Dawah wa Tablig Islamic Website

Site Contact = Mob no. 01783385346 :: Email Address = shalampb@gmail.com
Page 2

INDEX

ঝাড়ফুঁক

  1. রোগী সাক্ষাৎ করতে
  2. রোগীকে ঝাড়তে
  3. ব্যাধিগ্রস্ত লোক দেখলে
  4. বেদনা দূর করতে
  5. জ্বর হলে
  6. জ্বিন বদনজর ও যাদু ইত্যাদি থেকে ঝাড়তে
  7. বিষধর জন্তুর দংশনে ঝাড়তে
  8. জ্বিন ও বদনজরাদি থেকে শিশুদেরকে বাঁচাতে
  9. জ্বিন ঝাড়তে
  10. জ্বিন থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে
  11. শয়তানের কুমন্ত্রণা ও অনিষ্ট হতে রক্ষা পেতে এবং শয়তান বিতাড়ন করতে
  12. দাজ্জালের ফিতনা থেকে মুক্তি চাইতে
  13. মরণাপন্ন ব্যক্তির অতিরিক্ত কষ্টের জন্য
  14. জীবন থেকে নিরাশ হলে
  15. মরোণপন্নকে তালক্বীন
  16. মৃত ব্যক্তির চক্ষু বন্ধ করার সময়
  17. মুসীবতের সময়
  18. জানাযার দু‘আ
  19. জানাযায় শিশুর জন্য দু‘আ
  20. মৃতব্যক্তির পরিজনকে সান্ত্বনা দিতে
  21. কবরে লাশ রাখার সময়
  22. কবর যিয়ারতের দু‘আ

বিবিধ

  1. দুশ্চিন্তা দূর করার দু‘আ
  2. উপস্থিত বিপদ দূর করার দ‘আ
  3. সংকট মুহূর্তে
  4. শত্রু বা অত্যাচারী শাসকের সাক্ষাতে
  5. মনে সন্দেহ হলে
  6. গুপ্ত শির্ক হতে পানাহ চাইতে।
  7. অশুভ ধারণা হলে
  8. ঋণমুক্ত ও ধনী হতে
  9. হতাশাজনক কিছু ঘটলে
  10. সন্তোষজনক কিছু ঘটলে বা দেখলে
  11. অসন্তোষজনক কিছু ঘটলে বা দেখলে
  12. খুশী বা আশ্চর্যজনক কিছু ঘটলে বা দেখলে
  13. মনোরম কিছু দেখলে
  14. আগামীতে কিছু করব বললে
  15. কাউকে হাসতে দেখলে
  16. ঘাবড়ে গেলে বা ভয় পেলে
  17. ঝড় বাতাসের সময়
  18. মেঘ দেখলে
  19. বৃষ্টি নামলে
  20. মেঘ গর্জন কালে
  21. বৃষ্টির পর
  22. অনাবৃষ্টি হলে
  23. অতিবৃষ্টি হলে
  24. খাওয়ার আগে দু‘আ
  25. খাওয়ার পরে দু‘আ
  26. অপরের নিকট পানাহার করলে তার জন্য দু‘আ
  27. কেউ কিছু পান করালে তার জন্য দু‘আ
  28. সিয়াম ইফতারের দু‘আ
  29. অপরের নিকট রোযা ইফতার করলে
  30. প্রথম দিনের চাঁদ দেখলে
  31. নতুন ফল-ফসল দেখলে
  32. হাঁচির সময়
  33. জুমআহ, বিবাহ ও অন্যান্য সময়ে খুতবাহ
  34. বরকনের জন্য দু‘আ
  35. বাসরের দু‘আ
  36. সহবাসের পূর্বে দু‘আ
  37. সন্তান ভূমিষ্ট হলে
  38. ক্রোধের সময়
  39. মজলিস ও জালসার দু‘আ
  40. মজলিস ও জালসার শেষে দু‘আ
  41. দু‘আর বদলে দু‘আ
  42. কারো প্রশংসা করতে হলে
  43. কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে তার জন্য দু‘আ
  44. কেউ অর্থ দিয়ে সাহায্য করতে চাইলে
  45. ঋণ পরিশোধ করলে
  46. কেউ কোন উপকার বা সাহায্য করলে কিংবা উপহার দিলে
  47. কোন পশু ক্রয় কালে
  48. যানবাহনে চড়লে
  49. সফরে বের হওয়ার সময়

Dua Jikir Jhar-Fuk

Page 2

ঝাড়ফুঁক

রোগী সাক্ষাৎ করতে

لَا بَأسَ طَهُوْرٌ إنْ شَاءَ اللهُ.

উচ্চারণঃ লা বা’সা ত্বাহুরুন ইনশা-আল্লাহ। অর্থঃ কোন কষ্ট মনে করো না। (গোনাহ থেকে) পবিত্র হবে, যদি আল্লাহ চান। [বুখারী ১০/১১৮] এই দু‘আ পড়ে এর অর্থ রোগীকে শুনিয়ে সান্তনা দেওয়া উচিত।

রোগীকে ঝাড়তে

  1. أَذْهِبِ الْبَأسَ، رَبَّ النَّاسِ وَاشْفِ أَنْتَ الشَّافِي لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاءُكَ شِفَاءً لَّا يُغَادِرُسَقَمًا.

  2. উচ্চারণঃ “আযহিবিল বা‘সা রাব্বান্না-সি অশফি আনতাশ শা-ফী লা শিফা-আ ইল্লা শিফা-উকা শিফা-আল লা য়্যুগা-দিরু সাক্বামা”।

    অর্থঃ কষ্ট দূর করে দাও হে মানুষের প্রতিপালক! এবং আরোগ্য দান কর, তুমিই আরোগ্যদাতা, তোমার আরোগ্য দান ছাড়া কোন আরোগ্য নেই। এমন আরোগ্য দান কর যাতে কোন পীড়া অবশিষ্ট না থাকে। [বুখারী, মুসলিম]

  3. بِسْمِ اللهِ أَرْقِيكَ، مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُّوذِيكَ, مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ، أَللهُ يَشْفِيكَ، بِسْمِ اللهِ أَرْقِيكَ.

  4. উচ্চারণঃ বিসমিল্লা-হি আরক্বীক, মিন কুল্লি শাইয়িন য়্যু’যীক, মিন শার্রি কুল্লি নাফসিন আউ ‘আইনি হা-সিদ, আল্লা-হু য়্যাশফীক, বিসমিল্লা-হি আরক্বীক।

    অর্থঃ আমি তোমাকে আল্লাহর নাম নিয়ে প্রত্যেক কষ্টদায়ক বস্তু থেকে এবং প্রত্যেক আত্মা অথবা বদনজরের অনিষ্ট থেকে মুক্তি পেতে ঝাড়ছি। আল্লাহ তোমাকে আরোগ্য দান করুন। আল্লাহর নাম নিয়ে তোমাকে ঝাড়ছি। [মুসলিম, তিরমিযী]

  5. أَسْأَلُ اللهَ الْعَظِيمَ، رَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، أَنْ يَّشْفِيَكَ.

  6. উচ্চারণঃ আসআলুল্লা-হাল ‘আযীম, রাব্বাল আরশিল ‘আযীম, আঁই য়্যাশফিয়াক।

    অর্থঃ আমি সুমহান আল্লাহ, মহা আরশের প্রতিপালকের নিকট তোমার আরোগ্য প্রার্থনা করছি। এই দু‘আ কোন মুমূর্ষু রোগীর কাছে ৭ বার পাঠ করলে তার আরোগ্য হয়। [সহীহুল জামে’ ৫৬৪২, ৬২৬৩ নং]

ব্যাধিগ্রস্ত লোক দেখলে

اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِي عَافَانِي مِمَّا ابْتَلَاكَ بِهِ وَفَضَّلَنِي عَلٰى كَثِيرٍ مِّمَّنْ خَلَقَ تَفْضِيلًا.

উচ্চারণঃ আলহামদু লিল্লা-হিল্লাযী ‘আ-ফা-নী মিম্মাবতালা-কা বিহী অফায্বয্বালানী ‘আলা কাসীরিম মিম্মান খালাক্বা তাফয্বীলা।

অর্থঃ আল্লাহর যাবতীয় প্রশংসা, যিনি তোমাকে যে ব্যাধি দ্বারা পরীক্ষা করেছেন, তা থেকে আমাকে নিরাপদে রেখেছেন এবং তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তাদের অনেকের থেকে আমাকে যথার্থ শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। [তিরমিযী ৩/১৫৩]

বেদনা দূর করতে

দেহের কোন অঙ্গে ব্যথা হলে সেই স্থানে হাত রেখে ৩ বার ‘বিসমিল্লাহ’ বলে ৭বার নিম্নের দু‘আ পাঠ করলে উপশম হয়।

أَعُوذُ بِعِزَّةِ اللهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأُحَاذِرُ.

উচ্চারণঃ আ’উযু বিইযযাতিল্লা-হি অকুদরাতিহী মিন শার্রি মা আজিদু অউহা-যির।

অর্থঃ আমি আল্লাহর মর্যাদা ও কুদরতের অসীলায় সেই জিনিসের অনিষ্ট হতে আশ্রয় চাচ্ছি যা আমি পাচ্ছি ও ভয় করছি। [মুসলিম ২২০২ নং, আবু দাঊদ ৪/১১]

জ্বর হলে

رَبَّنَا اكْشِفْ عَنَّا الرِّجْزَ إِنَّا مُومِنُونَ.

উচ্চারণঃ রাব্বানাকশিফ ‘আন্নার রিজযা ইন্না মু‘মিনূন।

অর্থঃ হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের নিকট থেকে আযাব আপসারিত কর। অবশ্যই আমরা বিশ্বাসী। [বুখারী ১০/১৪৭, মুসলিম ২২০৯]

জ্বিন বদনজর ও যাদু ইত্যাদি থেকে ঝাড়তে

সূরা ফালাক্ব ও নাস।

বিষধর জন্তুর দংশনে ঝাড়তে

সূরা ফাতিহা। [বুখারী ৭/২২]

জ্বিন ও বদনজরাদি থেকে শিশুদেরকে বাঁচাতে

أُعِيذُكُمَا بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّةِ، مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَّهَامَّةٍ، وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَّامَّةٍ.

উচ্চারণঃ উ‘ঈযুকুমা বিকালিমা-তিল্লা-হিত তা-ম্মাহ, মিন কুল্লি শায়ত্বা-নিউ অ হা-ম্মাহ, কুল্লি ‘আইনিল লা-ম্মাহ।

আর্থঃ আমি তোমাদেরকে আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীসমূহের অসীলায় প্রত্যেক শয়তান ও কষ্টদায়ক জন্তু হতে এবং প্রত্যেক ক্ষতিকারক (বদ) নজর হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয়কৃত করছি। [বুখারী ৪/১১৯]

জ্বিন ঝাড়তে

আয়াতুল কুরসী, সূরা ফালাক্ব ও সূরা নাস।

জ্বিন থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে

أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللّٰهِ التَّامَّاتِ مِنْ غَضَبِهِ وَعِقَابِهِ وَمِنْ شَرِّ عِبَادِهِ وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيْطَانِ وَأَنْ يَحْضُرُونَ.

উচ্চারণঃ আ’ঊযু বিকালিমা-তিল্লা-হিত তা-ম্মা-তি মিন গায্বাবিহী অ’ইক্বা-বিহী অমিন শার্রি ‘ইবা-দিহী অমিন হামাযা-তিশ শাইত্বা-নি অ আঁই য়্যাহযুরূন।

অর্থঃ আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীসমূহের অসীলায় তাঁর ক্রোধ ও শাস্তি থেকে, তাঁর বান্দাদের অনিষ্ট থেকে, শয়তানের প্ররোচনা থেকে এবং তাদের আমার নিকট উপস্থিত হওয়া থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। [তিরমিযী ৫/৫৪১, আবু দাঊদ ৪/১২]

আয়াতুল কুরসী সকাল, সন্ধ্যায় এবং রাত্রে শয়নকালে পাঠ করলে শয়তান নিকটবর্তী হয় না। [সহীহ তারগীব]

শয়তানের কুমন্ত্রণা ও অনিষ্ট হতে রক্ষা পেতে এবং শয়তান বিতাড়ন করতে

  1. أَعُوذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ.

