপ মুক্ত করবে’। [আবু দাউদ, তিরমিযী] ‘চার বার সূরা ‘কাফিরূন পাঠ করলে এক খতমের সমান সওয়াব লাভ করবে’। [সহীহুল জামে ৬৪৬৬] ‘সূরা ইখলাস তিনবার পাঠ করলে এক খতমের সমান নেকী লাভ হয়’। [বুখারী, মুসলিম] ‘সূরা ইখলাস ভালোবাসে, সে আল্লাহর ভালোবাসা এবং জান্নাত লাভ করবে’। [বুখারী, মুসলিম] ‘উক্ত সূরা দশবার পাঠ করলে পাঠকারীর জন্য জান্নাতে এক গৃহ নির্মাণ করা হবে’। [সহীহুল জামে ৬৪৭২] ‘কোন সম্প্রদায় আল্লাহর গৃহসমূহের কোন গৃহে সমবেত হয়ে যখনই কুরআন তেলাঅত করে এবং আপোসে তার শিক্ষা গ্রহণ করে তখনই তাদের উপর শান্তি বর্ষিত হয়, রহমত তাদেরকে বেষ্টিত করে রাখেন এবং আল্লাহ তাঁর নিকটবর্তী ফিরিশতাবর্গের নিকট তাদের কথা আলোচনা করেন। [মুসলিম]

দু‘আর ফযীলত

আল্লাহ তাআলা বলেনঃ

﴿وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ، إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِي سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَخِرِينَ﴾

অর্থাৎ, তোমাদের প্রতিপালক বলেন, “তোমরা আমাকে ডাক (আমার নিকট দু‘আ কর) আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব (আমি তোমাদের দু’আ কবুল করব)। যারা অহংকারে আমার ইবাদতে (আমাকে ডাকা বা দু‘আ করা হতে) বিমুখ, ওরা লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে”। [সূরা গাফের ৬০]

তিনি আরো বলেন, “আমার বান্দাগণ যখন আমার সম্বন্ধে তোমাকে প্রশ্ন করে (তখন তুমি বল) আমি তো কাছেই আছি। যখন প্রার্থনাকারী আমার কাছে প্রার্থনা করে, আমি তার প্রার্থনা উত্তর দেই (মঞ্জুর করি)”। [সূরা বাক্বারা ১৮৬]

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, “দু‘আই ইবাদত”। [আবু দাঊদ ২/৭৮, তিরমিযি ৫/২১১] নিশ্চয় তোমাদের প্রভু লজ্জাশীল অনুগ্রহপরায়ণ, বান্দা যখন সে তাঁর দিকে দুই হাত তোলে, তখন তা শূন্য ও নিরাশভাবে ফিরায়ে দিতে তিনি লজ্জা বোধ করেন”। [আবু দাঊদ ২/৭৮, তিরমিযী ৫/৫৫৭] “যে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে না, আল্লাহ তার উপর ক্রোধান্বিত হন”। [তিরমিযী ৫/৪৫৬, ইবনে মাযাহ ২/১২৫৮]

দু‘আ অন্যান্য ইবাদতের মত এক ইবাদত। যা আল্লাহরই জন্য নির্দিষ্ট। সুতরাং গায়রুল্লাহর (আল্লাহ ছাড়া অন্য কেহ) নিকট দু‘আ ও প্রার্থনা করলে বা কিছু চাইলে অথবা গায়রুল্লাহকে ডাকলে তা অবশ্যই বড় শিরক হবে। তাই যাবতীয় দু‘আ ও প্রার্থনা কেবল আল্লাহর নিকটই করতে হয় এবং যত কিছু চাওয়া কেবল তাঁরই নিকট চাইতে হয়। সর্বপ্রকার, সর্বভাষায় এবং একই সময় অসংখ্য ডাক কেবল তিনিই শুনতে ও বুঝতে পারেন এবং সর্বপ্রকার দান কেবল তিনিই করতে পারেন।

দু‘আর আদব

সাধারণভাবে দু‘আ করার কয়েকটি আদব ও নিয়ম রয়েছে, যা পালন করা বাঞ্ছনীয়ঃ

  1. ইখলাস বা একনিষ্ঠতা। এটি সর্বাপেক্ষা বড় আদব। আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ
  2. “সুতরাং আল্লাহর আনুগত্য বিশুদ্ধ-চিত্ত হয়ে তাঁকে ডাক, যদিও কাফেরগণ এটা অপছন্দ করে”। [কুরআন মাজিদ গাফির-৪০: ১৪]

    “তারা তো আদিষ্ট হয়েছিল আল্লাহর আনুগত্যে বিশুদ্ধ চিত্তে হয়ে একনিষ্ঠভাবে কেবল তাঁরই ইবাদত করতে–”। [সূরা বাইয়্যিনাহ ৫]

  3. দৃঢ়তার সাথে প্রার্থনা ও দু‘আ করা এবং আল্লাহ মঞ্জুর করবেন এই কথার উপর দৃঢ় প্রত্যয় রাখা। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, “তোমাদের মধ্যে কেউ যেন না বলে, ‘হে আল্লাহ! যদি তুমি চাও, তাহলে আমাকে ক্ষমা করে দাও। হে আল্লাহ! যদি তুমি চাও, তাহলে আমাকে দয়া কর”। বরং দৃঢ় নিশ্চিত হয়ে প্রার্থনা করা উচিত। যেহেতু আল্লাহকে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে কেউ বাধ্য করতে পারে না। [বুখারী ১১/১৩৯, মুসলিম ৪/২০৬৩]
  4. আগ্রহাতিশয্যে নাছোড় বান্দা হয়ে বার-বার দু‘আ করা, দু‘আর ফল লাভে শীঘ্রতা না করা এবং অন্তরকে উপস্থিত রেখে প্রার্থনা করা।
  5. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, “তোমাদের কারো দু‘আ কবুল করা হয়, যতক্ষণ সে তাড়াতাড়ি না করে। বলে, “দু‘আ করলাম কিন্তু কবুল হল না”। [বুখারী ১১/১৪০, মুসলিম ৪/২০৯৫]

    “বান্দর দু‘আ কবুল হয়েই থাকে, যতক্ষণ সে কোন পাপের অথবা জ্ঞাতিবন্ধন টুটার জন্য দু‘আ না করে এবং (দু‘আর ফল লাভে) তাড়াতাড়ি না করে”। জিজ্ঞাসা করা হল, “হে আল্লাহর রাসূল তাড়াতাড়ি কেমন?” বললেন, “এই বলা যে, ‘দু‘আ করলাম আরো দু‘আ করলাম। অথচ কবুল হতে দেখলাম না’। ফলে সে তখন আক্ষেপ করে এবং দু‘আ করাই ত্যাগ করে বসে”। [মুসলিম ৪/২০৯৬]

    “তোমরা আল্লাহর নিকট দু‘আ কর কবুল হবে এই দৃঢ় প্রত্যয় রেখে। আর জেনে রাখো যে, আল্লাহ উদাসীন ও অন্যমনস্কের হৃদয় থেকে দু‘আ মঞ্জুর করেন না”। [তিরমিযী ৫/৫১৭]

    মোট কথা দু‘আ করার সময় মনকে সজাগ রাখতে হবে, তার দু‘আ কবুল হবে- এই একীন রাখতে হবে এবং কি চাইছে তাও জানতে হবে। সুতরাং যারা অভ্যাসগতভাবে দু‘আ করে থাকে অথবা দু‘আয় কি চায়, তা নিজেই না জেনে তোতার বুলি আওড়ানোর মত আরবীতে দু‘আ আওড়ে থাকে, তাদের দু‘আ মঞ্জুর হবে কি?

  6. সুখে-দুঃখে ও নিরাপদে-বিপদে সর্বদা প্রার্থনা করা।
  7. আল্লাহর রসূল (সাঃ) বলেন, “যে ব্যক্তি পছন্দ করে যে, দুঃখে ও বিপদে আল্লাহ তার দু‘আ কবুল করবেন, সেই ব্যক্তির উচিত, সুখে ও স্বাচ্ছন্দ্যে অধিক অধিক দু‘আ করা। [তিরমিযী ৫/৪৬২]

  8. নিজের পরিবার ও সম্পদের উপর বদ্দুআ না করা।
  9. আনসারদের এক ব্যক্তির উঁট চলতে চলতে থেমে গেলে, সে ধমক দিয়ে বলল, ‘চল, আল্লাহ তোকে অভিশাপ করুক’। তা শুনে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, “কে তার উঁটকে অভিশাপ দিচ্ছে?” লোকটি বলল, ‘আমি, হে আল্লাহর রাসূল!’ তিনি বললেন, “নেমে যাও ওর পিঠ থেকে, অভিশপ্ত উঁট নিয়ে আমাদের সঙ্গে এসো না। তোমরা তোমাদের নিজেদের উপর বদ্দুআ করো না, তোমাদের সন্তানদের উপর বদ্দুআ করো না, আর তোমাদের সম্পদের উপরও বদ্দুআ করো না। যাতে আল্লহর তরফ থেকে এমন মুহূর্তের সমন্বয় না হয়ে যায়, যে মুহূর্তে দান চাওয়া হলে মঞ্জুর করা হয়। [মুসলিম ৪/২৩০৪]

  10. কেবল আল্লাহরই নিকট প্রার্থনা করা।
  11. আল্লাহর রাসূল (সাঃ ) বলেন, “যখন কোন কিছু চাইবে তখন আল্লাহর নিকটই চাও। যখন সাহায্য চাইবে, তখন আল্লাহর নিকটই চাও”। [তিরমিযী ৪/৬৬৭, মুসলিম ১/২৯৩] যেহেতু প্রার্থনা ইবাদত। তাই অন্যের কাছে প্রার্থনা করলে আল্লাহর ইবাদতে শিরক করা হয়।

  12. উচ্চ ও নিঃশব্দের মধ্যবর্তী চাপা স্বরে সংগোপনে প্রার্থনা করা।
  13. মহান আল্লাহ বলেন, “তোমরা বিনীতভাবে ও গোপনে তোমাদের প্রতিপালককে ডাক। তিনি সীমালংঘনকারীদের পছন্দ করেন না”। [সূরা আ’রাফ ৫৫]

    আবু মুসা (রাঃ) বলেন, আমরা কোন এক সফরে নবী (সাঃ) এর সাথে ছিলাম। লোকেরা জোরে-শোরে তাকবীর পড়তে শুরু করল। তখন নবী (সাঃ) বললেন, “হে লোক সকল? নিজেদের উপর কৃপা কর। নিশ্চয় তোমরা কোন বধির অথবা কোন অনুপস্থিতকে আহ্বান করছো না। বরং তোমরা সর্বশ্রোতা নিকটবর্তীকে আহবান করছ। তিনি (তাঁর ইলমসহ) তোমাদের সঙ্গে আছেন। [বুখারী ৫/৭৫, মুসলিম ৪/২০৭৬]

  14. আল্লাহর সুন্দর নাম এবং মহত্তম গুণাবলীর আসীলায় অথবা কোন নেক আমলের অসীলায় দু‘আ কর। আর এ ছাড়া কোন সৃষ্টি (যেমন- নবী, ওলী, আরশ, কুর্সী প্রভৃতির) অসীলা ধরে দু‘আ করো না। যেমন- ﴿رَبَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَقِنَا عَذَانَ النَّارِ﴾ অর্থ, হে আমাদের প্রতিপালক! নিশ্চয় আমরা ঈমান এনেছি, অতএব আমাদের অপরাধসমূহ মার্জনা কর এবং জাহান্নামের শাস্তি হতে আমাদেরকে রক্ষা কর”। [সূরা আলে ইমরান ১৬]
  15. আল্লাহ তাআলার ইসমে আ‘যম দিয়ে দু‘আ শুরু করলে তিনি তা কবুল করেন। এই ইসমে আ‘যম দ্বারা দু‘আ করার বর্ণনা হাদীস গ্রন্থে কয়েক রকম এসেছেঃ
  16. ক) ﴿اَللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِأَنِّي أَشْهَدُ أَنَّكَ أَنْتَ الله، لَاإِلَهَ إِلَّا أَنْتَ اَلْأَحَدُ الصَّمَدُ الَّذِي لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ﴾

    উচ্চারণ- “আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা বিআন্নাঈ আশহাদু আন্নাকা আন্তাল্লা-হ, লা ইলাহা ইল্লা আন্তাল আহাদুস স্বামাদুল্লাযী লাম ইয়ালিদ অলাম ইউলাদ, অলাম য়্যাকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ”।

    অর্থ- আমি সাক্ষি দিচ্ছি যে, তুমি আল্লাহ, তুমি ব্যতীত কোন সত্য উপাস্য নেই। তুমি একক, ভরসাস্থল, যিনি জনক নন জাতকও নন এবং তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই এই অসীলায় আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করছি। [আবু দাঊদ ১৪৯৩, তিরমিযী ৩৪৭৫, ইবনে মাজাহ ৩৮৫৭, আহামাদ, হাকেম, ইবনে হিব্বান]

    খ) ﴿اَللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ يَا الله بِأَنَّكَ الْوَاحِدُ الْأَحَدُ الصَّمَدُ الَّذِي لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَّه كُفُوًا أَحَدٌ اَنْ تَغْفِرَ لِي ذُنُوِبِي إِنَّكَ أَنْتَ الغَفُورُ الرَّحِيمُ﴾

    উচ্চরণ- আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা ইয়া-ল্লাহু বিআন্নাকাল অয়াহিদুল আহাদুস স্বামাদুল্লাযী লাম ইয়ালিদ অলাম ইঊলাদ অলাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ, আন তাগ্ফিরা লী যুনূবী, ইন্নাকা আন্তাল গাফুরুর রাহীম।

    অর্থ- হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করছি, হে এক, একক, ভরসাস্থল আল্লাহ! যিনি জনক নন জাতকও নন এবং যাঁর সমকক্ষ কেউ নেই, তুমি আমার গোনাহসমূহকে ক্ষমা করে দাও, নিশ্চয় তুমি ক্ষমাশীল দয়াবান। [সহীহ নাসাঈ ১২৩৪]

    গ) ﴿اَللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِأَنَّ لَكَ الْحَمْدَ، لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ الْمَنَّانُ بَدِيعُ السَّمٰوَاتِ وَالأَرْضِ ، ريَا ذَاالْجَلَالِ وَالإِكْرَامِ، يَاحَيُّ يَا قَيُّومُ﴾

    উচ্চারণ- আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকা বিআন্না লাকাল হামদ, লা ইলাহা ইল্লা আন্তাল মান্নানু বাদীউস সামাওয়াতি অল আরয্ব, ইয়া যাল জালালি অল ইকরাম, ইয়্যা হাইয়্যু ইয়া কায়্যূম”।

    অর্থ- হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করছি এই অসীলায় যে, সমস্ত প্রশংসা তোমারই, তুমি ব্যতীত কোন সত্য উপাস্য নেই। তুমি পরম অনুগ্রহদাতা, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর উদ্ভাবক (প্রথম প্রকাশকারী) হে মহিমাময় এবং মহানুভব, হে চিরঞ্জিব আবিনশ্বর”। [আবু দাঊদ ১৪৯৫, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ ৩৮৫৮, আহমাদ, হাকেম, ইবনে হিব্বান]

    ঘ) ﴿لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ﴾

    অর্থ- তুমি ব্যতীত কোন সত্য উপাস্য নেই, তুমি পবিত্র মহান, অবশ্যই আমি সীমালংঘনকারী। [সুরা আম্বিয়া ৮৭]

  17. আল্লাহর প্রশংসা (হাম্দ ও সানা) দিয়ে অতঃপর নবী (সাঃ) এর উপর দরূদ পাঠ করে দু‘আ শুরু করা এবং অনুরূপ শেষ করা।
  18. রসূল (সাঃ) বলেন, “যখন তোমদের কেউ দু‘আ করবে, তখন তার উচিত আল্লাহর হাম্দ ও সানা দিয়ে শুরু করা, অতঃপর নবীর উপর দরূদ পড়া, অতঃপর ইচ্ছামত দু‘আ করা”। [আবু দাঊদ ২/৭৭, তিরমিযী ৫/৫১৬, নাসাঈ ৩/৪৪]

  19. কাকুমি-মিনতি, বিনয়, আশা, আগ্রহ, মুখাপেক্ষিতা ও ভীতির সাথে দু‘আ করা। একান্ত ‘ফকীর’ হয়ে আল্লাহর দরবারে অক্ষমতা, সঙ্কীর্ণতা ও দুরবস্থার অভিযোগ করা। যেভাবে আয়্যুব নবী ব্যাধিগ্রস্ত হলে, যাকারিয়া নবী নিঃসন্তান হলে, ইউনুস নবী মাছের পেটে গেলে আল্লাহর কাছে দু‘আ করেছিলেন।
  20. মহান আল্লাহ বলেন, “তোমার প্রতিপালককে মনে মনে সবিনয়ে ও সশঙ্কচিত্তে অনুচ্চ স্বরে প্রত্যূষে ও সন্ধ্যায় স্মরণ কর এবং উদাসীনদের দলভুক্ত হয়ো না”। [সূরা আরাফ ২০৫]

    তারা সৎ কাজে প্রতিযোগিতা করত, আশা ও ভীতির সাথে আমাকে ডাকত এবং তারা ছিল আমার নিকট বিনীত”। [সূরা আম্বিয়া ৯০]

    বান্দার যতই সুখ থাক, স্বাচ্ছন্দ্যের সাগরে ডুবে থাকলেও সে সর্বদা আল্লাহর রহমতের ভিখারী ও মুখাপেক্ষী। মিসকিন বান্দার যা আছে তা কাল চলে যেতে পারে। সব আছে বা সব পেয়েছি বলে দু‘আ বন্ধ করা মূর্খতা। সব কিছু থাকলেও যা আছে তা যাতে চলে না যায়, তার জন্যো দু‘আ করতে হবে। তাছাড়া পরজীবনের কথা তার অজানা। পরকালে সুখ পাবে কি না সে বিষয়ে নিশ্চিত নয়। অতএব পরকালের সুখও তাকে চেয়ে নিতে হবে এবং সে প্রার্থনা হবে অনুনয় বিনয় সহকারে; ঔদ্ধত্যের সাথে নয়।

  21. নিজের অপরাধ ও আল্লাহর অনুগ্রহকে স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞপন-পূর্বক দু‘আ করা। এ বিষয়ে ‘সাইয়েদুল ইস্তিগফার’ দু‘আ ইস্তিগফারের অনুচ্ছেদে আসবে।
  22. কষ্ট-কল্পনার সাথে ছন্দ বানিয়ে দু‘আ না করা। এ বিষয়ে ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, ‘প্রত্যেক জুমআহ (সপ্তাহে) লোকদেরকে মাত্র একবার ওয়ায কর। যদি না মানো তবে দুইবার। তাও যদি না মানো তবে তিনবার। লোকদেরকে এই কুরআনের উপর বিরক্ত করো না। আর আমি যেন তোমাকে না (দেখতে) পাই যে, কোন সম্প্রদায় তাদের নিজেদের কোন কথায় লিপ্ত থাকলে তুমি তাদের নিকট গিয়ে নিজের বয়ান শুরু করে দাও এবং তাদের কথা কেটে তাদেরকে বিরক্ত কর। বরং তুমি সেখানে উপস্থিত হয়ে চুপ থাক; অতঃপর তারা সাগ্রহে আদেশ করলে তুমি বয়ান কর। খেয়াল করে ছন্দযুক্ত দু‘আ থেকে দূরে থাক। যেহেতু আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ও তাঁর সাহাবাবর্গের নিকট উপলব্ধি করেছি যে, তাঁরা এটাই করতেন। অর্থাৎ ছন্দ বানিয়ে দু‘আ উপেক্ষা করতেন”। [বুখারী ৭/১৫৩]
  23. তাওবা করে (অর্থাৎ বিশুদ্ধ চিত্তে, পাপ বর্জন করে, লজ্জিত হয়ে, পুনঃ ঐ পাপে না ফিরার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করে এবং অন্যায়ভাবে কারো মাল আত্মসাত করে থাকলে তা ফেরৎ দিয়ে অথবা ক্ষমা চেয়ে তারপর) দু‘আ করা। যেহেতু পাপে লিপ্ত থাকলে দু‘আ কবুল হয় না।
  24. হালাল পানাহার করা এবং হালাল পরিধান করা।
  25. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, “হে লোক সকল! আল্লাহ পবিত্র তিনি পবিত্র জিনিসই গ্রহণ করেন। নিশ্চয় আল্লাহ মু’মিনদেরকে সেই আদেশই করেছেন যে আদেশ রসূলগণকে করেছেন, তিনি বলেন, “হে রসূলগণ! তোমরা পবিত্র বস্তু আহার কর ও সৎকাজ কর, তোমরা যা কর সে সম্বন্ধে আমি সবিশেষ অবহিত”। [কুরআন মাজিদ ২৩:৫১]

    মহান আল্লাহ আরো বলেন, যার অর্থ, “হে মু’মিনগণ! আমি তোমাদেরকে যা দান করেছি তা থেকে পবিত্র বস্তু আহার কর–”। [সূরা বাক্বারা ১৭২]

    অতঃপর রসূল (সাঃ) সেই ব্যাক্তির কথা উল্লেখ করেন, যে ব্যক্তি ধুলোধুসরিত আলুথালু বেশে (সৎকাজের উদ্দেশ্যে) সফর করে। তার হাত দু’টিকে আকাশের দিকে তুলে, ‘হে প্রভু! হে আমার প্রতিপালক!’ বলে (দু‘আ করে), কিন্তু আহার্য হারাম, তার পরিধেয় হারাম এবং হারাম খাদ্যে সে প্রতিপালিত হয়েছে। সুতরাং কেমন করে তার প্রার্থনা মঞ্জুর হবে? [মুসলিম ৪/৭০৩]

  26. খুব গুরুত্বপূর্ণ দু‘আ হলে ফিরিয়ে ফিরিয়ে ৩ বার করে বলা। যেমন রাসূলুল্লা (সাঃ) যখন কুরাইশের উপর বদ্দুআ করেছিলেন, তখন ৩ বার করে বলেছিলেন। [বুখারী ৪/৬৫, মুসলিম ৩/১৪১৮]
  27. দু‘আর পূর্বে ওযু করা। অবশ্য প্রত্যেক দু‘আ বা যিকরের জন্য ওযু বা গোসল করা জরুরী নয়। তবে সাধারণ প্রার্থনার জন্য মুস্তাহাব। [বুখারী ৫/১০১, মুসলিম ৪/১৯৪৩]
  28. কেবলা-মুখ হয়ে দু‘আ করা। এ আদবটিও সকল দু‘আর ক্ষেত্রে জরুরী নয়।
  29. মুখ বরারব দুই হাত তুলে দু‘আ করা। এ আদবটিও সেখানে ব্যবহৃত, যেখানে আল্লাহর রাসূলের নির্দেশ আছে। অথবা যেখানে কোন নির্দেশ নাই সেখানে সাধারণ প্রার্থনার ক্ষেত্রে এ আদবের খেয়াল রাখা উচিত। কিন্তু হাত তুলে দু‘আর শেষে মুখে হাত বুলানো প্রসঙ্গে কোন সহীহ হাদীস নেই। তাই মুখে হাত বুলানো বিদাআত। প্রকাশ থাকে যে, ইস্তিগফার করার সময় একটি আঙ্গুল তুলে ইশারা করে এবং সকাতর প্রার্থনার সময় দুই হাত মাথা বরাবর লম্বা করে তুলে দু‘আ করা।[আবু দাঊদ, সহীহহুল জামে’ ৬৬৯৪]
  30. অশ্রু বিসর্জনের সাথে দু‘আ করা। [মুসলিম ১/১৯১]
  31. অপরের জন্য দু‘আ করলে নিজের জন্য প্রথমে দু‘আ শুরু করা। যেমন নবী (সাঃ) কারোর জন্য দু‘আ করলে নিজের জন্য প্রথম শুরু করতেন। [তিরমিযী ৫/৪৬৩]
  32. দু‘আয় সীমালংঘন ও অতিরঞ্জিত না করা। যেমন- ‘হে আল্লাহ! আমি জান্নাতের সম্পদ, সৌন্দর্য, হুর-গেলমান, দুধের নহর— চাই’। হে আল্লাহ! আমি জাহান্নামের আগুণ থেকে, তার শিকল ও বেড়ি থেকে, ফুটন্ত পানি ও পুঁজ থেকে পানা চাই–’ হে আল্লাহ! আমি জান্নাতের ডান দিকে সাদা মহল চাই–’ ইত্যাদি বলে দু‘আ করা বৈধ নয়। এখানে সংক্ষিপ্তভাবে জাহান্নাম থেকে রেহাই পেতে জান্নাতে প্রবেশ করতে চাওয়াই যথেষ্ট। তাই তো সেই দু‘আ করা উচিত, যার শব্দ কম অথচ অর্থ অনেক ব্যাপক। [আবু দাঊদ ১/২৪]
  33. আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ

