Dawah wa Tablig Islamic Website

Help Line = Mob no. +8801783385346 :: Email Address = shalampb@gmail.com

সহীহ বুখারী [১ থেকে ৪ অধ্যায় পর্যন্ত। হাদীস ১ থেকে ২৪৭ পর্যন্ত]

INDEX

সূচী-পত্রে ফিরে যাও

Web Page 1: Kitabu Badul Wahie-1 to Kitabul Wujue-4

  • كِتَابُ بَدْءِ الْوَحْىِ || ওহীর সূচনা অধ্যায় – ১
    1. পরিচ্ছদ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর প্রতি কিভাবে ওহী শুরু হয়েছিল : হাঃ নং ১-৭
  • كِتَابُ الْإِيمَان || কিতাবুল ঈমান অধ্যায় – ২
    1. পরিচ্ছদ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর বাণীঃ ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি : হাঃ নং ৮
    2. পরিচ্ছদ ঈমানের বিষয় সমূহ : হাঃ নং ৯
    3. পরিচ্ছদ প্রকৃত মুসলিম সে-ই, যার জিহবা ও হাত থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে : হাঃ নং ১০
    4. পরিচ্ছদ ইসলামে কোন জিনিসটি উত্তম : হাঃ নং ১১
    5. পরিচ্ছদ খাবার খাওয়ানো ইঃ অন্তর্ভুক্ত: হাঃ নং ১২
    6. পরিচ্ছদ নিজের জন্য যা পসন্দনীয়, তা তোমার ভাইয়ের জন্যও পসন্দ করা ঈমানের অংশ : হাঃ নং ১৩
    7. পরিচ্ছদ রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে ভালবাসা ঈমানের অংশ। : হাঃ নং ১৪-১৫
    8. পরিচ্ছদ ঈমানের স্বাদ। : হাঃ নং ১৬
    9. পরিচ্ছদ আনসারকে ভালবাসা ঈমানের লক্ষণ, শিরক ও হারাম কাজ না করার বয়াত : হাঃ নং ১৭-১৮
    10. পরিচ্ছদ ফিতনা থেকে পলায়ন দীনের অংশ : হাঃ নং ১৯
    11. পরিচ্ছদ নবী (সাঃ)-এর বাণীঃ ‘আমি তোমাদের তুলনায় আল্লাহ সুবহানাহু তা’আলা সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী’ : হাঃ নং ২০
    12. পরিচ্ছদ কুফুরীতে ফিরে যাওয়াকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হবার ন্যায় অপসন্দ করা ঈমানের অংগ : হাঃ নং ২১
    13. পরিচ্ছদ আমলের দিক থেকে ঈমানদারদের শ্রেষ্ঠত্বের স্তরভেদ : হাঃ নং ২৩-২৩
    14. পরিচ্ছদ লজ্জা ঈমানের অংগ : হাঃ নং ২৪
    15. পরিচ্ছদ যারা তাওবা করে, সালাত কায়েম করে ও যাকাত দেয়, তবে তাদের পথ ছেড়ে দেবে। : হাঃ নং ২৫
    16. পরিচ্ছদ যে বলে, ‘ঈমান আমলেরই নাম’ : হাঃ নং ২৬
    17. পরিচ্ছদ ইসলাম গ্রহণ যদি খাঁটি না হয়……. : হাঃ নং ২৭
    18. পরিচ্ছদ সালামের প্রচলন করা ইসলামের অন্তর্ভুক্ত : হাঃ নং ২৮
    19. পরিচ্ছদ স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞতা- জাহান্নামে শাস্তির কারণ : হাঃ নং ২৯
    20. পরিচ্ছদ পাপ কাজ জাহিলী যুগের স্বভাব- একমাত্র শিরক পাপ ছাড়া অন্য কাহাকেও কাফির বলা যাবে না : হাঃ নং ৩০
    21. পরিচ্ছদ মু’মিনদের দু’দল দন্দ্বে লিপ্ত : হাঃ নং ৩১
    22. পরিচ্ছদ যুলুমের প্রকারভেদ : হাঃ নং ৩২
    23. পরিচ্ছদ মুনাফিকির আলামত : হাঃ নং ৩৩-৩৪
    24. পরিচ্ছদ লায়লাতুল কদরে ইবাদতে রাত্রি জাগরণ ঈমানের অন্তর্ভুক্ত : হাঃ নং ৩৫
    25. পরিচ্ছদ জিহাদ ঈমানের অন্তর্ভুক্ত : হাঃ নং ৩৬
    26. পরিচ্ছদ রমযানের রাতে নফল ইবাদত ঈমানের অংগ : হাঃ নং ৩৭
    27. পরিচ্ছদ সওয়াবের আশায় রমযানের সিয়াম পালন ঈমানের অংগ : হাঃ নং ৩৮
    28. পরিচ্ছদ দীন সহজ : হাঃ নং ৩৯
    29. পরিচ্ছদ সালাত ঈমানের অন্তর্ভুক্ত : হাঃ নং ৪০
    30. পরিচ্ছদ উত্তমরূপে ইসলাম গ্রহণ : হাঃ নং ৪১-৪২
    31. পরিচ্ছদ আল্লাহর তা’আলার কাছে সবচাইতে পসন্দনীয় আমল সেটাই যা নিয়মিত করা হয় : হাঃ নং ৪৩
    32. পরিচ্ছদ ঈমানের বাড়া-কমা : হাঃ নং ৪৪-৪৫
    33. পরিচ্ছদ যাকাত ইসলামের অঙ্গ : হাঃ নং ৪৬
    34. পরিচ্ছদ জানাযার অনুগমন ঈমানের অঙ্গ : হাঃ নং ৪৭
    35. পরিচ্ছদ অজ্ঞাতসারে মু’মিনের আমল নষ্ট হওয়ার আশংকা : হাঃ নং ৪৮-৪৯
    36. পরিচ্ছদ রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর কাছে ঈমান, ইসলাম : হাঃ নং ৫০-৫১
    37. পরিচ্ছদ দীন রক্ষাকারীর ফযীলত : হাঃ নং ৫২
    38. পরিচ্ছদ গনীমতের পঞ্চমাংশ প্রদান ঈমানের অন্তর্ভুক্ত : হাঃ নং ৫৩
    39. পরিচ্ছদ আমল নিয়ত ও সওয়াবের আশা অনুযায়ী : হাঃ নং ৫৪-৫৬
    40. পরিচ্ছদ নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম এর বাণীঃ দ্বীন হল কল্যাণ কামনা করা : হাঃ নং ৫৭-৫৮
  • كِتَابُ الْعِلْم || ‘ইলম অধ্যায় – ৩
    1. পরিচ্ছদ‘ইলমের ফযীলত
    2. পরিচ্ছদআলোচনায় মশগুল অবস্থায় ইলম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা…. : হাঃ নং ৫৯
    3. পরিচ্ছদ উচ্চস্বরে ‘ইলমের আলোচনা : হাঃ নং ৬০
    4. পরিচ্ছদ মুহাদ্দিসের উক্তিঃ হাদ্দাসানা, আখবারনা ও আম্বা‘আনা : হাঃ নং ৬১
    5. পরিচ্ছদ ছাত্রদের জ্ঞান পরীক্ষার জন্য উস্তাদের কোন বিষয় উত্থাপন করা : হাঃ নং ৬২
    6. পরিচ্ছদ হে আমার রব! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দাও। : হাঃ নং ৬৩
    7. পরিচ্ছদ শাইখ কর্তৃক হাদীসের কিতাব প্রদান এবং ‘আলিম কর্তৃক ‘ইলমের কথা লিখে বিভিন্ন দেশে প্রেরণ। : হাঃ নং ৬৪-৬৫
    8. পরিচ্ছদ শাইখ কর্তৃক হাদীসের কিতাব প্রদান এবং ‘আলিম কর্তৃক ‘ইলমের কথা লিখে বিভিন্ন দেশে প্রেরণ। : হাঃ নং ৬৬
    9. পরিচ্ছদ নবী করীম (সাঃ) এর বানী, ‘অনেক সময় মুবাল্লিগ (যারা কুরআন ও সহীহ হাদীস মানুষের কাছে পৌঁছায়) (রাসূলুল্লাহ সাঃ এর নিকট উপস্থিত) শ্রোতা থেকে বেশী স্বরণ শক্তি সম্পন্ন হতে পারে’। : হাঃ নং ৬৭
    10. পরিচ্ছদ কথা ও আমলের পূর্বে ইলম জরুরী
    11. পরিচ্ছদ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ওয়ায-নসীহতে, ইলম শিক্ষাদানে উপযুক্ত সময়ের প্রতি লক্ষ্য রাখতেন। : হাঃ নং ৬৮-৬৯
    12. পরিচ্ছদ ইলম শিক্ষার্থীদের জন্য দিন নির্দিষ্ট করা। : হাঃ নং ৭০
    13. পরিচ্ছদ আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দীনের জ্ঞান দান করেন। : হাঃ নং ৭১
    14. পরিচ্ছদ ইলমের ক্ষেত্রে সঠিক অনুধাবন। : হাঃ নং ৭২
    15. পরিচ্ছদ ইল্‌ম ও হিকমতের ক্ষেত্রে সমতুল্য হওয়ার আগ্রহ। : হাঃ নং ৭৩
    16. পরিচ্ছদ সমুদ্রে খিয্‌র (‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে মূসা (‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর যাওয়া। : হাঃ নং ৭৪
    17. পরিচ্ছদ নবী (সাঃ) এর উক্তিঃ হে আল্লাহ! আপনি তাকে কিতাব শিক্ষা দিন। : হাঃ নং ৭৫
    18. পরিচ্ছদ বালকদের কোন বয়সে শোনা কথা গ্রহণীয় : হাঃ নং ৭৬-৭৭
    19. পরিচ্ছদ ইলম হাসিলের জন্য বের হওয়া : হাঃ নং ৭৮
    20. পরিচ্ছদ ইলম শিক্ষার্থী ও শিক্ষাদাতার ফযীলত : হাঃ নং ৭৯
    21. পরিচ্ছদ‘ইল্‌মের বিলুপ্তি ও মূর্খতার প্রসার। : হাঃ নং ৮০-৮১
    22. পরিচ্ছদ ইল্‌মের ফযীলত : হাঃ নং ৮২
    23. পরিচ্ছদ প্রাণী বা অন্য বাহনে আসীন অবস্থায় ফতোয়া দেয়া : হাঃ নং ৮৩
    24. পরিচ্ছদ হাত ও মাথার ইশারায় মাসআলার জওয়াব দান : হাঃ নং ৮৪-৮৬
    25. পরিচ্ছদ আবদুল কায়স গোত্রের প্রতিনিধি দলকে ঈমান ও ইসলামের হিফাযত : হাঃ নং ৮৭
    26. পরিচ্ছদ উদ্ভূত মাসআলার জন্য সফর…পরিজনদের শিক্ষা দান। : হাঃ নং ৮৮
    27. পরিচ্ছদ পালাক্রমে ইলম শিক্ষা করা। : হাঃ নং ৮৯
    28. পরিচ্ছদ অপছন্দনীয় কিছু দেখলে ওয়ায-নসীহত বা শিক্ষাদানের সময় রাগ করা- : হাঃ নং ৯০-৯২
    29. পরিচ্ছদ ইমাম বা মুহাদ্দিসের সামনে হাঁটু গেড়ে বসা। : হাঃ নং ৯৩
    30. পরিচ্ছদ ভালভাবে বুঝার জন্য কোন কথা তিনবার বলা : হাঃ নং ৯৪-৯৬
    31. পরিচ্ছদ আপন দাসী ও পরিবারবর্গকে শিক্ষা দান : হাঃ নং ৯৭
    32. পরিচ্ছদ আলিম কর্তৃক মহিলাদের নসীহত ও দ্বীনী ইলম শিক্ষা দান করা। : হাঃ নং ৯৮
    33. পরিচ্ছদ হাদীসের প্রতি আগ্রহ : হাঃ নং ৯৯
    34. পরিচ্ছদ কি ভাবে ইলম তুলে নেয়া হবে? : হাঃ নং ১০০
    35. পরিচ্ছদ ইল্‌ম শিক্ষার জন্য মহিলাদের ব্যাপারে কি আলাদা দিন নির্ধারণ করা যায়? : হাঃ নং ১০১-১০২
    36. পরিচ্ছদ কোন কথা শুনে না বুঝলে জানার জন্য পুনরায় জিজ্ঞাসা করা। : হাঃ নং ১০৩
    37. পরিচ্ছদ উপস্থিত ব্যক্তি অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে ইল্‌ম পৌঁছে দেবে ইবন আব্বাস (রাজিআল্লাহু আনহু) নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে হাদীস বর্ণনা করেন। : হাঃ নং ১০৪-৪০৫
    38. পরিচ্ছদ নবী (সাঃ) এর উপর মিথ্যারোপ করার গুনাহ : হাঃ নং ১০৬-১১০
    39. পরিচ্ছদ ইল্‌ম লিপিবদ্ধ করা : হাঃ নং ১১১-১১৪
    40. পরিচ্ছদ রাতে ইল্‌ম শিক্ষাদান এবং ওয়ায-নসীহত করা : হাঃ নং ১১৫
    41. পরিচ্ছদ রাতে ইলমের আলোচনা করা : হাঃ নং ১১৬-১১৭
    42. পরিচ্ছদ ইল্‌ম সুখস্থ করা : হাঃ নং ১১৮-১২০
    43. পরিচ্ছদ আলিমদের কথা শোনার জন্য লোকদের চুপ করানো : হাঃ নং ১২১
    44. পরিচ্ছদ আলিমের জন্য মুস্তাহাব এই যে, তাঁকে যখন প্রশ্ন করা হয়ঃ সবচাইতে জ্ঞানী কে? তখন তিনি ইহা আল্লাহর উপর ন্যস্ত করবেন। : হাঃ নং ১২২
    45. পরিচ্ছদ আলিমের বসা থাকা অবস্থায় দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করা : হাঃ নং ১২৩
    46. পরিচ্ছদ কংকর মারার সময় কোন মাসআলা জিজ্ঞাসা করা : হাঃ নং ১২৪
    47. পরিচ্ছদ আল্লাহ তা ‘আলার বাণী, “তোমাদেরকে ইল্‌ম দেওয়া হয়েছে অতি অল্পই : হাঃ নং ১২৫
    48. পরিচ্ছদ আল্লাহ তা ‘আলার বাণী, “তোমাদেরকে ইল্‌ম দেওয়া হয়েছে অতি অল্পই : হাঃ নং ১২৬
    49. পরিচ্ছদ বুঝতে না পারার আশঙ্কায় ‘ইলম শিক্ষায় কোন এক গোত্র ছেড়ে আর এক গোত্র বেছে নেয়া। : হাঃ নং ১২৭-১২৯
    50. পরিচ্ছদ‘ইলম শিক্ষা করতে লজ্জাবোধ করা। : হাঃ নং ১৩০-১৩১
    51. পরিচ্ছদ নিজে লজ্জা করলে অন্যকে দিয়ে প্রশ্ন করানো। : হাঃ নং ১৩২
    52. পরিচ্ছদ মসজিদে ‘ইলম ও ফতোয়া আলোচনা করা। : হাঃ নং ১৩৩
    53. পরিচ্ছদ প্রশ্নকারীর প্রশ্নের চেয়ে বিশী উত্তর প্রদান। : হাঃ নং ১৩৪
  • كِتَابُ الۡوُضُوء || উযু অধ্যায় – ৪
    1. পরিচ্ছদ উযূর বর্ণনা
    2. পরিচ্ছদ পবিত্রতা ব্যাতীত সালাত কবুল হবে না। : হাঃ নং ১৩৫
    3. পরিচ্ছদ উযূর ফযীলত এবং উযূর প্রভাবে যাদের উযূর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ উজ্জ্বল হবে। : হাঃ নং ১৩৬
    4. পরিচ্ছদ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সন্দেহের কারণে উযূ করতে হয় না : হাঃ নং ১৩৭
    5. পরিচ্ছদ হালকাভাবে উযূ করা। : হাঃ নং ১৩৮
    6. পরিচ্ছদ পূর্ণরূপে উযূ করা। : হাঃ নং ১৩৯
    7. পরিচ্ছদ এক আঁজলা পানি দিয়ে দু’হাতে মুখমণ্ডল ধোয়া। : হাঃ নং ১৪০
    8. পরিচ্ছদ সর্বাবস্থায়, এমনকি সহবসের সময়েও বিস্‌মিল্লাহ্‌ বলা। : হাঃ নং ১৪১
    9. পরিচ্ছদ শৌচাগারে যাওয়ার সময় কী বলতে হয়? : হাঃ নং ১৪২
    10. পরিচ্ছদ শৌচগারের কাছে পানি রাখা। : হাঃ নং ১৪৩
    11. পরিচ্ছদ পেশাব পায়খানা করার সময় ক্বিবলামুখী হবে না, তবে দেয়াল অথবা কোন আড় থাকলে ভিন্ন কথা। : হাঃ নং ১৪৪
    12. পরিচ্ছদ যে ব্যক্তি দু’ইটের উপর বসে মলমূত্র ত্যাগ করল। : হাঃ নং ১৪৫
    13. পরিচ্ছদ পেশাব পায়খানার জন্য নারীদের বাইরে যাওয়। : হাঃ নং ১৪৬-১৪৭
    14. পরিচ্ছদ গৃহের মধ্যে পেশাব পায়খানা করা। : হাঃ নং ১৪৮-১৪৯
    15. পরিচ্ছদ পানি দ্বারা শৌচ কাজ করা। : হাঃ নং ১৫০
    16. পরিচ্ছদ পবিত্রতা অর্জনের জন্য করো সঙ্গে পানি নিয়ে যাওয়া। : হাঃ নং ১৫১
    17. পরিচ্ছদ ইস্‌তিন্‌জার জন্য পানির সাথে (লৌহ ফলকযুক্ত) লাঠি নিয়ে যাও। : হাঃ নং ১৫২
    18. পরিচ্ছদ ডান হাতে শৌচকার্য করা নিষেধ। : হাঃ নং ১৫৩
    19. পরিচ্ছদ প্রস্রাব করার সময় ডান হাতে পুরুষাঙ্গ ধরবে না। : হাঃ নং ১৫৪
    20. পরিচ্ছদ পাথর দিয়ে ইস্‌তিন্‌জা করা। : হাঃ নং ১৫৫
    21. পরিচ্ছদ গোবর দ্বারা শৌচকার্য না করা। : হাঃ নং ১৫৬
    22. পরিচ্ছদ উযূর মধ্যে একবার করে ধৌত করা। : হাঃ নং ১৫৭
    23. পরিচ্ছদ উযুতে দু’বার করে ধোয়া। : হাঃ নং ১৫৮
    24. পরিচ্ছদ উযূতে তিনবার করে ধোয়া। : হাঃ নং ১৫৯-১৬০
    25. পরিচ্ছদ উযূতে নাকে পানি দিয়ে নাক পরিস্কার করা। : হাঃ নং ১৬১
    26. পরিচ্ছদ (শৌচকার্যের জন্য) বিজোড় সংখ্যক ঢিলা ব্যবহার করা। : হাঃ নং ১৬২
    27. পরিচ্ছদ দু’পা ধৌত করা এবং তা মাসহ্‌ না করা। : হাঃ নং ১৬৩
    28. পরিচ্ছদ উযূর সময় কুলি করা। : হাঃ নং ১৬৪
    29. পরিচ্ছদ পায়ের গোড়ালি ধোয়া। : হাঃ নং ১৬৫
    30. পরিচ্ছদ জুতা পরা অবস্থায় উভয় পা ধুতে হবে জুতার উপর মাস্‌হ করা যাবে না। : হাঃ নং ১৬৬
    31. পরিচ্ছদ উযূ এবং গোসলে ডান দিক থেকে শুরু করা : হাঃ নং ১৬৭-১৬৮
    32. পরিচ্ছদ সালাতের সময় হলে উযূর পানি অনুসন্ধান করা। : হাঃ নং ১৬৯
    33. পরিচ্ছদ যে পানি দিয়ে মানুষের চুল ধোয়া হয়। : হাঃ নং ১৭০-১৭৫
    34. পরিচ্ছদ সামনের এবং পেছনের রাস্তা দিয়ে কিছু নির্গত হওয়া : হাঃ নং ১৭৬-১৮০
    35. পরিচ্ছদ নিজের সাথীকে উযূ করিয়ে দেয়া। : হাঃ নং ১৮১-১৮২
    36. পরিচ্ছদ বিনা উযূতে কুরআন পাঠ। : হাঃ নং ১৮৩
    37. পরিচ্ছদ অজ্ঞান না হলে উযূ না করা। : হাঃ নং ১৮৪
    38. পরিচ্ছদ পূর্ণ মাথা মাস্‌হ করা। : হাঃ নং ১৮৫
    39. পরিচ্ছদ উভয় পা টাখনু পর্যন্ত ধোয়া। : হাঃ নং ১৮৬
    40. পরিচ্ছদ উযূর অবশিষ্ট পানি ব্যবহার। : হাঃ নং ১৮৭-১৯০
    41. পরিচ্ছদ এক আঁজলা পানি দিয়ে কুলি করা ও নিকে পানি দেয়া। : হাঃ নং ১৯১
    42. পরিচ্ছদ একবার মাথা মাস্‌হ করা। : হাঃ নং ১৯২
    43. পরিচ্ছদ স্বীয় স্ত্রীর সঙ্গে উযূ করা এবং স্ত্রীর উযূর পানি (ব্যবহার করা) : হাঃ নং ১৯৩
    44. পরিচ্ছদ অজ্ঞান লোকের উপর নবী : হাঃ নং ১৯৪
    45. পরিচ্ছদ গামলা, কাঠ ও পাথরের পাত্রে উযূ-গোসল করা। : হাঃ নং ১৯৫-১৯৮
    46. পরিচ্ছদ গামলা হতে উযূ করা। : হাঃ নং ১৯৯-২০০
    47. পরিচ্ছদ এক মুদ ১ (পানি) দিয়ে উযূ করা। : হাঃ নং ২০১
    48. পরিচ্ছদ মোজার উপর মাস্‌হ করা। : হাঃ নং ২০২-২০৫
    49. পরিচ্ছদ পবিত্র অবস্থায় উভয় পা (মোজায়) প্রবেশ করানো। : হাঃ নং ২০৬
    50. পরিচ্ছদ বকরীর গোশত ও ছাতু খেয়ে উযূ না করা। : হাঃ নং ২০৭-২০৮
    51. পরিচ্ছদ ছাতু খেয়ে উযূ না করে কুলি করা যথেষ্ট। : হাঃ নং ২০৯-২১০
    52. পরিচ্ছদ দুধ পান করে কি কুলি করতে হবে? : হাঃ নং ২১১
    53. পরিচ্ছদ ঘুমালে উযূ করা এবং দু’একবার তন্দ্রাচ্ছন্ন হলে বা মাথা ঝুঁকে পড়লে উযূ না করা। : হাঃ নং ২১২-২১৩
    54. পরিচ্ছদ হাদাস ব্যতীত উযূ করা। : হাঃ নং ২১৪-২১৫
    55. পরিচ্ছদ পেশাবের অপবিত্রতা হতে হুশিয়ার না হওয়া কাবীরা গুনাহর অন্তর্ভুক্ত। : হাঃ নং ২১৬
    56. পরিচ্ছদ পেশাব ধোয়া সম্পর্কে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে। : হাঃ নং ২১৭-২১৮
    57. পরিচ্ছদ জনৈক বেদুঈন মসজিদে পেশাব করলে পেশাব শেষ না করা পর্যন্ত নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং অন্যান্য লোকের পক্ষ হতে অবকাশ দেয়া। : হাঃ নং ২১৯
    58. পরিচ্ছদ মসজিদে পেশাবের উপর পানি ঢেলে দেয়া। : হাঃ নং ২২০
    59. পরিচ্ছদ পেশাবের উপর পানি ঢেলে দেয়া। : হাঃ নং ২২১
    60. পরিচ্ছদ বাচ্চাদের পেশাব। : হাঃ নং ২২২-২২৩
    61. পরিচ্ছদ দাঁড়িয়ে ও বসে পেশাব করা। : হাঃ নং ২২৪
    62. পরিচ্ছদ সাথীকে নিকটে অপেক্ষায় রেখে পেশাব করা এবং দেয়ালের আড়াল করা। : হাঃ নং ২২৫
    63. পরিচ্ছদ গোত্রের আবর্জনা ফেলার স্থানে পেশাব করা। : হাঃ নং ২২৬
    64. পরিচ্ছদ রক্ত ধুয়ে ফেলা। : হাঃ নং ২২৭-২২৮
    65. পরিচ্ছদ বীর্য ধোয়া এবং ঘষে ফেলা এবং স্ত্রীলোক হতে যা লেগে যায় তা ধুয়ে ফেলা। : হাঃ নং ২২৯-২৩০
    66. পরিচ্ছদ জানাবাতের অপবিত্রতা বা অন্য কিছু ধোয়ার পর যদি ভিজা চিহ্ন রয়ে যায়। : হাঃ নং ২৩১-২৩২
    67. পরিচ্ছদ উট, চতুষ্পদ জন্তু ও বকরীর পেশাব এবং বকরীর খোঁয়াড় প্রসঙ্গে। : হাঃ নং ২৩৩-২৩৪
    68. পরিচ্ছদ ঘি এবং পানিতে নাপাকী পড়া : হাঃ নং ২৩৫-২৩৭
    69. পরিচ্ছদ আবদ্ধ পানিতে পেশাব করা। : হাঃ নং ২৩৮-২৩৯
    70. পরিচ্ছদ মুসল্লীর পিঠের উপর ময়লা বা মৃত জন্তু ফেললে তার সালাত বাতিল হবে না। : হাঃ নং ২৪০
    71. পরিচ্ছদ থুথু, নাকের শ্লেস্মা ইত্যাদি কাপড়ে লেগে গেলে। : হাঃ নং ২৪১
    72. পরিচ্ছদ নবীয (খেজুর, কিসমিস, মনাক্কা ইত্যাদি ভিজানো পানি) এবং নেশার উদ্রেককারী পানীয় দ্বারা উযূ না-জায়িয। : হাঃ নং ২৪২
    73. পরিচ্ছদ পিতার মুখমণ্ডল হেত কন্যা কর্তৃক রক্ত ধুয়ে ফেলা। : হাঃ নং ২৪৩
    74. পরিচ্ছদ মিসওয়াক করা। : হাঃ নং ২৪৪-২৪৫
    75. পরিচ্ছদ বয়সে বড় ব্যক্তিকে মিসওয়াক প্রদান করা। : হাঃ নং ২৪৬
    76. পরিচ্ছদ উযূ সহ রাতে ঘুমাবার ফযীলত। : হাঃ নং ২৪৭
সূচী-পত্রে ফিরে যাও

الصَّحِيحُ الْبُخَارِي

সহীহ বুখারী


كِتَابُ بَدْءِ الْوَحْيِ

ওহীর সূচনা অধ্যায় – ১

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

পরম দয়াময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

قَالَ الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْحَافِظُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْمُغِيرَةِ الْبُخَارِيُّ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى آمِينَ:

শায়খুল ইমামুল ‘হাফিয আবূ ‘আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইব্‌ন ইসমা‘ঈল ইব্‌ন ইবরাহীম ইব্‌ন মুগীরাতিল বুখারী (রহিমাহুল্লাহ) আমীনা, বললেনঃ-

١. بَابُ: ‌كَيْفَ كَانَ بَدْءُ الوَحْيِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهِ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟

وَقَوْلُ اللَّهِ جَلَّ ذِكْرُهُ: {إِنَّا أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ كَمَا أَوْحَيْنَا إِلَى نُوحٍ وَالنَّبِيِّينَ مِنْ بَعْدِهِ} [النساء: ١٦٣]

১. পরিচ্ছেদ : রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর প্রতি কিভাবে ওহী শুরু হয়েছিল?

আল্লাহ তা‘আলার ইরশাদ করেন- “আমি আপনার নিকট ওহী প্রেরণ করেছি যেমন নূহ (‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর পরবর্তী নবীগণের নিকট প্রেরণ করেছিলাম”। [নেসা (৪):১৬৩]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১

হাদিসের মান: সহীহ

١ – حَدَّثَنَا الحُمَيْدِيُّ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الأَنْصَارِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيُّ، أَنَّهُ سَمِعَ عَلْقَمَةَ بْنَ وَقَّاصٍ اللَّيْثِيَّ، يَقُولُ: سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَلَى المِنْبَرِ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى، فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى دُنْيَا يُصِيبُهَا، أَوْ إِلَى امْرَأَةٍ يَنْكِحُهَا، فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ»

হুমায়িদ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: সুফিয়ান আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ইয়াহয়া ইব্‌ন সাঈদ আনসারী আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: মুহাম্মাদ ইব্রাহীম তায়মী আমাদেরকে হাদীসটি সংবাদ দিলেন, তিনি ‘আলক্বামাহ ইব্‌ন ওয়াক্কাস্ব থেকে শুনলেন, তিনি বলেন: আমি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাজিআল্লাহু আনহু)-কে মিম্বারের উপর দাঁড়িয়ে বলতে শুনলাম; তিনি বলেন, আমি শুনলাম- রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: “প্রত্যেক কাজ নিয়তের সাথে সম্পর্কিত। আর মানুষ তার নিয়ত অনুযায়ী ফল পাবে। তাই যার হিজরত হবে দুনিয়া লাভের অথবা নারীকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে- সেই উদ্দেশ্যই হবে তার হিজরতের প্রাপ্য”।

অনুরূপ হাদীস হাদীস বর্ণনা: [৫৪, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮] [আধুনিক প্রকাশনী-১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন – ১]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২

হাদিসের মান: সহীহ

٢ – حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ المُؤْمِنِينَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، أَنَّ الحَارِثَ بْنَ هِشَامٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، كَيْفَ يَأْتِيكَ الوَحْيُ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَحْيَانًا يَأْتِينِي مِثْلَ صَلْصَلَةِ الجَرَسِ، وَهُوَ أَشَدُّهُ عَلَيَّ، فَيُفْصَمُ عَنِّي وَقَدْ وَعَيْتُ عَنْهُ مَا قَالَ، وَأَحْيَانًا يَتَمَثَّلُ لِيَ المَلَكُ رَجُلًا فَيُكَلِّمُنِي فَأَعِي مَا يَقُولُ» قَالَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا: وَلَقَدْ رَأَيْتُهُ يَنْزِلُ عَلَيْهِ الوَحْيُ فِي اليَوْمِ الشَّدِيدِ البَرْدِ، فَيَفْصِمُ عَنْهُ وَإِنَّ جَبِينَهُ لَيَتَفَصَّدُ عَرَقًا

আব্দুল্লা ইব্‌ন ইউসুফ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: মালিক আমাদেরকে হাদীসটি খবর দিলেন হিশাম ইব্‌ন উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি উম্মুল মু’মিনিন আয়শা রাজিআল্লাহু আনহা থেকে, তিনি বলেন: ‘হারিস ইব্‌ন হিশাম (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) রাসুলুল্লাহ সাল্লাহু‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলুল্লা! আপনার প্রতি ওহী কিভাবে আসে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ “কোন কোন সময় তা ঘন্টারধ্বনির ন্যায় আমার নিকট আসে। আর এটি-ই আমার উপর সবচাইতে কষ্টদায়ক হয় এবং তা সমাপ্ত হতেই মালাক যা বলেন আমি তা মুখস্ত করেনিই, আবার কখনো মালাক মানুষের আকৃতিতে আমার সঙ্গে কথা বলেন। তিনি যা বলেন আমি তা মুখস্থ করে ফেলি”। ‘আয়িশা রাজিআল্লাহু আনহা বলেন, আমি প্রচণ্ড শীতের দিনে ওহী নাযিলরত অবস্থায় তাঁকে দেখেছি। ওহী শেষ হলেই তাঁর কপাল থেকে ঘাম ঝরে পড়ত।

অনুরূপ হাদীস হাদীস বর্ণনা : [৩২১৫; মুসলিম ৪৬/২৩, হা: ২৩৩৩, আহমাদ ২৫৩০৭, ২৬২৫৮] আধুনিক প্রকাশনী – ২, ইসলামী ফাউন্ডেশন – ২]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩

হাদিসের মান: সহীহ

٣ – حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ المُؤْمِنِينَ أَنَّهَا قَالَتْ: أَوَّلُ مَا بُدِئَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَ الوَحْيِ الرُّؤْيَا الصَّالِحَةُ فِي النَّوْمِ، فَكَانَ لَا يَرَى رُؤْيَا إِلَّا جَاءَتْ مِثْلَ فَلَقِ الصُّبْحِ، ثُمَّ حُبِّبَ إِلَيْهِ الخَلَاءُ، وَكَانَ يَخْلُو بِغَارِ حِرَاءٍ فَيَتَحَنَّثُ فِيهِ – وَهُوَ التَّعَبُّدُ – اللَّيَالِيَ ذَوَاتِ العَدَدِ قَبْلَ أَنْ يَنْزِعَ إِلَى أَهْلِهِ، وَيَتَزَوَّدُ لِذَلِكَ، ثُمَّ يَرْجِعُ إِلَى خَدِيجَةَ فَيَتَزَوَّدُ لِمِثْلِهَا، حَتَّى جَاءَهُ الحَقُّ وَهُوَ فِي غَارِ حِرَاءٍ، فَجَاءَهُ المَلَكُ فَقَالَ: اقْرَأْ، قَالَ: «مَا أَنَا بِقَارِئٍ»، قَالَ: ” فَأَخَذَنِي فَغَطَّنِي حَتَّى بَلَغَ مِنِّي الجَهْدَ ثُمَّ أَرْسَلَنِي، فَقَالَ: اقْرَأْ، قُلْتُ: مَا أَنَا بِقَارِئٍ، فَأَخَذَنِي فَغَطَّنِي الثَّانِيَةَ حَتَّى بَلَغَ مِنِّي الجَهْدَ ثُمَّ أَرْسَلَنِي، فَقَالَ: اقْرَأْ، فَقُلْتُ: مَا أَنَا بِقَارِئٍ، فَأَخَذَنِي فَغَطَّنِي الثَّالِثَةَ ثُمَّ أَرْسَلَنِي، فَقَالَ: {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ. خَلَقَ الإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ. اقْرَأْ وَرَبُّكَ الأَكْرَمُ} [العلق: ٢] ” فَرَجَعَ بِهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَرْجُفُ فُؤَادُهُ، فَدَخَلَ عَلَى خَدِيجَةَ بِنْتِ خُوَيْلِدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، فَقَالَ: «زَمِّلُونِي زَمِّلُونِي» فَزَمَّلُوهُ حَتَّى ذَهَبَ عَنْهُ الرَّوْعُ، فَقَالَ لِخَدِيجَةَ وَأَخْبَرَهَا الخَبَرَ: «لَقَدْ خَشِيتُ عَلَى نَفْسِي» فَقَالَتْ خَدِيجَةُ: كَلَّا وَاللَّهِ مَا يُخْزِيكَ اللَّهُ أَبَدًا، إِنَّكَ لَتَصِلُ الرَّحِمَ، وَتَحْمِلُ الكَلَّ، وَتَكْسِبُ المَعْدُومَ، وَتَقْرِي الضَّيْفَ، وَتُعِينُ عَلَى نَوَائِبِ الحَقِّ، فَانْطَلَقَتْ بِهِ خَدِيجَةُ حَتَّى أَتَتْ بِهِ وَرَقَةَ بْنَ نَوْفَلِ بْنِ أَسَدِ بْنِ عَبْدِ العُزَّى ابْنَ عَمِّ خَدِيجَةَ وَكَانَ امْرَأً تَنَصَّرَ فِي الجَاهِلِيَّةِ، وَكَانَ يَكْتُبُ الكِتَابَ العِبْرَانِيَّ، فَيَكْتُبُ مِنَ الإِنْجِيلِ بِالعِبْرَانِيَّةِ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَكْتُبَ، وَكَانَ شَيْخًا كَبِيرًا قَدْ عَمِيَ، فَقَالَتْ لَهُ خَدِيجَةُ: يَا ابْنَ عَمِّ، اسْمَعْ مِنَ ابْنِ أَخِيكَ، فَقَالَ لَهُ وَرَقَةُ: يَا ابْنَ أَخِي مَاذَا تَرَى؟ فَأَخْبَرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَبَرَ مَا رَأَى، فَقَالَ لَهُ وَرَقَةُ: هَذَا النَّامُوسُ الَّذِي نَزَّلَ اللَّهُ عَلَى مُوسَى، يَا لَيْتَنِي فِيهَا جَذَعًا، لَيْتَنِي أَكُونُ حَيًّا إِذْ يُخْرِجُكَ قَوْمُكَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَوَ مُخْرِجِيَّ هُمْ»، قَالَ: نَعَمْ، لَمْ يَأْتِ رَجُلٌ قَطُّ بِمِثْلِ مَا جِئْتَ بِهِ إِلَّا عُودِيَ، وَإِنْ يُدْرِكْنِي يَوْمُكَ أَنْصُرْكَ نَصْرًا مُؤَزَّرًا. ثُمَّ لَمْ يَنْشَبْ وَرَقَةُ أَنْ تُوُفِّيَ، وَفَتَرَ الوَحْيُ‏

ইয়াহ’ইয়া ইব্‌ন বুকায়র আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: লায়স আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন উকায়াল থেকে, তিনি ইব্‌ন শিহাব থেকে, তিনি ‘উরওয়াহ ইব্ন যুবাইর থেকে, তিনি উম্মুল মু’মিনিন আয়শা (রাজিয়াল্লাহু আনহা) থেকে, তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি সর্বপ্রথম যে ওহী আসে, তা ছিল ঘুমের মধ্যে সত্য স্বপ্নরূপে। যে স্বপ্নই তিনি দেখতেন তা একেবারে ভোরের আলোর প্রকাশ পেত। তারপর তাঁর কাছে নির্জনতা প্রিয় হয়ে পড়ে এবং তিনি ‘হেরা’র গুহায় নির্জনে থাকতেন। আপন পরিবারের কাছে ফিরে আসা এবং কিছু খাদ্যসামগ্রী সঙ্গে নিয়ে যাওয়া- এইভাবে সেখানে তিনি একাধারে বেশ কয়েক রাত ইবাদতে নিমগ্ন থাকতেন। এমনি ভাবে ‘হেরা’ গুহায় অবস্থানকালে একদিন তাঁর কাছে ওহী এলো। তাঁর কাছে মালাক এসে বললেন, ‘পড়ুন’। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ “আমি বললাম, ‘আমি পড়তে জানি না’। তিনি বলেনঃ তারপর তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরে এমন চাপ দিলেন যে, আমার অত্যন্ত কষ্ট হলো। তারপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন, ‘পড়ুন’। আমি বললামঃ ‘আমি পড়তে জানি না’। তিনি দ্বিতীয়বার আমাকে জড়িয়ে ধরে এমনভাবে চাপ দিলেন যে, আমার অত্যন্ত কষ্ট হলো। এরপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেনঃ ‘পড়ুন’। আমি জবাব দিলাম, ‘আমি পড়তে জানি না’। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তারপর তৃতীয়বার তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরে চাপ দিলেন। এরপর ছেড়ে দিয়ে বললেন, “পড়ুন আপনার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে ‘আলাক থেকে। পড়ুন, আপনার রব মহামহিমান্বিত”। [সূরা ‘আলাক, ৯৬ : ১-৩]

তারপর এ আয়াত নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফিরে এলেন। তাঁর অন্তর কাঁপছিল। তিনি খাদীজা বিনত খুওয়ায়লিদের কাছে এসে বললেন, ‘আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দাও’, ‘আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দাও’। তাঁরা তাঁকে চাদর দিয়ে ঢেকে দিলেন। অবশেষে তাঁর ভয় দূর হলো। তখন তিনি খাদিজা (রাজিআল্লাহু আনহা)-র কাছে সকল ঘটনা জানিয়ে তাঁকে বললেন, আমি আমার নিজের উপর আশংকা বোধ করছি। খাদীজা (রাজিআল্লাহু আনহা) বললেন, আল্লাহর কসম, কখখনো না। আল্লাহ আপনাকে কখনো অপমানিত করবেন না। আপনি তো আত্মীয়- মেহমানদারী করেন এবং দুর্দশাগ্রস্তকে সাহায্য করেন। এরপর তাঁকে নিয়ে খাদীজা (রাজিআল্লাহু আনহা) তাঁর চাচাতো ভাই ওয়ারাকা ইবন নাওফিল ইবন ‘আবদুল আসাদ ইবন ‘আবদুল ‘উযযার কাছে গেলেন, যিনি জাহিলী যুগে ‘ঈসায়ী ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি ইবরানী ভাষায় লিখতে জানতেন এবং আল্লাহর তওফীক অনুযায়ী ইবরানী ভাষায় ইনজীল থেকে অনুবাদ করতেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত বয়োবৃদ্ধ এবং অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। খাদীজা (রাজিআল্লাহু আনহা) তাঁকে বললেন, ‘হে চাচাতো ভাই! আপনার ভাতিজার কথা শুনুন’। ওয়ারাকা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ভাতিজা! তুমি কী দেখ’? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা দেখেছিলেন, সবই খুলে বললেন। তখন ওয়ারাকা তাঁকে বললেন, ‘ইনি সে দূত যাঁকে আল্লাহ মূসা (‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-র কাছে পাঠায়েছেলেন। আফসোস! আমি যদি সেদিন যুবক থাকতাম। আফসোস! আমি যদি সেদিন জীবিত থাকতাম, যেদিন তোমার কওম তোমাকে বের করে দেবে’। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘তারা কি আমাকে বের করে দেবে’? তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ, অতীতে যিনিই তোমার মতো কিছু নিয়ে এসেছেন তাঁর সঙ্গেই শত্রুতা করা হয়েছে। সেদিন যদি আমি থাকি, তবে তোমাকে প্রবলভাবে সাহায্য করব’। এর কিছুদিন পর ওয়ারাকা (রাজিআল্লাহু আনহা) ইন্তিকাল করেন। আর ওহী স্থগিত থাকে।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা :- [৩৩৯২, ৪৯৫৩, ৪৯৫৫, ৪৯৫৬, ৪৯৫৭, ৬৯৮২; মুসলিম ১/৭ হাঃ ১৬০, আহমাদ ২৬০১৮] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪

হাদিসের মান: সহীহ

٤ – قَالَ ابْنُ شِهَابٍ: وَأَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيَّ، قَالَ: وَهُوَ يُحَدِّثُ عَنْ فَتْرَةِ الوَحْيِ فَقَالَ فِي حَدِيثِهِ: ” بَيْنَا أَنَا أَمْشِي إِذْ سَمِعْتُ صَوْتًا مِنَ السَّمَاءِ، فَرَفَعْتُ بَصَرِي، فَإِذَا المَلَكُ الَّذِي جَاءَنِي بِحِرَاءٍ جَالِسٌ عَلَى كُرْسِيٍّ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ، فَرُعِبْتُ مِنْهُ، فَرَجَعْتُ فَقُلْتُ: زَمِّلُونِي زَمِّلُونِي ” فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى: {يَا أَيُّهَا المُدَّثِّرُ. قُمْ فَأَنْذِرْ} [المدثر: ٢] إِلَى قَوْلِهِ {وَالرُّجْزَ فَاهْجُرْ} [المدثر: ٥]. فَحَمِيَ الوَحْيُ وَتَتَابَعَ تَابَعَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، وَأَبُو صَالِحٍ، وَتَابَعَهُ هِلَالُ بْنُ رَدَّادٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، وَقَالَ يُونُسُ، وَمَعْمَرٌ بَوَادِرُهُ‏

ইব্‌ন শিহাব বললেন: আবূ সালামাহ ইব্‌ন আব্দুর র‘হমান আমাকে হাদীসটি সংবাদ দিলেন, যাবের ইব্‌ন আব্দুল্লাহ আনসারি (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বললেন: অহী স্থগিত হাওয়ার প্রসংগে আমাদেরকে তিনি হাদীসটি বর্ণনা করছেন, তিনি তাঁর বর্ণাতে বললেন- [রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কথায়] একদা আমি হেঁটে চলছি, হঠাৎ আকাশ থেকে একটি আওয়ায শুনতে পেয়ে চোখ তুলে তাকালাম। দেখলাম সেই মালাক, যিনি হেরায় আমার কাছে এসেছিলেন, আসমান ও যমীনের মাঝখানে একটি কুরসীতে বসে আছেন। এতে আমি ভয় পেয়ে গেলাম। তৎক্ষণাৎ আমি ফিরে এসে বললাম, ‘আমাকে বস্ত্রাবৃত কর, আমাকে বস্ত্রাবৃত কর’। তারপর আল্লাহ তা‘আলা নাযিল করলেন, “হে বস্ত্রাচ্ছাদিত! উঠুন, সতর্কবাণী প্রচার করুন এবং আপনার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করুন। আপনার পোশাক পবিত্র রাখুন। অপবিত্রতা থেকে দূরে থাকুন”। [৭৪ : ১-৪] এরপর ব্যাপকভাবে ওহী নাযিল হতে লাগল। আবদুল্লাহ ইবন ইউসুফ ও আবূ সালেহ অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। হেলাল ইবন রাদদাদ যুহরী থেকেও আনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। ইউনুস ও মা‘মার فؤاده এর স্থলে بَوَادِرُهُ শব্দ উল্লেখ করেছেন।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা :- [৩২৩৮, ৪৯২২, ৪৯২৩, ৪৯২৪, ৪৯২৫, ৪৯২৬, ৬২১৪; মুসলিম ১/৩৮ হাঃ ১৬১, আহমাদ ১৫০৩৯] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩ শেষাংশ, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩ শেষাংশ]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫

হাদিসের মান: সহীহ

٥ – حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ أَبِي عَائِشَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: {لَا تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ} [القيامة: ١٦] قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُعَالِجُ مِنَ التَّنْزِيلِ شِدَّةً، وَكَانَ مِمَّا يُحَرِّكُ شَفَتَيْهِ – فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: فَأَنَا أُحَرِّكُهُمَا لَكُمْ كَمَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُحَرِّكُهُمَا، وَقَالَ سَعِيدٌ: أَنَا أُحَرِّكُهُمَا كَمَا رَأَيْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ يُحَرِّكُهُمَا، فَحَرَّكَ شَفَتَيْهِ – فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى: {لَا تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ} [القيامة: ١٧] قَالَ: جَمْعُهُ لَكَ فِي صَدْرِكَ وَتَقْرَأَهُ: {فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ} [القيامة: ١٨] قَالَ: فَاسْتَمِعْ لَهُ وَأَنْصِتْ: {ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ} [القيامة: ١٩] ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا أَنْ تَقْرَأَهُ، فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعْدَ ذَلِكَ إِذَا أَتَاهُ جِبْرِيلُ اسْتَمَعَ فَإِذَا انْطَلَقَ جِبْرِيلُ قَرَأَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَمَا قَرَأَهُ

মুসা ইব্‌ন ইসমাইল আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: আবূ ‘আওয়ানাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: মুসা ইব্‌ন আবী আয়শাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: সা‘ঈদ ইব্‌ন জুবায়র আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ইব্‌ন আববাস থেকে- মহান আল্লাহর বাণীঃ “অহী দ্রুত আয়ত্ত করার জন্য আপনি অহী নাযিল হওয়ার সময় আপনার জিহ্বা নাড়বেন না”। (সূরা ক্বিয়ামাহ ৭৫/১৬)-এর ব্যাখ্যায় ইব্‌ন ‘আব্বাস বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওয়াহী অবতরণের সময় তা আয়ত্ত করতে বেশ কষ্ট করতেন এবং প্রায়ই তিনি তাঁর উভয় ঠোঁট নড়াতেন’। ইব্‌ন ‘আব্বাস (রাজিআল্লাহু আনহু) বলেন, ‘আমি তোমাকে দেখানোর জন্য ঠোঁট দুটি নাড়ছি যেভাবে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা নড়াতেন’। সা’ঈদ (রহমাহুল্লাহ) (তাঁর ছাত্রদেরকে) বলেন, ‘আমি ইব্‌ন ‘আব্বাস (রাজিআল্লাহু আনহু)-কে যেরূপে তাঁর ঠোঁট দুটি নড়াতে দেখেছি, সেভাবেই আমার ঠোঁট দুটি নড়াচ্ছি’। এই বলে তিনি তাঁর ঠোঁট দুটি নড়ালেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা অবতীর্ণ করলেনঃ “ওয়াহী দ্রুত আয়ত্ত করার জন্য আপনি ওয়াহী নাযিল হবার সময় আপনার জিহ্বা নড়াবেন না, এর সংরক্ষণ ও পাঠ করানোর দায়িত্ব আমার”। (সূরা ক্বিয়ামাহ ৭৫/১৬)। ইব্‌ন ‘আব্বাস (রাজিআল্লাহু আনহু) বলেন, “এর অর্থ হলোঃ তোমার অন্তরে তা হেফাযত করা এবং তোমার দ্বারা তা পাঠ করানো। “সুতরাং আমি যখন তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন”- (সূরা ক্বিয়ামাহ ৭৫/১৮)। ইব্‌ন আব্বাস (রাজিআল্লাহু আনহু) বলেন, অর্থাৎ মনোযোগ সহকারে শুন এবং চুপ থাক। “তারপর এর বিশদ বর্ণনার দায়িত্ব তো আমারই”-(সূরা ক্বিয়ামাহ ৭৫/১৯)। অর্থাৎ তুমি তা পাঠ করবে, এটাও আমার দায়িত্ব। তারপর যখন আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর নিকট জিবরীল (‘‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আসতেন, তখন তিনি মনোযোগ দিয়ে কেবল শুনতেন। জিবরীল (‘‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চলে যাবার পর তিনি যেমন পাঠ করেছিলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-ও তদ্রুপ পাঠ করতেন।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা :- [৪৯২৭, ৪৯২৮, ৪৯২৯, ৫০৪৪, ৭৫২৪; মুসলিম ৪/৩২ হাঃ ৪৪৮, আহমাদ ৩১৯১] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪-এর শেষাংশ]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬

হাদিসের মান: সহীহ

٦ – حَدَّثَنَا عَبْدَانُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: أَخْبَرَنَا يُونُسُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، ح وحَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا يُونُسُ، وَمَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، نَحْوَهُ قَالَ: أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَجْوَدَ النَّاسِ، وَكَانَ أَجْوَدُ مَا يَكُونُ فِي رَمَضَانَ حِينَ يَلْقَاهُ جِبْرِيلُ، وَكَانَ يَلْقَاهُ فِي كُلِّ لَيْلَةٍ مِنْ رَمَضَانَ فَيُدَارِسُهُ القُرْآنَ، فَلَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَجْوَدُ بِالخَيْرِ مِنَ الرِّيحِ المُرْسَلَةِ»

আবদান আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: আব্দুল্লাহ আমাদেরকে হাদীসটি খবর দিলেন, তিনি বললেন: ইউনুস আমাদেরকে হাদীসটি খবর দিলেন যুহ্‌রী থেকে, এবং (অন্য সনদে) বিশ্‌র ইব্‌ন মুহাম্মাদ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: আব্দুল্লাহ আমাদেরকে হাদীসটি খাবর দিলেন, তিনি বললেন: ইউনুস ও মা’মার আমাদেরকে যুহ্‌রী থেকে হাদীসটি খবর দিলেন, তিনি বললেন: ‘উবাইদুল্লাহ ইব্‌ন ‘আব্দুল্লাহ আমাকে হাদীসটি খবর দিলেন আব্বাস (রাজিআল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি বললেন: আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ দানশীল। রমাযানে তিনি আরো অধিক দানশীল হতেন, যখন জিবরীল (‘‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন। আর রমাযানের প্রতি রাতেই জিবরীল (‘‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাথে দেখা করতেন এবং তারা একে অপরকে কুরআন তিলাওয়াত করে শোনাতেন। নিশ্চয়ই আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রহমতের বায়ু অপেক্ষাও অধিক দানশীল ছিলেন।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা :- [১৯০২, ৩২২০, ৩৫৫৪, ৪৯৯৭; মুসলিম ৪৩/১২ হাঃ ৩২০৮, আহমাদ ৩৬১৬, ৩৪২৫] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৫]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭

হাদিসের মান: সহীহ

٧ – حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ الحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ: أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَا سُفْيَانَ بْنَ حَرْبٍ أَخْبَرَهُ: أَنَّ هِرَقْلَ أَرْسَلَ إِلَيْهِ فِي رَكْبٍ مِنْ قُرَيْشٍ، وَكَانُوا تُجَّارًا بِالشَّأْمِ فِي المُدَّةِ الَّتِي كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَادَّ فِيهَا أَبَا سُفْيَانَ وَكُفَّارَ قُرَيْشٍ، فَأَتَوْهُ وَهُمْ بِإِيلِيَاءَ، فَدَعَاهُمْ فِي مَجْلِسِهِ، وَحَوْلَهُ عُظَمَاءُ الرُّومِ، ثُمَّ دَعَاهُمْ وَدَعَا بِتَرْجُمَانِهِ، فَقَالَ: أَيُّكُمْ أَقْرَبُ نَسَبًا بِهَذَا الرَّجُلِ الَّذِي يَزْعُمُ أَنَّهُ نَبِيٌّ؟ فَقَالَ أَبُو سُفْيَانَ: فَقُلْتُ أَنَا أَقْرَبُهُمْ نَسَبًا، فَقَالَ: أَدْنُوهُ مِنِّي، وَقَرِّبُوا أَصْحَابَهُ فَاجْعَلُوهُمْ عِنْدَ ظَهْرِهِ، ثُمَّ قَالَ لِتَرْجُمَانِهِ: قُلْ لَهُمْ إِنِّي سَائِلٌ هَذَا عَنْ هَذَا الرَّجُلِ، فَإِنْ كَذَبَنِي فَكَذِّبُوهُ. فَوَاللَّهِ لَوْلَا الحَيَاءُ مِنْ أَنْ يَأْثِرُوا عَلَيَّ كَذِبًا لَكَذَبْتُ عَنْهُ. ثُمَّ كَانَ أَوَّلَ مَا سَأَلَنِي عَنْهُ أَنْ قَالَ: كَيْفَ نَسَبُهُ فِيكُمْ؟ قُلْتُ: هُوَ فِينَا ذُو نَسَبٍ، قَالَ: فَهَلْ قَالَ هَذَا القَوْلَ مِنْكُمْ أَحَدٌ قَطُّ قَبْلَهُ؟ قُلْتُ: لَا. قَالَ: فَهَلْ كَانَ مِنْ آبَائِهِ مِنْ مَلِكٍ؟ قُلْتُ: لَا قَالَ: فَأَشْرَافُ النَّاسِ يَتَّبِعُونَهُ أَمْ ضُعَفَاؤُهُمْ؟ فَقُلْتُ بَلْ ضُعَفَاؤُهُمْ. قَالَ: أَيَزِيدُونَ أَمْ يَنْقُصُونَ؟ قُلْتُ: بَلْ يَزِيدُونَ. قَالَ: فَهَلْ يَرْتَدُّ أَحَدٌ مِنْهُمْ سَخْطَةً لِدِينِهِ بَعْدَ أَنْ يَدْخُلَ فِيهِ؟ قُلْتُ: لَا. قَالَ: فَهَلْ كُنْتُمْ تَتَّهِمُونَهُ بِالكَذِبِ قَبْلَ أَنْ يَقُولَ مَا قَالَ؟ قُلْتُ: لَا. قَالَ: فَهَلْ يَغْدِرُ؟ قُلْتُ: لَا، وَنَحْنُ مِنْهُ فِي مُدَّةٍ لَا نَدْرِي مَا هُوَ فَاعِلٌ فِيهَا، قَالَ: وَلَمْ تُمْكِنِّي كَلِمَةٌ أُدْخِلُ فِيهَا شَيْئًا غَيْرُ هَذِهِ الكَلِمَةِ، قَالَ: فَهَلْ قَاتَلْتُمُوهُ؟ قُلْتُ: نَعَمْ. قَالَ: فَكَيْفَ كَانَ قِتَالُكُمْ إِيَّاهُ؟ قُلْتُ: الحَرْبُ بَيْنَنَا وَبَيْنَهُ سِجَالٌ، يَنَالُ مِنَّا وَنَنَالُ مِنْهُ. قَالَ: مَاذَا يَأْمُرُكُمْ؟ قُلْتُ: يَقُولُ: اعْبُدُوا اللَّهَ وَحْدَهُ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا، وَاتْرُكُوا مَا يَقُولُ آبَاؤُكُمْ، وَيَأْمُرُنَا بِالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ وَالصِّدْقِ وَالعَفَافِ وَالصِّلَةِ. فَقَالَ لِلتَّرْجُمَانِ: قُلْ لَهُ: سَأَلْتُكَ عَنْ نَسَبِهِ فَذَكَرْتَ أَنَّهُ فِيكُمْ ذُو نَسَبٍ، فَكَذَلِكَ الرُّسُلُ تُبْعَثُ فِي نَسَبِ قَوْمِهَا. وَسَأَلْتُكَ هَلْ قَالَ أَحَدٌ مِنْكُمْ هَذَا القَوْلَ، فَذَكَرْتَ أَنْ لَا، فَقُلْتُ: لَوْ كَانَ أَحَدٌ قَالَ هَذَا القَوْلَ قَبْلَهُ، لَقُلْتُ رَجُلٌ يَأْتَسِي بِقَوْلٍ قِيلَ قَبْلَهُ. وَسَأَلْتُكَ هَلْ كَانَ مِنْ آبَائِهِ مِنْ مَلِكٍ، فَذَكَرْتَ أَنْ لَا، قُلْتُ فَلَوْ كَانَ مِنْ آبَائِهِ مِنْ مَلِكٍ، قُلْتُ رَجُلٌ يَطْلُبُ مُلْكَ أَبِيهِ، وَسَأَلْتُكَ، هَلْ كُنْتُمْ تَتَّهِمُونَهُ بِالكَذِبِ قَبْلَ أَنْ يَقُولَ مَا قَالَ، فَذَكَرْتَ أَنْ لَا، فَقَدْ أَعْرِفُ أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ لِيَذَرَ الكَذِبَ عَلَى النَّاسِ وَيَكْذِبَ عَلَى اللَّهِ. وَسَأَلْتُكَ أَشْرَافُ النَّاسِ اتَّبَعُوهُ أَمْ ضُعَفَاؤُهُمْ، فَذَكَرْتَ أَنَّ ضُعَفَاءَهُمُ اتَّبَعُوهُ، وَهُمْ أَتْبَاعُ الرُّسُلِ. وَسَأَلْتُكَ أَيَزِيدُونَ أَمْ يَنْقُصُونَ، فَذَكَرْتَ أَنَّهُمْ يَزِيدُونَ، وَكَذَلِكَ أَمْرُ الإِيمَانِ حَتَّى يَتِمَّ. وَسَأَلْتُكَ أَيَرْتَدُّ أَحَدٌ سَخْطَةً لِدِينِهِ بَعْدَ أَنْ يَدْخُلَ فِيهِ، فَذَكَرْتَ أَنْ لَا، وَكَذَلِكَ الإِيمَانُ حِينَ تُخَالِطُ بَشَاشَتُهُ القُلُوبَ. وَسَأَلْتُكَ هَلْ يَغْدِرُ، فَذَكَرْتَ أَنْ لَا، وَكَذَلِكَ الرُّسُلُ لَا تَغْدِرُ. وَسَأَلْتُكَ بِمَا يَأْمُرُكُمْ، فَذَكَرْتَ أَنَّهُ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تَعْبُدُوا اللَّهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا، وَيَنْهَاكُمْ عَنْ عِبَادَةِ الأَوْثَانِ، وَيَأْمُرُكُمْ بِالصَّلَاةِ وَالصِّدْقِ وَالعَفَافِ، فَإِنْ كَانَ مَا تَقُولُ حَقًّا فَسَيَمْلِكُ مَوْضِعَ قَدَمَيَّ هَاتَيْنِ، وَقَدْ كُنْتُ أَعْلَمُ أَنَّهُ خَارِجٌ، لَمْ أَكُنْ أَظُنُّ أَنَّهُ مِنْكُمْ، فَلَوْ أَنِّي أَعْلَمُ أَنِّي أَخْلُصُ إِلَيْهِ لَتَجَشَّمْتُ لِقَاءَهُ، وَلَوْ كُنْتُ عِنْدَهُ لَغَسَلْتُ عَنْ قَدَمِهِ. ثُمَّ دَعَا بِكِتَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الَّذِي بَعَثَ بِهِ دِحْيَةُ إِلَى عَظِيمِ بُصْرَى، فَدَفَعَهُ إِلَى هِرَقْلَ، فَقَرَأَهُ فَإِذَا فِيهِ ” بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، مِنْ مُحَمَّدٍ عَبْدِ اللَّهِ وَرَسُولِهِ إِلَى هِرَقْلَ عَظِيمِ الرُّومِ: سَلَامٌ عَلَى مَنِ اتَّبَعَ الهُدَى، أَمَّا بَعْدُ، فَإِنِّي أَدْعُوكَ بِدِعَايَةِ الإِسْلَامِ، أَسْلِمْ تَسْلَمْ، يُؤْتِكَ اللَّهُ أَجْرَكَ مَرَّتَيْنِ، فَإِنْ تَوَلَّيْتَ فَإِنَّ عَلَيْكَ إِثْمَ الأَرِيسِيِّينَ ” وَ {يَا أَهْلَ الكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَنْ لَا نَعْبُدَ إِلَّا اللَّهَ وَلَا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَلَا يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَقُولُوا اشْهَدُوا بِأَنَّا مُسْلِمُونَ} قَالَ أَبُو سُفْيَانَ : فَلَمَّا قَالَ مَا قَالَ، وَفَرَغَ مِنْ قِرَاءَةِ الكِتَابِ، كَثُرَ عِنْدَهُ الصَّخَبُ وَارْتَفَعَتِ الأَصْوَاتُ وَأُخْرِجْنَا، فَقُلْتُ لِأَصْحَابِي حِينَ أُخْرِجْنَا: لَقَدْ أَمِرَ أَمْرُ ابْنِ أَبِي كَبْشَةَ، إِنَّهُ يَخَافُهُ مَلِكُ بَنِي الأَصْفَرِ. فَمَا زِلْتُ مُوقِنًا أَنَّهُ سَيَظْهَرُ حَتَّى أَدْخَلَ اللَّهُ عَلَيَّ الإِسْلَامَ. وَكَانَ ابْنُ النَّاظُورِ، صَاحِبُ إِيلِيَاءَ وَهِرَقْلَ، سُقُفًّا عَلَى نَصَارَى الشَّأْمِ يُحَدِّثُ أَنَّ هِرَقْلَ حِينَ قَدِمَ إِيلِيَاءَ، أَصْبَحَ يَوْمًا خَبِيثَ النَّفْسِ، فَقَالَ بَعْضُ بَطَارِقَتِهِ: قَدِ اسْتَنْكَرْنَا هَيْئَتَكَ، قَالَ ابْنُ النَّاظُورِ: وَكَانَ هِرَقْلُ حَزَّاءً يَنْظُرُ فِي النُّجُومِ، فَقَالَ لَهُمْ حِينَ سَأَلُوهُ: إِنِّي رَأَيْتُ اللَّيْلَةَ حِينَ نَظَرْتُ فِي النُّجُومِ مَلِكَ الخِتَانِ قَدْ ظَهَرَ، فَمَنْ يَخْتَتِنُ مِنْ هَذِهِ الأُمَّةِ؟ قَالُوا: لَيْسَ يَخْتَتِنُ إِلَّا اليَهُودُ، فَلَا يُهِمَّنَّكَ شَأْنُهُمْ، وَاكْتُبْ إِلَى مَدَايِنِ مُلْكِكَ، فَيَقْتُلُوا مَنْ فِيهِمْ مِنَ اليَهُودِ. فَبَيْنَمَا هُمْ عَلَى أَمْرِهِمْ، أُتِيَ هِرَقْلُ بِرَجُلٍ أَرْسَلَ بِهِ مَلِكُ غَسَّانَ يُخْبِرُ عَنْ خَبَرِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَلَمَّا اسْتَخْبَرَهُ هِرَقْلُ قَالَ: اذْهَبُوا فَانْظُرُوا أَمُخْتَتِنٌ هُوَ أَمْ لَا، فَنَظَرُوا إِلَيْهِ، فَحَدَّثُوهُ أَنَّهُ مُخْتَتِنٌ، وَسَأَلَهُ عَنِ العَرَبِ، فَقَالَ: هُمْ يَخْتَتِنُونَ، فَقَالَ هِرَقْلُ: هَذَا مُلْكُ هَذِهِ الأُمَّةِ قَدْ ظَهَرَ. ثُمَّ كَتَبَ هِرَقْلُ إِلَى صَاحِبٍ لَهُ بِرُومِيَةَ، وَكَانَ نَظِيرَهُ فِي العِلْمِ، وَسَارَ هِرَقْلُ إِلَى حِمْصَ، فَلَمْ يَرِمْ حِمْصَ حَتَّى أَتَاهُ كِتَابٌ مِنْ صَاحِبِهِ يُوَافِقُ رَأْيَ هِرَقْلَ عَلَى خُرُوجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَأَنَّهُ نَبِيٌّ، فَأَذِنَ هِرَقْلُ لِعُظَمَاءِ الرُّومِ فِي دَسْكَرَةٍ لَهُ بِحِمْصَ، ثُمَّ أَمَرَ بِأَبْوَابِهَا فَغُلِّقَتْ، ثُمَّ اطَّلَعَ فَقَالَ: يَا مَعْشَرَ الرُّومِ، هَلْ لَكُمْ فِي الفَلَاحِ وَالرُّشْدِ، وَأَنْ يَثْبُتَ مُلْكُكُمْ، فَتُبَايِعُوا هَذَا النَّبِيَّ؟ فَحَاصُوا حَيْصَةَ حُمُرِ الوَحْشِ إِلَى الأَبْوَابِ، فَوَجَدُوهَا قَدْ غُلِّقَتْ، فَلَمَّا رَأَى هِرَقْلُ نَفْرَتَهُمْ، وَأَيِسَ مِنَ الإِيمَانِ، قَالَ: رُدُّوهُمْ عَلَيَّ، وَقَالَ: إِنِّي قُلْتُ مَقَالَتِي آنِفًا أَخْتَبِرُ بِهَا شِدَّتَكُمْ عَلَى دِينِكُمْ، فَقَدْ رَأَيْتُ، فَسَجَدُوا لَهُ وَرَضُوا عَنْهُ، فَكَانَ ذَلِكَ آخِرَ شَأْنِ هِرَقْلَ رَوَاهُ صَالِحُ بْنُ كَيْسَانَ، وَيُونُسُ، وَمَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ

আবূল ইয়ামানিল হাকাম ইব্‌ন নাফি’ই আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বলেন: শুয়ায়ব আমাদেরকে হাদীসটি খবর দিলেন যুহুরী থেকে, তিনি বললেন: ‘উবায়দুল্লাহ ইব্‌ন ‘আবদুল্লাহ ইব্‌ন ‘উত্‌বাহ ইব্‌ন মাস্‌’উদ আমাকে হাদীসটি খবর দিলেন ‘আব্দুল্লাহ ইব্‌ন ‘আব্বাস থেকে, তিনি তাকে খবর দেন আবূ সুফিয়ান ইব্‌ন হরব থেকে যে, তিনি বললেন: রাজা হিরাক্লিয়াস একদা তাঁর নিকট লোক প্রেরণ করলেন। তিনি তখন ব্যবসা উপলক্ষে কুরাইশদের কাফেলায় সিরিয়ায় ছিলেন। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সে সময় আবূ সুফিয়ান ও কুরাইশদের সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সন্ধিতে আবদ্ধ ছিলেন। আবূ সুফিয়ান তার সাথী সহ হিরাক্লিয়াসের নিকট আসলেন এবং দোভাষীকে ডাকলেন। অতঃপর জিজ্ঞেস করলেন, ‘এই যে ব্যক্তি নিজেকে নবী বলে দাবী করে-তোমাদের মাঝে বংশের দিক হতে তাঁর সবচেয়ে নিকটাত্মীয় কে’? আবূ সুফিয়ান বলেন, ‘আমি বললাম, বংশের দিক দিয়ে আমিই তাঁর নিকটাত্মীয়’। তিনি বললেন, ‘তাঁকে আমার অতি নিকটে আন এবং তাঁর সাথীদেরকেও তার পেছনে বসিয়ে দাও’।

অতঃপর তাঁর দোভাষীকে বললেন, ‘তাদের বলে দাও, আমি এর নিকট সে ব্যক্তি সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞেস করব, যদি সে আমার নিকট মিথ্যা বলে, তখন সঙ্গে সঙ্গে তোমরা তাকে মিথ্যুক বলবে। আবূ সুফিয়ান বলেন, ‘আল্লাহর কসম! আমার যদি এ লজ্জা না থাকত যে, তারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলে প্রচার করবে, তবে আমি অবশ্যই তাঁর সম্পর্কে মিথ্যা বলতাম’।

অতঃপর তিনি তাঁর সম্পর্কে আমাকে সর্বপ্রথম যে প্রশ্ন করেন তা হলো, ‘বংশমর্যাদার দিক দিয়ে তোমাদের মধ্যে সে কিরূপ?’ আমি বললাম, ‘তিনি আমাদের মধ্যে খুব সম্ভ্রান্ত বংশের’। তিনি বললেন, ‘তোমাদের মধ্যে এর পূর্বে আর কখনো কি কেউ এরূপ কথা বলেছে?’ আমি বললাম, ‘না’। তিনি বললেন, ‘তাঁর পূর্বপুরুষের মধ্যে কেউ কি বাদশাহ ছিলেন?’ আমি বললাম, ‘না’। তিনি বললেন, ‘সম্ভ্রান্ত মর্যাদাবান শ্রেণীর লোকেরা তাঁর অনুসরণ করে, নাকি দুর্বল লোকেরা?’ আমি বললাম, ‘দুর্বল লোকেরা’। তিনি বললেন, ‘তাদের সংখ্যা কি বাড়ছে, না কমছে?’ আমি বললাম, ‘তারা বেড়েই চলছে’। তিনি বললেন, ‘তাঁর ধর্মে ঢুকে কেউ কি অসন্তুষ্ট হয়ে তা ত্যাগ করে?’ আমি বললাম, ‘না’। তিনি বললেন, ‘তাঁর দাবীর পূর্বে তোমরা কি কখনো তাঁকে মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছ?’ আমি বললাম, ‘না’। তিনি বললেন, ‘তিনি কি সন্ধি ভঙ্গ করেন?’ আমি বললাম, ‘না’। তবে আমরা তাঁর সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট সময়ের সন্ধিতে আবদ্ধ আছি। জানি না এর মধ্যে তিনি কি করবেন’। আবূ সুফিয়ান বলেন, ‘এ কথাটি ব্যতীত নিজের পক্ষ হতে আর কোন কথা যোগ করার সু্যোগই আমি পাইনি’। তিনি বললেন, ‘তোমরা তাঁর সঙ্গে কখনো যুদ্ধ করেছ কি?’ আমি বললাম, ‘হ্যাঁ’। তিনি বললেন, ‘তাঁর সঙ্গে তোমাদের যুদ্ধের পরিণাম কি হয়েছে?’ আমি বললাম, ‘তাঁর ও আমাদের মধ্যে যুদ্ধের ফলাফল কুপের বালতির ন্যায়’। কখনো তাঁর পক্ষে যায়, আবার কখনো আমাদের পক্ষে আসে’। তিনি বললেন, ‘তিনি তোমাদের কিসের আদেশ দেন?’ আমি বললাম, ‘তিনি বলেনঃ তোমরা এক আল্লাহর ইবাদত কর এবং তাঁর সঙ্গে কোন কিছুর অংশীদার সাব্যস্ত করো না এবং তোমাদের পূর্বপুরুষরা যা বলে তা ত্যাগ কর। আর তিনি আমাদের সালাত আদায়ের, সত্য বলার, চারিত্রিক নিষ্কলুষতার এবং আত্মীয়দের সঙ্গে সদাচরণ করার নির্দেশ দেন’।

অতঃপর তিনি দোভাষীকে বললেন, ‘তুমি তাকে বল, আমি তোমার নিকট তাঁর বংশ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছি। তুমি তার জবাবে উল্লেখ করেছ যে, তিনি তোমাদের মধ্যে সম্ভ্রান্ত বংশের। প্রকৃতপক্ষে রসূলগণকে তাঁদের কওমের উচ্চ বংশেই পাঠানো হয়ে থাকে। তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি, এ কথা তোমাদের মধ্যে ইতিপূর্বে আর কেউ বলেছে কিনা? তুমি বলেছ, ‘না’। তাই আমি বলছি, পূর্বে যদি কেউ এরূপ বলত, তবে আমি অবশ্যই বলতাম, ইনি এমন এক ব্যক্তি, যিনি তাঁর পুর্বসূরীর কথারই অনুসরণ করছেন। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি, তাঁর পূর্বপুরুষদের মধ্যে কোন বাদশাহ ছিলেন কিনা? তুমি তার জবাবে বলেছ, ‘না’। তাই আমি বলছি যে, তাঁর পূর্বপুরুষের মধ্যে যদি কোন বাদশাহ থাকতেন, তবে আমি বলতাম, ইনি এমন এক ব্যক্তি যিনি তাঁর বাপ-দাদার বাদশাহী ফিরে পেতে চান। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি-এর পূর্বে কখনো তোমরা তাঁকে মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছ কিনা? তুমি বলেছ, ‘না’। এতে আমি বুঝলাম, এমনটি হতে পারে না যে, কেউ মানুষের ব্যাপারে মিথ্যা পরিত্যাগ করবে আর আল্লাহর ব্যাপারে মিথ্যা বলবে। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি, সম্ভ্রান্ত লোক তাঁর অনুসরণ করে, না সাধারণ লোক? তুমি বলেছ, সাধারণ লোকই তাঁর অনুসরণ করে। আর বাস্তবেও এই শ্রেনীর লোকেরাই হন রসূলগণের অনুসারী। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি, তারা সংখ্যায় বাড়ছে না কমছে? তুমি বলেছ, বাড়ছে। প্রকৃতপক্ষে ঈমানে পূর্ণতা লাভ করা পর্যন্ত এ রকমই হয়ে থাকে। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি, তাঁর দীনে প্রবেশ করে কেউ কি অসন্তুষ্ট হয়ে তা ত্যাগ করে? তুমি বলেছ, ‘না’। ঈমানের স্নিগ্ধতা অন্তরের সঙ্গে মিশে গেলে ঈমান এরূপই হয়। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি, তিনি সন্ধি ভঙ্গ করেন কিনা? তুমি বলেছ, ‘না’। প্রকৃতপক্ষে রসূলগণ এরূপই, সন্ধি ভঙ্গ করেন না। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি, তিনি তোমাদের কিসের আদেশ দেন? তুমি বলেছ, তিনি তোমাদের এক আল্লাহর বন্দেগী করা ও তাঁর সঙ্গে অন্য কিছুর অংশীদার স্থাপন না করার নির্দেশ দেন। তিনি তোমাদের নিষেধ করেন মূর্তিপূজা করতে আর তোমাদের আদেশ করেন সালাত আদায় করতে, সত্য বলতে ও সচ্চরিত্র থাকতে। তুমি যা বলেছ তা যদি সত্যি হয়, তবে শীঘ্রই তিনি আমার দু’পায়ের নীচের জায়গার অধিকারী হবেন। আমি নিশ্চিত জানতাম, তাঁর আবির্ভাব হবে; কিন্তু তিনি যে তোমাদের মধ্য হতে হবেন, এ কথা ভাবতে পারিনি। যদি জানতাম, আমি তাঁর নিকট পৌছতে পারব, তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য আমি যে কোন কষ্ট সহ্য করে নিতাম। আর আমি যদি তাঁর নিকট থাকতাম তবে অবশ্যই তাঁর দু’খানা পা ধৌত করে দিতাম। অতঃপর তিনি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সেই পত্রখানি আনার নির্দেশ দিলেন, যা তিনি দিহ্‌ইয়াতুল কালবী (রাজিআল্লাহু আনহু)-কে দিয়ে বসরার শাসকের মাধ্যমে হিরাক্লিয়াসের নিকট প্রেরণ করেছিলেন। তিনি তা পড়লেন। তাতে (লেখা) ছিলঃ

বিসমিল্লা-হির রহমা-নির রহীম (পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে)। আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পক্ষ হতে রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের প্রতি। -শান্তি (বর্ষিত হোক) তার প্রতি, যে হিদায়াতের অনুসরণ করে। তারপর আমি আপনাকে ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছি। ইসলাম গ্রহণ করুন, শান্তিতে থাকবেন। আল্লাহ আপনাকে দ্বিগুণ প্রতিদান দান করবেন। আর যদি মুখ ফিরিয়ে নেন, তবে সকল প্রজার পাপই আপনার উপর বর্তাবে।

“হে আহলে কিতাব! এসো সে কথায় যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে এক ও অভিন্ন। তা হল, আমরা যেন আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত না করি, কোন কিছুকেই যেন তাঁর শরীক সাব্যস্ত না করি এবং আমাদের কেউ যেন কাউকে পালনকর্তারূপে গ্রহণ না করে আল্লাহকে ত্যাগ করে। যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তোমরা বল, “তোমরা সাক্ষী থাক, আমারা তো মুসলিম”। (সূরা আল-‘ইমরান ৩/৬৪)

আবূ সুফিয়ান বলেন, ‘হিরাক্লিয়াস যখন তাঁর বক্তব্য শেষ করলেন এবং পত্র পাঠও শেষ করলেন, তখন সেখানে হট্টগোল শুরু হয়ে গেল, চীৎকার ও হৈ-হল্লা চরমে পৌছল এবং আমাদেরকে বের করে দেয়া হলো। আমাদেরকে বের করে দিলে আমি আমার সাথীদের বললাম, আবূ কাবশার ছেলের বিষয় তো শক্তিশালী হয়ে উঠেছে, বনূ আসফার (রোম)-এর বাদশাহও তাকে ভয় পাচ্ছে! তখন থেকে আমি বিশ্বাস রাখতাম, তিনি শীঘ্রই জয়ী হবেন। অবশেষে আল্লাহ তা’আলা আমাকে ইসলাম গ্রহণের তাওফীক দান করলেন।

ইব্‌ন নাতূর ছিলেন জেরুযালেমের শাসনকর্তা এবং হিরাক্লিয়াসের বন্ধু ও সিরিয়ার খৃস্টানদের পাদ্রী। তিনি বলেন, হিরাক্লিয়াস যখন জেরুজালেম আসেন, তখন একদা তাঁকে অত্যন্ত মলিন দেখাচ্ছিল। তাঁর একজন বিশিষ্ট সহচর বলল, ‘আমরা আপনার চেহারা আজ এত মলিন দেখছি, ইব্‌ন নাতূর বলেন, হিরাক্লিয়াস ছিলেন জ্যোতির্বিদ, জ্যোতির্বিদ্যায় তাঁর দক্ষতা ছিল। তারা জিজ্ঞেস করলে তিনি তাদের বললেন, ‘আজ রাতে আমি তারকারাজির দিকে তাকিয়ে দেখতে পেলাম, খতনাকারীদের বাদশাহ আবির্ভূত হয়েছেন। বর্তমান যুগে কোন্‌ জাতি খাতনা করে’? তারা বলল, ‘ইয়াহূদ জাতি ব্যতীত কেউ খাতনা করে না। কিন্তু তাদের ব্যাপারে আপনি মোটেও চিন্তিত হবেন না। আপনার রাজ্যের শহরগুলোতে লিখে পাঠান, তারা যেন সেখানকার সকল ইয়াহূদীকে কতল করে ফেলে’। তারা যখন এ ব্যাপারে ব্যতিব্যস্ত ছিল, তখন হিরাক্লিয়াসের নিকট জনৈক ব্যক্তিকে হাযির করা হলো, যাকে গাস্‌সানের শাসনকর্তা পাঠিয়েছিল। সে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পর্কে খবর দিচ্ছিল। হিরাক্লিয়াস তার কাছ থেকে খবর জেনে নিয়ে বললেন, ‘তোমরা একে নিয়ে গিয়ে দেখ, তার খাতনা হয়েছে কি-না’। তারা তাকে নিয়ে গিয়ে দেখে এসে সংবাদ দিল, তার খতনা হয়েছে। হিরাক্লিয়াস তাকে আরবদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে সে জওয়াব দিল, ‘তারা খাতনা করে’। অতঃপর হিরাক্লিয়াস তাদের বললেন, ইনি [আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)] এ উম্মতের বাদশাহ। তিনি আবির্ভূত হয়েছেন’। অতঃপর হিরাক্লিয়াস রোমে তাঁর বন্ধুর নিকট লিখলেন। তিনি জ্ঞানে তাঁর সমকক্ষ ছিলেন। পরে হিরাক্লিয়াস হিমস চলে গেলেন। হিমসে থাকতেই তাঁর নিকট তাঁর বন্ধুর চিঠি এলো, যা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আবির্ভাব এবং তিনিই যে প্রকৃত নবী, এ ব্যাপারে হিরাক্লিয়াসের মতকে সমর্থন করেছিল। তারপর হিরাক্লিয়াস তাঁর হিমসের প্রাসাদে রোমের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের ডাকলেন এবং প্রাসাদের সকল দরজা বন্ধ করার আদেশ দিলে দরজা বন্ধ করা হলো। অতঃপর তিনি সম্মুখে এসে বললেন, হে রোমের অধিবাসী! তোমরা কি মঙ্গল, হিদায়াত এবং তোমাদের রাষ্ট্রের স্থায়িত্ব চাও? তাহলে এই নবীর বায়’আত গ্রহণ কর’। এ কথা শুনে তারা বন্য গাধার ন্যায় দ্রুত নিঃশ্বাস ফেলতে ফেলতে দরজার দিকে ছুটল, কিন্তু তারা তা বন্ধ দেখতে পেল। হিরাক্লিয়াস যখন তাদের অনীহা লক্ষ্য করলেন এবং তাদের ঈমান থেকে নিরাশ হয়ে গেলেন, তখন বললেন, ‘ওদের আমার নিকট ফিরিয়ে আন’। তিনি বললেন, ‘আমি একটু পূর্বে যে কথা বলেছি, তা দিয়ে তোমরা তোমাদের দ্বীনের উপর কতটুকু অটল, কেবল তার পরীক্ষা করছিলাম। এখন তা দেখে নিলাম’। একথা শুনে তারা তাঁকে সাজদাহ করল এবং তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হলো। এটাই ছিল হিরাক্লিয়াসের সর্বশেষ অবস্থা।

আবূ ‘আবদুল্লাহ [বুখারী (রহমাহুল্লাহ)] বলেন, সালিহ ইব্‌ন কায়সান (রহমাহুল্লাহ) , ইউনুস (রহমাহুল্লাহ) ও মা’মার (রহমাহুল্লাহ) এ হাদীস যুহরী (রহমাহুল্লাহ) থেকে রিওয়ায়াত করেছেন।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা- [৫১, ২৬৮১, ২৮০৪, ২৯৪১, ২৯৭৮, ৩১৭৪, ৪৫৫৩, ৫৯৮০, ৬২৬০, ৭১৯৬, ৭৫৪১ দ্রষ্টব্য] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৬]

ফুটনোটঃ
১. আবূ কাবশা : এ নামে জনৈক ব্যক্তি প্রতিমা পূজার বিরোধী ছিল বলে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তার ছেলে অর্থাৎ আবূ কাবশা বলা হয়েছে। এ মর্মে আরও কয়েকটি হাদীস বর্ণনা রয়েছে।

كِتَابُ الْإِيمَان

কিতাবুল ঈমান – ২

٢. بَابُ قَوْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «بُنِيَ الإِسْلَامُ عَلَى خَمْسٍ»

২. বাব/পরিচ্ছেদ : রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর বাণী : ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি

وَهُوَ قَوْلٌ وَفِعْلٌ، وَيَزِيدُ وَيَنْقُصُ، قَالَ اللَّهُ تَعَالَى {لِيَزْدَادُوا إِيمَانًا مَعَ إِيمَانِهِمْ} [الفتح: ٤] {وَزِدْنَاهُمْ هُدًى} [الكهف: ١٣] {وَيَزِيدُ اللَّهُ الَّذِينَ اهْتَدَوْا هُدًى} [مريم: ٧٦] {وَالَّذِينَ اهْتَدَوْا زَادَهُمْ هُدًى وَآتَاهُمْ تَقْوَاهُمْ} [محمد: ١٧] وَقَوْلُهُ: {وَيَزْدَادَ الَّذِينَ آمَنُوا إِيمَانًا} [المدثر: ٣١] وَقَوْلُهُ: {أَيُّكُمْ زَادَتْهُ هَذِهِ إِيمَانًا فَأَمَّا الَّذِينَ آمَنُوا فَزَادَتْهُمْ إِيمَانًا} [التوبة: ١٢٤] وَقَوْلُهُ جَلَّ ذِكْرُهُ: {فَاخْشَوْهُمْ فَزَادَهُمْ إِيمَانًا} [آل عمران: ١٧٣] وَقَوْلُهُ تَعَالَى: {وَمَا زَادَهُمْ إِلَّا إِيمَانًا وَتَسْلِيمًا} [الأحزاب: ٢٢] وَالحُبُّ فِي اللَّهِ وَالبُغْضُ فِي اللَّهِ مِنَ الإِيمَانِ ” وَكَتَبَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ العَزِيزِ إِلَى عَدِيِّ بْنِ عَدِيٍّ: «إِنَّ لِلْإِيمَانِ فَرَائِضَ، وَشَرَائِعَ، وَحُدُودًا، وَسُنَنًا، فَمَنِ اسْتَكْمَلَهَا اسْتَكْمَلَ الإِيمَانَ، وَمَنْ لَمْ يَسْتَكْمِلْهَا لَمْ يَسْتَكْمِلِ الإِيمَانَ، فَإِنْ أَعِشْ فَسَأُبَيِّنُهَا لَكُمْ حَتَّى تَعْمَلُوا بِهَا، وَإِنْ أَمُتْ فَمَا أَنَا عَلَى صُحْبَتِكُمْ بِحَرِيصٍ» وَقَالَ إِبْرَاهِيمُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَلَكِنْ لِيَطْمَئِنَّ قَلْبِي» وَقَالَ مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ: «اجْلِسْ بِنَا نُؤْمِنْ سَاعَةً» وَقَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ: «اليَقِينُ الإِيمَانُ كُلُّهُ» وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ: «لَا يَبْلُغُ العَبْدُ حَقِيقَةَ التَّقْوَى حَتَّى يَدَعَ مَا حَاكَ فِي الصَّدْرِ» وَقَالَ مُجَاهِدٌ: «شَرَعَ لَكُمْ مِنَ الدِّينِ أَوْصَيْنَاكَ يَا مُحَمَّدُ وَإِيَّاهُ دِينًا وَاحِدًا» وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: «شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا» سَبِيلًا وَسُنَّةً باب دُعَاؤُكُمْ إِيمَانُكُمْ لِقَوْلِهِ عَزَّ وَجَلَّ: {قُلْ مَا يَعْبَأُ بِكُمْ رَبِّي لَوْلَا دُعَاؤُكُمْ} [الفرقان: ٧٧] وَمَعْنَى الدُّعَاءِ فِي اللُّغَةِ الإِيمَانُ

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর বাণী : ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি: মৌখিক স্বীকৃতি (ইয়াকীনসহ) এবং কর্মই ঈমান এবং তা বড়ে ও কমে । আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন : “যাতে তারা তাদের ঈমানের সাথে ঈমান দৃঢ় করে নেয়” (সূরা আল-ফাত্‌হ, ৪৮:৪)। আমরা তাদের সৎ পথে চলার শক্তি বাড়িয়ে দিয়েছিলাম (সূরা আল-কাহ্‌ফ, ১৮:১৩)। এবং যারা সৎপথে চলে আল্লাহ তাদের হিদায়াত দান করেন (সূরা মারইয়াম, ১৯:৭৬)। এবং যারা সৎপথ অবলম্বন করে আল্লাহ তাদের হিদায়াত বাড়িয়ে দেন এবং তাদের সৎপথে চলার শক্তি বাড়িয়ে দেন (সূরা মুহাম্মাদ, ৪৭:১৭), যাতে মু’মিনদের ঈমান বেড়ে যায় (সূরা আল-মুদ্দাসসির, ৭৪:৩১)। আল্লাহ তা’আলা আরো ইরশাদ করেন, এটা তোমাদের মধ্যে কার ঈমান বাড়িয়ে দিল? (সূরা আত-তাওবাহ, ৯:১২৪)। এবং তার বাণী, فاخشوهم فزادهم ايمانا “সুতরাং তোমরা তাদের ভয় কর ; আর এটা তাদের ঈমান বাড়িয়ে দিয়েছিল” (সূরা আলি ‘ইমরান, ৩:১৭৩)। وما زادهم الا ايمانا و تسليما “আর এতে তাদের ঈমান ও আনুগত্যই বাড়লো” (সূরা আল-আহযাব, ৩৩:২২)। আর আল্লাহর জন্য ভালবাসা ও আল্লাহর জন্য ঘৃণা করা ঈমানের অংশ। উমর ইব্‌ন ‘আব্দুল ‘আযীয (রহমাহুল্লাহ) ‘আদী ইব্‌ন ‘আদী (র) এর কাছে পত্রে লিখেছিলেন, ‘ঈমানের কতগুলো ফরয, কতকগুলো হুকুম-আহকাম, বিধি-নিষেধ এবং সুন্নাত রয়েছে। যে এগুলো পূর্ণভাবে আদায় করে তার ঈমান পূর্ণ হয়। আর যে এগুলো পূর্ণভাবে আদায় করে না, তার ঈমান পূর্ণ হয় না। আমি যদি বেঁচে থাকি তবে অচিরেই এগুলো তোমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করব, যাতে তোমরা তার উপর ‘আমল করতে পার। আর যদি আমার মৃত্যু হয় তাহলে জেনে রাখ, তোমাদের সাহচর্যে থাকার জন্য আমি লালায়িত নই’। ইবরাহীম (‘আ:) বলেন, ولكن ليطمئن فلبى ‘তবে এ তো কেবল চিত্ত প্রশান্তির জন্য’ (সূরা আল-বাকারাহ, ২:২৬০)। মু’আয (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) বলেন, “এসো আমাদের সঙ্গে বস, কিছুক্ষণ ঈমানের আলোচনা করি।” ইব্‌ন মাসঊদ (রাজিআল্লাহু আনহু) বলেন, ‘ইয়াকীন হল পূর্ণ ঈমান’। ইব্‌ন ‘উমর (রাজিআল্লাহু আনহু) বলেন, ‘বান্দা প্রকৃত তাকওয়ায় পৌছতে পারে না, যতক্ষণ পর্যন্ত সে, মনে যে বিষয়ে খটকা জাগে, তা ত্যাগ না করে’। মুজাহিদ (রাজিআল্লাহু আনহু) এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, شرع لكم من الدين ماوص به نؤحا অর্থাৎ হে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমি আপনাকে এবং নূহকে একই দীনের নির্দেশ দিয়েছি। ইব্‌ন আব্বাস (রাজিআল্লাহু আনহু) বলেন, شرعة و منهاجا অর্থাৎ পথ ও পন্থা – এবং তোমাদের দু’আ অর্থাৎ তোমাদের ঈমান।

ফুটনোটঃ
১. কোন কোন ফকীহদের নিকট ঈমান বাড়েও না কমেও না। বরং সমান থাকে। তাদের নিকট একজন নবীর ঈমান ও ইবলিসের ঈমান এক সমান। তাদের এই ‘আকীদাহ কুরআন ও সুন্নাহ বিরোধী। এটা মুরজি‘আ সম্প্রদায়ের ভ্রান্ত ‘আকীদাহর অন্তর্ভুক্ত।

হাদীস নং ৮

হাদিসের মান: সহীহ

٨ – حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، قَالَ: أَخْبَرَنَا حَنْظَلَةُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ خَالِدٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ” بُنِيَ الإِسْلَامُ عَلَى خَمْسٍ: شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَإِقَامِ الصَّلَاةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَالحَجِّ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ “

‘উবায়দুল্লাহ্‌ ইব্‌ন মূসা আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বলেন: হানযালা ইবনে আবূ সুফিয়ান আমাদেরকে হাদীসটি খবর দিলেন ইকরামা ইবনে খালিদ থেকে, তিনি উমার (রাজিআল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি বললেন- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহে ওয়া সাল্লাম বলেন, ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি। ১. আল্লাহ ছাড়া (সত্য কোন) ইলাহ নেই এবং নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহে ওয়া সাল্লাম আল্লাহর রাসূল-এ কথার সাক্ষ্য দান। ২. সালাত কায়েম করা। ৩. যাকাত প্রদান করা। ৪. হজ্জ করা এবং ৫. রমযান এর সিয়াম পালন করা।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা – [৪৫১৪; মুসলিম ১/৫ হাঃ ১৬, আহমাদ ৬০২২, ৬৩০৯] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭, ইসলামী ফাউন্ডশনঃ ৭]

٣. بَابُ أُمُورِ الإِيمَانِ

৩. বাব/পরিচ্ছেদ : ঈমানের বিষয় সমূহ।

وَقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: {لَيْسَ البِرَّ أَنْ تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ قِبَلَ المَشْرِقِ وَالمَغْرِبِ، وَلَكِنَّ البِرَّ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَاليَوْمِ الآخِرِ وَالمَلَائِكَةِ وَالكِتَابِ وَالنَّبِيِّينَ وَآتَى المَالَ عَلَى حُبِّهِ ذَوِي القُرْبَى وَاليَتَامَى وَالمَسَاكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ، وَالسَّائِلِينَ وَفِي الرِّقَابِ، وَأَقَامَ الصَّلَاةَ، وَآتَى الزَّكَاةَ، وَالمُوفُونَ بِعَهْدِهِمْ إِذَا عَاهَدُوا، وَالصَّابِرِينَ فِي البَأْسَاءِ وَالضَّرَّاءِ وَحِينَ البَأْسِ أُولَئِكَ الَّذِينَ صَدَقُوا وَأُولَئِكَ هُمُ المُتَّقُونَ} [البقرة: ١٧٧] وَقَوْلِهِ: {قَدْ أَفْلَحَ المُؤْمِنُونَ} [المؤمنون: ١] الآيَةَ

আল্লাহ তা’লার বাণী : “পূর্ব এবং পশ্চিম দিকে তোমাদের মুখ ফিরানোতে কোন কল্যাণ নেই, কিন্তু কল্যাণ আছে কেউ আল্লাহ তা’আলার উপর ঈমান আনলে, আখিরাত, মালাইকা, কিতাব সমূহ ও নবীগণের উপর ঈমান আনলে এবং আল্লাহর ভালবাসায় আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতীম-অভাবগ্রস্ত, মুসাফির, সাহায্য প্রার্থীদের এবং দাসত্ব মোচনের জন্য সম্পদ দান করলে, সালাত কায়েম করলে ও যাকাত দিলে এবং ওয়াদা দিয়ে তা পূরণ করলে, অর্থসংকটে, দুঃখ-কষ্টে ও যুদ্ধকালে ধৈর্য ধারণ করলে। তারাই সত্যপরায়ণ ও তারাই মুত্তাকী।” [সূরা বাকারা, ২:১৭৭] “অবশ্যই সফলকাম হয়েছে মু’মিনগণ, যারা বিনয়-নম্র নিজেদের সালাতে…” [সূরা আল-মু’মিনূন, ২৩:১-২]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯

হাদিসের মান: সহীহ

٩ – حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الجُعْفِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ العَقَدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلَالٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ «الإِيمَانُ بِضْعٌ وَسِتُّونَ شُعْبَةً، وَالحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الإِيمَانِ»

আব্দুল্লাহ ইব্‌ন মুহাম্মাদ জু’ফী আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: আবূ ‘আমির আকাদী আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: সুলাইমান ইব্‌ন বিলাল আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন আব্দুল্লাহ ইবনে দীনার থেকে, তিনি আবূ সালিহ থেকে, তিনি আবূ হুরাইরা (রাজিআল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: ঈমানের ষাটেরও অধিক শাখা আছে। আর লজ্জা হচ্ছে ঈমানের একটি শাখা।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [মুসলিম ১/১২ হাঃ ৩৫, আহমাদ ৯৩৭২] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৮]

٤. ‌‌بَابٌ: المُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ المُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ

৪. পরিচ্ছেদ : প্রকৃত মুসলিম সে-ই, যার জিহবা ও হাত থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১০

হাদিসের মান: সহীহ

١٠ – حَدَّثَنَا آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي السَّفَرِ، وَإِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «المُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ المُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ، وَالمُهَاجِرُ مَنْ هَجَرَ مَا نَهَى اللَّهُ عَنْهُ» قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: وَقَالَ أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا دَاوُدُ هُوَ ابْنُ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ عَامِرٍ، قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ يَعْنِي ابْنَ عَمْرٍو، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَ عَبْدُ الأَعْلَى، عَنْ دَاوُدَ، عَنْ عَامِرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

আদম ইব্‌ন আবূ ইয়াসিন আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: শু’বাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন আব্দুল্লাহ ইবনে আবি শাফার ও ইসমাইল ইব্‌ন আবূ খালিদ থেকে, তিনি শা’বী থেকে, তিনি আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন ‘আম্‌র (রাজিআল্লাহু আনহু) থেকে: তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: “সে-ই মুসলিম, যার জিহবা ও হাত হতে সকল মুসলিম নিরাপদ এবং সে-ই প্রকৃত মুহাজির, আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা যে ত্যাগ করে”। (অন্য একটি বর্ণনাতে) আবূ আবদুল্লাহ (রহমাহুল্লাহ) ও আবূ মু‘আবিয়া (রহমাহুল্লাহ) বললেন: আমাদের কাছে দাঊদ ইব্‌ন আবূ হিন্দ (রহমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করলেন ‘আমির (রহমাহুল্লাহ) থেকে, তিনি বললেন: আমি শুনলাম আবদুল্লাহ অর্থাৎ ইবন ‘আমর (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলইহে ওয়াসাল্লাম) থেকে; এবং আবদুল ‘আলা (রহমাহুল্লাহ) বললেন দাঊদ (রহমাহুল্লাহ) থেকে, দাঊদ (রহমাহুল্লাহ) আমির (রহমাহুল্লাহ) থেকে, আমির (রহমাহুল্লাহ) আবদুল্লাহ (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলইহে ওয়াসাল্লাম) থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [৬৪৮৪; মুসলিম ১/১৪ হাঃ ৪০, আহমাদ ৬৭৬৫] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৯]

٥. ‌‌بَابٌ: أَيُّ الإِسْلَامِ أَفْضَلُ؟

৫. পরিচ্ছেদ : ইসলামে কোন কাজটি উত্তম।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১

হাদিসের মান: সহীহ

١١ – حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ القُرَشِيُّ ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بُرْدَةَ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَيُّ الإِسْلَامِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «مَنْ سَلِمَ المُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ، وَيَدِهِ»

সা‘ঈদ ইব্‌ন ইয়া‘হ্‌ইয়া ইব্‌ন সা‘ঈদ কুরাশী আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেনঃ আমার পিতা আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেনঃ আবু বুর্‌দাহ ইব্‌ন ‘আব্দুল্লা ইব্‌ন আবূ বুর্‌দাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন আবূ বুর্‌দাহ থেকে, তিনি আবূ মূসা (রাজিআল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি বলেনঃ তারা (সাহাবাগণ) জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! ইসলামে কোন্ জিনিসটি উত্তম? তিনি বললেনঃ যার জিহবা ও হাত হতে মুসলিমগণ নিরাপদ থাকে।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [মুসলিম ১/১৪ হাঃ ৪২, আহমাদ ৬৭৬৫] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১০]

۶. ‌‌بَابٌ: إِطْعَامُ الطَّعَامِ مِنَ الإِسْلَامِ

৬. পরিচ্ছেদ : খাবার খাওয়ানো ইসলামের অন্তর্ভুক্ত

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১২

হাদিসের মান: সহীহ

١٢ – حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ خَالِدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ، عَنْ أَبِي الخَيْرِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، أَنَّ رَجُلًا سَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَيُّ الإِسْلَامِ خَيْرٌ؟ قَالَ: «تُطْعِمُ الطَّعَامَ، وَتَقْرَأُ السَّلَامَ عَلَى مَنْ عَرَفْتَ وَمَنْ لَمْ تَعْرِفْ»

‘আমর ইব্‌ন খালিদ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেনঃ লাইস আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ইয়াজিদ থেকে, তিনি আবূ খায়ের থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইব্‌ন ‘আম্‌র (রাজিআল্লাহু আনহু) থেকে, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলা ইহিস সাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করল, ইসলামের কোন কাজটি উত্তম? তিনি বললেন, তুমি খাবার খাওয়াবে ও পরিচিত অপরিত সবাইকে সালাম প্রদান করবে।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [২৮, ৬২৩৬; মুসলিম ১/১৪ হাঃ ৪২, আহমাদ ৬৭৬৫] [আধুনিক প্রকাশনী: ১১, ইসলামী ফাউন্ডেশন : ১১]

٧. ‌‌بَابٌ: مِنَ الإِيمَانِ أَنْ يُحِبَّ لِأَخِيهِ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ

৭. পরিচ্ছেদ : নিজের জন্য যা পসন্দনীয়, তা তোমার ভাইয়ের জন্যও পসন্দ করা ঈমানের অংশ।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৩

হাদিসের মান: সহীহ

١٣ – حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَنْ حُسَيْنٍ المُعَلِّمِ، قَالَ: حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ، حَتَّى يُحِبَّ لِأَخِيهِ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ»

মুসাদ্দাদ (রহমাহুল্লাহ) আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ইয়া‘হ্‌ইয়া আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন শু‘বাত থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে; এবং হুসাইন মু‘আল্লিম থেকে (আর একটি হাদীস বর্ণনা), তিনি বললেন কাতাদাহ হাদীস বর্ণনা করলেন আনাস থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে, তিনি ইরশাদ করলেন: তোমাদের কেউ প্রকৃত মু‘মিন হবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পসন্দ করবে, যা নিজের জন্য পসন্দ করে।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [মুসলিম ১/১৭ হাঃ ৪৫, আহমাদ ১২৮০১, ১৩৮৭৫] [আধুনিক প্রকাশনী : ১২, ইসলামী ফাউণ্ডেশনঃ ১২]

٨. ‌‌بَابٌ: حُبُّ الرَّسُولِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَ الإِيمَانِ

৮. পরিচ্ছেদ : রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সালাম কে ভালবাসা ঈমানের অংশ

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৪

হাদিসের মান: সহীহ

١٤ – حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى أَكُونَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ وَالِدِهِ وَوَلَدِهِ»

আবুল ইয়ামান আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: শু‘আইব তাকে হাদীসটি খাবর দিলেন, তিনি বললেন: আবু যিনাদ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন আ‘আ্‌রায থেকে, তিনি আবু হুরায়রা রাজিআল্লাহু ‘আনহু থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম থেকে, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেন: সেই পবিত্র সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তোমাদের কেউ প্রকৃত মু‘মিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা ও সন্তানের চেয়ে বেশী প্রিয় হই।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [ ] [ ]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৫

হাদিসের মান: সহীহ

١٥ – حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنْ عَبْدِ العَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ح وحَدَّثَنَا آدَمُ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ، حَتَّى أَكُونَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ وَالِدِهِ وَوَلَدِهِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ»

ইয়া‘কূব ইব্‌ন ইবরাহীম আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ‘উলাইয়াহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন আব্দিল আযিয ইব্‌ন সুয়াইব থেকে, তিনি আনাস (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম থেকে; এবং (অন্য সনদে) আদম আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: শু‘উ্‌বাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন কাতাদা থেকে, তিনি আনাস (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বললেন: নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করলেন: তোমাদের কেউ মু’মিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে, তার পিতা, তার সন্তান ও সব মানুষের চেয়ে বেশী প্রিয় হই।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [মুসলিম ১/১৬ হাঃ ৪৪, আহমাদ ১২৮১৪] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৪]

٩. ‌‌بَابُ حَلَاوَةِ الإِيمَانِ

৯. পরিচ্ছদ : ঈমানের স্বাদ

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৬

হাদিসের মান: সহীহ

١٦ – حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ المُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ أَبِي قِلَابَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ” ثَلَاثٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ وَجَدَ حَلَاوَةَ الإِيمَانِ: أَنْ يَكُونَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِمَّا سِوَاهُمَا، وَأَنْ يُحِبَّ المَرْءَ لَا يُحِبُّهُ إِلَّا لِلَّهِ، وَأَنْ يَكْرَهَ أَنْ يَعُودَ فِي الكُفْرِ كَمَا يَكْرَهُ أَنْ يُقْذَفَ فِي النَّارِ “

মুহাম্মাদ ইব্‌ন মুসান্না আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: আব্দুল ওয়াহাব ছাকাতি আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: আয়ইউব আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন আবূ কিলাবাহ থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক রাজিআল্লাহু ‘আনহু থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে, তিনি ইরশাদ করলেন: তিনটি গুণ যার মধ্যে থাকে, সে ঈমানের স্বাদ পায়ঃ ১. আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূল তার কাছে অন্য সব কিছু থেকে প্রিয় হওয়া; ২. কাউকে খালিস ভাবে আল্লাহর জন্যই মুহব্বত করা; ৩। কূফ্‌রীতে ফিরে যাওয়াকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার মত অপসন্দ করা।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [২১, ৬০৪১, ৬৯৪১; মুসলিম ১/১৫ হাঃ ৪৩, আহমাদ ১২০০২] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৫]

١٠. ‌‌بَابٌ: عَلَامَةُ الإِيمَانِ حُبُّ الأَنْصَارِ

১০. পরিচ্ছদ : আনসারকে ভালবাসা ঈমানের লক্ষণ, শিরক ও হারাম কাজ না করার বয়াত

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৭

হাদিসের মান: সহীহ

١٧ – حَدَّثَنَا أَبُو الوَلِيدِ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَبْرٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسًا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «آيَةُ الإِيمَانِ حُبُّ الأَنْصَارِ، وَآيَةُ النِّفَاقِ بُغْضُ الأَنْصَارِ»

আবুল ওয়ালীদ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: শু’বাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: আব্দুল্লাহ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ ইব্‌ন জব্‌র আমাকে হাদীসটি খাবর দিলেন, তিনি বললেন: আমি আনাস (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে শুনলাম, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করলেন: “ঈমানের চিহ্ন হল আনসারকে ভালবাসা এবং মুনাফিকীর চিহ্ন হল আনসারের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা”।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [৩৭৮৪; মুসলিম ১/৩ হাঃ ৭৪, আহমাদ ১৩৬০৮] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৬]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৮

হাদিসের মান: সহীহ

١٨ – حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبُو إِدْرِيسَ عَائِذُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ عُبَادَةَ بْنَ الصَّامِتِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَكَانَ شَهِدَ بَدْرًا وَهُوَ أَحَدُ النُّقَبَاءِ لَيْلَةَ العَقَبَةِ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ، وَحَوْلَهُ عِصَابَةٌ مِنْ أَصْحَابِهِ: «بَايِعُونِي عَلَى أَنْ لَا تُشْرِكُوا بِاللَّهِ شَيْئًا، وَلَا تَسْرِقُوا، وَلَا تَزْنُوا، وَلَا تَقْتُلُوا أَوْلَادَكُمْ ، وَلَا تَأْتُوا بِبُهْتَانٍ تَفْتَرُونَهُ بَيْنَ أَيْدِيكُمْ وَأَرْجُلِكُمْ، وَلَا تَعْصُوا فِي مَعْرُوفٍ، فَمَنْ وَفَى مِنْكُمْ فَأَجْرُهُ عَلَى اللَّهِ، وَمَنْ أَصَابَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا فَعُوقِبَ فِي الدُّنْيَا فَهُوَ كَفَّارَةٌ لَهُ، وَمَنْ أَصَابَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا ثُمَّ سَتَرَهُ اللَّهُ فَهُوَ إِلَى اللَّهِ، إِنْ شَاءَ عَفَا عَنْهُ وَإِنْ شَاءَ عَاقَبَهُ» فَبَايَعْنَاهُ عَلَى ذَلِكَ

আবুল ইয়ামান আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: শু‘আয়ইব আমাদেরকে হাদীসটি খবর দিলেন যুহুরী থেকে, তিনি বললেন: আবু ইদ্রিস ‘আইযুল্লাহিবনু ‘আব্দুল্লাহ আমাকে হাদীসটি খবর দিলেন উবাদাহ ইবনু সামেত রাজিআল্লাহু ‘আনহু থেকে, তিনি ছিলেন বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ও লায়লাতুল ‘আকাবার একজন নকীব, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম থেকে, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার পার্শ্বে একজন সাহাবীর উপস্থিতিতে ইরশাদ করলেন: তোমরা আমার কাছে এই মর্মে বায়‘আত গ্রহণ কর যে, আল্লাহর সঙ্গে কিছু শরীক করবে না, চুরি করবে না, যিনা করবে না, তোমাদের সন্তানদের হত্যা করবে না, কাউকে মিথ্যা অপবাদ দেবে না এবং নেক কাজে নাফরমানী করবে না। তোমাদের মধ্যে যে তা পূরণ করবে, তার বিনিময় আল্লাহর কাছে। আর কেউ এর কোন একটিতে লিপ্ত হয়ে পড়লে এবং দুনিয়াতে তার শাস্তি পেয়ে গেলে, তবে তা হবে তার জন্য কাফ্‌ফারা। আর কেউ এর কোন একটিতে লিপ্ত হয়ে পড়লে এবং আল্লাহ তা অপ্রকাশিত রাখলে, তবে তা আল্লাহর ইচ্ছাধীন। তিনি যদি চান, তাকে মাফ করে দেবেন আর যদি চান, তাকে শাস্তি দেবেন। আমরা এর উপর বায়‘আত গ্রহণ করলাম।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [৩৮৯২, ৩৮৯৩, ৩৯৯৯, ৪৮৯৪, ৬৭৮৪, ৬৮০১, ৬৮৭৩, ৭০৫৫, ৭১৯৯. ৭২১৩, ৭৪৬৮; মুসলিম ২৯/১০ হাঃ ১৭, আহমাদ ২২৭৪১] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৭]

١١. ‌‌بَابٌ: مِنَ الدِّينِ الفِرَارُ مِنَ الفِتَنِ

১১. পরিচ্ছেদ : ফিতনা থেকে পলায়ন দীনের অংশ

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৯

হাদিসের মান: সহীহ

١٩ – حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي صَعْصَعَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يُوشِكُ أَنْ يَكُونَ خَيْرَ مَالِ المُسْلِمِ غَنَمٌ يَتْبَعُ بِهَا شَعَفَ الجِبَالِ وَمَوَاقِعَ القَطْرِ، يَفِرُّ بِدِينِهِ مِنَ الفِتَنِ»

আবদুল্লাহ ইব্‌ন মাসলামাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন মালিক থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইব্‌ন আব্দুল্লাহ ইব্‌ন আব্দুর রহমান ইব্‌ন আবূ সা’সা‘আহ্‌ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবূ সাইদ খুদরী রাজিআল্লাহু ‘আনহু থেকে, তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম বললেন: “সেদিন দূরে নয়, যে দিন মুসলিমদের উত্তম সম্পদ হবে কয়েকটি বকরী, যা নিয়ে সে পাহাড়ের চূড়ায় অথবা সৃষ্টিপাতের স্থানে চলে যাবে। ফিতনা থেকে সে তার দ্বীন নিয়ে পালিয়ে যাবে”।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [৩৩০০, ৩৬০০, ৬৪৯৫, ৭০৮৮] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৮]

١٢. ‌‌بَابُ قَوْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَنَا أَعْلَمُكُمْ بِاللَّهِ». وَأَنَّ المَعْرِفَةَ فِعْلُ القَلْبِ

لِقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: {وَلَكِنْ يُؤَاخِذُكُمْ بِمَا كَسَبَتْ قُلُوبُكُمْ} [البقرة: ٢٢٥]

১২. পরিচ্ছেদ : নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম- এর বাণী: ‘আমি তোমাদের তুলনায় আল্লাহ্‌ সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী’। আর মারেফাত (আল্লাহর পরিচয়) অন্তরের কাজ-

যেমন আল্লাহ্‌ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন- “কিন্তু তিনি তোমাদের অন্তরের সংকল্পের জন্য দায়ী করবেন।” [২ : ২২৫]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২০

হাদিসের মান: সহীহ

٢٠ – حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَامٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدَةُ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَمَرَهُمْ، أَمَرَهُمْ مِنَ الأَعْمَالِ بِمَا يُطِيقُونَ، قَالُوا: إِنَّا لَسْنَا كَهَيْئَتِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ اللَّهَ قَدْ غَفَرَ لَكَ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأَخَّرَ، فَيَغْضَبُ حَتَّى يُعْرَفَ الغَضَبُ فِي وَجْهِهِ، ثُمَّ يَقُولُ: «إِنَّ أَتْقَاكُمْ وَأَعْلَمَكُمْ بِاللَّهِ أَنَا»

মুহাম্মাদ ইব্‌ন সালাম আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: আব্‌দাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন হিশাম থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি ‘আয়িশা (রাজিআল্লাহু আনহা) থেকে হাদীস বর্ণনা করলেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম সাহাবীদেরকে যখন কোন ‘আমলের নির্দেশ দিতেন, তখন তাঁরা যতটুকুর সামর্থ্য রাখতেন, ততটুকুরই নির্দেশ দিতেন। একবার তাঁরা বললেন, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমরা তো আপনার মত নই। আল্লাহ্‌ তা‘আলা আপনার পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সকল ত্রুটি মাফ করে দিয়েছেন।’ একথা শুনে তিনি রাগ করলেন, এমন কি তাঁর চেহারা মুবারকে রাগের চিহ্ন প্রকাশ পাচ্ছিল। এরপর তিনি বললেন: তোমাদের চাইতে আল্লাহকে আমিই বেশী ভয় করি ও বেশী জানি।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : …

١٣. ‌‌بَابٌ: مَنْ كَرِهَ أَنْ يَعُودَ فِي الكُفْرِ كَمَا يَكْرَهُ أَنْ يُلْقَى فِي النَّارِ مِنَ الإِيمَانِ

১৩. পরিচ্ছেদ : কুফরীতে ফিরে যাওয়াকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হবার ন্যায় অপসন্দ করা ঈমানের অংশ।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২১