  2. উচ্চারণঃ আ‘ঊযু বিল্লা-হি মিনাশ শায়ত্বা-নির রাজিম। অর্থঃ আমি আল্লাহর নিকট বিতারিত শয়তান হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

  3. আযান শুনলেও শয়তান দূরে সরে যায়।
  4. সকাল-সন্ধ্যায় যিকর, শয়নকালে যিকর, ঘরে প্রবেশকালে যিকর, কুরআন মাজিদ বিশেষ করে সূরা ফালাক, নাস, বাক্বারাহ, আয়াতুল কুরসী ইত্যাদি পাঠ করলে শয়তান পলায়ন করে। সালাতে শয়তানের কুমন্ত্রণা বুঝলে প্রথমোক্ত দু‘আ পড়ে বাম দিকে তিনবার থুথু মারলে তা দূর হয়ে যাবে। [মুসলিম ৪/১৭২৯]
  5. أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ الَّتِي لَا يُجَاوِزُهُنَّ بَرٌّ وَّلَا فَاجِرٌ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ وَبَرَأَ وَمِنْ شَرِّ مَا يَنْزِلُ مِنَ السَّمَاءِ وَمِنْ شَرِّ مَا يَعْرُجُ فِيهَا وَمِنْ مَا ذَرَأَ فِي الْاَرْضِ وَمِنْ شَرِّ مَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمِنْ شَرِّ فِتَنِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَمِنْ شَرِّ كُلِّ طَارِقٍ إِلَّا طَارِقًا يَّطْرُقُ بِخَيْرٍ يَا رَحْمَانُ.

  6. উচ্চারণঃ আ‘ঊযু বিকালিমা-তিল্লা-হিত তা-ম্মা-তিল্লাতী লা য়্যুজাবিযুহুন্না বাররুঁউ অলা ফা-জিরুম মিন শার্রি মা খালাক্বা অবারাআ অযারাআ, অমিন শার্রি মা য়্যানযিলু মিনাস সামা-ই, আমিন শার্রি মা য়্যা‘রুজু ফীহা, অমিন শার্রি মা যারাআ ফিল আরয্বি অমিন শার্রি মা য়্যাখরুজু মিনহা, অমিন শার্রি ফিতানিল লাইলি অন্নাহা-র, অমিন শার্রে কুল্লি ত্বা-রিক্বিন ইল্লা ত্বা-রিকাঁই য়্যাত্বরুক্বু বিখাইরিঁই ইয়া রাহমান!

    অর্থঃ আমি আল্লাহর সেই পরিপূর্ণ বাণীসমূহের অসীলায় (আল্লাহর নিকট) আশ্রয় প্রার্থনা করছি যা কোন সৎ বা অসৎ ব্যক্তি অতিক্রম করতে পারে না সেই বস্তুর অনিষ্ঠ হতে যা তিনি সৃষ্টি করেছেন, সেই বস্তুর অনিষ্ট থেকে যা আকাশ থেকে অবতরণ করে এবং যা তার প্রতি উত্থিত হয়। যা তিনি পৃথিবীতে সৃষ্টি করেছেন ও যা পৃথিবী হতে নির্গত হয়। (আশ্রয় চাচ্ছি) রাত্রি ও দিবার বিভিন্ন ফিতনা হতে যে কোন কল্যাণ ছাড়া রাত্রি কালে আসে যায়। হে করুণাময়। [মুসনাদ আহমাদ ৩/৪১৯, মাজমাউল যাওয়ায়েদ ১০/১২৭]

দাজ্জালের ফিতনা থেকে মুক্তি চাইতে

  1. সালাতে সালাম ফিরার পূর্বে দু‘আয়ে মাসূরার প্রথম দু‘আ পঠনীয়।
  2. সূরা কাহফের প্রথম ১০ আয়াত মুখস্ত করে পাঠ করলে দাজ্জালের ফিতনা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। [মুসলিম ১/৫৫৫]

মরণাপন্ন ব্যক্তির অতিরিক্ত কষ্টের জন্য

আত্মহত্যা মহাপাপ। রোগ-ব্যাধিতে কারো খুব কষ্ট হলেও মরণ চাইতে নেই। তবে নিম্নোক্ত দু‘আ করা যায়।

َللّٰهُمَّ أَحْيِنِي مَا كَانَتِ الْحَيَاةُ خَيْرًا لِّي وَتَوَفَّنِي إِذَا كَانَتِ الْوَفَاةُ خَيْرًا لِّن.

উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা আহয়িনী মা কা-নাতিল হায়াতু খাইরাল লী, আতাওয়াফফানী ইযা কা-নাতিল অফা-তু খাইরাল লী।

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমাকে জীবিত রাখ, যতক্ষণ আমার জন্য তা কল্যাণকর হয়। নচেৎ মরণ দাও, যদি মরণ আমার জন্য কল্যাণকর হয়। [বুখারী, মুসলিম]

জীবন থেকে নিরাশ হলে

  1. اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَأَلْحِقْنِي بِالرَّفِيقِ الْأَعْلَى.

  2. উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মাগফিরলী আরহামনী অ আলহিক্বনী বির্রাফীক্বিল আ’লা।

    অর্থঃ হে আল্লাহঃ আমাকে ক্ষমা কর, আমার প্রতি দয়া কর এবং আমাকে মহান সাথীদের সাথে মিলিত কর। [বুখারী ৭/১০, মুসলিম ৪/১৮৯৩]

  3. لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَللهُ أَكْبَرُ، لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ، لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، لَا إِلٰهَ إلَّا اللهُ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَةَ إِلَّا بِاللهِ.

  4. উচ্চারণঃ লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু আল্লা-হু আকবার, লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু অহদাহ, লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু অহদাহু লা শারীকা লাহ, লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু লাহুল মুলকু অলাহুল হামদ, লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু অলা হাউলা অলা ক্বুউওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ।

    এসব তাহলীললের অর্থ পূর্বে বহুবার উল্লিখিত হয়েছে। এই দু‘আ পড়ে কেউ মারা গেলে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে না। [তিরমিযী ৩/১৫২, ইবনে মাজাহ ২/৩১৭]

মরোণপন্নকে তালক্বীন

لَآ إِلٰهَ إِلَّا اللهُ

উচ্চারণঃ লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ। অর্থঃ আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নেই। যার জীবনের শেষ কথা এই কলেমা হবে, সে (কোন এক দিন) জান্নাতে প্রবেশ করবে। [সহীহুল জামে’ ৫/৩৪২]

মৃত ব্যক্তির চক্ষু বন্ধ করার সময়

কারো মৃত্যুর সময় কোন মন্দ দু‘আ করতে নেই। যেহেতু উক্ত সময়ে ফিরিশতাদল উপস্থিত মানুষদের দু‘আয় ‘আমীন’ বলে থাকেন। তাই মৃতব্যক্তির চক্ষুদ্বয় মরণের পর খোলা থাকলে তা বন্ধ করে এই দু‘আ পড়তে হয়।

اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِي(…) وَارْفَعْ دَرَجَتَهُ فِي فِي الْمَهْدِيِّينَ، وَاخْلُفْهُ فِي عَقِبِهِ فِي الْغَابِرِينَ، وَاغْفِرْ لَنَا وَلَهُ يَا رَبَّ ألْعَالَمِينَ، وَافْسَحْ لَهُ فِي قَبْرِهِ وَنَوِّرْ لَهُ فِيهِ.

উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মাগফির লি (মৃতের নাম নিতে হবে) অরফ’ দারাজাতাহু ফিল মাহদিইয়্যীন, অখলুফহু ফী ‘আক্বিবিহি ফিল গা-বিরীন, অগফির লানা অলাহু ইয়া রাব্বাল ‘আ-লামীন, অফসাহ লাহু ফী ক্বাবরিহী অ নাউবিরলাহু ফীহ।

অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি (অমুককে) মাফ করে দাও এবং হিদায়তপ্রাপ্তদের দলে ওর মর্যদা উন্নত কর, অবশিষ্টদের মধ্যে ওর পশ্চাতে ওর উত্তরাধিকারী দাও। আমাদেরকে এবং ওকে মার্জনা করে দাও হে বিশ্বজগতের প্রতিপালক! ওর কবরকে প্রশস্ত করো এবং ওর জন্য কবরকে আলোকিত করো। [মুসলিম ২/৬৩৪]

মুসীবতের সময়

আত্মীয়-পরিজন বা অন্য কিছুর বিয়োগ-ব্যথার মুসীবতে নিম্নের দু‘আ পাঠ করলে আল্লাহ তাআলা বিগতের চেয়ে উত্তম কিছু দান করে থাকেন।

إِنَّا لِلّٰهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ، اَللّٰهُمَّ اجُرْنِي فِي مُصِيبَتِي وَاخْلُفْ لِي خَيْرًا مِنْهَا.

উচ্চারণঃ ইন্না লিল্লাহি অ ইন্না ইলাইহি রা-জিউন, আল্লা-হুম্মা জুরনী ফী মুসীবাতী অখলুফলী খাইরাম মিনহা।

অর্থঃ আমরা তো আল্লাহরই, এবং আমরা তাঁরই দিকে ফিরে যাব। হে আল্লাহ! আমার বিপদে আমাকে সওয়াব দান কর এবং এর চেয়ে উত্তম বিনিময় দান কর। [মুসলিম ২/৬৩২]

জানাযার দু‘আ

  1. اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِحَيِّنَا وَمَيِّتِنَا وَشَاهِدِنَا وَغَائِبِنَا وَصَغِيرِنَا وَكَبِيرِنَا وَذَكَرِنَا وَأُنْثَانَا، اَللّٰهُمَّ مَنْ أَحْيَيْتَهُ مِنَّا فَأَحْيِهِ عَلَى الْإِسْلَامِ، وَمَنْ تَوَفَّيْتَهُ مِنَّا فَتَوَفَّهُ عَلَى الْإِيمَانِ، اللّٰهُمَّ لَا تَحْرِمْنَا أَجْرَهُ وَلَا تُضِلَّنَا بَعْدَهُ.

  2. উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মাগফির লি হাইয়িনা আমাইয়িতিনা অ শা-হিদিনা অগা-য়িবিনা অস্বাগীরিনা অকাবীরিনা অযাকারিনা অউনসা-না, আল্লা-হুম্মা মান আহয়্যাইতাহু মিন্না ফাআহয়িহি ‘আলাল ইসলাম, অমান তাওয়াফফাইতাহু মিন্না ফাতাওয়াফফাহু ‘আলাল ঈমান, আল্লা-হুম্মা লা তাহরিমনা আজরাহু অলা তুযিল্লান বা’দাহ।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! আমাদের জীবিত-মৃত, উপস্থিত আনুপস্থিত, ছোট-বড়, পুরুষ ও নারীকে ক্ষমা করে দাও। হে আল্লাহ! আমাদের মধ্যে যাকে তুমি জীবিত রাখবে, তাকে ইসলামের উপর জীবিত রাখ এবং যাকে মরণ দেবে তাকে ঈমানের উপর মরণ দাও। হে আল্লাহ! ওর সওয়াব থেকে আমাদেরকে বঞ্চিত করো না এবং ওর পরে আমাদেরকে ফিতনায় ফেলো না। [ইবনে মাজাহ ১/১৫২, আহমদ ২/৩৬৮]

  3. اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ وَعَافِهِ وَاعْفُ عَنْهُ وَأَكْرِمْ نُزُلَهُ وَوَسِّعْ مُدْخَلَهُ وَاغْسِلْهُ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ، وَنَقِّهِ مِنَ الْخَطَايَا كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الْأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ، وَأَبْدِلْهُ دَارً ا خَيْرًا مِنْ دَارِهِ وَأَهْلًا خَيْرًا مِّنْ أَهْلِهِ وَزَوْجًا خَيْرًا مِنْ زَوْجِهِ وَأَدْخِلْهُ الْجَنَّةَ وَأَعِذْهُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَعَذَابِ النَّارِ.