    ﴿ٱدْعُو رَبَّكُمْ تَضَرُّعًا وَخُفْيَةً، إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ﴾

    অর্থ- তোমরা বিনীতভাবে ও গোপনে তোমাদের প্রতিপালকে ডাক, তিনি সীমালংঘনকারীদেরকে পছন্দ করেন না। [সূরা আ’রাফ ৫৫]

    দু‘আতে প্রায় ২০ প্রকার সীমালংঘন হতে পারেঃ
    1. শির্ক মূলক দু‘আ করা।
    2. শরীয়ত যা হবে বলে, তা না হতে দু‘আ করা; যেমন বলা যে, ‘আল্লাহ তুমি কিয়ামত কায়েম করো না, কাফিদের আযাব দিয়ো না’।
    3. শরীয়ত যা হবে না বলে, তা হতে দু‘আ করা; যেমন বলা যে, ‘আল্লাহ তুমি কাফিদেরকে জান্নাত দান কর, আমাকে দুনিয়াতে চিরস্থায়ী কর, আমাকে গায়েবী ইল্ম দাও বা আমাকে নিস্পাপ কর’ ইত্যাদি।
    4. জ্ঞান ও বিবেকে যা হওয়া সম্ভব তা না হওয়ার জন্য দু‘আ করা।
    5. জ্ঞান ও বিবেকে যা হওয়া অসম্ভব তা হওয়ার জন্য প্রার্থনা করা; যেমন, ‘আল্লাহ আমি যেন এই সময় দুই স্থানে উপস্থিত ও প্রকাশ হতে পারি’ ইত্যাদি।
    6. সাধারণতঃ যা ঘটা অসম্ভব তা ঘটাতে প্রার্থনা করা। যেমন, ‘আল্লাহ আমাকে এমন মুরগী দাও, যে সোনার ডাম পাড়ে, আমাকে যেন পানাহার করতে না হয়’ ইত্যাদি।
    7. শরীয়তে যা হবে না বলে জানা যায়, পুনরায় তা না হতে প্রার্থনা করা; যেমন, ‘আল্লাহ! তুমি কাফেরদেরকে জান্নাত দিও না’ ইত্যাদি।
    8. শরীয়তে যা হবে বলে জানা যায়, পুনরায় তা হতে দু‘আ করা।
    9. প্রার্থিত বিষয়কে আল্লাহর ইচ্ছায় লটকে দেয়া; যেমন, ‘হে আল্লাহ! তুমি যদি চাও তাহলে আমাকে ক্ষমা কর’ ইত্যাদি।
    10. অন্যায়ভাবে কারো উপর বদ্দুআ করা।
    11. কোন হারাম বিষয়ে প্রার্থনা করা।
    12. প্রয়োজনের অধিক উচ্চঃস্বরে দু‘আ করা।
    13. আবিনীতভাবে আল্লাহর অনুগ্রহের মুখাপেক্ষী না হয়ে দু‘আ করা।
    14. আল্লাহর সঠিক নাম ও গুণ ব্যতিরেকে অন্য নাম ধরে ও গুণ বর্ণনা করে প্রার্থনা করা।
    15. যা বান্দর জন্য উপযুক্ত নয় তা চাওয়া; যেমন, নবী বা ফিরিশতা হতে চাওয়া।
    16. অপ্রয়োজনীয় লম্বা দু‘আ করা। (একই দু‘আ দু-তিন ভাষায় বলা)
    17. কষ্ট-কল্পনার সাথে ছন্দ বানিয়ে দু‘আ করা।
    18. কান্না ছাড়াই ইচ্ছাকৃত হো হো করে উচ্চ শব্দে দু‘আ করা।
    19. নিয়মিত এমন প্রকার, এমন রূপে এবং স্থানে ও কালে দু‘আ করা যা কিতাব ও সুন্নাহতে প্রমাণিত নয়।
    20. গানের মত লম্বা সূল-ললিত কণ্ঠে দু‘আ করা। [মাজাল্লাতূল বায়ান ৭৩ সংখ্যা ১৯৯৪ খ্রিঃ ১২০-১২৮ পৃঃ দ্রষ্টব্য]
  34. কোন পাপ কাজ করার উদ্দেশ্যে আথবা জ্ঞাতিবন্ধন ছিন্ন করার উদ্দেশ্যে দু‘আ না করা।
  35. সর্বপ্রকার গুনাহ থেকে দূরে থেকে দু‘আ করা।
  36. সৎকাজের আদেশ ও মন্দ কাজে বাধা দেওয়া।
  37. যে সময় স্থান ও অবস্থাকালে দু‘আ কবুল হয়, সে সময় স্থান ও অবস্থা সমূহে দু‘আ করার সুযোগ গ্রহণ করা।
  38. ছোট না চেয়ে বড় কিছু চাওয়া। [মুসলিম ২৬৭৯]
  39. এমন কিছু না চাওয়া, যা সহ্য করার ক্ষমতা নেই। যেমন, আখেরাতে আযাব দুইয়াতেই না চাওয়া।

দুঃখ কষ্ট চেয়ে ধৈর্য প্রার্থনা না করে সরাসরি দুঃখ-কষ্ট থেকে পানাহ বা পরিত্রাণ চেয়ে প্রার্থনা করা উচিত। তাই নিম্নে বর্ণিত এমন প্রার্থনা করা বৈধ নয়ঃ

‘দুঃখ যদি দিও প্রভু, শক্তি দিও সহিবারে’।
‘বিপদে মোরে রক্ষা করো এ নহে মোর প্রার্থনা
বিপদে আমি না যেন করি ভয়,
দুঃখ তাপে ব্যথিত চিত্তে নাইবা দিলে সান্ত্বনা
দুঃখ যেন করিতে পারি জয়।
সহায় মোর না যদি জুটে, নিজের বল না যেন টুটে
সংসারেতে ঘটিলে ক্ষতি লভিলে শুধু বঞ্চনা
নিজের মনে না যেন মানি ক্ষয়।

কখন ও কোথায় দু‘আ কবুল হয়?

নিম্নলিখিত সময়, স্থান ও অবস্থায় দু‘আ কবুল করা হয় এ মর্মে হাদীস সূত্রে জানতে পারা যায়ঃ

১। লায়লাতুল ক্বদর, ২। রাত্রির শেষ তৃতীয়াংশে, ৩। ফরয সালতের পশ্চাতে (সালাম ফিরার পূর্বে), ৪। আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তীকালে, ৫। ইকামত হলে, ৬। রাত্রের কোন এক মুহূর্তে, ৭। জুমআর রাত্রি-দিনের কোন এক মুহূর্তে, ৮। ফরয সালাতের জন্য আযান দেয়ার সময়, ৯। বৃষ্টি বর্ষণের সময়, ১০। জিহাদে হানাহানি চলা কালে, ১১। সত্য নিয়তে ও দৃঢ় প্রত্যয়ের সাথে যমযম পানি পান করার সময়, ১২। সিজদারত অবস্থায়, ১৩। রাত্রি কালে ঘুম থেকে জেগে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু অহদাহু লা শরীকালাহু লাহুল মুলকু অলাহুল হামদু অহুয়া আলা কুল্লি শাইইন ক্বাদীর। আল হামদু লিল্লাহ, সুবহান আল্লাহ, অলা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার, অলা হাওলা অলা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ বলে দু‘আ করার সময়, ১৪। ওযু করে ঘুমিয়ে রাত্রে জেগে দু‘আ করার সময়, ১৫। ইসমে আযম দ্বারা দু‘আ করার সময়, ১৬। কারো মৃত্যুর পর, ১৭। শেষ তাশাহহুদে আল্লাহর প্রশংসা করে ও নবী (সাঃ) এর উপর দরূদ পাঠ করে দু‘আ করার সময়, ১৮। কারো অনুপস্থিতিতে তার জন্য কেউ দু‘আ করার সময়, ১৯। রমযান মাসে , ২০। যিকরের পর, ২১। বিপদের সময়, ২২। ‘ইন্না লিল্লাহ—- আল্লাহুম্মা’জুরনী—–‘ পড়ার সময়, ২৩। নির্মল ইখলাস ও আল্লাহর প্রতি হৃদয়ের পরম ভক্তি ও চরম আগ্রহের সময়, ২৪। অত্যাচারিত অত্যাচারীর উপর বদ্দুআ করলে, ২৫। পিতামাতা পুত্রের জন্য দু‘আ অথবা বদদু‘আ করলে, ২৬। মুসাফির দু‘আ করলে, ২৭। রোযাদার দু‘আ করলে, ২৮। আর্তব্যাক্তি দু‘আ করলে, ২৯। ন্যায়পরায়ণ বাদশাহ দু‘আ করলে, ৩০। কা’বা ঘরে ভিতরে, ৩১। সাফা ও মারওয়ার উপরে, ৩২। আরাফর দিনে আরাফার ময়দানে, ৩৩। মাশআরুল হারামের নিকটে, ৩৪। মিনায় ছোট ও মধ্যম জামরায় পাথর মারার পর, ইস্তিফতাহে নির্দিষ্ট দু‘আ পাঠ করলে, ৩৫। সূরা ফাতিহা পাঠ করার সময় ও শেষে আমীন বলার সময়, ৩৬। রুকু থেকে মাথা তুলে ইত্যাদি। [আদ্দু‘আ মিনাল কিতাবি অস্সুন্নাহ ১০-১৫ পৃঃ]

দু‘আ কবুল না হওয়ার কারণ

  1. অনেকে দু‘আ করে, কিন্তু তাদের দু‘আ কবুল হয় না, চায় অথচ পায় না। এর কতকগুলি কারণ আছে, যেমনঃ তাড়াতাড়ি করা। দু‘আ করার পরই যে দু‘আ মঞ্জুর হবে তা জরুরী নয়। যেমন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ “তোমাদের কারো দু‘আ কবুল করা হয়, যতক্ষণ সে তাড়াতাড়ি না করে। সে বলে, দু‘আ করলাম অথচ কবুল হল না”। [বুখারী ১১/১৪০, মুসলিম ৪/২০৯৫]
  2. সৃষ্টিকর্তা সর্বজ্ঞ আল্লাহ তাআলার হিকমত। বান্দা দু‘আতে যা চায়, তা তার জন্য মঙ্গলদায়ক কি না, তা সে সঠিক জানে না। কিন্তু আল্লাহ সুবাহানাহু তাআলা সবকিছু জানেন, বান্দা যা চাচ্ছে, তা তার জন্য কল্যাণকর কি না, তা বর্তমানেই তার জন্য ফলপ্রসু, না কি কিছুদিন বা দীর্ঘদিন পর? অথবা যা চাচ্ছে, তা তার জন্য যথোপযুক্ত নয়। বরং অন্য কিছু তার জন্য অধিক কল্যাণকর। অথবা কল্যাণ আসার চেয়ে আসন্ন বিপদ থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া তার জন্য ভালো। তাই আল্লাহ বান্দার জন্য যা করেন, তা তার মঙ্গলের জন্যই করেন। বান্দার আসল মঙ্গলের প্রতি খেয়াল রেখে কখনো দু‘আ কবুল হয়, কখনো কবুল হয় না। তা বলে তার দু‘আ করাটা বৃথা নষ্ট হয়ে যায় না।
  3. প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন, “কোন মুসলিম যখন আল্লাহর নিকট দু‘আ করে, যাতে পাপ ও জ্ঞাতিবন্ধন ছিন্নতা নেই, তখন আল্লাহ তাকে তিনটের একটা দান করে থাকেন; সত্বর তার দু‘আ মঞ্জুর হয় অথবা পরকালের জন্য তা জমা রাখা হয় অথবা অনুরূপ কোন অকল্যাণকে তার জীবন হতে দূর করা হয়”।

    লোকেরা বলে, ‘তাহলে আমরা অধিক অধিক দু‘আ করব’। তিনি বলেন, “আল্লাহ অধিক দানশীল”। [আহমদ ৩/১৮, হাকেম ১/৪৯৩, যা-দুল-মাসীর ১/১৯০]

    লোকেরা বলে, ‘তাহলে আমরা অধিক অধিক দু‘আ করব’। তিনি বলেন, “আল্লাহ অধিক দানশীল”। [আহমদ ৩/১৮, হাকেম ১/৪৯৩, যা-দুল-মাসীর ১/১৯০]

  4. কোন পাপ বা জ্ঞাতিবন্ধন ছিন্ন করার দু‘আ করলে তা কবুল হয় না। পাপের দু‘আ যেমন, অভিনেতা-অভিনেত্রীদের আভিনয়ে উন্নতির জন্য দু‘আ, চোরে চুরি করতে ধরা না পড়ার দু‘আ ইত্যাদি।
  5. হারাম পানাহার ও পরিধান করা।
  6. দু‘আয় দৃঢ়চিত্ত না হওয়া এবং আল্লাহর ইচ্ছায় ‘যদি’ যোগ করা। যেহেতু আল্লাহর ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছু নেই। যেমন দু‘আর আদবে আলোচিত হয়েছে।
  7. সৎকাজের আদেশ এবং আসৎ কাজে বাধা দান ত্যাগ করা। মানুষ নিজে ভাল হলেই যথেষ্ট নয়। অপরকে ভাল করার চেষ্টা করাও তার সর্বাঙ্গিন ভালো হওয়ার পরিপূরক। তাই সর্বাঙ্গ সুন্দর ভালো লোক হতে চাইলে সামর্থ অনুযায়ী সৎকাজের আদেশ দিতে হবে এবং সম্মুখে বা জানতে কোন পাপ কাজ ঘটলে, তাতে সাধ্যান্নুক্রমে (হাত দ্বারা, না পারলে মুখ দ্বারা) বাধা দিতে হবে। তাও না পারলে, অন্তর দ্বারা ঘৃণা করতে হবে। নচেৎ শাস্তিতে সেও তাদের দলভুক্ত হবে, আর তার দু‘আও মঞ্জুর হবে না। [বুখারী ১১/১৩৯, ৪/২০৬৩]
  8. নিজের ক্ষমতা ও আওতার মধ্যে কিছু পাপ বা নির্দিষ্ট অবাধ্যাচরণে লীপ্ত থাকা ব্যাক্তিবর্গ সম্পর্কে উদাসীন থাকা। এ ধরনের অবাধ্যতায় উদাসীনতায় দু‘আ করলে দু‘আ কবুল হয় না। এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) একটি ইঙ্গিত; তিনি বলেন, “তিন ব্যক্তি দু‘আ করে অথচ তাদের দু‘আ মঞ্জুর করা হয় না; ১) যে ব্যক্তি বিবাহ-বন্ধনে কোন দুশ্চরিত্রা স্ত্রী থাকে অথচ তাকে সে তালাক দেয় না, ২) এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তির নিকট মালের অধিকারী থাকে অথচ তার উপর সাক্ষী রাখে না, ৩) যে ব্যক্তি নির্বোধকে তার সম্পদ দান করে অথচ আল্লাহ সুবাহানাহু তাআলা বলেন, “আর তোমরা তোমাদের সম্পদ নির্বোধদের হাতে অর্পণ করো না—-।” [কুরআন ৪:৫, হাকেম ২/৩০২]
  9. ঔদাস্য, কুপ্রবৃত্তি ও খেয়াল-খুশীর বশবর্তী থাকা এবং মিনতি, ভক্তি, আশা ও ভীতির অভাব থাকা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহ অবশ্যই কোন সম্প্রদায়ের অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ তারা নিজেদের অবস্থা নিজেরাই পরিবর্তন না করে।” [কুরআন ১৩:১১]
  10. আর রাসূল (সাঃ) বলেন, যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘জেনে রাখ যে, আল্লাহ উদাসীন ও অমনোযোগী হৃদয় থেকে দু‘আ মঞ্জুর করেন না।”

দু‘আ কবুল হওয়ার কারণ সমূহ

পূর্বের আলোচনা হতে কি কি কারণে দু‘আ মঞ্জুর হয়, তা স্পষ্ট হয়ে গেছে। যেমন হালাল খাওয়া-পরা, দু‘আর ফল লাভের জন্য তাড়াতাড়ি না করা, পাপ ও জ্ঞাতিবন্ধন ছিন্নের দু‘আ না করা এবং গুনাহ থেকে দূরে থেকে বিশুদ্ধচিত্তে আল্লাহর নিকট দু‘আ করা ইত্যাদি। [আয যিকরু আদ্দু‘আ দ্রষ্টব্য]

দু‘আ কবুলের এক শর্ত হল বিশুদ্ধ ঈমান। তাই কাফের বা মুশুরিকের দু‘আ বা বদ্দু‘আ কবুল নয়। অবশ্য কাফের যদি মুসলিমের হক্কে দু‘আ করে তবে তাতে ‘আমীন’ বলা বৈধ। কারণ মুসলিমের হক্কে কাফেরের দু‘আও কবুল হয়ে থাকে। [সিঃ সহীহাহ ৬/৪৯৩]

শুদ্ধ দু‘আ

দু‘আ ও যিকরকারী মুসলিমদের জন্য একটি সতর্কতার বিষয় এই যে, কেউ যেন দু‘আ ও যিকর করতে গিয়ে বিদআত করে না বসে। দু‘আ বা যিকর কেবল তাই করা উচিত, যা আল্লাহ ও তাঁর রসূল (সাঃ) শিক্ষা দিয়েছেন। অথবা কোন সাহাবী তাঁর জীবনে তা আমল করে গেছেন। যা কিতাব ও সহীহ (ও হাসান) সুন্নাহতে অথবা কোন সাহাবার আমলে প্রমাণিত। যেহেতু সহীহ হাদীসের উপর আমলই মুসলিমদের জন্য যথেষ্ট। অন্যথা জাল ও দূর্বল যঈফ হাদীস বা কোন আলেমের মনগড়া কল্পিত আরবী বাক্য দ্বারা যিকর বা দু‘আ বিদআত হবে। যেমন যদি কোন অনির্দিষ্ট দু‘আ বা যিকর কোন স্থান, সময়, নিয়ম, গুণ, সংখ্যা বা কারণ ইত্যাদি দ্বারা নির্দষ্ট করে নেওয়া হয়, তাহলে তাও বিদআতরূপে পরিগণিত হবে। তাই সাধারণ ক্ষেত্রে ও নিজের প্রয়োজনের সময় দু‘আ করতেও কুরআনী দু‘আ, শুদ্ধ হাদীসে বর্ণিত দু‘আয়ে-রাসূল অথবা শুদ্ধ প্রমাণিত কোন সাহাবার দু‘আ বেছে নেওয়া উচিত। কোন দু‘আ না পেলে হাম্দ ও দরূদ পড়ে নিজের ভাষায় নিজের প্রয়োজন আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা চলে।

পক্ষান্তরে রসূল (সাঃ) যে স্থানে বা সময়ে দু‘আ করতে নির্দেশ দিয়েছেন বা নিজে দু‘আ কারেছেন সেই দু‘আর সেই নিয়ম ও পদ্ধতি সকলের ক্ষেত্রে মান্য হবে। যেমন ইস্তিসকায়, আরাফায়, সাফা মারওয়ার উপর, ছোট ও মধ্যম জামরায় পাথর মারার পর, কুনূতে, কেউ দু‘আ করতে আবেদন করলে তার জন্য (কখনো কখনো) হাত তুলে দু‘আ করেছেন। এসব ক্ষেত্রে হাত তুলে দু‘আ করা হবে। নবী (সাঃ) সালাতের পর দু‘আ বা যিকর করেছেন বা করতে নির্দেশ দিয়েছেন, কিন্তু হাত তুলেননি বা তুলতে নির্দেশ দেননি, দাফনের পর দু‘আ করতে নির্দেশ দিয়েছেন, কিন্তু হাত তুলতে বলেননি বা নিজেও হাত তুলে ওখানে দু‘আ করেননি, বর-কনের জন্য দু‘আ করেছেন, কিন্তু হাত তুলেননি। তাই এ সব ক্ষেত্রে এবং যেখানে তাঁর আদর্শ বর্তমান রয়েছে, সেখানে হাত তুলে দু‘আর আদব বলে আমরা হাত তুলতে পারি না। তাই তো জুমআর খুতবায় দু‘আ বিধেয় হলেও, হাত তুলা বিদআত। মাসরুক বলেন, ‘(জুমআর দিন ইমাম-কুক্তাদী মিলে যারা হাত তুলে দু‘আ করে) আল্লাহ তাদের হাত কেটে নিন।’ [মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবাহ ৫৪৯১ ও ৫৪৯৩]

অনুরূপ কারণে জামাআত থাকতেও আল্লাহর রাসূল (সাঃ) যেখানে জামাআতী দু‘আ বা সম্মিলিত দুয়া করেননি বা কোন সাহাবাও করেননি, সেখানে আমরাও জামাআত করে দু‘আ কারতে বা সম্মিলিত দুয়া করতে পারি না। তিনি যেমন করেছেন বা নির্দেশ দিয়েছেন, সাহাবায়ে কিরামগণ ঐ সব ক্ষেত্রে যেমন করেছেন, তেমনটিই করা আমাদের কর্তব্য। এবং তা অনুসরণে আমাদের কল্যাণ এবং নতুনভাবে কিছু করাতেই বিপদ আছে।

আসুন আমরা আগামীতে দেখি, আমাদের আদর্শ রসূল (সাঃ) কোথায়, কোন সময়ে, কিভাবে, কতবার, কি দু‘আ বা যিকর পড়েছেন বা পড়তে উদ্বুদ্ধ করেছেন এবং সেই মতই আমল করি। যেগুলি প্রার্থনার সাধারণ দু‘আ সেগুলি আমাদর প্রয়োজন মত সময়ে অর্থের প্রতি লক্ষ্য করে বেছে নিয়ে প্রার্থনা করি।

তসবীহ ও তহলীল

ইসলামী মূলমন্ত্র কলেমাঃ

لَا إلٰهَ إِلَّا اللهُ، مُحَمَّدٌ رَّسُولُ اللهِ

উচ্চারণঃ “লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা- হু, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ।”

অর্থঃ আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল।

প্রকাশ থাকে যে, “লা- ইলা- হা ইল্লাল্লা- হু” দ্বারা যিকর করা যায় কিন্তু “মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ” যোগ করে যিকর করা যায় না। অনুরূপ কেবল ‘আল্লাহু-আল্লাহু’ বলে ‘আল-আল, ইল-ইল, হু-হু’ বলে যিকর করাও বিদআত। যিকরের তাসবীহ ও তাহলীল নিম্নরূপঃ

  1. لَا إِلٰهَ إلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ علٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ،

  2. উচ্চারণঃ “লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু অহদাহু লা- শারীকা লাহ, লাহুল মুলকু অলাহুল হামদু অহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর।”

    অর্থঃ আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন অংশী নেই, তাঁরই জন্য সমস্ত রাজত্ব, তাঁরই সমস্ত প্রশংসা, এবং তিনি সর্ববিষয়ে শক্তিমান।

    এই দু‘আটি দিনে যে কোন সময়ে ১০০ বার পাঠ করলে ১০ টি গোলাম আযাদ করার সমান সওয়াব হয়, ১০০ টি নেকী লিখা হয়, ১০০ টি গুনাহ মার্জনা করা হয়, সেদিন সন্ধ্য পর্যন্ত শয়তান থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এবং সর্বশ্রেষ্ট সওয়াবের অধিকারী হওয়া যায়। [বুখারী ৪/৯৫, মুসলিম ৪/২০৭১]