হাদিসের মান: সহীহ

٢١ – حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ” ثَلَاثٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ وَجَدَ حَلَاوَةَ الإِيمَانِ: مَنْ كَانَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِمَّا سِوَاهُمَا، وَمَنْ أَحَبَّ عَبْدًا لَا يُحِبُّهُ إِلَّا لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ، وَمَنْ يَكْرَهُ أَنْ يَعُودَ فِي الكُفْرِ، بَعْدَ إِذْ أَنْقَذَهُ اللَّهُ، مِنْهُ كَمَا يَكْرَهُ أَنْ يُلْقَى فِي النَّارِ “

সুলায়মান ইব্‌ন হারব আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: শু’বাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস ইবনি মালিক (রাজিআল্লাহু আনহু) থেকে হাদীস বর্ণনা করলেন, তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম থেকে, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ তিনটি গুণ যার মধ্যে থাকে, সে ঈমানের স্বাদ পায়- ১. যার কাছে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অন্য সব কিছু থেকে প্রিয়; ২. যে একমাত্র আল্লাহ্‌র জন্য কোন বান্দাকে ভালবাসে এবং ৩. আল্লাহ্‌ তা‘আলা কুফুর থেকে মুক্তি দেওয়ার পর যে কুফর-এ ফিরে যাওয়াকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার মতোই অপসন্দ করে।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : …

١٤. ‌‌بَابٌ: تَفَاضُلِ أَهْلِ الإِيمَانِ فِي الأَعْمَالِ

১৪. পরিচ্ছেদ : আমলের দিক থেকে ঈমাদারদের শ্রষ্ঠত্বের স্তরভেদ

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২২

হাদিসের মান: সহীহ

٢٢ – حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ: حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى المَازِنِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «يَدْخُلُ أَهْلُ الجَنَّةِ الجَنَّةَ، وَأَهْلُ النَّارِ النَّارَ»، ثُمَّ يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى: «أَخْرِجُوا مِنَ النَّارِ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ حَبَّةٍ مِنْ خَرْدَلٍ مِنْ إِيمَانٍ. فَيُخْرَجُونَ مِنْهَا قَدِ اسْوَدُّوا، فَيُلْقَوْنَ فِي نَهَرِ الحَيَا، أَوِ الحَيَاةِ – شَكَّ مَالِكٌ – فَيَنْبُتُونَ كَمَا تَنْبُتُ الحِبَّةُ فِي جَانِبِ السَّيْلِ، أَلَمْ تَرَ أَنَّهَا تَخْرُجُ صَفْرَاءَ مُلْتَوِيَةً» قَالَ وُهَيْبٌ: حَدَّثَنَا عَمْرٌو: الحَيَاةِ، وَقَالَ: خَرْدَلٍ مِنْ خَيْرٍ

ইসমা‘ঈল আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: মালিক আমাকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন আমর ইবনে ইয়াহ্‌ইয়া মাযিনী থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবূ সাঈদ খুদরী রাজিআল্লাহু ‘আনহু থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: “জান্নাতীগণ জান্নাতে এবং জাহান্নামীগণ জাহান্নামে প্রবেশ করবেন”। পরে আল্লাহ্‌ তা‘আলা বলবেন: “যার অন্তরে একটি সরিষা পরিমাণও ঈমান রয়েছে, তাকে জাহান্নাম থেকে বের করে নিয়ে আস। তারপর তাদের আগুন থেকে বের করা হবে এমন অবস্থায় যে, তারা (পুড়ে) কালো হয়ে গেছে। এরপর তাদেরকে বৃষ্টিতে বা হায়াতের [হাদীস বর্ণনাকারী মালিক (রহমাহুল্লাহ) শব্দ দু’টির কোনটি এ সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করেছেন] নদীতে ফেলা হবে। ফলে তারা সতেজ হয়ে উঠবে, যেমন নদীর পাশে ঘাসের বীজ গজিয়ে উঠে। তুমি কি দেখতে পাও না সেগুলো কেমন হলুদ রঙের হয় ও ঘন হয়ে গজায়?” উহাইব (রহমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আমর (রহমাহুল্লাহ) আমাদের কাছে حيا এর স্থলে حياة এবং خردل من ايمان এর স্থলে خردل من خير হাদীস বর্ণনা করেছেন।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [৪৫৮১, ৬৫৬০, ৬৫৭৪, ৭৪৩৮, ৭৪৩৯; মুসলিম ১/৮২ হাঃ ১৮৪] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২১]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৩

হাদিসের মান: হীহ

٢٣ – حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا سَعِيدٍ الخُدْرِيَّ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «بَيْنَا أَنَا نَائِمٌ، رَأَيْتُ النَّاسَ يُعْرَضُونَ عَلَيَّ وَعَلَيْهِمْ قُمُصٌ، مِنْهَا مَا يَبْلُغُ الثُّدِيَّ، وَمِنْهَا مَا دُونَ ذَلِكَ، وَعُرِضَ عَلَيَّ عُمَرُ بْنُ الخَطَّابِ وَعَلَيْهِ قَمِيصٌ يَجُرُّهُ». قَالُوا: فَمَا أَوَّلْتَ ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «الدِّينَ»

মুহাম্মাদ ইব্‌ন উবায়দিল্লাহ (রহমাহুল্লাহ) হাদীস বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ইব্‌রাহীম ইব্‌ন সা‘ইদ হাদীস বর্ণনা করলেন সালে‘হ থেকে, তিনি ইব্‌ন শিহাব থেকে, তিনি আবূ উমামা ইব্‌ন সাহ্‌লি ইব্‌ন হুনাইফ (রহমাহুল্লাহ) থেকে হাদীস বর্ণনা করলেন, তিনি আবূ সাঈদ কুদরী (রাজিআল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছেন, রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম বলেছেন: “একবার আমি ঘুমন্ত অবস্থায় (স্বপ্নে) দেখলাম যে, লোকদেরকে আমার সামনে হাযির করা হচ্ছে। আর তাদের পরণে রয়েছে জামা। কারো জামা বুক পর্যন্ত আর কারো জামা এর নীচ পর্যন্ত। আর উমর ইব্‌নল খাত্তাব (রা)-কে আমার সামনে হাযির করা হলে এমন অবস্থায় যে, তিনি তাঁর জামা (এত লম্বা যে) টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন”। সাহাবায়ে কিরামগণ বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ্‌। আপনি এর কি তা‘বীর করেছেন? তিনি বললেন: (এ জামা মানে) “দ্বীন”।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [৩৬৯১, ৭০০৮, ৭০০৯; মুসলিম ৪৪/২ হাঃ ২৩৯০, আহমাম ১১৮১১৪] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২২]

١٥. ‌‌بَابٌ: الحَيَاءُ مِنَ الإِيمَانِ

১৫. পরিচ্ছেদ : লজ্জা ঈমানের অংশ।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৪

হাদিসের মান: সহীহ

٢٤ – حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّ عَلَى رَجُلٍ مِنَ الأَنْصَارِ، وَهُوَ يَعِظُ أَخَاهُ فِي الحَيَاءِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «دَعْهُ فَإِنَّ الحَيَاءَ مِنَ الإِيمَانِ»

আব্দুল্লাহ ইব্‌ন ইউসুফ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: মালিক ইব্‌ন আনাস আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ইব্‌ন শিহাব থেকে, তিনি সালিম ইব্‌ন ‘আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে- একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম এক আনসারীর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি তাঁর ভাইকে তখন (অধিক) লজ্জা ত্যাগের জন্য নসীহত করছিলেন। রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম বললেন: “ওকে ছেড়ে দাও। কারণ লজ্জা ঈমানের অন্তরভুক্ত”।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [৬১১৮; মুসলিম ১/১২ হাঃ ৩৬, আহমাদ ৪৫৫৪] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২৩]

١٦. ‌‌بَابٌ: {فَإِنْ تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ فَخَلُّوا سَبِيلَهُمْ} [التوبة: ٥]

১৬. পরিচ্ছেদ : “যদি তারা তওবা করে, সালাত কায়েম করে ও যাকাত দেয়, তবে তাদের পথ ছেড়ে দেবে”। [তাওবা ৯:৫]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৫

হাদিসের মান: সহীহ

٢٥ – حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ المُسْنَدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو رَوْحٍ الحَرَمِيُّ بْنُ عُمَارَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ وَاقِدِ بْنِ مُحَمَّدٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي يُحَدِّثُ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَشْهَدُوا أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ، وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ، فَإِذَا فَعَلُوا ذَلِكَ عَصَمُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ إِلَّا بِحَقِّ الإِسْلَامِ، وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللَّهِ»

মুহাম্মাদ ইব্‌ন মুক্বাতিল আবূল হাসান মারওয়াযী আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: আব্দুল্লাহ আমাদেরকে হাদীসটি খবর দিলেন, তিনি বললেন: শু’বাহ আমাদেরকে হাদীসটি সংবাদ দিলেন ক্বাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস ইব্‌ন মালিক (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বললেন: নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম একখানি পত্র লিখলেন অথবা একখানি পত্র লিখতে ইচ্ছা পোষণ করলেন। তখন তাঁকে বলা হল যে, তারা (রোমবাসী ও অনারবরা) সীলমোহরযুক্ত ছাড়া কোন পত্র পড়ে না। এরপর তিনি রূপার একটি আংটি (মহর) তৈরী করালেন যার নকশা ছিল مُحَمَّدُ الرَّسُول اللهِ (মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ্‌) আমি যেন তাঁর হাতে সে আংটির উজ্জ্বল্য (এখনো) দেখতে পাচ্ছি। (শু’বা বললেন) আমি কাতাদা কে বললাম, কে বলেছে যে, তার নকশা “মুহাম্মাদুর রাসূলাল্লাহ” ছিল? তিনি বললেন, “আনাস (রাজিআল্লাহু ‘আনহু)”।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [মুসলিম ১/৮ হাঃ ২২] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৪, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২৪]

١٧. ‌‌بَابُ مَنْ قَالَ إِنَّ الإِيمَانَ هُوَ العَمَلُ

لِقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: {وَتِلْكَ الجَنَّةُ الَّتِي أُورِثْتُمُوهَا بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ} [الزخرف: ٧٢] وَقَالَ عِدَّةٌ مِنْ أَهْلِ العِلْمِ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: {فَوَرَبِّكَ لَنَسْأَلَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ عَمَّا كَانُوا يَعْمَلُونَ} [الحجر: ٩٣] عَنْ قَوْلِ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَقَالَ: {لِمِثْلِ هَذَا فَلْيَعْمَلِ العَامِلُونَ} [الصافات: ٦١]

১৭. পরিচ্ছেদ : যে বলে ‘ঈমান আমলেরই নাম’

আল্লাহ্ তা ‘আলার এ বাণীর পরিপ্রেক্ষিতেঃ “এটাই জান্নাত, তোমাদেরকে যার অধিকারী করা হয়েছে তোমাদের কর্মের ফলস্বরূপ।” [৪৩:৭২] ; “সুতরাং কসম আপনার রবের। আমি তাদের সবাইকে প্রশ্ন করবই সে বিষয়ে, যা তারা করে” [১৫:৯০] আল্লাহর বাণী সম্পর্কে আলিমদের এক দল বলেন, এর স্বীকারোক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে। আল্লাহ্‌ তা‘আলার বাণীঃ “এরূপ সাফল্যের জন্য আমলকারীদের উচিত আমল করা”। [৩৭:৬১]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৬

হাদিসের মান: সহীহ

٢٦ – حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، وَمُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَا: حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ المُسَيِّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُئِلَ: أَيُّ العَمَلِ أَفْضَلُ؟ فَقَالَ: «إِيمَانٌ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ». قِيلَ: ثُمَّ مَاذَا؟ قَالَ: «الجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ» قِيلَ: ثُمَّ مَاذَا؟ قَالَ: «حَجٌّ مَبْرُورٌ»

আহমদ ইব্‌ন ইউনুস ও মূসা ইব্‌ন ইসমা‘ঈল আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তারা উভয়ই বললেন: ইবরাহীম ইব্‌ন সা‘‌ঈদ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ইব্‌ন শিহাব আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন সা‘ঈদ ইব্‌ন মুসাঈব থেকে, তিনি আবূ হুরায়রা (ররাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে হাদীস বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম- কে জিজ্ঞাসা করা হল, ‘কোন আমলটি উত্তম’? তিনি বললেন: “আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূলের উপর ঈমান আনা”। প্রশ্ন করা হল, ‘তারপর কোনটি’? তিনি বললেনঃ “আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা”। প্রশ্ন করা হল, তারপর কোনটি’? তিনি বললেনঃ “মকবূল হজ্জ”।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [১৫১৯; মুসলিম ১/৩৬ হাঃ ৮৩] [আ. প্র. ২৫, ই. ফা. ২৫]

١٨. بَابُ إِذَا لَمْ يَكُنِ الإِسْلَامُ عَلَى الحَقِيقَةِ، وَكَانَ عَلَى الِاسْتِسْلَامِ أَوِ الخَوْفِ مِنَ القَتْلِ

لِقَوْلِهِ تَعَالَى: {قَالَتِ الأَعْرَابُ آمَنَّا قُلْ لَمْ تُؤْمِنُوا وَلَكِنْ قُولُوا أَسْلَمْنَا} [الحجرات: ١٤] فَإِذَا كَانَ عَلَى الحَقِيقَةِ، فَهُوَ عَلَى قَوْلِهِ جَلَّ ذِكْرُهُ: {إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الإِسْلَامُ} [آل عمران: ١٩] [وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ]

১৮. পরিচ্ছেদ : ইসলাম গ্রহণ খাঁটি না হয় বরং বাহ্যিক আনুগত্য প্রদর্শনের জন্য বা হত্যার ভয়ে হয়, তবে তার ইসলাম গ্রহণ মহান আল্লাহ্‌র এ বাণী অনুযায়ী হবেঃ

“আরব মরুবাসিগণ বলে, আমরা ঈমান আনলাম; আপনি বলে দিন, “তোমরা ঈমান আন নাই; বরং তোমরা বল, ‘আমরা বাহ্যত মুসলিম (আনুগত) হয়েছি।” [সূরা হজ্জ্ব ৪৯:১৪] আর ইসলাম গ্রহণ খাঁটি হলে তা হবে আল্লাহ্‌ তা‘আলার এ বাণী অনুযায়ীঃ “নিশ্চয়ই ইসলাম আল্লাহর নিকট একমাত্র দ্বীন।” [সূরা আল-ইমরান ৩:১৯] “আর যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন দ্বীন অন্বেষণ করবে তবে তা গৃহীত হবে না।” [সূরা আল-ইমরান ৩:৮৫]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৭

হাদিসের মান: সহীহ

٢٧ – حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عَامِرُ بْنُ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنْ سَعْدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَعْطَى رَهْطًا وَسَعْدٌ جَالِسٌ، فَتَرَكَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلًا هُوَ أَعْجَبُهُمْ إِلَيَّ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا لَكَ عَنْ فُلَانٍ فَوَاللَّهِ إِنِّي لَأَرَاهُ مُؤْمِنًا، فَقَالَ: «أَوْ مُسْلِمًا» فَسَكَتُّ قَلِيلًا، ثُمَّ غَلَبَنِي مَا أَعْلَمُ مِنْهُ، فَعُدْتُ لِمَقَالَتِي، فَقُلْتُ: مَا لَكَ عَنْ فُلَانٍ؟ فَوَاللَّهِ إِنِّي لَأَرَاهُ مُؤْمِنًا، فَقَالَ: «أَوْ مُسْلِمًا». ثُمَّ غَلَبَنِي مَا أَعْلَمُ مِنْهُ فَعُدْتُ لِمَقَالَتِي، وَعَادَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ قَالَ: «يَا سَعْدُ إِنِّي لَأُعْطِي الرَّجُلَ، وَغَيْرُهُ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْهُ، خَشْيَةَ أَنْ يَكُبَّهُ اللَّهُ فِي النَّارِ» وَرَوَاهُ يُونُسُ، وَصَالِحٌ، وَمَعْمَرٌ، وَابْنُ أَخِي الزُّهْرِيِّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ

আবুল ইয়ামান আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: শু‘আইব আমাদেরকে হাদীসটি খবর দিলেন যুহুরী থেকে, তিনি বললেন: ‘আ-মির ইব্‌ন সা‘ইদ ইব্‌ন আবূ ওয়াক্কাস আমাকে খবর দিলেন সা’দ (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম একদল লোককে কিছু দান করলেন। সা‘দ (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) সেখানে বসে ছিলেন। সা‘দ (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম তাদের এক ব্যক্তিকে কিছু দিলেন না। সে ব্যক্তি আমার কাছে তাদের চেয়ে অধিক পছন্দনীয় ছিল। তাই আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ্‌! অমুক ব্যক্তিকে আপনি বাদ দিলেন কেন? আল্লাহ্‌র কসম!‍ আমি তো তাকে মু’মিন বলেই জানি। তিনি বললেন: (মু’মিন) না মুসলিম? তখন আমি কিছুক্ষণ চুপ থাকলাম। তারপর আমি তার সম্পর্কে যা জানি, তা প্রবল হয়ে উঠল। তাই আমি আমার বক্তব্য আবার বললাম, আপনি অমুককে দানের ব্যাপারে বিরত রইলেন? আল্লাহর কসম! আমি তো তাকে মু’মিন বলেই জানি। তিনি বললেন: ‘না মুসলিম?’ তখন আমি কিছুক্ষণ চুপ থাকলাম। তারপর আমি তার সম্পর্কে যা জানি তা প্রবল হয়ে উঠল। তাই আমি আমার বক্তব্য আবার বললাম। রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম আবারও সেই জবাব দিলেন। তারপর বললেন: ‘সা’দ! আমি কখনো ব্যক্তি বিশেষকে দান করি, অথচ অন্য লোক আমার কাছে তার চাইতে বেশী প্রিয়। তা এ আশঙ্কায় যে (সে ঈমান থেকে ফিরে যেতে পারে পরিণামে), আল্লাহ্‌ তা‘আলা তাকে অধোমুখে জাহান্নামে ফেলে দেবেন। এ হাদীস ইউনুস, সালিহ, মা’মার এবং যুহরী (রহমাহুল্লাহ)-এর ভাতিজা যুহরী (রহমাহুল্লাহ) থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [১৪৭৮; মুসলিম ১/৬৮ হাঃ ১৫০] [আ. প্র. ২৬, ই. ফা. ২৬]

١٩. ‌‌بَابٌ: إِفْشَاءُ السَّلَامِ مِنَ الإِسْلَامِ

وقَالَ عَمَّارٌ: “ثَلَاثٌ مَنْ جَمَعَهُنَّ فَقَدْ جَمَعَ الإِيمَانَ: الإِنْصَافُ مِنْ نَفْسِكَ، وَبَذْلُ السَّلَامِ لِلْعَالَمِ، وَالإِنْفَاقُ مِنَ الإِقْتَارِ”

১৯. পরিচ্ছেদ: সালামের প্রচলন করা ইসলামের অন্তর্ভুক্ত

আম্মার (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) বলেন, ‘তিনটি গুণ যে আয়ত্ত করে, সে (পূর্ণ) ঈমান লাভ করে: ১. নিজ থেকে ইনসাফ করা, ২. বিশ্বে সালামের প্রচলন করা, এবং ৩. অভাবগ্রস্ত অবস্থায়ও দান করা।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৮

হাদিসের মান: সহীহ

٢٨ – حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ: حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي الخَيْرِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ رَجُلًا سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَيُّ الإِسْلَامِ خَيْرٌ؟ قَالَ: «تُطْعِمُ الطَّعَامَ، وَتَقْرَأُ السَّلَامَ عَلَى مَنْ عَرَفْتَ وَمَنْ لَمْ تَعْرِفْ»

কুতায়বা আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: লায়ইস আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ইয়াযীদ ইব্‌ন আবূ ‘হাবীব থেকে, তিনি আবূল খায়ীর থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইব্‌ন আম্‌র থেকে- এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করল, ‘ইসলামের কোন্‌ কাজ সবচাইতে উত্তম?’ তিনি বললেন: তুমি লোকদেরকে আহার করাবে এবং পরিচিত ও অপরিচিত সকলকে সালাম প্রদান করবে।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : ….

٢٠. ‌‌بَابُ كُفْرَانِ العَشِيرِ، وَكُفْرٍ دُونَ كُفْرٍ

فِيهِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الخُدْرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

২০. পরিচ্ছেদ : স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞতা। আর এক কুফ্‌র অন্য কুফ্‌র থেকে ছোট।

এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম থেকে আবূ সা ‘ঈদ খুদরী (রা) এর সূত্র হাদীস বর্ণিত আছে।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৯

হাদিসের মান: সহীহ

٢٩ – حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أُرِيتُ النَّارَ فَإِذَا أَكْثَرُ أَهْلِهَا النِّسَاءُ، يَكْفُرْنَ» قِيلَ: أَيَكْفُرْنَ بِاللَّهِ؟ قَالَ: ” يَكْفُرْنَ العَشِيرَ، وَيَكْفُرْنَ الإِحْسَانَ، لَوْ أَحْسَنْتَ إِلَى إِحْدَاهُنَّ الدَّهْرَ، ثُمَّ رَأَتْ مِنْكَ شَيْئًا، قَالَتْ: مَا رَأَيْتُ مِنْكَ خَيْرًا قَطُّ “

‘আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌ন মাসলামাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন মালিক থেকে, তিনি যায়দ ইব্‌ন আসলাম থেকে, তিনি আত্বা ইব্‌ন ইয়াসার থেকে, তিনি আব্বাস (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বললেন: নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম ইরশাদ করলেন: আমাকে জাহান্নাম দেখানো হয়। (আমি দেখি), তার অধিবাসীদের অধিকাংশই স্ত্রীলোক; (কারণ) তারা কুফরী করে। জিজ্ঞাসা করা হল, ‘তারা কি আল্লাহ্‌র সঙ্গে কুফরী করে?’ তিনি বললেনঃ ‘তারা স্বামীর অবাধ্য হয় এবং ইহসান অস্বীকার করে।’ তুমি যদি দীর্ঘকাল তাদের কারো প্রতি ইহসান করতে থাক, এরপর সে তোমার সামান্য অবহেলা দেখলেই বলে, ‘আমি কখনো তোমার কাছ থেকে ভালো ব্যবহার পাইনি।’

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [৪৩১, ৭৪৮, ১০৫২, ৩২০২, ৫১৯৭; মুসলিম ৮/১ হাঃ ৮৮৪, আহমাদ ৩০৬৪] [আ. প্র. ২৮, ই. ফা. ২৮]

٢١. ‌‌بَابٌ: المَعَاصِي مِنْ أَمْرِ الجَاهِلِيَّةِ، وَلَا يُكَفَّرُ صَاحِبُهَا بِارْتِكَابِهَا إِلَّا بِالشِّرْكِ

لِقَوْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّكَ امْرُؤٌ فِيكَ جَاهِلِيَّةٌ» وَقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: {إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ} [النساء: ٤٨]

২১. পরিচ্ছেদ : পাপ কাজ জাহিলী যুগের স্বভাব। আর শির্‌ক ব্যতীত কোন পাপে লিপ্ত হওয়াতে ঐ পাপীকে কাফির বলা যাবে না।

যেহেতু নবী করীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম [আবূ যর (রা) -কে লক্ষ্য করে] বলেছেন: তুমি এমন ব্যক্তি, তোমার মধ্যে জাহিলী যুগের স্বভাব রয়েছে। আর আল্লাহ্‌র বাণীঃ “আল্লাহ্‌ তাঁর শরীক করার অপরাধ ক্ষমা করেন না। এ ছাড়া অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।” [নেসা ৪:৪৮]

টিকা: “মু’মিনদের দু’দল দ্বন্দ্বে লিপ্ত হলে তোমরা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেবে।” [৪৯:৯]। (সংঘর্ষের পাপে লিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও) তাদের তিনি মু’মিন বলে আখ্যায়িত করেছেন।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩০

হাদিসের মান: সহীহ

٣٠ – حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ وَاصِلٍ الأَحْدَبِ، عَنِ المَعْرُورِ بْنِ سُوَيْدٍ، قَالَ: لَقِيتُ أَبَا ذَرٍّ بِالرَّبَذَةِ، وَعَلَيْهِ حُلَّةٌ، وَعَلَى غُلَامِهِ حُلَّةٌ، فَسَأَلْتُهُ عَنْ ذَلِكَ، فَقَالَ: إِنِّي سَابَبْتُ رَجُلًا فَعَيَّرْتُهُ بِأُمِّهِ، فَقَالَ لِي النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا أَبَا ذَرٍّ أَعَيَّرْتَهُ بِأُمِّهِ؟ إِنَّكَ امْرُؤٌ فِيكَ جَاهِلِيَّةٌ، إِخْوَانُكُمْ خَوَلُكُمْ، جَعَلَهُمُ اللَّهُ تَحْتَ أَيْدِيكُمْ، فَمَنْ كَانَ أَخُوهُ تَحْتَ يَدِهِ، فَلْيُطْعِمْهُ مِمَّا يَأْكُلُ، وَلْيُلْبِسْهُ مِمَّا يَلْبَسُ، وَلَا تُكَلِّفُوهُمْ مَا يَغْلِبُهُمْ، فَإِنْ كَلَّفْتُمُوهُمْ فَأَعِينُوهُمْ»

সুলাইমান ইব্‌ন হারব আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: শু’বাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ওয়াস্বেল আ‘হবাবী থেকে, তিনি মা’রূর ইব্‌ন সুয়াইদ থেকে, তিনি বললেন: আমি একবার রাবাযা নামক স্থানে আবূ যর (রাজিআল্লাহু ‘আনহু)-এর সঙ্গে দেখা করলাম। তখন তাঁর পরনে ছিল এক জোড়া কাপড় (লুঙ্গি ও চাদর) আর তাঁর ভৃত্যের পরনেও ছিল ঠিক একই ধরনের এক জোড়া কাপড়। আমি তাঁকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: একবার আমি জনৈক ব্যক্তিকে গালি দিয়েছিলাম এবং তার মা সম্পর্কে লজ্জা দিয়েছিলাম। তখন আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেন, আবূ যর! তুমি তার মা সম্পর্কে লজ্জা দিয়েছ? তুমি তো এমন ব্যক্তি, তোমার মধ্যে এখনো অন্ধকার যুগের স্বভাব বিদ্যমান। জেনে রেখো, তোমাদের দাস-দাসী তোমাদেরই ভাই। আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে তোমাদের অধীনস্থ করে দিয়েছেন। তাই যার ভাই তার অধীনে থাকবে, সে যেন নিজে যা খায় তাকে তা-ই খাওয়ায় এবং নিজে যা পরিধান করে, তাকেও তা-ই পরায়। তাদের উপর এমন কাজ চাপিয়ে দিও না, যা তাদের জন্য অধিক কষ্টদায়ক। যদি এমন কষ্টকর কাজ করতে দাও, তাহলে তোমরাও তাদের সে কাজে সহযোগিতা করবে।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [২৫৪৫, ৬০৫০; মুসলিম ২৭/১০ হাঃ ১৬৬১, আহমাদ ২১৪৮৮] [আ. প্র. ৩০, ই. ফা. ৩০]

٢٢. ‌‌بَابُ {وَإِنْ طَائِفَتَانِ مِنَ المُؤْمِنِينَ اقْتَتَلُوا فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا} [الحجرات: ٩]

فَسَمَّاهُمُ المُؤْمِنِينَ

২২. পরিচ্ছেদ : “মু’মিনদের দু’দল দন্দ্বে লিপ্ত হলে তোমরা তাদের মাঝে ফায়সালা করে দেবে”। [সূরাহ আল-হুজরাত ৪৯:৯]

(সংঘর্ষের পাপে লিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও) তাদের তিনি মু’মিন বলে আখ্যায়িত করেছেন।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩১

হাদিসের মান: সহীহ

٣١ – حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ المُبَارَكِ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، وَيُونُسُ، عَنِ الحَسَنِ، عَنِ الأَحْنَفِ بْنِ قَيْسٍ، قَالَ: ذَهَبْتُ لِأَنْصُرَ هَذَا الرَّجُلَ، فَلَقِيَنِي أَبُو بَكْرَةَ فَقَالَ أَيْنَ تُرِيدُ؟ قُلْتُ: أَنْصُرُ هَذَا الرَّجُلَ، قَالَ: ارْجِعْ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِذَا التَقَى المُسْلِمَانِ بِسَيْفَيْهِمَا فَالقَاتِلُ وَالمَقْتُولُ فِي النَّارِ»، فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذَا القَاتِلُ فَمَا بَالُ المَقْتُولِ قَالَ: «إِنَّهُ كَانَ حَرِيصًا عَلَى قَتْلِ صَاحِبِهِ»

আব্দুর রহমান ইব্‌ন মুবারক আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: হাম্মাদ ইব্‌ন যায়দ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: আইয়ূব ও ইউনূস আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন হা’সান থেকে, তিনি আহনাফ ইবনি ক্বাইস থেকে, তিনি বললেন: আমি (সিফফীনের যুদ্ধে) এক ব্যক্তিকে [আলী (রাজিআল্লাহু ‘আনহু-কে)] সাহায্য করতে যাচ্ছিলাম। এমতাবস্থায় আবূ বাক্‌রাহ (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) -এর সথে আমার দেখা হলে তিনি বললেন: ‘তুমি কোথায় যাচ্ছ?’ আমি বললাম, ‘আমি এ ব্যাক্তিকে সাহায্য করতে যাচ্ছি।’ তিনি বললেন: ‘ফিরে যাও। কারণ আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি যে, দু’জন মুসলমান তাদের তরবারি নিয়ে মুখোমুখি হলে হত্যাকারী এবং নিহত ব্যক্তি উভয়ে জাহান্নামে যাবে।’ আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! এ হত্যাকারী (তো অপরাধী), কিন্তু নিহত ব্যক্তির কী অপরাধ? তিনি বললেন, (নিশ্চয়ই) সেও তার সাথীকে হত্যা করার জন্য উদগ্রীব ছিল।’

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [৬৮৭৫, ৭০৮৩; মুসলিম ৫২/৪ হাঃ ২৮৮৮, আহমাদ ২০৪৪৬] [আ. প্র. ২৯, ই. ফা. ২৯]

٢٣. ‌‌بَابٌ: ظُلْمٌ دُونَ ظُلْمٍ

২৩. পরিচ্ছেদ : যুলুমের প্রকারভেদ।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩২

হাদিসের মান: সহীহ

٣٢ – حَدَّثَنَا أَبُو الوَلِيدِ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، ح قَالَ: وحَدَّثَنِي بِشْرُ بْنُ خَالِدٍ أَبُو مُحَمَّدٍ العَسْكَرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: لَمَّا نَزَلَتْ: {الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا} [الأنعام: ٨٢] إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ قَالَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَيُّنَا لَمْ يَظْلِمْ؟ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: {إِنَّ الشِّرْكَ} [لقمان: ١٣] {لَظُلْمٌ عَظِيمٌ}

আবুল ওয়ালীদ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: শু’বাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, এবং (অন্য সনদে) তিনি বললেন: বিশর ইব্‌ন খালিদ আবূ মুহাম্মাদ ‘আসকারী আমাকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: মুহাম্মাদ ইব্‌ন জা’ফার আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন শু’বাহ থেকে, তিনি সুলাইমান থেকে, তিনি ইব্রাহীম থেকে, তিনি আলকামাহ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বললেন: “যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে যুলুম দ্বারা কলুষিত করেনি” (সূরা আন্‌‘আম ৬:৮২) এ আয়াত নাযিল হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম এর সাহাবিগণ বললেন, ‘আমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে যুলুম করে নি?’ তখন আল্লাহ্‌ তা‘আলা এ আয়াত নাযিল করেনঃ “নিশ্চয়ই শির্‌ক চরম যুলুম।” [সূরা লুকমান, ৩১:১৩]

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [৩৩৬০, ৩৪২৮, ৩৪২৯, ৪৬২৯, ৪৭৭৬, ৬৯১৮, ৬৯৩৭; মুসলিম ১/৫৬ হাঃ ১২৬, আহমাদ ৪০৩১] [আ. প্র. ৩১, ই. ফা. ৩১]

٢٤. ‌‌بَابُ عَلَامَةِ المُنَافِقِ

২৪. পরিচ্ছেদ : মুনাফিকের আলামত।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩৩

হাদিসের মান: সহীহ

٣٣ – حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ أَبُو الرَّبِيعِ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا نَافِعُ بْنُ مَالِكِ بْنِ أَبِي عَامِرٍ أَبُو سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ” آيَةُ المُنَافِقِ ثَلَاثٌ: إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ، وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ، وَإِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ “

সুলায়মান আবূ রাবী‘ই আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ইসমা‘ঈল ইব্‌ন জা‘আফার আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: নাফি ইব্‌ন মালিক ইব্‌ন আবূ ‘আমির আবূ সুহায়ল আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবূ হুরায়রা (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম থেকে, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করলেন: “মুনাফিকের আলামত তিনটিঃ ১. যখন কথা বলে মিথ্যা বলে; ২. যখন ওয়াদা করে ভঙ্গ করে; এবং ৩. আমানত রাখা হলে খিয়ানত করে”।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [২৬৮২, ২৭৪৯, ৬০৯৫; মুসলিম ১/২৫ হাঃ ৫৯, আহমাদ ৯১৬২] [আ. প্র. ৩২, ই. ফা. ৩২]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩৪

হাদিসের মান: হীহ

٣٤ – حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ بْنُ عُقْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ” أَرْبَعٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ كَانَ مُنَافِقًا خَالِصًا، وَمَنْ كَانَتْ فِيهِ خَصْلَةٌ مِنْهُنَّ كَانَتْ فِيهِ خَصْلَةٌ مِنَ النِّفَاقِ حَتَّى يَدَعَهَا: إِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ، وَإِذَا حَدَّثَ كَذَبَ، وَإِذَا عَاهَدَ غَدَرَ، وَإِذَا خَاصَمَ فَجَرَ ” تَابَعَهُ شُعْبَةُ، عَنِ الأَعْمَشِ

ক্বাবীস্বাহ ইব্‌ন ‘উকাবাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: সুফইয়ান আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ‘আমাশ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইব্‌ন মুর্‌রাহ থেকে, তিনি মাসরুক্ব থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইব্‌ন ‘আমার (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: চারটি স্বভাব যার মধ্যে থাকে সে হবে খাঁটি মুনাফিক। যার মধ্যে এর কোন একটি স্বভাব থাকবে, তা পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত তার মধ্যে মুনাফিকের একটি স্বভাব থেকে যায়। ১. আমানত রাখা হলে খেয়ানত করে; ২. কথা বললে মিথ্যা বলে; ৩. চুক্তি করলে ভঙ্গ করে; এবং ৪. বিবাদে লিপ্ত হলে অশ্লীল গালি দেয়। শু’বা আ’মাশ থেকে হাদীস বর্ণনায় সুফিয়ান- এর অনুসরণ করেছেন।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [২৪৫৯, ৩১৭৮; মুসলিম ১/২৫ হাঃ ৫৮, আহমাদ ৬৭৮২] [আ. প্র. ৩৩, ই. ফা. ৩৩]

٢٥. ‌‌بَابٌ: قِيَامُ لَيْلَةِ القَدْرِ مِنَ الإِيمَانِ

২৫. পরিচ্ছেদ : লায়লাতুল কদ্‌রে ইবাদতে রাত্রি জাগরণ ঈমানের অন্তর্ভূক্ত।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩৫

হাদিসের মান: সহীহ

٣٥ – حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ يَقُمْ لَيْلَةَ القَدْرِ، إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا، غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ»

আবুল ইয়ামান আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: শুয়া‘ইব আমাদেরকে হাদীসটি খবর দিলেন, তিনি বললেন: আবূ যিনাদ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন আ’রাজ থেকে, তিনি আবূ হুরায়রা (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করলেন: “যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় লায়লাতুল কদর-এ ইবাদতে রাত্রি জাগরণ করবে, তার অতীতের গুনাহ্‌ মাফ করে দেওয়া হবে”।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [৩৭, ৩৮, ১৯০১, ২০০৮, ২০০৯, ২০১৪; মুসলিম ২/২৫ হাঃ ৭৬০] [আ. প্র. ৩৪, ই. ফা. ৩৪]

٢٦. بَابٌ: الجِهَادُ مِنَ الإِيمَانِ

২৬. পরিচ্ছেদ : জিহাদ ঈমানের অন্তর্ভুক্ত।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩৬

হাদিসের মান: সহীহ

٣٦ – حَدَّثَنَا حَرَمِيُّ بْنُ حَفْصٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الوَاحِدِ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُمَارَةُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو زُرْعَةَ بْنُ عَمْرِو بْنِ جَرِيرٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «انْتَدَبَ اللَّهُ لِمَنْ خَرَجَ فِي سَبِيلِهِ، لَا يُخْرِجُهُ إِلَّا إِيمَانٌ بِي وَتَصْدِيقٌ بِرُسُلِي، أَنْ أُرْجِعَهُ بِمَا نَالَ مِنْ أَجْرٍ أَوْ غَنِيمَةٍ، أَوْ أُدْخِلَهُ الجَنَّةَ، وَلَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي مَا قَعَدْتُ خَلْفَ سَرِيَّةٍ، وَلَوَدِدْتُ أَنِّي أُقْتَلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ثُمَّ أُحْيَا، ثُمَّ أُقْتَلُ ثُمَّ أُحْيَا، ثُمَّ أُقْتَلُ»

‘হারামী ইব্‌ন ‘হাফ্‌স্ব আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ‘আবদুল ওয়া‘হিদ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ‘উমারাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: আবূ যুর‘আহ ইব্‌ন ‘আম্‌র ইব্‌ন জারীর আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: আমি আবূ হুরায়রা (রাজিআল্লাহু আনহু)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম থেকে হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি যে, তিনি ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র রাস্তায় বের হয়, যদি সে শুধু আল্লাহ্‌র উপর ঈমান এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি বিশ্বাসের কারণে বের হয়ে থাকে, তবে আল্লাহ তা‘আলা ঘোষণা দেন যে, আমি তাকে ঘরে ফিরিয়ে আনব তার সওয়াব বা গনীমত (ও সওয়াব) সহ কিংবা তাকে জান্নাতে দাখিল করব। আর আমার উম্মতের উপর কষ্টদায়ক হবে বলে যদি মনে না করতাম তবে কোন সেনাদলের সাথে না গিয়ে বসে থাকতাম না। আমি অবশ্যই পসন্দ করি যে, আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হই, আবার জীবিত হই, আবার শহীদ হই।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [২৭৮৭, ২৭৯৭, ২৯৭২, ৩১২৩, ৭২২৬, ৭২২৭, ৭৪৫৭, ৭৪৬৩; মুসলিম ৩৩/২৮ হাঃ ১৮৭৬, আহমাদ ৯১৯৮, ৯৪৮১, ৯৪৮৪] [আ. প্র. ৩৫, ই. ফা. ৩৫]

٢٧. ‌‌بَابٌ: تَطَوُّعُ قِيَامِ رَمَضَانَ مِنَ الإِيمَانِ

২৭. পরিচ্ছেদ : রমযানের রাতে নফল ইবাদত ঈমানের অন্তর্ভুক্ত।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩৭

হাদিসের মান: সহীহ

٣٧ – حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ: حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا، غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ»

ইসমা‘ঈল আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: মালিক আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ইব্‌ন শিহাব থেকে, তিনি হুমায়দ ইব্‌ন আব্দির র‘হমান থেকে, তিনি আবূ হুরায়রা (রা) থেকে, তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম ইরশাদ করেন: যে ব্যক্তি রামযানের রাতে ঈমানসহ সওয়াবের আশায় রাত জেগে ইবাদত করে, তার পূর্বের গুনাহ্‌ মাফ করে দেওয়া হয়।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা :

٢٨. بَابٌ ‌‌بَابٌ: صَوْمُ رَمَضَانَ احْتِسَابًا مِنَ الإِيمَانِ

২৮. পরিচ্ছেদ : সওয়াবের আশায় রমযানের সিয়াম পালন করা ঈমানের অংশ।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩৮

হাদিসের মান: সহীহ

٣٨ – حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَامٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ صَامَ رَمَضَانَ، إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا، غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ»

মু‘হাম্মাদ ইব্‌ন সালাম আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: মু‘হাম্মাদ ইব্‌ন ফুযায়ল আমাদেরকে হাদীসটি সংবাদ দিলেন, তিনি বললেন: ইয়া‘হিয়া ইব্‌ন সা‘ঈদ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন আবূ সালামাহ থেকে, তিনি আবূ হুরায়রাহ (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম বললেনঃ যে ব্যক্তি ঈমানসহ সওয়াবের আশায় রমযানের সিয়াম পালন করে, তার পূর্বের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : ….

٢٩. بَابٌ: الدِّينُ يُسْرٌ

وَقَوْلُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَحَبُّ الدِّينِ إِلَى اللَّهِ الحَنِيفِيَّةُ السَّمْحَةُ»

২৯. পরিচ্ছেদ : দীন সহজ।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম বলেন, আল্লাহর নিকট সবচাইতে পসন্দনীয় হল সহজ সরল দীন।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩৯

হাদিসের মান: সহীহ

٣٩ – حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلَامِ بْنُ مُطَهَّرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ مَعْنِ بْنِ مُحَمَّدٍ الغِفَارِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ المَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ الدِّينَ يُسْرٌ، وَلَنْ يُشَادَّ الدِّينَ أَحَدٌ إِلَّا غَلَبَهُ، فَسَدِّدُوا وَقَارِبُوا، وَأَبْشِرُوا، وَاسْتَعِينُوا بِالْغَدْوَةِ وَالرَّوْحَةِ وَشَيْءٍ مِنَ الدُّلْجَةِ»

‘আবদুস সালাম ইব্‌ন মুতাহ্‌হার আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ‘উমার ইব্‌ন ‘আলী আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন মা’ন ইব্‌ন মুহাম্মাদ গিফারী থেকে, তিনি সা‘ঈদ ইব্‌ন আবূ সা‘ঈদ মাক্ববুরী থেকে, তিনি আবূ হুরায়রা (রা) থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: নিশ্চয়ই দীন সহজ-সরল। দীন নিয়ে যে বাড়াবাড়ি করে দীন তার উপর বিজয়ী হয়। কাজেই তোমরা মধ্যপন্থা অবলম্বন কর এবং (মধ্যপন্থার) নিকটবর্তী থাক, আশান্বিত থাক এবং সকাল-সন্ধায় ও রাতের কিছু অংশে (ইবাদতের মাধ্যমে) সাহায্য চাও।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : …

٣٠. بَابٌ: الصَّلَاةُ مِنَ الإِيمَانِ

وَقَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى: {وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُضِيعَ إِيمَانَكُمْ} [البقرة: ١٤٣] يَعْنِي صَلَاتَكُمْ عِنْدَ البَيْتِ

৩০. পরিচ্ছেদ : সালাত ঈমানের অন্তর্ভুক্ত।

আর আল্লাহ্‌র বাণী : “আল্লাহ এরূপ নন যে তোমাদের ঈমান ব্যর্থ করবেন। [সূরা বাক্বারাহ ২:১৪৩] অর্থাৎ বায়তুল্লার নিকট (বায়তুল মুকাদ্দসমুখী হয়ে) আদায় করা তোমাদের সালাতকে তিনি নষ্ট করবেন না।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪০

হাদিসের মান: সহীহ

٤٠ – حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ خَالِدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، عَنِ البَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ أَوَّلَ مَا قَدِمَ المَدِينَةَ نَزَلَ عَلَى أَجْدَادِهِ، أَوْ قَالَ أَخْوَالِهِ مِنَ الأَنْصَارِ، وَأَنَّهُ «صَلَّى قِبَلَ بَيْتِ المَقْدِسِ سِتَّةَ عَشَرَ شَهْرًا، أَوْ سَبْعَةَ عَشَرَ شَهْرًا، وَكَانَ يُعْجِبُهُ أَنْ تَكُونَ قِبْلَتُهُ قِبَلَ البَيْتِ، وَأَنَّهُ صَلَّى أَوَّلَ صَلَاةٍ صَلَّاهَا صَلَاةَ العَصْرِ، وَصَلَّى مَعَهُ قَوْمٌ» فَخَرَجَ رَجُلٌ مِمَّنْ صَلَّى مَعَهُ، فَمَرَّ عَلَى أَهْلِ مَسْجِدٍ وَهُمْ رَاكِعُونَ، فَقَالَ: أَشْهَدُ بِاللَّهِ لَقَدْ صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قِبَلَ مَكَّةَ، فَدَارُوا كَمَا هُمْ قِبَلَ البَيْتِ، وَكَانَتِ اليَهُودُ قَدْ أَعْجَبَهُمْ إِذْ كَانَ يُصَلِّي قِبَلَ بَيْتِ المَقْدِسِ، وَأَهْلُ الكِتَابِ، فَلَمَّا وَلَّى وَجْهَهُ قِبَلَ البَيْتِ، أَنْكَرُوا ذَلِكَ. قَالَ زُهَيْرٌ: حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، عَنِ البَرَاءِ فِي حَدِيثِهِ هَذَا: أَنَّهُ مَاتَ عَلَى القِبْلَةِ قَبْلَ أَنْ تُحَوَّلَ رِجَالٌ وَقُتِلُوا، فَلَمْ نَدْرِ مَا نَقُولُ فِيهِمْ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُضِيعَ إِيمَانَكُمْ} [البقرة: ١٤٣]

‘আমর ইব্‌ন খালিদ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: যুহায়র আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: আবূ ইসহাক আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন বারা ইব্‌ন আযিব (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদীনায় হিজরত করে সর্বপ্রথম আনসারদের মধ্যে তাঁর নানাদের গোত্র [আবূ ইসহাক (রহমাহুল্লাহ) বলেন] বা মামাদের গোত্রে এসে ওঠেন। তিনি ষোল-সতের মাস বায়তুল মুকাদ্‌দাসের দিকে সালাত আদায় করেন। কিন্তু তাঁর পসন্দ ছিল যে, তাঁর কিবলা বায়তুল্লাহর দিকে হোক। আর তিনি (বায়তুল্লাহ্‌র দিকে) প্রথম যে সালাত আদায় করেন তা ছিল আসরের সালাত এবং তাঁর সঙ্গে একদল লোক উক্ত সালাত আদায় করেন। তাঁর সঙ্গে যাঁরা সালাত আদায় করেছিলেন তাঁদের একজন লোক বের হয়ে এক মসজিদে মুসল্লীদের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন তাঁরা তখন রুকূ’র অবস্থায় ছিলেন। তখন তিনি বললেনঃ “আমি আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলছি যে, এইমাত্র আমি রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম এর সঙ্গে মক্কার দিকে ফিরে সালাত আদায় করে এসেছি। তখন তাঁরা যে অবস্থায় ছিলেন সে অবস্থায়ই বায়তুল্লাহ্‌র দিকে ঘুরে গেলেন। রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম যখন বায়তুল মুকাদ্দাস-এর দিকে সালাত আদায় করতেন তখন ইয়াহূদীদের ও আহলি-কিতাবদের কাছে এটা খুব ভাল লাগত; কিন্তু তিনি যখন বায়তুল্লাহ্‌র দিকে (সালাতের জন্য) তাঁর মুখ ফিরালেন তখন তারা এর প্রতি চরম অসন্তুষ্ট হল। যুহায়র (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) বলেন, আবূ ইসহাক (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে আমার কাছে যে হাদীস বর্ণানা করেছেন, তাতে এ কথাও রয়েছে যে, কিবলা পরিবর্তনের পূর্বে বেশ কিছু লোক ইন্তিকাল করেছিলেন এবং শহীদ হয়েছিলেন, তাঁদের ব্যাপারে আমরা কি বলব, বুঝতে পারছিলাম না, তখন আল্লাহ্‌ তা‘আলা নাযিল করেনঃ “আল্লাহ্‌ তা‘আলা তোমাদের সালাতকে (যা বায়তুল মুকাদ্দাস-এর দিকে আদায় করা হয়েছিল) বিনষ্ট করবেন না” [বাক্বারা, ২:১৪৩]।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [৩৯৯, ৪৪৭৬, ৪৪৯২, ৭২৫২; মুসলিম ৫/২ হাঃ ৫২৫, আহমাদ ১৮৫৬৪, ১৮৭৩২] [আ. প্র. ৩৯, ই. ফা. ৩৯]

٣١. بَابُ حُسْنِ إِسْلَامِ المَرْءِ

৩১. পরিচ্ছেদ : উত্তমরূপে ইসলাম গ্রহণ।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪১

হাদিসের মান: সহীহ

٤١ – قَالَ مَالِكٌ: أَخْبَرَنِي زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ، أَنَّ عَطَاءَ بْنَ يَسَارٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَا سَعِيدٍ الخُدْرِيَّ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: ” إِذَا أَسْلَمَ العَبْدُ فَحَسُنَ إِسْلَامُهُ، يُكَفِّرُ اللَّهُ عَنْهُ كُلَّ سَيِّئَةٍ كَانَ زَلَفَهَا، وَكَانَ بَعْدَ ذَلِكَ القِصَاصُ: الحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا إِلَى سَبْعِ مِائَةِ ضِعْفٍ، وَالسَّيِّئَةُ بِمِثْلِهَا إِلَّا أَنْ يَتَجَاوَزَ اللَّهُ عَنْهَا “

মালিক বললেন: যায়দ ইব্‌ন আস্‌লাম আমাকে হাদীসটি খবর দিলেন ‘আতা ইব্‌ন ইয়াসার থেকে, তিনি তাকে হাদীসটি খবর দিলেন আবূ সা‘ঈদ খুদরী থেকে, তিনি বললেন: তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন, বান্দা যখন ইসলাম গ্রহণ করে এবং তার ইসলাম উত্তম হয়, আল্লহ্‌ তা‘আলা তার আগের সব গুনাহ্‌ মাফ করে দেন। এরপর শুরু হয় প্রতিদান; একটি সৎ কাজের বিনিময়ে দশ গুণ থেকে সাতশ গুণ পর্যন্ত; আর একটি মন্দ কাজের বিনিময়ে ঠিক ততটুকু মন্দ প্রতিফল। অবশ্য আল্লাহ যদি মাফ করে দেন তবে ভিন্ন কথা।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [৩৯৯, ৪৪৭৬, ৪৪৯২, ৭২৫২; মুসলিম ৫/২ হাঃ ৫২৫, আহমাদ ১৮৫৬৪, ১৮৭৩২] [আ. প্র. ৩৯, ই. ফা. ৩৯]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪২

হাদিসের মান: হীহ

٤٢ – حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ” إِذَا أَحْسَنَ أَحَدُكُمْ إِسْلَامَهُ: فَكُلُّ حَسَنَةٍ يَعْمَلُهَا تُكْتَبُ لَهُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا إِلَى سَبْعِ مِائَةِ ضِعْفٍ، وَكُلُّ سَيِّئَةٍ يَعْمَلُهَا تُكْتَبُ لَهُ بِمِثْلِهَا “

ইস‘হাক ইব্‌ন মানস্বূর আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ‘আবদুর রায্‌যাক্ব আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: মা’মার আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন হাম্মাম ইব্‌ন মুনাব্বিহ থেকে, তিনি আবূ হুরায়রাহ (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ যখন উত্তমরূপে ইসলামের উপর কায়েম থাকে তখন সে যে নেক আমল করে তার প্রত্যকটির বিনিময়ে সাতশ গুণ পর্যন্ত (সওয়াব) লেখা হয়। আর সে যে মন্দ কাজ করে তার প্রত্যেকটির বিনিময়ে তার জন্য, ঠিক ততটুকুই মন্দ লেখা হয়।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [মুসলিম ১/৫৯ হাঃ ১২৯, আহমাদ ৮২২৪] [আ. প্র. ৪০, ই. ফা. ৪০]

٣٢. بَابٌ: أَحَبُّ الدِّينِ إِلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ أَدْوَمُهُ

৩২. পরিচ্ছেদঃ আল্লাহ্‌ তা‘আলার কাছে সবচাইতে পসন্দনীয় আমল সেটাই যা নিয়মিত করা হয়।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৩

হাদিসের মান: সহীহ

٤٣ – حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ المُثَنَّى، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ هِشَامٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبِي، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ عَلَيْهَا وَعِنْدَهَا امْرَأَةٌ، قَالَ: «مَنْ هَذِهِ؟» قَالَتْ: فُلَانَةُ، تَذْكُرُ مِنْ صَلَاتِهَا، قَالَ: «مَهْ، عَلَيْكُمْ بِمَا تُطِيقُونَ، فَوَاللَّهِ لَا يَمَلُّ اللَّهُ حَتَّى تَمَلُّوا» وَكَانَ أَحَبَّ الدِّينِ إِلَيْهِ مَادَامَ عَلَيْهِ صَاحِبُهُ

মু‘হাম্মাদ ইব্‌ন মুসান্না আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ইয়াহ্‌ইয়া আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন হাশিম থেকে, তিনি বললেন: আমার পিতা আমাকে হাদীসটি খবর দিলেন ‘আয়ইশাহ (রাজিআল্লাহু ‘আনহা) থেকে, তিনি বললেন: নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার তাঁর নিকট আসলেন, তাঁর নিকট তখন এক মহিলা ছিল। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, ‘ইনি কে?’ ‘আয়িশা (রাজিআল্লাহু ‘আনহা) উত্তর দিলেন, অমুক মহিলা, এ বলে তিনি তাঁর সালাতের উল্লেখ করলেন। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম বললেনঃ ‘থাম, তোমরা যতটুকু সামর্থ্য রাখ, ততটুকুই তোমাদের করা উচিত। আল্লাহর শপথ! আল্লাহ তা‘আলা ততক্ষণ পর্যন্ত (সওয়াব দিতে) বিরত হন না, যতক্ষন না তোমরা নিজেরা পরিশ্রান্ত হয়ে পড়। আল্লাহর নিকট অধিক পছন্দনীয় আমল সেটাই, যা আমলকারী নিয়মিত করে থাকে।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [১১৫১; মুসলিম ২/৩১ হাঃ ৭৮৫, আহমাদ ২৪৯৯] [আ. প্র. ৪১, ই. ফা. ৪১]

٣٣. ‌‌بَابُ زِيَادَةِ الإِيمَانِ وَنُقْصَانِهِ

وَقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: {وَزِدْنَاهُمْ هُدًى} [الكهف: ١٣] {وَيَزْدَادَ الَّذِينَ آمَنُوا إِيمَانًا} [المدثر: ٣١] وَقَالَ: «اليَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ» فَإِذَا تَرَكَ شَيْئًا مِنَ الكَمَالِ فَهُوَ نَاقِصٌ

৩৩. পরিচ্ছেদঃ ঈমানের বাড়া-কমা।

আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ “আমি তাদের হিদায়াত বাড়িয়ে দিয়েছিলাম”-(সূরা কাহাফ ১৮:১৩)। “যাতে মু’মিনদের ঈমান আরো বেড়ে যায়”-(সূরা মুদ্‌দাসসির ৭৪:৩১। তিনি আরও বলেন, “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম”-(সূরা আল-মায়িদাহ্‌ ৫:৩); পূর্ণ জিনিস থেকে কিছু বাদ দেয়া হলে তা অপূর্ণ হয়।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৪

হাদিসের মান: সহীহ

٤٤ – حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا هِشَامٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «يَخْرُجُ مِنَ النَّارِ مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَفِي قَلْبِهِ وَزْنُ شَعِيرَةٍ مِنْ خَيْرٍ، وَيَخْرُجُ مِنَ النَّارِ مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَفِي قَلْبِهِ وَزْنُ بُرَّةٍ مِنْ خَيْرٍ، وَيَخْرُجُ مِنَ النَّارِ مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَفِي قَلْبِهِ وَزْنُ ذَرَّةٍ مِنْ خَيْرٍ» قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: قَالَ أَبَانُ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، حَدَّثَنَا أَنَسٌ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مِنْ إِيمَانٍ» مَكَانَ «مِنْ خَيْرٍ»

মুসলিম ইব্‌ন ইবরাহীম আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: হিশাম আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ক্বাতাদাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন আনাস (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বললেন: নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ যে ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ বলবে আর তার অন্তরে একটি যব পরিমাণও পূণ্য বিদ্যমান থাকবে, তাকে জাহান্নাম হতে বের করা হবে এবং যে ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ বলবে আর তার অন্তরে একটি গম পরিমাণ পূণ্য বিদ্যমান থাকবে তাকে জাহান্নাম হতে বের করা হবে এবং যে ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ বলবে আর তার অন্তরে একটি অণু পরিমানও নেকী থাকবে তাকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে। আবূ ‘আব্দুল্লাহ বলেন, আবান (রহমাহুল্লাহ) হাদীস বর্ণনা করেছেন, আনাস (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) হতে এবং তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম হতে নেকী -এর স্থলে ‘ঈমান’ শব্দটি রিওয়ায়াত করেছেন।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [৪৪৭৬, ৬৫৬৫, ৭৪১০, ৭৪৪০, ৭৫০৯, ৭৫১০, ৭৫১৬; মুসলিম ১/৮৪ হাঃ ১৯৩, আহমাদ ১২১৫৪] [আ. প্র. ৪২, ই. ফা. ৪২]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৫