  4. উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মাগফির লাহু অরহামহু অ‘আ-ফিহী অ’-ফু ‘আনহু অআকরিম নুযুলাহু অঅসসি’ মুদখালাহু, অগসিলহু বিলমা-ই অসসালজি অলবারাদ। অনাক্ক্বিহী মিনাল খাত্বায়া কামা য়্যুনাক্ক্বাস সাউবুল আবয়্যায্বু মিনাদ দানাস। অ আবদিলহু দা-রান খাইরাম মিন দা-রিহী অ আহলান খাইরাম মিন আহলিহী অযাওজান খাইরাম মিন যাওজিহ। অ আদখিলহুল জান্নাতা অ আ‘ইযহু মিন ‘আযা-বিল ক্বাবরি অ ‘আযা-বিন্নার।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি ওকে ক্ষমা করে দাও এবং রহম কর। ওকে নিরাপত্তা দাও এবং মার্জনা করে দাও, ওর মেহেমানী সম্মানজনক কর এবং ওর প্রবেশস্থল প্রশস্ত কর। ওকে পানি, বরফ ও শিলাবৃষ্টি দ্বারা ধৌত করে দাও এবং ওকে গোনাহ থেকে এমন পরিষ্কার কর, যেমন সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিষ্কার করা হয়। আর ওকে তুমি ওর ঘর অপেক্ষা উৎকৃষ্ট ঘর, ওর পরিবার অপেক্ষা উত্তম পরিবার, ওর জুড়ী অপেক্ষা উৎকৃষ্ট জুড়ী দান কর। ওকে জান্নাতে প্রবেশ করাও এবং কবর ও জাহান্নামের আযাব থেকে রেহাই দাও। [মুসলিম ২/৬৬৩]

  5. اَللّٰهُمَّ إِنَّ فُلَانَ بْنَ فُلَانٍ فِي ذِمَّتِكَ وَحَبْلِ جِوَارِكَ فَقِهِ مِنْ فِتْنَةِ الْقَبْرِ وَعَذَابِ النَّارِ وَأَنْتَ أَهْلُ الْوَفَاءِ وَالْحَقِّ، فَاغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ.

  6. উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা ইন্না ফুলা-নাবনা ফুলা-নিন ফী যিম্মাতিকা অহাবলি জিওয়ারিক, ফাক্বিহি মিন ফিতনাতিল কাবরি অ ‘আযা-বিন্নারে, অ আন্তা আহলুল অফা-ই অলহাক্ক্ব, ফাগফির লাহু অরহামহু ইন্নাকা আন্তাল গাফূরুর রাহীম।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! নিশ্চয় অমুকের পুত্র অমুক তোমার দায়িত্বে এবং তোমার আমানতে। আতএব ওকে তুমি কবর ও জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা কর। তুমি বিশ্বাস ও ন্যায়ের পাত্র। সুতরাং ওকে তুমি মাফ করে দাও এবং ওর প্রতি দয়া কর। নিঃসন্দেহে তুমিই মহা ক্ষমাশীল অতি দয়াবান। [ইবনে মাজাহ ১/২৫১, আবু দাউদ ৩/২১১]

  7. اَللّٰهُمَّ عَبْدُكَ وَابْنُ أَمَتِكَ احْتَاجَ إِلِى رَحْمَتِكَ وَأَنْتَ غَنِيٌّ عَنْ عَذَابِهِ، إِنْ كَانَ مُحْسِنًا فَزِد ْفِي حَسَنَاتِهِ وَإِنْ كَانَ مُسِيئًا فَتَجَاوَزْ عَنْهُ.

  8. উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা ‘আবদুকা অবনু আমাতিকাহতা-জা ইলা রাহমাতিক, অআন্তা গানিইয়্যুন আন ‘আযা-বিহ, ইন কা-না মুহসিনান ফাযিদ ফী হাসানা-তিহ, অইন কা-না মুসীআন ফাতাজা-অয আনহ।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! তোমার বান্দা এবং তোমার বান্দীর পুত্র তোমার রহমতের মুখাপেক্ষী এবং তুমি ওকে আযাব দেওয়া থেকে বেপরোয়া। যদি ও নেক হয় তবে ওর নেকী আরো বৃদ্ধি কর আর যদি গোনাহগার হয় তবে ওকে ক্ষমা কর। [হাকেম ১/৩৫৯]

জানাযায় শিশুর জন্য দু‘আ

শিশুর জন্যেও জানাযর ১নং দু‘আ পড়া বিধেয়। [আহকামুল জানায়েজ, আলবানী ১২৬-১২৭] তা ছাড়াও নিম্নের দু‘আও পড়া যায়।

اَللّٰهُمَّ اجْعَلْهُ لَنَا فَرَطًا وَّسَلَفًا وَّأَجْرًا.

উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মাজ ‘আলহু লানা ফারাত্বাঁউ অ সালাফাঁউ অ আজরা। অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি ওকে আমাদের জন্য অগ্রগামী এবং সওয়াব বানাও। [শারহুস সুন্নাহ ৫/৩৫৭, বাইহাকী, বুখারী]

মৃতব্যক্তির পরিজনকে সান্ত্বনা দিতে

إِنَّ لِلّٰهِ مَا أَخْذَ وَلَهُ مَا أَعْطٰى، وَكُلُّ شَيْءٍ عِنْدَهُ بِأَجَلٍ مُّسَمًّى، فَاصْبِرْ وَاحْتَسِبْ.

উচ্চারণঃ ইন্না লিল্লা-হি মা আখাযা অলাহু মা আ‘ত্বা, অকুল্লু শাইয়িন ইনদাহু বিআজালিম মুসাম্মা। ফাস্ববির অহতাসিব।

অর্থঃ নিশ্চয় আল্লাহ যা নিয়েছেন তা তাঁরই এবং যা দিয়েছেন তাও তাঁরই। প্রত্যেক জিনিস তাঁর নিকট নির্ধারিত সময় বাঁধা। অতএব তুমি ধৈর্য ধর এবং সওয়াব আশা কর। [বুখারী ২/৮০, মুসলিম ২/৬৩৬] মৃতব্যাক্তির শোকাহত পরিবারকে তাদের ভাষায় এরূপ বলে সান্তনা দেওয়া কর্তব্য।

কবরে লাশ রাখার সময়

بِسْمِ اللهِ وَعَلٰى مِلَّةِ رَسُولِ اللهِ.

উচ্চারণঃ বিসমিল্লা-হি অ‘আলা মিল্লাতি রাসূলিল্লা-হ। অর্থঃ আল্লাহর নাম নিয়ে আল্লাহর রসূলের মতাদর্শের উপর (কবরে রাখছি) । [আবু দাউদ ৩/৩১৪, আহমদ]

কবর যিয়ারতের দু‘আ

  1. اَلسَّلَامُ عَلٰى أَهْلِ الدِّيَارِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُسْلِمِينَ ، وَ إِنَّا إِنْ شَاءَ اللهُ بِكُمْ لَلَاحِقُونَ، نَسْأَلُ اللهَ لَنَا وَلَكُمْ الْعَافِيَةَ.

  2. উচ্চারণঃ আসসালা-মু আলাইকুম আহলাদ্দিয়া-রি মিনাল মু’মিনীনা অলমুসলিমীন, অইন্না ইনশা-আল্লা-হু বিকুম লালা-হিক্বুন, নাসআলুল্লা-হা লানা অলাকুমুল ‘আ-ফিয়াহ।

    আর্থঃ তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক, হে কবরবাসী মু’মিন ও মুসলিমগণ! আমরাও –আল্লাহ যদি চান- তোমাদের সঙ্গে অবশ্যই মিলিত হব। আল্লাহর নিকট আমাদের ও তোমাদের জন্য নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি [মুসলিম ২/৬৭১]

  3. اَلسَّلَامُ عَلٰى أَهْلِ الدِّيَارِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُسْلِمِينَ، وَيَرْحَمُ اللهُ الْمُسْتَقْدِمِينَ مِنَّا وَالْمُسْتَاخِرِينَ، وَإِنَّا إِنْشَاءَ اللهُ بِكُمْ لَلَاحِقُونَ.

  4. উচ্চারণঃ আসসালা-মু ‘আলা আহলিদ্দিয়া-রি মিনাল মু’মিনিনা অলমুসলিমীন, অ য়্যারহামুল্লাহ-হুল মুস্তাক্বদিমীনা মিন্না অলমুস্তা’খিরিন, অইন্না ইনশা-ল্লা-হু বিকুম লালা-হিক্বন।

    অর্থঃ মু’মিন ও মুসলিম কবরবাসীগণের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। যারা আগে এসেছে এবং যারা পরে আসবে তাদের উপর আল্লাহ রহম করুন। এবং আমারাও আল্লাহ চাহেন তো অবশ্যই তোমাদের সাথে মিলিত হব। [মুসলিম ৯৭৮]

প্রকাশ থাকে যে, কবর যিয়ারতের সময় কবরবাসীর জন্য হাত তুলেও দু‘আ করা যায়। [মুসলিম ৯৭৪]


বিবিধ

দুশ্চিন্তা দূর করার দু‘আ

  1. اَللّٰهُمَّ إِنِّي عَبْدُكَ وَابْنُ عَبْدِكَ وَابْنُ أَمَتِكَ، نَاصِيَتِي بِيَدِكَ، مَاضٍ فِيَّ حُكْمُكَ، عَدْلٌ فِيَّ قَضَاءُكَ، أَسْأَلُكَ بِكُلِّ اسْمٍ هُوَ لَكَ، سَمَّيْتَ بِهِ نَفْسَكَ أَوْ أَنْزَلْتَهُ فِي كِتَابِكَ، أَوْ عَلَّمْتَهُ أَحَدًا مِّنْ خَلْقِكَ، أَوِ اسْتَاثَرْتَ بِهِ فِي عِلْمِ الْغَيْبِ عِنْدَكَ، أَنْ تَجْعَلَ الْقُرْآنَ رَبِيعَ قَلْبِي، وَنُورَ صَدْرِي وَجَلَاءَ حُزْنِي وَذَهَابَ هَمِّي.

  2. উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা ইন্নী ‘আবদুকা অবনু ‘আবদিকা অবনু আমাতিক, না-স্বিয়াতী বিয়্যাদিক, মা-য্বিন ফিইয়্যা হুকমুক, ‘আদলুন ফিইয়্যা ক্বাযা-উক, আসআলুকা বিকুল্লিসমিন হুয়া লাক, সাম্মাইতা বিহী নাফসাকা আউ আনযালতাহু ফী কিতা-বিক, আউ ‘আল্লামতাহু আহাদাম মিন খালক্বিক, আবিস্তা’সারতা বিহী ফী ‘ইলমিল গাইবি ইন্দাক; আন তাজ’আলাল ক্বুরআ-না রাবীআ’ ক্বালবী অনূরা স্বাদরী অজালা-আ হুযনী অযাহা-বা হাম্মী।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! নিঃসন্দেহে আমি তোমার দাস, তোমার দাসের পুত্র ও তোমার দাসীর পুত্র, আমার ললাটের কেশগুচ্ছ তোমার হাতে। তোমার বিচার আমার জীবনে বহাল। তোমার মীমাংসা আমার ভাগ্যলিপিতে ন্যায়সঙ্গত। আমি তোমার নিকট তোমার প্রত্রেক সেই ন্যায়সঙ্গত। আমি তোমার নিকট তোমার প্রত্যেক সেই নামের আসীলায় প্রার্থনা করছি- যে নাম তুমি নিজে নিয়েছ। অথবা তুমি তোমার গ্রন্থে অবর্তীর্ণ করেছ, অথবা তোমার সৃষ্টির মধ্যে কাউকে তা শিখিয়েছ, অথবা তুমি তোমার গায়বী ইলমে নিজের নিকট গোপন রেখেছ, তুমি কুরআনকে আমার হৃদয়ের বসন্ত কর, আমার বক্ষের জ্যোতি কর, আমার দুশ্চিন্তা দূর করার এবং আমার উদ্বেগ চলে যাওয়ার কারণ বানিয়ে দাও। [মুসনাদে আহমদ ১/৩৯১]

  3. اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوذُبِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحُزْنِ وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَالْبُخْلِ وَالْجُبْنِ وَضَلَعِ الدَّيْنِ وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ.