    যে ব্যক্তি এ দু‘আটি ১০ বার পাঠ করবে, সে ইসমাঈলের বংশধরের ৪টি গোলাম আযাদের সমান সওয়াব অর্জন করবে। [বুখারী ৭/২৬৭, মুসলিম ৪/২০৭১]

  3. سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ

  4. উচ্চারণঃ ‘সুবহা-নাল্লা-হি অবিহামদিহ।’

    অর্থঃ আমি আল্লাহর সপ্রশংস পবিত্রতা বর্ণনা করি।

    দিনে যে কোন সময় এই তসবীহটি ১০০ বার পাঠ করলে সমুদ্রের ফেনা সম পরিমাণ পাপ হলেও তা মাফ করা হয়। [বুখারী ৭/১৬৮, মুসলিম ৪/২০১৭] সকাল ও সন্ধ্যায় ১০০ বার করে পড়লে কিয়ামতে সবচেয়ে বেশী সওয়াব নিয়ে উপস্থিত হবে।” [মুসলিম ৪/২০৭১] আর এটি আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়। [মুসলিম ২৭৩১]

  5. سُبْحَانَ اللهِ العَظِيمِ وَبِحَمْدِهِ

  6. উচ্চারণঃ সুবহা-নাল্লা-হিল আযীম অবিহামদিহ।

    অর্থঃ আমি মহান আল্লাহর সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণ করি। [তিরমিযী ৫/৫১১]

  7. سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ، وَسُبْحَانَ اللهِ الْعَظِيمِ

  8. উচ্চারণঃ সুবহা-নাল্লা-হী অ বিহামদিহী সুবহা-নাল্লা-হিল আযীম।

    অর্থঃ আমি আল্লাহর সপ্রশংস তাসবীহ পাঠ করি, মহান আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করি।

    এই তসবীহ দু’টি মুখে হাল্কা, কিয়ামতে নেকীর মীযানে (পাল্লায়) ভারী এবং আল্লাহর কাছে প্রিয়। যে কোন সময় এটি পাঠ করতে হয়। [বুখারী]

  9. سُبْحَانَ اللهِ، اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ، لَاإِلٰهَ إِلَّا اللهُ، أَللهُ أَكْبَرُ

  10. উচ্চারণঃ সুবহা-নাল্লা-হ, (এটিকে তাসবীহ বলে) আল হামদু লিল্লা-হ, (এটিকে তাহমীদ বলে) লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ, (এটিকে তাহলীল বলে) আল্লা-হু আকবার, (এটিকে তাকবীর বলে)।

    অর্থঃ আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করি, যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহরই জন্য, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই, আল্লাহ সবচেয়ে মহান।

    এই কলেমাগুলি বিশ্বের সকল বস্তুর চেয়ে উত্তম ও নবী প্রিয়। [বুখারী ৭/১৬৮, মুসলিম ৪/২০৭২] আর আল্লাহর নিকটেও প্রিয়। এগুলি যে কোন সময়ে আগে পিছে করে পড়া যায়। [মুসলিম ৩/১৬৮৫] সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ যিকর ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লা-হ। [তিরমিযী ৫/৪৬২]

    একবার তসবীহ পাঠ করলে ১০০০ টি নেকী লিখা হয় অথবা ১০০০ টি গুনাহ ঝরে যায়। [মুসলিম ২৬৯৮] এই কলেমাগুলি জান্নাতের বৃক্ষহীন বাগানের বৃক্ষের চারা। ‘আলহামদু লিল্লাহ’ মীযান ভরে দেয় এবং ‘সুবহা-নাল্লা-হি আলহামদু লিল্লা-হ’ আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যবর্তী স্থান পূর্ণ করে দেয়। [মুসলিম]

  11. سُبْحَانَ اللهِ عَدَدَ خَلْقِهِ، سُبْحَانَ اللهِ رِضَى نَفْسِهِ، سُبْحَانَ اللهِ زِنَةَ عَرْشِهِ، سُبْحَانَ اللهِ مِدَادَ كَلِمَاتِهِ

  12. উচ্চারণঃ সুবহা-নাল্লা-হি ‘আদাদা খালক্বিহ, সুবহা-নাল্লা-হি রিযা নাফসিহ, সুবহা-নাল্লা-হি যিনাতা আরশিহ, সুবহা-নাল্লা-হি মিদা-দা কালিমা-তিহ।

    আর্থঃ আমি আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি, তাঁর সৃষ্টির সমান সংখ্যক, তাঁর মর্জি অনুযায়ী, তাঁর আরশের ওজনের সমান, তাঁর বাক্যবলির সমান সংখ্যক।

    এই তসবীহটি তিন বার পাঠ করলে ফজরের পর থেকে চাশ্তের সময় পর্যন্ত যিকর করার সমান সওয়াব পাওয়া যায়। এটি সকালের দিকে বলা ভাল। [মুসলিম ২৭২৬]

  13. اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ، اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ مِلْءَ مَا خَلَقَ، اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ عَددَ مَا فِي السَّمٰوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ، اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ عَدَدَ مَا أَحْصَ كِتَابُهُ، وَالْحَمْدُ الِلّٰهِ عَدَدَ كُلِّ شَيْءٍ، وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ مِلْءَ كُلِّ شَيْءٍ، سُبْحَانَ اللهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ، سُبْحَانَ اللهِ مِلْءَ مَا خَلَقَ، سُبْحَانَ اللهِ عَدَدَ مَافِي السَّمَوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ، سُبْحَانَ اللهِ عَدَدَ مَا أَحْصَ كِتَابُهُ، وَسُبْحَانَ اللهِ عَلَى مِلْءِ مَا أَحْصَ كِتَابُهُ، سُبْحَانَ اللهِ عَدَدَ كُلِّ شَيْءٍ، وَسُبْحَانَ اللهِ مِلْءَ كُلِّ شَيْءٍ،

  14. উচ্চারণঃ আলহামদু লিল্লাহ ‘আদাদা মা খালাক্বা, আলহামদু লিল্লাহি মিল্আ মা খালাক্বা, আলহামদু লিল্লাহি ‘আদাদা মা ফিস্সামাওয়াতি অমা ফিল আর্য্ব, আলহামদু লিল্লাহি ‘আদাদা মা আহস্বা কিতাবুহ, আলহামদু লিল্লাহি ‘আলা মিল্ই মা আহস্বা কিতাবুহ, আলহামদু লিল্লাহি আদাদা কুল্লি শায়ইন, আলহামদু লিল্লাহি মিল্আ কুল্লি শায়ইন’।

    সুবহানাল্লাহি ‘আদাদা মা খালাক্বা, সুবহানাল্লাহী মিল্আ মা খালাক্বা, সুবহানাল্লাহি ‘আদাদা মা ফিস্সসামাওয়াতি অমা ফিল আর্য্ব, সুবহানাল্লাহি ‘আদাদা মা আহস্বা কিতাবুহ, অসুবহানাল্লাহি ‘আলা মিল্ই মা আহস্বা কিতাবুহ, অসুবহানাল্লাহি ‘আদাদা কুল্লি শায়ইন’, অসুবহানাল্লাহি মিল্আ কুল্লি শায়ইন।

    অর্থঃ আল্লাহর প্রশংসা তাঁর সৃষ্টির সমান সংখ্যক, আল্লাহর প্রশংসা তাঁর সৃষ্টি পরিপূর্ণ, আল্লাহর প্রশংসা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা আছে তার সমান সংখ্যক, আল্লাহর প্রশংসা তাঁর কিতাব যা গণনা করেছে তার সমান সংখ্যক, আল্লাহর প্রশংসা তাঁর কিতাব যা গণনা করেছে তার পরিপূর্ণ, আল্লাহর প্রশংসা সকল বস্তুর সংখ্যা পরিমাণ এবং আল্লাহর প্রশংসা সকল বস্তু পরিপূর্ণ।

    আমি আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি তাঁর সৃষ্টির সমান সংখ্যক, আমি আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি তাঁর সৃষ্টি পরিপূর্ণ, আমি আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা আছে তার সমান সংখ্যক, আমি আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি তাঁর কিতাব যা গণনা করেছে তার সমান সংখ্যক, আমি আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি তাঁর কিতাব যা গণনা করেছে তার পরিপূর্ণ, আমি আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি সকল বস্তুর সংখ্যা পরিমাণ এবং আমি আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি সকল বস্তু পরিপূর্ণ।

    এ যিকর পড়লে রাতদিন যিকর করার সমান সওয়াব লাভ হয়। মহানবী (সাঃ) বলেছেন, “তুমি এই যিকর শিখো এবং তোমার পরবর্তীকে শিখায়ে দাও।” [ত্বাবারানী, সহীহুল জামে’ ২৬১৫]

  15. لَا إِلٰهَ إلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، اَللهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا، وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ كَثِيرًا، سُبْحَانَ اللهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ،

  16. উচ্চারণঃ লা- ইলাহা ইল্লাল্লা-হু অহদাহু লা-শারীকা লাহ, আল্লা-হু আকবার কাবীরা, আলহামদু লিল্লা-হি কাসীরা, সুবহা-নাল্লা-হি রাব্বিল ‘আ-লামীন, লা-হাওলা অলা- কুউওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হিল আযীযিল হাকীম।

    অর্থঃ আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই, আল্লাহ সবচেয়ে মহান, আল্লাহর অনেক অনেক প্রশংসা। আমি বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি, পরাক্রমশালী বিজ্ঞানময় আল্লাহর প্রেরণা দান ছাড়া পাপ থেকে ফিরার এবং সৎকাজ করার (নড়া-সরার) শক্তি নেই।

  17. لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ،

  18. উচ্চারণঃ লা- হাউলা অলা- কুউওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ।

    অর্থঃ আল্লাহ ছাড়া কোন শক্তি ও কৌশল নাই।

    এটি জান্নাতের একটি ভাণ্ডার। [বুখারী ১১/২১৩, মুসলিম ৪/২০৭৬]

সকাল সন্ধ্যায় যিকর

আল্লাহ তআ‘আলা বলেনঃ

﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اذْكُرُوا اللهَ ذِكْرًا كَثِيرًا، وَسَبِّحُوهُ بُكْرَةً وَّأَصِيلًا﴾

অর্থঃ হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে আধিক অধিক স্মরণ কর এবং সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর। [কুরআন ৩৩:৪০-৪১]

আল্লাহ তা’আলা আরো বলেনঃ “আর সকাল সন্ধ্যায় তোমরা প্রতিপালকের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর।” [কুরআন ৪০:৫৫] আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ “আর তোমরা প্রতিপালকের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পূর্বে।” [কুরআন ৫০:৩৯]

  1. সকাল ও সন্ধ্যায় “সুবহা-নাল্লা-হি অবিহামদিহ” ১০০ বার করে।
  2. أَمْسَيْنَا وَأَمْسَى الْمُلْكُ للهِ، وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ، لَاإِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شّرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَيِّءٍ قَدِيرٌ، رَبِّ أَسْأَلُكَ خَيْرَ مَا فِى هَذِهِ اللَّيْلَةِ وَخَيْرَ مَا بَعْدَهَا وَأَعُوذُبِكَ مِنْ شَرِّ مَا فِي هٰذِهِ اللَّيْلَةِ وَشَرِّ مَا بَعْدَهَا، رَبِّ أَعُوذُبِكَ مِنَ الْكَسَلِ وَسُوءِ الْكِبَرِ، رَبِّ أَعُوذُبِكَ مِنْ عَذَبٍ فِى النَّارِ وَعَذَابٍ فِي الْقَبْرِ،

  3. উচ্চারণঃ আমসায়না অ আমসাল মুলকু লিল্লা-হ, আলহামদু লিল্লা-হ, লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু অহদাহু লা- শারীকা লাহ, লাহুল মুলকু অলাহুল হামদু অহুওয়া আলা কুল্লি শায়ইন ক্বাদীর। রাব্বি আসআলুকা খাইরা মা ফী হা-যিহিল লাইলাতি অ খাইরা মা বা‘দাহা, অ আ‘ঊযুবিকা মিন শার্রি মা ফী হা-যিহিল লাইলাতি অ শার্রি মা বা’দাহা, রাব্বি আ‘উযুবিকা মিনাল কাসালী অ সূইল কিবার, রাব্বি আ‘ঊবেকা মিন আযা-বিন ফিন্নারি অ আযা-বিন ফিল ক্বাব্‌র।”

    অর্থঃ আমরা এবং সারা রাজ্য আল্লাহর জন্য সন্ধ্যায় উপনীত হলাম। আল্লাহর সমস্ত প্রশংসা, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই, তাঁরই জন্য সমস্ত রাজত্ব, তাঁরই জন্য যাবতীয় স্তুতি, এবং তিনি সকল বস্তুর উপর সর্বশক্তিমান। হে আমার প্রভু! আমি তোমার নিকট এই রাতে যে কল্যাণ নিহিত আছে তা এবং তার পরেও যে কল্যাণ আছে তাও প্রার্থনা করছি। আর আমি তোমার নিকট এই রাত্রে যে অকল্যাণ আছে তা এবং তারপরও যে অকল্যাণ আছে তা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। হে আমার প্রতিপালক! আমি তোমার নিকট অলসতা এবং বার্ধক্যের মন্দ হতে পানাহ চাচ্ছি। হে আমার প্রতিপালক! আমি তোমার নিকট অলসতা এবং বার্ধক্যের মন্দ হতে পানাহ চাচ্ছি। হে আমার প্রভু! আমি তোমার নিকট জাহান্নামের এবং কবরের সকর প্রকার আযাব হতে আশ্রয় চাচ্ছি।

    এই দু‘আটি সন্ধ্যার সময় পাঠ করতে হয়। সকাল বেলায়ও এই দু‘আ পাঠ করতে হয়। তবে শুরুতে “আমসাইনা অ আমসাল” এর পরিবর্তে “আসবাহনা অ আসবাহাল” বলতে হবে। এটি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) পাঠ করতেন। [মুসলিম ৪/২০৮৮]

  4. সূরা ‘ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ” “ক্বুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক” এবং “ক্বুল আঊযু বিরাব্বিনাস” সকাল সন্ধ্যায় তিনবার করে পঠনীয়। যা প্রত্যেক জিনিসের মন্দ থেকে যথেষ্ট হবে। [আবু দাঊদ, তিরমিযী]
  5. সকাল হলে পড়তে হয়ঃ
  6. اَللّٰهُمَّ بِكَ أصْبَحْنَا وَبِكَ أَمْسَيْنَا وَبِكَ نَحْيَا وَبِكَ نَمُوتُ وَإِلَيْكَ النُّشُورُ،

    উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা বিকা আসবাহনা অবিকা আমসাইনা অবিকা নাহয়্যা অবিকা নামূতু অ ইলাইকান নুশূর।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! তোমারই হুকুমে আমাদের সকাল হল এবং তোমারই হুকুমে আমাদের সন্ধ্যা হয়, তোমারই হুকুমে আমরা জীবিত থাকি, তোমারি হুকুমে আমরা মৃত্যু বরণ করব এবং তোমারই দিকে আমাদের পুনর্জীবন।

    সন্ধ্যা হলে পড়তে হয়ঃ

    اَللّٰهُمَّ بِكَ أَمْسَيْنَ وَبِكَ أَصْبَحْنَا وَبِكَ نَحْيَا وَبِكَ نَمُوتُ وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ،

    উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা বিকা আমসাইনা অবিকা আসবাহনা অবিকা নাহয়্যা অবিকা নামূতু অ ইলাইকাল মাসীর।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! তোমারই হুকুমে আমাদের সন্ধ্যা হল এবং তোমারই হুকুমে আমাদের সকাল হবে। তোমারই হুকুমে আমরা জীবিত থাকি, তোমারই হুকুমে আমরা মৃত্যুবরণ করব এবং তোমারই দিকে আমাদের প্রত্যাবর্তনস্থল।

    এই দু‘আটি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাঁর সাহাবাদেরকে শিক্ষা দিতেন। [তিরমিযী ৫/৪৬৬]

  7. সাইয়্যেদুল ইস্তিগফারঃ
  8. اَللّٰهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِى وَ أَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلٰى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُذُبِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُلَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُو بِذَنْبِي فَاغْفِرْلِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ،

    উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা আন্তা রাব্বী লা ইলা-হা ইল্লা-আন্তা খালাক্বতানী, অ আনা ‘আব্দুকা অ আনা ‘আলা ‘আহদিকা আ অ‘দিকা মাসতাত্বা‘তু আ‘উযুবিকা মিন শার্রি মা স্বানা‘তু আবূউ লাকা মিনি‘মাতিকা ‘আলাইয়্যা অ আবূউ বিযামবী ফাগ্ফিরলি ফাইন্নাহু লা য়্যাগ্ফিরুয যুনূবা ইল্লা আন্তা।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমিই আমার প্রতিপালক। তুমি ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই। তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছ, আমি তোমার দাস। আমি তোমার প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকারের উপর যথাসাধ্য প্রতিষ্ঠিত আছি। আমি যা করেছি, তার মন্দ থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। আমার উপর তোমার যে সম্পদ রয়েছে, তা আমি স্বীকার করছি, আমর অপরাধও আমি স্বীকার করছি। সুতরাং তুমি আমাকে মার্জনা করে দাও, যেহেতু তুমি ছাড়া আর কেউ পাপ মার্জনা করতে পারে না।

    ক্ষমা প্রার্থনার এই দু‘আটি যদি কেউ সন্ধ্যাবেলায় পড়ে ঐ রাতে মারা যায় অথবা সকালবেলায় পড়ে ঐ দিনে মারা যায়, তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ [বুখারী ৭/১৫০]

  9. اَللّٰهُمَّ عَالِمَ الْغَيْبِ وَشَّهَادَةِ فَاطِرَ السَّمٰوَاتِ وَالْأَرْضِ رَبَّ كُلِّ شَيْءٍ وَّمَلِيكَهُ، أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ أَعُوذُبِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِي وَشَرِّ الشَّيْطَانِ وَشِرْكِهِ،

  10. উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা ‘আ-লিমাল গায়বি অশশাহা-দাহ, ফা-ত্বিরাস সামা-ওয়া-তে অল আরয্বি রাব্বা কুল্লি শাইয়িন আমালীকাহ, আশহাদু আল লা ইলা-হা ইল্লা আন্তা ‘আঊযু বিকা মিন শার্রি নাফসী অশার্রিশ শায়ত্বা-নি অশির্কিহ।

    অর্থঃ হে উপস্থিত ও অনুপস্থিত পরিজ্ঞাতা, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃজনকর্তা, প্রত্যেক বস্তুর প্রতিপালক ও অধিপতি আল্লাহ! আমি সাক্ষি দিচ্ছি যে তুমি ব্যতীত কোন সত্য উপাস্য নেই। আমি আমার আত্মার মন্দ হতে এবং শয়তানের মন্দ ও শির্ক হতে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

    এ দু‘আটি সকাল-সন্ধ্যায় ও শয়নকালে পঠনীয়। [আবু দাঊদ, সহীহ তিরমিযী, আলবানী ৩/১৪২]

  11. بِسْمِ اللهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ،

  12. উচ্চারণঃ বিসমিল্লা-হিল্লাযী লা য়্যাযুর্রু মা‘আসমিহী শাইউন ফিল আরয্বি অলা ফিসসামা-ই অহুওয়াস সামী‘উল ‘আলীম।

    অর্থঃ আমি আল্লাহর নামে শুরু করছি, যার নামের সাথে পৃথিবী ও আকাশের কোন জিনিস ক্ষতি সাধন করতে পারে না এবং তিনিই সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞাতা।

    এই দু‘আটি সন্ধ্যাকালে ৩ বার করে পাঠ করলে কোন জিনিস ক্ষতি করতে পারে না। [আবু দাঊদ, তিরমিযী, সহীহ ইবনে মাজাহ, আলবানী ২/৩৩২]

  13. أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ,

  14. উচ্চারণঃ ‘আউযু বিকালিমা-ত

    অর্থঃ আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীর অসীলায় তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার ক্ষতি হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

    এই দু‘আটি সন্ধ্যার সময় পড়লে ঐ রাতে কোন সাপ-বিছা ইত্যাদি কষ্ট দিতে পারে না। [মুসলিম ৪/২০৮০]

  15. اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآَخِرَةِ، اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي دِينِي وَدُنْيَاىَ وَأَهْلِي وَمَالِي، اَللّٰهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِي وَآمِنْ رَوْعَاتِي، اَللّٰهُمَّ احْفَظْنِي مِنْ بَيْنِ يَدَيَّ وَمِنْ خَلْفِي وَعَنْ يَمِينِي وَعَنْ شِمَالِي وَمِنْ فَوْقِي وَأَعُوذُ بِكَ بِعَظَمَتِكَ أَنْ أُغْتَالَ مِنْ تَحْتِي،

  16. উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকাল ‘আ-ফিয়াতা ফিদ্দুন্য়্যা অল আ-খিরাহ, আল্লা-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকাল ‘আফওয়া অল আ-ফিয়াতা ফী দ্বীনী অ দুনয়্যা-য়্যা অআহলী অমা-লী, আল্লা-হুম্মাসতুর ‘আওরা-তী অ আ-মিন রাও‘আ-তী, আল্লা-হুম্মাহফাযনী মিম বাইনি য়্যাদাইয়্যা অমিন খালফী অ‘আঁই য়্যামীনী অ‘আন শিমা-লী অমিন ফাউক্বী, অ‘আঊযু বি‘আযামাতিকা আন উগতা-লা মিন তাহতী।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার নিকট ইহকাল ও পরকালে নিরাপত্তা চাচ্ছি। হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার নিকট আমার ধর্ম ও পার্থিব জীবনে এবং পরিবার ও সম্পদে ক্ষমা ও নিরাপত্তা ভিক্ষা করছি। হে আল্লাহ! তুমি আমার লজ্জাকর বিষয়সমূহ গোপন করে নাও এবং আমার ভীতিতে নিরাপত্তা দাও। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে আমার সম্মুখ ও পশ্চাৎ, ডান ও বাম এবং উপর থেকে রক্ষণা-বেক্ষণ কর। আর আমি তোমার মাহাত্মের অসীলায় আমার নিচে ভূমি ধ্বসা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

    প্রত্যেক সকাল ও সন্ধ্যায় আল্লাহর নবী (সাঃ) এ দু‘আটি পাঠ করতেন।’ [সঃ ইমাঃ ২/৩৩২]

  17. أَصْبَحْنَا عَلٰى فِطْرَةِ الْإِسْلَامِ وَ علٰى كَلِمَةِ الْإِخْلَاصِ وَعَلٰى دِينِ نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ صَلَّى للهُ عَليْهِ وَسَلَّمَ وَعَلٰى مِلَّةِ أَبِينَا إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا مُّسْلِمًا وَّمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ،

  18. উচ্চারণঃ আস্বাহনা ‘আলা ফিত্বরাতিল ইসলা-মি অ‘আলা কালিমাতিল ইখলাস, অ ‘আলা দ্বীনি নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদিন সাল্লাল্লা-হু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম, অ ‘আলা মিল্লাতি আবীনা আবীনা ইবরাহীমা হানীফাম মুসলিমাঁউ অমা কা-না মিনাল মুশরিকীন।

    অর্থঃ আমরা ইসলামের প্রকৃতির উপর সকালে উপনীত হলাম, ইখলাসের বাণীর উপর, আমাদের নবী সাল্লাল্লা-হু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের দ্বীনের উপর এবং আমাদের পিতা ইব্রাহীম এর ধর্মাদর্শের উপর, যিনি একনিষ্ঠ মুসলিম ছিলেন এবং মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।

    এটিও তিনি সকাল-সন্ধ্যায় পাঠ করতেন। [সহীহুল জা-মে ৪/২০৯]