হাদিসের মান: সহীহ

٤٥ – حَدَّثَنَا الحَسَنُ بْنُ الصَّبَّاحِ، سَمِعَ جَعْفَرَ بْنَ عَوْنٍ، حَدَّثَنَا أَبُو العُمَيْسِ، أَخْبَرَنَا قَيْسُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الخَطَّابِ، أَنَّ رَجُلًا، مِنَ اليَهُودِ قَالَ لَهُ: يَا أَمِيرَ المُؤْمِنِينَ، آيَةٌ فِي كِتَابِكُمْ تَقْرَءُونَهَا، لَوْ عَلَيْنَا مَعْشَرَ اليَهُودِ نَزَلَتْ، لَاتَّخَذْنَا ذَلِكَ اليَوْمَ عِيدًا. قَالَ: أَيُّ آيَةٍ؟ قَالَ: {اليَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الإِسْلَامَ دِينًا} [المائدة: ٣] قَالَ عُمَرُ: «قَدْ عَرَفْنَا ذَلِكَ اليَوْمَ، وَالمَكَانَ الَّذِي نَزَلَتْ فِيهِ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَهُوَ قَائِمٌ بِعَرَفَةَ يَوْمَ جُمُعَةٍ»

হাসান ইব্‌ন স্বাব্বাহ্‌’ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: জা’ফার ইব্‌ন ‘আওন হাদীসটি শুনেছেন, তিনি (জা’ফার ইব্‌ন ‘আওন) বললেন: আবূ ‘উমায়স আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ক্বায়েস ইব্‌ন মুসলিম আমাদেরকে হাদীসটি খবর দিলেন ত্বারিক্ব ইব্‌ন শিহাব থেকে, তিনি ‘উমর ইবনুল খাত্তাব (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: এক ইয়াহূদী তাঁকে বলল: হে আমীরুল মু’মিনীন! আপনাদের কিতাবে একটি আয়াত আছে, যা আপনারা পাঠ করে থাকেন, তা যদি আমাদের ইয়াহূদী জাতির উপর অবতীর্ণ হত, তবে অবশ্যই আমরা সে দিনকে খুশীর দিন হিসাবে পালন করতাম। তিনি বললেন, কোন আয়াত? সে বলল, “আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পরিপূর্ণ করলাম ও তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন মনোনীত করলাম” -(সূরাহ্ মায়িদাহ্‌ ৫:৩)। ‘উমার (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) বললেন, এটি যে দিন এবং যে স্থানে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম-এর উপর অবতীর্ণ হয়েছিল তা আমরা জানি; তিনি সেদিন ‘আরাফায় দাঁড়িয়েছিলেন আর সেটা ছিল জুমু‘আহ্‌র দিন।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [৪৪০৭, ৪৬০৬, ৭২৬৮; মুসলিম ৪৩/১ হাঃ ৩০১৭] [আ. প্র. ৪৩, ই. ফা. ৪৩]

٣٤. ‌‌بَابٌ: الزَّكَاةُ مِنَ الإِسْلَامِ

وَقَوْلُهُ: {وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ وَذَلِكَ دِينُ القَيِّمَةِ} [البينة: ٥]

৩৪. পরিচ্ছেদ : যাকাত ইসলমের অঙ্গ।

আল্লাহ তা ‘আলার বাণী- “তারা তো আদিষ্ট হয়েছিল আল্লাহর আনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্ত হয়ে একনিষ্ঠভাবে তাঁরই ইবাদত করতে এবং সালাত কায়েম করতে, যাকাত দিতে। আর এ-ই সঠিক দ্বীন”। (সূরা বায়্যিনাহ্‌ ৯৮:৫)

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৬

হাদিসের মান: সহীহ

٤٦ – حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ: حَدَّثَنِي مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ عَمِّهِ أَبِي سُهَيْلِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ سَمِعَ طَلْحَةَ بْنَ عُبَيْدِ اللَّهِ، يَقُولُ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ أَهْلِ نَجْدٍ ثَائِرَ الرَّأْسِ، يُسْمَعُ دَوِيُّ صَوْتِهِ وَلَا يُفْقَهُ مَا يَقُولُ، حَتَّى دَنَا، فَإِذَا هُوَ يَسْأَلُ عَنِ الإِسْلَامِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «خَمْسُ صَلَوَاتٍ فِي اليَوْمِ وَاللَّيْلَةِ». فَقَالَ: هَلْ عَلَيَّ غَيْرُهَا؟ قَالَ: «لَا، إِلَّا أَنْ تَطَوَّعَ». قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَصِيَامُ رَمَضَانَ». قَالَ: هَلْ عَلَيَّ غَيْرُهُ؟ قَالَ: «لَا، إِلَّا أَنْ تَطَوَّعَ». قَالَ: وَذَكَرَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الزَّكَاةَ، قَالَ: هَلْ عَلَيَّ غَيْرُهَا؟ قَالَ: «لَا، إِلَّا أَنْ تَطَوَّعَ». قَالَ: فَأَدْبَرَ الرَّجُلُ وَهُوَ يَقُولُ: وَاللَّهِ لَا أَزِيدُ عَلَى هَذَا وَلَا أَنْقُصُ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَفْلَحَ إِنْ صَدَقَ»

ইসমা‘ঈল আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: মালিক ইব্‌ন আনাস আমাকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন তাঁর চাচা আবূ সুহায়ল ইব্‌ন মালিক থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ত্বাল‘হাহ্‌ ইব্‌ন উবায়দুল্লাহ্‌ (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে শুনেছেন, তিনি বলেন: নাজ্‌দবাসী এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম-এর কাছে এলো। তার মাথার চুল ছিল এলোমেলো। আমরা তার কথায় মৃদু আওয়ায শুনতে পাচ্ছিলাম, কিন্তু সে কি বলছিল, আমরা তা বুঝতে পারছিলাম না। এভাবে সে কাছে এসে ইসলাম সম্পর্কে প্রশ্ন করতে লাগল। রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ ‘দিন-রাত পাঁচ ওয়াক্ত সালাত’। সে বলল, ‘আমার উপর এ ছাড়া আরো সালাত আছে?’ তিনি বললেনঃ ‘না, তবে নফল আদায় করতে পার।’ রাসূলূল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ ‘আর রমযানের সিয়াম।’ সে বলল, ‘আমার উপর এ ছাড়া সওম আছে।’ তিনি বললেনঃ না, তবে নফল আদায় করতে পার।’ হাদীস বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম তার কাছে যাকাতের কথা বললেন। সে বলল, ‘আমার উপর এ ছাড়া আরো দেয় আছে।’ তিনি বললেনঃ না, তবে নফল হিসেবে দিতে পার।’ হাদীস বর্ণনাকারী বলেন, ‘সে ব্যক্তি এই বলে চলে গেলেন; ‘আল্লাহর কসম! আমি এর চেয়ে বেশীও করব না এবং কমও করব না।’ তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন।, ‘সে সফলকাম হবে যদি সত্য বলে থাকে।’

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [১৮৯১, ২৬৭৮, ৬৯৫৬; মুসলিম ১/২ হাঃ ১১, আহমাদ ১৩৯০] [আ. প্র. ৪৪, ই. ফা. ৪৪]

٣٥. بَابٌ: اتِّبَاعُ الجَنَائِزِ مِنَ الإِيمَانِ

৩৫. পরিচ্ছেদ : জানাযার অনুগমন ঈমানের অঙ্গ।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৭

হাদিসের মান: সহীহ

٤٧ – حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَلِيٍّ المَنْجُوفِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا رَوْحٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَوْفٌ، عَنِ الحَسَنِ، وَمُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنِ اتَّبَعَ جَنَازَةَ مُسْلِمٍ، إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا، وَكَانَ مَعَهُ حَتَّى يُصَلَّى عَلَيْهَا وَيَفْرُغَ مِنْ دَفْنِهَا، فَإِنَّهُ يَرْجِعُ مِنَ الأَجْرِ بِقِيرَاطَيْنِ، كُلُّ قِيرَاطٍ مِثْلُ أُحُدٍ، وَمَنْ صَلَّى عَلَيْهَا ثُمَّ رَجَعَ قَبْلَ أَنْ تُدْفَنَ، فَإِنَّهُ يَرْجِعُ بِقِيرَاطٍ» تَابَعَهُ عُثْمَانُ المُؤَذِّنُ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَوْفٌ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَحْوَهُ

আহমদ ইব্‌ন ‘আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌ন ‘আলী আল-মানজূফী আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: রাউহু আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ‘আউফ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন হাসান এবং মুহাম্মাদ থেকে, তিনি আবূ হুরায়রা (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় কোন মুসলমানের জানাযার অনুগমন করে এবং তার সালাত-ই-জানাযা আদায় ও দাফন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত সঙ্গে থাকে, সে দুই কীরাত সওয়াব নিয়ে ফিরবে। প্রতিটি কীরাত হল উহুদ পর্বতের মতো। আর যে শুধু তার জানাযা আদায় করে, তারপর দাফন সম্পন্ন হবার পূর্বেই চলে আসে, সে এক কীরাত সওয়াব নিয়ে ফিরবে।” ‘উসমান আল-মুয়ায্‌যিন (রহমাহুল্লাহ) বললেন, আউফ, মুহাম্মাদ থেকে, তিনি আবূ হুরায়রা (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [১৩২৩, ১৩২৫] [আ. প্র. ৪৫, ই. ফা. ৪৫]

٣٢. ‌‌بَابُ خَوْفِ المُؤْمِنِ مِنْ أَنْ يَحْبَطَ عَمَلُهُ وَهُوَ لَا يَشْعُرُ

وَقَالَ إِبْرَاهِيمُ التَّيْمِيُّ: «مَا عَرَضْتُ قَوْلِي عَلَى عَمَلِي إِلَّا خَشِيتُ أَنْ أَكُونَ مُكَذِّبًا» وَقَالَ ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ: ” أَدْرَكْتُ ثَلَاثِينَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، كُلُّهُمْ يَخَافُ النِّفَاقَ عَلَى نَفْسِهِ، مَا مِنْهُمْ أَحَدٌ يَقُولُ: إِنَّهُ عَلَى إِيمَانِ جِبْرِيلَ وَمِيكَائِيلَ ” وَيُذْكَرُ عَنِ الحَسَنِ: ” مَا خَافَهُ إِلَّا مُؤْمِنٌ وَلَا أَمِنَهُ إِلَّا مُنَافِقٌ. وَمَا يُحْذَرُ مِنَ الإِصْرَارِ عَلَى النِّفَاقِ وَالعِصْيَانِ مِنْ غَيْرِ تَوْبَةٍ، لِقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: {وَلَمْ يُصِرُّوا عَلَى مَا فَعَلُوا وَهُمْ يَعْلَمُونَ} [آل عمران: ١٣٥]

৩৬. পরিচ্ছেদ : অজ্ঞাতসারে মু’মিনের আমল নষ্ট হওয়ার আশংকা

ইবরাহীম তায়মী (রহমাহুল্লাহ) বললেনঃ আমার আমলের সাথে যখন আমার কথা তুলনা করি, তখন আশঙ্কা হয়, আমি না মিথ্যাবাদী হই। ইব্‌ন মুলায়কা (রহমাহুল্লাহ) বললেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এমন ত্রিশজন সাহাবীকে পেয়েছি, যাঁরা সবাই নিজেদের সম্পর্কে নিফাকের ভয় করতেন। তাঁরা কেউ এক কথা বলতেন না যে, তিনি জিবরীল (‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও মীকাঈল (‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর তুল্য ঈমানের অধিকারী। হাসান (বসরী) (রহমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত, নিফাকের ভয় মু’মিনই করে থাকে। আর কেবল মুনাফিকই তা থেকে নিশ্চিত থাকে। তওবা না করে পরস্পর লড়াই করা ও পাপাচারে লিপ্ত হওয়া থেকে সতর্ক থাকা। কারণ আল্লাহ্‌ তা‘আলা বলেনঃ “এবং তারা (মুত্তাকীরা) যা করে ফেলে, জেনে শুনে তার (গুনাহ্‌র) পুনারাবৃত্তি করে না।” [আল-ইমরান ৩:১৩৫]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৮

হাদিসের মান: সহীহ

٤٨ – حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَرْعَرَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ زُبَيْدٍ، قَالَ: سَأَلْتُ أَبَا وَائِلٍ عَنْ المُرْجِئَةِ، فَقَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «سِبَابُ المُسْلِمِ فُسُوقٌ، وَقِتَالُهُ كُفْرٌ»

মু‘হাম্মাদ ইব্‌ন ‘আর‘আরাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: শু’বাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন যুবায়দ থেকে, তিনি বললেন: আমি আবূ ওয়াইল-কে মুরজিআহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি বললেন: ‘আবদুল্লাহ আমার কাছে হাদীসটি বর্ণনা করলেন: নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ “মুসলিমকে গালি দেওয়া ফসিকী এবং তার সাথে লড়াই করা কুফরী।”

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : …

ফুটনোটঃ
১. একটি বাতিল ফিরকা মুরজিআ’, যাদের মত হল, ভাল হোক বা মন্দ কোন আমলের মূল্য নেই এবং ঈমান আনার পর কোন গুনাহ ক্ষতিকর নয়।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৯

হাদিসের মান: হীহ

٤٩ – أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنِي أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عُبَادَةُ بْنُ الصَّامِتِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ يُخْبِرُ بِلَيْلَةِ القَدْرِ، فَتَلَاحَى رَجُلَانِ مِنَ المُسْلِمِينَ فَقَالَ: «إِنِّي خَرَجْتُ لِأُخْبِرَكُمْ بِلَيْلَةِ القَدْرِ، وَإِنَّهُ تَلَاحَى فُلَانٌ وَفُلَانٌ، فَرُفِعَتْ، وَعَسَى أَنْ يَكُونَ خَيْرًا لَكُمْ، التَمِسُوهَا فِي السَّبْعِ وَالتِّسْعِ وَالخَمْسِ»

কুতায়বা ইব্‌ন সা‘ঈদ আমাদেরকে হাদীসটি খবর দিলেন, তিনি বললেন: ইসমা‘ঈল ইব্‌ন জাফার হাদীসটি আমাদেরকে বর্ণনা করলেন হুমায়দ থেকে, তিনি বললেন: আনাস ইব্‌ন মালিক হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ‘উবাদাহ ইব্‌ন সামিত (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) আমাকে সংবাদ দিলেন, তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম লায়লাতুল কদ্‌র সম্পর্কে খবর দেওয়ার জন্য বের হলেন। তখন দু’জন মুসলমান পরস্পর বিবাদ করছিল। তিনি বললেন: “আমি তোমাদেরকে লায়লাতুল কদর সম্পর্কে খবর দেওয়ার জন্য বেরিয়েছিলাম; কিন্তু তখন অমুক অমুক বিবাদে লিপ্ত থাকায় তা (নির্দিষ্ট তারিখ সম্পর্কিত জ্ঞান) উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। আর হয়তো বা এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর হবে। তোমরা তা অনুসন্ধান কর ২৭, ২৯, ২৫তম রাতে”।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [২০২৩, ৬০৪৯] [আ. প্র. ৪৭, ই. ফা. ৪৭]

٣٧. ‌‌بَابُ سُؤَالِ جِبْرِيلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الإِيمَانِ، وَالإِسْلَامِ، وَالإِحْسَانِ، وَعِلْمِ السَّاعَةِ

وَبَيَانِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَهُ، ثُمَّ قَالَ: «جَاءَ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ يُعَلِّمُكُمْ دِينَكُمْ» فَجَعَلَ ذَلِكَ كُلَّهُ دِينًا، وَمَا بَيَّنَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِوَفْدِ عَبْدِ القَيْسِ مِنَ الإِيمَانِ، وَقَوْلِهِ تَعَالَى: {وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ} [آل عمران: ٨٥]

৩৭. পরিচ্ছেদ : জিবরীল (‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কর্তৃক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম এর কাছে ঈমান, ইসলাম, ইহসান ও কিয়ামতের জ্ঞন সম্পর্কে প্রশ্ন।

জিবরীল (‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কর্তৃক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম -এর কাছে ঈমান, ইসলাম, ইহছান ও কিয়ামতের জ্ঞান সম্পর্কে প্রশ্ন আর তাঁকে দেওয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম -এর উত্তর। তারপর তিনি বললেনঃ জিবরীল (‘আলাইহিস সাল্লাম) তোমাদের দ্বীন শিক্ষা দিতে এসে ছিলেন। তিনি এসব বিষয়কে দ্বীন বলে আখ্যায়িত করেছেন। ঈমান সম্পর্কে আবদুল কায়স গোত্রের প্রতিনিধি দলকে রাসূলূল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম যে বিবরণ দিয়েছেন এবং আল্লাহ্‌ তা‘আল ইরশাদ করেছেনঃ “কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন দ্বীন গ্রহণ করতে চাইলে তা কখনো কবূল হবে না। [সূরা আল-‘ইমরান ৩:৮৫]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫০

হাদিসের মান: সহীহ

٥٠ – حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا أَبُو حَيَّانَ التَّيْمِيُّ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَارِزًا يَوْمًا لِلنَّاسِ، فَأَتَاهُ جِبْرِيلُ فَقَالَ: مَا الإِيمَانُ؟ قَالَ: «الإِيمَانُ أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ، وَكُتُبِهِ، وَبِلِقَائِهِ، وَرُسُلِهِ وَتُؤْمِنَ بِالْبَعْثِ». قَالَ: مَا الإِسْلَامُ؟ قَالَ: ” الإِسْلَامُ: أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ، وَلَا تُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا، وَتُقِيمَ الصَّلَاةَ، وَتُؤَدِّيَ الزَّكَاةَ المَفْرُوضَةَ، وَتَصُومَ رَمَضَانَ “. قَالَ: مَا الإِحْسَانُ؟ قَالَ: «أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ، فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ»، قَالَ: مَتَى السَّاعَةُ؟ قَالَ: ” مَا المَسْئُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ، وَسَأُخْبِرُكَ عَنْ أَشْرَاطِهَا: إِذَا وَلَدَتِ الأَمَةُ رَبَّهَا، وَإِذَا تَطَاوَلَ رُعَاةُ الإِبِلِ البُهْمُ فِي البُنْيَانِ، فِي خَمْسٍ لَا يَعْلَمُهُنَّ إِلَّا اللَّهُ ” ثُمَّ تَلَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: {إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ} [لقمان: ٣٤] الآيَةَ، ثُمَّ أَدْبَرَ فَقَالَ: «رُدُّوهُ» فَلَمْ يَرَوْا شَيْئًا، فَقَالَ: «هَذَا جِبْرِيلُ جَاءَ يُعَلِّمُ النَّاسَ دِينَهُمْ» قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: جَعَلَ ذَلِكَ كُلَّهُ مِنَ الإِيمَانِ

মুসাদ্দাদ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ইসমা‘ঈল ইব্‌ন ইব্‌রাহীম আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ‘হাইয়ানা তায়মী আমাদেরকে হাদীসটি খবর দিলেন আবূ যুর‘আহ থেকে, তিনি আবূ হুরায়রা (রাজিআল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি বলেন: একদিন রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম জনসমক্ষে বসা ছিলেন, এমন সময় তাঁর কাছে এক ব্যক্তি এসে জিজ্ঞাসা করলেন ‘ঈমান কি?’ তিনি বললেনঃ “ঈমান হল, আপনি বিশ্বাস করবেন আল্লাহর প্রতি, তাঁর মালাইকাদের প্রতি, (কিয়ামতের দিন) তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের প্রতি এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি। আপনি আরো বিশ্বাস করবেন পুনরুত্থানের প্রতি।” তিনি জিজ্ঞাসা করলেন “ইসলাম কি?” তিনি বললেনঃ “ইসলাম হল, আপনি আল্লাহ্‌র ইবাদত করবেন এবং তাঁর সঙ্গে শরীক করবেন না, সালাত কায়েম করবেন, ফরয যাকাত আদায় করবেন এবং রমযান-এর সাওম পালন করবেন।” ঐ ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন, “ইহসান কি?” তিনি বললেন: “আপনি এমনভাবে আল্লাহ্‌র ‘ইবাদত করবেন যেন আপনি তাঁকে দেখছেন, আর যদি আপনি তাঁকে দেখতে না পান তবে (বিশ্বাস রাখবেন যে) তিনি আপনাকে দেখছেন।” ঐ ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন, “কিয়ামত কবে হবে?” তিনি বললেন: “এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে, তিনি জিজ্ঞাসাকারী অপেক্ষা বেশী জানেন না। তবে আমি আপনাকে কিয়ামতের আলামতসমূহ বলে দিচ্ছি: বাঁদী যখন তার মনিবকে প্রসব করবে এবং উটের নগণ্য রাখালেরা যখন বড় বড় অট্টালিকা নির্মাণে প্রতিযোগিতা করবে। (কিয়ামতের বিষয়) সেই পাঁচটি জিনিসের অন্তর্ভুক্ত, যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।” এরপর রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম এই আয়াতটি শেষ পর্যন্ত তিলাওয়াত করলেন: “কিয়ামতের জ্ঞান কেবল আল্লাহ্‌রই নিকট ….।” [সূরা লুকমান ৩১:৩৪] এরপর ঐ ব্যক্তি চলে গেলে তিনি বললেন: “তোমরা তাকে ফিরিয়ে আন।” তারা কিছুই দেখতে পেল না। তখন তিনি বললেন, “ইনি জীবরীল (‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। লোকদেরকে তাদের দ্বীন শেখাতে এসেছিলেন।” আবূ আবদুল্লাহ বুখারী (রহমাহুল্লাহ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসব বিষয়কে ঈমানের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [৪৭৭৭; মুসলিম ১/১ হাঃ ৯] [আ. প্র. ৪৮, ই. ফা. ৪৮]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫১

হাদিসের মান: হীহ

٥١ – حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ حَمْزَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ، أَخْبَرَهُ قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبُو سُفْيَانَ بْنُ حَرْبٍ، ” أَنَّ هِرَقْلَ، قَالَ لَهُ: سَأَلْتُكَ هَلْ يَزِيدُونَ أَمْ يَنْقُصُونَ؟ فَزَعَمْتَ أَنَّهُمْ يَزِيدُونَ، وَكَذَلِكَ الإِيمَانُ حَتَّى يَتِمَّ، وَسَأَلْتُكَ هَلْ يَرْتَدُّ أَحَدٌ سَخْطَةً لِدِينِهِ بَعْدَ أَنْ يَدْخُلَ فِيهِ؟ فَزَعَمْتَ أَنْ لَا، وَكَذَلِكَ الإِيمَانُ، حِينَ تُخَالِطُ بَشَاشَتُهُ القُلُوبَ لَا يَسْخَطُهُ أَحَدٌ “

ইবরাহীম ইব্‌ন ‘হামযা আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ইবরাহীম ইব্‌ন সা’দ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন স্বালি‘হ থেকে, তিনি ইব্‌ন শিহাব থেকে, তিনি ‘উবায়দিল্লাহ ইব্‌ন ‘আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি আব্বাস (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বলেন: আবূ সুফিয়ান ইব্‌ন হারব আমার কাছে হাদীসটি বর্ণনা করেন, তিনি বললেন: “হিরক্‌ল তাঁকে বলেছিলেন, আমি তোমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম তারা (ঈমানদারগণ) সংখ্যায় বাড়ছে না কমছে? তুমি উত্তর দিয়েছিলে, তারা সংখ্যায় বাড়ছে। প্রকৃতপক্ষে ঈমানের ব্যাপারে এরূপই থাকে যতক্ষণ না তা পূর্ণতা লাভ করে। আর আমি তোমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, কেউ তাঁর দ্বীন গ্রহণ করার পর তা অপসন্দ করে মুরতাদ হয়ে যায় কি-না? তুমি জবাব দিয়েছ, ‘না। প্রকৃত ঈমান এরূপই, ঈমানের স্বাদ অন্তরের সাথে মিশে গেলে কেউ তা অপসন্দ করে না।”

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : ..

٣٨. ‌‌بَابُ فَضْلِ مَنِ اسْتَبْرَأَ لِدِينِهِ

৩৮. পরিচ্ছেদ : দ্বীন রক্ষাকারীর ফযীলত

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫২

হাদিসের মান: সহীহ

٥٢ – حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّاءُ، عَنْ عَامِرٍ، قَالَ: سَمِعْتُ النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ، يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: ” الحَلَالُ بَيِّنٌ، وَالحَرَامُ بَيِّنٌ، وَبَيْنَهُمَا مُشَبَّهَاتٌ لَا يَعْلَمُهَا كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ، فَمَنِ اتَّقَى المُشَبَّهَاتِ اسْتَبْرَأَ لِدِينِهِ وَعِرْضِهِ، وَمَنْ وَقَعَ فِي الشُّبُهَاتِ: كَرَاعٍ يَرْعَى حَوْلَ الحِمَى، يُوشِكُ أَنْ يُوَاقِعَهُ، أَلَا وَإِنَّ لِكُلِّ مَلِكٍ حِمًى، أَلَا إِنَّ حِمَى اللَّهِ فِي أَرْضِهِ مَحَارِمُهُ، أَلَا وَإِنَّ فِي الجَسَدِ مُضْغَةً: إِذَا صَلَحَتْ صَلَحَ الجَسَدُ كُلُّهُ، وَإِذَا فَسَدَتْ فَسَدَ الجَسَدُ كُلُّهُ، أَلَا وَهِيَ القَلْبُ “

আবূ নু‘আয়ম আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: যাকারিয়া আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ‘আমির থেকে, তিনি বললেন: আমি নু‘মান ইব্‌ন বশীর (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, “হালালও স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট। আর এ দুয়ের মাঝে রয়েছে বহু সন্দেহজনক বিষয়- যা অনেকেই জানে না। যে ব্যক্তি সেই সন্দেহজনক বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকবে, সে তাঁর দ্বীন ও মর্যাদা রক্ষা করতে পারবে। আর যে সন্দেহজনক বিষয়সমূহে লিপ্ত হয়ে পড়ে, তার উদাহরণ সে রাখালের ন্যায়, যে তার পশু বাদশাহ্‌র সংরক্ষিত চারণভূমির আশেপাশে চরায়, অচিরেই সেগুলোর সেখানে ঢুকে পড়ার আশংকা রয়েছে। জেনে রাখ যে, প্রত্যেক বাদশাহ্‌রই একটি সংরক্ষিত এলাকা রয়েছে। আরো জেনে রাখ যে, আল্লাহর যমীনে তাঁর সংরক্ষিত এলাকা হলো তাঁর নিষিদ্ধ কাজসমূহ। জেনে রাখ, শরীরের মধ্যে একটি গোশতের টুকরা আছে, তা যখন ঠিক হয়ে যায়, গোটা শরীরই তখন ঠিক হয়ে যায়। আর তা যখন খারাপ হয়ে যায়, গোটা শরীরই তখন খারাপ হয়ে যায়। জেনে রেখ, সে গোশতের টকুরাটি হল ক্বলব (অন্তর)।”

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [২০৫১; মুসলিম ২২/২০ হাঃ ১৫৯৯, আহমাদ ১৮৩৯৬, ১৮৪০২] [আ. প্র. ৫০, ই. ফা. ৫০]

٣٩. ‌‌بَابٌ: أَدَاءُ الخُمُسِ مِنَ الإِيمَانِ

৩৯. পরিচ্ছেদ : গনীমতের পঞ্চমাংশ প্রদান ঈমানের অন্তর্ভুক্ত

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৩

হাদিসের মান: সহীহ

٥٣ – حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الجَعْدِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي جَمْرَةَ، قَالَ: كُنْتُ أَقْعُدُ مَعَ ابْنِ عَبَّاسٍ يُجْلِسُنِي عَلَى سَرِيرِهِ فَقَالَ: أَقِمْ عِنْدِي حَتَّى أَجْعَلَ لَكَ سَهْمًا مِنْ مَالِي فَأَقَمْتُ مَعَهُ شَهْرَيْنِ، ثُمَّ قَالَ: إِنَّ وَفْدَ عَبْدِ القَيْسِ لَمَّا أَتَوُا النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنِ القَوْمُ؟ – أَوْ مَنِ الوَفْدُ؟ -» قَالُوا: رَبِيعَةُ. قَالَ: «مَرْحَبًا بِالقَوْمِ، أَوْ بِالوَفْدِ، غَيْرَ خَزَايَا وَلَا نَدَامَى»، فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا لَا نَسْتَطِيعُ أَنْ نَأْتِيكَ إِلَّا فِي الشَّهْرِ الحَرَامِ، وَبَيْنَنَا وَبَيْنَكَ هَذَا الحَيُّ مِنْ كُفَّارِ مُضَرَ، فَمُرْنَا بِأَمْرٍ فَصْلٍ، نُخْبِرْ بِهِ مَنْ وَرَاءَنَا، وَنَدْخُلْ بِهِ الجَنَّةَ، وَسَأَلُوهُ عَنِ الأَشْرِبَةِ: فَأَمَرَهُمْ بِأَرْبَعٍ، وَنَهَاهُمْ عَنْ أَرْبَعٍ، أَمَرَهُمْ: بِالإِيمَانِ بِاللَّهِ وَحْدَهُ، قَالَ: «أَتَدْرُونَ مَا الإِيمَانُ بِاللَّهِ وَحْدَهُ» قَالُوا: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: «شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَإِقَامُ الصَّلَاةِ، وَإِيتَاءُ الزَّكَاةِ، وَصِيَامُ رَمَضَانَ، وَأَنْ تُعْطُوا مِنَ المَغْنَمِ الخُمُسَ» وَنَهَاهُمْ عَنْ أَرْبَعٍ: عَنِ الحَنْتَمِ وَالدُّبَّاءِ وَالنَّقِيرِ وَالمُزَفَّتِ “، وَرُبَّمَا قَالَ: «المُقَيَّرِ» وَقَالَ: «احْفَظُوهُنَّ وَأَخْبِرُوا بِهِنَّ مَنْ وَرَاءَكُمْ»

আলী ইব্‌ন জা’দ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: শু’বাহ আমাদেরকে হাদীসটি সংবাদ দিলেন আবূ জমরাহ থেকে, তিনি বললেন: আমি ইব্‌ন আব্বাস (রাজিআল্লাহু ‘আনহু)-র সঙ্গে বসতাম। তিনি আমাকে তাঁর আসনে বসাতেন। একবার তিনি বলেন: তুমি আমার কাছে থেকে যাও, আমি তোমাকে আমার সম্পদ থেকে কিছু অংশ দেব। আমি দু’মাস তাঁর সঙ্গে অবস্থান করলাম। তারপর একদিন তিনি বললেন, আবদুল কায়স-এর একট প্রতিনিধি দল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম- এর কাছে আসলেন তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমরা কোন কওমের? অথবা বললেন, কোন প্রতিনিধিদলের? তারা বলল, ‘রাবী ‘আ গোত্রের।’ তিনি বললেনঃ মারহাবা সে গোত্র বা সে প্রতিনিধিদলের প্রতি, যারা অপদস্থ ও লজ্জিত না হয়েই এসেছে। তারা বলল, ইয়া রাসূলুল্লাহ! নিষিদ্ধ মাসসমূহ ছাড়া অন্য কোন সময় আমরা আপনার কাছে আসতে পারি না। (কারণ) আমাদের এবং আপনাদের মাঝখানে মুযার গোত্রীয় কাফিরদের বাস। তাই আমাদের কিছু স্পষ্ট হুকুম দিন, যাতে আমরা যাদের পিছনে রেখে এসেছি তাদের জানিয়ে দিতে পারি এবং যাতে আমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারি। তারা পানীয় সম্পর্কেও জিজ্ঞাসা করল। তখন তিনি তাদের চারটি জিনিস থেকে নিষেধ করলেন। তাদেরকে এক আল্লাহ্‌র প্রতি ঈমান আনার আদেশ দিয়ে বললেনঃ “এক আল্লাহ্‌র প্রতি ঈমান আনা কিভাবে হয় তা কি তোমরা জান?” তাঁরা বলল, “আল্লাহর ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন।” তিনি বললেনঃ “তা হল এ সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া ইলাহ্‌ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর রাসূল এবং সালাত কায়েম করা, যাকাত দেওয়া, রমযানে সিয়াম পালন করা; আর তোমরা গনীমতের মাল থেকে এক-পঞ্চমাংশ প্রদান করবে। তিনি তাদেরকে চারটি জিনিস থেকে নিষেধ করলেন। তা হলোঃ সবুজ কলসী, শুকনো লাউয়ের খোল, খেজুর গাছের গুঁড়ি থেকে তৈরীকৃত পাত্র এবং আলাকাতরার পালিশকৃত পাত্র।১ রাবী বলেন, হাদীস বর্ণনাকারী (مزفت -এর স্থলে) المقير উল্লেখ করেছেন (উভয় শব্দের অর্থ একই)। তিনি আরো বলেন, তোমরা এগুলো ভালো করে আয়ত্ত করে নাও এবং অন্যদের এগুলি জানিয়ে দাও।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [৮৭, ৫২৩, ১৩৯৮, ৩০৯৫, ৩৫১০, ৪৩৬৮, ৪২৬৯, ৬১৭৬, ৭২৬৬, ৭৫৫৬; মুসলিম ১/৬ হাঃ ১৭] [আ. প্র. ৫১, ই. ফা. ৫১]

ফুট নোটঃ
১. এ পাত্রগুলিতে সে সময় মদ প্রস্তুত করা হত।

٤٠. بَابٌ: مَا جَاءَ إِنَّ الأَعْمَالَ بِالنِّيَّةِ وَالحِسْبَةِ، وَلِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى

فَدَخَلَ فِيهِ الإِيمَانُ، وَالوُضُوءُ، وَالصَّلَاةُ، وَالزَّكَاةُ، وَالحَجُّ، وَالصَّوْمُ، وَالأَحْكَامُ، وَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {قُلْ كُلٌّ يَعْمَلُ عَلَى شَاكِلَتِهِ} [الإسراء: ٨٤] عَلَى نِيَّتِهِ. «نَفَقَةُ الرَّجُلِ عَلَى أَهْلِهِ يَحْتَسِبُهَا صَدَقَةٌ» وَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَلَكِنْ جِهَادٌ وَنِيَّةٌ»

৪০. পরিচ্ছেদ : ‘আমলসমূহ সংকল্প ও পুণ্যের আকাঙ্খা অনুযায়ী, প্রতিটি ব্যক্তির প্রাপ্য তার সংকল্প অনুযায়ী।

প্রত্যেক মানুষের প্রাপ্য তার নিয়ত অনুযায়ী। অতএব ঈমান, উযূ, সালাত, যাকাত, হজ্জ, সাওম এবং অন্যান্য আহ্‌কাম সবই এর অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ “বলুন প্রত্যেকেই প্রকৃতি (নিয়ত) অনুযায়ি কাজ করে থাকে”। [সূরা আল-ইসরা ১৭:৮৪] شَاكِلَتِهِ অর্থাৎ নিয়ত অনুযায়ী। মানুষ তার পরিবারের জন্য সওয়াবের নিয়তে যা খরচ করে, তা সাদকা। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম বলেন, (এখন মক্কা থেকে হিজরত নেই) তবে কেবল জিহাদ ও নিয়ত বাকী আছে।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৪

হাদিসের মান: সহীহ

٥٤ – حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَقَّاصٍ، عَنْ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «الأَعْمَالُ بِالنِّيَّةِ، وَلِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى، فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ فَهِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ، وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ لدُنْيَا يُصِيبُهَا، أَوِ امْرَأَةٍ يَتَزَوَّجُهَا، فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ»

‘আব্দুল্লাহ ইব্‌ন মাসলামাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: আমাদেরকে মালিক হাদীসটি সংবাদ দিলেন ইয়াহ্‌ইয়া ইবনি সা‘ঈদ থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইব্‌ন ইবরাহীম থেকে, তিনি আলাকমাহ ইব্‌ন ওয়াক্কাস থেকে, তিনি ‘উমার (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “কাজ নিয়তের সাথে সম্পর্কিত এবং প্রত্যেক মানুষের প্রাপ্য তার নিয়ত অনুযায়ী। অতএব যার হিজরত হবে আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে, তার হিজরত আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হয়েছে বলেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত হয় দুনিয়া হাসিলের জন্য বা কোন নারীকে বেয়ে করার জন্য, তার হিজরত সে উদ্দেশ্যেই হবে যে উদ্দেশ্যে সে হিজরত করেছে।”

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [১; মুসলিম ৩৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮] [আ. প্র. ৫২, ই. ফা. ৫২]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৫

হাদিসের মান: হীহ

٥٥ – حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عَدِيُّ بْنُ ثَابِتٍ، قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ يَزِيدَ، عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا أَنْفَقَ الرَّجُلُ عَلَى أَهْلِهِ يَحْتَسِبُهَا فَهُوَ لَهُ صَدَقَةٌ»

হাজ্জাজ ইব্‌ন মিনাহাল আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: শু’বাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ‘আদী ইব্‌ন সাবিত আমাকে হাদীসটি সংবাদ দিলেন, তিনি বললেন: আমি আব্দুল্লাহ ইব্‌ন ইয়াযীদ থেকে শুনেছি, তিনি আবূ মাসঊদ (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বললেন: নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “মানুষ তার পরিবারের জন্য সওয়াবের নিয়তে যখন খরচ করে তখন তা হয় তার সদকা স্বরূপ।”

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [৪০০৬, ৫৩৫১] [আ. প্র. ৫৩, ই. ফা. ৫৩]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৬

হাদিসের মান: হীহ

٥٦ – حَدَّثَنَا الحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَامِرُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّكَ لَنْ تُنْفِقَ نَفَقَةً تَبْتَغِي بِهَا وَجْهَ اللَّهِ إِلَّا أُجِرْتَ عَلَيْهَا، حَتَّى مَا تَجْعَلُ فِي فَمِ امْرَأَتِكَ»

‘হাকাম ইব্‌ন নাফি’ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: শু‘য়াব আমাদেরকে হাদীসটি সংবাদ দিলেন যুহুরী থেকে, তিনি বললেন: ‘আমির ইব্‌ন সা’দ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন সা’দ ইব্‌ন আবূ ওয়াক্কাস্ব (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় যা-ই খরচ কর না কেন, তোমাকে তার সওয়াব অবশ্যই দেওয়া হবে। এমনকি তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে যা তুলে দাও, তারও।”

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [১২৯৫, ২৭৪২, ২৭৪৪, ৩৯৩৬, ৪৪০৯, ৫৩৫৪, ৫৬৬৮, ৬৩৭৩, ৬৭৩৩; মুসলিম ২৫/১ হাঃ ১৬২৮, আহমাদ ১৫৪৬] [আ. প্র. ৫৪, ই. ফা. ৫৪]

٤١. ‌‌بَابُ قَوْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ” الدِّينُ النَّصِيحَةُ: لِلَّهِ وَلِرَسُولِهِ وَلِأَئِمَّةِ المُسْلِمِينَ وَعَامَّتِهِمْ “

وَقَوْلِهِ تَعَالَى: {إِذَا نَصَحُوا لِلَّهِ وَرَسُولِهِ} [التوبة: ٩١]

৪১. পরিচ্ছেদ : নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম এর বাণীঃ দ্বীন হল কল্যাণ কামনা করা

আল্লাহর রেজামন্দীর জন্য, তাঁর রাসূলের জন্য, মুসলিম নেতৃবৃন্দের জন্য এবং সকল মুসলিমের জন্য। আল্লাহ তা ‘আলার বাণীঃ “যদি আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূলের প্রতি তাদের অবিমিশ্র অনুরাগ থাকে”। [৯:৯১]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৭

হাদিসের মান: সহীহ

٥٧ – حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ: حَدَّثَنِي قَيْسُ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: «بَايَعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى إِقَامِ الصَّلَاةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَالنُّصْحِ لِكُلِّ مُسْلِمٍ»

মুসাদ্দাদ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ইয়া‘হইয়া আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ইসমা‘ঈল থেকে, তিনি বললেন: ক্বায়স ইব্‌ন ‘আবূ ‘হাযিম আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন জারীর ইব্‌ন ‘আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম-এর হাতে বায়’আত গ্রহণ করেছি সালাত কায়েম করাতে, যাকাত প্রদান করতে, এবং সকল মুসলিমের জন্য কল্যাণ কামনা করতে।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [৫২৪, ১৪০১, ২১৫৭, ২৭১৪, ২৭১৫, ৭২০৪; মুসলিম ১/২৩ হাঃ ৫৬, আহমাদ ৩২৮১] [আ. প্র. ৫৫, ই. ফা. ৫৫]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৮

হাদিসের মান: হীহ

٥٨ – حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ زِيَادِ بْنِ عِلَاقَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ جَرِيرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ يَوْمَ مَاتَ المُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ، قَامَ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ، وَقَالَ: عَلَيْكُمْ بِاتِّقَاءِ اللَّهِ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَالوَقَارِ، وَالسَّكِينَةِ، حَتَّى يَأْتِيَكُمْ أَمِيرٌ، فَإِنَّمَا يَأْتِيكُمُ الآنَ. ثُمَّ قَالَ: اسْتَعْفُوا لِأَمِيرِكُمْ، فَإِنَّهُ كَانَ يُحِبُّ العَفْوَ، ثُمَّ قَالَ: أَمَّا بَعْدُ، فَإِنِّي أَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُلْتُ: أُبَايِعُكَ عَلَى الإِسْلَامِ فَشَرَطَ عَلَيَّ: «وَالنُّصْحِ لِكُلِّ مُسْلِمٍ» فَبَايَعْتُهُ عَلَى هَذَا، وَرَبِّ هَذَا المَسْجِدِ إِنِّي لَنَاصِحٌ لَكُمْ، ثُمَّ اسْتَغْفَرَ وَنَزَلَ

আবূ নু’মান আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: আবূ ‘আওয়ানাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন যিয়াদ ইব্‌ন ‘ইলাক্বাহ থেকে, তিনি বললেন: মুগীরা ইব্‌ন শু’বা (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) যেদিন ইন্তিকাল করেন সেদিন আমি জারীর ইব্‌ন আবদুল্লাহ (রাজিআল্লাহু ‘আনহু)-এর থেকে শুনেছি, তিনি (মিম্বরে) দাঁড়িয়ে আল্লাহ্‌র হামদ ও সানা হাদীস বর্ণনা করে বললেন, তোমরা ভয় কর এক আল্লাহ্‌কে যাঁর কোন শরীক নাই, এবং নতুন কোন আমীর না আসা পর্যন্ত শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখ, অনতিবিলম্বে তোমাদের আমীর আসবেন। এরপর জারীর (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) বললেন, তোমাদের আমীরের জন্য মাগফিরাত কামনা কর, কেননা তিনি ক্ষমা করা ভালবাসতেন। তারপর বললেন, একবার আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম- এর কাছে এসে বললাম, আমি আপনার কাছে ইসলামের বায়‘আত গ্রহণ করতে চাই। তিনি (অন্যান্য বিষয়ের সাথে) আমার উপর শর্ত আরোপ করলেন যে, সকল মুসলমানের জন্য কল্যাণ কামনা করবে। তারপর আমি তাঁর কাছে এ শর্তের বায়‘আত গ্রহণ করলাম। এ মসজিদের রবের কসম! আমি তোমাদের কল্যাণকামী। এরপর তিনি আল্লাহ্‌র কাছে মাগফিরাত কামনা করলেন এবং (মিম্বার থেকে) নেমে গেলেন।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : …

ফুট নোটঃ
১. বিখ্যাত সাহাবী। তিনি কূফার আমীর ছিলেন।

كِتَابُ الْعِلْم

‘ইলম অধ্যায় – ৩

٤٢. ‌‌بَابُ فَضْلِ العِلْمِ

وَقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: {يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا العِلْمَ دَرَجَاتٍ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ} [المجادلة: ١١] وَقَوْلِهِ عَزَّ وَجَلَّ: {وَقُلْ رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا} [طه: ١١٤]

৪২. পরিচ্ছেদ : ‘ইল্‌মের ফযীলত

আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ “তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের ইল্‌ম দান করা হয়েছে আল্লাহ তাদের মর্যাদায় উন্নত করবেন; তোমরা যা কর আল্লাহ্‌ সে সম্পর্কে সবিশেষ অবহিত”। [সূআ – আল-মুজাদালাহ্‌ ৫৮:১১] মহান আল্লাহ্‌র বাণীঃ “হে আমার রব! আমার জ্ঞানের বৃদ্ধি সাধন কর।” [সূরা তোয়াহ ২০:১১৪]

٤٣. ‌‌بَابُ مَنْ سُئِلَ عِلْمًا وَهُوَ مُشْتَغِلٌ فِي حَدِيثِهِ، فَأَتَمَّ الحَدِيثَ ثُمَّ أَجَابَ السَّائِلَ

৪৩. পরিচ্ছেদ : আলোচনায় মশগুল অবস্থায় ইল্‌ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে আলোচান শেষ করার পর প্রশ্নকারীর উত্তর প্রদান।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৯

হাদিসের মান: সহীহ

٥٩ – حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سِنَانٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا فُلَيْحٌ، ح وحَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ المُنْذِرِ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُلَيْحٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ: حَدَّثَنِي هِلَالُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: بَيْنَمَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي مَجْلِسٍ يُحَدِّثُ القَوْمَ، جَاءَهُ أَعْرَابِيٌّ فَقَالَ: مَتَى السَّاعَةُ؟ فَمَضَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُحَدِّثُ، فَقَالَ بَعْضُ القَوْمِ: سَمِعَ مَا قَالَ فَكَرِهَ مَا قَالَ. وَقَالَ بَعْضُهُمْ: بَلْ لَمْ يَسْمَعْ، حَتَّى إِذَا قَضَى حَدِيثَهُ قَالَ: «أَيْنَ – أُرَاهُ – السَّائِلُ عَنِ السَّاعَةِ» قَالَ: هَا أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: «فَإِذَا ضُيِّعَتِ الأَمَانَةُ فَانْتَظِرِ السَّاعَةَ»، قَالَ: كَيْفَ إِضَاعَتُهَا؟ قَالَ: «إِذَا وُسِّدَ الأَمْرُ إِلَى غَيْرِ أَهْلِهِ فَانْتَظِرِ السَّاعَةَ»

মুহাম্মাদ ইব্‌ন সিনান আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ফুলায়হ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, (অন্য হাদীস বর্ণনায়) ইবরাহীম ইব্‌ন মুনযির আমাকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: মুহাম্মাদ ইব্‌ন ফুলায়হ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: আমার পিতা আমাকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: হিলাল ইব্‌ন ‘আলী আমাকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ‘আত্বা ইব্‌ন ইয়াসার থেকে, তিনি আবূ হুরায়রা (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বলেন: একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম মজলিসে লোকদের সামনে কিছু আলোচনা করছিলেন। ইতিমধ্যে তাঁর কাছে একজন বেদুঈন এসে প্রশ্ন করলেন, ‘কিয়ামত কবে?’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম তাঁর আলোচনায় রত রইলেন। এতে কেউ কেউ বললেন, লোকটি যা বলেছে তিনি তা শুনেছেন কিন্তু তার কথা পসন্দ করেন নি। আর কেউ কেউ বললেন বরং তিনি শুনতেই পান নি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলোচনা শেষ করে বললেনঃ ‘কিয়ামত সম্পর্কে প্রশ্নকারী লোকটি কোথায়?’ সে বলল, ‘এই যে আমি, ইয়া রাসূলুল্লাহ্‌! তিনি বললেনঃ ‘যখন আমানত নষ্ট করা হবে তখন তুমি কিয়ামতের প্রতীক্ষা করবে।’ সে বলল, ‘কিভাবে আমানত নষ্ট করা হয়?’ তিনি বললেনঃ ‘যখন কোন কাজের দায়িত্ব অনুপযুক্ত লোকের প্রতি ন্যস্ত হয়, তখন তুমি কিয়ামতের প্রতীক্ষ করবে।’

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [৬৪৯৬] [আ. প্র. ৫৭, ই. ফা. ৫৭]

٤٤. ‌‌بَابُ مَنْ رَفَعَ صَوْتَهُ بِالعِلْمِ

৪৪. পরিচ্ছেদ : উচ্চস্বরে ‘ইলমের আলোচনা

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬০

হাদিসের মান: সহীহ

٦٠ – حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ عَارِمُ بْنُ الفَضْلِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ مَاهَكَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: تَخَلَّفَ عَنَّا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفْرَةٍ سَافَرْنَاهَا فَأَدْرَكَنَا – وَقَدْ أَرْهَقَتْنَا الصَّلَاةُ – وَنَحْنُ نَتَوَضَّأُ، فَجَعَلْنَا نَمْسَحُ عَلَى أَرْجُلِنَا، فَنَادَى بِأَعْلَى صَوْتِهِ: «وَيْلٌ لِلْأَعْقَابِ مِنَ النَّارِ» مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا

আবূ নু’মান ‘আরিম ইব্‌ন ফযল আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: আবূ ‘আওয়ানাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন আবূ বিশর থেকে, তিনি ইউসুফ ইব্‌ন মাহালাক থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইব্‌ন ‘আমর থেকে, তিনি বললেন: এক সফরে রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের পিছনে রয়ে গেলেন। পরে তিনি আমাদের কাছে পৌঁছলেন, এদিকে আমরা (আসরের) সালাত আদায় করতে দেরী করে ফেলেছিলাম এবং আমরা উযূ করছিলাম। ‘আমরা আমাদের পা কোনমতে পানি দিয়ে ভিজিয়ে নিচ্ছিলাম। তিনি উচ্চস্বরে বললেনঃ পায়ের গোড়ালিগুলোর (শুকনো থাকার) জন্য জাহান্নামের শাস্তি রয়েছে। তিনি দু’বার বা তিনবার এ কথা বললেন।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [৯৬, ১৬৩; মুসলিম ২/৯ হাঃ ২৪১, আহমাদ ৬৮২৩] [আ. প্র. ৫৮, ই. ফা. ৫৮]

٤٥. ‌‌بَابُ قَوْلِ المُحَدِّثِ: حَدَّثَنَا، وَأَخْبَرَنَا، وَأَنْبَأَنَا

وَقَالَ لَنَا الحُمَيْدِيُّ: ” كَانَ عِنْدَ ابْنِ عُيَيْنَةَ حَدَّثَنَا، وَأَخْبَرَنَا، وَأَنْبَأَنَا، وَسَمِعْتُ وَاحِدًا وَقَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ: حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ الصَّادِقُ المَصْدُوقُ وَقَالَ شَقِيقٌ: عَنْ عَبْدِ اللَّهِ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَلِمَةً وَقَالَ حُذَيْفَةُ حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَدِيثَيْنِ وَقَالَ أَبُو العَالِيَةِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: فِيمَا يَرْوِي عَنْ رَبِّهِ وَقَالَ أَنَسٌ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: فِيمَا يَرْوِيهِ عَنْ رَبِّهِ عَزَّ وَجَلَّ وَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يَرْوِيهِ عَنْ رَبِّكُمْ عَزَّ وَجَلَّ

৪৫. পরিচ্ছেদ : মুহাদ্দিসের উক্তিঃ হাদ্দাসানা, আখবারানা ও আম্বা‘আনা

মুহাদ্দিসের উক্তিঃ হাদ্দাসানা, আখবারানা ও আম্বা‘আনা; হুমায়দী (রহমাহুল্লাহ) আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন যে, ইব্‌ন ‘উয়ায়না (রহমাহুল্লাহ)-এর মতে হাদ্দাসানা, আখবারানা ও আম্বা‘আনা ও সামি’তু একই অর্থবোধক। ইব্‌ন মাস‘ঊদ (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) বলেন, حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وهو الصادق المصدوق ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম আমাদের কাছে হাদীস হাদীস বর্ণনা করেছেন; আর তিনি সত্যাবাদী এবং সত্যবাদীরূপে স্বীকৃত।’ শাকীক (রহমাহুল্লাহ) আবদুল্লাহ্‌ (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, سمعت النبى صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كلمة كذا “আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম থেকে এরূপ উক্তি শুনেছি।” হুযায়ফা (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) বলেন, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম আমাদের কাছে দু’টি হাদীস হাদীস বর্ণনা করেছেন।” আবু’ল ‘আলিয়া (রহমাহুল্লাহ) ইব্‌ন ‘আব্বাস (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, يروى من ربه عن النبى صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فيما حَدَّثَنَا رسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حديثين “নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম থেকে, তিনি তাঁর রব থেকে আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন।” আনাস (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) বলেন, عن النبى صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يرويه عن ربه “নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম থেকে, তিনি আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন তাঁর রব থেকে।” আবু হুরায়রা (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) বলেন, عن النبى صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يرويه عن ربكم تبارك تعالى “নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম থেকে, তিনি তোমাদের মহিমময় ও সুমহান রব থেকে আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন।”

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬১

হাদিসের মান: সহীহ

٦١ – حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ مِنَ الشَّجَرِ شَجَرَةً لَا يَسْقُطُ وَرَقُهَا، وَإِنَّهَا مَثَلُ المُسْلِمِ، فَحَدِّثُونِي مَا هِيَ» فَوَقَعَ النَّاسُ فِي شَجَرِ البَوَادِي قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: وَوَقَعَ فِي نَفْسِي أَنَّهَا النَّخْلَةُ، فَاسْتَحْيَيْتُ، ثُمَّ قَالُوا: حَدِّثْنَا مَا هِيَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ: «هِيَ النَّخْلَةُ»

কুতায়বা ইব্‌ন সা‘ঈদ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ইসমা‘ঈল ইব্‌ন জা‘আফার আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন আব্দুল্লাহ ইব্‌ন দীনার থেকে, তিনি ‘উমার রাজিআল্লাহু ‘আনহু থেকে, তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম বললেন: “গাছপালার মধ্যে এমন একটি গাছ আছে যার পাতা ঝরে না। আর তা মুসলিমের উপমা। তোমরা আমাকে বল, সেটি কি গাছ?” রাবী বলেন, তখন লোকেরা জঙ্গলের বিভিন্ন গাছ-পালার নাম চিন্তা করতে লাগল। আবদুল্লাহ (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) বলেন, আমার মনে হল, সেটা হবে খেজুর গাছ। কিন্তু আমি তা বলতে লজ্জাবোধ করছিলাম। তারপর সাহাবায়ে কিরাম (রাজিআল্লাহু ‘আনহুম) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি আমাদের বলেদিন সেটি কি গাছ? তিনি বললেনঃ “তা হল খেজুর গাছ।”

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [৬২, ৭২, ১৩১, ২২০৯, ৪৬৯৮, ৫৪৪৪, ৫৪৪৮, ৬১২২, ৬১৪৪; মুসলিম ৫০/১৫ হাঃ ২৮১১, আহমাদ ৬৪৭৭] [আ. প্র. ৫৯, ই. ফা. ৫৯]

ফুট নোটঃ
১. ইমাম বুখারীর মতে এগুলো হাদীস রিওয়ায়াতের সমার্থক পারিভাষিক শব্দ; মুহাদ্দিসগণের মধ্যে এ সম্বন্ধে মতভেদ আছে।

٤٦. بَابُ طَرْحِ الإِمَامِ المَسْأَلَةَ عَلَى أَصْحَابِهِ لِيَخْتَبِرَ مَا عِنْدَهُمْ مِنَ العِلْمِ

৪৬. পরিচ্ছেদ : ছাত্রদের জ্ঞান পরীক্ষার জন্য উস্তাদের কোন বিষয় উত্থাপন করা

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬২

হাদিসের মান: সহীহ

٦٢ – حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ مِنَ الشَّجَرِ شَجَرَةً لَا يَسْقُطُ وَرَقُهَا، وَإِنَّهَا مَثَلُ المُسْلِمِ، حَدِّثُونِي مَا هِيَ» قَالَ: فَوَقَعَ النَّاسُ فِي شَجَرِ البَوَادِي قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: فَوَقَعَ فِي نَفْسِي أَنَّهَا النَّخْلَةُ، فَاسْتَحْيَيْتُ، ثُمَّ قَالُوا: حَدِّثْنَا مَا هِيَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: «هِيَ النَّخْلَةُ»

খালিদ ইব্‌ন মাখলাদ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, সুলায়মান আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, ‘আব্দুল্লা ইব্‌ন দীনার আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ইব্‌ন ‘উমার (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বললেন: নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার বললেন: “গাছ-পালার মধ্যে এমন একটি গাছ আছে যার পাতা ঝরে না। আর তা মুসলিমের উপমা। তোমরা আমাকে বল দেখি, সেটি কি গাছ?” রাবী বলেন, তখন লোকেরা জঙ্গলের বিভিন্ন গাছপালার নাম চিন্তা করতে লাগল। ‘আবদুল্লাহ (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) বলেন, “আমার মনে হল, সেটা হবে খেজুর গাছ। কিন্তু তা বলতে আমি লজ্জাবোধ করছিলাম”। তারপর সাহাবায়ে কিরাম (রাজিআল্লাহু ‘আনহুম) বললেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনিই আমাদের বলেদিন সেটি কি গাছ”। তিনি বললেনঃ “তা হল খেজুর গাছ।”

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : …

٤٧. ‌‌بَابُ مَا جَاءَ فِي العِلْمِ. وَقَوْلِهِ تَعَالَى: {وَقُلْ رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا} [طه: ١١٤]