  4. উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযু বিকা মিনাল হাম্মি অল হুযনি অল ‘আজযি অল কাসালী অল বুখলি অল জুবনি অ য্বালা‘ইদ দাইনি অ গালাবাতির রিজা-ল।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার নিকট দুশ্চিন্তা, দুর্ভাবনা, অক্ষমতা, অলসতা, কৃপণতা, ভিরুতা, ঋণের ভার এবং মানুষের প্রতাপ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। [বুখারী]

  5. اَللّٰهُمَّ لَاسَهْلَ إِلَّا مَا جَعَلْتَهُ سَهْلًا وَأَنْتَ تَجْعَلُ الْحُزْنَ إِذَا شِئْتَ سَهْلًا.

  6. উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা লা সাহলা ইল্লা মা জা‘আলতাহু সাহলা। অআন্তা তাজ‘আলুল হুযনা ইযা শি’তা সাহলা।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি যা সহজ করে দিয়েছ তা ছাড়া সহজ কিছু নাই। আর তুমি ইচ্ছা করলে দুশ্চিন্তাকে সহজ করে থাক। [ইবনে হিব্বান, ইবনে সুন্নী, সিলসিলাহ সহীহাহ ২৮৮৬ নং]

উপস্থিত বিপদ দূর করার দ‘আ

  1. لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ الْعَظِيمُ الْحَلِيمُ، لَا إِلٰهَ إلَّا اللهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ رَبُّ السَّمٰوَاتِ وَرَبُّ الْأَرْضِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ.

  2. উচ্চারণঃ লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হুল ‘আযীমুল হালীম, লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু রাব্বুল ‘আরশিল ‘আযীম, লা ইলা-হা ইল্লল্লা-হু রাব্বুস সামা-ওয়া-তি অরাব্বুল আরয্বি ‘অরাব্বুল ‘আরশিল কারীম।

    অর্থঃ আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য মা’বুদ নেই; যিনি সুমহান, সহিষ্ণু। আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নেই; যিনি সুবৃহৎ আরশের প্রতিপালক। আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য আরাধ্য নেই; যিনি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী ও সম্মানিত আরশের অধিপতি। [বুখারী ৭/১৫৪, মুসলিম ৪/২০৯২]

  3. اَللّٰهُمَّ رَحْمَتَكَ أَرْجُوفَلَا تَكِلْنِي إِلٰى نَفْسِي طَرْفَةَ عَيْنٍ وَأَصْلِحْ لِي شَانِي كُلَّهُ، لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ.

  4. উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা রাহমাতাকা আরজু ফালা তাকিলনী ইলা নাফসী ত্বারফাতা ‘আইন, অ আসলিহ লী শা’নী কুল্লাহ, লা ইলা-হা ইল্লা আন্ত।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! তোমার রহমতেরই আশা রাখি। অতএব তুমি আমাকে পলকের জন্যও আমার নিজের উপর সোপর্দ করে দিয়ো না এবং আমার সকল অবস্থাকে সংশোধিত করে দাও। তুমি ছাড়া কেউ সত্য মা’বুদ নেই।

  5. لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الضَالِمِينَ.

  6. উচ্চারণঃ লা- ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নী কুনতু মিনায জ্বালেমীন।

    অর্থঃ তুমি ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই, তুমি পবিত্র, নিশ্চয় আমি সীমালংঘনকারী। [তিরমিযী ৩/১৬৮]

  7. اللهُ اللهُ رَبِّي، لَا أُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا.

  8. উচ্চারণঃ আল্লা-হু আল্লা-হু রাব্বী লা উশরিকু বিহী শাইআ।

    অর্থঃ আল্লাহ আল্লাহ (তিনি) আমার প্রতিপালক, তাঁর সাথে আমি কোন কিছুকে শরীক করি না। [ইবনে মাজাহ ২/৩৩৫]

সংকট মুহূর্তে

يَا حَىُّ يَا قَيُّومُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيثُ.

উচ্চারণঃ ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যূমু বিরাহমাতিকা আস্তাগীস।

অর্থঃ হে চিরঞ্জীব, হে অবিনশ্বর! তোমার রহমতের অসীলায় আমি ফরিয়াদ করছি। [সহীহুল জামে’ ৪৭৭৭নং]

শত্রু বা অত্যাচারী শাসকের সাক্ষাতে

  1. اللّٰهُمَّ إِنَّا نَجْعَلُكَ فِي نُحُورِهِمْ وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ شُرُورِهِمْ.

  2. উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা ইন্না নাজ’আলুকা ফী নুহূরিহিম অনা’ঊযু বিকা মিন শুরূরিহিম।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! আমরা তোমাকে ওদের মুখোমুখি করছি এবং ওদের অনিষ্ঠকারিতা থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। [আবু দাঊদ ২/৮৯, হাকেম ২/১৪২, সঃ জামে ৪৫৮২]

  3. اَللّٰهُمَّ أَنْتَ عَضُدِي وَأَنْتَ نَصِيرِي، بِكَ أَجُولُ وَبِكَ أَصُولُ وَبِكَ أُقَاتِلُ.

  4. উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা আন্তা আয্বুদি অ আন্তা নাসীরী, বিকা আজূলু অবিকা আসুলু অবিকা ঊক্বা-তিল।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি আমার বাহুবল ও তুমি আমার সহায়। তোমার সাহায্যেই আমি আক্রমন করি এবং তোমার সাহায্যেই আমি যুদ্ধ করি। [তিরমিযী ৩/১৮৩]

  5. حَسْبُنَا اللهُ نِعْمَ الْوَكِيلُ.

  6. উচ্চারণঃ হাসবুনাল্লাহ অ নি’মাল ওয়াকীল।

    অর্থঃ আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি উত্তম কর্মবিধায়ক। [বুখারী ৫/১৭২]

মনে সন্দেহ হলে

  1. ‘আউযু বিল্লাহ’ পড়ে শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করবে এবং সত্বর সন্দিহান চিন্তা থেকে বিরত হবে। [বুখারী ৬/৩৩৬, মুসলিম ১/১২০]
  2. এই কথাটি বলবে, آمَنْتُ بِاللهِ وَرُسُلِهِ উচ্চারণঃ ‘আ-মানতু বিল্লা-হি অরুসুলিহ। অর্থঃ আমি আল্লাহ ও রসূলগণের উপর ঈমান এনেছি।
  3. هُوَ الْأَوَّلُ وَالْآخِرُ وَالْظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيْمٌ.

  4. অর্থঃ তিনিই আদি, অন্ত, ব্যক্ত (অপরাভূত) ও অব্যক্ত এবং তিনি সর্ববিষয়ে সম্যক অবহিত। [সূরা হাদীদ ৩ আয়াত, আবু দাঊদ ৪/৩২৯]

গুপ্ত শির্ক হতে পানাহ চাইতে।

اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أُشْرِكَ بِكَ وَأَنَا أَعْلَمُ، وَأَسْتَغْفِرُكَ لِمَا لَا أَعْلَمُ.

উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযু বিকা আন উশরিকা বিকা অআনা আ’লাম, অআস্তাগফিরুকা লিমা লা আ’লাম।

অর্থঃ হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি জেনে শুনে তোমার সাথে শির্ক করা হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি এবং যে শির্ক না জেনে করে ফেলেছি, তা থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। [সহীহ জামে’ ৩/২৩৩]

অশুভ ধারণা হলে

কিছু দেখে বা শুনে অশুভ ধারণা হলে বা ক্ষতি কিংবা অসাফল্যের আশঙ্কা হলে নিম্নের দু‘আ পড়বেঃ

اَللّٰهُمَّ لَا طَيْرَ إِلَّا طَيْرُكَ، وَلَا خَيْرَ إِلَّا خَيْرُكَ، وَلَا إِلٰهَ غَيْرُكَ.

উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা লা ত্বাইরা ইল্লা ত্বাইরুক, অলা খাইরা ইল্লা খাইরুক, অলা ইলা-হা গাইরুক।

অর্থঃ হে আল্লাহ! তোমার (সৃষ্ট) অশুভ ছাড়া অন্য কিছু অশুভ নেই, তোমার মঙ্গল ছাড়া অন্য কোন মঙ্গল নেই এবং তুমি ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই। [আহমদ ২/২২০, সিঃ সহীহাহ ১০৬৫ নং]

ঋণমুক্ত ও ধনী হতে

  1. اَللّٰهُمَّ اكْفِنِي بِحَلَالِكَ عَنْ حَرَامِكَ وَأَغْنِنِي بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ.

  2. উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মাকফিনী বিহালা-লিকা ‘আন হারা-মিক, অআগনিনী বিফায্বলিকা ‘আম্মান সিওয়া-ক।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! তোমার হালাল রুযীকে হারাম রুযীর বিপরীতে আমার জন্য যথেষ্ট করে দাও এবং তুমি ছাড়া অন্য সকল থেকে আমাকে অমুখাপেক্ষী কর। [তিরমিযী ৩/১৮০]

  3. ‘দুশ্চিন্তা দূর করার’ ২ নং দু‘আ পঠনীয়।
  4. রাত্রে শয়নকালে নিম্নের দু‘আ পঠনীয়ঃ
  5. اَللّٰهُمَّ رَبَّ السَّمَاوَاتِ وَرَبَّ الْأَرْضِ وَرَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَيْءٍ فَالِقَ الْحَبِّ وَالنَّوَى وَمُنَزِّلَ التَّوْرَاةِ وَلْإِنْجِيلِ وَالْفُرْقَانِ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ ذِي شَرٍّ أَنْتَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهِ، اَللّٰهُمَّ أَنْتَ الْأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْآخِرُ فَلَيْسَ بَعْدَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُوْنَكَ شَيْءٌ، اِقْضِ عَنَّا الدَّيْنَ وَأَغْنِنَا مِنَ الْفَقْرِ.

    উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা রাব্বাস সামা-ওযা-তি অরাব্বাল আরয্বি অরাব্বাল ‘আরশিল ‘আযীম। রাব্বানা অরাব্বা কুল্লি শাই, ফা-লিক্বাল হাব্বি আন্নাওয়া, অমুনাযযিলাত তাউরা-তি অলইনজীলি অলফুরক্বান। আ‘ঊযু বিকা মিন শার্রি কুল্লি যী শার্রিন আন্তা আ-খিযুন বিনা-স্বিয়াতিহ। আল্লা-হুম্মা আন্তাল আউওয়ালু ফালাইসা ক্বাবলাকা শাই, অআন্তাল আ-খিরু ফালাইসা বা’দাকা শাই, অআন্তায যা-হিরু ফালাইসা ফাউক্বাকা শাই, অআন্তাল বা-ত্বিনু ফালাইসা ফাউক্বাক শাই, অআন্তাল বা-ত্বিনু ফালাইসা দূনাকা শাই, ইক্বয্বি আন্নাদ দাইনা অআগনিনা মিনাল ফাক্বর।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! হে আকাশ মণ্ডলী, পৃথিবী ও মহা আরশের অধিপতি। হে আমাদের ও সকল বস্তুর প্রতিপালক! হে শস্যজীব ও আঁটির অঙ্কুরোদয়কারী! হে তাওরাত, ইনজীল ও ফুরকানের অবতীর্ণকারী! আমি তোমার নিকট প্রত্যেক অনিষ্টকারীর অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি– যার ললাটের কেশগুচ্ছ তুমি ধারণ করে আছ। হে আল্লাহ! তুমিই আদি তোমার পূর্বে কিছু নেই। তুমিই অন্ত তোমার পরে কিছু নেই। তুমিই ব্যক্ত (অপরাভূত), তোমার উর্ধ্বে কিছু নেই এবং তুমিই (সৃষ্টির গোচরে) অব্যক্ত, তোমার নিকট অব্যক্ত কিছু নেই। আমাদের তরফ থেকে আমাদের ঋণ পরিশোধ করে দাও এবং আমাদেরকে দারিদ্র থেকে মুক্তি দিয়ে সচ্ছল (অভাবশূন্য) করে দাও। [মুসলিম ৪/২০৮৪]

  6. اَللّٰهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَتِي وَآمِنْ رَوْعَتِي وَاقْضِ عَنِّيَ دَيْنِي.