  19. يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيثُ، أَصْلِحْ لِي شَأنِي كُلَّهُ وَلَا تَكِلْنِي إِلٰى نَفْسِي طَرْفَةَ عَيْنٍ،

  20. উচ্চারণঃ ইয়া হাইয়্যু ইয়া ক্বাইয়্যূমু বিরাহমাতিকা আস্তাগীস, আসলিহ লী শা‘নী কুল্লাহ, অলা তাকিলনী ইলা নাফসী ত্বারফাতা ‘আইন্।

    অর্থঃ হে চিরঞ্জীব! হে অবিনশ্বর! আমি তোমার করুণার অসীলায় ফরিয়াদ করছি। তুমি আমার সকল বিষয়কে সংশোধন করে দাও। আর চোখের এক পলক বরাবরও আমাকে আমার নিজের প্রতি সোপর্দ করে দিও না। [নাসাঈ, বাযযার, সহীহ তারগীব ৬৫৪]

  21. আয়াতুল কুরসী। [সহীহ তারগীব ৬৫৫]

শয়নকালের দু‘আ ও যিকর

  1. বিছানায় শয়ন করে দুই হাত একত্রিত করে তাতে ফুঁ দিয়ে, সূরা ইখলাস, ফালাক্ব ও নাস পড়ে যথাসম্ভব সারা দেহে বুলিয়ে নিতে হয়। এমনটি ৩ বার করতে হয়। [বুখারী ৯/৬২, মুসলিম ৪/১৭২৩]
  2. শয়ন করে ‘আয়াতুল কুরসী’ পাঠ করলে আল্লাহর তরফ থেকে এক রক্ষী নিযুক্ত হয়ে যায় এবং শয়তান ঐ পাঠকারীর নিকটবর্তী হতে পারে না। [বুখারী ৪/৪৮৭]
  3. সূরা বাকারার শেষ দুটি আয়াত পাঠ করলে সকল প্রকার নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ঠ। [বুখারী ৯/৯৪, মুসলিম ১/৫৫৪]
  4. اَللّٰهُمَّ بِاسْمِكَ أَمُوتُ وَأَحْيَا،

  5. উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমূতু অ আহয়্যা।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার নামে মরি এবং বাঁচি।

  6. বিছানা থেকে উঠে গিয়ে পুনরায় শয়ন করলে তা ঝেড়ে শুতে হয়। শয়ন করে এই দু‘আ পড়তে হয়ঃ
  7. بِاسْمِكَ رَبِّي وَضَعْتُ جَنْبِي وَبِكَ أَرْفَعُهُ فَإِنْ أَمْسَكْتَ نَفْسِي فَارْحَمْهَا وَإِنْ أَرْسَلْتَهَا فَا حْفَظْهَا بِمَا تَحْفَظُ بِهِ عِبَادَكَ ألصَّالِحِينَ،

    উচ্চারণঃ বিসমিকা রাব্বি আয্বা’তু যামবী অবিকা আরফা’উহু ফাইন আমসাকতা নাফসী ফারহামহা আইন আরসালতাহা ফাহফাযহা বিমা তাহফাযু বিহী ‘ইবা-দাকাস স্বা-লিহীন।

    অর্থঃ হে আমার প্রতিপালক! আমি তোমারই নামে আমার পার্শ্ব রাখলাম এবং তোমারই নামে তা উঠাব। অতএব যদি তুমি আমার আত্মাকে আবদ্ধ করে নাও, তাহলে তার উপর করুণা করো। আর যদি তা ছেড়ে দাও, তাহলে তাকে ঐ জিনিস দ্বারা হিফযত কর, যার দ্বারা তুমি তোমার নেক বান্দাদের (হিফাযত) করে থাক। [বুখারী ৬৩২০, মুসলিম ৪/২০৮৪]

  8. اَللّٰهُمَّ أَنْتَ خَلَقْتَ نَفْسِي وَأَنْتَ تَوَفَّاهَا لَكَ مَمَاتُهَا وَمَحْيَاهَا، إِنْ أحْيَيْتَهَا فَاحْفَظْهَا وَاإِنْ أَمَتَّهَا فَاغْفِرْ لَهَا، اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ،

  9. উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা ইন্নাকা খালাক্বতা নাফসী অআন্তা তাওয়াফফা-হা লাকা মামা-তুহা অমাহয়্যাহা, ইন আহয়্যাইতাহা ফাহফাযহা, আইন আমাত্তাহা ফাগফির লাহা, আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকাল ‘আ-ফিয়াহ।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! নিশ্চয় তুমি আমার আত্মাকে সৃষ্টি করেছ আর তুমিই ওকে মৃত্যু দান করবে। তোমারই জন্য ওর মরণ এবং জীবন। যদি তুমি ওকে (পৃথিবীতে) জীবিত রাখ, তাহলে তার হিফযত কর। আর যদি ওকে মৃত্যু দাও, তাহলে ওকে মাফ কর। হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার নিকট নিরাপত্তা চাচ্ছি। [মুসলিম ৪/২০৮৩]

  10. ডান হাত গালের নিচে রেখে শুয়ে এই দু‘আ পড়বেঃ
  11. اَللّٰهُمَّ قِنِي عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَدَكَ،

    উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা ক্বিনী ‘আযা-বাকা ইয়াওমা তাব‘আসু ‘ইবা-দাকা।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! যেদিন তুমি তোমার বান্দাদেরকে পুনরুত্থিত করবে, সেদিনকার আযাব থেকে আমাকে রক্ষা করো। [সিলসিলা সহীহাহ ২৭৫৪]

  12. اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَكَفَانَا وَآوَانَا، فَكَمْ مِمَّنْ لَّا كَافِيَ لَهُ وَلَا ؤْوِيَ،

  13. উচ্চারণঃ আলহামদু লিল্লা-হিল্লাযী আত্বা‘আমানা অসাক্বা-না অকাফা-না অ আ-ওয়া-না, ফাকাম মিম্মাল লা কা-ফিয়া লাহু আলা মু’বী।

    অর্থঃ সেই আল্লাহর সমস্ত প্রশংসা যিনি আমাদের পানাহার করিছেন, তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট হয়েছেন এবং আশ্রয় দিয়েছেন। অথচ কত এমন লোক আছে, যাদের যথেষ্টকারী ও আশ্রয়দাতা নেই। [মুসলিম]

  14. নিদ্রার পূর্বে সূরা সাজদাহ ও সূরা মুলক পড়া উত্তম। [সহীহুল জামে ৪/২৫৫]
  15. সূরা কাফিরূন পাঠ করতে হয়, এতে শির্ক থেকে সম্পর্কহীনতা বর্তমান। [সহীহ তারগীব ৬০২]
  16. ৩৪ বার ‘আল্লাহু আকবার’ ৩৩ বার ‘আলহামদু লিল্লাহ’ ৩৩ বার ‘সুবহান-নাল্লাহ’ পাঠ করলে মীযানে এক হাজার সুয়াব সংযোজিত হয়। [সহীহ তারগীব ৬০৩]
  17. ওযু করে ডান কাতে শুয়ে সবশেষে নিম্নের দু‘আ পড়লে যদি ঐ রাতে মৃত্যু হয় তবে ইসলামী প্রকৃতির উপর মৃত্যু হবে।
  18. اَللّٰهُمَّ أَسْلَمْتُ نَفْسِي إِلَيْكَ وَ وَجَّهْتُ وَجْهِي إِلَيْكَ وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْكَ وَأَلْجَأتُ ظَهْرِي إِلَيْكَ، رَغْبَةً وَّرَهْبَةً إِلَيْكَ، لَا مَلْجَأ وَلَا مَنْجَا مِنْكَ إِلَّا إِلَيْكَ، آمَنْتُ بِكِتَا بِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ وَبِنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ،

    উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা আসলামতু নাফসী ইলাইকা ল অজ্জাহতু অজহিয়া ইলাইকা, অফাউওয়ায্বতু আমরী ইলাইকা, অ আলজা’তু যাহরী ইলাইক, রাগবাতাঁঊ অরাহবাতান ইলাইক, লা মালজাআ’ অলা মানজা মিনকা ইল্লা ইলাইক, আ-মানতু বিকিতা-বিকাল্লাযী আনযালতা অ বিনাবিয়্যিকাল্লাযী আরসালতা।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি আমার প্রাণ তোমার প্রতি সমর্পন করেছি, আমার মুখমণ্ডল তোমার প্রতি ফিরিয়েছি, আমার সকল কর্মের দায়িত্ব তোমাকে সোপর্দ করেছি, আমার পিঠকে তোমার দিকে লাগিয়েছি (তোমার উপরই সকল ভরসা রেখেছি), এসব কিছু তোমার সুয়াবের আশায় ও তোমার আযাবের ভয়ে করেছি। তোমার নিকট ছাড়া তোমার আযাব থেকে বাঁচাতে কোন আশ্রয়স্থল নেই। তুমি যে কিতাব অবতীর্ণ করেছ তার উপর এবং তুমি যে নবী প্রেরণ করেছ তার উপর ঈমান এনেছি। [বুখারী ১১/১১২, মুসলিম ৪/২০৮১]

ঘুম না এলে

বিছানায় শুয়ে ঘুম না আসার ফলে এপাশ-ওপাশ করলে এই দু‘আ পড়বেঃ

لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ، رَبُّ السَّمٰوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا الْعَزِيزُ الْغَفَّارُ،

উচ্চারণঃ লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হুল ওয়া-হিদুল ক্বাহহার, রাব্বুস সামা-ওয়া-তি অল আরয্বি অমা বায়নাহুমাল ‘আযীযুল গাফ্ফা-র।

অর্থঃ আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য উপাস্য নেই যিনি একক, প্রবল প্রতাপান্বিত। আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী এবং উভয়ের মধ্যবর্তী সকল বস্তুর প্রতিপালক। যিনি পরাক্রমশালী ক্ষমাশীল। [সহীহ জা-মে’ ৪/২১৩]

রাত্রে ভয় পেলে

أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ غَضَبِهِ وَعِقَابِهِ وَشَرِّ عِبَادِهِ وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيْطَانِ وَأَنْ يَحْضُرُنَ.

উচ্চারণঃ আ‘উযু বিকালিমা-তিল্লা-হিত তাম্মাতি মিন গায্বাবিহী অ ‘ইক্বা-বিহী অ শার্রি ‘ইবা-দিহী অমিন হামাযা-তিশ শায়াত্বীনি অ আঁই য়্যাহযুরূন।

অর্থঃ আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীসমূহের অসীলায় তাঁর ক্রোধ ও শাস্তি হতে, তাঁর বান্দাদের অনিষ্ট হতে, শয়তানের প্ররোচনাদি এবং আমার নিকট ওদের আগমন হওয়া থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। [সহীহ তিরমিযী ৩/১৭১]

দুঃস্বপ্ন দেখলে

সুস্বপ্ন আল্লাহর তরফ থেকে এবং দুঃস্বপ্ন শয়তানের তরফ থেকে হয়। দুঃস্বপ্ন দেখলে নিম্নলিখিত কাজ করবেঃ

  1. বাম দিকে তিনবার হাল্কা থুতু মারবে।
  2. শয়তান থেকে এবং যা দেখেছে তার মন্দ থেকে ৩ বার আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করবে।
  3. সেই স্বপ্ন কাউকে বলবে না।
  4. যে পার্শ্বে স্বপ্ন দেখেছে তার বিপরীত পার্শ্বে ফিরে শয়ন করবে।
  5. চাইলে উঠে রাতের সালাত আদায় করবে।

রাত্রিকালে ইবাদতের ফযীলত

আল্লহ তাআলা বলেন, “হে বস্ত্র আচ্ছাদনকারী (নবী) উপসনার জন্য রাত্রিতে উঠ রাত্রির কিছু অংশ বাদ দিয়ে; অর্ধরাত্রি অথবা তদপেক্ষা অল্প অথবা বেশী। কুরআন তেলাঅত কর ধীরে ধীরে স্পষ্ট ও সুন্দরভাবে। আমি তোমার উপর অবতীর্ণ করেছি গুরুত্বপূর্ণ বাণী। ইবাদতের জন্য রাত্রি জাগরণ গভীর অভিনিবেশ ও হৃদয়ঙ্গম করার পক্ষে অতিশয় অনুকূল। [কুরআন ৭৩:১-৫]

“আর রাত্রের কিছু অংশ তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করবে —- এ তোমার জন্য এক অতিরিক্ত কর্তব্য। আশা করা যায় তোমার প্রতিপালক তোমাকে এক প্রশংসিত স্থানে প্রতিষ্ঠিত করবেন।” [কুরআন ১৭:৭৯]

“রাত্রিতে তাঁর প্রতি সিজদাবনত হো এবং রাত্রির দীর্ঘ সময় তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর।” [কুরআন ৭৬:২৬]

আল্লাহ তাআলা প্রত্যহ রাত্রের শেষ তৃতীয়াংশে নীচের আসমানে অবতরণ করেন এবং বলেন, “কে আমাকে ডাকে? আমি তার ডাকে সাড়া দেব। কে আমার নিকট প্রার্থনা করে? আমি তাকে দান করব। এবং কে আমার নিকট ক্ষমা চায়? আমি তাকে ক্ষমা করে দিব।” [বুখারী, মুসলিম, মিশকাত ১২২]

মধ্য রাত্রির শেষাংশে আল্লাহ বান্দার অতি নিকটবর্তী হন। তাই ঐ সময়ে বান্দার উচিত তাঁর উদ্দেশ্যে সালাত আদায় ও যিকর করা।

প্রত্যেক রাত্রে এমন এক মুহূর্ত আছে যাতে আল্লাহর কাছে বান্দা যা চায়, তাই পেয়ে থাকে। রাত্রিতে ঘুম থেকে জেগে কেউ যদি নিম্নের দু‘আ পাঠ করে আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করে, তাহলে তা মঞ্জুর করা হয়।

لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَه لَا شَرِيكَ لَه، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ وَلَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَاللهُ أَكْبَرُ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ.

উচ্চারণঃ “লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু আহদাহু লা শারীকা লাহ, লাহুল মুলকু অলাহুল হামদু অহুওয়া ‘আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর। সুবহা-নাল্লা-হি অলহামদু লিল্লা-হি অ লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু আল্লাহু আকবার, অ লা-হাওলা অলা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হিল ‘আলিয়্যিল ‘আযীম।

এর পর উঠে যদি ওযু করে সালাত আদায় করে তবে সালাত কবুল হয়। এ তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করার জন্য রাত্রিকালে উঠে সূরা আল ইমরানের ১৯০ আয়াত থেকে শেষ আয়াত পর্যন্ত পাঠ করা উত্তম। [বুখারী ৮/২৩৫, মুসলিম ১/৫৩০]

ঘুম থেকে জাগার পর যিকর।

  1. اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِي عَافَانِي فِي جَسَدِي وَرَدَّ عَلَيَّ رُوحِي وَأَذِنَ لِي بِذِكْرِهِ،

  2. উচ্চারণঃ আলহামদু লিল্লা-হিল্লাযী ‘আ-ফা-নী ফী জাসাদী অরাদ্দা ‘আলাইয়্যা রূহী অ আযিনা লী বিযিকরিহ।

    অর্থঃ সেই আল্লাহর যাবতীয় প্রশংসা, যিনি আমার দেহে আমাকে নিরাপত্তা দিয়েছেন, আমার প্রতি আমার আত্মাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন এবং তাঁর যিকর করার অনুমতি দিয়েছেন। [তিরমিযী ৩/১৪৪]

  3. اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ.

  4. উচ্চারণঃ আলহামদু লিল্লা-হিল্লাযী আহয়্যা-না বা‘দা মা আমা-তানা অ ইলাইহিন নুশূর।

    অর্থঃ সেই আল্লাহর সমস্ত প্রশংসা যিনি আমাদেরকে মৃত্যু (নিদ্রা) দেওয়ার পর জীবিত করলেন এবং তাঁরই দিকে আমাদের পুনর্জীবন। [বুখারী ১১/১১৩, মুসলিম ৪/২০৮৩]

কাপড় পরার দু‘আ

اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِي كَسَانِي هٰذَا وَرَزَقَنِيهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِّنِّي وَلَا قُوَّةٍ.

উচ্চারণঃ আল হামদু লিল্লা-হিল্লাযী কাসা-নী হা-যা অরাযাক্বানীহি মিন গায়রি হাওলিম মিন্নী অলা কূউওয়াহ।

অর্থঃ সেই আল্লাহর সমস্ত প্রশংসা যিনি আমাকে এই কাপড় পরিয়েছেন এবং আমার নিজস্ব কোন শক্তি ও চেষ্টা ছাড়াই তা আমাকে দান করেছেন।

এই দু‘আ কোন কাপড় পরিধান করার সময় পাঠ করলে পূর্বেকার (সগীরাহ) গুনাহ মাফ হয়ে যায়। [সহীহুর জামে ৫/২৫৬]

নতুন কাপড় পড়ার দু‘আ

اَللّٰهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ كَسَوْتَنِيهِ، أَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِهِ وَخَيْرِ مَا صُنِعَ لَهُ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهِ وَشَرِّ مَا صُنِعَ لَهُ.

উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা লাকাল হামদু আন্তা কাসাউতানীহ, আস আলুকা মিন খায়রিহী অ খাইরি মা সুনিআ’ লাহ, অ ‘আউযু বিকা মিন শর্রিহি অ শার্রি মা সুনি‘আ লাহ।

অর্থঃ হে আল্লাহ! তোমারই নিমিত্তে সমস্ত প্রশংসা, তুমি আমাকে এই (নতুন কাপড়) পরালে, আমি তোমার নিকট ইহার থেকে কল্যাণ চাচ্ছি এবং যা তার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে তার কল্যাণ প্রার্থনা করছি। আর ইহার অকল্যাণ থেকে এবং যা তার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে তার অকল্যাণ থেকে আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। [মুখাতাসার শামায়িলিত তিরমিযী, আলবানী ৪৭]

কাউকে নতুন কাপড় পরতে দেখলে

  1. কেউ নতুন কাপড় পরেছে দেখলে তাকে সম্বোধন করে এই বলতে হয়ঃ
  2. تُبْلِي وَتُخْلِفُ اللهُ تَعْالَى.

    উচ্চারণঃ তবলী অ য়্যুখলিফুল্লা-হু তা‘আ-লা।

    অর্থঃ পুরাতন কর, আল্লাহ তাআলা আরও দান করুন। [আবু দাঊদ ৪/৪১]

  3. اِلْبَسْ جَدِيدًا وَعِشْ حَمِيدًا وَمُتْ شَهِيدًا.

  4. উচ্চারণঃ ইলবাস জাদীদা, অ ‘ইশ হামীদা, অ মুত শাহীদা।

    অর্থঃ নতুন কাপড় পরিধান কর, প্রশংসনীয়ভাবে জীবন কাটাও এবং শহীদ হয়ে মৃত্যুবরণ কর। [সহীহ ইবনে মাজাহ ২/২৭৫]

কাপড় খোলার সময়

কাপড় খোলার সময়ঃ

بِسْمِ اللهِ

উচ্চারণঃ বিসমিল্লা-হ।

অর্থঃ আল্লাহর নামে শুরু করছি।

আল্লাহর নাম নিয়ে কাপড় খুললে লজ্জাস্থান থেকে জিনদের চোখে পর্দ পড়ে যায়।

প্রস্রাব-পায়খানায় প্রবেশের পূর্বে দু‘আ

بِسْمِ اللهِ ، اللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ.

উচ্চারণঃ বিসমিল্লা-হ, আল্লা-হুম্মা ইন্নী ‘আউযুবিকা মিনার খুবুসি অল খাবা-ইস।

অর্থঃ আল্লাহর নাম নিয়ে শুরু করছি। হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি পুরুষ ও নারী খবিস জ্বিন হতে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

অধিকাংশ জ্বিনরা নোংরা স্থানে বাস করে বা আসে যায়। প্রস্রাবাগার বা পায়খানা ঘরে বা স্থানে প্রবেশ করার পূর্বে এই দু‘আ পড়লে আল্লাহর হুকুমে তাদের চোখে পর্দা পড়ে যায়। [বুখারী ১/৪৫, মুসলিম ১/২৮৩, সহীহুল জামে ৩/২০৩]

প্রস্রাব-পায়খানার স্থান থেকে বের হয়ে

غُفْرَانَكَ

উচ্চারণঃ গুফরা-নাক।

অর্থঃ তোমার ক্ষমা চাই। [আবু দাঊদ ১/৮, তিরমিযী ১/১২]

ওযুর পূর্বে ও পরে যিকর

ওযুর পূর্বে ‘বিসমিল্লাহ’ বলে ওযু শুরু করতে হয় এবং পরে নিম্নের দু‘আ পড়তে হয়।

  1. أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلٰهَ إِللهُ وَحْدَه لَا شَرِيكَ لَهُ وَ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، اَللّٰهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ التَّوَّابِينَ وَاجْعَلْنِي مِنَ الْمُطَهِّرِينَ.

  2. উচ্চারণঃ আশহাদু আল লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু অহদাহু লা শারীকা লাহ, অ আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান ‘আবদুহু অরাসূলুহু। আল্লা-হুম্মাজআলনী মিনাততাওয়া-বীনা অজআলনী মিনাল মুতাত্বাহহিরীন।

    অর্থঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন সত্য উপাস্য নেই। তিনি একক, তাঁর কোন অংশী নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সাঃ) তাঁর দাস ও প্রেরিত দূত (রসূল)। হে আল্লাহ! আমাকে তওবাকারী ও পবিত্রতা অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত কর।

    এই দু‘আ ওযুর পর পড়লে জান্নাতের আটটি দরজা পাঠকারীর জন্য খোলা হয়। [মুসলিম ১/২০৯, তিরমিযী, আলবানী]

  3. কাফফারাতুল মজলিসের দু‘আও এ স্থলে পড়া হয়। [আমালুল ইয়াউমি অল লাইলাহ, নাসাঈ ১৭৩, ইরওয়াউল গালীল ১/১৩৫, ৩/৯৪]

ঘর থেকে বের হতে

  1. بسْمِ اللهِ، تَوَكَّلْتُ عَلَى اللهِ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ.

  2. উচ্চারণঃ বিসমিল্লা-হি, তাওয়াক্কালতু আলাল্লা-হ, অলা হাওলা অলা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ।

    অর্থঃ আল্লাহর নাম নিয়ে (বের হচ্ছি), আল্লাহর উপরই নির্ভর করছি, আর আল্লাহ ছাড়া কোন কৌশলও নেই শক্তিও নেই।

    এই দু‘আ পড়ে ঘর থেকে বের হলে পাঠাকারীর জন্য আল্লাহ যথেষ্ট হন, তাকে পথ নির্দেশ করা হয়, সকল প্রকার বিপদ থেকে রক্ষা করা হয় এবং শয়তান তার নিকট থেকে দূরে সরে যায়। [আবু দাঊদ ৪/৩২৫, তিরমিযী ৫/৪৯০]

  3. আকাশের দিকে দৃষ্টিপাত করে এই দু‘আ পড়তে হয়ঃ
  4. اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أَضِلَّ أَوْ أُضَلَّ أَوْ أَزِلَّ أَوْ أُزَلَّ أَوْ أَظْلِمَ أَوْ أُظْلَمَ أَوْ أَجْهَلَ أَوْ يُجْهَلَ عَلَيَّ.

    উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযু বিকা আন আয্বিল্লা আউ উয্বাল্লা আউ আযিল্লা আউ উযাল্লা, আউ আযলিমা আউ উযলামা আউ আজহালা আউ য়্যুজহালা ‘আলাইয়্যা।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি, আমি ভ্রষ্ট হই বা আমাকে ভ্রষ্ট করা হয়, আমার পদস্খলন হয় বা আমাকে পদস্খলন করান হয়, আমি অত্যাচারী হই অথবা আমি অত্যাচারিত হই অথবা আমি মূর্খামি করি অথবা আমার প্রতি মূর্খামি করা হয় এসব থেকে। [তিরমিযী ৩/১৫২]

ঘরে প্রবেশ করতে

ঘরে প্রবেশ করার সময় আল্লাহর যিকর করা (বিসমিল্লাহ বলা) উত্তম। এতে শয়তান ঘরে স্থান পায় না। [মুসলিম ৩/১৫৯৮] এ বিষয়ে নির্দষ্ট দু‘আ (খাইরার মাওলাজ) এর হাদীসটি যঈফ। [যঈফ আবূ দাঊদ ১০৬১, ৫০৫ পৃষ্ঠা]

গৃহে প্রবেশ করার সময় গৃহবাসীকে সালাম দেওয়া কর্তব্য। এত সকলের উপর বর্কত নেমে আসে। [তিরমিযী ৫/৫৯]

অপরের গৃহে প্রবেশ করতে গেলে অনুমতি সহ সালাম জানাতে হবে। বিনা অনুমতিতে অপরের গৃহে সরাসরি প্রবেশ করা হারাম। [সূরা আন-নূর ২৪/২৭]


সালাত

মসজিদে যেতে পথে দু‘আ

اَللّٰهُمَّ اجْعلْ فِي قَلْبِي نُورًا وَّ فِي لِسَانِي نُورًا وَّ اجْعَلْ فِي سَمْعِي نُورًا وَّ اجْعَلْ فِي بَصَرِي نُورًا وَّجْعَلْ مِنْ خَلْفِي نُورًا، وَّ مِنْ أَمَامِي نُورًا، وَّاجْعَلْ مِنْ فَوْقِي نُورًا وَمِنْ تَحْتِي نُورًا، اَللّٰهُمَّ أَعْطِنِي نُورًا.

উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মাজ ‘আল ফী ক্বালবী নূরা, অফী লিসানী নূরা, অজআল ফী সাম’য়ী নূরা, অজআল ফী বাস্বারী নূরা, অজআল মিন খালফী নূরা, অমিন আমা-মী নূরা, অজআল মিন ফাউক্বী নূরা, অমিন তাহতী নূরা, আল্লাহুম্মা আ’তিনী নূরা।

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমার হৃদয়, রসনা, কর্ণ, চক্ষু, পশ্চৎ, সম্মুখ, ঊর্ধ, ও নিম্নে জ্যোতি প্রদান কর। হে আল্লাহ! আমাকে নূর (জ্যোতি) দান কর। [বুখারী ৭/১৪৮, মুসলিম ১/৫৩০]

মসজিদে প্রবেশ করতে দু‘আ

  1. أَعُوذُ بِاللهِ الْعَظِيمِ، وَبِوَجْهِهِ الْكَرِيمِ، وَسُلْطَانِهِ الْقَدِيمِ، مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ.

  2. উচ্চারণঃ আ ‘ঊযু বিল্লা-হিল ‘আযীম, অবিঅজহিল কারীম, অ সুলত্বা-নিহিল ক্বদীম, মিনাশ শায়ত্বা-নির রাজীম।

    আর্থঃ আমি মহিমময় আল্লাহর নিকট এবং তার সম্মানিত চেহারা ও তাঁর প্রাচীন পরাক্রমশালিতার অসীলায় বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

    এই দু‘আটি মসজিদে প্রবেশ করার সময় পাঠ করলে সারা দিন শয়তান থেকে নিরাপদ থাকা যায়। [সহীহুল জামে’ ৪৫৯১]

  3. بِسْمِ اللهِ، وَالصَّلَاةُ وَسَّلَامُ عَلٰى رَسُولِ اللهِ، اَللّٰهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ.

  4. উচ্চারণঃ বিসমিল্লা-হ, অসস্বালা-তু অসসালা-মু ‘আলা রাসূলিল্লা-হ, আল্লা-হুম্মাফ তাহলী আবওয়া-বা রাহমাতিকা।

    অর্থঃ আল্লাহর নাম নিয়ে শুরু করছি, সালাম ও দরূদ বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূল এর উপর। হে আল্লাহ! আমার জন্য তুমি তোমার করুণার দুয়ার খুলে দাও। [সহীহুল জামে ১/৫২৮, মুসলিম ১/৪৯৪, ইবনুস সুন্নী ৮৮]

মসজিদ থেকে বের হতে দু‘আ

  1. بِسْمِ اللهِ، وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلٰى رَسُولِ اللهِ، اللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ.

  2. উচ্চারণঃ বিসমিল্লা-হ, অসস্বালা-তু অসসালা-মু ‘আলা রাসূলিল্লা-হ, আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকা মিন ফায্বলিকা।

    অর্থঃ আল্লাহর নাম নিয়ে (বের হচ্ছি) দরূদ ও সালাম হোক আল্লাহর রাসূলের উপর, হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার নিকট তোমার অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি। [ইবনে সুন্নী ৮৮, মুসলিম ১/৪৯৪]

  3. বিসমিল্লাহ, সালাম ও দরুদের পরঃ
  4. اَللّٰهُمَّ اعْصِمْنِي مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ.

    উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা‘সিমনী মিনাশ শাইত্বা-নির রাজীম।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! আমাকে বিতাড়িত শয়তান থেকে রক্ষা কর। [সহীহুল জামে’ ৫২৮]

    মসজিদে কাউকে হারানো জিনিস খুঁজতে দেখলে বলবে, ‘আল্লাহ যেন তোমার জিনিস ফিরিয়ে না দেন।’ কাউকে কিছু বিক্রয় করতে দেখলে বলবে, ‘আল্লাহ যেন তোমার ব্যাবসায় লাভ না দেন।’ [মুসলিম ৫৬৮, তিরমিযী ১৭৬]

আযানে সময় বলবে

মুয়াযযিন যা বলবে তা শুনে তার উত্তরেও তাই বলতে হয়। ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহি’ দ্বিতীয়বার বলে শেষ করে তারপর নিম্ন লিখিত দু‘আ বলা উত্তম।

وَأَنَا أَشْهَدُ أَنْ لَّا إلٰهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَاشَرِيكَ لَهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، رَضِيتُ بِاللهِ رَبًّا وَبِمُحَمَّدٍ رَّسُولًا وَّبِالْإِسْلَامَ دِينًا.

উচ্চারণঃ অ আনা আশহাদু আল লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু অহদাহু লা শারীকা লাহ, অ আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু অ রাসূলুহ, রায্বীতু বিল্লা-হি রাব্বাঁউ অ বিমুহাম্মাদির রাসূলাঁউ অ বিলইসলা-মি দ্বীনা।

অর্থঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই এবং মুহাম্মাদ তাঁর দাস ও প্রেরিত রসূল। আল্লাহকে প্রতিপালক রূপে মেনে নিতে, মুহাম্মাদ কে রাসূল রূপে স্বীকার করতে এবং ইসলামকে দ্বীন হিসাবে গ্রহণ করতে আমি সম্মত ও তুষ্ট হয়েছি।

এই দু‘আ পাঠ করলে গোনাহসমূহ মাফ হয়ে যায়। [মুসলিম ১/২৯০, ইবনে কুযাইমাহ ১/২২০]

মুআযযিন যখন ‘হাইয়্যা আলাস সালাহ’ ও ‘হাইয়্যা আলাল ফালাহ’ বলে, তখন তার উত্তরে বলতে হয়ঃ

لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إلَّا بِاللهِ.

উচ্চারণঃ লা হাওলা অলা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ।

অর্থঃ আল্লার ছাড়া কোন কৌশল নাই এবং কোন শক্তিও নাই। [বুখারী ১/১৫২, মুসলিম ১/২৮৮]

‘আসস্বালাতু খাইরুম মিনান নাউম’ এর উত্তর ‘আসস্বালাতু খাইরুম মিনান নাউম’ বলতে হবে।

আযান শেষ হলে দরূদ পাঠ করতে হয়। [মুসলিম ১/২৮৮] তারপর নিম্নের দু‘আটি পাঠ করতে হয়ঃ

اَللّٰهُمَّ رَبَّ هٰذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ، وَالصَّلَاةِ الْقَائِمَةِ، آتِ مُحَمَّدًا لْوَسِيلَةَ وَالْفَضِيلَةَ وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَّحْمُودًا الَّذِي وَعَدْتَّهُ.

উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা রাব্বা হা-যিহিদ দা’অতিত তা-ম্মাহ, আস্বালা-তিল ক্বা-য়িমাহ, আ-তি মুহাম্মাদানিল অসীলাতা অল-ফযীলাহ, অব’আসহু মাক্বা-মাম মাহমুদানিল্লাযী অ’আত্তাহ।

আর্থঃ হে আল্লাহ এই পূর্ণাঙ্গ আহ্বান ও প্রতিষ্ঠা লাভকারী সালাতের প্রভু! মুহাম্মাদ কে তুমি অসীলা ও মর্যাদা দান কর এবং তাঁকে প্রশংসিত স্থানে পৌঁছাও, যার প্রতিশ্রুতি তুমি তাঁকে দিয়েছ।

এই দু‘আ পাঠ করলে পাঠকারী কিয়ামতের দিন তাঁর সুপারিশ পাবে। [বুখারী ১/১৫২] এর মাঝে বা শেষে অতিরিক্ত কোন দু‘আর অংশ শুদ্ধ নয়। তাই এর উপর কোন প্রকার অতিরিক্ত করা উচিত নয়। [ইরওয়াউল গালীল ১/২৬১]

আযান ও ইকামতের মাঝে দু‘আ কবুল হয়। তাই নিজের জন্য কিছু কল্যাণকর দু‘আ করা এ সময় দুষণীয় নয়। [ইরওয়াউল গালীল ১২৬২]

ইকামতের জওয়াব আযানের মতই। ‘ক্বাদ ক্বা-মাতিস্ব স্বালা-হ’ এর উত্তরে ‘আক্বা-মাহাল্লাহ—–’ বলার বিষয়ে হাদীসটি যঈফ। তাই অনুরূপ ‘ক্বাদ ক্বা-মাতিস্ব স্বালা-হ’ বলা উচিত। [ইরওয়াউল গালীল ১/২৫৮]

সালাত শুরুর সময় পাঠ করবে।

তাকবীরে তাহরীমা বলে দুই হাত তুলে বক্ষঃস্থলে হাত বেঁধে নিম্নের যে কোন একটি দু‘আ পাঠ করতে হয়।

  1. اللّٰهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَايَ كَمَا بَاعَدْتَّ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ، اَللّٰهُمَّ نَقِّنِي مِنَ الْخَطَايَا كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الْأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ، اَللّٰهُمَّ اغْسِلْ خَطَايَا ىَ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ.

  2. উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা বা-‘ইদ বাইনী অ বাইনা খাত্বা-য়্যা-য়্যা কামা বা-‘আত্তা বাইনাল মাশরিক্বি অল মাগরিব, আল্লা-হুম্মা নাক্ক্বিনী মিনাল খাত্বা-য়্যা কামা য়্যুনাক্ক্বাস সাওবুল আবয়্যায্বু মিনাদ দানাস, আল্লাহু-ম্মাগসিল খাত্বা-য়্যা-য়্যা বিল মা-য়ি অসসালজি অলবারাদ।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি আমার মাঝে ও আমার গুনাহসমূহের মাঝে এতটা ব্যবধান রাখ, যেমন তুমি পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝে ব্যবধান রেখেছ। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে গোনাহ সমূহ থেকে পরিস্কার করে দাও, যেমন সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিস্কার করা হয়। হে আল্লাহ! তুমি আমার গুনাহসমূহকে পানি, বরফ ও শীষির দ্বারা ধৌত করে দাও। [বুখারী ১/১৮৯, মুসলিম ১/৪১৯]

  3. سُبْحَانَكَ اللّٰهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالٰى جَدُّكَ وَلَا إِلٰهَ غَيْرُكَ.

  4. উচ্চারণঃ সুবহা-নাকাল্লা-হুম্মা অ বিহামদিকা অ তাবা-রাকাসমুকা অ তা‘আ-লা জাদ্দুকা ল লা ইলা-হা গায়রুক।

    আর্থঃ তোমার প্রশংসার সাথে তোমার প্রবিত্রতা বর্ণনা করি হে আল্লাহ! তোমার নাম অতি বর্কতময়, তোমার মাহাত্ম্য অতি উচ্চ এবং তুমি ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই। [আবু দাঊদ]

  5. اَللهُ أكْبَرْ كَبِيرًا، اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ كَثِيرًا، وَسُبْحَانَ اللهِ بُكْرَةً وَّأَصِيلًا.

  6. উচ্চারণঃ আল্লাহু আকবারু কাবীরা, অল হামদু লিল্লাহি কাসীরা, অ সুবহা-নাল্লা-হি বুকরাতাঁউ অ আস্বীলা।

    অর্থঃ আল্লাহ অতি মহান, আল্লাহর অনেক অনেক প্রশংসা, আমি সকাল সন্ধ্যায় আল্লাহরই পবিত্রতা ঘোষণা করি। এই দু‘আটি দিয়ে নফল সালাত শুরু করতে হয়। [মুসলিম, সিফাতু সালাতিন্নাবী, আলবানী ৮৭পৃঃ]

  7. ﴿وَجَّهْتُ وَجْهِىَ لِلّٰذِي فَطَرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ حَنِيفًا وَّمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ، إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَاىَ وَمَمَاتِي لِلّٰهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ، لَا شَرِيكَ لَه وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمينَ﴾ اَللّٰهُمَّ أَنْتَ الْمَلِكُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ وَبِحَمْدِكَ أَنْتَ رَبِّي وَأَنَا عَبْدُكَ، ظَلَمْتُ نَفْسِي وَاعْتَرَفْتُ بِذَنْبِي، فَاغْفِرْلِي ذَنْبِي جَمِيعًا إِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُنُوبَ إِلَّا أَنْتَ وَاهْدِنِي لِأَحْسَنِ الْأَخْلَاقِ لَا يَهْدِي لْأَحْسَنِهَا إِلَّا أَنْتَ، وَاصْرِفْ عَنِّي سَيِّئَهَا لَا يَصْرِفُ عَنِّي سَيِّئَهَا إِلَّا أَنْتَ، لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ وَالْخَيْرُ كُلُّهُ فِي يَدَيْكَ وَالشَّرُّ لَيْسَ إِلَيْكَ وَالْمَهْدِي مَنْ هَدَيْتَ، أَنَا بِكَ وَإِلَيْكَ، لَا مَنْجَا وَلَا مَلْجَأَ مِنْكَ إِلَّا إِلَيْكَ، تَبَارَكْتَ وَتَعَالَيْتَ، أَسْتَغْفِرُكَ وَ أَتُوبُ إِلَيْكَ.

  8. উচ্চারণঃ (আজজাহতু অজহিয়া লিল্লাযী ফাত্বারাস সামা-ওয়া-তি অলআরয্বা হানীফাঁউ অমা আনা মিনাল মুশরিকীন। ইন্না সালা-তী অনুসুকী অমাহয়্যা-য়্যা অমামা-তী লিল্লা-হি রাব্বিল ‘আলামীন। লা শারীকা লাহু অবিযা-লিকা উমিরতু অআনা আওয়ালুল মুসলিমীন।) আল্লা-হুম্মা আন্তাল মালিকু লা ইলা-হা ইল্লা আন্তা। সুবহা-নাকা অবিহামদিকা আন্তা রাব্বী অ আনা ‘আবদুকা। যালামতু নাফসী অ‘তারাফতু বিযামবী, ফাগফিরলী যামবী জামীআন ইন্নাহু লা য়্যাগফিরুয যুনূবা ইল্লা আন্তা। লাব্বাইকা অ সা’দাইক, অলখায়রু কুল্লুহু ফী য়্যাদাইক। অশশার্রু লাইসা ইলাইক, অলমাহদীয়্যু মান হাদাইত, আনা বিকা অ ইলাইক। লা মানজা অলা মালজাআ মিনকা ইল্লা ইলাইক, তাবা-রাকতা অতা‘আ-লাইত, আস্তাগফিরুকা অ আতূবু ইলাইক।

    অর্থঃ আমি একনিষ্ঠ হয়ে তাঁর প্রতি মুখ ফিরায়েছি যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, আর আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই। নিশ্চয় আমার সালাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও আমার মরণ বিশ্ব জাহানের প্রতিপালক আল্লাহর জন্যই। তাঁর কোন অংশী নেই। আমি এ সম্বন্ধেই আদিষ্ট হয়েছি এবং আমি আত্মসমর্পণকারীদের প্রথম। হে আল্লাহ! তুমিই বাদশাহ তুমি ছাড়া কেউ সত্য উপাস্য নেই। আমি তোমার সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করি। তুমি আমার প্রভু ও আমি তোমার দাস। আমি নিজের উপর অত্যাচার করেছি এবং আমি আমার অপরাধ স্বীকার করেছি। সুতরাং তুমি আমার সমস্ত অপরাধ মার্জনা করে দাও, যেহেতু তুমি ছাড়া অন্য কেউ অপরাধ ক্ষমা করতে পারে না। সুন্দরতম চরিত্রের প্রতি আমাকে পথ দেখাও, যেহেতু তুমি ছাড়া অন্য কেউ সুন্দরতম চরিত্রের প্রতি পথ দেখাতে পারে না। মন্দ চারিত্রকে আমার নিকট হতে দূরে রাখ, যেহেতু তুমি ছাড়া অন্য কেউ মন্দ চরিত্রকে আমার নিকট থেকে দূর করতে পারে না। আমি তোমার আনুগত্যে হাজির এবং তোমার আজ্ঞা মানতে প্রস্তুত। যাবতীয় কল্যাণ তোমার হাতে এবং মন্দের সম্পর্ক তোমার প্রতি নয়। হিদায়াতপ্রাপ্ত সেই, যাকে তুমি হাদায়াত করেছ। আমি তোমার অনুগ্রহে আছি এবং তোমারই নিকট আমার প্রত্যাবর্তন। তুমি বরকতময় ও মহিমাময় তোমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তোমার দিকেই প্রত্যাবর্তন করি। [মুসলিম ১/৫৩৪]

    এই দু‘আটি ফরয ও নফল উভয় সালাতে পড়া চলে। [সিফাতু সালাতিন্নাবী]

  9. নিম্নের দু’আগুলি তাহাজ্জুদের সালাতে পড়া উত্তম; ‘সুবহা-নাক’ (২নং দু‘আ) পড়ে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ ৩ বার এবং ‘আল্লাহু আকবারু কাবীরা’ ৩ বার পাঠ করবে। [আবু দাঊদ]
  10. اَللّٰهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ نُورُ السَّمٰوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ، وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ قَيِّمُ السَّمٰوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ مَلِكُِ السَّمٰوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ، وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ الحَقُّ وَوَعْدُكَ الْحَقُّ وَقَوْلُكَ الْحَقُّ وَلِقَاؤُكَ حَقٌّ وَالْجَنَّةُ حَقٌّ وَالنَّارُ حَقٌّ وَالسَّاعَةُ حَقٌّ وَالنَّبِيُّونَ حَقٌّ وَمُحَمَّدٌ حَقٌّ، اللّٰهُمَّ لَكَ أَسْلَمْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَإِلَيْكَ أنَبْتُ وَبِكَ خَاصَمْتُ وَإِلَيْكَ حَاكَمْتُ، أَنْتَ رَبُّنَا وَإلَيْكَ الْمَصِيرُ، فَاغْفِرْلِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي، أَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ أَنْتَ إلَهِي لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِكَ.

  11. উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা লাকাল হামদু আন্তা নূরুস সামা-ওয়া-তি অলআরয্বি অমান ফীহিন্ন। অলাকাল হামদু আন্তা ক্বইয়্যিমুস সমা-ওয়া-তি অলআরয্বি অমান ফীহিন্ন। অলাকাল হামদু আন্তা মালিকুস সামা-ওয়া-তি অলআরয্বি অমান ফীহিন্ন। অলাকাল হামদু আন্তাল হাক্ক্ব, অ ওয়া’দুকাল হাক্ক্ব, অক্বাওলুকাল হাক্ক্ব, অলিক্বা-উকা হাক্ক্ব, অলজান্নাতু হাক্ক্ব, অন্না-রু-হাক্ক্ব, অসসা-‘আতু হাক্ক্ব, আন্নাবিয়্যূনা হাক্ক্ব, অমুহাম্মাদুন হাক্ক্ব। আল্লা-হুম্মা লাকা আসলামতু অ‘আলাইকা তাওয়াক্কালতু অবিকা আ-মানতু অ ইলাইকা আনাবতু, অবিকা খা-স্বামতু অ ইলাইকা হা-কামতু আন্তা রাব্বুনা অ ইলাইকাল মাসীর। ফাগফিরলী মা কাদ্দামতু অমা আখখারতু অমা আসরারতু অমা আ‘লানতু অমা আন্তা আ‘লামু বিহী মিন্নী। আন্তাল মুক্বাদ্দিমু অআন্তাল মুআখখিরু আন্তা ইলা-হী লা ইলা-হা ইল্লা আন্তা অলাহাওলা অলা কুউওয়াতা ইল্লা বিক।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! তোমারই যাবতীয় প্রশংসা। তুমি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী এবং উভয়ের মধ্যে অবস্থিত সকল কিছুর জ্যোতি। তোমারই সমস্ত প্রশংসা, তুমি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী ও উভয়ের মধ্যে অবস্থিত সকল কিছুর নিয়ন্তা, তোমারই সমস্ত প্রশংসা। তুমি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী ও উভয়ের মধ্যে অবস্থিত সকল কিছুর অধিপতি। তোমারই সমস্ত প্রশংসা, তুমিই সত্য, তোমার প্রতিশ্রুতিই সত্য, তোমার কথাই সত্য, তোমার সাক্ষাৎ সত্য, জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য, কিয়ামত সত্য, নবীগণ সত্য মুহাম্মাদ সত্য। হে আল্লাহ! আমি তোমারই নিকট আত্মসমর্পণ করেছি, তোমার উপরেই ভরসা করেছি, তোমার উপরই ঈমান (বিশ্বাস) রেখেছি, তোমার দিকে অভিমুখী হযেছি, তোমারই সাহায্যে বিতর্ক করেছি, তোমারই নিকট বিচার নিয়ে গেছি। তুমি আমাদের প্রতিপালক, তোমারই দিকে প্রত্যাবর্তনস্থল। অতএব তুমি আমার পুর্বের, পরের, গুপ্ত, প্রকাশ্য এবং যা তুমি অধিক জান সে সব পাপকে মাফ করে দাও। তুমি প্রথম, তুমিই শেষ। তুমি আমার উপাস্য, তুমি ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই এবং তোমার তাওফীক ছাড়া পাপ থেকে ফিরার ও সৎকাজ করার সাধ্য নেই। [বুখারী ৩/৩, মুসলিম ৫৩২]

  12. اَللّٰهُمَّ رَبَّ جِبْرَآئِيلَ وَ مِيكَائِيلَ وَإِسْرَافِيلَ، فَاطِرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ، عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ أَنْتَ تَحْكُمُ بَيْنَ عِبَادِكَ فِيمَا كَانُوا فِيهِ يَخْتَلِفُونَ، اِهْدِنِي لِمَا اخْتَلِفَ فِيهِ مِنَ الْحَقِّ بِإِذْنِكَ، إِنَّكَ تَهْدِي مَنْ تَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُّسْتَقشيمٍ.

  13. উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা রাব্বা জিবরা-ঈলা অমীকা-ঈলা অ ইসরা-ফীল। ফা-ত্বিরাস সামা-ওয়া-তি অলআরযু, ‘আলিমাল গায়বি অশশাহা-দাহ। আন্তা তাহকুমু বাইনা ‘ইবাদিকা ফীমা কা-নূ ফীহি য়্যাখতালীফূন। ইহদিনী লিমাখতুলিফা ফীহি মিনাল হাক্ক্বি বিইযনিক, ইন্নাকা তাহদী মান তাশা-উ ইলা স্বিরা-ত্বিম মুসতাক্বীম।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! হে জিবরাঈল, মীকাঈল ও ইসরাফীলের রব! হে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃজনকর্তা! হে দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা! তুমি তোমার বান্দাদের মাঝে মীমাংসা কর, যে বিষয়ে ওরা মতভেদ করে। যে বিষয়ে মতভেদ করা হয়েছে সে বিষয়ে তুমি আমাকে তোমার অনুগ্রহে সত্যের পথ দেখাও। নিশ্চয় তুমি যাকে ইচ্ছা কর, সরল পথ দেখিয়ে থাক। [মসলিম]

  14. ‘আল্লহু আকবার’ ১০ বার, ‘আলহামদু লিল্লা-হ’ ১০ বার, ‘সুবহা-নাল্লাহ’ ১০ বার, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ ১০ বার, ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ ১০ বার, ‘আল্লা-হুম্মাগফির লী অহদিনী অরযুক্বনী অআ-ফিনী’ (অর্থঃ হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা কর, হেদায়াত কর, রুজি ও নিরাপত্তা দাও০ ১০ বার, এবং ‘আল্লা-হুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিনায্বয্বাইক্বি য়্যাউমাল হিসাব’ (অর্থঃ হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি হাসাবের দিনে সংকীর্ণতা থেকে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি) ১০ বার। [আহমাদ, আবু দাঊদ ৭৬৬]
  15. আল্লাহু আকবার ৩ বার। অতঃপরঃ
  16. ذُو الْمَلَكُوتِ وَالْجَبَرُتِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْعَظَمَةِ.

    উচ্চারণঃ যুল মালাকূতি অলজাবারূতি অলকিবরিয়ায়ি, আল‘আযামাহ।

    অর্থঃ (আল্লাহ) সার্বভৌমত্ব, প্রবলতা, গর্ব ও মহাত্ম্যের অধিকারী। [আবু দাঊদ]

    উপরোক্ত যে কোন একটি দু‘আ পাঠ করে বলবেঃ

    أَعُوذُ بِاللهِ السَّمِيعِ الْعَلِيمِ، مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ، مِنْ هَمْزِهِ وَنَفْخِهِ وَنَفْثِهِ.

    উচ্চারণঃ আ‘ঊযু বিল্লা-হিস সামী ‘ইল ‘আলীম, মিনাশ শাইত্বা-নির রাজীম, মিন হামযিহী অনাফখিহী অনাফসিহ।

    অর্থঃ আমি সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞাতা আল্লাহর নিকট বিতাড়িত শয়তান থেকে তার প্ররোচনা ও ফুৎকার হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। [আবু দাউদ, দারাকুত্বনী, তিরমিযী, হাকেম]

    অতঃপর মুসুল্লী ‘বিসমিল্লা-হির রাহমা-নির রাহীম’ বলে সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা পাঠ করবে। সূরা ফাতিহার শেষে কিরাআত অনুযায়ী স্বশব্দে বা নিঃশব্দে ‘আমীন’ (কবুল কর) বলবে।

কিতপয় আয়াতের জওয়াব

  1. সূরা কিয়ামার শেষ আয়াত, ﴿أَلَيْسَ ذَلِكَ بِقَادِرٍ عَلٰى أَنْ يُحْيِىَ الْمَوتِى﴾ অর্থঃ যিনি এত কিছু করেন তিনি কি মৃতকে পুনর্জীবিত করতে সক্ষম নন? এ আয়াত পাঠের পর জওয়াবে বলেত হবে- سُبحَانَكَ فَبَلَى উচ্চারণঃ ‘সুবহানাকা ফাবালা’, অর্থঃ তুমি পবিত্র, অবশ্যই (তুমি সক্ষম)।
  2. সূরা আ’লার প্রথম আয়াত, ﴿سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلٰى﴾ অর্থঃ তোমার প্রতিপালকের নামের পবিত্রতা ঘোষণা কর। এ আয়াত পাঠের পর জওয়াবে বলতে হবে- سُبْحَانَ رَبِّىَ الْأَعْلٰى উচ্চারণঃ ‘সুবহা-না রাব্বিয়াল আ’লা’। অর্থঃ আমি আমার মাহান প্রতিপালকের পবিত্রতা ঘোষণা করছি। [আবু দাউদ]
  3. সূরা রহমানের ﴿فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تَكَذِّبَانِ﴾ অর্থঃ তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন নেয়ামতকে অস্বীকার কর? এ আয়াত পাঠের পর জওয়াবে বলতে হয়- لَا بِشَيْءٍ مِّنْ نِعَمِكَ رَبَّنَا نُكَذِّبُ، فَلَكَ الْحَمْدُ উচ্চারণঃ লা বিশইইম মিন নি’আমিকা রাব্বানা নুকাযযিবু, ফালাকাল হামদ। অর্থঃ তোমার নিয়ামতসমূহের কোন কিছুকেই আমরা অস্বীকার করি না হে আমাদের প্রতিপালক! [তিরমিযী, সিলসিলা সহীহাহ ২১৫০ নং]

রুকুর যিকর

  1. سُبْحَانَ رَبِّىَ اْعَظِيمِ

  2. উচ্চারণঃ সুবহা-না রাব্বিয়্যাল ‘আযীম। অর্থঃ আমি আমার মহান প্রতিপালকের পবিত্রতা ঘোষণা করছি, ৩ বার অথবা এর অধিক পাঠ করতে হয়। [আবু দাউদ, মুসলিম, আহমাদ]

  3. سُبْحَانَ رَبِّىَ الْعَظِيمِ وَبِحَمْدِه

  4. উচ্চারণঃ সুবহা-না রাব্বিয়াল ‘আযীম অবিহামদিহ। অর্থঃ আমি আমার মহান প্রতিপালকের সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করছি। ৩ বার বা তার অধিক। [আবু দাউদ, আহমদ]

  5. سُبُّو حٌ قُدُّوسٌ رَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ

  6. উচ্চারণঃ সুব্বূহুন ক্বুদ্দূসুন রাব্বুল মালা-ইকাতি আর্রূহ। অর্থঃ মালাইকা ও জিবরীলের প্রভু (আল্লাহ) অতি নিরঞ্জন ও পবিত্র। [মুসলিম]

  7. سُبْحَانَكَ اللّٰهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اَللّٰهُمَّ اغْفِرْلِي

  8. উচ্চারণঃ সুবহা-নাকাল্লা-হুম্মা রব্বানা অবিহামদিকা, আল্লা-হুম্মাগ ফিরলী। অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করি, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে মাফ কর। [বুখারী, মুসলিম]

  9. اَللّٰهُمَّ لَكَ رَكَعْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَلَكَ أَسْلَمْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ، أَنْتَ رَبِّي خَشَعَ سَمْعِي وَبَصَرِي وَدَمِي وَلَحْمِي وَعَظْمِي وَعَصَبِي لِلّٰهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ

  10. উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা লাকা রাকা’তু অবিকা আ-মানতু আলাকা আসলামতু অ ‘আলাইকা তাওয়াক্কালতু আন্তা রাব্বী, খাশা’আ সাম‘য়ী, অ বাস্বারী অদামী অ লাহমী অ ‘আযমী অ ‘আস্বাবী লিল্লা-হি রাব্বিল ‘আলামীন। আর্থঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্য রুকু করলাম, তোমারই প্রতি বিশ্বাস রেখেছি, তোমারই নিকট আত্মসমর্পণ করেছি, তোমারই উপর নির্ভর করেছি, তুমি আমার প্রতিপালক। আমার কর্ণ, চক্ষু, রক্ত, মাংস, অস্থি ও ধমনী বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য বিনয়াবনত হল। [নাসাঈ]

  11. سُبْحَانَ ذِي الْجَبَرُوتِ وَالْمَلَكُوتِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْعَظْمَةِ

  12. উচ্চারণঃ সুবহা-না যিল জাবারূতি অল মালাকূতি অল কিবরিয়া-ই অল ‘আযামাহ। অর্থঃ আমি প্রবলতা, সার্বভৌমত্ব, গর্ব ও মাহাত্ম্যের অধিকারী (আল্লাহর) পবিত্রতা ঘোষণা করি। এই দু‘আটি তাজ্জুদের সালাতে রুকুতে পঠনীয়। [আবু দাউদ, নাসাঈ]

রুকু থেকে উঠে

  1. رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ অথবা رَبَّنَا وَلَكَ الحَمْدُ অথবা اللّٰهُمَّ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ
  2. উচ্চারণঃ ‘রাব্বানা লাকাল হামদ’ অথবা ‘রাব্বানা অলাকাল হামদ’ অথবা ‘আল্লাহুম্মা রাব্বানা অলাকাল হামদ। অর্থঃ হে আমার প্রতিপালক! তোমারই নিমিত্তে যাবতীয় প্রশংসা।

  3. رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ (مًبَارَكًا عَلَيْهِ يُحِبُّ رَبُّنَا وَيَرْضٰى)

  4. উচ্চারণঃ রাব্বানা অলাকাল হামদু হামদান কাসীরান ত্বাইয়্যেবাম মুবা-রাকান ফীহ (মুবা-রাকান ‘আলাইহি কামা য়্যুহিব্বু রাব্বানা অ য়্যারয্বা)। অর্থঃ হে আমাদের প্রতিপালক! তোমার যাবতীয় প্রশংসা, অগণিত পবিত্রতা ও বর্কতময় প্রশংসা (যেমন আমাদের প্রতিপালক ভালবাসেন ও সন্তুষ্ট হন)। [বুখারী, আবু দাউদ]

  5. رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمٰوَاتِ وَمِلْءَ الْأَرْضِ وَمِلْءَ مَا شِئْبَ مِنْ شَىْءٍ بَعْدُ

  6. উচ্চারণঃ রাব্বানা অলাকাল হামদু মিলআস সামা-ওয়া-তি অমিলাল আরয্বি অ মিলআ মা শি’তা মিন শাইয়িন বা’দা। অর্থঃ হে আমাদের প্রতিপালক! তোমারই নিমিত্তে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী ভরা যাবতীয় প্রশংসা এবং এর পরেও তুমি যা ইচ্ছা কর সেই মতো (প্রশংসা)।

  7. رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمٰوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمِلْءَ مَا شِئِتَ مِنْ شَيْءٍ بَعْدُ، أَهْلَ الثَّنَاءِ وَالْمَجْدِ أَحَقُّ مَا قَالَ الْعَبْدُ وَكُلُّنَا لَكَ عَبْدٌ: اَللّٰهُمَّ لَا مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلَا مُعْطِىَ لِمَا مَنَعْتَ وَلَا يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ.

  8. উচ্চারণঃ রাব্বানা লাকাল হামদু মিলআস সামা-ওয়া-তি অল আরয্বি অমিলআ মা শি’তা মিন শাইয়িন বা’দা, আহলাস সানা-য়ি অলমাজদ। আহাক্বু মা ক্বা-লাল ‘আব্দু, অকুল্লুনা লাকা ‘আব্দু, আল্লা-হুম্মা লা মা-নি’আ লিমা আ’ত্বাইতা অলা মু’ত্বিআ লিমা মানা’তা অলা য়্যানফাউ যাল জাদ্দি মিনকাল জাদ্দু। অর্থঃ হে আমাদের প্রতিপালক! তোমারই নিমিত্তে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী পূর্ণ এবং এর পরেও যা চাও তা পূর্ণ যাবতীয় প্রশংসা। হে প্রশংসা ও গৌরবের অধিকারী! ইহাই বান্দার সব চেয়ে সত্যকথা, আর আমরা প্রত্যেকেই তোমার বান্দা, ‘হে আল্লাহ! তুমি যা প্রদান কর তা রোধ করার এবং যা রোধ কর তা প্রদান করার সাধ্য কারও নেই। আর ধনবানের ধন তোমার আযাব থেকে মুক্তি পেতে কোন উপকারে আসবে না।’ [মুসলিম ৪৭৭]

  9. لِرَبِّىَ الْحَمْدُ لِرَبِّىَ الْحَمْدُ

  10. উচ্চারণঃ লিরাব্বিয়াল হামদু, লিরাব্বিয়াল হামদু। অর্থঃ আমার প্রতিপালকের জন্যই যাবতীয় প্রশংসা, আমার প্রতিপালকের জন্যই যাবতীয় প্রশংসা। এই দু‘আটি তাহাজ্জুদের সালাতে বারবার পড়া উত্তম। [আবু দাউদ, নাসাঈ]

সিজদার যিকর

  1. سُبْحَانَ رَبِّى الْأَعَلٰى

  2. উচ্চারণঃ সুবহা-না রাব্বিয়্যাল আ’লা।

    অর্থঃ আমি আমার মহান প্রতিপালকের সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করিতেছি। ৩ বার বা এর অধিক। [আবু দাউদ, মুসলিম, আহমদ]

  3. سُبْحَانَ رَبِّىَ الْأَلٰى وَبِحَمْدِهِ

  4. উচ্চারণঃ সুবহা-না রাব্বিয়্যাল আ‘লা অবিহামদিহ।

    অর্থঃ আমি আমার মহান প্রতিপালকের সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করিতেছি। ৩ বার বা তার অধিক। [আবু দাউদ, মুসলিম, আহমদ, দারাকুত্বনী]

  5. রুকুর ৩নং তসবীহ।
  6. রুকুর ৪নং তসবীহ।
  7. اَللّٰهُمَّ لَكَ سَجَدْتُّ وَبِكَ آمَنْتُ وَلَكَ أَسْلَمْتُ وَأَنْتَ رَبِّى سَجَدَ وَجْهِىَ لِلَّذِي خَلَقَهُ وَصَوَّرَهُ فَأَحْسَنَ صُوَرَهُ وَشَقَّ سَمْعَهُ وَبَصَرَهُ، فَتَبَارَكَ اللّٰهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ.

  8. উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা লাকা সাজাত্তু অ বিকা আ-মানতু অ লাকা আসলামতু অ আন্তা রাব্বী, সাজাদা অজহিয়া লিল্লাযী খালাক্বাহু অ স্বাউওয়ারাহু ফাআহসানা সুওয়ারাহু অশাক্ক্বা সাম’আহু অবাস্বারাহু ফাতাবারাকাল্লা-হু আহসানু খা-লিক্বীন।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি তোমারই জন্য সিজদাবনত, তোমাতেই বিশ্বাসী, তোমার নিকটেই আত্মসমর্পণকারী, তুমি আমার প্রতিপালক। আমার মুখমণ্ডল তাঁর উদ্দ্যেশ্যে সিজদাবনত হল, যিনি তা সৃষ্টি করেছেন, ওর আকৃতি দান করেছেন এবং সুন্দর করেছেন। ওর চক্ষু ও কর্ণকে উদগত করেছেন। সুতরাং সুনিপুন স্রষ্টা আল্লাহ কত মহান। [মুসলিম]

  9. اَللّٰهُمَّ اغْفِرْلِي ذَنْبِي كُلَّهُ : دِقَّهُ وَجِلَّهُ وَأَوَّلَهُ وَآخِرَهُ وَعَلَا نِيَّتَهُ وَسِرَّهُ.

  10. উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মাগফিরলী যাবমী কুল্লাহ, দিক্ক্বাহু অ জিল্লাহ, অ আউওয়ালাহু অ আ-খিরাহ, অ ‘আলা-নিয়্যাতাহু অ সির্রাহ।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি আমার কম ও বেশী, পূর্বের ও পরের, প্রকাশিত ও গুপ্ত সকল প্রকার গুনাহকে মাফ করে দাও। [মুসলিম]

  11. سَجَدَ لَكَ سَوَادِي وَخِيَالِي، وَآمَنَ بِكَ فُؤَادِي، أَبُوءُ بِنِعْمَتِكَ عَلَىَّ، هَذِي يَدِي وَمَا جَنَيْتُ عَلٰى نَفْسِي.

  12. উচ্চারণঃ সাজাদা লাকা সাওয়া-দী অ খিয়ালী অ আ-মানা বিকা ফু্আদী, আবূউ বিনি’মাতিকা ‘আলাইয়্যা। হা-যী য়্যাদী অমা জানাইতু ‘আলা নাফসী।

    অর্থঃ আমার দেহ ও মন তোমার উদ্দেশ্যে সিজদাবনত, আমার হৃদয় তোমার উপর বিশ্বাসী। আমি আমার উপর তোমার অনুগ্রহ স্বীকার করছি। এটা আমার আমল (সিজদা) আর আমি নিজের আত্মার উপর অত্যাচারের করেছি। [হাকেম, বাযযার, মাজমাউয যাওয়ায়েদ ২/১২৮]

  13. তাহাজ্জুদে সালাতের সিজদায় নিম্নের দু’আগুলি পাঠ করা উত্তম।
  14. سُبْحَانَكَ اللّٰهُمَّ وَ بِحَمْدِكَ, لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ.

    উচ্চারণঃ সুবহা-না-কাল্লা-হুম্মা অ বিহামদিকা লা ইলা-হা ইল্লা আন্তা।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করছি, তুমি ছাড়া অন্য কোন সত্য মাবুদ নেই। [মুসলিম]

  15. রুকুর ৬নং তসবীহ।
  16. اَللّٰهُمَّ اغْفِرْلِي مَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ.

  17. উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মাগফিরলী মা আসরারতু অমা আ’লানতু।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! আমার অপ্রকাশ্য ও প্রকাশ্য পাপসমূহ ক্ষমা করে দাও। [নাসাঈ, হাকেম]

  18. اَللّٰهُمَّ اجْعَلْ فِي قَلْبِي نُورًا وَّفِي لِسَانِي نُورًا وَّفِي سَمْعِي نُورًا وَّفِي بَصَرِي نُورًا وَّمِنْ فَوْقِي نُورًا وَّمِنْ تَحْتِي نُورًا وَّعَنْ يَّمِنِي نُورًا وَّعَنْ شِمَالِي نُورًا وَّمِنْ بَينِ يَدَىَّ نُورًا وَّمِنْ خَلْفِي نُورًا وَّاجْعَلْ فَي نَفْسِي نُورًا وَّأَعْظِمْ لِي نُورًا.

  19. উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মাজ’আল ফী ক্বালবী নূরাঁউ অফী লিসা-নী নূরাঁউ অফী সাম’য়ী নূরাঁউঁ অফী বাস্বারী নূরাঁউ অমিন ফাউক্বী নূরাঁউ অমিন তাহতী নূরাঁউ অ ‘আঁই য়্যামীনী নূরাঁউ আ ‘আন শিমা-লী নূরাঁউ অমিন বাইনি য়্যাদাইয়্যা নূরাঁউ অমিন খালফী নূরাঁউ অজ’আল ফী নাফসী নূরাঁউ অ আ’যিম লী নূরা।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! আমার হৃদয় ও রসনায় কর্ণ ও চক্ষুতে, ঊর্ধ্বে ও নিম্নে, ডাইনে ও বামে, সম্মুখে ও পশ্চাতে জ্যোতি প্রদান কর। আমার আত্মায় জ্যোতি দাও এবং আমাকে অধিক অধিক নূর দান কর। [মুসলিম]

  20. اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ وَبِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوبَتِكَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْكَ لَا أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلٰى نَفْسِكَ.

  21. উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা ইন্নী ‘আঊযু বিরিয্বা-কা মিন সাখাত্বিকা, অবিমু’আফা-তিকা মিন ‘উক্বুবাতিক, অ ‘আউযুবিকা মিনকা লা উহসী সানা-আন ‘আলাইকা আন্তা কামা আসনাইতা ‘আলা নাফসিক।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার সন্তুষ্টির অসীলায় তোমার ক্রোধ থেকে, তোমার ক্ষমতাশীলতার অসীলায় তোমার শাস্তি থেকে এবং তোমার সত্তার অসীলায় তোমার আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি তোমার উপর তোমার প্রশংসা গুনে শেষ করতে পারি না, যেমন তুমি নিজের প্রশংসা নিজে করেছ। [মুসলিম, ইবনে আবী শাইবাহ]

দুই সিজদার মাঝে

  1. اَللّٰهُمَّ اغْفِرْلِي وَارْحَمْنِي (وَاجْبُرْنِي وَارْفَعْنِي) وَهْدِنِي وَعَافِنِي وَارْزُقْنِي.

  2. উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মাগফিরলী অরহামনী (অজবুরনী অরফা’নী) অহদিনী অ ‘আ-ফিনী অরযুক্বনী।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! আমাকের ক্ষমা কর, দয় কর, (আমার প্রয়োজন মিটাও, আমাকে উঁচু কর), পথ দেখাও, নিরাপত্তা দাও এবং জীবিকা দান কর। [সহীহ তিরমিযী ১/৯০, সহীহ ইবনে মাজাহ ১/১৪৮, আবু দাউদ, হাকেম]

  3. رَبِّ اغْفِرْ لِي، رَبِّ اغْفِرْ لِي،

  4. উচ্চারণঃ রাব্বিগফিরলী, রাব্বিগফিরলী।

    অর্থঃ হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা কর, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা কর। [আবু দাউদ ১/২৩১, সহীহ ইবনে মাজাহ ১৮/১৪৮]

তেলাঅতের সিজদায়

  1. سَجَدَ وَجْهِىَ لِلّٰذِي خَلَقَه وَشَقَّ سَمْعَه وَبَصَرَه بِحَوْلِهِ، وَقُوَّتِه.

  2. উচ্চারণঃ সাজাদা অজহিয়া লিল্লাযী খালাক্বাহু আশাক্বক্বা সাম’আহু অবাস্বারাহু বিহাউলিহী অক্বুউয়াতিহ।

    অর্থঃ আমার মুখমণ্ডল তাঁর জন্য সিজদাবনত হল যিনি ওকে সৃষ্টি করেছেন এবং স্বীয় শক্তি ও ক্ষমতায় ওর চক্ষু ও কর্ণকে উদগত করেছেন। [আদাঃ, সঃতিঃ ৪৭৪ নং, আহমদ ৬/৩০] আবূ দাউদের বর্ণনায় আছে, এই দু‘আ একাধিকবার পাঠ করতে হয়।

  3. اَللّٰهَمَّ اكْتُبْ لِي بِهَا عِنْدَكَ أَجْرًا، وَّضَعْ عَنِّْي بِهَا وِزْرًا، وَّاجْعَلْهَا لِي عِنْدَكَ ذُخْرًا، وَّتَقَبَّلْهَا مِنِّي كَمَا تَقَبَّلْتَهَا مِنْ عَبْدِكَ دَاوُودَ.

  4. উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মাকতুব লী বিহা ইন্দাকা আজরা, অয্বা’ ‘আন্নী বিহা বিযরা, অজ‘আলহা লী ‘ইন্দাকা যুখরা, অতাক্বাব্বালহা মিন্নী কামা তাক্বাব্বালতাহা মিন ‘আবদিকা দাঊদ।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! এর (সিজদার) বিনিময়ে তোমার নিকট আমার জন্য পুণ্য লিপিবদ্ধ কর, পাপ মোচন কর, তোমার নিকট ইহা আমার জন্য জমা রাখ এবং ইহা আমার নিকট হতে গ্রহণ কর যেমন তুমি তোমার বান্দা দাঊদ (আঃ) এর থেকে গ্রহণ করেছিলে। [তিরমিযী ৮৭ নং, হাকেম ১/২১৯, ইবনে মাজাহ ১০৫ নং]

তাশাহহুদ

اَتَّحِيَّاتُ لِلٰهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، اَلسَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ، اَلسَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلٰى عِبَادِ اللهِ الصَّالِحِينَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُه وَرَسُولُهُ.