القِرَاءَةُ وَالعَرْضُ عَلَى المُحَدِّثِ وَرَأَى الحَسَنُ، وَالثَّوْرِيُّ، وَمَالِكٌ: «القِرَاءَةَ جَائِزَةً» وَاحْتَجَّ بَعْضُهُمْ فِي القِرَاءَةِ عَلَى العَالِمِ ” بِحَدِيثِ ضِمَامِ بْنِ ثَعْلَبَةَ: قَالَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: آللَّهُ أَمَرَكَ أَنْ تُصَلِّيَ الصَّلَوَاتِ قَالَ: «نَعَمْ» قَالَ: «فَهَذِهِ قِرَاءَةٌ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَخْبَرَ ضِمَامٌ قَوْمَهُ بِذَلِكَ فَأَجَازُوهُ» وَاحْتَجَّ مَالِكٌ: ” بِالصَّكِّ يُقْرَأُ عَلَى القَوْمِ، فَيَقُولُونَ أَشْهَدَنَا فُلَانٌ وَيُقْرَأُ ذَلِكَ قِرَاءَةً عَلَيْهِمْ وَيُقْرَأُ عَلَى المُقْرِئِ، فَيَقُولُ القَارِئُ: أَقْرَأَنِي فُلَانٌ ” حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَامٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الحَسَنِ الوَاسِطِيُّ، عَنْ عَوْفٍ، عَنِ الحَسَنِ، قَالَ: «لَا بَأْسَ بِالقِرَاءَةِ عَلَى العَالِمِ» وَأَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ الفَرَبْرِيُّ، وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ البُخَارِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ سُفْيَانَ قَالَ: إِذَا قُرِئَ عَلَى المُحَدِّثِ فَلَا بَأْسَ أَنْ يَقُولَ: حَدَّثَنِي قَالَ: وَسَمِعْتُ أَبَا عَاصِمٍ يَقُولُ عَنْ مَالِكٍ، وَسُفْيَانَ القِرَاءَةُ عَلَى العَالِمِ وَقِرَاءَتُهُ سَوَاءٌ

৪৭. পরিচ্ছেদ : ‘ইলমের মধ্যে যা আসে। আল্লাহ তা‘আলার বাণী: “বল- হে আমার রব! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দাও।” [সূরা ত্বহা :১১৪]

হাসান (বসরী), সাওরী এবং মালিক (রহমাহুল্লাহ)-এর মতে মুহাদ্দিসের সামনে পাঠ করা জায়েয। কোন কোন মুহাদ্দিস উস্তাদের সামনে পাঠ করার সপক্ষে ইব্‌ন সা‘লাবা (রাজিআল্লাহু ‘আনহু)-র হাদীস পেশ করেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লামকে বলেছিলেন, “আমাদের পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করার ব্যাপারে আল্লাহ্‌ কি আপনাকে নির্দেশ দিয়েছেন।” তিনি বললেনঃ “হা”। রাবী বলেন, “এগুলো রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সামনে পাঠ করা। যিমাম (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) তাঁর কাওমের কাছে এ নির্দেশগুলো জানান এবং তাঁরা তা গ্রহণ করেন।” (ইমাম) মালিক (রহমাহুল্লাহ) তাঁর মতের সমর্থনে লিখিত দলীলকে প্রমাণ হিসেবে পেশ করেন, যা লোকদের সামনে পাঠ করা হলে তারা বলে, “অমুক আমাদের সাক্ষী বানিয়েছেন।” শিক্ষকের সামনে পাঠ করে পাঠক বলে, “অমুক আমাকে পড়িয়েছেন।” হাসান বসরী (রহমাহুল্লাহ) মতে বর্ণিত। তিনি বলেন, শিক্ষকের সামনে শিক্ষার্থী পাঠ করাতে কোন দ্বিধা নেই। ‘উবায়দুল্লাহ ইব্‌ন মূসা (রহমাহুল্লাহ) সুফিয়ান (রহমাহুল্লাহ) থেকে আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন যে, তিনি বলেন, যখন মুহাদ্দিসের সম্মুখে (কোন হাদীস) পাঠ করা হয় তখন হাদ্দাসানী (তিনি আমার নিকট হাদীস হাদীস বর্ণনা করেছেন) বলায় কোন আপত্তি নেই। হাদীস বর্ণনাকারী বলেন, আমি আবূ ‘আসিমকে মালিক ও সুফিয়ান (রহমাহুল্লাহ) হতে হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি যে, “শিক্ষকের সামনে পাঠ করা এবং শিক্ষকের নিজে পাঠ করা একই পর্যায়ভুক্ত।” অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [আ.প্র. ৬১, ই.ফা. ৬১]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৩

হাদিসের মান: সহীহ

٦٣ – حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ: حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ سَعِيدٍ هُوَ المَقْبُرِيُّ، عَنْ شَرِيكِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي نَمِرٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ: بَيْنَمَا نَحْنُ جُلُوسٌ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي المَسْجِدِ، دَخَلَ رَجُلٌ عَلَى جَمَلٍ، فَأَنَاخَهُ فِي المَسْجِدِ ثُمَّ عَقَلَهُ، ثُمَّ قَالَ لَهُمْ: أَيُّكُمْ مُحَمَّدٌ؟ وَالنَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُتَّكِئٌ بَيْنَ ظَهْرَانَيْهِمْ، فَقُلْنَا: هَذَا الرَّجُلُ الأَبْيَضُ المُتَّكِئُ. فَقَالَ لَهُ الرَّجُلُ: يَا ابْنَ عَبْدِ المُطَّلِبِ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «قَدْ أَجَبْتُكَ». فَقَالَ الرَّجُلُ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنِّي سَائِلُكَ فَمُشَدِّدٌ عَلَيْكَ فِي المَسْأَلَةِ، فَلَا تَجِدْ عَلَيَّ فِي نَفْسِكَ؟ فَقَالَ: «سَلْ عَمَّا بَدَا لَكَ» فَقَالَ: أَسْأَلُكَ بِرَبِّكَ وَرَبِّ مَنْ قَبْلَكَ، آللَّهُ أَرْسَلَكَ إِلَى النَّاسِ كُلِّهِمْ؟ فَقَالَ: «اللَّهُمَّ نَعَمْ». قَالَ: أَنْشُدُكَ بِاللَّهِ، آللَّهُ أَمَرَكَ أَنْ نُصَلِّيَ الصَّلَوَاتِ الخَمْسَ فِي اليَوْمِ وَاللَّيْلَةِ؟ قَالَ: «اللَّهُمَّ نَعَمْ». قَالَ: أَنْشُدُكَ بِاللَّهِ، آللَّهُ أَمَرَكَ أَنْ نَصُومَ هَذَا الشَّهْرَ مِنَ السَّنَةِ؟ قَالَ: «اللَّهُمَّ نَعَمْ». قَالَ: أَنْشُدُكَ بِاللَّهِ، آللَّهُ أَمَرَكَ أَنْ تَأْخُذَ هَذِهِ الصَّدَقَةَ مِنْ أَغْنِيَائِنَا فَتَقْسِمَهَا عَلَى فُقَرَائِنَا؟ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اللَّهُمَّ نَعَمْ». فَقَالَ الرَّجُلُ: آمَنْتُ بِمَا جِئْتَ بِهِ، وَأَنَا رَسُولُ مَنْ وَرَائِي مِنْ قَوْمِي، وَأَنَا ضِمَامُ بْنُ ثَعْلَبَةَ أَخُو بَنِي سَعْدِ بْنِ بَكْرٍ وَرَوَاهُ مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، وَعَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الحَمِيدِ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ المُغِيرَةِ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِهَذَا

‘আব্দুল্লাহ ইব্‌ন ইউসুফ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: লাইস আমাদেরকে হাদীস বর্ণনা করলেন সা‘ঈদ থেকে যিনি মাক্‌বুরী ছিলেন, তিনি শারীক ইব্‌ন আব্দিল্লাহে ইব্‌ন আবূ নামির থেকে, তিনি আনাস ইব্‌ন মালিক (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বলেন: একদা আমরা মসজিদে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে উপবিষ্ট ছিলাম। তখন জনৈক ব্যক্তি সওয়ার অবস্থায় প্রবেশ করল। মসজিদে (প্রাঙ্গণে) সে তার উটটি বসিয়ে (বেঁধে) দিল। অতঃপর সাহাবীদের লক্ষ্য করে বলল, ‘তোমাদের মধ্যে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন ব্যক্তি?’ আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন তাদের সামনেই হেলান দিয়ে উপবিষ্ট ছিলেন। আমরা বললাম, ‘এই হেলান দিয়ে উপবিষ্ট ফর্সা ব্যক্তিটিই হলেন তিনি।’

অতঃপর লোকটি তাঁকে লক্ষ্য করে বলল, ‘হে আবদুল মুত্তালিবের পুত্র!’ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেনঃ ‘আমি তোমার উত্তর দিচ্ছি? লোকটি বলল, ‘আমি আপনাকে কিছু জিজ্ঞেস করব এবং সে প্রশ্ন করার ব্যাপারে কঠোর হব, এতে আপনি আমার প্রতি অসন্তুষ্ট হবেন না।’ ‘তিনি বললেন, ‘তোমার যা মনে চায় জিজ্ঞেস কর।’

সে বলল, ‘আমি আপনাকে স্বীয় প্রতিপালক এবং আপনার পূর্ববর্তীদের প্রতিপালকের শপথ দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, আল্লাহ কি আপনাকে সমগ্র মানবকুলের প্রতি রসূলরূপে প্রেরণ করেছেন?’ তিনি বললেনঃ ‘আল্লাহ সাক্ষী, হ্যাঁ।’ সে বলল, ‘আমি আপনাকে আল্লাহর শপথ দিয়ে বলছি, আল্লাহই কি আপনাকে দিনে রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায়ের আদেশ দিয়েছেন?’ তিনি বললেনঃ ‘আল্লাহ সাক্ষী, হ্যাঁ।’ সে বলল, ‘আমি আপনাকে আল্লাহর শপথ দিয়ে বলছি, আল্লাহই কি আপনাকে বছরের এ মাসে (রমযান) সিয়াম পালনের আদেশ দিয়েছেন?’ তিনি বললেনঃ ‘আল্লাহ সাক্ষী, হ্যাঁ।’ সে বলল, ‘আমি আপনাকে আল্লাহর শপথ দিয়ে বলছি, আল্লাহই কি আপনাকে আদেশ দিয়েছেন, আমাদের ধনীদের থেকে এসব সদাক্বাহ (যাকাত) আদায় করে দরিদ্রদের মাঝে বন্টন করে দিতে?’ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ ‘আল্লাহ সাক্ষী, হ্যাঁ।’ অতঃপর লোকটি বলল, ‘আমি বিশ্বাস স্থাপন করলাম আপনি যা (যে শরী‘য়াত) এনেছেন তার উপর। আর আমি আমার গোত্রের রেখে আসা লোকজনের পক্ষে প্রতিনিধি, আমার নাম যিমাম ইব্‌ন সা‘লাবা, বানী সা‘আদ ইব্‌ন বক্‌র গোত্রের একজন।’

মূসা ইব্‌ন ইসমা‘ঈল ও ‘আলী ইব্‌ন আবদুল হামীদ (রহমাহুল্লাহ) সুলাইমান ইব্‌ন মুগীরা থেকে আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি সাবিত থেকে, তিনি আনাস (রাঃ) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এরূপ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬২, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৬২)

٤٨. ‌‌بَابُ مَا يُذْكَرُ فِي المُنَاوَلَةِ، وَكِتَابِ أَهْلِ العِلْمِ بِالعِلْمِ إِلَى البُلْدَانِ

وَقَالَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ: نَسَخَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ المَصَاحِفَ فَبَعَثَ بِهَا إِلَى الآفَاقِ، وَرَأَى عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، وَيَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، وَمَالِكُ بْنُ أَنَسٍ ذَلِكَ جَائِزًا وَاحْتَجَّ بَعْضُ أَهْلِ الحِجَازِ فِي المُنَاوَلَةِ بِحَدِيثِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَيْثُ كَتَبَ لِأَمِيرِ السَّرِيَّةِ كِتَابًا وَقَالَ: «لَا تَقْرَأْهُ حَتَّى تَبْلُغَ مَكَانَ كَذَا وَكَذَا». فَلَمَّا بَلَغَ ذَلِكَ المَكَانَ قَرَأَهُ عَلَى النَّاسِ، وَأَخْبَرَهُمْ بِأَمْرِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

৪৮. পরিচ্ছেদ : শায়খ কর্তৃক ছাত্রদেরকে হাদীসের কিতাব প্রদান এবং ‘আলিম কর্তৃক ‘ইলমের কথা লিখে বিভিন্ন দেশে প্রেরণ।

আনাস (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) বললেন, ‘উসমান (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) কুরআন এর বহু কপি তৈরী করিয়ে বিভিন্ন দেশে পাঠান। ‘আব্দুল্লা ইব্‌ন ‘উমার (রাজিআল্লাহু ‘আনহু), ইয়াহইয়া ইব্‌ন সা‘ঈদ ও মালিক (রহমাহুল্লাহ) এটাকে জায়েয মনে করেন। কোন কোন হিজাযবাসী ছাত্রকে হাদীস হাদীস বর্ণনার অনুমোতি প্রদানের ব্যাপারে নিবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এ হাদীস দিয়ে দলীল পেশ করেন যে, তিনি একটি সেনাদলের প্রধানকে একখানি পত্র দেন এবং তাকে বলে দেন, অমুক অমুক স্থানে না পৌঁছা পর্যন্ত এটা পড়ো না। অতঃপর তিনি যখন সে স্থানে পৌঁছলেন, তখন লোকদের সামনে তা পড়ে শোনান এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নির্দেশে তাদেরকে জানান।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৪

হাদিসের মান: সহীহ

٦٤ – حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ” بَعَثَ بِكِتَابِهِ رَجُلًا وَأَمَرَهُ أَنْ يَدْفَعَهُ إِلَى عَظِيمِ البَحْرَيْنِ فَدَفَعَهُ عَظِيمُ البَحْرَيْنِ إِلَى كِسْرَى، فَلَمَّا قَرَأَهُ مَزَّقَهُ فَحَسِبْتُ أَنَّ ابْنَ المُسَيِّبِ قَالَ: فَدَعَا عَلَيْهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «أَنْ يُمَزَّقُوا كُلَّ مُمَزَّقٍ»

ইসমা‘ঈল ইব্‌ন ‘আব্দুল্লাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ইব্রাহীম ইব্‌ন সা’দ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন শিহাব থেকে, তিনি ‘উবায়দিল্লা ইব্‌ন ‘আব্দুল্লাহ ইব্‌ন ‘উতবাহ ইব্‌ন মাস‘উদ থেকে, তিনি ‘আবদুল্লাহ ইব্‌ন ‘আব্বাস (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি তাকে হাদীসটি সংবাদ দিলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জনৈক ব্যক্তিকে তাঁর চিঠি দিয়ে পাঠালেন এবং তাকে বাহরাইনের গভর্নর-এর নিকট তা পৌঁছে দেয়ার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর বাহ্‌রাইনের গভর্নর তা কিস্‌রা (পারস্য সম্রাট)-এর নিকট দিলেন। পত্রটি পড়ার পর সে ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলল। [হাদীস বর্ণনাকারী ইব্‌ন শিহাব (রহমাহুল্লাহ) বলেন] আমার ধারনা ইব্‌ন মুসায়্যাব (রহমাহুল্লাহ) বলেছেন, (এ ঘটনার খবর পেয়ে) আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের জন্য বদদু‘আ করেন যে, তাদেরকেও যেন সম্পূর্ণরূপে টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [২৯৩৯, ৪৪২৪, ৭২৬৪] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৪, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৬৪]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৫

হাদিসের মান: হীহ

٦٥ – حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُقَاتِلٍ أَبُو الحَسَنِ المَرْوَزِيُّ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: كَتَبَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كِتَابًا – أَوْ أَرَادَ أَنْ يَكْتُبَ – فَقِيلَ لَهُ: إِنَّهُمْ لَا يَقْرَءُونَ كِتَابًا إِلَّا مَخْتُومًا، فَاتَّخَذَ خَاتَمًا مِنْ فِضَّةٍ، نَقْشُهُ: مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ، كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى بَيَاضِهِ فِي يَدِهِ، فَقُلْتُ لِقَتَادَةَ مَنْ قَالَ: نَقْشُهُ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ؟ قَالَ أَنَسٌ

মুহাম্মাদ ইব্‌ন মুক্বাতিল আবূল হাসান মারওয়াযী আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, আব্দুল্লাহ আমাদেরকে হাদীসটি সংবাদ দিলেন, তিনি বললেন: শু’বাহ আমাদেরকে হাদীসটি সংবাদ দিলেন ক্বাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস ইব্‌ন মালিক (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বললেন: নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম একখানি পত্র লিখলেন অথবা একখানি পত্র লিখতে ইচ্ছা পোষণ করলেন। তখন তাঁকে বলা হল যে, তারা (রোমবাসী ও অনারবরা) সীলমোহরযুক্ত ছাড়া কোন পত্র পড়ে না। এরপর তিনি রূপার একটি আংটি (মহর) তৈরী করালেন যার নকশা ছিল مُحَمَّدُ الرَّسُول اللهِ (মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ্‌) আমি যেন তাঁর হাতে সে আংটির উজ্জ্বল্য (এখনো) দেখতে পাচ্ছি। (শু’বা বললেন) আমি কাতাদা কে বললাম, কে বলেছে যে, তার নকশা “মুহাম্মাদুর রাসূলাল্লাহ” ছিল? তিনি বললেন, “আনাস (রাজিআল্লাহু ‘আনহু)”।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [২৯৩৮, ৫৮৭০, ৫৮৭২, ৫৮৭৪, ৫৮৭৫, ৫৮৭৭, ৭১৬২; মুসলিম ৩৭/১২ হাঃ ২০৯২, আহমাদ ১২৯৪০] [আ. প্র. ৬৫, ই. ফা ৬৫]

٤٩. بَابُ مَنْ قَعَدَ حَيْثُ يَنْتَهِي بِهِ المَجْلِسُ، وَمَنْ رَأَى فُرْجَةً فِي الحَلْقَةِ فَجَلَسَ فِيهَا

৪৯. পরিচ্ছেদ : মজলিসের শেষ প্রান্তে বসা এবং মজলিসের ভেতরে ফাঁক দেখে সেখানে বসা-

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৬

হাদিসের মান: সহীহ

٦٦ – حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ: حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، أَنَّ أَبَا مُرَّةَ، مَوْلَى عَقِيلِ بْنِ أَبِي طَالِبٍ أَخْبَرَهُ عَنْ أَبِي وَاقِدٍ اللَّيْثِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَمَا هُوَ جَالِسٌ فِي المَسْجِدِ وَالنَّاسُ مَعَهُ إِذْ أَقْبَلَ ثَلَاثَةُ نَفَرٍ، فَأَقْبَلَ اثْنَانِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَذَهَبَ وَاحِدٌ، قَالَ: فَوَقَفَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَمَّا أَحَدُهُمَا: فَرَأَى فُرْجَةً فِي الحَلْقَةِ فَجَلَسَ فِيهَا، وَأَمَّا الآخَرُ: فَجَلَسَ خَلْفَهُمْ، وَأَمَّا الثَّالِثُ: فَأَدْبَرَ ذَاهِبًا، فَلَمَّا فَرَغَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أَلَا أُخْبِرُكُمْ عَنِ النَّفَرِ الثَّلَاثَةِ؟ أَمَّا أَحَدُهُمْ فَأَوَى إِلَى اللَّهِ فَآوَاهُ اللَّهُ، وَأَمَّا الآخَرُ فَاسْتَحْيَا فَاسْتَحْيَا اللَّهُ مِنْهُ، وَأَمَّا الآخَرُ فَأَعْرَضَ فَأَعْرَضَ اللَّهُ عَنْهُ»

ইসমা‘ঈল আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: মালিক আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করলেন ইস‘হাক্ব ইব্‌ন ‘আব্দুল্লাহ, ইব্‌ন আবূ ত্বাল‘হাহ থেকে, তিনি ‘আক্বীল ইব্‌ন আবূ ত্বালিবের মুক্ত করা দাস আবূ মুর্‌রাহ থেকে, তিনি তাকে সংবাদ দেন আবূ ওয়াক্বিদ লাইসী (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বললেন: আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদা মসজিদে বসে ছিলেন; তাঁর সাথে আরও লোকজন ছিলেন। এমতাবস্থায় তিনজন লোক আসলো। তন্মধ্যে দু’জন আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দিকে এগিয়ে আসলেন এবং একজন চলে গেলেন। আবূ ওয়াক্বিদ (রাজিআল্লাহু আনহু) বলেন, তাঁরা দু’জন আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন। অতঃপর তাঁদের একজন মজলিসের মধ্যে কিছুটা খালি জায়গা দেখে সেখানে বসে পড়লেন এবং অপরজন তাদের পেছনে বসলেন। আর তৃতীয় ব্যক্তি ফিরে গেল। যখন আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অবসর হলেন (সাহাবীদের লক্ষ্য করে) বললেনঃ আমি কি তোমাদের এই তিন ব্যক্তি সম্পর্কে কিছু বলব না? তাদের একজন আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করল, আল্লাহ তাকে আশ্রয় দিলেন। অন্যজন লজ্জাবোধ করল, তাই আল্লাহও তার ব্যাপারে লজ্জাবোধ করলেন। আর অপরজন (মজলিসে হাযির হওয়া থেকে) মুখ ফিরিয়ে নিলেন, তাই আল্লাহও তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [৪৭৪; মুসলিম ৩৯/১০ হাঃ ৬১৭৬, আহমাদ ২১৯৬৬] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৬, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৬৬]

٥٠. ‌‌بَابُ قَوْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «رُبَّ مُبَلَّغٍ أَوْعَى مِنْ سَامِعٍ»

৫০. পরিচ্ছেদ : নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম-এর বাণী : যাদের কাছে হাদীস পৌঁছান হয় তাদের মধ্যে অনেকে এমন আছে, যে (এখানে উপস্থিত) শ্রোতার চাইতে বেশী মুখস্ত রাখতে পারে।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৭

হাদিসের মান: সহীহ

٦٧ – حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا بِشْرٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ عَوْنٍ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، ذَكَرَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَعَدَ عَلَى بَعِيرِهِ، وَأَمْسَكَ إِنْسَانٌ بِخِطَامِهِ – أَوْ بِزِمَامِهِ – قَالَ: «أَيُّ يَوْمٍ هَذَا»، فَسَكَتْنَا حَتَّى ظَنَنَّا أَنَّهُ سَيُسَمِّيهِ سِوَى اسْمِهِ، قَالَ: «أَلَيْسَ يَوْمَ النَّحْرِ» قُلْنَا: بَلَى، قَالَ: «فَأَيُّ شَهْرٍ هَذَا» فَسَكَتْنَا حَتَّى ظَنَنَّا أَنَّهُ سَيُسَمِّيهِ بِغَيْرِ اسْمِهِ، فَقَالَ: «أَلَيْسَ بِذِي الحِجَّةِ» قُلْنَا: بَلَى، قَالَ: «فَإِنَّ دِمَاءَكُمْ، وَأَمْوَالَكُمْ، وَأَعْرَاضَكُمْ، بَيْنَكُمْ حَرَامٌ، كَحُرْمَةِ يَوْمِكُمْ هَذَا، فِي شَهْرِكُمْ هَذَا، فِي بَلَدِكُمْ هَذَا، لِيُبَلِّغِ الشَّاهِدُ الغَائِبَ، فَإِنَّ الشَّاهِدَ عَسَى أَنْ يُبَلِّغَ مَنْ هُوَ أَوْعَى لَهُ مِنْهُ»

মুসাদ্দাদ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: বিশর্‌ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ইব্‌ন ‘আঊন আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ইব্‌ন সিরীন থেকে, তিনি ‘আব্দুর রহমান ইব্‌ন আবূ বাক্‌রাহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি একবার নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কথা উল্লেখ করে বলেন, (মিনায়) তিনি তাঁর উটের উপর উপবেশন করলেন। জনৈক ব্যক্তি তাঁর উটের লাগাম ধরে রেখেছিল। তিনি বললেনঃ ‘এটা কোন্ দিন?’ আমরা চুপ করে রইলাম আর ধারণা করলাম যে, অচিরেই তিনি এ দিনটির আলাদা কোন নাম দিবেন। তিনি বললেনঃ “এটা কি কুরবানীর দিন নয়?” আমরা বললাম, ‘জি হ্যাঁ।’ তিনি জিজ্ঞেস করলেন: ‘এটা কোন্ মাস?’ আমরা নীরব রইলাম আর ধারণা করলাম যে, অচিরেই তিনি এর আলাদা কোন নাম দিবেন। তিনি বললেনঃ ‘এটা কি যিলহাজ্জ মাস নয়?’ আমরা বললাম, ‘জী হ্যাঁ।’ তিনি বললেনঃ ‘তোমাদের রক্ত, তোমাদের ধন-সম্পদ, তোমাদের সম্মান তোমাদের পরস্পরের জন্য হারাম, যেমন আজকের তোমাদের এ দিন, তোমাদের এ মাস, তোমাদের এ শহর মর্যাদা সম্পন্ন। এখানে উপস্থিত ব্যক্তিরা (আমার এ বাণী) যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির নিকট এসব কথা পৌঁছে দেয়। কারণ উপস্থিত ব্যক্তি সম্ভবত এমন এক ব্যক্তির নিকট পৌঁছাবে, যে এ বাণীকে তার চেয়ে অধিক আয়ত্তে রাখতে পারবে।’

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [১০৫, ১৭৪১, ৩১৯৭, ৪৪০৬, ৪৬৬২, ৫৫৫০, ৭০৭৮, ৭৪৪৭; মুসলিম ২৮/৯ হাঃ ১৬৭৯, আহমাদ ২০৪০৮] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৭, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৬৭]

٥١. بَابٌ: العِلْمُ قَبْلَ القَوْلِ وَالعَمَلِ

لِقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: {فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ} [محمد: ١٩] فَبَدَأَ بِالعِلْمِ «وَأَنَّ العُلَمَاءَ هُمْ وَرَثَةُ الأَنْبِيَاءِ، وَرَّثُوا العِلْمَ، مَنْ أَخَذَهُ أَخَذَ بِحَظٍّ وَافِرٍ، وَمَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَطْلُبُ بِهِ عِلْمًا سَهَّلَ اللَّهُ لَهُ طَرِيقًا إِلَى الجَنَّةِ» وَقَالَ جَلَّ ذِكْرُهُ: {إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ العُلَمَاءُ} [فاطر: ٢٨] وَقَالَ: {وَمَا يَعْقِلُهَا إِلَّا العَالِمُونَ} [العنكبوت: ٤٣] {وَقَالُوا لَوْ كُنَّا نَسْمَعُ أَوْ نَعْقِلُ مَا كُنَّا فِي أَصْحَابِ السَّعِيرِ} [الملك: ١٠] وَقَالَ: {هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ} [الزمر: ٩] وَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ» وَإِنَّمَا العِلْمُ بِالتَّعَلُّمِ ” وَقَالَ أَبُو ذَرٍّ: «لَوْ وَضَعْتُمُ الصَّمْصَامَةَ عَلَى هَذِهِ – وَأَشَارَ إِلَى قَفَاهُ – ثُمَّ ظَنَنْتُ أَنِّي أُنْفِذُ كَلِمَةً سَمِعْتُهَا مِنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَبْلَ أَنْ تُجِيزُوا عَلَيَّ لَأَنْفَذْتُهَا» وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: {كُونُوا رَبَّانِيِّينَ} [آل عمران: ٧٩] ” حُلَمَاءَ فُقَهَاءَ، وَيُقَالُ: الرَّبَّانِيُّ الَّذِي يُرَبِّي النَّاسَ بِصِغَارِ العِلْمِ قَبْلَ كِبَارِهِ “

৫১. পরিচ্ছেদ : কথা ও আমলের পূর্বে ইলম জরুরী।

আল্লাহ্‌ তা‘আলার বলেন: “সুতরাং জান (জ্ঞান অর্জন কর), আল্লাহ্‌ ব্যতীত অন্য কোন সত্য উপাস্য নেই”। [সূরা মুহাম্মাদ, ৪৭:১৯] এখানে আল্লাহ তা‘আলা ইলমের কথা আগে বলেছেন। আলিমগই নবীগণের ওয়ারিস। তাঁরা ইলমের ওয়ারিস হয়েছেন। তাই যে ইলম হাসিল করে সে বিরাট অংশ লাভ করে। আর যে ব্যক্তি ইলম হাসিলের উদ্দেশ্য পথ চলে, আল্লাহ্‌ তা’আলা তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন। আল্লাহ্‌ ইরশাদ করেন: “আল্লাহ্‌র বান্দাদের মধ্যে আলিমগণই তাঁকে ভয় করে”। [সূর ফতির, ৩৫:২৮] আল্লাহ্‌ তা‘আলা আরো বলেন: “আলিমগণ ছাড়া তা কেউ বুঝে না”। [সূরা আল-আনকাবূত, ২৯:৪৩] অন্যত্র বলেন “যদি আমরা শুনতাম অথবা বুদ্ধি প্রয়োগ করতাম, তাহলে আমরা জাহান্নামী হতাম না”। [সূরা মুলক, ৬৭:১০] তিনি আরো বলেন: “বল, যাদের ইল্‌ম আছে এবং যাদের ইল্‌ম নেই তারা কি সমপর্যায়ের”? [সূরা যুমার ৩৯:৯] নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম বলেন: আল্লাহ্‌ যার কল্যাণ চান তাকে দ্বীনের জ্ঞান দান করেন। আর অধ্যয়নের মাধ্যমেই ইল্‌ম অর্জিত হয়। আবূ যর (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) তাঁর ঘাড়ের দিকে ইশারা করে বলেন, যদি এখানে তরবারী ধর, এরপর আমি বুঝতে পারি যে, তোমরা আমার উপর সে তরবারী চালাবার আগে আমি একটু কথা বলতে পারব, যা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম থেকে শুনেছি, তবে অবশ্যই আমি তা বলে ফেলব। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণীঃ “উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে (আমার বাণী) পৌঁছে দেয়। ইব্‌ন ‘আব্বাস (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) বলেন, ‘তোমরা রব্বানী হও’। এখানে রাব্বানী অর্থ প্রজ্ঞাবান, আলিম ও ফকীহ্‌গণ। আরো বলা হয়- রাব্বানী সে ব্যক্তিকে বলা হয় যিনি মানুষকে জ্ঞানের বড় বড় বিষয়ের পূর্বে ছোট ছোট বিষয় শিক্ষা দিয়ে গড়ে তোলেন।

٥٢. ‌‌بَابُ مَا كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَخَوَّلُهُمْ بِالْمَوْعِظَةِ وَالعِلْمِ كَيْ لَا يَنْفِرُوا

৫২. পরিচ্ছেদ : রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম নসীহতে ও ইল্‌ম শিক্ষা দানে উপযুক্ত সময়ের প্রতি লক্ষ্য রাখতেন, যাতে লোকজন বিরক্ত না হয়ে পড়ে।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৮

হাদিসের মান: সহীহ

٦٨ – حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «يَتَخَوَّلُنَا بِالْمَوْعِظَةِ فِي الأَيَّامِ، كَرَاهَةَ السَّآمَةِ عَلَيْنَا»

মু‘হাম্মাদ ইব্‌ন ইউসুফ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: সুফইয়ান আমাদেরকে হাদীসটি সংবাদ দিলেন আ’মাশ থেকে, তিনি আবূ ওয়াইল থেকে, তিনি ইব্‌ন মাস্‌‘ঊদ (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বললেন: নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রেখে নির্দিষ্ট দিনে নাসীহাত করতেন, আমরা যাতে বিরক্ত বোধ না করি।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [৭০, ৬৪১১; মুসলিম ৫০/১৯ হাঃ ২৮২১, আহমাদ ৪০৬০] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৮, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৬৮]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৯

হাদিসের মান: হীহ

٦٩ – حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو التَّيَّاحِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «يَسِّرُوا وَلَا تُعَسِّرُوا، وَبَشِّرُوا، وَلَا تُنَفِّرُوا»

মু‘হাম্মাদ ইব্‌ন বাশ্‌শার আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ইয়া‘হ্‌ইয়া ইব্‌ন সা‘ঈদ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: শু’বাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: আবূ তাই্‌ইয়াহ আমাকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন আনাস ইব্‌ন মালিক (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বললেন: নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন- “তোমরা সহজ পন্থা অবলম্বন কর, কঠিন পন্থা অবলম্বন করো না, মানুষকে সুসংবাদ দাও, বিরক্তি সৃষ্টি করো না”।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [৬১২৫; মুসলিম ৩২/৩ হাঃ ১৭৩৪, আহমাদ ১৩১৭৪] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৯, ই. ফা. ৬৯]

٥٣. ‌‌بَابُ مَنْ جَعَلَ لِأَهْلِ العِلْمِ أَيَّامًا مَعْلُومَةً

৫৩. পরিচ্ছেদ : ইল্‌ম শিক্ষার্থীদের জন্য দিন নির্দিষ্ট করা।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭০

হাদিসের মান: সহীহ

٧٠ – حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، قَالَ: كَانَ عَبْدُ اللَّهِ يُذَكِّرُ النَّاسَ فِي كُلِّ خَمِيسٍ فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ: يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ لَوَدِدْتُ أَنَّكَ ذَكَّرْتَنَا كُلَّ يَوْمٍ؟ قَالَ: أَمَا إِنَّهُ يَمْنَعُنِي مِنْ ذَلِكَ أَنِّي أَكْرَهُ أَنْ أُمِلَّكُمْ، وَإِنِّي أَتَخَوَّلُكُمْ بِالْمَوْعِظَةِ، كَمَا كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَخَوَّلُنَا بِهَا، مَخَافَةَ السَّآمَةِ عَلَيْنَا “

‘উসমান ইব্‌ন আবূ শায়বা আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: জারীর আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন মানস্বুর থেকে, তিনি ওয়াইল (রাজিআল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি বলেন: ইব্‌ন মাস’ঊদ (রাজিআল্লাহু আনহু) প্রতি বৃহস্পতিবার লোকদের নাসীহাত করতেন। তাঁকে একজন বলল, “হে আবূ ‘আবদুর রহমান! আমার ইচ্ছা জাগে, যেন আপনি প্রতিদিন আমাদের নাসীহাত করেন”। তিনি বললেন: এ কাজ থেকে আমাকে যা বাধা দেয় তা হচ্ছে, আমি তোমাদেরকে ক্লান্ত করতে পছন্দ করি না। আর আমি নাসীহাত করার ব্যাপারে তোমাদের (অবস্থার) প্রতি খেয়াল রাখি, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ক্লান্তির আশংকায় আমাদের প্রতি যেমন লক্ষ্য রাখতেন।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭০, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৭০]

٥٤. ‌‌بَابٌ: مَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ

৫৪. পরিচ্ছেদ : আল্লাহ্‌ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের জ্ঞান দান করেন।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭১

হাদিসের মান: সহীহ

٧١ – حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عُفَيْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ: قَالَ حُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، سَمِعْتُ مُعَاوِيَةَ، خَطِيبًا يَقُولُ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ، وَإِنَّمَا أَنَا قَاسِمٌ وَاللَّهُ يُعْطِي، وَلَنْ تَزَالَ هَذِهِ الأُمَّةُ قَائِمَةً عَلَى أَمْرِ اللَّهِ، لَا يَضُرُّهُمْ مَنْ خَالَفَهُمْ، حَتَّى يَأْتِيَ أَمْرُ اللَّهِ»

সা‘ঈদ ইব্‌ন ‘উফায়র আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ওয়াহাব আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ইউনুস থেকে, তিনি ইব্‌ন শিহাব থেকে, তিনি বললেন: ‘হুমায়দ ইব্‌ন ‘আব্দির রহমান বললেন, আমি মু‘আবিয়াহ (রাজিআল্লাহু আনহু)-কে খুৎবায় বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ যার মঙ্গল চান, তাকে দ্বীনের ‘ইল্ম দান করেন। আমি তো বিতরণকারী মাত্র, আল্লাহই (জ্ঞান) দাতা। সর্বদাই এ উম্মাত কিয়ামাত পর্যন্ত আল্লাহর হুকুমের উপর কায়িম থাকবে, বিরোধিতাকারীরা তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [৩১১৬, ৩৬৪১,৭৩১২, ৭৪৬০; মুসলিম ১২/৩৩ হাঃ ১০৩৭, আহমাদ ১৬৮৪৯, ১৬৮৭৮, ১৬৯১০] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭১, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৭১]

٥٦. ‌‌بَابُ الفَهْمِ فِي العِلْمِ

৫৫. পরিচ্ছেদ : ইলমের ক্ষেত্রে সঠিক অনুধাবন

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭২

হাদিসের মান: সহীহ

٧٢ – حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ: قَالَ لِي ابْنُ أَبِي نَجِيحٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، قَالَ: صَحِبْتُ ابْنَ عُمَرَ إِلَى المَدِينَةِ فَلَمْ أَسْمَعْهُ يُحَدِّثُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَّا حَدِيثًا وَاحِدًا، قَالَ: كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأُتِيَ بِجُمَّارٍ، فَقَالَ: «إِنَّ مِنَ الشَّجَرِ شَجَرَةً، مَثَلُهَا كَمَثَلِ المُسْلِمِ»، فَأَرَدْتُ أَنْ أَقُولَ: هِيَ النَّخْلَةُ، فَإِذَا أَنَا أَصْغَرُ القَوْمِ، فَسَكَتُّ، قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هِيَ النَّخْلَةُ»

‘আলী ইব্‌ন ‘আব্দুল্লাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: সুফইয়ান আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ইব্‌ন আবূ নাজি‘হ আমাকে বললেন মুজাহিদ থেকে, তিনি বললেন: আমি সফরে মদীনা পর্যন্ত ইব্‌ন ‘উমার (রাজিআল্লাহু আনহু)- এর সাথে ছিলাম। এ সময় তাঁকে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে একটি মাত্র হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি। তিনি বলেন: আমরা একদা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর নিকট ছিলাম। তখন তাঁর নিকট খেজুর গাছের (অভ্যন্তরের কোমল অংশ) মাথি আনা হল। অতঃপর তিনি বললেন: বৃক্ষরাজির মধ্যে এমন একটি বৃক্ষ রয়েছে, যার দৃষ্টান্ত মুসলিমের ন্যায়। তখন আমি বলতে চাইলাম যে, তা হল খেজুর বৃক্ষ, কিন্তু আমি লোকদের মাঝে বয়সে সবচাইতে ছোট ছিলাম। তাই নীরব থাকলাম। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ “সেটা হলো খেজুর বৃক্ষ”।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭২, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৭২]

٥٦. ‌‌بَابُ الِاغْتِبَاطِ فِي العِلْمِ وَالحِكْمَةِ

وَقَالَ عُمَرُ: «تَفَقَّهُوا قَبْلَ أَنْ تُسَوَّدُوا» قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: «وَبَعْدَ أَنْ تُسَوَّدُوا وَقَدْ تَعَلَّمَ أَصْحَابُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي كِبَرِ سِنِّهِمْ»

৫৬. পরিচ্ছেদ : ইল্‌ম ও হিকমতের ক্ষেত্রে সমতুল্য হওয়ার আগ্রহ

‘উমর (রা) বলেন, তোমরা নেতৃত্ব লাভের আগেই জ্ঞান হাসিল করে নাও। আবূ ‘আব্দুল্লাহ্‌ (বুখারী) বলেন, আর নেতা বানিয়ে দেওয়ার পরও, কেননা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম -এর সাহাবীগণ বয়োবৃদ্ধকালেও ইল্‌ম শিক্ষা করেছেন।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৩

হাদিসের মান: সহীহ

٧٣ – حَدَّثَنَا الحُمَيْدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ: حَدَّثَنِي إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ، عَلَى غَيْرِ مَا حَدَّثَنَاهُ الزُّهْرِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ قَيْسَ بْنَ أَبِي حَازِمٍ، قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ” لَا حَسَدَ إِلَّا فِي اثْنَتَيْنِ: رَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ مَالًا فَسُلِّطَ عَلَى هَلَكَتِهِ فِي الحَقِّ، وَرَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ الحِكْمَةَ فَهُوَ يَقْضِي بِهَا وَيُعَلِّمُهَا “

‘হুমায়দী আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: সুফিয়ান আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ইসমা‘ঈল ইব্‌ন আবূ খালিদ আমাকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন তাহা যুহুরী তাকে যে হাদীস বর্ণনা করেছিলেন তার বাহিরে, তিনি বললেন: ক্বায়স ইব্‌ন আবূ ‘হাযিম থেকে আমি হাদীসটি শুনেছি, তিনি বললেন: আমি ‘আবদুল্লাহ ইব্‌ন মাস’ঊদ (রাজিআল্লাহু আনহু) থেকে হাদীসটি শুনেছি, তিনি বললেন: নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: কেবল দু’টি বিষয়ে ঈর্ষা করা বৈধ; (১) সে ব্যক্তির উপর, যাকে আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন, অতঃপর তাকে বৈধ পন্থায় অকাতরে ব্যয় করার ক্ষমতা দিয়েছেন; (২) সে ব্যক্তির উপর, যাকে আল্লাহ তা’আলা প্রজ্ঞা দান করেছেন, অতঃপর সে তাঁর মাধ্যমে বিচার ফায়সালা করে ও তা অন্যকে শিক্ষা দেয়।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [১৪০৯,৭১৪১,৭৩১৬; মুসলিম ৬/৪৭ হাঃ ৮১৬, আহমাদ ৩৪৫১] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৩, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৭৩]

٥٧. ‌‌بَابُ مَا ذُكِرَ فِي ذَهَابِ مُوسَى صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي البَحْرِ إِلَى الخَضِرِ

وَقَوْلِهِ تَعَالَى: (هَلْ أَتَّبِعُكَ عَلَى أَنْ تُعَلِّمَنِي مِمَّا عُلِّمْتَ رَشَدًا)

৫৭. পরিচ্ছেদ : সমুদ্রে খিয্‌র (আ)-এর কাছে মূসা (আ)-এর যাওয়া

আল্লাহ্‌ তা‘আলার বাণী: “আমি কি আপনার অনুসরণ করব এ শর্তে যে, সত্য পথের যে জ্ঞান আপনাকে দান করা হয়েছে তা থেকে আমাকে শিক্ষা দেবেন”। [সূরা কাহফ ১৮:৬৬]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৪

হাদিসের মান: সহীহ

٧٤ – حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ غُرَيْرٍ الزُّهْرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، حَدَّثَهُ أَنَّ عُبَيْدَ اللَّهِ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ أَخْبَرَهُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ تَمَارَى هُوَ وَالحُرُّ بْنُ قَيْسِ بْنِ حِصْنٍ الفَزَارِيُّ فِي صَاحِبِ مُوسَى، قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: هُوَ خَضِرٌ، فَمَرَّ بِهِمَا أُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ، فَدَعَاهُ ابْنُ عَبَّاسٍ فَقَالَ: إِنِّي تَمَارَيْتُ أَنَا وَصَاحِبِي هَذَا فِي صَاحِبِ مُوسَى، الَّذِي سَأَلَ مُوسَى السَّبِيلَ إِلَى لُقِيِّهِ، هَلْ سَمِعْتَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَذْكُرُ شَأْنَهُ؟ قَالَ: نَعَمْ، سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: ” بَيْنَمَا مُوسَى فِي مَلَإٍ مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ جَاءَهُ رَجُلٌ فَقَالَ: هَلْ تَعْلَمُ أَحَدًا أَعْلَمَ مِنْكَ؟ ” قَالَ مُوسَى: لَا، فَأَوْحَى اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ إِلَى مُوسَى: بَلَى، عَبْدُنَا خَضِرٌ، فَسَأَلَ مُوسَى السَّبِيلَ إِلَيْهِ، فَجَعَلَ اللَّهُ لَهُ الحُوتَ آيَةً، وَقِيلَ لَهُ: إِذَا فَقَدْتَ الحُوتَ فَارْجِعْ، فَإِنَّكَ سَتَلْقَاهُ، وَكَانَ يَتَّبِعُ أَثَرَ الحُوتِ فِي البَحْرِ، فَقَالَ لِمُوسَى فَتَاهُ: (أَرَأَيْتَ إِذْ أَوَيْنَا إِلَى الصَّخْرَةِ فَإِنِّي نَسِيتُ الحُوتَ وَمَا أَنْسَانِيهِ إِلَّا الشَّيْطَانُ أَنْ أَذْكُرَهُ)، قَالَ: (ذَلِكَ مَا كُنَّا نَبْغِي فَارْتَدَّا عَلَى آثَارِهِمَا قَصَصًا)، فَوَجَدَا خَضِرًا، فَكَانَ مِنْ شَأْنِهِمَا الَّذِي قَصَّ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فِي كِتَابِهِ “

মু‘হাম্মাদ ইব্‌ন গুরায়র আয-যুহরী আমাকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন: তিনি বললেন: ই‘য়াকূব ইব্‌ন ইবরাহীম আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: আমার পিতা আমাকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন স্বালি‘হ থেকে, তিনি ইব্‌ন শিহাব থেকে, তিনি বললেন: ‘উবায়দুল্লাহ ইব্‌ন ‘আব্দুল্লাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ‘আব্বাস (রাজিআল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি বললেন: ‘আব্বাস (রাজিআল্লাহু আনহু) এবং হুর ইব্‌ন কায়স ইব্‌ন হিসন আল-ফাযারীর মধ্যে মূসা (‘‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও মুসা-এর সাথী সম্পর্কে বাদানুবাদ হলো। ইব্‌ন ‘আব্বাস (রাজিআল্লাহু আনহু) বললেন, তিনি ছিলেন খাযির। ঘটনাক্রমে তখন তাদের পাশ দিয়ে উবাঈ ইব্ন কা’ব (রাজিআল্লাহু আনহু) যাচ্ছিলেন। ইব্‌ন ‘আব্বাস (রাজিআল্লাহু আনহু) তাঁকে ডাক দিয়ে বললেনঃ আমি ও আমার এ ভাই মূসা (‘‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সেই সহচর সম্পর্কে বাদানুবাদ করছি যাঁর সাথে সাক্ষাত করার জন্য মূসা (‘‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর নিকট পথের সন্ধান চেয়েছিলেন- আপনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাঁর সম্পর্কে কিছু বলতে শুনেছেন কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: একদা মূসা (‘‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বানী ইসরাঈলের কোন এক মজলিসে উপস্থিত ছিলেন। তখন তাঁর নিকট জনৈক ব্যক্তি এসে বলল, ‘আপনি কাউকে আপনার চেয়ে অধিক জ্ঞানী বলে মনে করেন কি?’ মূসা (‘‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘না।’ তখন আল্লাহ তা’আলা মূসা (‘‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ওয়াহী প্রেরণ করলেনঃ ‘হ্যাঁ, আমার বান্দা খাযির।’ অতঃপর মূসা (‘‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য পথের সন্ধান চাইলেন। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা মাছকে তাঁর জন্য নিদর্শন বানিয়ে দিলেন এবং তাঁকে বলা হল, যখন তুমি মাছটি হারিয়ে ফেলবে তখন ফিরে যাবে। কারণ, কিছুক্ষণের মধ্যেই তুমি তাঁর সাথে মিলিত হবে। তখন তিনি সমুদ্রে সে মাছের নিদর্শন অনুসরণ করতে লাগলেন। মূসা (‘‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাঁর সঙ্গী যুবক (ইউশা ইব্‌ন নূন) বললেন, (কুরআন মজীদের ভাষায়): “আপনি কি লক্ষ্য করেছেন আমরা যখন পাথরের নিকট বিশ্রাম নিচ্ছিলাম তখন আমি মাছের কথা ভুলে গিয়েছিলাম? শয়তানই তার কথা আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছিল। ….. মূসা বললেন, আমরা তো সেটিরই সন্ধান করছিলাম। অতঃপর তারা নিজেদের পদ চিহ্ন অনুসরণ করে ফিরে চলল।” (সূরা কাহ্ফ, ১৮:৬৩-৬৪) তাঁরা খাযিরকে পেলেন। তাদের ঘটনা সেটাই, যা আল্লাহ তা’আলা তাঁর কিতাবে বিবৃত করেছেন।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [২২৬৭, ২৭২৮, ৩২৭৮, ৩৪০০,৩৪০১, ৪৭২৫, ৪৭২৬, ৪৭২৭, ৬৬৭২, ৭৪৭৮] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৪, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৭৪]

٥٨. ‌‌بَابُ قَوْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اللَّهُمَّ عَلِّمْهُ الكِتَابَ»

৫৮. পরিচ্ছেদঃ নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম – এর উক্তিঃ হে আল্লাহ! আপনি তাকে কিতাব শিক্ষা দিন।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৫

হাদিসের মান: সহীহ

٧٥ – حَدَّثَنَا أَبُو مَعْمَرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الوَارِثِ، قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: ضَمَّنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَ: «اللَّهُمَّ عَلِّمْهُ الكِتَابَ»

আবূ মা‘মার আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ‘আব্দুল ওয়ারিছ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: খালিদ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ‘ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইব্‌ন ‘আব্বাস (রাজিআল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি বলেন: আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একবার আমাকে জাপটে ধরে বললেন, ‘হে আল্লাহ! আপনি তাকে কিতাবের (কুরআনের) জ্ঞান দান করুন।’

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [১৪৩, ৩৭৫৬, ৭২৭০; মুসলিম ৪৪/৩০ হাঃ ২৪৭৭, আহমাদ ২৩৯৭, ২৮৮১, ৩০২৩] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৫, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৭৫]

٥٩. ‌‌بَابٌ: مَتَى يَصِحُّ سَمَاعُ الصَّغِيرِ؟

৫৯. পরিচ্ছেদ : বালকদের কোন্‌ বয়সের শোনা কথা গ্রহণীয়-

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৬

হাদিসের মান: সহীহ

٧٦ – حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي أُوَيْسٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: «أَقْبَلْتُ رَاكِبًا عَلَى حِمَارٍ أَتَانٍ، وَأَنَا يَوْمَئِذٍ قَدْ نَاهَزْتُ الِاحْتِلَامَ، وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي بِمِنًى إِلَى غَيْرِ جِدَارٍ، فَمَرَرْتُ بَيْنَ يَدَيْ بَعْضِ الصَّفِّ، وَأَرْسَلْتُ الأَتَانَ تَرْتَعُ، فَدَخَلْتُ فِي الصَّفِّ، فَلَمْ يُنْكَرْ ذَلِكَ عَلَيَّ»

ইসমা‘ঈল ইব্‌ন আবূ উয়ায়স আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: মালিক আমাকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ইব্‌ন শিহাব থেকে, তিনি ‘উবায়দিল্লাহ ইব্‌ন ‘আব্দুল্লাহ ইব্‌ন ‘উতবাহ থেকে, তিনি ‘আবদিল্লাহ ইব্‌ন ‘আব্বাস (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বললেন: আমি সাবালক হবার নিকটবর্তী বয়সে একদা একটি গাধীর উপর আরোহিত অবস্থায় এলাম। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন মিনায় সালাত আদায় করছিলেন তাঁর সামনে কোন দেয়াল না রেখেই। তখন আমি কোন এক কাতারের সামনে দিয়ে অতিক্রম করলাম এবং গাধীটিকে বিচরণের জন্য ছেড়ে দিলাম। আমি কাতারের ভেতর ঢুকে পড়লাম কিন্তু এতে কেউ আমাকে নিষেধ করেননি।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [৪৯৩, ৮৬১, ১৮৫৭, ৪৪১২; মুসলিম ৪/৪৭ হাঃ ৫০৪, আহমাদ ১৮৯১] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৬, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৭৬]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৭

হাদিসের মান: হীহ

٧٧ – حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مُسْهِرٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنِي الزُّبَيْدِيُّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ مَحْمُودِ بْنِ الرَّبِيعِ، قَالَ: «عَقَلْتُ مِنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَجَّةً مَجَّهَا فِي وَجْهِي وَأَنَا ابْنُ خَمْسِ سِنِينَ مِنْ دَلْوٍ»

মু‘হাম্মাদ ইব্‌ন ইউসুফ আমাকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: আবূ মুসহির আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: মু‘হাম্মাদ ইব্‌ন ‘হারব আমাকে হাদীস বর্ণনা করলেন, যুবায়দী আমাকে হাদীস বর্ণনা করলেন যুহুরী থেকে, তিনি মা‘হ্‌মূদ ইব্‌ন রাবী‘ই (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বলেন: আমার মনে আছে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একবার বালতি থেকে পানি নিয়ে আমার মুখমণ্ডলের উপর কুলি করে দিয়েছিলেন, তখন আমি ছিলাম পাঁচ বছরের বালক।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [১৮৯, ৮৩৯, ১১৮৫, ৬৩৫৪, ৬৪২২ দ্রষ্টব্য] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৭, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৭৭]

٦٠. ‌‌بَابُ الخُرُوجِ فِي طَلَبِ العِلْمِ

وَرَحَلَ جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ مَسِيرَةَ شَهْرٍ، إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أُنَيْسٍ، فِي حَدِيثٍ وَاحِدٍ

৬০. পরিচ্ছেদ : ইল্‌ম হাসিলের জন্য বের হওয়া-

জাবির ইব্‌ন ‘আবদুল্লাহ্‌ (রা) একটি মাত্র হাদীসের জন্য ‘আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌ন উনায়স (রা) – এর কাছে এক মাসের পথ সফর করে গিয়েছিলেন।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৮

হাদিসের মান: সহীহ

٧٨ – حَدَّثَنَا أَبُو القَاسِمِ خَالِدُ بْنُ خَلِيٍّ قَاضِي حِمْصَ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، أَخْبَرَنَا الزُّهْرِيُّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ تَمَارَى هُوَ وَالحُرُّ بْنُ قَيْسِ بْنِ حِصْنٍ الفَزَارِيُّ فِي صَاحِبِ مُوسَى، فَمَرَّ بِهِمَا أُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ، فَدَعَاهُ ابْنُ عَبَّاسٍ فَقَالَ: إِنِّي تَمَارَيْتُ أَنَا وَصَاحِبِي هَذَا فِي صَاحِبِ مُوسَى الَّذِي سَأَلَ السَّبِيلَ إِلَى لُقِيِّهِ، هَلْ سَمِعْتَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَذْكُرُ شَأْنَهُ؟ فَقَالَ أُبَيٌّ: نَعَمْ، سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَذْكُرُ شَأْنَهُ يَقُولُ: ” بَيْنَمَا مُوسَى فِي مَلَإٍ مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ، إِذْ جَاءَهُ رَجُلٌ فَقَالَ: أَتَعْلَمُ أَحَدًا أَعْلَمَ مِنْكَ؟ قَالَ مُوسَى: لَا، فَأَوْحَى اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ إِلَى مُوسَى: بَلَى، عَبْدُنَا خَضِرٌ، فَسَأَلَ السَّبِيلَ إِلَى لُقِيِّهِ، فَجَعَلَ اللَّهُ لَهُ الحُوتَ آيَةً، وَقِيلَ لَهُ: إِذَا فَقَدْتَ الحُوتَ فَارْجِعْ، فَإِنَّكَ سَتَلْقَاهُ، فَكَانَ مُوسَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ يَتَّبِعُ أَثَرَ الحُوتِ فِي البَحْرِ، فَقَالَ فَتَى مُوسَى لِمُوسَى: (أَرَأَيْتَ إِذْ أَوَيْنَا إِلَى الصَّخْرَةِ فَإِنِّي نَسِيتُ الحُوتَ وَمَا أَنْسَانِيهِ إِلَّا الشَّيْطَانُ أَنْ أَذْكُرَهُ)، قَالَ مُوسَى: (ذَلِكَ مَا كُنَّا نَبْغِي فَارْتَدَّا عَلَى آثَارِهِمَا قَصَصًا)، فَوَجَدَا خَضِرًا، فَكَانَ مِنْ شَأْنِهِمَا مَا قَصَّ اللَّهُ فِي كِتَابِهِ “