  7. উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মাস্তুর ‘আউরাতী অআ-মিন রাউ‘আতী অক্বযি ‘আন্নী দাইনী।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি আমার গোপনীয় ক্রটিকে গোপন কর, ভয় থেকে নিরাপত্তা দাও এবং আমার তরফ থেকে আমার ঋণ পরিশোধ করে দাও। [সহীহুল জামে ১২৬২]

হতাশাজনক কিছু ঘটলে

মহানবী (সাঃ) বলেন, আল্লাহর নিকট বলবান মু’মিন দুর্বল মু’মিন অপেক্ষা উত্তম এবং প্রিয়। অবশ্য উভয়েই মঙ্গল আছে। তোমাকে যে বস্তু উপকৃত করবে তার প্রতি যত্নবান হও এবং আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা কর। আর হতাশ হয়ে হাল ছেড়ে দিয়ে অক্ষমতা প্রকাশ করো না। যদি অপ্রিয় কিছু তোমার ঘটেই থাকে, তাহলে এ কথা বলো না যে, ‘যদি আমি এই করতাম, তাহলে এই হতো না’ ইত্যাদি। বরং বলঃ

قَدَّرَ اللهُ وَمَا شَاءَ فَعَلَ.

উচ্চারণঃ ক্বাদ্দারাল্লা-হু অমা শা-আ ফাআল। অর্থঃ আল্লাহ ভাগ্য নির্ধারিত করেছেন এবং তিনি যা চেয়েছেন তা করেছেন।

যেহেতু, ‘যদি, যদি’ করা শয়তানের কর্মদ্বার উন্মুক্ত করে। [মুসলিম ৪/২০৫২] সুতরাং আক্ষেপ ও হা-হুতাশ পরিহার করে নতুনভাবে কর্ম শুরু করাই দরকার।

সন্তোষজনক কিছু ঘটলে বা দেখলে

اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِي بِنِعْمَتِهِ تَتِمُّ الصَّالِحَاتُ.

উচ্চারণঃ আলহামদু লিল্লা-হিল্লাযী বিনি’মাতিহী তাতিম্মুস্ব স্বা-লিহা-ত।

অর্থঃ সেই আল্লাহর যাবতীয় প্রশংসা, যাঁর অনুগ্রহেই সৎকর্মাদি পরিপূর্ণ হয়। [সহীহ ইবনে মাজাহ ৩০৬৬ নং]

অসন্তোষজনক কিছু ঘটলে বা দেখলে

اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ عَلٰى كُلِّ حَلٍ.

উচ্চারণঃ আলহামদু লিল্লা-হি ‘আলা কুল্লি হা-ল। অর্থঃ আল্লাহর নিমিত্তে সকল প্রশংসা সর্বাবস্থায়। [সহীহুল জামে ৪/২০১, সিলসিলা সহীহাহ ২৬৫ নং]

খুশী বা আশ্চর্যজনক কিছু ঘটলে বা দেখলে

سُبْحَانَ الله অথবা اَللهُ أَكْبَر

উচ্চারণঃ ‘সুবহা-নাল্লা-হ’ অথবা ‘আল্লা-হু আকবার’ পাঠ করবে। [বুখারী ১/২১০, মুসলিম ৪/১৮৫৭] কিছু দেখে নজর লাগার ভয় থাকলে বর্কতের দু‘আ পাঠ করবে। [সহীহুল জামে ১/২১২]

মনোরম কিছু দেখলে

مَاشَاءَ اللهُ لَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ.

উচ্চারণঃ মা শা-আল্লা-হু লা ক্বুউওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ। [কুঃ ১৮:৩৯]

আগামীতে কিছু করব বললে

إِنْ شَاءَ الله

উচ্চারণঃ ‘ইনশা-আল্লা-হ’ বলা বিধেয়। যেহেতু কোন কর্মই আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতীত সম্পন্ন হয় না। [কুঃ ১৮: ২৩-২৪]

কাউকে হাসতে দেখলে

أَضْحَكَ اللهُ سِنَّك

উচ্চারণঃ ‘আয্বহাকাল্লা-হু সিন্নাক’, আর্থঃ আল্লাহ আপনার দন্তকে হাস্যময় করুন। [বুখারী ১১/৪৬৭]

ঘাবড়ে গেলে বা ভয় পেলে

لَآ إِلٰهَ إِلَّا اللهُ

উচ্চারণঃ ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ পাঠ করতে হয়। [বুখারী ১১/৪৬৭]

ঝড় বাতাসের সময়

ঝড় বা ঝোড়ো বাতাসকে গালি দেয়া নিশেধ। ঝড় বা ঝোড়ো বাতাসের সময় নিম্নের দু‘আগুলো পাঠ করতে হয়।

  1. اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا وَأَعُوذُبِكَ مِنْ شَرِّهَا.

  2. উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকা খাইরাহা অ আ’ঊযু বিকা মিন শার্রিহা।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার নিকট এর মঙ্গল প্রার্থনা করছি এবং এর অনিষ্ট থেকে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। [আবু দাঊদ ৪/৩২৬, সহীহ ইবনে মাজাহ ২/৩০৫]

  3. اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا وَخَيْرَ مَا فِيْهَا وَخَيْرَ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا فِيهَا وَشَرِّ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ.

  4. উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকা খাইরাহা অখাইরা মা ফীহা অখাইরা মা উরসিলাত বিহ, অআ’ঊযু বিকা মিন শার্রিহা অশার্রি মা ফীহা অশার্রি মা উরসিলাত বিহ।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি এর কল্যাণ, এর মধ্যে যা আছে তার কল্যাণ এবং যার সাথে এ প্রেরিত হয়েছে তার কল্যাণ তোমার নিকট প্রার্থনা করছি। আর এর আনিষ্ট, এর মধ্যে যা আছে তার অনিষ্ট এবং যার সাথে এ প্রেরিত হয়েছে তার অনিষ্ট হতে পানাহ চাচ্ছি। [বুখারী ৪/৭৬, মুসলিম ২/৬১৬]

    “আল্লা-হুম্মাজআলহা রিয়া-হান ……. “ হাদীসটি বাতিল হাদীস। [সিলসিলা সহীহাহ ৬/৬০২]

মেঘ দেখলে

আকাশে মেঘ দেখলে কাজ ছেড়ে দিয়ে নিম্নের দু‘আ পড়তে হয়।

اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا

উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ ‘ঊযু বিকা মিন শার্রিহা। অর্থঃ হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার নিকট ওর অনিষ্ট হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। [আবু দাঊদ ৪২৫২ নং]

বৃষ্টি নামলে

اَللّٰهُمَّ صَيِّبًا نَافِعًا.

উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা স্বাইয়্যিবান না-ফিআ’। অর্থঃ হে আল্লাহ! লাভদায়ক বৃষ্টি বর্ষণ কর। [বুখারী ২/৫১৮]

মেঘ গর্জন কালে

কথাবার্তা ছেড়ে এই দু‘আ পঠনীয়–

سُبْحَانَ الَّذِي يُسَبِّحُ الرَّعْدُ بِحَمْدِهِ وَالْمَلَا ئِكَةُ مِنْ خِيفَتِهِ.

উচ্চারণঃ সুবহা-নাল্লাযী য়্যুসাব্বিহুর রা’দু বিহামদিহী আলমালা-ইকাতু মিন খীফাতিহ।

অর্থঃ আমি তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করি যার ভয়ে বজ্র-ধ্বনি ও ফিরিশতাবর্গ তাঁর সপ্রশংসা পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে। [মুআত্তা’ ২/৯৯২]

এখানে ‘লা তাক্বতুলনা বিগাযাবিকা’ এর হাদীসটি যয়ীফ। [যয়ীফ তিরমিযী ৪৪৮ পৃঃ]

বৃষ্টির পর

مُطِرْنَا بِفَضْلِ اللهِ وَرَحْمَتِهِ.

উচ্চারণঃ মুত্বিরনা বিফায্বালিল্লা-হি অরাহমাতিহ। অর্থঃ আল্লাহর অনুগ্রহ ও করুণায আমাদের মাঝে বৃষ্টি হল। [বুখারী ১/২০৫, মুসলিম ১/৮৩]

অনাবৃষ্টি হলে

বৃষ্টি না হলে ইস্তিস্কার সালাত পড়া সুন্নাত। সালাতের পূর্বে খুতবায় হাত তুলে দু‘আ করা বিধেয়। এবং জুমআর খুতবায় হাত তুলে বৃষ্টির জন্য দু‘আ করা বিধিসম্মত। যেমন এই সময় অনেক অনেক ইস্তিগফার করা কর্তব্য।

  1. اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، اَلرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ، مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ، لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ يَفْعَلُ مَا يُرِيدُ، اللّٰهُمَّ أَنْتَ اللهُ لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ، أَنْتَ الْغَنِيُّ وَنَحْنُ الْفُقَرَاءُ، أَنْزِلْ عَلَيْنَا الْغَيْثَ وَاجْعَلْ مَا أَنْزَلْتَ لَنَا قُوَّةً وَّبَلَاغًا إِلٰى حِين.

  2. উচ্চারণঃ আলহামদু লিল্লা-হি রাব্বিল ‘আ-লামীন আর রাহমা-নির রাহীম, মা-লিকি য়্যাউমিদ্দীন, লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু য়্যাফ‘আলু মা য়্যুরীদ, আল্লা-হুম্মা আন্তাল্লা-হু লা ইলা-হা ইল্লা আন্ত, আন্তাল গানিইয়্যু অনাহনুল ফুক্বারা-’, আনযিল ‘আলাইনাল গাইসা আজ‘আল মা আনযালতা লানা ক্বুউওয়াতাঁউ অ বালা-গান ইলা-হীন।

    অর্থঃ সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর নিমিত্তে। যিনি বিশ্বজাহানের প্রতিপালক। যিনি আসীম করুণাময়, দয়াবান। বিচার দিবসের অধিপতি। আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নেই, তিনি যা ইচ্ছা তাই করেন। হে আল্লাহ! তুমিই আল্লাহ! তুমি ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নেই। তুমিই অভাবমুক্ত এবং আমরা অভাবগ্রস্ত। আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ কর এবং যা বর্ষণ করেছ তা আমাদের জন্য নির্দিষ্ট সময়কালের পর্যন্ত শক্তি ও যথেষ্টতার কারণ বানাও। [আবু দাঊদ]

  3. اَللّٰهُمَّ اسْقِنَا غَيْثًا مُّغِيثًا مَّرِيعًا نَافِعًا غَيرَ ضَارٍّ عَاجِلًا غَيْرَ آجِلٍ.

  4. উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মাসক্বিনা গাইসাম মুগীসাম মারীআম মারী‘আন না-ফি‘আন গায়রা য্বা-র্রিন ‘আ-জিলান গাইরা আ-জিল।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! আমাদেরকে বৃষ্টি দান কর, প্রয়োজন পূর্ণকারী স্বাচ্ছন্দ্য ও উর্বরতা আনয়নকারী, লাভদায়ক ও হিতকার, এবং বিলম্বে নয় অবিলম্বে বর্ষণশীল বৃষ্টি। [আবু দাঊদ]

  5. اَللّٰهُمَّ أَغِثْنَا، اَللّٰهُمَّ أَغِثْنَا، اَللّٰهُمَّ أَغِثْنَا.