উচ্চারণঃ আত-তাহিয়্যা-তু লিল্লা-হি অসস্বালা-ওয়া-তু অত্বত্বাইয়্যিবা-তু আসসালা-মু ‘আলাইকা আইয়্যুহান নাবীয়্যু অরহমাতুল্লা-হি অবারাকা-তুহু, আসসালা-মু ‘আলাইনা অ ‘আলা ‘ইবা-দিল্লা-হিস্ব স্বা-লিহীন, আশহাদু আল লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু অ আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু অরাসূলুহ।

অর্থঃ মৌখিক, শারীরিক ও আর্থিক যাবতীয় ইবাদত আল্লাহর নিমিত্তে। হে নবী! আপনার উপর সালাম, আল্লাহর রহমত ও তাঁর বর্কত বর্ষণ হোক। আমাদের উপর এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর সালাম বর্ষণ হোক। আমি সাক্ষি দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই এবং আরো সাক্ষি দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সাঃ) তাঁর দাস ও প্ররিত রসূল। [বুখারী ১১/১৩, মুসলিম ১/৩০১]

দরূদ

  1. اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدٍ وَّعَلٰى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلٰى إِبْرَاهِيمَ وَعَلٰى اٰلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدُ، اَللّٰهُمَّ بَارِكْ عَلٰى مُحَمَّدٍ وَعَلٰى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلٰى إِبْرَاهِيمَ وَعَلٰى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَّجِيدٌ.

  2. উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা স্বাল্লি ‘আলা মুহাম্মাদিঁউ অ‘আলা আ-লি মুহাম্মাদ, কামা স্বাল্লাইতা ‘আলা ইবরা-হীমা অ ‘আলা আ-লি ইবরা-হীমা, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। আল্লা-হুম্মা বারিক ‘আলা মুহাম্মাদিঁউ অ ‘আলা আ-লি মুহাম্মাদ, কামা বা-রাকতা ‘আলা ইবরা-হীমা অ ‘আলা আ-লি ইবরা-হীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ ও তাঁর বংশধরের উপর রহমত বর্ষণ কর, যেমন তুমি ইব্রাহীম ও তাঁর বংশধরের উপর রহমত বর্ষণ করেছ। নিশ্চয় তুমি প্রশংসিত গৌরবান্বিত। হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ ও তাঁর বংশধরের উপর বর্কত বর্ষণ কর, যেমন তুমি ইব্রাহীম ও তাঁর বংশধরের উপর বর্কত বর্ষণ করেছ। নিশ্চয় তুমি প্রশংসিত গোরবান্বিত। [বুখারী ৬/৪০৮]

  3. اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدٍ وَّعَلٰى أَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ كَمَا صَلَّيْتَ عَلٰى آلِ إِبْرَاهِيمَ، وَبَارِكْ عَلٰى مُحَمَّدٍ وَّعَلٰى أَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ كَمَا بَارَكْتَ عَلٰى آَلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَّجِيدٌ.

  4. উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা স্বাল্লি ‘আলা মুহাম্মাদিঁউ আ ‘আলা আযওয়া-জিহী অ যুর্রিয়্যাতিহী কামা স্বাল্লাইতা ‘আলা আ-লি ইবরা-হীম, অ বারিক ‘আলা মুহাম্মাদিঁউ অ ‘আলা আযওয়া-জিহী অ যুর্রিয়্যাতিহী কামা বা-রাকতা ‘আলা আ-লি ইবরাহীমা, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ, তাঁর পত্নীগণ ও তাঁর বংশধরের উপর রহমত বর্ষণ কর যেমন তুমি ইব্রাহীমের বংশধরের উপর রহমত বর্ষণ করেছ। এবং তুমি মুহাম্মাদ, তাঁর পত্নীগণ ও তাঁর বংশধরের উপর বর্কত বর্ষণ করেছ। নিশ্চয় তুমি প্রশংসিত গৌরবান্বিত। [বুখারী ৬/৪০৭, মুসলিম ১/৩০৬]

দু‘আয়ে মাসূরাহ

সালাতে দরূদ পাঠ করার পর সালাম ফেরার পূর্বে নিম্নের দু‘আগুলি পঠনীয়ঃ

  1. اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ, وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَفِتْنَةِ الْمَمَاتِ.

  2. উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা ইন্নী ‘আঊযু বিকা মিন ‘আযা-বি জাহান্নাম, অ আ‘উযু বিকা মিন ‘আযা-বিল ক্বাবর, অ ‘আঊযু বিকা মিন ফিতনাতিল মাসীহিদদাজ্জা-ল, আ ‘আঊযু বিকা মিন ফিতনাতিল মাহয়্যা অ ফিতনাতিল মামা-ত।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি জাহান্নাম ও কবরের আযাব থেকে, কানা দাজ্জাল, জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

    প্রকাশ যে, সালাতের শেষ তাশাহহুদে দরূদের পর অন্যান্য দু‘আর পূর্বে এই চার প্রকার আযাব ও ফিতনা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা ওয়াজিব। [মুসলিম, নাসাঈ ১৩০৯, সিফাতু সালাতিন নাবী ১৯৮ পৃঃ]

  3. اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْمَاثَمِ وَمِنَ الْمَغْرَمِ.

  4. উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযু বিকা মিনাল মা‘সামি অ মিনাল মাগরাম।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট পাপ ও ঋণ হতে আশ্রয় চাচ্ছি।

  5. اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا عَمِلْتُ وَمِنْ شَرِّ مَا لَمْ أَعْمَلْ.

  6. উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিন শাররি মা আমিলতু অ মিন শাররি মা লাম আ‘মাল।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার নিকট আমার কৃত (পাপের) অনিষ্ট হতে এবং অকৃত (পূণ্যের) মন্দ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। [নাসাঈ ১৩০৬]

  7. اَللّٰهُمَّ حَاسِبْنِي حِسَابًا يَسِيرً.

  8. উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা হা-সিবনী হিসা-বাঁই য়্যাসীরা।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি আমার সহজ সরল হিসাব গ্রহণ করো। [আহমদ, হাকেম]

  9. اَللّٰهُمَّ بِعِلْمِكَ الْغَيْبِ وَقُدْرَتِكَ عَلٰى الْخَلْقِ، أَحْيِنِي مَا عَلِمْتَ الْحَيَاةَ خَيْرًا لِّي وَتَوَفَّنِي إِذَا كَانَتِ الْوَفَاةُ خَيْرًا لِّي، اَللّٰهُمَّ وَأَسْأَلُكَ خَشْيَتَكَ فِي الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ، وَأَسْأَلُكَ كَلِمَةَ الْحَقِّ وَالْعَدْلِ فِي الْغَضَبِ وَالرِّضٰى، وَأَسْأَلُكَ الْقَصْدَ فِي الْفَقْرِ وَالْغِنٰى، وَأَسْأَلُكَ نَعِيمًا لَّا يَبِيدُ، وَأَسْأَلُكَ قُرَّةَ عَيْنٍ لَّا تَنْفَدُ وَلَا تَنْقَطِعُ، وَأَسْأَلُكَ الرِّضٰى بَعْدَ الْقضَاءِ، وَأَسْأَلُكَ بَرْدَ الْعَيْشِ بَعْدَ الْمَوْتِ، وَأَسْأَلُكَ لَذَّةَ النَّظَرِ إِلٰى وَجْهِكَ، وَالشَّوْقَ إلٰى لِقَائِكَ، فِي غَيْرِ ضَرَّآءَ مُضِرَّةٍ، اللّٰهُمَّ زَيِّنَّا بِزِيْنَةِ الْإِمَانِ وَاجْعَلْنَا هُدَاةً مُهْتَدِينَ.

  10. উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা বি ‘ইলমিকাল গাইবি অকুদরাতিকা ‘আলাল খালক্ব, আহয়িনী মা ‘আলিমতাল হয়্যাতা খাইরাল লী, অতাওয়াফফানী ইযা কা-নাতিল অফা-তু খাইরাল লী। আল্লা-হুম্মা অ আসআলুকা খাশয়্যাতাকা ফিল গাইবি অশশাহা-দাহ। অ আসআলুকা কালিমাতাল হাক্কি অলা‘আদলি ফিল গায্বাবি অররিয্বা। অ আসআলুকা ক্বাসদা ফিল ফাক্বরি অলগিনা। অ আসআলুকা ক্বাসদা ফিল ফাক্বরি অলগিনা। অ আসআলুকা ক্বাসদা ফিল ফক্বারি অলগিনা। অ আসআলুকা নাঈমাল লা য়্যাবীদ। অ আসআলুকা কুর্রাতা ‘আয়নিল লা তানফাদু অলা তানক্বাতি’। অ আসআলুকার রিয্বা বা‘দাল ক্বায্বা’, অ আসআলুকা বারদাল ‘আইশি বা‘দাল মাউতা। অ আসআলুকা লাযযাতান নাযারি ইলা অজহিক, অশশাওক্বা ইলা লিক্বা-ইক, ফী গাইরি য্বার্রা-আ মুয্বির্রাহ, অলা ফিতনাতিম মুয্বিল্লাহ। আল্ল-হুম্মা যাইয়িন্না বিযিনাতিল ঈমান, অজ‘আলনা হুদা-তাম মুহতাদীন।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! তোমার অদৃশ্যের জ্ঞানে এবং সৃষ্টির উপর শক্তিতে আমাকে জীবিত রাখ, যতক্ষণ জীবনকে আমার কল্যাণকর জান এবং আমাকে মৃত্যু দাও যদি মৃত্যু আমার জন্য কল্যাণকর হয়। হে আল্লাহ! আর আমি গোপনে ও প্রকাশ্যে তোমার ভীতি চাই, ক্রোধ ও সন্তুষ্টিতে সত্য ও ন্যায্য কথা চাই, দারিদ্র ও ধনবত্তায় মধ্যবর্তিতা চাই, সেই সম্পদ চাই, যা বিনাশ হয় না। সেই চক্ষু শীতলতা চাই, যা নিঃশেষ ও বিচ্ছিন্ন হয় না। ভাগ্য-মীমাংসার পর সন্তুষ্টি চাই, মৃত্যুর পরে জীবনের শীতলতা চাই, তোমার চেহারার প্রতি দর্শন-স্বাদ চাই, তোমার সাক্ষাতের প্রতি আকাঙ্ক্ষা চাই, বিনা কোন কষ্টে ও ক্ষতিতে, কোন ভ্রষ্টকারী ফিতনায়। হে আল্লাহ! আমাদেরকে ঈমানের সৌন্দর্যে সুন্দর কর এবং আমাদেরকে হিদায়াতকারী ও হিদায়াতপ্রাপ্ত কর। [নাসাঈ ১৩০৮, আহমাদ ৪/৩৬৪]

  11. اَللّٰهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا وَّلَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً مِّنْ عِنْدِكَ وَارْحَمْنِي إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ.

  12. উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা ইন্নী যালামতু নাফসী যুলমান কাসীরাঁউ অলা য়্যাগফিরুয যুনূবা ইল্লা আন্তা ফাগফিরলী মাগফিরাতাম মিন ‘ইন্দিকা অরহামনী ইন্নাকা আন্তাল গাফূরুর রাহীম।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি নিজের উপর অনেক অত্যাচার করেছি এবং তুমি ভিন্ন অন্য কেহ গোনাহসমূহ মাফ করতে পারে না। অতএব তোমার তরফ থেকে আমাকে ক্ষমা করে দাও এবং আমার উপর দয়া কর। নিশ্চয় তুমি ক্ষমাশীল দয়াবান। [বুখারী ও মুসলিম]

  13. اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنَ الْخَيْرِ كُلِّهِ عَاجِلِهِ وَآجِلِهِ مَا عَلِمْتُ مِنْهُ وَمَا لَمْ أَعْلَمْ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الشَّرِّ كُلِّهِ عَاجِلِهِ وَآجِلِهِ مَا عَلِمْتُ مِنْهُ وَمَا لَمْ أَعْلَمْ، وَأَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَمَا قَرَّبَ إِلَيْهَا مِنْ قَوْلٍ أَوْ عَمَلٍ، وَّأَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ وَمَا قَرَّبَ إِلَيْهَا مِنْ قَوْلٍ أَوْ عَمَلٍ، وَأَسْأَلُكَ مِنَ الْخَيْرِ مَا سَأَلَكَ عَبْدُكَ وَرَسُولُكَ مُحَمَّدٌ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا اسْتَعَاذَكَ مِنْهُ عَبْدُكَ وَرَسُولُكَ مُحَمَّدٌ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَأَسْأَلُكَ مَا قَضَيْتَ لِي مِنْ أَمْرٍ أَنْ تَجْعَلَ عَاقِبَتَهُ لِي رُشْدًا.

  14. উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকা মিনাল খাইরি কুল্লিহী আ’জিলিহী অ আ-জিলিহী মা ‘আলিমতু মিনহু অমা লাম আ‘লাম, অ আসআলুকাল জন্নাতা অমা ক্বার্রাবা ইলাইহা মিন ক্বাউলিন আউ ‘আমাল। অ ‘আঊযু বিকা মিনান্না-রি অমা ক্বার্রাবা ইলাইহা মিন ক্বাউলিন আউ ‘আমাল। অ আসআলুকা মিনাল খাইরি মা সাআলাকা ‘আবদুকা অ রাসূলুকা মুহাম্মাদুন সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লামা। অ ‘আঊযু বিকা মিন শার্রি মাসতা‘আ-যাকা মিনহু ‘আবদুকা অরাসূলুকা মুহাম্মাদুন সাল্লাল্লাহু আলইহি অসাল্লাম। অ আসআলুকা মা ক্বায্বাইতা লী মিন আমরিন আন তাজ‘আল ‘আ-ক্বিবাতাহু লী রুশদা।

    আর্থঃ হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার নিকট আমার জানা ও অজানা, অবিলম্বিত ও বিলম্বিত সকল প্রকার কল্যাণ প্রার্থনা করছি এবং আমার জানা ও অজানা, অবিলম্বিত ও বিলম্বিত সকল প্রকার অকল্যাণ থেকে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। তোমার নিকট জান্নাত এবং তার প্রতি নিকটবর্তীকারী কথা ও কাজ প্রার্থনা করছি, এবং জাহান্নাম ও তার প্রতি নিকটবর্তীকারী কথা ও কাজ থেকে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি তোমার নিকট সেই কল্যাণ ভিক্ষা করছি যা তোমার দাস ও রসূল মুহাম্মাদ (সাঃ) তোমার নিকট চেয়েছিলেন। আর সেই অকল্যাণ থেকে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি, যা থেকে তোমার দাস ও রসূল মুহাম্মাদ (সাঃ) তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন। যে বিষয়ে আমার উপর মিমাংসা করেছ তার প্ররিণাম যাতে মঙ্গলময় হয়, তা আমি তোমার নিকট কামনা করছি। [মুসলিম আহমাদ ৬/১৩৪, ত্বায়লিসী]

  15. اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ.

  16. উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকাল জান্নাতা অ আ‘ঊযু বিকা মিনান্না-র।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার নিকটে জান্নাত চাচ্ছি এবং জাহান্নাম থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। [আবু দাঊদ, সহীহ ইবনে মাজাহ ২/৩২৮]

  17. শয়নকালের ৭নং দু‘আ পঠনীয়। [মুসলিম, মিশকাত ৯৪৭নং]
  18. দু‘আর আদবের ৯নং এর (খ) এর দু‘আ পঠনীয়। [নাসাঈ ৩/৫২]
  19. দু‘আর আদবের ৯নং এর (গ) এ বর্ণিত ইসমে আ’যম পাঠ করে এই দু‘আ পঠনীয়ঃ
  20. إِنِّي أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ.

    উচ্চারণঃ ইন্নী আসআলুকাল জান্নাতা অ আ‘ঊযু বিকা মিনান্না-র।

    অর্থঃ নিশ্চয় আমি তোমার নিকটে জান্নাত চাচ্ছি এবং জাহান্নাম থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

  21. দু‘আর আদবের ৯নং এর (ক) এ বর্ণিত দু‘আ পাঠ করে যে কোন দু‘আ পঠনীয়।
  22. اَللّٰهُمَّ أَعِنِّي عَلٰى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ.

  23. উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা আ‘ইন্নী ‘আলা যিকরিকা অশুকরিকা অহুসনি ‘ইবা-দাতিক।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি আমাকে তোমার যিকর (স্মরণ), শুকর (কৃতজ্ঞতা) এবং সুন্দর ইবাদত করতে সাহায্য দান কর।

  24. اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْبُخْلِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْجُبْنِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ أَنْ أُرَدَّ إِلٰى أَرْذَلِ الْعُمُرِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الدُّنْيَا وَعَذَابِ الْقَبْرِ.

  25. উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা ইন্নী ‘আউযু বিকা মিনাল বুখলি অ ‘আউযুবিকা মিনাল জুবনি আ ‘আউযু বিকা মিন আন উরাদ্দা ইলা আরযালিল ‘উমুরি অ ‘আউযুবিকা মিন ফিতনাতিদ্দুনয়্যা অ ‘আযা-বিল ক্বাবর।

    আর্থঃ হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার নিকট কার্পণ্য ও ভীরুতা থেকে পানাহ চাচ্ছি, স্থবিরতার বয়সে কবলিত হওয়া থেকে আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি আর দুনিয়ার ফিতনা ও কবরের আযাব থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। [বুখারী ৬/৩৫]

  26. اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِي وَتُبْ عَلَيَّ، إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الْغَفُور.

  27. উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মাগফির লী অতুব ‘আলাইয়্যা, ইন্নাকা আন্তাত তাউওয়াবুল গাফুর।

    অর্থঃ আল্লাহ গো! তুমি আমাকে ক্ষমা কর এবং আমার তওবা গ্রহণ কর। নিশ্চয় তুমি তওবাগ্রহণকারী, বড় ক্ষমাশীল। এটি ১০০ বার পঠনীয়। [সিলসিলাহ সহীহাহ ২৬০৩নং]

  28. اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ وَمَا أَسْرَفْتُ وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي، أَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ لَآ إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ.

  29. উচ্চারণঃ “আল্লা-হুম্মাগফিরলী মা ক্বাদ্দামতু অমা আখখারতু অমা আসরারতু অমা আ’লানতু অমা আসরাফতু অমা আন্তা আ’লামু বিহী মিন্নী, আন্তাল মুক্বাদ্দিমু অ আন্তাল মুআখখিরু লা ইলা-হা ইল্লা আন্তা।

    অর্থঃ হে আল্লাহ তুমি আমাকে মার্জনা কর, যে আপরাধ আমি পূর্বে করেছি এবং যা প্রাকাশ্যে করেছি, যা অতিরিক্ত করেছি এবং যা তুমি অধিক জান। তুমি আদি তুমিই অন্ত। তুমি ব্যতীত কেউ সত্য উপাস্য নেই।” এই দু‘আটি সবার শেষে পাঠ ক’রে সালাম ফিরা কর্তব্য। [মুসলিম ১/৫৬৪]

ফরয সালাতের পরে যিকর

  1. أَسْتَغْفِرُ الله

    উচ্চারণঃ আস্তাগফিরুল্লাহ; অর্থঃ আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি, ৩ বার।

  2. اَللّٰهُمَّ أَنْتَ السَّلَامُ وَمِنْكَ السَّلَامُ تَبَارَكْتَ يَاذَا الْجَلَالِ وَلْإِكْرَامِ.

  3. উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা আন্তাস সালা-মু অমিনকাস সালা-মু তাবা-রাকতা ইয়া যাল জালা-লি অল ইকরা-ম। অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি শান্তি এবং তোমার নিকট থেকেই শান্তি। তুমি বরকতময় হে মহিমময়, মহানুভব! [মুসলিম ১/৪১৪]

  4. ‘তাসবীহ ও তাহলীল’ পরিচ্ছদের ১নং দু‘আ।
  5. اَللّٰهُمَّ لَا مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلَا مُعْطِىَ لِمَا مَنَعْتَ وَلَا يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ.

  6. উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা লা মা-নি‘য়া লিমা আ‘ত্বাইতা, অলা মু’ত্বিয়া লিমা মানা’তা অলা য়্যানফাউ’ যাল জাদ্দি মিনকাল জাদ্দ। অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি যা দান কর তা রোধ করার এবং যা রোধ কর তা দান করার সাধ্য কারো নেই। আর ধনবানের ধন তোমার আযাব থেকে মুক্তি পেতে কোন উপকারে আসবে না। [বুখারী ১/২৫৫, মুসলিম ১/৪১৪]

  7. ‘তাসবীহ ও তাহলীল’ পরিচ্ছদের ৮নং দু‘আ।
  8. لَآ إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَلَا نَعْبُدُ إلَّا إِيَّاهُ لَهُ النَّعْمَةُ وَلَهُ الْ فَضْلُ وَلَهُ الثَّنَاءُ الْحَسَنُ، لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُنَ.

  9. উচ্চারণঃ লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু অলা না’বুদু ইল্লা ইয়্যা-হু লাহুন্নি’মাতু অলাহুল ফায্বলু অলাহুস সানা-উল হাসান, লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু মুখলিস্বীনা লাহুদ্দীনা অলাউ কারিহাল কা-ফিরূন।

    অর্থঃ আল্লাহ ব্যতীত সত্য উপাস্য নেই। তাঁর ছাড়া আমরা আর কারো ইবাদত করি না, তাঁরই যাবতীয় সম্পদ, তাঁরই যাবতীয় অনুগ্রহ, এবং তাঁরই যাবতীয় প্রশংসা, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই। আমরা বিশুদ্ধ চিত্তে তাঁরই উপাসনা করি, যদিও কাফিরের দল তা অপছন্দ করে। [মুসলিম ১/৪১৫]

  10. سُبْحَانَ اللهُ উচ্চারণঃ সুবহা-নাল্লাহ। অর্থঃ আমি আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি। ৩৩ বার। اَلْحَمْدُ لِلّٰه উচ্চারণঃ আলহামদু লিল্লা-হ। অর্থঃ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর নিমিত্তে। ৩৩ বার। اَللهُ أَكْبَرُ উচ্চারণঃ আল্লা-হু আকবার। অর্থঃ আল্লাহ সবচেয়ে মহান। ৩৩ বার। আর ১০০ বার পূরণ করার জন্য ‘তাসবীহ তাহলীল’ আনুচ্ছেদের প্রথম দু‘আ একবার পঠনীয়। এগুলি পাঠ করলে সমুদ্রের ফেনা বরাবর পাপ হলেও মাফ হয়ে যায়। [মুসলিম ১/৪১৮, আহমাদ ২/৩৭১]
  11. সূরা ইখলাস, ফালাক্ব ও নাস ১ বার করে। [আবু দাঊদ ২/৮৬, তিরমিযী ১/৮, নাসাঈ ৩/৬৮]
  12. আয়াতুল কুরসী ১ বার। প্রত্যেক সালাতের পর এই আয়াত পাঠ করলে মৃত্যু ছাড়া জান্নাত যাওয়ার পথে পাঠকারীর জন্য আর কোন বাধা থাকে না। [সহীহুল জামে ৫/৩৩৯, সিলসিলা সহীহাহ ৯৭২]
  13. لَآ إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَه لَا شَرِيكَ لَه، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ.

  14. উচ্চারণঃ লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু অহদাহু লা শারীকা লাহু লাহুল মুলকু অলাহুল হামদু য়্যুহয়ী অ য়্যুমীতু অহুয়া ‘আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর।

    অর্থঃ আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই। সমস্ত রাজত্ব ও প্রশংসা তাঁরই, তিনি জীবিত করেন, তিনিই মৃত্যু দান করেন এবং তিনি সর্বোপরি শক্তিমান।

    এটি ফজর ও মাগরিবের সালাতে সালাম ফিরার পর দশবার পড়লে দশটি নেকী লাভ হবে, দশটি গোনাহ ঝরে যাবে, দশটি মর্যাদা বাড়বে, চারটি গোলাম আযাদ করার সুয়াব লাভ করবে এবং শয়তান থেকে নিরাপদে থাকবে। [তারগীব ২৬২-২৬৩ পৃ]

  15. اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْألُكَ عِلْمًا نَّافِعًا وَّرِزْقًا طَيِّبًا وَّعَمَلًا مُّتَقَبَّلًا.

  16. উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকা ‘ইলমান না-ফিআঁ’উ অ রিযক্বান ত্বাইয়িবাঁউ অ ‘আমালাম মুতাক্বাব্বালা।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমর নিকট ফলদায়ক শিক্ষা, হালাল জীবিকা এবং গ্রহণযোগ্য আমল প্রার্থনা করছি। ফজরের সালাতের পর এটি পঠনীয়। [ইবনে মাজাহ ১/১৫২, মাজমাউয যাওয়ায়েদ ১০/১১১]

  17. اَللّٰهُمَّ قِنِي عَذَابَاكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَادَكَ.