হিম্‌স নগরের কাযী আবূল ক্বাসিম খালিদ ইব্‌ন খালী আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: মুহাম্মাদ ইব্‌ন হারব আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: আওযা‘ই আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: যুহুরী আমাদেরকে হাদীসটি সংবাদ দিলেন ‘উবায়দুল্লাহ ইব্‌ন ‘আব্দুল্লাহ ইব্‌ন ‘উতবাহ ইব্‌ন মাস‘ঊদ থেকে, তিনি ইব্‌ন ‘আব্বাস (রাজিআল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি বললেন: ‘আব্বাস (রাজিআল্লাহু আনহু) এবং হুর ইব্‌ন কায়স ইব্‌ন হিসন আল-ফাযারীর মধ্যে মূসা (‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সম্পর্কে বাদানুবাদ হলো। ইব্‌ন ‘আব্বাস (রাজিআল্লাহু আনহু) বললেন, তিনি ছিলেন খাযির। ঘটনাক্রমে তখন তাদের পাশ দিয়ে উবাঈ ইব্ন কা’ব (রাজিআল্লাহু আনহু) যাচ্ছিলেন। ইব্‌ন ‘আব্বাস (রাজিআল্লাহু আনহু) তাঁকে ডাক দিয়ে বললেন: আমি ও আমার এ ভাই মূসা (‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সেই সহচর সম্পর্কে বাদানুবাদ করছি যাঁর সাথে সাক্ষাত করার জন্য মূসা (‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর নিকট পথের সন্ধান চেয়েছিলেন। আপনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাঁর সম্পর্কে কিছু বলতে শুনেছেন কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি- “একদা মূসা (‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বানী ইসরাঈলের কোন এক মজলিসে উপস্থিত ছিলেন। তখন তাঁর নিকট জনৈক ব্যক্তি এসে বলল, ‘আপনি কাউকে আপনার চেয়ে অধিক জ্ঞানী বলে মনে করেন কি?’ মূসা (‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘না।’ তখন আল্লাহ তা’আলা মূসা (‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ওয়াহী প্রেরণ করলেন : ‘হ্যাঁ, আমার বান্দা খাযির।’ অতঃপর মূসা (‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য পথের সন্ধান চাইলেন। অতঃপর আল্লাহ তা’আলা মাছকে তাঁর জন্য নিদর্শন বানিয়ে দিলেন এবং তাঁকে বলা হল, যখন তুমি মাছটি হারিয়ে ফেলবে তখন ফিরে যাবে। কারণ, কিছুক্ষণের মধ্যেই তুমি তাঁর সাথে মিলিত হবে। তখন তিনি সমুদ্রে সে মাছের নিদর্শন অনুসরণ করতে লাগলেন। মূসা (‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাঁর সঙ্গী যুবক (ইউশা ইব্‌ন নূন) বললেন, ‘আপনি কি লক্ষ্য করেছেন আমরা যখন পাথরের কাছে বিশ্রাম করছিলাম তখন আমি মাছের কথা (বলতে) ভুলে গিয়েছিলাম। আর শয়তান তার কথা আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছিল’ (সূরা আল-কাহ্‌ফ, ১৮:৬৩)। ‘মূসা (‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: আমরা সে স্থানটির অনুসন্ধান করছিলাম। অতঃপর তারা নিজেদের পদ চিহ্ন অনুসরণ করে ফিরে চলল’। (সূরা আল-কাহ্ফ, ১৮:৬৩-৬৪) তাঁরা খাযিরকে পেলেন। এ হল তাদের দু’জনের ঘটনা, যা আল্লাহ তা’আলা তাঁর কিতাবে বিবৃত করেছেন।”

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৮, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৭৮]

٦١. ‌‌بَابُ فَضْلِ مَنْ عَلِمَ وَعَلَّمَ

৬১. পরিচ্ছেদ : ইলম শিক্ষার্থী ও শিক্ষক এর ফযীলত।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৯

হাদিসের মান: সহীহ

٧٩ – حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ العَلَاءِ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ أُسَامَةَ، عَنْ بُرَيْدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَثَلُ مَا بَعَثَنِي اللَّهُ بِهِ مِنَ الهُدَى وَالعِلْمِ، كَمَثَلِ الغَيْثِ الكَثِيرِ أَصَابَ أَرْضًا، فَكَانَ مِنْهَا نَقِيَّةٌ، قَبِلَتِ المَاءَ، فَأَنْبَتَتِ الكَلَأَ وَالعُشْبَ الكَثِيرَ، وَكَانَتْ مِنْهَا أَجَادِبُ، أَمْسَكَتِ المَاءَ، فَنَفَعَ اللَّهُ بِهَا النَّاسَ، فَشَرِبُوا وَسَقَوْا وَزَرَعُوا، وَأَصَابَتْ مِنْهَا طَائِفَةً أُخْرَى، إِنَّمَا هِيَ قِيعَانٌ لَا تُمْسِكُ مَاءً وَلَا تُنْبِتُ كَلَأً، فَذَلِكَ مَثَلُ مَنْ فَقُهَ فِي دِينِ اللَّهِ، وَنَفَعَهُ مَا بَعَثَنِي اللَّهُ بِهِ فَعَلِمَ وَعَلَّمَ، وَمَثَلُ مَنْ لَمْ يَرْفَعْ بِذَلِكَ رَأْسًا، وَلَمْ يَقْبَلْ هُدَى اللَّهِ الَّذِي أُرْسِلْتُ بِهِ» قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: قَالَ إِسْحَاقُ: وَكَانَ مِنْهَا طَائِفَةٌ قَيَّلَتِ المَاءَ، قَاعٌ يَعْلُوهُ المَاءُ، وَالصَّفْصَفُ المُسْتَوِي مِنَ الأَرْضِ

মু‘হাম্মাদ ইব্‌ন ‘আলা আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ‘হাম্মাদ ইব্‌ন উসামাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন বুরায়দ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি আবূ বুরদাহ থেকে, তিনি আবূ মূসা (রাজিআল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি বললেন: নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আল্লাহ তা’আলা আমাকে যে হিদায়াত ও ‘ইল্ম দিয়ে পাঠিয়েছেন তার দৃষ্টান্ত হল যমীনের উপর পতিত প্রবল বর্ষণের ন্যায়। কোন কোন ভূমি থাকে উর্বর যা সে পানি শুষে নিয়ে প্রচুর পরিমাণে ঘাসপাতা এবং সবুজ তরুলতা উৎপাদন করে। আর কোন কোন ভূমি থাকে কঠিন যা পানি আটকে রাখে। পরে আল্লাহ তা‘আলা তা দিয়ে মানুষের উপকার করেন; তারা নিজেরা পান করে ও (পশুপালকে) পান করায় এবং তা দ্বারা চাষাবাদ করে। আবার কোন কোন জমি রয়েছে যা একেবারে মসৃণ ও সমতল; তা না পানি আটকে রাখে, আর না কোন ঘাসপাতা উৎপাদন করে। এই হল সে ব্যক্তির দৃষ্টান্ত যে দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করে এবং আল্লাহ তা’আলা আমাকে যা দিয়ে প্রেরণ করেছেন তাতে সে উপকৃত হয়। ফলে সে নিজে শিক্ষা করে এবং অপরকে শিখায়। আর সে ব্যক্তিরও দৃষ্টান্ত- যে সে দিকে মাথা তুলে দেখে না এবং আল্লাহর যে হিদায়াত নিয়ে আমি প্রেরিত হয়েছি, তা গ্রহণও করে না। আবূ ‘আবদুল্লাহ (বুখারী) (রহমাহুল্লাহ) বলেন: ইসহাক (রহমাহুল্লাহ) আবূ উসামা (রহমাহুল্লাহ) থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন: তিনি قَبِلت এর স্থলে قَيَّلَت (আটকিয়ে রাখে) ব্যবহার করেছেন। قَاعَا হল এমন ভূমি যার উপর পানি জমে থাকে। আর الصَّفصفُ হল সমতল ভূমি।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [মুসলিম ৪৩/৫ হাঃ ২২৮২, আহমাদ ১৯৫৯০] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৯, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৭৯]

٦٢. ‌‌بَابُ رَفْعِ العِلْمِ وَظُهُورِ الجَهْلِ

وقَالَ رَبِيعَةُ: «لَا يَنْبَغِي لِأَحَدٍ عِنْدَهُ شَيْءٌ مِنَ العِلْمِ أَنْ يُضَيِّعَ نَفْسَهُ»

৬২. পরিচ্ছেদ : ‘ইল্‌মের বিলুপ্তি ও মূর্খতার প্রসার।

রাবী‘আহ (রহমাহুল্লাহ) বলেন, “যার নিকট সামান্য জ্ঞান আছে, তার উচিত নয় নিজেকে অপমানিত করা”।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৮০

হাদিসের মান: সহীহ

٨٠ – حَدَّثَنَا عِمْرَانُ بْنُ مَيْسَرَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الوَارِثِ، عَنْ أَبِي التَّيَّاحِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ” إِنَّ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ: أَنْ يُرْفَعَ العِلْمُ وَيَثْبُتَ الجَهْلُ، وَيُشْرَبَ الخَمْرُ، وَيَظْهَرَ الزِّنَا “

‘ইমরান ইব্‌ন মায়সারাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ‘আব্দুল ওয়ারিছ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন আবূ তায়ইয়া‘হ থেকে, তিনি আনাস ইব্‌ন মালিক (রাজিআল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি বলেন: আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: কিয়ামাতের কিছু ‘আলামত হল- ‘ইল্‌ম হ্রাস পাবে, অজ্ঞতা প্রসারতা লাভ করবে, মদপানের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে এবং যেনা ব্যভিচার বিস্তার লাভ করবে।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [৮১, ৫২৩১, ৫৫৭৭, ৬৮০৮; মুসলিম ৪৭/৪ হাঃ ২৬৭১, আহমাদ ১৩০৯৩, ১৪০৮০] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮০, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৮০]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৮১

হাদিসের মান: হীহ

٨١ – حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: لَأُحَدِّثَنَّكُمْ حَدِيثًا لَا يُحَدِّثُكُمْ أَحَدٌ بَعْدِي، سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: ” مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ: أَنْ يَقِلَّ العِلْمُ، وَيَظْهَرَ الجَهْلُ، وَيَظْهَرَ الزِّنَا، وَتَكْثُرَ النِّسَاءُ، وَيَقِلَّ الرِّجَالُ، حَتَّى يَكُونَ لِخَمْسِينَ امْرَأَةً القَيِّمُ الوَاحِدُ “

মুসাদ্দাদ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ইয়া‘হইয়া আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন শু’বাহ থেকে, তিনি ক্বাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস ইব্‌ন মালিক (রাজিআল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি বলেন: আমি কি তোমাদের এমন একটি হাদীস বর্ণনা করব যা আমার পর তোমাদের নিকট আর কেউ বর্ণনা করবে না। আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, কিয়ামাতের কিছু আলামত হল: ‘ইল্ম হ্রাস পাবে, অজ্ঞতার প্রসার ঘটবে, ব্যভিচার ছড়িয়ে পড়বে, স্ত্রীলোকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং পুরুষের সংখ্যা কমে যাবে, এমনকি প্রতি পঞ্চাশজন স্ত্রীলোকের জন্য মাত্র একজন পুরুষ হবে পরিচালক।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮১, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৮১]

٦٣. ‌‌بَابُ فَضْلِ العِلْمِ

৬৩. পরিচ্ছেদ : ইল্‌মের ফযীলত।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৮২

হাদিসের মান: সহীহ

٨٢ – حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عُفَيْرٍ ، قَالَ: حَدَّثَنِي اللَّيْثُ، قَالَ: حَدَّثَنِي عُقَيْلٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ حَمْزَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ ابْنَ عُمَرَ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «بَيْنَا أَنَا نَائِمٌ، أُتِيتُ بِقَدَحِ لَبَنٍ، فَشَرِبْتُ حَتَّى إِنِّي لَأَرَى الرِّيَّ يَخْرُجُ فِي أَظْفَارِي، ثُمَّ أَعْطَيْتُ فَضْلِي عُمَرَ بْنَ الخَطَّابِ» قَالُوا: فَمَا أَوَّلْتَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «العِلْمَ»

সা‘ঈদ ইব্‌ন ‘উফায়্‌র আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: লায়স আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ‘উক্বায়ল আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন শিহাব থেকে, তিনি ‘হামযাহ ইব্‌ন ‘আব্দুল্লাহ ইব্‌ন ‘উমার থেকে, তিনি ইব্‌ন ‘উমার (রাজিআল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বললেন: “একদা আমি নিদ্রাবস্থায় ছিলাম। তখন (স্বপ্নে) আমার নিকট এক পিয়ালা দুধ নিয়ে আসা হল। আমি তা পান করলাম। এমন কি আমার মনে হতে লাগল যে, সে পরিতৃপ্তি আমার নখ দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে। অতঃপর অবশিষ্টাংশ আমি ‘উমার ইব্‌নল-খাত্তাবকে দিলাম”। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি এ স্বপ্নের কী ব্যাখ্যা করেন? তিনি জবাবে বললেনঃ “তা হল আল-‘ইল্ম”।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [৩৬৮১,৭০০৬,৭০০৭,৭০২৭,৭০৩২; মুসলিম ৪৩/২ হাঃ ২৩৯১, আহমাদ ৫৫৫৫] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮২, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৮২]

٦٤. ‌‌بَابُ الفُتْيَا وَهُوَ وَاقِفٌ عَلَى الدَّابَّةِ وَغَيْرِهَا

৬৪. পরিচ্ছেদ : প্রাণী বা অন্য বাহনে আসীন অবস্থায় ফতোয়া দেওয়া

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৮৩

হাদিসের মান: সহীহ

٨٣ – حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ: حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عِيسَى بْنِ طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ العَاصِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَفَ فِي حَجَّةِ الوَدَاعِ بِمِنًى لِلنَّاسِ يَسْأَلُونَهُ، فَجَاءهُ رَجُلٌ فَقَالَ: لَمْ أَشْعُرْ فَحَلَقْتُ قَبْلَ أَنْ أَذْبَحَ؟ فَقَالَ: «اذْبَحْ وَلَا حَرَجَ» فَجَاءَ آخَرُ فَقَالَ: لَمْ أَشْعُرْ فَنَحَرْتُ قَبْلَ أَنْ أَرْمِيَ؟ قَالَ: «ارْمِ وَلَا حَرَجَ» فَمَا سُئِلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ شَيْءٍ قُدِّمَ وَلَا أُخِّرَ إِلَّا قَالَ: «افْعَلْ وَلَا حَرَجَ»

ইসমা‘ঈল আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: মালিক আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ইব্‌ন শিহাব থেকে, তিনি ‘ঈসা ইব্‌ন ত্বাল‘হাহ্‌ ইব্‌ন ‘উবায়দিল্লাহ থেকে, তিনি ‘আব্দুল্লাহ ইব্‌ন ‘আমর ইব্‌ন ‘আস (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বললেন: আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিদায় হাজ্জের দিবসে মিনায় লোকদের সম্মুখে (বাহনের উপর) দাঁড়ালেন। লোকেরা তাঁকে বিভিন্ন মাসআলা জিজ্ঞেস করছিল। জনৈক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে বলল, আমি ভুলক্রমে কুরবানীর পূর্বেই মাথা কামিয়ে ফেলেছি। তিনি বললেনঃ যবেহ কর, কোন ক্ষতি নেই। আর এক ব্যক্তি এসে বলল, আমি ভুলক্রমে কঙ্কর নিক্ষেপের পূর্বেই কুরবানী করে ফেলেছি। তিনি বললেনঃ কঙ্কর ছুঁড়ো, কোন অসুবিধে নেই। ‘আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন ‘আমার (রাজিআল্লাহু আনহু) বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেদিন পূর্বে বা পরে করা যে কোন কাজ সম্পর্কেই জিজ্ঞাসিত হচ্ছিলেন, তিনি এ কথাই বলেছিলেন : কর, কোন ক্ষতি নেই।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [১২৪,১৭৩৬,১৭৩৭,১৭৩৮,৬৬৬৫; মুসলিম ১৫/৫৭ হাঃ ১৩০৬, আহমাদ ৬৪৯৯] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৩, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৮৩]

ফুটনোটঃ
১. হানাফী মাযহাব মতে কাফ্ফারা দিতে হবে কিন্তু এর কোন সহীহ্ হাদীসভিত্তিক দলীল নেই। বরং এটা হাদীস বিরোধী মত।

٦٥. ‌‌بَابُ مَنْ أَجَابَ الفُتْيَا بِإِشَارَةِ اليَدِ وَالرَّأْسِ

৬৫. পরিচ্ছেদ : হাত ও মাথার ইশারায় মাসআলার জওয়াব দান-

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৮৪

হাদিসের মান: সহীহ

٨٤ – حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ: حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُئِلَ فِي حَجَّتِهِ فَقَالَ: ذَبَحْتُ قَبْلَ أَنْ أَرْمِيَ؟ فَأَوْمَأَ بِيَدِهِ، قَالَ: «وَلَا حَرَجَ» قَالَ: حَلَقْتُ قَبْلَ أَنْ أَذْبَحَ؟ فَأَوْمَأَ بِيَدِهِ: «وَلَا حَرَجَ»

মূসা ইব্‌ন ইসমা‘ঈল আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: উহায়ব আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: আয়য়ূব আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ইকরামাহ থেকে, তিনি ইব্‌ন ‘আব্বাস (রাজিআল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি বললেন: হাজ্জের সময় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞাসিত হলেন। কোন একজন বলল: আমি কঙ্কর নিক্ষেপের পূর্বেই যবেহ (কুরবানী) করে ফেলেছি। ইব্‌ন ‘আব্বাস (রাজিআল্লাহু আনহু) বলেন, তখন আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাত দিয়ে ইঙ্গিত করে বললেনঃ কোন অসুবিধে নেই। আর এক ব্যক্তি বলল: আমি যবেহ করার পূর্বে মাথা মুণ্ডন করে ফেলেছি। তিনি হাত দিয়ে ইঙ্গিত করলেন: কোন ক্ষতি নেই।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [১৭২১, ১৭২২, ১৭২৩, ১৭৩৪, ৬৬৬৬ দ্রষ্টব্য] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৪, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৮৪]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৮৫

হাদিসের মান: হীহ

٨٥ – حَدَّثَنَا المَكِّيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا حَنْظَلَةُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ سَالِمٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «يُقْبَضُ العِلْمُ، وَيَظْهَرُ الجَهْلُ وَالفِتَنُ، وَيَكْثُرُ الهَرْجُ»، قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَمَا الهَرْجُ؟ فَقَالَ: «هَكَذَا بِيَدِهِ فَحَرَّفَهَا، كَأَنَّهُ يُرِيدُ القَتْلَ»

মাক্বী ইব্‌ন ইবরাহীম আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ‘হানযালাহ ইব্‌ন আবূ সুফইয়ান আমাদেরকে হাদীসটি খবর দিলেন সালিম থেকে, তিনি বললেন: আমি আবূ হুরায়রা (রাজিআল্লাহু আনহু) থেকে শুনেছি, তিনি বললেন: নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ (শেষ যামানায়) ‘ইল্ম উঠিয়ে নেয়া হবে, অজ্ঞতা ও ফিতনা ছড়িয়ে পড়বে এবং ‘হার্জ’ বেড়ে যাবে। জিজ্ঞেস করা হল, হে আল্লাহর রসূল! ‘হার্জ’ কী? তিনি হাত দ্বারা ইঙ্গিত করে বললেনঃ ‘এ রকম’। যেন তিনি এর দ্বারা হত্যা বুঝিয়েছিলেন।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [১০৩৬, ১৪১২, ৩৬০৮, ৪৬৩৫, ৬০৩৭, ৬৫০৬, ৬৯৩৫, ৭০৬১, ৭১১৫, ৭১২১] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৫, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৮৫]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৮৬

হাদিসের মান: হীহ

٨٦ – حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ: حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ فَاطِمَةَ، عَنْ أَسْمَاءَ، قَالَتْ: أَتَيْتُ عَائِشَةَ وَهِيَ تُصَلِّي فَقُلْتُ: مَا شَأْنُ النَّاسِ؟ فَأَشَارَتْ إِلَى السَّمَاءِ، فَإِذَا النَّاسُ قِيَامٌ، فَقَالَتْ: سُبْحَانَ اللَّهِ، قُلْتُ: آيَةٌ؟ فَأَشَارَتْ بِرَأْسِهَا: أَيْ نَعَمْ، فَقُمْتُ حَتَّى تَجَلَّانِي الغَشْيُ، فَجَعَلْتُ أَصُبُّ عَلَى رَأْسِي المَاءَ، فَحَمِدَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: ” مَا مِنْ شَيْءٍ لَمْ أَكُنْ أُرِيتُهُ إِلَّا رَأَيْتُهُ فِي مَقَامِي، حَتَّى الجَنَّةُ وَالنَّارُ، فَأُوحِيَ إِلَيَّ: أَنَّكُمْ تُفْتَنُونَ فِي قُبُورِكُمْ – مِثْلَ أَوْ – قَرِيبَ – لَا أَدْرِي أَيَّ ذَلِكَ قَالَتْ أَسْمَاءُ – مِنْ فِتْنَةِ المَسِيحِ الدَّجَّالِ، يُقَالُ مَا عِلْمُكَ بِهَذَا الرَّجُلِ؟ فَأَمَّا المُؤْمِنُ أَوِ المُوقِنُ – لَا أَدْرِي بِأَيِّهِمَا قَالَتْ أَسْمَاءُ – فَيَقُولُ: هُوَ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ، جَاءَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَالهُدَى، فَأَجَبْنَا وَاتَّبَعْنَا، هُوَ مُحَمَّدٌ ثَلَاثًا، فَيُقَالُ: نَمْ صَالِحًا قَدْ عَلِمْنَا إِنْ كُنْتَ لَمُوقِنًا بِهِ. وَأَمَّا المُنَافِقُ أَوِ المُرْتَابُ – لَا أَدْرِي أَيَّ ذَلِكَ قَالَتْ أَسْمَاءُ – فَيَقُولُ: لَا أَدْرِي، سَمِعْتُ النَّاسَ يَقُولُونَ شَيْئًا فَقُلْتُهُ “

মূসা ইব্‌ন ইসমা‘ঈল আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: উহাব আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: হিশাম আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ফাতিমাহ থেকে, তিনি আসমা (রাজিআল্লাহু ‘আনহা) থেকে, তিনি বললেন: আমি ‘আয়িশা (রাজিআল্লাহু আনহু)-র নিকট আসলাম, তিনি তখন সালাত রত ছিলেন। আমি বললাম, ‘মানুষের কী হয়েছে?’ তিনি আকাশের দিকে ইঙ্গিত করলেন (সূর্য গ্রহণ লেগেছে)। তখন সকল লোক (সালাতুল কুসূফ এর জন্য ) দাঁড়িয়ে রয়েছে। ‘আয়িশা (রাজিআল্লাহু আনহা) বললেন, সুবহানাল্লাহ! আমি বললাম, এটা কি কোন নিদর্শন? তিনি মাথা দিয়ে ইঙ্গিত করলেন, ‘হ্যাঁ।’ অতঃপর আমি (সালাতে) দাঁড়িয়ে গেলাম। এমনকি (দীর্ঘতার কারণে) আমার জ্ঞান হারিয়ে ফেলার উপক্রম হল। তাই আমি আমার মাথায় পানি ঢালতে আরম্ভ করলাম। পরে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর হামদ ও সানা পাঠ করলেন। অতঃপর বললেনঃ যা কিছু আমাকে ইতোপূর্বে দেখানো হয়নি , তা আমি আমার এ স্থানেই দেখতে পেয়েছি। এমনকি জান্নাত ও জাহান্নামও। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা আমার নিকট ওয়াহী প্রেরণ করলেন, ‘দাজ্জালের ন্যায় (কঠিন) পরীক্ষা অথবা তাঁর কাছাকাছি বিপদ দিয়ে তোমাদেরকে কবরে পরীক্ষায় ফেলা হবে।’

ফাতিমা (রাজিআল্লাহু আনহা) বলেন, আসমা (রাজিআল্লাহু আনহা) مِثْلُ (অনুরুপ) শব্দ বলেছিলেন, না قَرِيْبُ (কাছাকাছি) শব্দ, তা ঠিক আমার মনে নেই। (কবরের মধ্যে) বলা হবে, ‘এ ব্যাক্তি সম্পর্কে তুমি কী জান?’ তখন মু’মিন ব্যাক্তি বা মু’কিন (বিশ্বাসী) ব্যাক্তি [ফাতিমা (রাজিআল্লাহু আনহা) বলেন ] আসমা (রাজিআল্লাহু আনহা) এর কোন শব্দটি বলেছিলেন আমি জানিনা], বলবে, তিনি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম), তিনি আল্লাহর রসূল। আমাদের নিকট মু’জিযা ও হিদায়াত নিয়ে এসেছিলেন। আমরা তা গ্রহণ করেছিলাম এবং তাঁর ইততিবা’ করেছিলাম। তিনি মুহাম্মাদ।’ তিনবার এরূপ বলবে। তখন তাকে বলা হবে , আরামে ঘুমিয়ে থাক, আমরা জানতে পারলাম যে, তুমি (দুনিয়ায়) তাঁর উপর বিশ্বাসী ছিলে। আর মুনাফিক অথবা মুরতাব (সন্দেহ পোষণকারী) ফাতিমা বলেন, আসমা কোনটি বলেছিলেন, আমি ঠিক মনে করতে পারছি না- বলবে, আমি কিছুই জানি না। মানুষকে (তাঁর সম্পর্কে) যা বলতে শুনেছি , আমিও তাই বলেছি।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [১৮৪, ৯২২, ১০৫৩, ১০৫৪, ১০৬১, ১২৩৫, ১৩৭৩, ২৫১৯, ২৫২০, ৭২৮৭; মুসলিম ১০/২ হাঃ ৯০৫, আহমাদ ২৬৯৯১] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৬, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৮৬]

٦٦. ‌‌بَابُ تَحْرِيضِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَفْدَ عَبْدِ القَيْسِ عَلَى أَنْ يَحْفَظُوا الإِيمَانَ وَالعِلْمَ، وَيُخْبِرُوا مَنْ وَرَاءَهُمْ

وقَالَ مَالِكُ بْنُ الحُوَيْرِثِ: قَالَ لَنَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «ارْجِعُوا إِلَى أَهْلِيكُمْ فَعَلِّمُوهُمْ»

৬৬. পরিচ্ছেদ : আবদুল কায়স গোত্রের প্রতিনিধি দলকে ঈমান ও ইসলামের হিফাযত করা এবং পরবর্তীদেরকে তা অবহিত করার ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম-এর উৎসাহ দান।

মালিক ইব্‌নল হুওয়াইরিস (রহমাহুল্লাহ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম আমাদের বলেছিলেন, তোমরা তোমাদের কাওমের কাছে ফিরে যাও এবং তাদেরকে শিক্ষা দাও।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৮৭

হাদিসের মান: সহীহ

٨٧ – حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي جَمْرَةَ، قَالَ: كُنْتُ أُتَرْجِمُ بَيْنَ ابْنِ عَبَّاسٍ وَبَيْنَ النَّاسِ، فَقَالَ: إِنَّ وَفْدَ عَبْدِ القَيْسِ أَتَوُا النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «مَنِ الوَفْدُ أَوْ مَنِ القَوْمُ» قَالُوا: رَبِيعَةُ فَقَالَ: «مَرْحَبًا بِالقَوْمِ أَوْ بِالوَفْدِ، غَيْرَ خَزَايَا وَلَا نَدَامَى» قَالُوا: إِنَّا نَأْتِيكَ مِنْ شُقَّةٍ بَعِيدَةٍ، وَبَيْنَنَا وَبَيْنَكَ هَذَا الحَيُّ مِنْ كُفَّارِ مُضَرَ، وَلَا نَسْتَطِيعُ أَنْ نَأْتِيَكَ إِلَّا فِي شَهْرٍ حَرَامٍ، فَمُرْنَا بِأَمْرٍ نُخْبِرُ بِهِ مَنْ وَرَاءَنَا، نَدْخُلُ بِهِ الجَنَّةَ. فَأَمَرَهُمْ بِأَرْبَعٍ وَنَهَاهُمْ عَنْ أَرْبَعٍ: أَمَرَهُمْ بِالإِيمَانِ بِاللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ وَحْدَهُ، قَالَ: «هَلْ تَدْرُونَ مَا الإِيمَانُ بِاللَّهِ وَحْدَهُ؟» قَالُوا: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: «شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَإِقَامُ الصَّلَاةِ، وَإِيتَاءُ الزَّكَاةِ، وَصَوْمُ رَمَضَانَ، وَتُعْطُوا الخُمُسَ مِنَ المَغْنَمِ» وَنَهَاهُمْ عَنِ الدُّبَّاءِ وَالحَنْتَمِ وَالمُزَفَّتِ ” قَالَ شُعْبَةُ: رُبَّمَا قَالَ: «النَّقِيرِ» وَرُبَّمَا قَالَ: «المُقَيَّرِ» قَالَ: «احْفَظُوهُ وَأَخْبِرُوهُ مَنْ وَرَاءَكُمْ»

মুহাম্মাদ ইব্‌ন বাশ্‌শার আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: গুন্দার আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: শু‘উবাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন আবূ জামরাহ (রাজিআল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি বলেন, আমি ইব্‌ন ‘আব্বাস (রাজিআল্লাহু আনহু) ও লোকদের মধ্যে ভাষান্তরের কাজ করতাম। একদা ইব্‌ন ‘আব্বাস (রাজিআল্লাহু আনহু) বললেন , ‘আবদুল কায়স গোত্রের প্রতিনিধি দল নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর নিকট আসলে তিনি বললেনঃ তোমরা কোন প্রতিনিধি দল? অথবা বললেন তোমরা কোন গোত্রের? তাঁরা বললো রাবী‘আহ গোত্রের। তিনি বললেনঃ ‘স্বাগতম। এ গোত্রের প্রতি অথবা এ প্রতিনিধি দলের প্রতি, এরা কোনরূপ অপদস্থ ও লাঞ্ছিত না হয়েই এসেছে। তারা বলল, ‘আমরা বহু দূর হতে আপনার নিকট এসেছি। আর আমাদের ও আপনার মধ্যে রয়েছে কাফিরদের এই ‘মুযার’ গোত্রের বাস। আমরা নিষিদ্ধ মাস ব্যতীত আপনার নিকট আসতে সক্ষম নই। সুতরাং আমাদের এমন কিছু নির্দেশ দিন, যা আমাদের পশ্চাতে যারা রয়েছে তাদের নিকট পৌঁছাতে এবং তাঁর ওয়াসীলায় আমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারি।’ তখন তিনি তাদের চারটি কাজের নির্দেশ দিলেন এবং চারটি কাজ থেকে নিষেধ করলেন। তাদের এক আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপনের আদেশ করলেন। তিনি বললেনঃ এক আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপন কীরূপে হয় জান? তাঁরা বললঃ ‘আল্লাহ ও তাঁর রসূলই ভাল জানেন।’ তিনি বললেনঃ ‘তা হল এ সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রসূল, সালাত প্রতিষ্ঠা করা , যাকাত আদায় করা এবং রমযান-এর সিয়াম পালন করা আর তোমরা গনীমতের মাল থেকে এক-পঞ্চমাংশ দান করবে।’ আর তাদের নিষেধ করলেন শুকনো কদুর খোল, সবুজ কলস এবং আলকাতরা দ্বারা রঙ করা পাত্র ব্যবহার করতে। শু‘বা বলেন, কখনও (আবূ জামরা) খেজুর গাছ থেকে তৈরি পাত্রের কথাও বলেছেন আবার তিনি কখনও النَّقي -এর স্থলে المُقَيَّر বলেছেন। রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমরা এগুলো মনোযোগ সহকারে স্মরণ রাখ এবং তোমাদের পশ্চাতে যারা রয়েছে তাদের নিকট পৌঁছে দাও।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৭, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৮৭]

٦٨. ‌‌بَابُ الرِّحْلَةِ فِي المَسْأَلَةِ النَّازِلَةِ، وَتَعْلِيمِ أَهْلِهِ

৬৭. পরিচ্ছেদ : উদ্ভূত মাসআলার জন্য সফর করা এবং নিজের পরিজনদের শিক্ষা দেওয়া।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৮৮

হাদিসের মান: সহীহ

٨٨ – حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُقَاتِلٍ أَبُو الحَسَنِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ أَبِي حُسَيْنٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ الحَارِثِ، أَنَّهُ تَزَوَّجَ ابْنَةً لِأَبِي إِهَابِ بْنِ عُزَيْزٍ فَأَتَتْهُ امْرَأَةٌ فَقَالَتْ: إِنِّي قَدْ أَرْضَعْتُ عُقْبَةَ وَالَّتِي تَزَوَّجَ، فَقَالَ لَهَا عُقْبَةُ: مَا أَعْلَمُ أَنَّكِ أَرْضَعْتِنِي، وَلَا أَخْبَرْتِنِي، فَرَكِبَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْمَدِينَةِ فَسَأَلَهُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كَيْفَ وَقَدْ قِيلَ» فَفَارَقَهَا عُقْبَةُ، وَنَكَحَتْ زَوْجًا غَيْرَهُ

মুহাম্মাদ ইব্‌ন মুকাতিল আবুল হাসান আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: আব্দুল্লাহ আমাদেরকে সংবাদ দিলেন, তিনি বললেন: ‘উমার ইব্‌ন সা‘ঈদ ইব্‌ন আবূ হুসায়ন, তিনি বললেন: ‘আবদুল্লাহ ইব্‌ন আবূ মুলায়কাহ আমাকে আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ‘উক্ববাহ ইব্‌নল ‘হারিছ (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি আবূ ইহাব ইব্‌ন ‘আযীয (রাজিআল্লাহু আনহু) –এর কন্যাকে বিয়ে করলে তাঁর নিকট জনৈকা স্ত্রীলোক এসে বলল, আমি ‘ঊকবাহ (রাজিআল্লাহু আনহু) –কে এবং সে যাকে বিয়ে করেছে তাকে (আবূ ইহাবের কন্যাকে) দুধ পান করিয়েছি। ‘উকবাহ তাকে বললেন আমি জানি না তুমি আমাকে দুধ পান করিয়েছ, আর (ইতোপূর্বে) তুমি আমাকে একথা জানাও নি। অতঃপর তিনি মদীনায় আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট গেলেন এবং তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এ কথার পর তুমি কীভাবে তাঁর সঙ্গে সংসার করবে? অতঃপর ‘উকবাহ তাঁর স্ত্রীকে আলাদা করে দিলেন এবং মহিলা অন্য স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হল।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [২০৫২, ২৬৪০, ২৬৫৯, ২৬৬০, ৫১০৪] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৮, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৮৮]

٦٨. ‌‌بَابُ التَّنَاوُبِ فِي العِلْمِ

৬৮. পরিচ্ছেদ : পালাক্রমে ইলম শিক্ষা করা।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৮৯

হাদিসের মান: সহীহ

٨٩ – حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، ح قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: وَقَالَ ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنَا يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي ثَوْرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ عُمَرَ، قَالَ: كُنْتُ أَنَا وَجَارٌ لِي مِنَ الأَنْصَارِ فِي بَنِي أُمَيَّةَ بْنِ زَيْدٍ وَهِيَ مِنْ عَوَالِي المَدِينَةِ وَكُنَّا نَتَنَاوَبُ النُّزُولَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَنْزِلُ يَوْمًا وَأَنْزِلُ يَوْمًا، فَإِذَا نَزَلْتُ جِئْتُهُ بِخَبَرِ ذَلِكَ اليَوْمِ مِنَ الوَحْيِ وَغَيْرِهِ، وَإِذَا نَزَلَ فَعَلَ مِثْلَ ذَلِكَ، فَنَزَلَ صَاحِبِي الأَنْصَارِيُّ يَوْمَ نَوْبَتِهِ، فَضَرَبَ بَابِي ضَرْبًا شَدِيدًا، فَقَالَ: أَثَمَّ هُوَ؟ فَفَزِعْتُ فَخَرَجْتُ إِلَيْهِ، فَقَالَ: قَدْ حَدَثَ أَمْرٌ عَظِيمٌ. قَالَ: فَدَخَلْتُ عَلَى حَفْصَةَ فَإِذَا هِيَ تَبْكِي، فَقُلْتُ: طَلَّقَكُنَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قَالَتْ: لَا أَدْرِي، ثُمَّ دَخَلْتُ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ وَأَنَا قَائِمٌ: أَطَلَّقْتَ نِسَاءَكَ؟ قَالَ: «لَا» فَقُلْتُ: اللَّهُ أَكْبَرُ

‘আবুল ইয়ামান আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: শু‘আয়ব আমাদেরকে সংবাদ দিলেন যুহুরী থেকে, (অন্য এক বর্ণনার সনদ) আবু আব্দুল্লাহ ও ইব্‌ন ওহা্‌ব বললেন, ইউনুস আমাদেরকে খবর দিলেন শিহাব থেকে, তিনি ‘উবায়দুল্লাহ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ ইব্‌ন আবূ সাওরী থেকে, তিনি ‘আব্দুল্লাহ ইব্‌ন আব্বাস থেকে, তিনি উমার (রাজিআল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি বলেন: আমি ও আমার এক আনসারী প্রতিবেশী বনী উমাইয়া ইব্‌ন যায়দের মহল্লায় বাস করতাম। এ মহল্লাটি ছিল মদীনার উঁচু এলাকায় অবস্থিত। আমরা দু’জনে পালাক্রমে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত হতাম। তিনি একদিন আসতেন আর আমি একদিন আসতাম। আমি যেদিন আসতাম, সেদিনের ওয়াহী প্রভৃতির খবর নিয়ে তাঁকে পৌঁছে দিতাম। আর তিনি যেদিন আসতেন সেদিন তিনিও তাই করতেন। অতঃপর একদা আমার আনসারী সাথী তাঁর পালার দিন আসলেন এবং (সেখান থেকে ফিরে) আমার দরজায় খুব জোরে জোরে আঘাত করতে লাগলেন। (আমার নাম নিয়ে) বলতে লাগলেন, তিনি কি এখানে আছেন? আমি ঘাবড়ে গিয়ে তাঁর দিকে গেলাম। তিনি বললেন, এক বিরাট ঘটনা ঘটে গেছে [আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর স্ত্রীগণকে তালাক দিয়েছেন]। আমি তখনি (আমার কন্যা) হাফসা (রাজিআল্লাহু আনহা) এর নিকট গেলাম। তিনি তখন কাঁদছিলেন। আমি বললাম, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি তোমাদের তালাক দিয়ে দিয়েছেন? তিনি বললেন, ‘আমি জানি না।’ অতঃপর আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিকট গেলাম এবং দাঁড়িয়ে থেকেই বললাম: আপনি কি আপনার স্ত্রীদের তালাক দিয়েছেন? জবাবে তিনি বললেন: ‘না।’ আমি তখন বললাম ‘আল্লাহ আকবর’।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [২৪৬৮, ৪৯১৩, ৪৯১৫, ৫১৯১, ৫২১৮, ৫৮৪৩, ৭২৫৬, ৭২৬৩] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৯, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৮৯]

٦٩. ‌‌بَابُ الغَضَبِ فِي المَوْعِظَةِ وَالتَّعْلِيمِ ، إِذَا رَأَى مَا يَكْرَهُ

৬৯. পরিচ্ছেদ : অপছন্দনীয় কিছু দেখলে ওয়ায-নসীহত বা শিক্ষাদানের সময় রাগ করা-

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯০

হাদিসের মান: সহীহ

٩٠ – حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الأَنْصَارِيِّ قَالَ: قَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ، لَا أَكَادُ أُدْرِكُ الصَّلَاةَ مِمَّا يُطَوِّلُ بِنَا فُلَانٌ، فَمَا رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي مَوْعِظَةٍ أَشَدَّ غَضَبًا مِنْ يَوْمِئِذٍ، فَقَالَ: «أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّكُمْ مُنَفِّرُونَ، فَمَنْ صَلَّى بِالنَّاسِ فَلْيُخَفِّفْ، فَإِنَّ فِيهِمُ المَرِيضَ، وَالضَّعِيفَ، وَذَا الحَاجَةِ»

মু‘হাম্মাদ ইব্‌ন কাসীর আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: সুফইয়ান আমাদেরকে হাদীসটি সংবাদ দিলেন ইব্‌ন আবূ খালিদ থেকে, তিনি ক্বায়স ইব্‌ন আবূ ‘হাযিম থেকে, তিনি আবূ মাস’উদ আনসারী (রাজিআল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি বলেন, একদা জনৈক ব্যাক্তি বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল ! আমি সালাতে (জামা’আতে) শামিল হতে পারি না। কারণ অমুক ব্যাক্তি আমাদের নিয়ে খুব দীর্ঘ সালাত আদায় করেন। [আবূ মাস’উদ (রাজিআল্লাহু আনহু) বলেন,] আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কোন নাসীহাতের মজলিসে সেদিনের তুলনায় অধিক রাগান্বিত হতে দেখিনি। (রাগত স্বরে) তিনি বললেনঃ হে লোক সকল! তোমরা মানুষের মধ্যে বিরক্তির সৃষ্টি কর। অতএব যে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করবে সে যেন সংক্ষেপ করে। কারণ তাঁদের মধ্যে রোগী , দুর্বল ও কর্মব্যস্ত লোকও থাকে।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [৭০২, ৭০৪, ৬১১০, ৭১৫৯] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯০, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৯০]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯১

হাদিসের মান: সহীহ

٩١ – حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ المَلِكِ بْنُ عَمْرٍو العَقَدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلَالٍ المَدِينِيُّ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ يَزِيدَ مَوْلَى المُنْبَعِثِ عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الجُهَنِيِّ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَأَلَهُ رَجُلٌ عَنِ اللُّقَطَةِ، فَقَالَ: «اعْرِفْ وِكَاءَهَا، أَوْ قَالَ وِعَاءَهَا، وَعِفَاصَهَا، ثُمَّ عَرِّفْهَا سَنَةً، ثُمَّ اسْتَمْتِعْ بِهَا، فَإِنْ جَاءَ رَبُّهَا فَأَدِّهَا إِلَيْهِ» قَالَ: فَضَالَّةُ الإِبِلِ؟ فَغَضِبَ حَتَّى احْمَرَّتْ وَجْنَتَاهُ، أَوْ قَالَ احْمَرَّ وَجْهُهُ، فَقَالَ: «وَمَا لَكَ وَلَهَا، مَعَهَا سِقَاؤُهَا وَحِذَاؤُهَا، تَرِدُ المَاءَ وَتَرْعَى الشَّجَرَ، فَذَرْهَا حَتَّى يَلْقَاهَا رَبُّهَا» قَالَ: فَضَالَّةُ الغَنَمِ؟ قَالَ: «لَكَ، أَوْ لِأَخِيكَ، أَوْ لِلذِّئْبِ»

‘আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌ন মু‘হাম্মাদ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ‘আব্দুল মালিক ইব্‌ন ‘আমর আক্বাদী আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: সুলাইমান ইব্‌ন বিলাল মাদানী আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন রাবীয়া ইব্‌ন ‘আব্দির রহমান থেকে, তিনি মুন্‌বা‘ইছ-এর স্বাধীন করা গুলাম ইয়াযীদ থেকে, তিনি যায়দ ইব্‌ন খালিদ-জুহানী (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বললেন: জনৈক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- কে কুড়িয়ে পাওয়া জিনিস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন: তাঁর বাঁধনের রশি অথবা বললেন, থলে-ঝুলি ভাল করে চিনে রাখ। অতঃপর এক বছর পর্যন্ত তার ঘোষণা দিতে থাক। তারপর (মালিক পাওয়া না গেলে) তুমি তা ব্যবহার কর। অতঃপর যদি এর প্রাপক আসে তবে তাকে তা দিয়ে দেবে। সে বলল, ‘হারানো উটের ব্যাপারে কী করতে হবে?’ এ কথা শুনে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমন রাগ করলেন যে, তাঁর গাল দু’টো লাল হয়ে গেল। অথবা বর্ণণাকারী বলেন, তাঁর মুখমন্ডল লাল হয়ে গেল। তিনি বললেনঃ ‘উট নিয়ে তোমার কী হয়েছে? তার তো আছে পানির মশক ও শক্ত পা। পানির নিকট যেতে পারে এবং গাছ খেতে পারে। কাজেই তাকে ছেড়ে দাও এমন সময়ের মধ্যে তার মালিক তাকে পেয়ে যাবে।’ সে বলল, “হারানো ছাগল পাওয়া গেলে?” তিনি বললেন, “সেটি তোমার হবে, না হলে তোমার ভাইয়ের, না হলে বাঘের”।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [২৩৭২, ২৪২৭, ২৪২৮, ২৪২৯, ২৪৩৬, ২৪৩৮, ৫২৯২, ৬১১২] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯১, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৯১]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯২

হাদিসের মান: সহীহ

٩٢ – حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ العَلَاءِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ بُرَيْدٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ: سُئِلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ أَشْيَاءَ كَرِهَهَا، فَلَمَّا أُكْثِرَ عَلَيْهِ غَضِبَ، ثُمَّ قَالَ لِلنَّاسِ: «سَلُونِي عَمَّا شِئْتُمْ» قَالَ رَجُلٌ: مَنْ أَبِي؟ قَالَ: «أَبُوكَ حُذَافَةُ» فَقَامَ آخَرُ فَقَالَ: مَنْ أَبِي يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ فَقَالَ: «أَبُوكَ سَالِمٌ مَوْلَى شَيْبَةَ» فَلَمَّا رَأَى عُمَرُ مَا فِي وَجْهِهِ قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّا نَتُوبُ إِلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ

মু‘হাম্মাদ ইব্‌ন ‘আলা আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: আবূ উসামাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন বুরায়দ থেকে, তিনি আবূ বুরদাহ থেকে, তিনি আবূ মূসা (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বলেন: একদা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কয়েকটি অপছন্দনীয় বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। প্রশ্নের সংখ্যা অধিক হয়ে যাওয়ায় তখন তিনি রেগে গিয়ে লোকদেরকে বললেনঃ “তোমরা আমার নিকট যা ইচ্ছা প্রশ্ন কর”। জনৈক ব্যাক্তি বলল, “আমার পিতা কে?” তিনি বললেনঃ “তোমার পিতা হুযাফাহ”। আর এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, “হে আল্লাহর রসূল ! আমার পিতা কে?” তিনি বললেনঃ “তোমার পিতা হল শায়বার দাস সালিম”। তখন ‘উমার (রাজিআল্লাহু আনহু) আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর চেহারার অবস্থা দেখে বললেন: “হে আল্লাহর রসূল ! আমরা মহিমান্বিত আল্লাহর নিকট তাওবাহ করছি”।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [৭২৯১; মুসলিম ৪৩/৩৭ হাঃ ২৩৬০] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯২, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৯২]

٧٠. ‌‌بَابُ مَنْ بَرَكَ عَلَى رُكْبَتَيْهِ عِنْدَ الإِمَامِ أَوِ المُحَدِّثِ

৭০. পরিচ্ছেদ : ইমাম বা মুহাদ্দিসের সামনে হাঁটু গেড়ে বসা।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯৩

হাদিসের মান: সহীহ

٩٣ – حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ، فَقَامَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ حُذَافَةَ فَقَالَ: مَنْ أَبِي؟ فَقَالَ: «أَبُوكَ حُذَافَةُ» ثُمَّ أَكْثَرَ أَنْ يَقُولَ: «سَلُونِي» فَبَرَكَ عُمَرُ عَلَى رُكْبَتَيْهِ فَقَالَ: رَضِينَا بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالإِسْلَامِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَبِيًّا فَسَكَتَ

আবুল ইয়ামান আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: শু‘আয়ব আমাদেরকে হাদীসটি সংবাদ দিলেন যুহরী থেকে, তিনি বললেন: আনাস ইব্‌ন মালিক (রাজিআল্লাহু আনহু) আমাকে হাদীসটি সংবাদ দিলেন, তিনি বললেন: একদা আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বের হলেন। তখন ‘আবদুল্লাহ ইব্‌ন হুযাফাহ দাঁড়িয়ে বললেন, “আমার পিতা কে?” তিনি বললেনঃ “তোমার পিতা হুযাফাহ”। অতঃপর তিনি বারবার বলতে লাগলেন, “তোমরা আমাকে প্রশ্ন কর”। ‘উমার (রাজিআল্লাহু আনহু) তখন জানু পেতে বসে বললেন, “আমরা আল্লাহকে প্রতিপালক হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে নবী হিসেবে সন্তুষ্ট চিত্তে গ্রহণ করে নিয়েছি”। তিনি এ কথা তিনবার বললেন। এতে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নীরব হলেন।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [৫৪০, ৭৪৯, ৪৬২১, ৬৩৬২, ৬৪৬৮, ৬৪৮৬, ৭০৮৯, ৭০৯০, ৭০৯১, ৭২৯৪, ৭২৯৫; মুসলিম ৪৩/৩৭ হাঃ ২৩৫৯, আহমাদ ১২৬৫৯] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৩, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৯৩]

٧١. بَابُ مَنْ أَعَادَ الحَدِيثَ ثَلَاثًا لِيُفْهَمَ عَنْهُ

فَقَالَ: «أَلَا وَقَوْلُ الزُّورِ» فَمَا زَالَ يُكَرِّرُهَا وَقَالَ: ابْنُ عُمَرَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هَلْ بَلَّغْتُ ثَلَاثًا؟»

৭১. পরিচ্ছেদ : ভালভাবে বুঝার জন্য কোন কথা তিনবার বলা,

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম বলেন, ‘মিথ্যা কথা থেকে সাবধান!’ এ কথাটি তিনি বারবার বলতে লাগলেন। ইব্‌ন ‘উমর (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম (বিদায় হজ্জে) বলেছেন, আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? একথা তিনি তিনবার বলেছেন।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯৪

হাদিসের মান: সহীহ

٩٤ – حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ المُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا ثُمَامَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ كَانَ «إِذَا سَلَّمَ سَلَّمَ ثَلَاثًا، وَإِذَا تَكَلَّمَ بِكَلِمَةٍ أَعَادَهَا ثَلَاثًا»

‘আবদাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ‘আব্দুস স্বামাদ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ‘আব্দুল্লাহ ইব্‌ন মুছান্না আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ছুমামাহ ইব্‌ন ‘আব্দুল্লাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন আনাস (রাজিআল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি বললেন: নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন সালাম দিতেন, তিনবার সালাম দিতেন। আর যখন কোন কথা বলতেন তখন তা তিনবার বলতেন।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [৯৫, ৬২৪৪] [আধুনিক প্রকাশনীঃ নাই, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৯৪]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯৫

হাদিসের মান: সহীহ

٩٥ – حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الصَّفَارُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ المُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا ثُمَامَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ كَانَ «إِذَا تَكَلَّمَ بِكَلِمَةٍ أَعَادَهَا ثَلَاثًا، حَتَّى تُفْهَمَ عَنْهُ، وَإِذَا أَتَى عَلَى قَوْمٍ فَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ، سَلَّمَ عَلَيْهِمْ ثَلَاثًا»

‘আবদাহ ইব্‌ন ‘আব্দিল্লাহিস্‌ স্বাফার হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: আব্দুস স্বামাদ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ‘আব্দুল্লাহ ইব্‌ন মুছান্না হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ছুমামাহ ইব্‌ন ‘আব্দুল্লাহ হাদীস বর্ণনা করলেন আনাস (রাজিআল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে, নিশ্চয় তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন কোন কথা বলতেন তখন তা বুঝে নেয়ার জন্য তিনবার বলতেন। আর যখন তিনি কোন গোত্রের নিকট এসে সালাম দিতেন, তাদের প্রতি তিনবার সালাম দিতেন।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [৯৪] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৪, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৯৫]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯৬

হাদিসের মান: সহীহ

٩٦ – حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ مَاهَكَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: تَخَلَّفَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ سَافَرْنَاهُ، فَأَدْرَكَنَا وَقَدْ أَرْهَقْنَا الصَّلَاةَ، صَلَاةَ العَصْرِ، وَنَحْنُ نَتَوَضَّأُ، فَجَعَلْنَا نَمْسَحُ عَلَى أَرْجُلِنَا فَنَادَى بِأَعْلَى صَوْتِهِ «وَيْلٌ لِلْأَعْقَابِ مِنَ النَّارِ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا»

মুসাদ্দাদ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: আবূ ‘আওয়ানাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন আবূ বিশর থেকে, তিনি ইউসুফ ইব্‌ন মাহাক থেকে, তিনি ‘আবদুল্লাহ ইব্‌ন ‘আমর (রাজিআল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি বলেন: কোন এক সফরে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের পিছনে পড়ে গেলেন। পরে তিনি আমাদের নিকট পৌছলেন, এদিকে আমরা (আসরের) সালাত আদায় করতে বিলম্ব করে ফেলেছিলাম এবং আমরা উযূ করছিলাম। আমরা আমাদের পা কোনমতে পানি দ্বারা ভিজিয়ে নিচ্ছিলাম। তিনি উচ্চৈস্বঃরে বললেনঃ পায়ের গোড়ালিগুলোর (শুকনো থাকার) জন্য জাহান্নামের ‘আযাব রয়েছে। তিনি দু’বার বা তিনবার এ কথা বললেন।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [৬০] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৫, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৯৬]

٧٢. ‌‌بَابُ تَعْلِيمِ الرَّجُلِ أَمَتَهُ وَأَهْلَهُ

৭২. পরিচ্ছেদ : আপন দাসী ও পরিবারবর্গকে শিক্ষা দান।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯৭

হাদিসের মান: সহীহ

٩٧ – أَخْبَرَنَا مُحَمَّدٌ هُوَ ابْنُ سَلَامٍ، حَدَّثَنَا المُحَارِبِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا صَالِحُ بْنُ حَيَّانَ، قَالَ: قَالَ عَامِرٌ الشَّعْبِيُّ: حَدَّثَنِي أَبُو بُرْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ” ثَلَاثَةٌ لَهُمْ أَجْرَانِ: رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الكِتَابِ، آمَنَ بِنَبِيِّهِ وَآمَنَ بِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَالعَبْدُ المَمْلُوكُ إِذَا أَدَّى حَقَّ اللَّهِ وَحَقَّ مَوَالِيهِ، وَرَجُلٌ كَانَتْ عِنْدَهُ أَمَةٌ فَأَدَّبَهَا فَأَحْسَنَ تَأْدِيبَهَا، وَعَلَّمَهَا فَأَحْسَنَ تَعْلِيمَهَا، ثُمَّ أَعْتَقَهَا فَتَزَوَّجَهَا فَلَهُ أَجْرَانِ “، ثُمَّ قَالَ عَامِرٌ: أَعْطَيْنَاكَهَا بِغَيْرِ شَيْءٍ، قَدْ كَانَ يُرْكَبُ فِيمَا دُونَهَا إِلَى المَدِينَةِ

মু‘হাম্মাদ, তিনি সালামের পুত্র ছিলেন আমাদেরকে হাদীসটি সংবাদ দিলেন, তিনি বললেন: মু‘হারীব আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: স্বালি‘হ ইব্‌ন ‘হাইয়ানা আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ‘আমির শা’বী বললেন: আবূ বুরদাহ (রাজিআল্লাহু আনহু) আমাকে হাদীস বর্ণনা করলেন তাঁর পিতা থেকে, তিনি বললেন: আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: তিন ধরনের লোকের জন্য দুটি সওয়াব রয়েছেঃ (১) আহলে কিতাব- যে ব্যাক্তি তার নবীর উপর ঈমান এনেছে এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপরও ঈমান এনেছে। (২) যে ক্রীতদাস আল্লাহর হক আদায় করে এবং তাঁর মালিকের হকও (আদায় করে)। (৩) যার বাঁদী ছিল, যার সাথে সে মিলিত হত। তারপর তাঁকে সে সুন্দরভাবে আদাব-কায়দা শিক্ষা দিয়েছে এবং ভালভাবে দ্বীনী ইলম শিক্ষা দিয়েছে, অতঃপর তাঁকে আযাদ করে বিয়ে করেছে; তাঁর জন্য দু’টি সওয়াব রয়েছে। অতঃপর হাদীস বর্ণনাকারী ‘আমির (রহমাহুল্লাহ) (তাঁর ছাত্রকে) বলেন, তোমাকে কোন কিছুর বিনিময় ব্যতীতই হাদীসটি শিক্ষা দিলাম, অথচ পূর্বে এর চেয়ে ছোট হাদীসের জন্যও লোকেরা (দূর-দূরান্ত থেকে) সওয়ার হয়ে মদীনায় আসত।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [২৫৪৪, ২৫৪৭, ২৫৫১, ৩০১১, ৩৪৪৬, ৫০৮৩; মুসলিম ১/৭০ হাঃ ১৫৪, আহমাদ ১৯৭৩২] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৬, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৯৭]

٧٣. ‌‌بَابُ عِظَةِ الإِمَامِ النِّسَاءَ وَتَعْلِيمِهِنَّ

৭৩. পরিচ্ছেদ : আলিম কর্তৃক মহিলাদের নসীহত করা ও দীনী ইলম শিক্ষা দেওয়া-

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯৮

হাদিসের মান: সহীহ

٩٨ – حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَيُّوبَ، قَالَ: سَمِعْتُ عَطَاءً، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ، قَالَ: أَشْهَدُ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – أَوْ قَالَ عَطَاءٌ: أَشْهَدُ عَلَى ابْنِ عَبَّاسٍ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – «خَرَجَ وَمَعَهُ بِلَالٌ، فَظَنَّ أَنَّهُ لَمْ يُسْمِعْ فَوَعَظَهُنَّ وَأَمَرَهُنَّ بِالصَّدَقَةِ، فَجَعَلَتِ المَرْأَةُ تُلْقِي القُرْطَ وَالخَاتَمَ، وَبِلَالٌ يَأْخُذُ فِي طَرَفِ ثَوْبِهِ» قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: وَقَالَ: إِسْمَاعِيلُ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ عَطَاءٍ، وَقَالَ: عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَشْهَدُ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

সুলায়মান ইব্‌ন হারব আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: শু’বাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন আয়য়ূব থেকে, তিনি বললেন: আমি ‘আত্বা থেকে শুনেছি, তিনি বললেন: আমি ইব্‌ন ‘আব্বাস (রাজিআল্লাহু আনহু) থেকে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে সাক্ষী রেখে বলছি, কিংবা পরবর্তী হাদীস বর্ণনাকারী ‘আতা (রহমাহুল্লাহ) বলেন, আমি ইব্‌ন ‘আব্বাসকে সাক্ষী রেখে বলছি যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (ঈদের দিন পুরুষের কাতার থেকে) বের হলেন আর তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিলাল (রাজিআল্লাহু আনহু)। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ধারণা করলেন যে, দূরে থাকার জন্য তাঁর নাসীহাত মহিলাদের নিকট পৌছেনি। ফলে তিনি তাঁদের নাসীহাত করলেন এবং দান-খায়রাত করার উপদেশ দিলেন। তখন মহিলারা কানের দুল ও হাতের আংটি দান করতে লাগলেন। আর বিলাল (রাজিআল্লাহু আনহু) সেগুলো তাঁর কাপড়ের প্রান্তে গ্রহণ করতে লাগলেন। ইসমা‘ঈল (রহমাহুল্লাহ) ‘আতা (রহমাহুল্লাহ) সূত্রে বলেন যে, ইব্‌ন ‘আব্বাস (রাজিআল্লাহু আনহু) বলেনঃ আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- কে সাক্ষী রেখে বলছি।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [৮৬৩, ৯৬২, ৯৬৪, ৯৭৫, ৯৭৭, ৯৭৯, ৯৮৯, ১৪৩১, ১৪৪৯, ৪৮৯৫, ৫২৪৯, ৫৮৮০, ৫৮৮১, ৫৮৮৩, ৭৩২৫; মুসলিম ৮/১ হাঃ ৮৮৪, আহমাদ ৩০৬৪] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৭, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৯৮]

٧٤. ‌‌بَابُ الحِرْصِ عَلَى الحَدِيثِ

৭৪. পরিচ্ছেদ : হাদীসের প্রতি আগ্রহ।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯৯

হাদিসের মান: সহীহ

٩٩ – حَدَّثَنَا عَبْدُ العَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَبِي عَمْرٍو، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ المَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّهُ قَالَ: قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ أَسْعَدُ النَّاسِ بِشَفَاعَتِكَ يَوْمَ القِيَامَةِ؟ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَقَدْ ظَنَنْتُ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ أَنْ لَا يَسْأَلُنِي عَنْ هَذَا الحَدِيثِ أَحَدٌ أَوَّلُ مِنْكَ لِمَا رَأَيْتُ مِنْ حِرْصِكَ عَلَى الحَدِيثِ أَسْعَدُ النَّاسِ بِشَفَاعَتِي يَوْمَ القِيَامَةِ، مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، خَالِصًا مِنْ قَلْبِهِ، أَوْ نَفْسِهِ»

আবদুল ‘আযীয ইব্‌ন আবদুল্লাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: সুলাইমান আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ‘আমর ইব্‌ন আবূ আমর থেকে, তিনি সা‘ঈদ ইব্‌ন আবূ সা‘ঈদ মাক্ববুরী থেকে, তিনি আবূ হুরায়রা (রাজিআল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি বলেনঃ একদা আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) – কে প্রশ্ন করা হলঃ হে আল্লাহর রসূল! কিয়ামতের দিন আপনার সুপারিশ লাভের ব্যাপারে কে সবচেয়ে অধিক সৌভাগ্যবান হবে? আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আবূ হুরায়রা! আমি মনে করেছিলাম, এ বিষয়ে তোমার পূর্বে আমাকে আর কেউ জিজ্ঞেস করবে না। কেননা আমি দেখেছি হাদীসের প্রতি তোমার বিশেষ লোভ রয়েছে। কিয়ামতের দিন আমার শাফা’আত লাভে সবচেয়ে সৌভাগ্যবান হবে সেই ব্যাক্তি যে একনিষ্ঠচিত্তে (لآ إِلَهَلا إله إلا الله) (আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই) বলে।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [৬৫৭০] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৮, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৯৯]

٧٥. ‌‌بَابٌ: كَيْفَ يُقْبَضُ العِلْمُ

وَكَتَبَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ العَزِيزِ إِلَى أَبِي بَكْرِ بْنِ حَزْمٍ: انْظُرْ مَا كَانَ مِنْ حَدِيثِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاكْتُبْهُ، فَإِنِّي خِفْتُ دُرُوسَ العِلْمِ وَذَهَابَ العُلَمَاءِ، وَلَا تَقْبَلْ إِلَّا حَدِيثَ النَّبِيِّ صلّى الله عليه وسلم: «وَلْتُفْشُوا العِلْمَ، وَلْتَجْلِسُوا حَتَّى يُعَلَّمَ مَنْ لَا يَعْلَمُ، فَإِنَّ العِلْمَ لَا يَهْلِكُ حَتَّى يَكُونَ سِرًّا» حَدَّثَنَا العَلَاءُ بْنُ عَبْدِ الجَبَّارِ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ العَزِيزِ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ: بِذَلِكَ، يَعْنِي حَدِيثَ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ العَزِيزِ، إِلَى قَوْلِهِ: ذَهَابَ العُلَمَاءِ

৭৫. পরিচ্ছেদ : কিভাবে ‘ইলম তুলে নেয়া হবে।

‘উমর ইব্‌ন আবদুল ‘আযীয মদীনায় আবূ বকর ইব্‌ন হাযম -এর কাছে এক পত্রে লিখেনঃ খোঁজ কর, রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম-এর যে হাদীস পাও তা লিখে নাও। আমি ইল্‌ম লোপ পাওয়ার এবং আলিমদের বিদায় নেওয়ার আশংকা করছি এবং জেনে রাখ, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদীস ছাড়া আর কিছুই গ্রহণ করা হবে না এবং প্রত্যেকের উচিত ইলমের প্রচার-প্রসার করা, আর তারা যেন একত্রে বসে (ইলমের চর্চা করে), যে জানে না সে শিক্ষা লাভ করতে পারে। কারণ ইলম গোপনীয় বিষয় না হওয়া পর্যন্ত বিলুপ্ত হবে না।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১০০

হাদিসের মান: সহীহ

١٠٠ – حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي أُوَيْسٍ، قَالَ : حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ العَاصِ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّ اللَّهَ لَا يَقْبِضُ العِلْمَ انْتِزَاعًا يَنْتَزِعُهُ مِنَ العِبَادِ، وَلَكِنْ يَقْبِضُ العِلْمَ بِقَبْضِ العُلَمَاءِ، حَتَّى إِذَا لَمْ يُبْقِ عَالِمًا اتَّخَذَ النَّاسُ رُءُوسًا جُهَّالًا، فَسُئِلُوا فَأَفْتَوْا بِغَيْرِ عِلْمٍ، فَضَلُّوا وَأَضَلُّوا» قَالَ الفِرَبْرِيُّ: حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ هِشَامٍ نَحْوَهُ

ইসমা‘ঈল ইব্‌ন ‘আবূ উয়ায়স্‌ আমাদেরকে হাদীস বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: মালিক আমাকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন হিশাম ইব্‌ন ‘উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ‘আবদুল্লাহ ইব্‌ন ‘আমর ইব্‌নল ‘আস (রাজিআল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের অন্তর থেকে ‘ইলম উঠিয়ে নেন না, কিন্তু দ্বীনের আলিমদের উঠিয়ে নেয়ার ভয় করি। যখন কোন আলিম অবশিষ্ট থাকবে না তখন লোকেরা মূর্খদেরকেই নেতা বানিয়ে নিবে। তাঁদের জিজ্ঞেসা করা হলে না জানলেও ফতোয়া প্রদান করবে। ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে, এবং অন্যকেও পথভ্রষ্ট করবে। ফিরাবরী বলেন: আব্বাস রাজিআল্লাহু ‘আনহু হাদীস বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ক্বুতায়বাহ হাদীস বর্ণনা করলেন, জরীর হিশামের নিকট হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [৭৩০৭; মুসলিম ৪৭/৪, হাঃ ২৬৭৩, আহমাদ ৬৫২১] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৯, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১০১]

٧٦. ‌‌بَابٌ: هَلْ يُجْعَلُ لِلنِّسَاءِ يَوْمٌ عَلَى حِدَةٍ فِي العِلْمِ؟

৭৬. পরিচ্ছেদ : ইল্‌ম শিক্ষার জন্য মহিলাদের ব্যাপারে কি আলাদা দিন নির্ধারণ করা যায়?