  6. উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা আগিসনা, আল্লা-হুম্মা আগিসনা, আল্লা-হুম্মা আগিসনা।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! আমাদের জন্য পানি বর্ষণ কর। [বুখারী ১/২২৪, মুসলিম ২/৬১৩]

  7. اَللّٰهُمَّ اسْقِ عِنَادَكَ وَبَهَائِمَكَ وَانْشُرْ رَحْمَتَكَ وَأَحْيِ بَلَدَكَ الْمَيِّتَ.

  8. উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মাসক্বি ‘ইবা-দাকা অবাহা-ইমাকা অনশুর রাহমাতিকা অআহয়ি বালাদাকাল মাইয়্যিত।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! তোমার বান্দাদের ও প্রাণীদের উপর পানি বর্ষণ কর এবং তোমার রহমত ছড়িয়ে দাও। আর তোমার মৃত দেশকে জিবিত কর। [আবু দাঊদ ১/৩০৫]

অতিবৃষ্টি হলে

اَللّٰهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلَا عَلَيْنَا، اَللّٰهُمَّ عَلَى الْآكَامِ وَالظِّرَابِ وَبُطُونِ الْأَوْدِيَةِ وَمَنَابِتِ الشَّجَرِ.

উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা হাওয়া-লাইনা অলা ‘আলাইনা, আল্লা-হুম্মা ‘আলাল আ-কামি অযযিরা-বি অবুতূনিল আউদিয়াতি অমানা-বিতিশ শাজার।

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমাদের আশে-পাশে বর্ষাও, আমাদের উপর নয়। হে আল্লাহ! পাহাড়, টিলা, উপত্যকা এবং বৃক্ষাদির উদগত হওয়ার স্থানে বর্ষাও। [বুখারী ১/২২৪, মুসলিম ২/৬১৪]

খাওয়ার আগে দু‘আ

‘বিসমিল্লাহ’ বলে ডান হাত দ্বারা নিজের দিকে এক পাশ থেকে শুরু করতে হয়। খাওয়া শুরু করার পূর্বে ‘বিসমিল্লাহ’ বলতে ভুলে গেলে এবং মাঝে মনে পড়লে বলতে হয়।

بِسْمِ اللهِ أَوَّلَهُ وَآخِرَهُ.

উচ্চারণঃ বিসমিল্লা-হি আউওয়ালাহু অ আ-খিরাহ। অর্থঃ শুরুতে ও শেষে আল্লাহর নাম নিয়ে (খাচ্ছি)। [তিরমিযী ২/১৬৭]

খাদ্যের কোন প্রকার ত্রুটি বর্ণনা করতে নেই। একত্রে (এক পাত্রে) বসে ভোজন করলে তাতে বর্কত হয়। [সহিহুল জামে ১৪২ নং]

খাওয়ার পরে দু‘আ

اَللّٰهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيهِ وَأَطْعِمْنَا خَيْرًا مِّنْهُ.

উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা বা-রিক লানা ফীহি অআত্ব’ইমনা খাইরাম মিনহ। অর্থঃ হে আল্লাহ! আমাদের জন্য এতে বর্কত দাও এবং এর চেয়ে উত্তম আহার দান কর।

  1. খাবার দুধ হলে বলবেঃ
  2. اَللّٰهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيهِ وَزِدْنَا مِنْهُ.

    উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা বা-রিক-লানা ফীহি অযিদনা মিনহ। অর্থঃ হে আল্লাহ! আমাদের জন্য এতে বর্কত দান কর এবং আমাদেরকে এর প্রাচুর্য দাও। [তিরমিযী ৩/১৫৮]

  3. اَلْحَمْدُ لِلٰهِ الَّذِي أَطْعَمَنِي هٰذَا وَرَزَقَنِيهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِّنِّي وَلَا قُوَّةً.

  4. উচ্চারণঃ আলহামদু লিল্লা-হিল্লাযী আত্ব’আমানী হা-যা অরাযাক্বানীহি মিন গাইরি হাওলিম মিন্নী অলা ক্বুউওয়াহ।

    অর্থঃ সেই আল্লাহর যাবতীয় প্রশংসা যিনি আমাকে ইহা খাওয়ালেন এবং জীবিকা দান করলেন, আমার কোন চেষ্টা ও সামর্থ্য ছাড়াই। এই দু‘আটি পাঠ করলে পূর্বেকার গোনাহ মাফ হয়ে যায়। [তিরমিযী ৩/১৫৯]

  5. اَللّٰهُمَّ أَطْعَمْتَ وَأَسْقَيْتَ وَأَغْنَيْتَ وَأَقْنَيْتَ وَهَدَيْتَ وَأَحْيَيْتَ، فَلَكَ الْحَمْدُ عَلٰى مَا أَعْطَيْتَ.

  6. উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা আত্ব’আমতা অআসক্বাইতা অআগনাইতা অআক্বনাইতা অহাদাইতা অআহয়্যাইত। ফালাকাল হামদু আলা মা আ’ত্বাইত।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি খাওয়ালে, পান করালে, অভাবমুক্ত করলে, তৃপ্ত করলে, হিদায়াত করলে এবং জীবিত করলে। সুতরাং তুমি যা কিছু দান করেছ, তার উপর তোমারই সমুদয় প্রশংসা।

  7. اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ غَيْرَ مَكْفِيٍّ وَلَا مُوَدَّعٍ وَلَا مُسْتَغْنًى عَنْهُ رَبَّنَا.

  8. উচ্চারণঃ আলহামদু লিল্লা-হি হামদান কাসীরান ত্বাইয়্যিবাম মুবা-রাকান ফীহি গায়রা মাকফিয়্যিন অলা মুওয়াদ্দাইন অলা মুস্তাগনান আনহু রাব্বানা।

    অর্থঃ আল্লাহর জন্য অগণিত পবিত্র ও বর্কতপূর্ণ প্রশংসা। অকুণ্ঠ, নিরবচ্ছিন্ন, প্রয়োজন-সাপেক্ষে প্রশংসা। হে আমাদের প্রতিপালক। [বুখারী ৬/২১৪, তিরমিযী ৫/৫০৭]

    ‘সাক্বানা অজাআলানা মুসলিমীন’ এর হাদীসটি যয়ীফ। [যঈফ তিরমিযী ৪৪৮ পৃঃ]

অপরের নিকট পানাহার করলে তার জন্য দু‘আ

  1. اَللّٰهُمَّ بَارِكْ لَهُمْ فِيْمَا رَزَقْتَهُمْ وَغْفِرْ لَهُمْ وَارْحَمْهُمْ.

  2. উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা বা-রিক লাহুম ফীমা রাযাক্বতাহুম অগফিরলাহুম অরহামহুম।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! ওদেরকে তুমি যা দান করেছ, তাতে ওদের জন্য বর্কত দান কর। ওদেরকে ক্ষমা করে দাও এবং ওদের প্রতি রহম কর। [মুসলিম ৩/১৬১৫]

  3. أَكَلَ طَعَامَكُمُ الْأَبْرَارُ وَصَلَّتْ عَلَيْكُمُ الْمَلَائِكَةُ وَأَفْطَرَ عِنْدَكُمُ الصَّائِمُونَ.

  4. উচ্চারণঃ আকালা ত্বা‘আ-মাকুমুল আবরা-র, অস্বাল্লাত ‘আলাইকুমুল মালা-ইকাহ, অ আফত্বারা ‘ইনদাকুমুস্ব স্বা-য়িমূন।

    অর্থঃ সজ্জনরা আপনাদের খাবার খাক, মালাইকাগণ আপনাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন এবং আপনাদের নিকট রোযাদাররা ইফতার করুক। [মুসলিম, আহমাদ ৩/১৩৮, বাইহাক্বী ৭/২৮৭]

কেউ কিছু পান করালে তার জন্য দু‘আ

اَللّٰهُمَّ أَطْعِمْ مَنْ أَطْعَمَنِي وَاسْقِ مَنْ سَقَانِي.

উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা আত্ব‘ইম মান ‘আত্বআমানী অসক্বি মান সাক্বা-নী। অর্থঃ হে আল্লাহ! তাকে তুমি খাওয়াও, যে আমাকে খাওয়াল এবং তাকে পান করাও, যে আমাকে পান করাল। [মুসলিম ৩/১২৬]

সিয়াম ইফতারের দু‘আ

খাওয়ার পূর্বের দু‘আ ‘বিসমিল্লাহ’ বলে ইফতার করতে হয়।

সিয়াম ইফতারের সময় দু‘আ কবুল হওয়ার ব্যাপারে বর্ণিত হাদীস শুদ্ধ নয়। [ইরওয়াউল গালীল ৯২১নং] অনুরূপ এই সময় ‘আল্লা-হুম্মা লাকা সুমতু অআলা রিযক্বিকা আফত্বারতু’ দু‘আর হাদীস যয়ীফ। [যয়ীফ আবু দাঊদ ২৩৪ পৃ]

ইফতার শেষে নিম্নের দু‘আ পঠনীয়ঃ

ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ وَثَبَبَ الْأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللهُ.

উচ্চারণঃ যাহাবায যামা-উ অবতাল্লাতিল ‘উরুকু অসাবাতাল আজরু ইনশা-আল্লাহ। অর্থঃ পিপাসা দূরীভূত হল, শিরা-উপশিরা সতেজ হল এবং আল্লাহ চাহেন তো সওয়াব সাব্যস্ত হল। [আবু দাঊদ ২৩০৬, সহীহুল জামে ৮/২০৯]

অপরের নিকট রোযা ইফতার করলে

أَفْطَرَ عِنْدَكُمْ الصَّائِمُونَ، وَأَكَلَ طَعَامَكُمْ الْأَبْرَارُ وَصَلَّتْ عَلَيْكُمُ الْمَلَائِكَةُ.

উচ্চারণঃ আফত্বারা ইনদাকুমুস্ব স্বা-য়িমুন, অ আকালা ত্বাআ-মাকুমুল আবরা-র, অস্বাল্লাত আলাইকুমুল মালা-ইকাহ।

অর্থঃ আপনাদের নিকট রোযাদাররা ইফতার করুক, সজ্জনরা আপনাদের খাবার খাক এবং ফিরিস্তাবর্গ আপনাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। [আবু দাঊদ ৩/৩৬৭]

রোযাদারকে দিনে কেউ খেতে ডাকলে তার জন্য দু‘আ করবে। [মুসলিম ২/১০৫৪] কেউ গালি দিলে বলবে আমি রোযা রেখেছি। আমি রোযা রেখেছি। [বুখারী ৪/১০৬, মুসলিম ২/৮০৬]

প্রথম দিনের চাঁদ দেখলে

اَللّٰهُمَّ أَهِلَّهُ عَلَيْنَا بِالْيُمْنِ وَالْإِيمَانِ وَالسَّلَامَةِ وَالْإِسْلَامِ، رَبِّي وَرَبُّكَ الله.

উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা আহিল্লাহি, ‘আলাইনা বিলয়্যুমনি অলঈমা-নি অসসালা-মাতি অলইসলা-ম, রাব্বী অরাব্বুকাল্লা-হ।

অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি ঐ চাঁদকে আমাদের উপর উদিত কর বর্কত, ঈমান, শান্তি ও ইসলামের সাথে। (হে চাঁদ) আমার ও তোমার প্রতিপালক আল্লাহ। [তিরমিযী ৩/১৫৭, সিলসিলা সহীহাহ ১৮১ নং]

নতুন ফল-ফসল দেখলে

اَللّٰهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي ثَمَرِنَا وَبَارِكْ لَنَا فِي مَدِينَتِنَا وَ بَارِكْ لَنَا فِي صَاعِنَا وَبَارِكْ لَنَا فِي مُدِّنَا.

উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা বা-রিক লানা ফী সামারিনা, অবারিক লানা ফী মাদীনাতিনা, অবা-রিক লানা ফী সা-‘ইনা, অব-রিক লানা ফী মুদ্দিনা।

অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি আমাদের জন্য আমাদের ফল-ফসলে, শহরে ও পরিমাপে বর্কত দান কর।

হাঁচির সময়

যে হাঁচি দেবে সে সশব্দে বলবে, اَلْحَمْدُ الِلّٰهِ ‘আলহামদু লিল্লা-হ’। আর যে তার ‘আলহামদু লিল্লাহ’ বলা শুনবে, সে তার জন্য দু‘আ করবে, বলবে, يَرْحَمُكَ اللهِ ‘য়্যারহামুকাল্লা-হ’ অর্থঃ আল্লাহ তোমাকে রহম করুন। অতঃপর যে হাঁচি দিয়েছে সে নিজের জন্য দু‘আ করতে শুনলে ঐ ব্যক্তির জন্যও (কাফির হলেও) দু‘আ করবে, বলবে, ايَهْدِيكُمُ اللهُ وَيُصْلِحْ بَالَكُمْ উচ্চারণঃ য়্যাহদীকুমুল্লা-হু অয়্যুসলিহ বা-লাকুম। অর্থঃ আল্লাহ তোমাদেরকে সৎপথ দেখান এবং তোমাদের অন্তর সংশোধন করেন। [বুখারী ৭/১২৫]

তিন বরের অধিক হাঁচি হলে আর উত্তর দিতে হয় না। [আবু দাঊদ ৫০৩৪ নং]

সালাতের মধ্যে হাঁচি হলে বলবেঃ اَلْحَمْدُ الِلّٰهِ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُّبَارَكًا فِيهِ مُبَارَكًا عَلَيْهِ كَمَا يُحِبُّ رَبُّنَا وَيَرْضِ. উচ্চারণঃ আলহামদু লিল্লা-হি হামদান কাসীরান ত্বাইয়িবাম মুবা-রাকান ফীহি মুবা-রাকান আলাইহি কামা য়্যুহিব্বুনা অ য়্যারয্বা। অর্থঃ পূর্বে উল্লেখিত হয়েছে। [আবু দাঊদ, তিরমিযী, নাসাঈ, মিশকাত ৯৯২ নং]

জুমআহ, বিবাহ ও অন্যান্য সময়ে খুতবাহ

إِنَّ الْحَمْدَ لِلّٰهِ نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ وَنَعُوذُ بِاللهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَسَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا، مَنْ يَّهْدِهِ اللهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُّضْلِلْ فَلَا هَادِىَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَحْدَه لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ. ﴿يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمْ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِّنْ نَّفْسٍ وَّاحِدَةٍ وَّخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَّنِسَاءً، وَاتَّقُوا اللهَ الَّذِي تَسَآ ءَلُونَ بِهِ وَلْأَرْحَامَ، إِنَّ اللهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا﴾ ﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ﴾ ﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا، يُّصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُّطِعِ اللهَ وَرَسُولَهُ فَقَذْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا﴾

উচ্চারণঃ ইন্নাল হামদা লিল্লা-হি নাহমাদুহু অনাস্তাঈনুহু অনাস্তাগফিরুহু, অনা‘ঊযু বিল্লা-হি মিন শুরূরি আনফুসিনা অ সাইয়্যিআ-তি আ’মা-লিনা। মাঁই য়্যাহদিহিল্লা-হু ফালা মুয্বিল্লা লাহু অমাঁই য়্যুয্বলিল ফালা হা-দিয়া লাহ। অ আশহাদু আল লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু অহদাহু লা শারীকা লাহ, অআশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু অরাসূলুহ।

এর পর সূরা নিসার ১ নং আয়াত, সূরা আ-লে ইমরানের ১০২ নং আয়াত, এবং সূরা আহযাবের ৭০-৭১ নং আয়াত।

অর্থঃ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আল্লাহর নিকট আমরা আমাদের আত্মা এবং আমাদের মন্দ কর্মের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথ দেখান তাকে পথ ভ্রষ্টকারী কেউ নাই এবং তিনি যাকে ভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নাই। আমি সাক্ষি দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য মা’বূদ নেই। তিনি একক, তাঁর কোন অংশীদার নেই। আর আরো সাক্ষি দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সাঃ) তাঁর দাস ও রসূল।

অর্থঃ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আল্লাহর নিকট আমরা আমাদের আত্মা এবং আমাদের মন্দ কর্মের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথ দেখান তাকে পথ ভ্রষ্টকারী কেউ নাই এবং তিনি যাকে ভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নাই। আমি সাক্ষি দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য মা’বূদ নেই। তিনি একক, তাঁর কোন অংশীদার নেই। আর আরো সাক্ষি দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সাঃ) তাঁর দাস ও রসূল।

“হে মানব! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন ও তা থেকে তার সঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন এবং উভয় থেকে বহু নর-নারী (পৃথিবীতে) বিস্তার করেছেন, এবং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর যার নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচনা কর। আর ভয় কর জ্ঞাতি-বন্ধন ছিন্ন করাকে। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের উপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।”

“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় কর এবং মুসলমান (আত্মসমর্পণকারী) না হয়ে অবশ্যই মরো না।”

“হে মু’মিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল, তাহলে তিনি তোমাদের কর্মসমূহকে ত্রুটিমুক্ত করবেন এবং তোমাদের পাপ ক্ষমা করবেন। যে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করবে সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করবে।” [আবু দাঊদ ২১১৮, তিরমিযী ১১০৫]

বরকনের জন্য দু‘আ

বরকনের জন্য প্রত্যেকেই একাকী বরকে উদ্দেশ্য করে এই দু‘আ করবেঃ

بَارَكَ اللهُ لَكَ وَبَارَكَ عَلَيْكَ وَجَمَعَ بَيْنَكُمَا فِي خَيْرٍ.

উচ্চারণঃ বা-রাকাল্লা-হু লাকা অবা-রাকা ‘আলইকা অজামা‘আ বাইনাকুমা ফী খায়র। অর্থঃ আল্লাহ তোমাদের জন্য (এই বিবাহকে) বর্কতপূর্ণ করুন, তোমার উপর বর্কত বর্ষণ করুন এবং তোমাদের উভয়কে কল্যাণে মিলিত রাখুন। [সহীহ তিরমিযী ১/৩১৬]

বাসরের দু‘আ

প্রথম সাক্ষাতে (দুই রাকআত সালাত আদায়ের পর) স্ত্রীর ললাটে হাত রেখে নিম্নের দু‘আ পড়তে হয়।

اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا وَخَيْرَ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ.

উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকা খাইরাহা অখাইরা মা জাবালতাহা ‘আলাইহ, অ’আঊযু বিকা মিন শার্রিহা অশার্রি মা জাবালতাহা ‘আলাইহ। অর্থঃ হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার নিকট এর কল্যাণ এবং যে প্রকৃতির উপর তুমি একে সৃষ্টি করেছ তার কল্যাণ প্রার্থনা করছি। আর তোমার নিকট এর অকল্যাণ এবং যে প্রকৃতির উপর তুমি একে সৃষ্টি করেছ তার অকল্যাণ হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। [আবু দাঊদ ২/২৪৮, সহীহ ইবনে মাজাহ ১/৩২৪]

সহবাসের পূর্বে দু‘আ

بِسْمِ اللهِ، اَللّٰهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا.

উচ্চারণঃ বিসমিল্লা-হ, আল্লা-হুম্মা জান্নিবনাশ শাইত্বানা অজান্নিবিশ শায়ত্বানা মা রাযাক্বতানা।

অর্থঃ আমি আল্লাহর নাম নিয়ে শুরু করছি। হে আল্লাহ! তুমি শয়তানকে আমাদের নিকট থেকে দূরে রাখা এবং আমাদেরকে যে (সন্তান) দান করবে তার থেকেও শয়তানকে দূরে রাখ।

এই সহবাসে সন্তান জন্ম নিলে ঐ সন্তানকে শয়তান কখনো ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে না। [বুখারী ৬/১৪১, মুসলিম ২/১০২৮]

সন্তান ভূমিষ্ট হলে

শিশু (ছেলে অথবা মেয়ে) ভূমিষ্ট হলে তার কানে সালাতের আযান দেয়া সুন্নাত। [তিরমিযী ১৫১৪, আবু দাঊদ ১৫০৫]

ইকামত দেওয়ার ব্যাপারে বর্ণিত হাদীসটি জাল। [সিলসিলা যঈফাহ ৩২১নং]

ক্রোধের সময়

‘আঊযু বিল্লাহি মিনাশ শাইত্বানির রাজীম’ পড়লে ক্রোধ ঠাণ্ডা হয়ে যায়। [বুখারী ১০/৩৮৯, মুসলিম ২৬১০] ক্রোধ এলে যদি কেউ দাঁড়িয়ে থাকে, তবে সে বসে যাবে এবং বসে থাকলে শুয়ে যাবে। [আবু দাঊদ ৪৭৮২, সহীহুল জামে ৭০৭]

মজলিস ও জালসার দু‘আ

যে মজলিসে বা বৈঠকে আল্লাহর যিকর (স্মরণ) হয় না সে মজলিসের লোক সকল মৃত গাধার দেহের উপর সমবেত হয় এবং তাদের আক্ষেপ হবে। [আহমদ ২/৩৮৯, হাকেম ১/৪৯২]

  1. মজলিস থেকে উঠে যাওয়ার পূর্বে প্রত্যেকের জন্যই নিম্নের দু‘আ পাঠ করা সুন্নাত।
  2. اللّٰهُمَّ اقْسِمْ لَنَا مِنْ خَشْيَتِكَ مَا تَحُولُ بِهِ بَيْنَنَا وَبَيْنَ مَعَاصِيكَ، وَمِنْ طَاعَتِكَ مَا تُبَلِّغُنَا بِهِ جَنَّتَكَ، وَمِنَ الْيَقِينِ مَا تُهَوِّنُ بِهِ عَلَيْنَا مَصَائِبَ الدُّنْيَا، اَللّٰهُمَّ مَتِّعْنَا بِأَسْمَا عِنَا وَأَبْصَارِنَا وَقُوَّتِنَا مَا أَحْيَيْتَنَا، وَجْعَلْهُ الْوَارِثَ مِنَّا، وَجْعَلْ ثَارَنَا عَلٰى مَنْ ظَلَمَنَا، وَانْصُرْنَا عَلٰى مَنْ عَادَانَا، وَلَا تَجْعَلْ مُصِيبَتَنَا فِي دِينِنَا، وَلَا تَجْعَلِ الدُّنْيَا أَكْبَرَ هَمِّنَا وَلَا مَبْلَغَ عِلْمِنَا، وَلَا تُسَلِّطْ عَلَيْنَا مَنْ لَّا يَرْحَمُنَا.

    উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মাক্বসিম লানা মিন খাশয়্যাতিকা মা তাহুলু বিহী বাইনানা অবাইনা মা’আ-স্বীক, অমিন ত্বা-‘আতিকা মা তুবাল্লিগুনা বিহী জান্নাতাক, অমিনাল ইয়াক্বীনি মা তুহাউবিনু বিহী ‘আলাইনা মাসা-ইবাদ দুনয়্যা। আল্লা-হুম্মা মাত্তি’না বিআসমা-‘ইনা অ আবস্বা-রিনা, অক্বুউওয়াতিনা মা আহয়্যাইতানা, অজ’আলহুল ওয়া-রিসা মিন্না। অজ‘আল সা‘রানা ‘আলা মান যালামানা, অনসুরনা ‘আলা মান ‘আ-দা-না, অলা তাজ‘আল মুস্বীবাতানা ফী দীনিনা। অলা তাজ‘আলিদ্দুনয়্যা আকবা-রা হাম্মিনা অলা মাবলাগা ‘ইলমানা, অলা তুসাল্লিত ‘আলাইনা মাল লা য়্যারহামুনা।

    অর্থঃ হে আল্লাহ! আমাদের জন্য তোমার ভীতি জাগ্রত কর, যার দ্বারা তুমি আমাদের ও তোমার অবাধ্যদের মাঝে অন্তরাল সৃষ্টি কর। তোমার আনুগত্য দান কর যার দ্বারা তুমি আমাদেরকে তোমার জান্নাতে পৌঁছাও। আমাদের জন্য এমন একীন (প্রত্যয়) দান কর, যার দ্বারা তুমি আমাদের উপর দুনিয়ার বিপদ সমূহকে সহজ করে দাও। হে আল্লাহ! তুমি আমাদের কর্ণ, চক্ষু ও শক্তি দ্বারা যতদিন আমাদেরকে জীবিত রাখ, ততদিন আমাদেরকে উপকৃত কর এবং আতা আমাদের মৃত্যু পর্যন্ত অবশিষ্ট রাখ। যারা আমাদের উপর অত্যাচার করেছে তাদের নিকট আমাদের প্রতিশোধ নাও। যারা আমাদের সাথে শত্রুতা করেছে তাদের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য কর। আমাদের দ্বীনে আমাদেরকে বিপদগ্রস্ত করো না। দুনিয়াকে আমাদের বৃহত্তম চিন্তার বিষয় এবং আমাদের জ্ঞানের শেষ সীমা করো না, আর যারা আমাদের উপর রহম করে না, তাদেরকে আমাদের উপর ক্ষমতাসীন করো না। [তিরমিযী ৩৪৯৭ নং]

  3. رَبِّ اغْفِرْلِي وَتُبْ عَلَيَّ، إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الْغَفُورُ.