  18. উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা ক্বিনী ‘আযা-বাকা ইয়াওমা তাব’আসু ‘ইবা-দাক।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! যেদিন তুমি তোমার বান্দাদেরকে পুনরুত্থিত করবে সিদিনকার আযাব থেকে আমাকে রক্ষা কর। [মুসলিম]

  19. لَآ إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، الَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ بِيَدِهِ الْخَيْرُ وَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ.

  20. উচ্চারণঃ লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু অহদাহু লা শারীকা লাহু লাহুল মুলকু অলাহুল হামদু য়্যুহয়ী অ য়্যুমীতু বিয়্যাদিহিল খাইরু অহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর।

    অর্থঃ আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য মা’বুদ নেই। তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই। তাঁরই জন্য সকল রাজত্ব এবং তাঁরই নিমিত্তে সকল প্রশংসা। তিনিই জীবন দান করেন ও তিনিই মরণ দেন। তাঁর হাতেই সকল মঙ্গল। আর তিনি সর্বোপরি ক্ষমতাবান।

    এটি ফজরের সালাতের পর পা ঘুরিয়ে বসার পূর্বে ১০০ বার পড়লে পৃথিবীর মধ্যে ঐ দিনে সেই ব্যক্তিই অধিক উত্তম আমলকারী বলে গণ্য হবে। [তারগীব ২৬২-২৬৩ পৃষ্ঠা]

ইস্তিখারার দু‘আ

কোন কাজে ভালো মন্দ বুঝতে না পারলে, মনে ঠিক-বেঠিক, উচিত-অনুচিত বা লাভ-নোকসানের দ্বন্দ হলে আল্লাহর নিকট মঙ্গল প্রার্থনা করতে দুই রাকআত নফল সালাত পড়ে নিম্নের দু‘আ পঠনীয়।

اَللّٰهُمَّ إِنِّي إَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ وَأَسْتَقدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَضِيمِ، فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلَا أَقْدِرُ وَتَعْلَمُ وَلَا أَعْلَمُ وَأَنْتَ عَلَّامُ الْغُيُوبِ، اَللّٰهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هٰذَا الْأَمْرَ(………..) خَيْرٌ لِّي فِي دِينِن وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي وَعَاجِلِهِ وَآجِلِهِ فَاقْدُرْهُ لِي وَيَسِّرْهُ لِي ثُمَّ بَارِكْ لِي فِيهِ، وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هٰذَا الْأَمْرَ شَرٌّ لِي فِي دِينِ وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي وَعَاجِلِهِ فَاصْرِفْهُ عَنِّي وَاصْرِفْنِي عَنْهُ وَاقْدُرْ لِىَ الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ ثُمَّ رَضِّنِي بِهِ.

উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা আস্তাখীরুকা বি‘ইলমিকা অ আস্তাক্বদিরুকা বি ক্বুদরাতিকা অ আসআলুকা মিন মিন ফায্বলিকাল ‘আযীম, ফাইন্নাকা তাক্বদিরু অলা আক্বদিরু অতা’লামু অলা আ’লামু অ আন্তা ‘আল্লা-মুল গুয়ূব। আল্লা-হুম্মা ইন কুন্তা তা’লামু আন্না হা-যাল আমরা (…….) খাইরুল লী ফী দীনী অ মাআ’শী অ আ’-ক্বিবাতি আমরী অ আ’-জিলিহী অ আ-জিলিহ, ফাক্বদুরহু লী, অ য়্যাসসিরহু লী, সুম্মা বা-রিক লী ফীহ। অ ইন কুন্তা তা’লামু আন্না হা-যাল আমরা শার্রুল লী ফী দীনী অ মাআ’শী অ আ’-ক্বিবাতি আমরী অ আ’-জিলিহী অ আ-জিলিহ, ফাস্বরিফহু ‘আন্নী অস্বরিফনী ‘আনহু, অক্বদুর লিয়াল খাইরা হাইসু কা-না সুম্মা রায্বয্বিনী বিহ।

অর্থঃ হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার নিকট তোমার ইলমের সাথে মঙ্গল প্রার্থনা করছি। তোমার কুদরতের সাথে শক্তি প্রার্থনা করছি এবং তোমার বিরাট অনুগ্রহ থেকে ভিক্ষা যাচনা করছি। কেননা, তুমি শক্তি রাখ, আমি শক্তি রাখি না। তুমি জান, আমি জানি না এবং তুমি অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা। হে আল্লাহ! যদি তুই এই (….) কাজ আমার জন্য আমার দ্বীন, দুনিয়া, জীবন এবং কাজের বিলম্বিত ও অবিলম্বিত পরিণামে ভালো জান, তাহলে তা আমার জন্য নির্ধারিত ও সহজ করে দাও। অতঃপর তাতে আমার জন্য বর্কত দান করে দাও। আর যদি তুমি এই কাজ আমার জন্য আমার দ্বীন, দুনিয়া, জীবন এবং কাজের বিলম্বিত ও অবিলম্বিত পরিণামে মন্দ জান, তাহলে তা আমার নিকট থেকে ফিরিয়ে নাও এবং আমাকে ওর নিকট থেকে সরিয়ে দাও। আর যেখানেই হোক মঙ্গল আমার জন্য বাস্তবায়িত কর, অতঃপর তাতে আমার মনকে পরিতুষ্ট করে দাও।

প্রথমে هَذَا ألأمر ‘হা-যাল আমরা’ এর স্থলে বা পরে কাজের নাম নিতে হবে অথবা মনে মনে সেই জ্ঞাতব্য বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করতে হবে।

সে ব্যক্তি কর্মে কোনদিন লাঞ্ছিত হয় না, যে আল্লাহর নিকট তাতে মঙ্গল প্রার্থনা করে, অভিজ্ঞদের নিকট পরামর্শ গ্রহণ করে এবং ভালো-মন্দ বিচার করার পর কর্ম করে। [বুখারী ৭/১৬২, আবু দাঊদ ২/৮৯, তিরমিযী ২/৩৫৫, আহমাদ ৩/৩৪৪]

দু ‘আয়ে কুনূত

বিতরের কুনূতে (গায়র না-যেলাহ) দু‘আঃ

  1. اَللّٰهُمَّ اهْدِنِي فِيمَنْ هَدَيْتَ وَعَافِنِي فِيمَنْ عَافَيْتَ وَتَوَلَّنِي فِيمَنْ تَوَلَّيْتَ وَبَارِكْ لِي فِيمَا أَعْطَيْتَ وَقِنِي شَرَّ مَا قَضَيْتَ فَإِنَّكَ تَقْضِي وَلَا يُقْضَى عَلَيْكَ إِنَّهُ لَا يَذِلُّ مَنْ وَّالَيْتَ وَلَا يَعِزُّ مَنْ عَادَيْتَ تَبَارَكْتَ رَبَّنَا وَتَعَالَيْتَ لَا مَنْجَا مِنْكَ إِلَّا إِلَيْكَ، وَصَلَّى اللهُ عَلٰى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ.

  2. উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মাহদিনী ফী মান হাদাইত। অআ-ফিনী ফী মান আ ফাইত। অতাওয়াল্লানী ফী মান তাওয়াল্লাইত। অবা-রিকলী ফী মা আ’ত্বাইত। অক্বিনী শার্রামা ক্বাযাইত। ফাইন্নাকা তাক্বযী অলা য়্যুক্বয্বা আলাইক। ইন্নাহু লা য়্যযিল্লু মাঁউ ওয়া-লাইত। অলা য়্যাইযযু মান আ’-দাইত। তাবা-রাকতা রাব্বানা অতাআ’-লাইত। লা মানজা মিনকা ইল্লা ইলাইক। অ স্বাল্লাল্লাহু আলা নবীয়্যিনা মুহাম্মাদ।

    আর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি আমাকে হিদায়াত করে তাদের দলভুক্ত, যাদেরকে তুমি হিদায়ত করেছ। আমাকে নিরাপদে রেখে তাদের দলভুক্ত কর, যাদেরকে তুমি নিরাপদে রেখেছ। আমার সকল কাজের তত্ত্বাবধান করে আমাকে তাদের দলভুক্ত কর, যাদেরকে তুমি তত্ত্বাবধান করেছ। তুমি আমাকে যা কিছু দান করেছ, তাতে বর্কত দাও। আমার ভাগ্যে তুমি যা ফয়সালা করেছ, তার মন্দ থেকে আমাকে রক্ষা কর। কারণ তুমিই ফয়সালা করে থাক এবং তোমার উপর কারো ফয়সালা চলে না। নিশ্চয় তুমি যাকে ভালোবাস, সে লাঞ্ছিত হয় না এবং যাকে ভালোবাস না, সে সম্মানিত হয় না। তুমি বর্কতময় হে আমাদের প্রতিপালক এবং তুমি সুমহান! তোমার আযাব থেকে তুমি ছাড়া কোন আশ্রয়স্থল নেই। আর আমাদের নবী মুহাম্মাদ এর উপর আল্লাহ রহমত বর্ষণ করুন। [আবু দাঊদ, তিরমিযী, নাসাঈ, আহমাদ, বাইহকী, ইবনে মাজাহ, ইরওয়াউল গালীল ২/১৭২]

  3. সিজদার ১২নং দু‘আ পাঠ করা যায়। [ইরওয়াউল গালীল ২/১৭৫]
  4. বিপদে কোন সম্প্রদায়ের জন্য দু‘আ অথবা বদ্দুআ করতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতে শেষ রাকআতের রুকুর পরে কুনূতে নাযেলা পড়তে হয়;

    اَللّٰهُمَّ إِنَّ نَسْتَعِينُكَ وَنَسْتَغْفِرُكَ وَنُثْنِي عَلَيْكَ الْخَيْرَ كُلَّهُ، وَنَشْكُرُكَ وَلَا نَكْقُرُكَ، وَنَخْلَعُ وَنَتْرُكُ مَنْ يَّفْجُرُكَ، اَللّٰهُمَّ إِيَّاكَ نَعْبُدُ، وَلَكَ نُصَلِّي وَنَسْجُدُ، وَإِلَيْكَ نَسْعٰى وَنَحْفِدُ، نَرْجُو رَحْمَتَكَ وَنَخْشٰى عَذَابَكَ، إِنَّ عَذَابَكَ بِالْكُفَّارِ مُلْحَقٌ.

    উচ্চারণঃ আল্লা-হুমমা ইন্না নাসতাঈনুকা অ নাসতাগফিরুক, অনুসনী ‘আলাইকাল খায়রা কুল্লাহ, অনাশকুরুকা অলা নাকফুরুক, অনাখলাউ’ অনাতরুকু মাঁই য়্যাফজুরুক, আল্লা-হুম্মা ইয়্যাকা না’বুদ, অলাকা নুসাল্লী অনাসজুদ, অইলাইকা নাসআ’ অ নাহফিদ, নারজু রাহমাতাকা অনাখশা ‘আযা-বাক, ইন্না ‘আযা-বাকা বিল কুফফা-রি মুলহাক্ব।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমরা তোমার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং ক্ষমা ভিক্ষা করছি, তোমার নিমিত্তে যাবতীয় কল্যাণের প্রশংসা করছি, তোমার কৃতজ্ঞ হই এবং আকৃতজ্ঞ হই না, তোমার যে আবাধ্যতা করে তাকে আমরা ত্যাগ করি এবং তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করি। হে আল্লাহ! আমরা তোমারই ইবাদত করি, তোমার প্রতি সালাত আদায় করি এবং সিজদা করি, তোমার দিকেই আমরা ছুটে যাই। তোমার রহমতের আশা রাখি এবং তোমার আযাব কাফিরদরকে পৌঁছাবে।

    এরপর অত্যাচারিতদের জন্য দু‘আ এবং অত্যাচারীদের জন্য বদদু‘আ করতে হয়। যেমনঃ “আল্লা-হুম্মা আযযিবিল কাফারাতাল্লাযীনা য়্যাসুদ্দূনা আন সাবীলিক, অয়্যুকাযযিবূনা রুসুলাকা, অয়্যুক্বা-তিলূনা উলিয়া-আক। অল্লা-হুম্মাগফির লিল মু ‘মিনীনা অল মু ‘মিনা-ত, অ আস্বলিহ যা-তা বাইনিহিম অ আল্লিফ বাইনা ক্বুরুবিহিম, অজআর ফী ক্বুলূবিহিমুল ঈমা-না অল হিকমাহ, অসাব্বিহতহুম আলা মিল্লাতি রাসূলিল্লা-হি সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম। অনসুরহুম আলা আদুউবিকা অ আদুউবিহিম। আল্লা-হুম্মা ফার্রিক্ব জামআহুম অশাত্তিত শামলাহুম অ খার্রিব বুনয়্যা-নাহুম অ দাম্মির দিয়া-রাহুম” ইত্যাদি। [বাইহাকী ২/২১১, ইরওয়াউল গালীল ২/১৬৪-১৭০]

    রমযানের কনূতে উক্ত দু‘আ, অর্থাৎ কাফিরদের উপর বদদু‘আ এবং মুমিনদের জন দু‘আ ও ইস্তিগফার করার কথা সাহাবীদের আমলে প্রমাণিত। [ইবনে খুযাইমা ১১০০ নং]

    এই দু‘আটি তিনবার পড়তে হয়। তন্মধ্যে তৃতীয় বারে উচ্চস্বরে পড়া কর্তব্য। [নাসাঈ ৩/২৪৪]

ঈদের তাকবীর

اَللهُ أَكْبَرُ، اَللهُ أَكْبَرُ، لَآ إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَ اَللهُ أَكْبَرُ اَللهُ أَكْبَرُ وَلِلّٰهِ الْحِهِ الْحَمْدُ.

উচ্চারণঃ আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার, লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু আকবার আল্লা-হু আকবার অলিল্লা-হিল হামদ। [ইঃ আবূ শাইবাহ ৫৬৫০, ৫৬৫২ নং]

اَللهُ أَكْبَرُ، اَللهُ أَكْبَرُ، اَللهُ أَكْبَرُ وَ لِلّٰهِ الْحَمْدُ، اَللهُ أَكْبَرُ وَأَجَلُّ، اَللهُ أَكْبَرُ عَلٰى مَا هَدَانَا.

উচ্চারণঃ আল্লা-হু আকবারু, আল্লাহু আকবারু, আল্লা-হু আকবারু, অলিল্লা-হিল হামদ, আল্লা-হু আকবারু অ আজাল্লা। আল্লা-হু আকবারু ‘আলা মা হাদা-না। [বাইহাকী ৩/৩১৫]

اَللّٰهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا، اَللّٰهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا، اَللهُ أَكْبَرُ وَأَجَلُّ، اَللّٰهُ أَكْبَرُ، وَلِلّٰهِ الْحَمْدُ.

উচ্চারণঃ আল্লা-হু আকবার কাবীরা, আল্লা-হু আকবার কাবীরা, আল্লা-হু আকবার অ আজাল্লু, অলিল্লা-হিল হামদ। [ইঃ আঃ শাইবাহ ৫৬৪৫, ৫৬৫৪, ইরওয়াউল গালীল ৩/১২৫]

হজ্জ

হজ্জের নিয়তকালে পাঠ

  1. لَبَّيْكَ اللّٰهُمَّ بِحَجَّةٍ اَوْ لَبَّيْكَ حَجًّا.

  2. উচ্চারণঃ “লাব্বাইকাল্লা-হুম্মা বিহাজ্জা”, অথবা “লাব্বাইকা হাজ্জ”। অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি হজ্জের উদ্দ্যেশ্যে উপস্থিত।

  3. اَللّٰهُمَّ هٰذِهِ حَجَّةٌ، لَا رِيَاءَ فِيهَا وَلَا سُمْعَةَ.

  4. উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা হা-যিহী হাজ্জাহ, লা রিয়া-আ অলা সুম‘আহ। অর্থঃ হে আল্লাহ! এটা আমার হজ্জ। এতে (আমার) কোন লোক দেখান বা সুনামের উদ্দেশ্য নেই। [মানাসিকুল হজ্জ, আলবানী ১৬ পৃষ্ঠা]

উমরার নিয়তকালে পাঠ

لَبَّيْكَ أَللّٰهُمَّ بِعُمْرَةٍ অথবা لَبَّيْكَ عُمْرَةً

উচ্চারণঃ “লাব্বাইকাল্লা-হুম্মা বি‘উমরাহ” অথবা “লাব্বাইকা ‘উমরাহ”। অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি উমরাহর নিয়তে হাজির।

তালবিয়্যাহ

لَبَّيْكَ اللّٰهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لَا شَرِيكَ لَكَ.

উচ্চারণঃ লাব্বাইকাল্লা-হুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারীকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা অননি’মাতা লাকা অলমুলকা, লা শারীকা লাক।

আর্থঃ আমি হাজীর, হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট হাজীর, তোমার কোন শরীক নেই। আমি তোমার নিকট হাজির। নিশ্চয় সমস্ত প্রশংসা, সম্পদ ও রাজত্ব তোমার জন্য, তোমার কোন অংশী নেই।

এর পর অতিরিক্ত করে নিম্নের দু‘আ পাঠ করা যায়।

  1. لَبَّيْكَ ذَا الْمَعَارِجِ، لَبَّيْكَ ذَا الْفَوَاضِلِ.

  2. উচ্চারণঃ লাব্বাইকা যাল মা‘আ-রিজ, লাব্বাইকা যাল ফাওয়া-য্বিল। অর্থঃ তোমার নিকট হাজির হে সোপনশ্রেণীর অধিকর্তা! তোমার নিকট হাজির হে অনুগ্রহ সমূহের অধিপতি!

  3. لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ، وَالْخَيْرُ بِيَدَيْكَ، وَالرَّغْبَاءُ إِلَيْكَ وَالْعَمَلُ.

  4. উচ্চারণঃ লাব্বাইকা অসা’দাইক, অলখাইরু বিয়্যাদাইক, অররাগবা-উ ইলাইকা অল‘আমাল।

    অর্থঃ তোমার দরবারে হাজির ও তোমার আনুগত্যে উপস্থিত। সমস্ত মঙ্গল তোমার হাতে এবং ইচ্ছা ও কর্ম তোমারই প্রতি। [মানাসিকুল হজ্জ, আলবানী ১৬ পৃষ্ঠা]

কা‘বা দর্শনের সময়

اَللّٰهُمَّ أَنْتَ السَّلَامُ وَمِنْكَ السَّلَامُ فَحَيِّنَا رَبَّنَا بِاسَّلَامِ.

উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা আন্তাস সালা-মু অমিনকাস সালা-মু ফাহাইয়িনা রাব্বানা বিসসালা-ম। অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমিই শান্তি তোমারই তরফ থেকে শান্তি। অতএব হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে শান্তির সাথে জীবিত রাখ। [বাইহাকী ৫/৭৩]

তাওয়াফ কালে দুই রুকনের মাঝে

﴿رَبَّنَا اٰتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَّفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَّقِنَا عَذَابَ النَّرِ﴾

অর্থঃ হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দুনিয়া ও আখেরাতে কল্যাণ দান কর এবং জাহান্নামের আগুনের শাস্তি থেকে বাঁচাও। [আবু দাঊদ ২/১৭৯, আহমদ ৩/৪১১]

মাক্বামে ইবরাহীমে পৌঁছে

তাওয়াফ সেরে মাকামে ইবরাহীমে সালাতে গিয়ে এই আয়াত খণ্ডটি পাঠ করা সুন্নাতঃ

﴿وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلّٰى﴾

অর্থঃ আর মাকামে ইবরাহীমকে মুসাল্লা বানাও।

স্বাফা পর্বতে পৌঁছে

﴿إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِاللهِ﴾

অর্থঃ নিশ্চয় সাফা ও মারওয়া (পর্বতদ্বয়) আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। [সূরা বাক্বারাহ ১৫৮ আয়াত]

অতঃপর বলবে, نَبْدَأُ بِمَا بَدَأَ اللهِ بِهِ উচ্চারণঃ নাবদাউ বিমা বাদাআল্লা-হু বিহ। অর্থঃ আল্লাহ যা দিয়ে শুরু করেছেন আমরা তা দিয়ে শুরু করছি।

স্বাফা ও মারওয়ায় চড়ে

কা’বার প্রতি সম্মুখে করে পড়বেঃ

اَللهُ أَكْبَرُ (আল্লাহু আকবর) ৩ বার। অতঃপর ফরয সালাতের পর পঠনীয় ১০ নং যিকর। অতঃপর নিম্নের দু‘আটি পাঠ করবেঃ

لَآ إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ (لَا شَرِيكَ لَهُ) أَنْجَزَ وَعْدَهُ، وَنَصَرَ عَبْدَه، وَهَزَمَ الْأَحْزَابَ وَحْدَه.

উচ্চারণঃ লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু অহদাহু (লা শারীকা লাহ) আনজাযা অ’দাহ, অ নাসারা ‘আবদাহ, অহাযামাল আহযা-বা অহদাহ।

অর্থঃ আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য উপাস্য নেই। তিনি একক (তাঁর কোন অংশী নেই)। তিনি নিজের অঙ্গীকার পূরণ করেছেন। তাঁর দাসকে সাহায্য করেছেন এবং তিনি একাই দলসমূহকে পরাস্ত করেছেন। এগুলো ৩ বার পাঠ সহ মুনাজাত করবে। [মুসলিম ২/৮৮৮]

সসাঈর দু‘আ

সাঈ করার সময় বিভিন্ন যিকরের সাথে এ দু‘আও নির্দিষ্ট করে পড়া উত্তমঃ

رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ، إِنَّكَ أَنْتَ الْا عَزُّ الْأَكْرَمُ.

উচ্চারণঃ “রাব্বিগফির অরহাম, ইন্নাকা আন্তাল আআ‘যযুল আকরাম”। অর্থঃ হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা কর ও দয়া কর। নিশ্চয় তুমিই মহাসম্মানিত বড় দানশীল। [মানাসিকুল হজ্জ, আলবানী ২৮ পৃঃ]

আরাফাতের বিশেষ দু‘আ

‘তাসবীহ ও তাহলীল’ পরিচ্ছদের ১নং দু‘আ।

যবেহ করার সময়

بِسْمِ اللهِ وَاللهُ أَكْبَرُ

উচ্চারণঃ “বিসমিল্লা-হি অল্লা-হু আকবার”।

কুরবানীর পশু হলে পাঠ করবেঃ

بِسْمِ اللهِ وَاللهُ أَكْبَرُ، اَللّٰهُمَّ إِنَّ هٰذَا مِنْكَ وَلَكَ، اَللّٰهُمَّ تَقَبَّلْ مِنِّي.

উচ্চারণঃ বিসমিল্লা-হি আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হুম্মা ইন্না হা-যা মিনকা অলাক, আল্লা-হুম্মা তাক্বাব্বাল মিন্নী।

অর্থঃ আল্লাহর নাম নিয়ে শুরু করছি। এবং আল্লাহ সব চেয়ে মহান। হে আল্লাহ! এটা তোমার তরফ থেকে এবং তোমার জন্য। হে আল্লাহ! তুমি আমার নিকট হতে কবুল কর।

পরিবারের তরফ থেকে হলে ‘তাক্বাব্বাল মিন্নী’র পর ‘অমিন আহলে বাইতী’ যোগ করবে। কুরবানী অন্য কারো তরফ থেকে হলে অথবা আকীকার পশু হলে ‘তাক্বাব্বাল মিন’ বলে সেই ব্যক্তির বা শিশুর নাম বলবে। প্রকাশ যে, এই দু‘আর পর আর কোন অতিরিক্ত দু‘আ শুদ্ধ নয়।

Page 1

Dua Jikir Jhar-Fuk

Dua & Jikir

© Dawah wa Tablig is the proparty of Md. Shamsul Alam since 2013