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১০১

হাদিসের মান: সহীহ

١٠١ – حَدَّثَنَا آدَمُ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ: حَدَّثَنِي ابْنُ الأَصْبَهَانِيِّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا صَالِحٍ ذَكْوَانَ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الخُدْرِيِّ قَالَتِ النِّسَاءُ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: غَلَبَنَا عَلَيْكَ الرِّجَالُ، فَاجْعَلْ لَنَا يَوْمًا مِنْ نَفْسِكَ، فَوَعَدَهُنَّ يَوْمًا لَقِيَهُنَّ فِيهِ، فَوَعَظَهُنَّ وَأَمَرَهُنَّ، فَكَانَ فِيمَا قَالَ لَهُنَّ: «مَا مِنْكُنَّ امْرَأَةٌ تُقَدِّمُ ثَلَاثَةً مِنْ وَلَدِهَا، إِلَّا كَانَ لَهَا حِجَابًا مِنَ النَّارِ» فَقَالَتِ امْرَأَةٌ: وَاثْنَتَيْنِ؟ فَقَالَ: «وَاثْنَتَيْنِ»

আদম আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: শু’বাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ইব্‌ন আস্ববাহানী আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: আবূ সালিহ যাকওয়ান থেকে আমি শুনেছি, তিনি আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাজিআল্লাহু আনহু) থেকে আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নারীরা একদা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বললেন, পুরুষেরা আপনার নিকট আমাদের চেয়ে প্রাধান্য বিস্তার করে আছে। তাই আপনি নিজে আমাদের জন্য একটি দিন নির্ধারিত করে দিন। তিনি তাদের বিশেষ একটি দিনের অঙ্গীকার করলেন; সে দিন তিনি তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন এবং তাদের নাসীহাত করলেন ও নির্দেশ দিলেন। তিনি তাদের যা যা বলেছিলেন, তাঁর মধ্যে একথাও ছিল যে, তোমাদের মধ্যে যে স্ত্রীলোক তিনটি সন্তান পূর্বেই পাঠাবে , তারা তার জন্য জাহান্নামের প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াবে। তখন জনৈক স্ত্রীলোক বলল , আর দু’টি পাঠালে? তিনি বললেনঃ দু’টি পাঠালেও।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [১২৪৯,৭৩১০; মুসলিম ৪৫/৪৭, হাঃ ২৬৩৩, আহমাদ ১১২৯৬] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০০, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১০২]

ফুটনোটঃ
১. তার জীবিতাবস্থায় তিনটি সন্তান মারা গেলে।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১০২

হাদিসের মান: সহীহ

١٠٢ – حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الأَصْبَهَانِيِّ، عَنْ ذَكْوَانَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الخُدْرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِهَذَا وَعَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الأَصْبَهَانِيِّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: «ثَلَاثَةً لَمْ يَبْلُغُوا الحِنْثَ»

মুহাম্মাদ ইব্‌ন বাশ্‌শার আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: গুন্দার আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: শু’বাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ‘আব্দুর র‘হমান ইব্‌ন আস্ববাহানী থেকে, তিনি যাকওয়ান থেকে, তিনি আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। এবং আবদুর রহমান আল-আসবাহানী (রহমাহুল্লাহ) থেকে, তিনি বললেন: আমি আবূ হাযিম থেকে শুনেছি, তিনি আবূ হুরায়রা (রাজিআল্লাহু আনহু) থেকে। তিনি বলেন: এমন “তিনজন , যারা সাবালকত্বে পৌছেনি”।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [১২৫০ দ্রষ্টব্য] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০০ শেষাংশ, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১০৩]

٧٧. ‌‌بَابُ مَنْ سَمِعَ شَيْئًا فَلَمْ يَفْهَمْهُ فَرَاجَعَ فِيهِ حَتَّى يَعْرِفَهُ

৭৭. পরিচ্ছেদ : কোন কথা শুনে না বুঝলে জানার জন্য পুনরায় জিজ্ঞাসা করা।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১০৩

হাদিসের মান: সহীহ

١٠٣ – حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا نَافِعُ بْنُ عُمَرَ، قَالَ: حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ، أَنَّ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: كَانَتْ لَا تَسْمَعُ شَيْئًا لَا تَعْرِفُهُ، إِلَّا رَاجَعَتْ فِيهِ حَتَّى تَعْرِفَهُ، وَأَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ حُوسِبَ عُذِّبَ» قَالَتْ عَائِشَةُ: فَقُلْتُ أَوَلَيْسَ يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى: {فَسَوْفَ يُحَاسَبُ حِسَابًا يَسِيرًا} [الانشقاق: ٨] قَالَتْ: فَقَالَ: ” إِنَّمَا ذَلِكِ العَرْضُ، وَلَكِنْ: مَنْ نُوقِشَ الحِسَابَ يَهْلِكْ “

সা‘ঈদ ইব্‌ন আবূ মারইয়াম আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: নাফি’ ইব্‌ন ‘উমার আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ইব্‌ন আবূ মুলাইকা (রাজিআল্লাহু আনহু) আমাকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর স্ত্রী ‘আয়িশা (রাজিআল্লাহু আনহা) কোন কথা শুনে না বুঝলে বার বার প্রশ্ন করতেন। একদা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “(কিয়ামতের দিন ) যার কাছ থেকে হিসেব নেয়া হবে তাঁকে শাস্তি দেয়া হবে।” ‘আয়িশা (রাজিআল্লাহু আনহা) বললেন: আমি জিজ্ঞেস করলাম আল্লাহ তা‘আলা কি ইরশাদ করেননি, ‏‏فَسَوۡفَ يُحَاسَبُ حِسَابًا يَّسِيرًا‏ “তার হিসাব নিকাশ সহজেই নেয়া হবে” (সূরা ইনশিক্বাক, ৮৪:৮)। তখন তিনি বললেন: তা কেবল হিসেব প্রকাশ করা। কিন্তু যারা হিসাব পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে নেয়া হবে সে ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [৪৯৩৯, ৬৫৩৬, ৬৫৩৭; মুসলিম ৫১/১৮, হাঃ ২৮৭৬, আহমাদ ২৪২৫৫] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০১, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১০৪]

٧٨. ‌‌بَابٌ: لِيُبَلِّغِ العِلْمَ الشَّاهِدُ الغَائِبَ

قَالَهُ ابْنُ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

৭৮. পরিচ্ছেদ : উপস্থিত ব্যক্তি অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে ইল্‌ম পৌঁছে দেবে

ইব্‌ন আব্বাস (রা) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে তা আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১০৪

হাদিসের মান: সহীহ

١٠٤ – حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ: حَدَّثَنِي اللَّيْثُ، قَالَ: حَدَّثَنِي سَعِيدٌ هُوَ ابْنُ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي شُرَيْحٍ، أَنَّهُ قَالَ لِعَمْرِو بْنِ سَعِيدٍ: – وَهُوَ يَبْعَثُ البُعُوثَ إِلَى مَكَّةَ – ائْذَنْ لِي أَيُّهَا الأَمِيرُ، أُحَدِّثْكَ قَوْلًا قَامَ بِهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الغَدَ مِنْ يَوْمِ الفَتْحِ، سَمِعَتْهُ أُذُنَايَ وَوَعَاهُ قَلْبِي، وَأَبْصَرَتْهُ عَيْنَايَ حِينَ تَكَلَّمَ بِهِ: حَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: ” إِنَّ مَكَّةَ حَرَّمَهَا اللَّهُ، وَلَمْ يُحَرِّمْهَا النَّاسُ، فَلَا يَحِلُّ لِامْرِئٍ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَاليَوْمِ الآخِرِ أَنْ يَسْفِكَ بِهَا دَمًا، وَلَا يَعْضِدَ بِهَا شَجَرَةً، فَإِنْ أَحَدٌ تَرَخَّصَ لِقِتَالِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيهَا، فَقُولُوا: إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَذِنَ لِرَسُولِهِ وَلَمْ يَأْذَنْ لَكُمْ، وَإِنَّمَا أَذِنَ لِي فِيهَا سَاعَةً مِنْ نَهَارٍ، ثُمَّ عَادَتْ حُرْمَتُهَا اليَوْمَ كَحُرْمَتِهَا بِالأَمْسِ، وَلْيُبَلِّغِ الشَّاهِدُ الغَائِبَ ” فَقِيلَ لِأَبِي شُرَيْحٍ مَا قَالَ عَمْرٌو قَالَ: أَنَا أَعْلَمُ مِنْكَ يَا أَبَا شُرَيْحٍ لَا يُعِيذُ عَاصِيًا وَلَا فَارًّا بِدَمٍ وَلَا فَارًّا بِخَرْبَةٍ

‘আবদুল্লাহ ইব্‌ন ইউসুফ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: লায়স আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: সা‘ঈদ- তিনি আবূ সা‘ঈদের পুত্র ছিলেন আমাকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন আবূ শুরায়‘হ (রাজিআল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি ‘আমর ইব্‌ন সা‘ঈদ (মদীনার গভর্নর )–কে বললেন, যখন তিনি মক্কায় সেনাবাহিনী পাঠিয়েছিলেন – ‘হে আমাদের নেতা! আমাকে অনুমতি দিলে আপনাকে এমন একটি হাদীস শুনাতে পারি যেটা মক্কা বিজয়ের পরের দিন আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছিলেন। আমার দু’কান তা শ্রবণ করেছে, আমার হৃদয় তা আয়ত্ত রেখেছে, আর আমার চোখ দু’টো তা দেখেছে। তিনি আল্লাহর হামদ ও সানা হাদীস বর্ণনা করে বললেনঃ মক্কাকে আল্লাহ হারাম করেছেন, কোন মানুষ তাকে হারাম করেনি। তাই যে ব্যক্তি আল্লাহয় ও আখিরাতে বিশ্বাস রাখে তাঁর জন্য সেখানে রক্তপাত করা, সেখানকার গাছ কাটা বৈধ নয়। কেউ যদি আল্লাহর রসূলের (সেখানকার) লড়াইকে দলীল হিসেবে পেশ করে তবে তোমরা বলে দাও, আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রাসূলকে এর অনুমতি দিয়েছিলেন; কিন্তু তোমাদেরকে তা দেননি। আমাকেও সে দিনের কিছু সময়ের জন্য অনুমতি দিয়েছিলেন। অতঃপর পূর্বের মতই আজ আবার একে তাঁর নিষিদ্ধ হবার মর্যাদা ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। উপস্থিতগণ যেন অনুপস্থিতদের নিকট (এ বাণী ) পৌঁছে দেয়।’ অতঃপর আবূ শুরায়হ (রাজিআল্লাহু আনহু)-কে প্রশ্ন করা হল, ‘আপনার এ হাদীস শুনে ‘আম্‌র কী বললেন?’ [আবূ শুরায়হ (রাজিআল্লাহু আনহু) উত্তর দিলেন] তিনি বললেনঃ ‘হে আবূ শুরায়হ ! (এ বিষয়ে) আমি তোমার চেয়ে অধিক জানি। মক্কা কোন বিদ্রোহীকে, কোন খুনের পলাতক আসামীকে এবং চোরকে আশ্রয় দেয় না।’

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [১৮৩২,৪২৯৫; মুসলিম ১৫/৮২, হাঃ ১৩৫৪, আহমাদ ১৬৩৭৩, ২৭২৩৪] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০২, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১০৫]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১০৫

হাদিসের মান: সহীহ

١٠٥ – حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الوَهَّابِ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي بَكْرَةَ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، ذُكِرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «فَإِنَّ دِمَاءَكُمْ وَأَمْوَالَكُمْ – قَالَ مُحَمَّدٌ وَأَحْسِبُهُ قَالَ – وَأَعْرَاضَكُمْ، عَلَيْكُمْ حَرَامٌ، كَحُرْمَةِ يَوْمِكُمْ هَذَا، فِي شَهْرِكُمْ هَذَا، أَلَا لِيُبَلِّغِ الشَّاهِدُ مِنْكُمُ الغَائِبَ». وَكَانَ مُحَمَّدٌ يَقُولُ: صَدَقَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، كَانَ ذَلِكَ «أَلَا هَلْ بَلَّغْتُ» مَرَّتَيْنِ

‘আবুদুল্লাহ ইব্‌ন ‘আবদুল ওয়াহ্‌হাব আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: হাম্মাদ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন আয়উব থেকে, তিনি মু‘হাম্মাদ থেকে, তিনি ইব্‌ন আবূ বকরাহ (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর কথা উল্লেখ করে বলেন যে, তিনি বলেছেন: তোমাদের জান তোমাদের মাল; হাদীস বর্ণনাকারী মু‘হাম্মাদ (রহমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আমার মনে হয়, তিনি বলেছিলেন: এবং তোমাদের মান-সম্মান (অন্য মুসলমানদের জন্য) এ শহরে এ দিনের মতই মর্যাদা সম্পন্ন। শোন, (আমার এ বাণী যেন) তোমাদের মধ্যে উপস্থিত ব্যাক্তি অনুপস্থিত ব্যাক্তির নিকট পৌঁছে দেয়। হাদীস বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ (রহমাহুল্লাহ) বলেনঃ আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সত্য বলেছেন, তা-ই হয়েছে। তারপর আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু’ দু’বার করে বললেন, হে লোক সকল! ‘আমি কি পৌঁছে দিয়েছি?’

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [৬৭] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৩, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১০৬]

٧٩. ‌‌بَابُ إِثْمِ مَنْ كَذَبَ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

৭৯. পরিচ্ছেদ : নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর উপর মিথ্যারোপ করার গুনাহ

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১০৬

হাদিসের মান: সহীহ

١٠٦ – حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الجَعْدِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، قَالَ: أَخْبَرَنِي مَنْصُورٌ، قَالَ: سَمِعْتُ رِبْعِيَّ بْنَ حِرَاشٍ، يَقُولُ: سَمِعْتُ عَلِيًّا، يَقُولُ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَكْذِبُوا عَلَيَّ، فَإِنَّهُ مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ فَلْيَلِجِ النَّارَ»

‘আলী ইব্‌ন জা’দ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: শু’বাহ আমাদেরকে হাদীসটি সংবাদ দিলেন, তিনি বললেন: মানুস্বুর আমাকে হাদীসটি সংবাদ দিলেন, তিনি বললেন: রিব‘ঈ ইব্‌ন হারিশ থেকে আমি হাদীসটি শুনেছি, তিনি বললেন: আমি ‘আলী (রাজিআল্লাহু আনহু) থেকে শুনেছি, তিনি বললেন: নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: তোমরা আমার উপর মিথ্যারোপ করো না। কারণ আমার উপর যে মিথ্যারোপ করবে সে জাহান্নামে যাবে।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [মুসলিম মুকাদ্দামা, দ্বিতীয় অধ্যায়, হাঃ ২] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৪, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১০৭]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১০৭

হাদিসের মান: সহীহ

١٠٧ – حَدَّثَنَا أَبُو الوَلِيدِ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ جَامِعِ بْنِ شَدَّادٍ، عَنْ عَامِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قُلْتُ لِلزُّبَيْرِ: إِنِّي لَا أَسْمَعُكَ تُحَدِّثُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَمَا يُحَدِّثُ فُلَانٌ وَفُلَانٌ؟ قَالَ: أَمَا إِنِّي لَمْ أُفَارِقْهُ، وَلَكِنْ سَمِعْتُهُ يَقُولُ: «مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ»

আবুল ওয়ালীদ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: শু‘উবাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন জামি‘ই ইব্‌ন শাদ্দাদ থেকে, তিনি ‘আমির ইব্‌ন ‘আব্দুল্লাহ ইব্‌ন যুবায়র থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি বলেনঃ আমি আমার পিতা যুবায়রকে বললামঃ আমি তো আপনাকে অমুক অমুকের মত আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদীস বর্ণনা করতে শুনি না। তিনি বললেনঃ “জেনে রাখ, আমি তাঁর থেকে দূরে থাকিনি, কিন্তু আমি তাঁকে বলতে শুনেছি, যে আমার উপর মিথ্যারোপ করবে সে যেন জাহান্নামে তাঁর ঠিকানা বানিয়ে নিবে (এজন্য হাদীস বর্ণনা করতে সতর্ক থাকি)”।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [মুসলিম মুকাদ্দামা, দ্বিতীয় অধ্যায়, হাঃ ৩] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৫, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১০৮]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১০৮

হাদিসের মান: সহীহ

١٠٨ – حَدَّثَنَا أَبُو مَعْمَرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الوَارِثِ، عَنْ عَبْدِ العَزِيزِ، قَالَ أَنَسٌ: إِنَّهُ لَيَمْنَعُنِي أَنْ أُحَدِّثَكُمْ حَدِيثًا كَثِيرًا أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ تَعَمَّدَ عَلَيَّ كَذِبًا، فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ»

আবূ মা’মার আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ‘আব্দুল ওয়ারিস আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ‘আব্দুল আযিয থেকে, তিনি বললেন: আনাস (রাজিআল্লাহু আনহু) বললেন: এ কথাটি তোমাদের নিকট অনেক হাদীস বর্ণনা করতে (ভুল-ভ্রান্তি থেকে সতর্কতার জন্য) প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়ায় যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যে ইচ্ছাকৃতভাবে আমার উপর মিথ্যারোপ করে সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৬, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১০৯]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১০৯

হাদিসের মান: সহীহ

١٠٩ – حَدَّثَنَا مَكِّيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ أَبِي عُبَيْدٍ، عَنْ سَلَمَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَنْ يَقُلْ عَلَيَّ مَا لَمْ أَقُلْ فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ»

মাক্বী ইব্‌ন ইবরাহীম আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ইয়াযীদ ইব্‌ন আবূ ‘উবায়দ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন সালামাহ থেকে, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যাক্তি আমার উপর এমন কথা আরোপ করে যা আমি বলিনি, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।’

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৭, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১১০]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১০

হাদিসের মান: সহীহ

١١٠ – حَدَّثَنَا مُوسَى، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ أَبِي حَصِينٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «تَسَمَّوْا بِاسْمِي وَلَا تَكْتَنُوا بِكُنْيَتِي، وَمَنْ رَآنِي فِي المَنَامِ فَقَدْ رَآنِي، فَإِنَّ الشَّيْطَانَ لَا يَتَمَثَّلُ فِي صُورَتِي، وَمَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ»

মূসা আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: আবূ ‘আওয়ানাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন আবূ ‘হাস্বিন থেকে, তিনি আবূ স্বালিহ থেকে, তিনি আবূ হুরায়রা (রাজিআল্লাহু আনহু) থেকে- নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ‘আমার নামে তোমরা নাম রেখ; কিন্তু আমার উপনামে (কুনিয়াতে) তোমরা নাম রেখ না। আর যে আমাকে স্বপ্নে দেখে সে ঠিক আমাকেই দেখে। কারণ শয়তান আমার আকৃতির ন্যায় আকৃতি ধারণ করতে পারে না। যে ইচ্ছা করে আমার উপর মিথ্যারোপ করে সে যেন জাহান্নামে তার আসন বানিয়ে নেয়।’

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [৩৫৩৯, ৬১৮৮, ৬১৯৭, ৬৯৯৩; মুসলিম মুকাদ্দামা, দ্বিতীয় অধ্যায়, হাঃ ৪] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৮, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১১১]

٨٠. ‌‌بَابُ كِتَابَةِ العِلْمِ

৮০. পরিচ্ছেদ : ইল্‌ম লিপিবদ্ধ করা।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১১

হাদিসের মান: সহীহ

١١١ – حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَامٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مُطَرِّفٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ أَبِي جُحَيْفَةَ، قَالَ: قُلْتُ لِعَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ: هَلْ عِنْدَكُمْ كِتَابٌ؟ قَالَ: ” لَا، إِلَّا كِتَابُ اللَّهِ، أَوْ فَهْمٌ أُعْطِيَهُ رَجُلٌ مُسْلِمٌ، أَوْ مَا فِي هَذِهِ الصَّحِيفَةِ. قَالَ: قُلْتُ: فَمَا فِي هَذِهِ الصَّحِيفَةِ؟ قَالَ: العَقْلُ، وَفَكَاكُ الأَسِيرِ، وَلَا يُقْتَلُ مُسْلِمٌ بِكَافِرٍ “

মু‘হাম্মাদ ইব্‌ন সালাম আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ওয়াকী‘উ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন সুফইয়ান থেকে, তিনি শা’বী থেকে, তিনি আবূ জুহাইফা (রাজিআল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি বললেন: আমি ‘আলী (রাজিআল্লাহু আনহু)-কে বললাম, আপনাদের নিকট কি কিছু লিপিবদ্ধ আছে? তিনি বললেন: ‘না, শুধুমাত্র আল্লাহর কিতাব রয়েছে, আর একজন মুসলিমকে যে জ্ঞান দান করা হয় সেই বুদ্ধি ও বিবেক। এছাড়া কিছু এ সহীফাতে লিপিবদ্ধ রয়েছে।’ তিনি [আবূ জুহাইফা (রাজিআল্লাহু আনহু)] বলেন, আমি বললাম, এ সহীফাটিতে কী আছে? তিনি বললেন, ‘ক্ষতিপূরণ ও বন্দী মুক্তির বিধান, আর এ বিধানটিও যে, ‘মুসলিমকে কাফির হত্যার বিনিময়ে হত্যা করা যাবে না।’

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [১৮৭০, ৩০৪৭, ৩১৭২, ৩১৭৯, ৬৭৫৫, ৬৯০৩, ৬৯১৫, ৭৩০০ দ্রষ্টব্য] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৯, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১১২]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১২

হাদিসের মান: সহীহ

١١٢ – حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ الفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: أَنَّ خُزَاعَةَ قَتَلُوا رَجُلًا مِنْ بَنِي لَيْثٍ – عَامَ فَتْحِ مَكَّةَ – بِقَتِيلٍ مِنْهُمْ قَتَلُوهُ، فَأُخْبِرَ بِذَلِكَ النَّبِيُّ صلّى الله عليه وسلم، فَرَكِبَ رَاحِلَتَهُ فَخَطَبَ، فَقَالَ: «إِنَّ اللَّهَ حَبَسَ عَنْ مَكَّةَ القَتْلَ، أَوِ الفِيلَ» – قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ كَذَا، قَالَ أَبُو نُعَيْمٍ وَاجْعَلُوهُ عَلَى الشَّكِّ الفِيلَ أَوِ القَتْلَ وَغَيْرُهُ يَقُولُ الفِيلَ – وَسَلَّطَ عَلَيْهِمْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالمُؤْمِنِينَ، أَلَا وَإِنَّهَا لَمْ تَحِلَّ لِأَحَدٍ قَبْلِي، وَلَمْ تَحِلَّ لِأَحَدٍ بَعْدِي، أَلَا وَإِنَّهَا حَلَّتْ لِي سَاعَةً مِنْ نَهَارٍ، أَلَا وَإِنَّهَا سَاعَتِي هَذِهِ حَرَامٌ، لَا يُخْتَلَى شَوْكُهَا، وَلَا يُعْضَدُ شَجَرُهَا، وَلَا تُلْتَقَطُ سَاقِطَتُهَا إِلَّا لِمُنْشِدٍ، فَمَنْ قُتِلَ فَهُوَ بِخَيْرِ النَّظَرَيْنِ: إِمَّا أَنْ يُعْقَلَ، وَإِمَّا أَنْ يُقَادَ أَهْلُ القَتِيلِ “. فَجَاءَ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ اليَمَنِ فَقَالَ: اكْتُبْ لِي يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَقَالَ: «اكْتُبُوا لِأَبِي فُلَانٍ». فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ قُرَيْشٍ: إِلَّا الإِذْخِرَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَإِنَّا نَجْعَلُهُ فِي بُيُوتِنَا وَقُبُورِنَا؟ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِلَّا الإِذْخِرَ إِلَّا الإِذْخِرَ» قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: يُقَالُ: يُقَادُ بِالقَافِ فَقِيلَ لِأَبِي عَبْدِ اللَّهِ أَيُّ شَيْءٍ كَتَبَ لَهُ؟ قَالَ: كَتَبَ لَهُ هَذِهِ الخُطْبَةَ

আবূ নু‘আয়ম ফাযল ইব্‌ন দুকায়ন আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: শায়বান আমাদেরকে হাদীটি বর্ণনা করলেন ইয়া‘হইয়া থেকে, তিনি আবূ সালামাহ থেকে, তিনি আবূ হুরায়রা (রাজিআল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি বললেন: মক্কা বিজয়কালে খুযা’হ গোত্র লায়স গোত্রের জনৈক ব্যক্তিকে হত্যা করল। এ হত্যা ছিল তাদের এক নিহত ব্যক্তির প্রতিশোধ, যাকে ইতোপূর্বে লায়স গোত্রের লোক হত্যা করেছিল। তারপর এ খবর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট পৌঁছল। তিনি তাঁর উটের উপর আরোহণ করে ভাষণ দিলেন, তিনি বলেন: আল্লাহ তা‘আলা মক্কা হতে ‘হত্যা’-কে কিংবা ‘হাতী’-কে রোধ করেছেন। (২৪৩৪, ৬৮৮০ দ্রষ্টব্য)

ইমাম বুখারী (রহমাহুল্লাহ) বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘হত্যা’ বলেছেন না ‘হাতী’ বলেছেন এ ব্যাপারে হাদীস বর্ণনাকারী আবূ নু’আয়ম সন্দেহ পোষণ করেন। অন্যরা শুধু ‘হাতী’ শব্দ উল্লেখ করেছেন। অবশ্য মক্কাবাসীদের উপর আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং মুমিনগণকে (যুদ্ধের মাধ্যমে) বিজয়ী করা হয়েছে। জেনে রাখ, আমার পূর্বে কারও জন্য মক্কাকে হালাল করা হয়নি এবং আমার পরেও হালাল হবে না। জেনে রাখ, তাও আমার জন্য দিনের কিছু সময়ের জন্য বৈধ করা হয়েছিল। আরো জেনে রাখ যে, আমার এই কথা মুহূর্তে আবার তা অবৈধ হয়ে গেছে। সেখানকার কোন কাঁটা কিংবা গাছ কাটা যাবে না এবং সেখানে পড়ে থাকা কোন বস্তু কুড়িয়ে নেয়া যাবে না। তবে ঘোষণা দেয়ার জন্য তা নিতে পারবে। আর কেউ নিহত হলে তার আপনজনদের জন্য দু’টি ব্যবস্থার যে কোন একটি গ্রহণের এখতিয়ার আছে। হয় তার ‘রক্তপণ নিবে নয় ‘ক্বিসাসের ফায়সালা’ গ্রহণ করবে। অতঃপর ইয়ামানবাসী জনৈক ব্যক্তি এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! (এ কথাগুলো) আমাকে লিখে দিন। তিনি (সাহাবীদের) বললেনঃ তোমরা অমুকের পিতাকে লিখে দাও। তারপর জনৈক কুরায়শ [‘আব্বাস (রাজিআল্লাহু আনহু)] বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! গাছপালা কাটার নিষেধাজ্ঞা হতে ইযখির (এক প্রকার লম্বা ঘাষ) বাদ দিন। কারণ তা আমরা আমাদের গৃহে ও কবরে কাজে লাগাই।’ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘ইযখির ব্যতীত, ইযখির ব্যতিত।’

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১০, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১১৩]

ফুটনোটঃ
১. ইযখির শন জাতীয় এক প্রকার ঘাস।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৩

হাদিসের মান: সহীহ

١١٣ – حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَمْرٌو، قَالَ: أَخْبَرَنِي وَهْبُ بْنُ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَخِيهِ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ: «مَا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَحَدٌ أَكْثَرَ حَدِيثًا عَنْهُ مِنِّي، إِلَّا مَا كَانَ مِنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، فَإِنَّهُ كَانَ يَكْتُبُ وَلَا أَكْتُبُ» تَابَعَهُ مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ

‘আলী ইব্‌ন ‘আবদুল্লাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: সুফইয়ান আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ‘আম্‌র আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ওয়াহাব ইব্‌ন মুনাব্বিহ আমাদেরকে হাদীসটি খবর দিলেন তাঁর ভাই থেকে, তিনি বললেন: আমি আবূ হুরায়রা (রাজিআল্লাহু আনহু) থেকে শুনলাম, তিনি বললেন: নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণের মধ্যে ‘আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন ‘আম্‌র (রাজিআল্লাহু আনহু) ব্যতীত আর কারো নিকট আমার চেয়ে অধিক হাদীস নেই। কারণ তিনি লিখতেন, আর আমি লিখতাম না। মা’মার (রহমাহুল্লাহ) হাম্মাম (রহমাহুল্লাহ) সূত্রে আবূ হুরায়রা (রাজিআল্লাহু আনহু) হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১১, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১১৪]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৪

হাদিসের মান: সহীহ

١١٤ – حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ: حَدَّثَنِي ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: لَمَّا اشْتَدَّ بِالنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَجَعُهُ قَالَ: «ائْتُونِي بِكِتَابٍ أَكْتُبْ لَكُمْ كِتَابًا لَا تَضِلُّوا بَعْدَهُ» قَالَ عُمَرُ إِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَلَبَهُ الوَجَعُ، وَعِنْدَنَا كِتَابُ اللَّهِ حَسْبُنَا. فَاخْتَلَفُوا وَكَثُرَ اللَّغَطُ، قَالَ: «قُومُوا عَنِّي، وَلَا يَنْبَغِي عِنْدِي التَّنَازُعُ» فَخَرَجَ ابْنُ عَبَّاسٍ يَقُولُ: «إِنَّ الرَّزِيَّةَ كُلَّ الرَّزِيَّةِ، مَا حَالَ بَيْنَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَبَيْنَ كِتَابِهِ»

ইয়াহইয়া ইব্‌ন সুলায়মান (রহমাহুল্লাহ) আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ইব্‌ন ওয়াহাব আমাকে আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ইউনুস আমাকে সংবাদ দিলেন ইব্‌ন শিহাব থেকে, তিনি ‘উবায়দুল্লাহ ইব্‌ন ‘আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি ইব্‌ন ‘আব্বাস (রাজিআল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অসুখ যখন বৃদ্ধি পেল তখন তিনি বললেনঃ ‘আমার নিকট লেখার জিনিস নিয়ে এস, আমি তোমাদের এমন কিছু লিখে দিব যাতে পরে তোমরা আর পথভ্রষ্ট হবে না।’ ‘উমার (রাজিআল্লাহু আনহু) বললেন, ‘নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর রোগ-যন্ত্রণা প্রবল হয়ে গেছে (এমতাবস্থায় কিছু বলতে বা লিখতে তাঁর কষ্ট হবে)। আর আমাদের নিকট তো আল্লাহর কিতাব আছে, যা আমাদের জন্য যথেষ্ট।’ এতে সাহাবীগণের মধ্যে মতানৈক্য দেখা দিল এবং শোরগোল বেড়ে গেল। তখন আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘তোমরা আমার কাছ থেকে উঠে যাও। আমার নিকট ঝগড়া-বিবাদ করা অনুচিত।’ এ পর্যন্ত হাদীস বর্ণনা করে ইব্‌ন ‘আব্বাস (রাজিআল্লাহু আনহু) (যেখানে বসে হাদীস হাদীস বর্ণনা করছিলেন সেখান থেকে) এ কথা বলতে বলতে বেরিয়ে এলেন যে, ‘হায় বিপদ, সাংঘাতিক বিপদ! আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর লেখনীর মধ্যে যা বাধ সেধেছে।’

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [৩০৫৩, ৩১৬৮, ৪৪৩১, ৪৪৩২, ৫৬৬৯, ৭৩৬৬ দ্রষ্টব্য] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১২, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১১৫]

٨١. ‌‌بَابُ العِلْمِ وَالعِظَةِ بِاللَّيْلِ

৮১. পরিচ্ছেদ : রাতে ইল্‌ম শিক্ষাদান এবং ওয়ায-নসীহত করা।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৫

হাদিসের মান: সহীহ

١١٥ – حَدَّثَنَا صَدَقَةُ، أَخْبَرَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ هِنْدٍ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، وَعَمْرٍو، وَيَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ هِنْدٍ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ: اسْتَيْقَظَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ لَيْلَةٍ فَقَالَ: «سُبْحَانَ اللَّهِ، مَاذَا أُنْزِلَ اللَّيْلَةَ مِنَ الفِتَنِ، وَمَاذَا فُتِحَ مِنَ الخَزَائِنِ، أَيْقِظُوا صَوَاحِبَاتِ الحُجَرِ، فَرُبَّ كَاسِيَةٍ فِي الدُّنْيَا عَارِيَةٍ فِي الآخِرَةِ»

স্বাদাক্বাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ইব্‌ন ‘উয়ায়নাহ আমাদেরকে হাদীসটি খবর দিলেন মা‘আমার থেকে, তিনি যুহুরী থেকে, তিনি হিন্দাহ থেকে, তিনি উম্মি সালামাহ ও ‘আমর এবং ইয়াহীয়া ইব্‌ন সা‘ঈদ থেকে, তিনারা যুহুরী থেকে, তিনি হিন্দ থেকে, তিনি উম্মি সালামাহ (রাজিআল্লাহু ‘আনহা) থেকে, তিনি বললেন: এক রাতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিদ্রা হতে জেগে বলেন: সুবহানাল্লাহ্! এ রাতে কতই না বিপদাপদ নেমে আসছে এবং কতই না ভাণ্ডার উন্মুক্ত করা হচ্ছে! অন্য সব ঘরের নারীদেরকেও জানিয়ে দাও, “বহু মহিলা যারা দুনিয়ায় পোশাক পরিহিতা, তারা আখিরাতে হবে বিবস্ত্র”।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [১১২৬, ৩৫৯৯, ৫৮৪৪, ৬২১৮, ৭০৬৯ দ্রষ্টব্য] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৩, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১১৬]

٨٢. ‌‌بَابُ السَّمَرِ فِي العِلْمِ

৮২. পরিচ্ছেদ : রাতে ইলমের আলোচনা করা।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৬

হাদিসের মান: সহীহ

١١٦ – حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عُفَيْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي اللَّيْثُ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ خَالِدِ بْنِ مُسَافِرٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمٍ، وَأَبِي بَكْرِ بْنِ سُلَيْمَانَ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، قَالَ: صَلَّى بِنَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ العِشَاءَ فِي آخِرِ حَيَاتِهِ، فَلَمَّا سَلَّمَ قَامَ، فَقَالَ: «أَرَأَيْتَكُمْ لَيْلَتَكُمْ هَذِهِ، فَإِنَّ رَأْسَ مِائَةِ سَنَةٍ مِنْهَا، لَا يَبْقَى مِمَّنْ هُوَ عَلَى ظَهْرِ الأَرْضِ أَحَدٌ»

সা’ঈদ ইব্‌ন ‘উফায়র আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ‘আব্দুর র‘হামান ইব্‌ন খালিদ ইব্‌ন মুসাফির আমাকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ইব্‌ন শিহাব থেকে, তিনি সালিম এবং আবূ বকর ইব্‌ন সুলায়মান ইব্‌ন আবূ ‘হাছমাহ থেকে, তিনি ‘আব্দুল্লাহ্ ইব্‌ন ‘উমার (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর জীবনের শেষের দিকে আমাদের নিয়ে ‘ইশার সালাত আদায় করলেন। সালাম ফিরানোর পর তিনি দাঁড়িয়ে বললেনঃ তোমরা কি এ রাতের সম্পর্কে জান? বর্তমানে যারা পৃথিবীতে রয়েছে, একশ বছরের মাথায় তাদের কেউ আর অবশিষ্ট থাকবে না।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [৫৬৪, ৬০১; মুসলিম ৪৪/৫৩, হাঃ ২৫৩৬] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৪, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১১৭]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৭

হাদিসের মান: সহীহ

١١٧ – حَدَّثَنَا آدَمُ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ: حَدَّثَنَا الحَكَمُ، قَالَ: سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: بِتُّ فِي بَيْتِ خَالَتِي مَيْمُونَةَ بِنْتِ الحَارِثِ زَوْجِ النَّبِيِّ صلّى الله عليه وسلم وَكَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عِنْدَهَا فِي لَيْلَتِهَا، فَصَلَّى النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ العِشَاءَ، ثُمَّ جَاءَ إِلَى مَنْزِلِهِ، فَصَلَّى أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ، ثُمَّ نَامَ، ثُمَّ قَامَ، ثُمَّ قَالَ: «نَامَ الغُلَيِّمُ» أَوْ كَلِمَةً تُشْبِهُهَا، ثُمَّ قَامَ، فَقُمْتُ عَنْ يَسَارِهِ، فَجَعَلَنِي عَنْ يَمِينِهِ، فَصَلَّى خَمْسَ رَكَعَاتٍ، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ نَامَ، حَتَّى سَمِعْتُ غَطِيطَهُ أَوْ خَطِيطَهُ، ثُمَّ خَرَجَ إِلىِ الصَّلَاةِ

আদম আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: শু’বাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ‘হাকাম আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: সা‘ঈদ ইব্‌ন জুবায়র থেকে আমি শুনলাম, তিনি ইব্‌ন ‘আব্বাস (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বললেন: আমি আমার খালা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর স্ত্রী মায়মূনা বিন্ত হারিস (রাজিআল্লাহু ‘আনহা) এর ঘরে এক রাতে ছিলাম। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সে রাতে সেখানে ছিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘ইশার সালাত আদায় করে তাঁর ঘরে চলে আসলেন এবং চার রাক’আত সালাত আদায় করে শুয়ে গেলেন। কিছুক্ষণ পর উঠে বললেনঃ বালকটি ঘুমিয়ে পড়েছে? বা এরূপ কোন কথা বললেন। অতঃপর (সালাতে) দাঁড়িয়ে গেলেন, আমিও তাঁর বাঁ দিকে গিয়ে দাঁড়ালাম। তিনি আমাকে তাঁর ডান দিকে সরিয়ে এনে পাঁচ রাক’আত সালাত আদায় করলেন। পরে আরো দু’ রাক’আত আদায় করলেন। অতঃপর শুয়ে পড়লেন। এমনকি আমি তাঁর নাক ডাকার আওয়াজ শুনতে পেলাম। অতঃপর উঠে তিনি (ফজরের) সালাতের জন্য বের হলেন।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [১৩৮, ১৮৩, ৬৯৭, ৬৯৮, ৬৯৯, ৭২৬, ৮৫৯, ১১৯৮, ৪৫৬৯, ৪৫৭০, ৪৫৭১, ৪৫৭২, ৫৯১৯, ৬২১৫, ৬৩১৬, ৭৪৫২ দ্রষ্টব্য] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৫, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১১৮]

٨٣. ‌‌بَابُ حِفْظِ العِلْمِ

৮৩. পরিচ্ছেদ : ইল্‌ম সুখস্থ করা।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৮

হাদিসের মান: সহীহ

١١٨ – حَدَّثَنَا عَبْدُ العَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: ” إِنَّ النَّاسَ يَقُولُونَ أَكْثَرَ أَبُو هُرَيْرَةَ، وَلَوْلَا آيَتَانِ فِي كِتَابِ اللَّهِ مَا حَدَّثْتُ حَدِيثًا، ثُمَّ يَتْلُو {إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنْزَلْنَا مِنَ البَيِّنَاتِ وَالهُدَى} [البقرة: ١٥٩] إِلَى قَوْلِهِ {الرَّحِيمُ} [البقرة: ١٦٠] إِنَّ إِخْوَانَنَا مِنَ المُهَاجِرِينَ كَانَ يَشْغَلُهُمُ الصَّفْقُ بِالأَسْوَاقِ، وَإِنَّ إِخْوَانَنَا مِنَ الأَنْصَارِ كَانَ يَشْغَلُهُمُ العَمَلُ فِي أَمْوَالِهِمْ، وَإِنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ كَانَ يَلْزَمُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِشِبَعِ بَطْنِهِ، وَيَحْضُرُ مَا لَا يَحْضُرُونَ، وَيَحْفَظُ مَا لَا يَحْفَظُونَ “

‘আব্দুল ‘আযীয ইব্‌ন ‘আব্দুল্লাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: মালিক আমাকে আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ইব্‌ন শিহাব থেকে, তিনি ‘আরাজ থেকে, তিনি আবূ হুরায়রাহ থেকে, তিনি বললেন: লোকে বলে, আবূ হুরায়রা (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) অধিক হাদীস হাদীস বর্ণনা করেন। (জেনে রাখ,) কিতাবে দু’টি আয়াত যদি না থাকত, তবে আমি একটি হাদীসও পেশ করতাম না। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেনঃ

“আমি সেসব স্পষ্ট নিদর্শন ও পথ-নির্দেশ অবতীর্ণ করেছি মানুষের জন্য কিতাবে তা বিস্তারিত হাদীস বর্ণনার পরও যারা তা গোপন রাখে আল্লাহ তাদেরকে অভিশাপ দেন এবং অভিশাপকারীগণও তাদেরকে অভিশাপ দেয় কিন্তু যারা তাওবাহ করে এবং আর সংশোধন করে এবং প্রকাশ করে দেয় যে, আমি তাদের (ক্ষমার) জন্য ফিরে আসি, আর আমি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (সূরা আল-বাকারাহ, ২:১৫৯-১৬০)।

(প্রকৃত ঘটনা এই যে,) আমার মুহাজির ভাইয়েরা বাজারে কেনাবেচায় এবং আমার আনসার ভাইয়েরা জমা-জমির কাজে মশগুল থাকত। আর আবূ হুরায়রা (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) (অভুক্ত থেকে) তুষ্ট থেকে আল্লাহর রসূল –এর সঙ্গে লেগে থাকত। তাই তারা যখন উপস্থিত থাকত না, তখন সে উপস্থিত থাকত এবং তারা যা আয়ত্ত করত না সে তা আয়ত্ত রাখত।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [১১৯, ২০৪৭, ২৩৫০, ৩৬৪৮, ৭৩৫৪ দ্রষ্টব্য) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৬, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১১৯]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৯

হাদিসের মান: সহীহ

١١٩ – حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ أَبُو مُصْعَبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ سَعِيدٍ المَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنِّي أَسْمَعُ مِنْكَ حَدِيثًا كَثِيرًا أَنْسَاهُ؟ قَالَ: «ابْسُطْ رِدَاءَكَ» فَبَسَطْتُهُ، قَالَ: فَغَرَفَ بِيَدَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: «ضُمَّهُ» فَضَمَمْتُهُ، فَمَا نَسِيتُ شَيْئًا بَعْدَهُ. حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ المُنْذِرِ قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ بِهَذَا أَوْ قَالَ: غَرَفَ بِيَدِهِ فِيهِ

আ‘হমাদ ইব্‌ন আবূ বাক্‌র আবূ মুস্ব‘আব আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: মুহাম্মাদ ইব্‌ন ইব্রাহীম ইব্‌ন দীনার আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ইব্‌ন আবূ দীনার থেকে, তিনি সা‘ঈদ মাক্ববুরী থেকে, তিনি আবূ হুরায়রা (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বললেন: আমি বললাম ‘হে আল্লাহর রসূল! আমি আপনার নিকট হতে অনেক হাদীস শুনি কিন্তু ভুলে যাই।’ তিনি বললেনঃ তোমার চাদর মেলে ধর। আমি তা মেলে ধরলাম। তিনি দু’হাত খাবল করে তাতে কিছু ঢেলে দেয়ার মত করে বললেনঃ এটা তোমার বুকের সাথে লাগাও। আমি তা বুকের সাথে লাগালাম। অতঃপর আমি আর কিছুই ভুলে যাইনি।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [১১৮] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৭, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১২০]

ইবরাহীম ইব্‌নল মুনযির আমাদেরকে হাদীস বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ইব্‌ন আবূ ফুদায়ক সূত্রে আমাদেরকে একইরূপ হাদীস বর্ণনা করেন এবং তাতে বলেন যে, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর হাত দিয়ে সে চাদরের মধ্যে (কিছু) দিলেন।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১২১]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১২০

হাদিসের মান: সহীহ

١٢٠ – حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَخِي، عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ سَعِيدٍ المَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: ” حَفِظْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وِعَاءَيْنِ: فَأَمَّا أَحَدُهُمَا فَبَثَثْتُهُ، وَأَمَّا الآخَرُ فَلَوْ بَثَثْتُهُ قُطِعَ هَذَا البُلْعُومُ “

ইসমা‘ঈল আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন. তিনি বললেন: আমার ভাই আমাকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন আবূ যি’ব থেকে, তিনি সা‘ঈদ মাক্ববুরী থেকে, তিনি আবূ হুরায়রা (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বললেন: আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে দু’পাত্র ‘ইলম আয়ত্ত করে রেখেছিলাম। তার একটি পাত্র আমি বিতরণ করে দিয়েছি। আর অপরটি এমন যে, প্রকাশ করলে আমার কণ্ঠনালী কেটে দেয়া হবে।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৮, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১২২]

ফুট নোট:
১. ‘আবদুল্লাহ (রহমাহুল্লাহ) বলেন, হাদীসে উল্লিখিত الْبُلْعُومُ শব্দের অর্থ খাদ্যনালী।

‌‌٨٤. بَابُ الإِنْصَاتِ لِلْعُلَمَاءِ

৮৪. পরিচ্ছেদ : ‘আলিমদের কথা শ্রবণের জন্য লোকদের চুপ করানো।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১২১

হাদিসের মান: সহীহ

١٢١ – حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عَلِيُّ بْنُ مُدْرِكٍ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ جَرِيرٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَهُ فِي حَجَّةِ الوَدَاعِ: «اسْتَنْصِتِ النَّاسَ» فَقَالَ: «لَا تَرْجِعُوا بَعْدِي كُفَّارًا، يَضْرِبُ بَعْضُكُمْ رِقَابَ بَعْضٍ»

‘হাজ্জাজ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: শু’বাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ‘আলী ইব্‌ন মুদরিক আমাকে হাদীসটি সংবাদ দিলেন আবূ যুর‘আহ ইব্‌ন ‘আমর থেকে, তিনি জারীর (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বললেন: বিদায় হাজ্জের সময় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন: তুমি লোকদেরকে চুপ করিয়ে দাও, তারপর তিনি বললেন, “আমার পরে তোমরা একে অপরের গর্দান কাটাকাটি করে কাফির (এর মত) হয়ে যেও না”।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [৪৪০৫, ৬৮৬৯, ৭০৮০; মুসলিম ১/২৯, হাঃ ৬৫, আহমাদ ১৯২৩৭] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৯, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১২৩]

‌‌٨٥. بَابُ مَا يُسْتَحَبُّ لِلْعَالِمِ إِذَا سُئِلَ: أَيُّ النَّاسِ أَعْلَمُ؟ فَيَكِلُ العِلْمَ إِلَى اللَّهِ

৮৫. পরিচ্ছেদ : ‘আলিমদের জন্য মুস্তাহাব এই যে, সবচেয়ে জ্ঞানী কে? এ প্রশ্ন যখন তাঁকে করা হয় তখন তার উচিত এটা আল্লাহর দিকে সোর্পদ করা।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১২২