  4. উচ্চারণঃ রাব্বিগফিরলী অতুব ‘আলাইয়্যা, ইন্নাকা আন্তাত তাওয়া-বুল গাফুর। অর্থঃ হে আমাদের প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা কর এবং আমার তওবা গ্রহণ কর। নিশ্চয় তুমি তওবা গ্রহণকারী ক্ষমাশীল। [তিরমিযী ৩/১৫৩, ইবনে মাজাহ ২/৩২১]

মজলিস ও জালসার শেষে দু‘আ

মজলিসে বৈঠক শেষে নিম্নের দু‘আ পাঠ করতে হয়।

سُبْحَانَكَ اللّٰهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ.

উচ্চারণঃ সুবহা-নাকাল্লা-হুম্মা অবিহামদিকা আশহাদু আল্লা ইলা-হা ইল্লা আন্তা আস্তাগফিরুকা অ আতূবু ইলাইক।

অর্থঃ হে আল্লাহ! তোমার প্রশংসার সাথে তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করি। আমি সাক্ষি দিচ্ছি যে, তুমি ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই। আমি তোমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি। এবং তোমার দিকে তাওবা করছি। [তিরমিযী ৩/১৫৩]

দু‘আর বদলে দু‘আ

যদি কেহ আপনাকে দু‘আ করে বলে, ‘আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন’। তাহলে আপনিও তার জওয়াবে বলুন ‘এবং আপনাকেও’। [মুসলিম, আহমাদ ৫/৮২]

কেউ যদি আপনাকে বলে, ‘আমি আপনাকে আল্লাহর ওয়াস্তে ভালোবাসি’। তাহলে আপনিও তার উত্তরে বলুন, ‘যার ওয়াস্তে আপনি আমাকে ভালোবাসেন তিনি আপনাকেও ভালোবাসুন’। [আবু দাঊদ ৪/৩৩৩]

কারো প্রশংসা করতে হলে

কারো সার্টিফিাই বা প্রশংসা করতে হলে এইরূপ বলতে হয়, ‘অমুককে আমি এই মনে করি এবং আল্লাহই তার হিসাব গ্রহণকারী। আর আল্লাহর তকদির ও জ্ঞানের উপর কারো প্রশংসা করি না। যেহেতু পরিণাম ও গুপ্ত বিষয় তো আল্লাহই জানেন, আমি ওকে এই মনে করি…….’।

অতঃপর জানা বিষয়ে তার প্রশংসা করবে। [মুসলিম ৪/২২৯৬]

কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে তার জন্য দু‘আ

اَللّٰهُمَّ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ فَأَيُّمَا رَجُلٍ مِّنَ الْمُسْلِمِينَ سَبَبْتُهُ أَوْ لَعَنْتُهُ أَوْ جَلَدْتُّهُ فَاجَعَلْهَا لَهُ زَكَاةً وَّرَحْمَةً.

উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা ইন্নামা আনা বাশারুন ফাআইয়্যুমা রাজুলিন মিনাল মুসলিমীনা সাবাবতুহু আউ লাআ’নতুহু আউ জালাত্তুহু ফাজ‘আলহা লাহু যাকা-তাঁউ অরাহমাহ।

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি একজন মানুষ মাত্র। তাই মুসলিমদের যাকেই আমি গালি দিয়েছি বা অভিশাপ করেছি বা চাবুক মেরেছি তার জন্য তা পবিত্রতা ও রহমত বানিয়ে দাও। [মুসলিম ২৬০১]

কেউ অর্থ দিয়ে সাহায্য করতে চাইলে

بَارَكَ اللهُ فِي أَهْلِكَ وَمَالِكَ.

উচ্চারণঃ বা-রাকাল্লা-হু ফী আহলিকা অমা-লিক। অর্থঃ আল্লাহ তোমার পরিবার ও মালে বর্কত দিন। [বুখারী ৪/৮৮]

ঋণ পরিশোধ করলে

ঋণ পরিশোধকালে ঋণদাতার শুকরিয়া জ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে নিম্নের দু‘আ বলতে হয়ঃ

بَارَكَ اللهُ لَكَ فِي أَهْلِكَ وَمَالِكَ، إِنَّمَ جَزَاءُ السَّلَفِ الْحَمْدُ وَالْأَدَاءُ.

উচ্চারণঃ বা-রাকাল্লা-হু লাক ফী আহলিকা অমা-লিক, ইন্নামা জাযা-উস সালাফিল হামদু অলআদা’।

অর্থঃ আল্লাহ তোমার পরিবার ও মালে বর্কত দান করুন। ঋণের প্রতিদান তো প্রশংসা ও আদায়। [ইবনে মাজাহ ২/৫৫]

কেউ কোন উপকার বা সাহায্য করলে কিংবা উপহার দিলে

কেউ কোন উপহার, উপকার বা সাহায্য করলে তার জন্য নিম্নের দু‘আ করতে হয়ঃ

  1. جَزَاكَ اللهُ خَيْرًا.

  2. উচ্চারণঃ জাযা-কাল্লা-হু খাইর। অর্থঃ আল্লাহ তোমাকে উত্তম প্রতিদান দিন। [তিরমিযী ২/২৫০]

  3. بَارَكَ اللهُ فِيكَ.

  4. উচ্চারণঃ বা-রাকাল্লা-হু ফীক। অর্থঃ আল্লাহ আপনার মাঝে বর্কত দিন। এর উত্তরে দাতাকেও বলা উচিতঃ

  5. وَفِيكَ بَارَكَ اللهُ.

  6. উচ্চারণঃ অফিকা বা-রাকাল্লা-হ। অর্থঃ আপনার মাঝেও আল্লাহ বর্কত দিন। [ইবনুস সুন্নী]

কোন পশু ক্রয় কালে

তার কপালের কেশগুচ্ছ ধারে পাঠ করবেঃ

اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا وَخَيْرَ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ.

উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকা খাইরাহা অখাইরা মা জাবালতাহা ‘আলাইহ, অ’আঊযু বিকা মিন শার্রিহা অশার্রি মা জাবালতাহা ‘আলাইহ।

অর্থঃ হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার নিকট এর কল্যাণ এবং যে প্রকৃতির উপর তুমি একে সৃষ্টি করেছ তার কল্যাণ প্রার্থনা করছি। আর তোমার নিকট এর অকল্যাণ এবং যে প্রকৃতির উপর তুমি একে সৃষ্টি করেছ তার অকল্যাণ হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। [আবু দাঊদ ২/২৪৮, সহীহ ইবনে মাজাহ ১/৩২৪]

যানবাহনে চড়লে

﴿سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هٰذَا وَمَا كُنَّا لَه مُقْرِنِينَ، وَإِنَّا إِلٰى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ﴾

অর্থঃ পবিত্র ও মহান তিনি যিনি একে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন, অথচ আমরা একে বশীভূত করতে সামর্থ ছিলাম না। আমরা আমাদের প্রতিপালকের দিকে অবশ্যই প্রত্যাবর্তন করব। [কুঃ ৪৩: ১৩-১৪] অতঃপর ‘আলহামদু লিল্লা-হ’ ৩ বার। ‘আল্লাহু আকবার’ ৩ বার পড়ে নিম্নের দু‘আ বলবেঃ

سُبْحَانَكَ اللّٰهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِى، فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إلَّا أَنْتَ.

উচ্চারণঃ সুবহা-নাকাল্লা-হুম্মা ইন্নী যালামতু নাফসী ফাগফির লী, ফাইন্নাহু লা য়্যাগফিরুয যুনূবা ইল্লা আন্ত।

অর্থঃ তুমি পবিত্র হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি নিজের প্রতি যুলুম করেছি অতএব তুমি আমাকে মাফ করে দাও। যেহেতু তুমি ছাড়া আর কেউ গোনাহ মাফ করতে পারে না। [আবূ দাঊদ ৩/৩৪, তিরমিযী ৩/১৫৬]

প্রকাশ থাকে যে, জলজাহাজে বা নৌকায় চড়ার প্রচলিত দু‘আর হাদীসটি যঈফ।

সফরে বের হওয়ার সময়

সফরে বের হওয়ার সময় যানবাহনে চড়ে নিম্নের দু‘আগুলি পঠনীয়। আল্লাহু আকবার ৩ বার , অতঃপর যানবাহনে চড়ার ১ নং দু‘আ ‘সুবহানাল্লাযী—–‘ পাঠ করে এই দু‘আ পড়তে হয়।

اَللّٰهُمَّ إِنَّا نَسْأَلُكَ فِي سَفَرِنَا هٰذَا الْبِرَّ وَالتَّقْوٰى، وَمِنَ الْعَمَلِ مَا تَرْضٰ. اَللّٰهُمَّ هَوِّنْ عَلَيْنَا سَفَرَنَا هٰذَا وَاطْوِ عَنَّا بُعْدَهُ، اللّٰهُمَّ أَنْتَ الصَّاحِبُ فِي السَّفَرِ وَالْخَلِيفَةُ فِي الْأَهْلِ، اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ وَعْثَاءِ السَّفَرِ وَكَآبَةِ الْمَنْظَرِ وَسُوءِ الْمُنْقَلَبِ فِي الْمَالِ وَالْأَهْلِ.

উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা ইন্না নাসআলুকা ফী সাফারিনা হা-যাল বির্রা অততাক্বওয়া অমিনাল ‘আমালি মা তারয্বা। আল্লা-হুম্মা হাউবিন আলাইনা সাফারানা হা-যা অত্ববি আন্না বু’দাহ। আল্লা-হুম্মা আন্তাস স্বা-হিবু ফিসসাফারি অলখালীফাতু ফিলআহল। আল্লাহুম্মা ইন্নি আঊযু বিকা মিন অ’সা-ইস সাফারি অকাআ-বাতিল মানযারি অসূইল মুনক্বালাবি ফিলমা-লি অলআহল।

অর্থঃ হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমরা আমাদের এই সফরে তোমার নিকট পুণ্য, সংযম, এবং সেই আমল প্রার্থনা করছি যাতে তুমি সন্তুষ্ট হও। হে আল্লাহ! তুমি আমাদের জন্য এই সফরকে সহজ করে দাও এবং এর দূরত্বকে সঙ্কুচিত করে দাও। হে আল্লাহ! তুমিই এই সফরের সাথি এবং পরিবারের প্রতিনিধিও তুমিই। হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার নিকট সফরের কষ্ট, মর্মান্তিক দৃশ্য এবং মালধন ও পরিবারের মন্দ প্রত্যাবর্তন থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। [মুসলিম ২/৯৯৮]

সফরে বের হওয়ার পূর্বে ২ রাকআত সালাত আদায় করা মুস্তাহাব। [সিঃ সহীহাহ ১৩২৩ নং]

Page 2

Dua Jikir Jhar-Fuk

Page 2

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

© Dawah wa Tablig is the proparty of Md. Shamsul Alam since 2013