হাদিসের মান: সহীহ

١٢٢ – حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَمْرٌو، قَالَ: أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ، قَالَ: قُلْتُ لِابْنِ عَبَّاسٍ: إِنَّ نَوْفًا البَكَالِيَّ يَزْعُمُ أَنَّ مُوسَى لَيْسَ بِمُوسَى بَنِي إِسْرَائِيلَ، إِنَّمَا هُوَ مُوسَى آخَرُ؟ فَقَالَ: كَذَبَ عَدُوُّ اللَّهِ حَدَّثَنَا أُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: قَامَ مُوسَى النَّبِيُّ خَطِيبًا فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ فَسُئِلَ أَيُّ النَّاسِ أَعْلَمُ؟ فَقَالَ: أَنَا أَعْلَمُ، فَعَتَبَ اللَّهُ عَلَيْهِ، إِذْ لَمْ يَرُدَّ العِلْمَ إِلَيْهِ، فَأَوْحَى اللَّهُ إِلَيْهِ: أَنَّ عَبْدًا مِنْ عِبَادِي بِمَجْمَعِ البَحْرَيْنِ، هُوَ أَعْلَمُ مِنْكَ. قَالَ: يَا رَبِّ، وَكَيْفَ بِهِ؟ فَقِيلَ لَهُ: احْمِلْ حُوتًا فِي مِكْتَلٍ، فَإِذَا فَقَدْتَهُ فَهُوَ ثَمَّ، فَانْطَلَقَ وَانْطَلَقَ بِفَتَاهُ يُوشَعَ بْنِ نُونٍ، وَحَمَلَا حُوتًا فِي مِكْتَلٍ، حَتَّى كَانَا عِنْدَ الصَّخْرَةِ وَضَعَا رُءُوسَهُمَا وَنَامَا، فَانْسَلَّ الحُوتُ مِنَ المِكْتَلِ فَاتَّخَذَ سَبِيلَهُ فِي البَحْرِ سَرَبًا، وَكَانَ لِمُوسَى وَفَتَاهُ عَجَبًا، فَانْطَلَقَا بَقِيَّةَ لَيْلَتِهِمَا وَيَوْمَهُمَا، فَلَمَّا أَصْبَحَ قَالَ مُوسَى لِفَتَاهُ: آتِنَا غَدَاءَنَا، لَقَدْ لَقِينَا مِنْ سَفَرِنَا هَذَا نَصَبًا، وَلَمْ يَجِدْ مُوسَى مَسًّا مِنَ النَّصَبِ حَتَّى جَاوَزَ المَكَانَ الَّذِي أُمِرَ بِهِ، فَقَالَ لَهُ فَتَاهُ: (أَرَأَيْتَ إِذْ أَوَيْنَا إِلَى الصَّخْرَةِ فَإِنِّي نَسِيتُ الحُوتَ وَمَا أَنْسَانِيهِ إِلَّا الشَّيْطَانُ) قَالَ مُوسَى: (ذَلِكَ مَا كُنَّا نَبْغِي فَارْتَدَّا عَلَى آثَارِهِمَا قَصَصًا) فَلَمَّا انْتَهَيَا إِلَى الصَّخْرَةِ، إِذَا رَجُلٌ مُسَجًّى بِثَوْبٍ، أَوْ قَالَ تَسَجَّى بِثَوْبِهِ، فَسَلَّمَ مُوسَى، فَقَالَ الخَضِرُ: وَأَنَّى بِأَرْضِكَ السَّلَامُ؟ فَقَالَ: أَنَا مُوسَى، فَقَالَ: مُوسَى بَنِي إِسْرَائِيلَ؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: هَلْ أَتَّبِعُكَ عَلَى أَنْ تُعَلِّمَنِي مِمَّا عُلِّمْتَ رَشَدًا قَالَ: إِنَّكَ لَنْ تَسْتَطِيعَ مَعِيَ صَبْرًا، يَا مُوسَى إِنِّي عَلَى عِلْمٍ مِنْ عِلْمِ اللَّهِ عَلَّمَنِيهِ لَا تَعْلَمُهُ أَنْتَ، وَأَنْتَ عَلَى عِلْمٍ عَلَّمَكَهُ لَا أَعْلَمُهُ، قَالَ: سَتَجِدُنِي إِنْ شَاءَ اللَّهُ صَابِرًا، وَلَا أَعْصِي لَكَ أَمْرًا، فَانْطَلَقَا يَمْشِيَانِ عَلَى سَاحِلِ البَحْرِ، لَيْسَ لَهُمَا سَفِينَةٌ، فَمَرَّتْ بِهِمَا سَفِينَةٌ، فَكَلَّمُوهُمْ أَنْ يَحْمِلُوهُمَا، فَعُرِفَ الخَضِرُ فَحَمَلُوهُمَا بِغَيْرِ نَوْلٍ، فَجَاءَ عُصْفُورٌ، فَوَقَعَ عَلَى حَرْفِ السَّفِينَةِ، فَنَقَرَ نَقْرَةً أَوْ نَقْرَتَيْنِ فِي البَحْرِ، فَقَالَ الخَضِرُ: يَا مُوسَى مَا نَقَصَ عِلْمِي وَعِلْمُكَ مِنْ عِلْمِ اللَّهِ إِلَّا كَنَقْرَةِ هَذَا العُصْفُورِ فِي البَحْرِ، فَعَمَدَ الخَضِرُ إِلَى لَوْحٍ مِنْ أَلْوَاحِ السَّفِينَةِ، فَنَزَعَهُ، فَقَالَ مُوسَى: قَوْمٌ حَمَلُونَا بِغَيْرِ نَوْلٍ عَمَدْتَ إِلَى سَفِينَتِهِمْ فَخَرَقْتَهَا لِتُغْرِقَ أَهْلَهَا؟ قَالَ: أَلَمْ أَقُلْ إِنَّكَ لَنْ تَسْتَطِيعَ مَعِيَ صَبْرًا؟ قَالَ: لَا تُؤَاخِذْنِي بِمَا نَسِيتُ وَلَا تُرْهِقْنِي مِنْ أَمْرِي عُسْرًا – فَكَانَتِ الأُولَى مِنْ مُوسَى نِسْيَانًا -، فَانْطَلَقَا، فَإِذَا غُلَامٌ يَلْعَبُ مَعَ الغِلْمَانِ، فَأَخَذَ الخَضِرُ بِرَأْسِهِ مِنْ أَعْلَاهُ فَاقْتَلَعَ رَأْسَهُ بِيَدِهِ، فَقَالَ مُوسَى: أَقَتَلْتَ نَفْسًا زَكِيَّةً بِغَيْرِ نَفْسٍ؟ قَالَ: أَلَمْ أَقُلْ لَكَ إِنَّكَ لَنْ تَسْتَطِيعَ مَعِيَ صَبْرًا؟ – قَالَ ابْنُ عُيَيْنَةَ: وَهَذَا أَوْكَدُ – فَانْطَلَقَا، حَتَّى إِذَا أَتَيَا أَهْلَ قَرْيَةٍ اسْتَطْعَمَا أَهْلَهَا، فَأَبَوْا أَنْ يُضَيِّفُوهُمَا، فَوَجَدَا فِيهَا جِدَارًا يُرِيدُ أَنْ يَنْقَضَّ فَأَقَامَهُ، قَالَ الخَضِرُ: بِيَدِهِ فَأَقَامَهُ، فَقَالَ لَهُ مُوسَى: لَوْ شِئْتَ لَاتَّخَذْتَ عَلَيْهِ أَجْرًا، قَالَ: هَذَا فِرَاقُ بَيْنِي وَبَيْنِكَ ” قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَرْحَمُ اللَّهُ مُوسَى، لَوَدِدْنَا لَوْ صَبَرَ حَتَّى يُقَصَّ عَلَيْنَا مِنْ أَمْرِهِمَا»

‘আব্দুল্লাহ ইব্‌ন মু‘হাম্মাদ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: সুফইয়ান আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলে, তিনি বললেন: ‘উমর আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: সা’ঈদ ইব্‌ন জুবায়র (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) আমাকে হাদীসটি খবর দিলেন, তিনি বলেন: আমি ইব্‌ন ‘আব্বাস (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) কে বললাম, নাওফ আল-বাকালী দাবী করে যে, মূসা (‘‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) [যিনি খাযির (‘‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাক্ষাৎ লাভ করেছিলেন তিনি] বনী ইসরাঈলের মূসা নন বরং তিনি অন্য এক মূসা। (একথা শুনে) তিনি বললেনঃ আল্লাহর দুশমন মিথ্যা বলেছে। উবাই ইব্‌ন কা’ব (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মূসা (‘‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদা বনী ইসরাঈলদের মধ্যে বক্তৃতা দিতে দাঁড়ালেন। তখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়, সবচেয়ে জ্ঞানী কে? তিনি বললেন, ‘আমি সবচেয়ে জ্ঞানী।’ মহান আল্লাহ তাঁকে সতর্ক করে দিলেন। কেননা তিনি ‘ইলমকে আল্লাহর দিকে সোপর্দ করেন নি। অতঃপর আল্লাহ তাঁর নিকট এ ওয়াহী প্রেরণ করলেন: দুই সমুদ্রের সঙ্গমস্থলে আমার বান্দাদের মধ্যে এক বান্দা রয়েছে, যে তোমার চেয়ে অধিক জ্ঞানী। তিনি বলেন, ‘হে আমার প্রতিপালক! কীভাবে তার সাক্ষাৎ পাব?’ তখন তাঁকে বলা হল, থলের মধ্যে একটি মাছ নিয়ে নাও। অতঃপর যেখানে সেটি হারিয়ে ফেলবে সেখানেই তাকে পাবে। অতঃপর তিনি ইউশা ‘ইব্‌ন নূনকে সাথে নিয়ে যাত্রা করলেন। তাঁরা থলের মধ্যে একটি মাছ নিলেন। পথিমধ্যে তাঁরা একটি বড় পাথরের নিকট এসে মাথা রেখে শুয়ে পড়লেন। তারপর মাছটি থলে হতে বেরিয়ে গেল এবং সুড়ঙ্গের মত পথ করে সমুদ্রে চলে গেল। এ ব্যাপারটি মূসা (‘‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর খাদিম এর জন্য ছিল আশ্চর্যের বিষয়। অতঃপর তাঁরা তাদের বাকী দিন ও রাতভর চলতে থাকলেন। পরে ভোরবেলা মূসা তাঁর খাদিমকে বললেন, ‘আমাদের নাস্তা নিয়ে এস, আমরা আমাদের এ সফরে খুবই ক্লান্ত, আর মূসা (‘‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে যে স্থানের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল, সে স্থান অতিক্রম করার পূর্বে তিনি ক্লান্তি অনুভব করেন নি। তারপর তাঁর সাথী তাঁকে বলল, ‘আপনি কি লক্ষ্য করেছেন, আমরা যখন পাথরের পাশে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম, তখন আমি মাছের কথা ভুলে গিয়েছিলাম?’ মূসা (‘‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘আমরা তো সেই স্থানটিরই খোঁজ করছিলাম।’ অতঃপর তাঁরা পদচিহ্ন ধরে ফিরে চললেন। তাঁরা সেই পাথরের নিকট পৌঁছে দেখতে গেলেন, এক ব্যক্তি (হাদীস বর্ণনাকারী বলেন,) কাপড় মুড়ি দিয়ে আছেন। মূসা (‘‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে সালাম দিলেন। তখন খাযির বললেন, এ দেশে সালাম কোথা হতে আসল! তিনি বললেন, ‘আমি মূসা।’ খাযির প্রশ্ন করলেন, ‘বনী ইসরাঈলের মূসা (‘‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)?’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ। তিনি আরো বললেন, সত্য পথের যে জ্ঞান আপনাকে দান করা হয়েছে, তা থেকে শিক্ষা নেয়ার জন্য আমি কি আপনাকে অনুসরণ করতে পারি?’ খাযির বললেন, “তুমি কিছুতেই আমার সাথে ধৈর্য ধরে থাকতে পারবে না। হে মূসা (‘‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আল্লাহর ‘ইলমের মধ্যে আমি এমন এক ‘ইলম নিয়ে আছি যা তিনি কেবল আমাকেই শিখিয়েছেন, যা তুমি জান না। আর তুমি এমন ‘ইলমের অধিকারী, যা আল্লাহ তোমাকেই শিখিয়েছেন, তা আমি জানি না।” ‘মূসা (‘‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “আল্লাহ চাইলে আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন এবং আমি আপনার আদেশ অমান্য করব না। অতঃপর তাঁরা দু’জন সমুদ্র তীর দিয়ে চলতে লাগলেন, তাদের কোন নৌকা ছিল না। ইতোমধ্যে তাদের নিকট দিয়ে একটি নৌকা যাচ্ছিল। তাঁরা নৌকাওয়ালাদের সাথে তাদের তুলে নেয়ার কথা বললেন। তারা খাযিরকে চিনতে পারল এবং ভাড়া ব্যতিরেকে তাঁদের নৌকায় তুলে নিল। তখন একটি চড়ুই পাখি এসে নৌকার এক প্রান্তে বসে একবার কি দু’বার সমুদ্রে তার ঠোঁট ডুবাল। খাযির বললেনঃ ‘হে মুসা (‘‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ! আমার এবং তোমার জ্ঞান (সব মিলেও) আল্লাহর জ্ঞানের তুলনায় চড়ুই পাখির ঠোঁটে যতটুকু পানি এসেছে তার চেয়েও কম।’ অতঃপর খাযির নৌকার তক্তাগুলোর মধ্য থেকে একটি খুলে ফেললেন। মূসা (‘‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এরা আমাদের বিনা ভাড়ায় আরোহণ করিয়েছে, আর আপনি আরোহীদের ডুবিয়ে দেয়ার জন্য নৌকাটি ছিদ্র করে দিলেন?’ খাযির বললেন, “আমি কি বলিনি যে, তুমি আমার সঙ্গে কিছুতেই ধৈর্য ধরে থাকতে পারবে না?” মূসা (‘‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘আমার ত্রুটির জন্য আমাকে অপরাধী করবেন না এবং আমার ব্যাপারে অধিক কঠোর হবেন না।’ হাদীস বর্ণনাকারী বলেন, এটা মূসা (‘‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর প্রথমবারের ভুল। অতঃপর তাঁরা দু’জন (নৌকা থেকে নেমে) চলতে লাগলেন। (পথে) একটি বলক অন্যান্য বালকের সাথে খেলা করছিল। খাযির তার মাথার উপর দিক দিয়ে ধরলেন এবং হাত দিয়ে তার মাথা ছিন্ন করে ফেললেন। মূসা (‘‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘আপনি হত্যার অপরাধ ছাড়াই একটি নিষ্পাপ জীবন নাশ করলেন?’ খাযির বললেন “আমি কি তোমাকে বলিনি যে, তুমি আমার সঙ্গে কখনো ধৈর্য ধরতে পারবে না?” ইব্‌ন ‘উয়ায়নাহ (রহমাহুল্লাহ) বলেন, এটা ছিল পূর্বের চেয়ে অধিক জোরালো। “তারপর আবারো চলতে লাগলেন; চলতে চলতে তারা এক গ্রামের অধিবাসীদের নিকট পৌঁছে তাদের নিকট খাদ্য চাইলেন কিন্তু তারা তাঁদের মেহমানদারী করতে অস্বীকার করল। অতঃপর সেখানে তাঁরা ধ্বসে যাওয়ার উপক্রম এমন একটি প্রাচীর দেখতে পেলেন। খাযির তাঁর হাত দিয়ে সেটি দাঁড় করে দিলেন। মূসা (‘‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “আপনি ইচ্ছে করলে এর জন্য মজুরী নিতে পারতেন। তিনি বললেন, ‘এখানেই তোমার আর আমার মধ্যে সম্পর্কের অবসান।” (সূরা কাহফ, ১৮:৭৭-৭৮) ; নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ আল্লাহ তা’আলা মূসার উপর রহম করুন। আমাদের কতই না মনোবাঞ্চা পূর্ণ হতো যদি তিনি সবর করতেন, তাহলে আমাদের নিকট তাঁদের আরো ঘটনাবলী হাদীস বর্ণনা করা হতো।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [৭৪; মুসলিম ৪৩/৪৬, হাঃ ২৩৮০, আহমাদ ২১১৬৭] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২০, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১২৪]

ফুটনোটঃ
১. এ হাদিসে বর্ণিত আয়াতে কারীমাহগুলো সূরা কাহ্‌ফ ৬১ থেকে ৭৮ আয়াত পর্যন্ত।

٨٦. ‌‌بَابُ مَنْ سَأَلَ، وَهُوَ قَائِمٌ، عَالِمًا جَالِسًا

৮৬. পরিচ্ছেদ : ‘আলিম বসে থাকা অবস্থায় দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করা।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১২৩

হাদিসের মান: সহীহ

١٢٣ – حَدَّثَنَا عُثْمَانُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ ، مَا القِتَالُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ؟ فَإِنَّ أَحَدَنَا يُقَاتِلُ غَضَبًا، وَيُقَاتِلُ حَمِيَّةً، فَرَفَعَ إِلَيْهِ رَأْسَهُ، قَالَ: وَمَا رَفَعَ إِلَيْهِ رَأْسَهُ إِلَّا أَنَّهُ كَانَ قَائِمًا، فَقَالَ: «مَنْ قَاتَلَ لِتَكُونَ كَلِمَةُ اللَّهِ هِيَ العُلْيَا، فَهُوَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ»

‘উসমান আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: জারীর আমাদেরকে হাদীসটি সংবাদ দিলেন মানস্বুর থেকে, তিনি আবূ ওয়াইল থেকে, তিনি আবূ মূসা (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট এসে বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহর পথে যুদ্ধ কোনটি, কেননা আমাদের কেউ লড়াই করে রাগের বশবর্তী হয়ে, আবার কেউ লড়াই করে প্রতিশোধ নেয়ার জন্য। তিনি তার দিকে মাথা তুলে তাকালেন। বর্ণনাকারী বলেন, তাঁর মাথা তোলার কারণ ছিল যে, সে ছিল দাঁড়ানো। অতঃপর তিনি বললেনঃ “আল্লাহর বাণী বিজয়ী করার জন্য যে যুদ্ধ করে তার লড়াই আল্লাহর পথে হয়”।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [২৮১০, ৩১২৬, ৭৪৫৮; মুসলিম ৩৩/৪২, হাঃ ১৯০৪, আহমাদ ১৯৫১০, ১৯৫৬০, ১৯৬১৩] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২১, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১২৫]

٨٧. ‌‌بَابُ السُّؤَالِ وَالفُتْيَا عِنْدَ رَمْيِ الجِمَارِ

৮৭. পরিচ্ছেদ : কঙ্কর মারার সময় কোন মাসআলা জিজ্ঞেস করা।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১২৪

হাদিসের মান: সহীহ

١٢٤ – حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ العَزِيزِ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عِيسَى بْنِ طَلْحَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عِنْدَ الجَمْرَةِ وَهُوَ يُسْأَلُ، فَقَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، نَحَرْتُ قَبْلَ أَنْ أَرْمِيَ؟ قَالَ: «ارْمِ وَلَا حَرَجَ»، قَالَ آخَرُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، حَلَقْتُ قَبْلَ أَنْ أَنْحَرَ؟ قَالَ: «انْحَرْ وَلَا حَرَجَ». فَمَا سُئِلَ عَنْ شَيْءٍ قُدِّمَ وَلَا أُخِّرَ إِلَّا قَالَ: «افْعَلْ وَلَا حَرَجَ»

আবূ নু‘আয়ম আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ‘আব্দুল আযীয ইব্‌ন আবূ সালামাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন যুহুরী থেকে, তিনি ‘ঈসা ইব্‌ন ত্বালহা থেকে, তিনি ‘আব্দুল্লাহ ইব্‌ন ‘আমর (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখলাম, জামরাহ্‌র নিকট তাঁকে মাসআলা জিজ্ঞেস করা হচ্ছে। এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, “হে আল্লাহর রসূল! আমি কঙ্কর মারার পূর্বেই কুরবানী করে ফেলেছি”। তিনি বললেন: “কঙ্কর মার, তাতে কোন ক্ষতি নেই”। অন্য এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, “হে আল্লাহর রসূল! আমি কুরবানী করার পূর্বেই মাথা কামিয়ে ফেলেছি”। তিনি বললেন, “কুরবানী করে নাও, কোন ক্ষতি নেই”। বস্তুত আগ পিছ করার যে কোন প্রশ্নই তাঁকে করা হচ্ছিল, তিনি বলছিলেন, “কর, কোন ক্ষতি নেই”।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [৮৩] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২২, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১২৬]

‌‌٨٨. بَابُ قَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: {وَمَا أُوتِيتُمْ مِنَ العِلْمِ إِلَّا قَلِيلًا} [الإسراء: ٨٥]

৮৮. পরিচ্ছেদ : আল্লাহ তা ‘আলার বাণী, “তোমাদেরকে ইল্‌ম দেওয়া হয়েছে অতি অল্পই।” [সূরা আল-ইসরা : ৮৫]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১২৫

হাদিসের মান: সহীহ

١٢٥ – حَدَّثَنَا قَيْسُ بْنُ حَفْصٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الوَاحِدِ، قَالَ: حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ سُلَيْمَانُ بْنُ مِهْرَانَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: بَيْنَا أَنَا أَمْشِي مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي خَرِبِ المَدِينَةِ، وَهُوَ يَتَوَكَّأُ عَلَى عَسِيبٍ مَعَهُ، فَمَرَّ بِنَفَرٍ مِنَ اليَهُودِ، فَقَالَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ: سَلُوهُ عَنِ الرُّوحِ؟ وَقَالَ بَعْضُهُمْ: لَا تَسْأَلُوهُ، لَا يَجِيءُ فِيهِ بِشَيْءٍ تَكْرَهُونَهُ، فَقَالَ بَعْضُهُمْ: لَنَسْأَلَنَّهُ، فَقَامَ رَجُلٌ مِنْهُمْ، فَقَالَ يَا أَبَا القَاسِمِ مَا الرُّوحُ؟ فَسَكَتَ، فَقُلْتُ: إِنَّهُ يُوحَى إِلَيْهِ، فَقُمْتُ، فَلَمَّا انْجَلَى عَنْهُ، قَالَ: «(وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الرُّوحِ قُلِ الرُّوحُ مِنْ أَمْرِ رَبِّي وَمَا أُوتُوا مِنَ العِلْمِ إِلَّا قَلِيلًا)». قَالَ الأَعْمَشُ: هَكَذَا فِي قِرَاءَتِنَا

ক্বায়স ইব্‌ন হাফস্ব আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ‘আব্দুল ওয়া‘হিদ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: আ’মাশ সুলায়মান ইব্‌ন মেহ্‌রান আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ইব্রাহীম থেকে, তিনি ‘আল্‌ক্বামাহ থেকে, তিনি ‘আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি বললেন: একদা আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে মদীনার বসতিহীন এলাকা দিয়ে চলছিলাম। তিনি একখানি খেজুরের ডালে ভর দিয়ে একদল ইয়াহুদীর কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তারা একজন অন্যজনকে বলতে লাগল, ‘তাঁকে রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস কর।’ আর একজন বলল, ‘তাঁকে কোন প্রশ্ন করো না, হয়ত এমন কোন জবাব দিবেন যা তোমরা পছন্দ করোনা।’ আবার কেউ কেউ বলল, ‘তাঁকে আমরা প্রশ্ন করবই।’ অতঃপর তাদের মধ্য হতে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, ‘হে আবুল কাসিম! রূহ কী?’ আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চুপ করে রইলেন, আমি মনে মনে বললাম, তাঁর প্রতি ওয়াহী অবতীর্ণ হচ্ছে। তাই আমি দাঁড়িয়ে রইলাম। অতঃপর যখন সে অবস্থা কেটে গেল তখন তিনি বললেন: “তারা তোমাকে রূহ সম্পর্কে প্রশ্ন করে। বল, রূহ আমার প্রতিপালকের আদেশ ঘটিত। এবং তাদেরকে সামান্যই জ্ঞান দেয়া হয়েছে।” (সূরা আল-ইসরা, ১৭:৮৫) আ’মাশ (রহমাহুল্লাহ) বলেন, এভাবেই আয়াতটিকে আমাদের কিরাআতে أُوتِيتُم এর স্থলে أُوتُو পড়া হয়েছে।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [৪৭২১, ৭২৯৭, ৭৪৫৬, ৭৪৬২; মুসলিম ৫০/৪, হাঃ ২৭৯৪, আহমাদ ৩৬৮৮] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৩, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১২৭]

٨٩. ‌‌بَابُ مَنْ تَرَكَ بَعْضَ الِاخْتِيَارِ، مَخَافَةَ أَنْ يَقْصُرَ فَهْمُ بَعْضِ النَّاسِ عَنْهُ، فَيَقَعُوا فِي أَشَدَّ مِنْهُ

৮৯. পরিচ্ছেদ : কোন কোন মুস্তাহাব কাজ এই আশঙ্কায় ছেড়ে দেয়া যে, কিছু কম মেধাবী লোকে ভুল বুঝতে পারে এবং তারা আরো অধিকতর বিভ্রান্তিতে পড়তে পারে।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১২৬

হাদিসের মান: সহীহ

١٢٦ – حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الأَسْوَدِ، قَالَ: قَالَ لِي ابْنُ الزُّبَيْرِ، كَانَتْ عَائِشَةُ تُسِرُّ إِلَيْكَ كَثِيرًا فَمَا حَدَّثَتْكَ فِي الكَعْبَةِ؟ قُلْتُ: قَالَتْ لِي: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ” يَا عَائِشَةُ لَوْلَا قَوْمُكِ حَدِيثٌ عَهْدُهُمْ – قَالَ ابْنُ الزُّبَيْرِ – بِكُفْرٍ، لَنَقَضْتُ الكَعْبَةَ فَجَعَلْتُ لَهَا بَابَيْنِ: بَابٌ يَدْخُلُ النَّاسُ وَبَابٌ يَخْرُجُونَ ” فَفَعَلَهُ ابْنُ الزُّبَيْرِ

‘আব্দুল্লাহ ইব্‌ন মূসা আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ইসরাঈল থেকে, তিনি আবূ ইস‘হাক থেকে, তিনি আসওয়াদ (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বলেন: ইব্‌ন যুবায়র (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) আমাকে বললেন, ‘আয়িশা (রাজিআল্লাহু ‘আনহা) তোমাকে অনেক হাদীস গোপনে বলতেন। বলতো কা’বা সম্পর্কে তোমাকে কী বলেছেন? আমি বললাম, তিনি আমাকে বলেছেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ‘আয়িশা! তোমাদের কওম যদি (ইসলাম গ্রহণে) নতুন না হত, ইব্‌ন যুবায়র বলেনঃ কুফর থেকে; তবে আমি কা’বা ভেঙ্গে ফেলে তার দু’টি দরজা বানাতাম। এক দরজা দিয়ে লোক প্রবেশ করত আর এক দরজা দিয়ে বের হত। (পরবর্তীকালে মক্কার আধিপত্য পেলে) তিনি এরূপ করেছিলেন।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [১৫৮৩, ১৫৮৪, ১৫৮৫, ১৫৮৬, ৩৩৬৮, ৪৪৮৪, ৭২৪৩ দ্রষ্টব্য] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৪, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১২৮]

٩٠. ‌‌بَابُ مَنْ خَصَّ بِالعِلْمِ قَوْمًا دُونَ قَوْمٍ، كَرَاهِيَةَ أَنْ لَا يَفْهَمُوا

৯০. পরিচ্ছেদ : বুঝতে না পারার আশঙ্কায় ‘ইলম শিক্ষায় কোন এক গোত্র ছেড়ে আর এক গোত্র বেছে নেয়া।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১২৭

হাদিসের মান: সহীহ

١٢٧ – وَقَالَ عَلِيٌّ: «حَدِّثُوا النَّاسَ، بِمَا يَعْرِفُونَ أَتُحِبُّونَ أَنْ يُكَذَّبَ، اللَّهُ وَرَسُولُهُ» حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ مَعْرُوفِ بْنِ خَرَّبُوذٍ عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ عَنْ عَلِيٍّ بِذَلِكَ

আলী (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) বলেন, “মানুষের কাছে সেই ধরনের কথা বল, যা তারা বুঝতে পারে। তোমরা কি পছন্দ কর যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি মিথ্যা আরোপ করা হোক?” এ হাদীসটি উবায়দুল্লাহ ইব্‌ন মূসা (রহমাহুল্লাহ) এভাবে বর্ণনা করলেন মা‘আরূফ ইব্‌ন খার্‌রাবূয থেকে, তিনি আবূ ত্বুফায়ল থেকে, তিনি আলী (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : …

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১২৮

হাদিসের মান: সহীহ

١٢٨ – حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَمُعاذٌ رَدِيفُهُ عَلَى الرَّحْلِ، قَالَ: «يَا مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ»، قَالَ: لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَسَعْدَيْكَ، قَالَ: «يَا مُعَاذُ»، قَالَ: لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَسَعْدَيْكَ ثَلَاثًا، قَالَ: «مَا مِنْ أَحَدٍ يَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، صِدْقًا مِنْ قَلْبِهِ، إِلَّا حَرَّمَهُ اللَّهُ عَلَى النَّارِ»، قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ: أَفَلَا أُخْبِرُ بِهِ النَّاسَ فَيَسْتَبْشِرُوا؟ قَالَ: «إِذًا يَتَّكِلُوا» وَأَخْبَرَ بِهَا مُعَاذٌ عِنْدَ مَوْتِهِ تَأَثُّمًا

ইস‘হাক ইব্‌ন ইবরাহীম আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: মু‘আয ইব্‌ন হিশাম আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: আমার পিতা আমাকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ক্বাতাদাহ থেকে, তিনি বললেন: আনাস ইব্‌নু মালিক (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: একদা মু‘আয (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পিছনে সওয়ারীতে ছিলেন, তখন তিনি তাকে ডাকলেন, “হে মু‘আয ইব্‌নু জাবাল!” মু‘আয (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) বললেন, “হে আল্লাহর রসূল আমি আপনার সার্বিক সহযোগিতা ও খেদমতে হাযির আছি”। তিনি ডাকলেন, মু‘আয! মু‘আয (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) উত্তর দিলেন, “আমি হাযির হে আল্লাহর রসূল ও প্রস্তুত”। তিনি আবার ডাকলেন, মু‘আয। তিনি উত্তর দিলেন, “আমি হাযির এবং প্রস্তুত”। এরূপ তিনবার করলেন। অতঃপর বললেনঃ যে কোন বান্দা আন্তরিকতার সাথে এ সাক্ষ্য দেবে যে, “আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রসূল- তার জন্য আল্লাহ তা’আলা জাহান্নাম হারাম করে দিবেন”। মু‘আয বললেন, “হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমি কি মানুষকে এ খবর দেব না, যাতে তারা সুসংবাদ পেতে পারে?” তিনি বললেন, “তাহলে তারা এর উপরই ভরসা করবে”। মু‘আয (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) (জীবন ভর এ হাদীসটি বর্ণনা করেননি) মৃত্যুর সময় এ হাদীসটি বর্ণনা করে গেছেন যাতে (‘ইলম গোপন রাখার) গুনাহ না হয়।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [১২৯; মুসলিম ১/১০, হাঃ ৩২] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৫, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৩০]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১২৯

হাদিসের মান: সহীহ

١٢٩ – حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، قَالَ: ذُكِرَ لِي أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِمُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ: «مَنْ لَقِيَ اللَّهَ لَا يُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا دَخَلَ الجَنَّةَ»، قَالَ: أَلَا أُبَشِّرُ النَّاسَ؟ قَالَ: «لَا إِنِّي أَخَافُ أَنْ يَتَّكِلُوا»

মুসাদ্দাদ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: মু’তামির আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: আমার পিতা থেকে আমি হাদীসটি শুনেছি, তিনি বললেন: আমি আনাস ইব্‌ন মালিক (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে হাদীসটি শুনেছি, তিনি বললেন: নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মু‘আয (রাজিআল্লাহু ‘আনহু)-কে বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে কোনরূপ শির্‌ক না করে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। মু‘আয (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) বললেন, “আমি কি লোকদের সুসংবাদ দেব না?” তিনি বললেন, “না, আমার আশংকা হচ্ছে যে, তারা এর উপরই ভরসা করে বসে থাকবে”।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [১২৮] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৬, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৩১]

٩١. ‌‌بَابُ الحَيَاءِ فِي العِلْمِ

وَقَالَ مُجَاهِدٌ: «لَا يَتَعَلَّمُ العِلْمَ مُسْتَحْيٍ وَلَا مُسْتَكْبِرٌ» وَقَالَتْ عَائِشَةُ: «نِعْمَ النِّسَاءُ نِسَاءُ الأَنْصَارِ لَمْ يَمْنَعْهُنَّ الحَيَاءُ أَنْ يَتَفَقَّهْنَ فِي الدِّينِ»

৯১. পরিচ্ছেদ : ‘ইলম শিক্ষা করতে লজ্জাবোধ করা।

মুজাহিদ (রহমাহুল্লাহ) বলেন, ‘লাজুক এবং অহংকারী ব্যক্তি জ্ঞান অর্জন করতে পারে না। ‘আয়িশা (রাজিআল্লাহু ‘আনহা) বলেন, ‘আনসারী মহিলারাই উত্তম। লজ্জা তাদেরকে ইসলামী জ্ঞান অন্বেষণ থেকে ফিরিয়ে রাখতে পারেনি।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৩০

হাদিসের মান: সহীহ

١٣٠ – حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَامٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ زَيْنَبَ ابْنَةِ أُمِّ سَلَمَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ: جَاءَتْ أُمُّ سُلَيْمٍ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ لَا يَسْتَحْيِي مِنَ الحَقِّ، فَهَلْ عَلَى المَرْأَةِ مِنْ غُسْلٍ إِذَا احْتَلَمَتْ؟ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا رَأَتِ المَاءَ» فَغَطَّتْ أُمُّ سَلَمَةَ، تَعْنِي وَجْهَهَا، وَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَوَتَحْتَلِمُ المَرْأَةُ؟ قَالَ: «نَعَمْ، تَرِبَتْ يَمِينُكِ، فَبِمَ يُشْبِهُهَا وَلَدُهَا»

মু‘হাম্মাদ ইব্‌ন সালাম আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: আবূ মু‘আবীয়াহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: হিশাস ইব্‌ন ‘উরওয়াহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন তার পিতা থেকে, তিনি যায়নাব ইব্‌নাতা উম্মু সালামা (রাজিআল্লাহু ‘আনহা) থেকে, তিনি বললেন: আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট উম্মু সুলায়ম (রাজিআল্লাহু ‘আনহা) এসে বললেন: হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহ হক কথা প্রকাশ করতে লজ্জাবোধ করেন না। মহিলাদের স্বপ্নদোষ হলে কি গোসল করতে হবে? নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ “হ্যাঁ, যখন সে বীর্য দেখতে পাবে”। তখন উম্মু সালামা (লজ্জায়) তার মুখ ঢেকে নিয়ে বললেন, “হে আল্লাহর রসূল! মহিলাদেরও স্বপ্নদোষ হয় কি?” তিনি বললেন, “হ্যাঁ, তোমার ডান হাতে মাটি পড়ুক! (তা না হলে) তাদের সন্তান তাদের আকৃতি পায় কীভাবে?”

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [২৮২, ৩৩২৮, ৬০৯১, ৬১২১; মুসলিম ৩/৭, হাঃ ৩১৩, আহমাদ ২৬৬৭৫] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৭, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৩২]

ফুটনোটঃ
১. এটি কোন বদ দু’আ নয়, বরং বিস্ময় প্রকাশের জন্য আরবীতে ব্যবহৃত হয়।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৩১

হাদিসের মান: সহীহ

١٣١ – حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ: حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ مِنَ الشَّجَرِ شَجَرَةً لَا يَسْقُطُ وَرَقُهَا، وَهِيَ مَثَلُ المُسْلِمِ، حَدِّثُونِي مَا هِيَ؟» فَوَقَعَ النَّاسُ فِي شَجَرِ البَادِيَةِ، وَوَقَعَ فِي نَفْسِي أَنَّهَا النَّخْلَةُ، قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: فَاسْتَحْيَيْتُ، فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَخْبِرْنَا بِهَا؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هِيَ النَّخْلَةُ» قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: فَحَدَّثْتُ أَبِي بِمَا وَقَعَ فِي نَفْسِي، فَقَالَ: «لَأَنْ تَكُونَ قُلْتَهَا أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ يَكُونَ لِي كَذَا وَكَذَا»

ইসমা‘ঈল আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: মালিক আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ‘আব্দুল্লাহ ইব্‌ন দীনার থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইব্‌ন ‘উমার (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: গাছের মধ্যে এমন একটি গাছ রয়েছে যার পাতা ঝরে পড়ে না এবং তা হ’ল মুসলিমের দৃষ্টান্ত। তোমরা আমাকে বল তো সেটা কোন গাছ? তখন লোকজনের খেয়াল জঙ্গলের গাছপালার প্রতি গেল। আর আমার মনে হতে লাগল যে, সেটি খেজুর গাছ। ‘আবদুল্লাহ (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) বলেন, “কিন্তু আমি লজ্জাবোধ করলাম”। সাহাবায়ে কিরাম (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) বললেন, “হে আল্লাহর রসূল! আপনিই আমাদের তা বলে দিন”। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “তা হ’ল খেজুর গাছ”। ‘আবদুল্লাহ (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) বলেন, “তারপর আমি আমার পিতাকে আমার মনে যা এসেছিল তা বললাম”। তিনি বললেন, “তুমি তখন তা বলে দিলে তা আমার নিকট এরূপ এরূপ জিনিস লাভ করার চেয়ে অধিক প্রিয় হতো”।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [৬১] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৮, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৩৩]

٩٢. ‌‌بَابُ مَنِ اسْتَحْيَا فَأَمَرَ غَيْرَهُ بِالسُّؤَالِ

৯২. পরিচ্ছেদ : নিজে লজ্জা করলে অন্যকে দিয়ে প্রশ্ন করানো।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৩২

হাদিসের মান: সহীহ

١٣٢ – حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ مُنْذِرٍ الثَّوْرِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ ابْنِ الحَنَفِيَّةِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، قَالَ: كُنْتُ رَجُلًا مَذَّاءً فَأَمَرْتُ المِقْدَادَ بْنَ الأَسْوَدِ أَنْ يَسْأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَأَلَهُ، فَقَالَ: «فِيهِ الوُضُوءُ»

মুসাদ্দাদ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ‘আব্দুল্লাহ ইব্‌ন দাউদ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন আ‘আমাশ থেকে, তিনি মুনযির সাওরী থেকে, তিনি মু‘হাম্মাদ ইব্‌ন হানাফী থেকে, তিনি ‘আলী ইব্‌নু আবূ তালিব (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বললেন: আমার অধিক পরিমাণে ‘মযী’ বের হত। তাই এ ব্যাপারে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করার জন্য মিকদাদকে বললাম। তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ “এতে কেবল উযূ করতে হয়”।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [১৭৮,২৬৯; মুসলিম ৩/৪, হাঃ ৩০৩, আহমাদ ৬০৬, ১০০৯, ১০৩৫] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৯, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৩৪]

٩٣. ‌‌بَابُ ذِكْرِ العِلْمِ وَالفُتْيَا فِي المَسْجِدِ

৯৩. পরিচ্ছেদ : মসজিদে ‘ইলম ও ফতোয়া আলোচনা করা।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৩৩

হাদিসের মান: সহীহ

١٣٣ – حَدَّثَنِي قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا نَافِعٌ، مَوْلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الخَطَّابِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَجُلًا، قَامَ فِي المَسْجِدِ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مِنْ أَيْنَ تَأْمُرُنَا أَنْ نُهِلَّ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يُهِلُّ أَهْلُ المَدِينَةِ مِنْ ذِي الحُلَيْفَةِ، وَيُهِلُّ أَهْلُ الشَّأْمِ مِنَ الجُحْفَةِ، وَيُهِلُّ أَهْلُ نَجْدٍ مِنْ قَرْنٍ» وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ وَيَزْعُمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «وَيُهِلُّ أَهْلُ اليَمَنِ مِنْ يَلَمْلَمَ» وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يَقُولُ: لَمْ أَفْقَهْ هَذِهِ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

ক্বুতায়বাহ ইব্‌ন সা‘ঈদ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: লাইস ইব্‌ন সা’দ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ‘আবদুল্লাহ ইব্‌ন ‘উমার ইব্‌ন খাত্ত্বাব (রাজিআল্লাহু ‘আনহু)-এর স্বাধীন করা গুলাম নাফি’ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ‘আব্দুল্লাহ ইব্‌ন ‘উমার থেকে, তিনি বললেন: এক ব্যক্তি মসজিদে দাঁড়িয়ে বলল, “হে আল্লাহর রসূল! আপনি আমাদের কোন স্থান হতে ইহ্‌রাম বাঁধার নির্দেশ দেন?” আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: মদীনাবাসী ইহ্‌রাম বাঁধবে “যু’ল-হুলাইফাহ” হতে, সিরিয়াবাসী ইহ্‌রাম বাঁধবে “জুহফা” হতে এবং নাজদবাসী ইহ্‌রাম বাঁধবে “কর্‌ন” হতে। ইব্‌নু ‘উমার (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) বলেন, সাহাবীগণ বলেন যে, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এও বলেছেন: “এবং ইয়ামানবাসী ইহ্‌রাম বাঁধবে “ইয়ালামলাম” হতে”। ইব্‌নু ‘উমার (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) বলেছেন, “এ কথাটি আমি রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বুঝে নেইনি”।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [১৫২২, ১৫২৫, ১৫২৭, ১৫২৮, ৭৩৩৪] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩০, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৩৫]

٩٤. ‌‌بَابُ مَنْ أَجَابَ السَّائِلَ بِأَكْثَرَ مِمَّا سَأَلَهُ

৯৪. পরিচ্ছেদ : প্রশ্নকারীর প্রশ্নের চেয়ে বিশী উত্তর প্রদান।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৩৪

হাদিসের মান: সহীহ

١٣٤ – حَدَّثَنَا آدَمُ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ رَجُلًا سَأَلَهُ: مَا يَلْبَسُ المُحْرِمُ؟ فَقَالَ: «لَا يَلْبَسُ القَمِيصَ، وَلَا العِمَامَةَ، وَلَا السَّرَاوِيلَ، وَلَا البُرْنُسَ، وَلَا ثَوْبًا مَسَّهُ الوَرْسُ أَوِ الزَّعْفَرَانُ، فَإِنْ لَمْ يَجِدِ النَّعْلَيْنِ فَلْيَلْبَسِ الخُفَّيْنِ، وَلْيَقْطَعْهُمَا حَتَّى يَكُونَا تَحْتَ الكَعْبَيْنِ»

আদম আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ইব্‌ন আবূ যি’ব আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন নাফি’ থেকে, তিনি ইব্‌ন ‘উমার (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞেস করল, ‘মুহরিম কী কাপড় পরিধান করবে?’ তিনি বললেনঃ ‘জামা, পাগড়ী, পাজামা, টুপি, এবং কুসুম বা যা’ফরান রঙ্গে রঞ্জিত কোন কাপড় পরিধান করবে না। জুতা না পেলে চামড়ার মোজা পরতে পারে, তবে এমনভাবে কেটে ফেলতে হবে যাতে মোজা দু’টি পায়ের গিরার নিচে থাকে।

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা : [৩৬৬, ১৫৪২, ১৮৩৮, ১৮৪২, ৫৭৯৪, ৫৮০৩, ৫৮০৫, ৫৮০৬, ৫৮৪৭, ৫৮৫২] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩১, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৩৬]

٤ – كِتَابُ الوُضُوءِ

৪-কিতাবুল উযূ

٩٥. ‌‌بَابُ مَا جَاءَ فِي الوُضُوءِ

وَقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: {إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى المَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الكَعْبَيْنِ} قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: «وَبَيَّنَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ فَرْضَ الوُضُوءِ مَرَّةً مَرَّةً، وَتَوَضَّأَ أَيْضًا مَرَّتَيْنِ وَثَلَاثًا، وَلَمْ يَزِدْ عَلَى ثَلَاثٍ، وَكَرِهَ أَهْلُ العِلْمِ الإِسْرَافَ فِيهِ، وَأَنْ يُجَاوِزُوا فِعْلَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ»

৯৫. পরিচ্ছেদ : উযূর বর্ণনা।

আল্লাহ্‌ তা‘আলার বাণী: “ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা যখন সালাতের জন্য দাঁড়াতে চাও তখন ধৌত করে নিবে নিজেদের মুখমণ্ডল এবং হাত কনুই পর্যন্ত আর মাস্‌হ করে নিবে নিজেদের মস্তক এবং ধৌত করে নিবে নিজেদের পা গ্রন্থি পর্যন্ত।” [সূরা আল-মায়িদাহ্‌ ৫:৬] আবূ ‘আব্দুল্লাহ্‌ বুখারী (রহমাহুল্লাহ) বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: উযূর ফরয হল এক-একবার করে ধোয়া। তিনি দু’-দু’বার করে এব তিনি-তিনবার করেও উযূ করেছেন, কিন্তু তিনবারের অধিক ধৌত করেন নি। পানির অপচয় করা এবং নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর ‘আমলের সীমা অতিক্রম করাকে ‘উলামায়ে কিরাম বৈধ মনে করেন নাই।

٩٦. ‌‌بَابٌ: لَا تُقْبَلُ صَلَاةٌ بِغَيْرِ طُهُورٍ

৯৬. পরিচ্ছেদ : পবিত্রতা ব্যাতীত সালাত কবুল হবে না।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৩৫

হাদিসের মান: সহীহ

١٣٥ – حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الحَنْظَلِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تُقْبَلُ صَلَاةُ مَنْ أَحْدَثَ حَتَّى يَتَوَضَّأَ» قَالَ رَجُلٌ مِنْ حَضْرَمَوْتَ: مَا الحَدَثُ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ؟، قَالَ: فُسَاءٌ أَوْ ضُرَاطٌ

ইস‘হাক ইব্‌ন ইব্রাহীম আল-হানজালী আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ‘আব্দুর রায্‌যাক্ব আমাদেরকে হাদীসটি সংবাদ দিলেন, তিনি বললেন: মা’মার আমাদেরকে হাদীসটি সংবাদ দিলেন হাম্মাম ইব্‌ন মুনাব্বিহ থেকে, তিনি আবূ হুরায়রাহ (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে শুনেছেন, তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: “যে ব্যক্তির হাদাস হয় তার সালাত কবুল হবে না, যতক্ষণ না সে উযূ করে”। হাযরা-মাওতের জনৈক ব্যক্তি বলল, “হে আবূ-হুরাইরা! হাদাস কী?” তিনি বললেন, “নিঃশব্দে বা সশব্দে বায়ু বের হওয়া।”

অনুরূপ বর্ণনা : [৬৯৫৪; মুসলিম ২/২, হাঃ ২২৫, আহমাদ ৮০৮৪] [আ. প্র.: ১৩২, ই. ফা. ১৩৭]

٩٧. ‌‌بَابُ فَضْلِ الوُضُوءِ، وَالغُرُّ المُحَجَّلُونَ مِنْ آثَارِ الوُضُوءِ

৯৭. পরিচ্ছেদ : উযূর ফযীলত এবং উযূর প্রভাবে যাদের উযূর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ উজ্জ্বল হবে।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৩৬

হাদিসের মান: সহীহ

١٣٦ – حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ خَالِدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِلَالٍ، عَنْ نُعَيْمٍ المُجْمِرِ، قَالَ: رَقِيتُ مَعَ أَبِي هُرَيْرَةَ عَلَى ظَهْرِ المَسْجِدِ، فَتَوَضَّأَ، فَقَالَ: إِنِّي سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ «إِنَّ أُمَّتِي يُدْعَوْنَ يَوْمَ القِيَامَةِ غُرًّا مُحَجَّلِينَ مِنْ آثَارِ الوُضُوءِ، فَمَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أَنْ يُطِيلَ غُرَّتَهُ فَلْيَفْعَلْ»

ইয়া‘হইয়া ইব্‌ন বুকায়র আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: লাইস আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন খালিদ থেকে, তিনি সা‘ঈদ ইব্‌ন আবী হিলাল থেকে, তিনি নু‘আয়ম মুজমির থেকে, তিনি বললেন: আমি আবূ হুরায়রা (রাজিআল্লাহু ‘আনহু)-এর সঙ্গে মসজিদের ছাদে উঠলাম। অতঃপর তিনি উযূ করে বললেন: “আমি আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের দিন আমার উম্মাতকে এমন অবস্থায় আহ্বান করা হবে যে, উযূর প্রভাবে তাদের হাত-পা ও মুখমণ্ডল উজ্জ্বল থাকবে। তাই তোমাদের মধ্যে যে এ উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে নিতে পারে, সে যেন তা করে।”

অনুরূপ বর্ণনা : [মুসলিম ২/১২, হাঃ ২৪৬, আহমাদ ৯২০৬] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৩, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৩৮]

٩٨. ‌‌بَابُ مَنْ لَا يَتَوَضَّأُ مِنَ الشَّكِّ حَتَّى يَسْتَيْقِنَ

৯৮. পরিচ্ছেদ : নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সন্দেহের কারণে উযূ করতে হয় না।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৩৭

হাদিসের মান: সহীহ

١٣٧ – حَدَّثَنَا عَلِيٌّ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ: حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ المُسَيِّبِ، ح وَعَنْ عَبَّادِ بْنِ تَمِيمٍ، عَنْ عَمِّهِ، أَنَّهُ شَكَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الرَّجُلُ الَّذِي يُخَيَّلُ إِلَيْهِ أَنَّهُ يَجِدُ الشَّيْءَ فِي الصَّلَاةِ؟ فَقَالَ: «لَا يَنْفَتِلْ – أَوْ لَا يَنْصَرِفْ – حَتَّى يَسْمَعَ صَوْتًا أَوْ يَجِدَ رِيحًا»

‘আলী আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: সুফইয়ান আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: যুহ্‌রী আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন সা‘ঈদ ইব্‌ন মুসাইয়েবা থেকে, (অন্য সনদে) এবং ‘আব্বাদ ইব্‌নু তামীম থেকে, তিনি তাঁর চাচা থেকে, তিনি বললেন: একদা আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এক ব্যক্তি সম্পর্কে বলা হল যে, তার মনে হয়েছিল যেন সালাতের মধ্যে কিছু হয়ে গিয়েছিল। তিনি বললেন: সে যেন ফিরে না যায়, যতক্ষণ না শব্দ শোনে বা দুর্গন্ধ পায়।

অনুরূপ বর্ণনা : [১৭৭, ২০৫৬; মুসলিম ৩/২৬, হাঃ ৩৬১] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৪, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৩৯]

٩٩. ‌‌بَابُ التَّخْفِيفِ فِي الوُضُوءِ

৯৯. পরিচ্ছেদ : হালকাভাবে উযূ করা।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৩৮

হাদিসের মান: সহীহ

١٣٨ – حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، قَالَ: أَخْبَرَنِي كُرَيْبٌ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ” أَنَّ النَّبِيَّ صلّى الله عليه وسلم نَامَ حَتَّى نَفَخَ، ثُمَّ صَلَّى – وَرُبَّمَا قَالَ: اضْطَجَعَ حَتَّى نَفَخَ، ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى – ” ثُمَّ حَدَّثَنَا بِهِ سُفْيَانُ، مَرَّةً بَعْدَ مَرَّةٍ عَنْ عَمْرٍو، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: بِتُّ عِنْدَ خَالَتِي مَيْمُونَةَ لَيْلَةً فَقَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَ اللَّيْلِ، فَلَمَّا كَانَ فِي بَعْضِ اللَّيْلِ قَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «فَتَوَضَّأَ مِنْ شَنٍّ مُعَلَّقٍ وُضُوءًا خَفِيفًا يُخَفِّفُهُ – عَمْرٌو وَيُقَلِّلُهُ -، وَقَامَ يُصَلِّي، فَتَوَضَّأْتُ نَحْوًا مِمَّا تَوَضَّأَ، ثُمَّ جِئْتُ فَقُمْتُ، عَنْ يَسَارِهِ – وَرُبَّمَا قَالَ سُفْيَانُ عَنْ شِمَالِهِ – فَحَوَّلَنِي فَجَعَلَنِي عَنْ يَمِينِهِ، ثُمَّ صَلَّى مَا شَاءَ اللَّهُ، ثُمَّ اضْطَجَعَ فَنَامَ حَتَّى نَفَخَ، ثُمَّ أَتَاهُ المُنَادِي فَآذَنَهُ بِالصَّلَاةِ، فَقَامَ مَعَهُ إِلَى الصَّلَاةِ، فَصَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ» قُلْنَا لِعَمْرٍو إِنَّ نَاسًا يَقُولُونَ: «إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَنَامُ عَيْنُهُ وَلَا يَنَامُ قَلْبُهُ» قَالَ عَمْرٌو سَمِعْتُ عُبَيْدَ بْنَ عُمَيْرٍ يَقُولُ: ” رُؤْيَا الأَنْبِيَاءِ وَحْيٌ، ثُمَّ قَرَأَ {إِنِّي أَرَى فِي المَنَامِ أَنِّي أَذْبَحُكَ} [الصافات: ١٠٢] “

‘আলী ইব্‌ন আব্দুল্লাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: সুফইয়ান আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ‘আমর থেকে, তিনি বললেন: কুরায়ব আমাকে হাদীসটি সংবাদ দিলেন ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বললেন: একদা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘুমিয়েছিলেন, এমনকি তাঁর নিঃশ্বাসের শব্দ হতে লাগল। অতঃপর তিনি সালাত আদায় করলেন। সুফিয়ান (রহমাহুল্লাহ) আবার কখনো বলেছেন, তিনি শুয়ে পড়লেন, এমনকি নাক ডাকার আওয়ায হতে লাগল। অতঃপর দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলেন। অন্য সূত্রে সুফিয়ান (রহমাহুল্লাহ) ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি এক রাতে আমার খালা মাইমূনা (রাজিআল্লাহু ‘আনহা)-এর নিকট রাত কাটালাম। রাতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘুম থেকে উঠলেন এবং রাতের কিছু অংশ চলে যাবার পর আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি ঝুলন্ত মশক হতে হালকা ধরনের উযূ করলেন। রাবী ‘আমর (রহমাহুল্লাহ) বলেন যে, হালকাভাবে ধুলেন, পানি কম ব্যবহার করলেন এবং সালাতে দাঁড়িয়ে গেলেন। ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) বলেন, তখন তিনি যেভাবে উযূ করেছেন আমিও সেভাবে উযূ করলাম এবং এসে তাঁর বাঁয়ে দাঁড়িয়ে গেলাম। সুফিয়ান (রহমাহুল্লাহ) কখনো কখনো يسار (বাম) শব্দের স্থলে شمال বলতেন। তারপর আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে ধরে তাঁর ডান দিকে দাঁড় করালেন। অতঃপর আল্লাহ্‌র যতক্ষণ ইচ্ছা ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি সালাত আদায় করলেন। অতঃপর কাত হলেন আর ঘুমিয়ে পড়লেন, এমনকি তাঁর নাক ডাকালেন। অতঃপর মুয়াযযিন এসে তাঁকে সালাতের কথা জানিয়ে দিলেন। তিনি তার সঙ্গে সালাতের জন্য চললেন এবং সালাত আদায় করলেন, কিন্তু উযূ করলেন না। আমরা ‘আমর (রহমাহুল্লাহ)-কে বললামঃ লোকে বলে যে, আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চোখ ঘুমায় কিন্তু তাঁর অন্তর ঘুমায় না। তখন ‘আমর (রহমাহুল্লাহ) বললেন, ‘আমি ‘উবায়দ ইব্‌নু ‘উমায়র (রহমাহুল্লাহ) কে বলতে শুনেছি, নবীগণের স্বপ্ন ওয়াহী। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেন, إِنِّي أَرَى فِي الْمَنَامِ أَنِّي أَذْبَحُكَ “আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, তোমাকে কুরবাণী করছি” – (সূরা আস সাফ্‌ফাত, ৩৭:১০২)।

অনুরূপ বর্ণনা : [১১৭ দ্রষ্টব্য] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৫, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৪০]

١٠٠. ‌‌بَابُ إِسْبَاغِ الوُضُوءِ

وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ: «إِسْبَاغُ الوُضُوءِ الإِنْقَاءُ»

১০০. পরিচ্ছেদ : পূর্ণরূপে উযূ করা।

ইব্‌ন ‘উমর (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) বলেন, ‘ভালভাবে পরিস্কার করাই হল পূর্ণরূপে উযূ করা।’

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৩৯

হাদিসের মান: সহীহ

١٣٩ – حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ كُرَيْبٍ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، أَنَّهُ سَمِعَهُ يَقُولُ: دَفَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ عَرَفَةَ حَتَّى إِذَا كَانَ بِالشِّعْبِ نَزَلَ فَبَالَ، ثُمَّ تَوَضَّأَ وَلَمْ يُسْبِغِ الوُضُوءَ فَقُلْتُ الصَّلَاةَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَقَالَ: «الصَّلَاةُ أَمَامَكَ» فَرَكِبَ، فَلَمَّا جَاءَ المُزْدَلِفَةَ نَزَلَ فَتَوَضَّأَ، فَأَسْبَغَ الوُضُوءَ، ثُمَّ أُقِيمَتِ الصَّلَاةُ، فَصَلَّى المَغْرِبَ ثُمَّ أَنَاخَ كُلُّ إِنْسَانٍ بَعِيرَهُ فِي مَنْزِلِهِ، ثُمَّ أُقِيمَتِ العِشَاءُ فَصَلَّى، وَلَمْ يُصَلِّ بَيْنَهُمَا

‘আব্দুল্লাহ ইব্‌ন মাসলামাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন মালিক থেকে, তিনি মূসা ইব্‌ন ‘উক্ববাহ থেকে, তিনি ইব্‌ন ‘আব্বাস-এর স্বাধীন করা গুলাম কুরায়ব থেকে, তিনি উসামাহ ইব্‌নু যায়দ (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বললেন: আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আরাফার ময়দান হতে রওনা হলেন এবং উপত্যকায় পৌঁছে নেমে তিনি পেশাব করলেন। অতঃপর উযূ করলেন কিন্তু উত্তমরূপে উযূ করলেন না। আমি বললাম, “হে আল্লাহ্‌র রসূল! সালাত আদায় করবেন কি?” তিনি বললেন, “সালাতের স্থান তোমার সামনে”। অতঃপর তিনি আবার সওয়ার হলেন। অতঃপর মুযদালিফায় এসে সাওয়ারী থেকে নেমে উযূ করলেন। এবার পূর্ণরূপে উযূ করলেন। তখন সালাতের জন্য ইক্বামাত দেওয়া হল। তিনি মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। অতঃপর সকলে তাদের অবতরণস্থলে নিজ নিজ উট বসিয়ে দিল। পুনরায় ‘ইশার ইক্বামাত দেয়া হল। অতঃপর তিনি ‘ইশার সালাত আদায় করলেন এবং উভয় সালাতের মধ্যে অন্য কোন সালাত আদায় করলেন না।

অনুরূপ বর্ণনা : [১৮১, ১৬৬৭, ১৬৬৯, ১৬৭২; মুসলিম ১৫/৪৫, হাঃ ১২৮০, আহমাদ ২১৮০১, ২১৮০৮, ২১৮৯০] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৬, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৪১]

١٠١. ‌‌بَابُ غَسْلِ الوَجْهِ بِاليَدَيْنِ مِنْ غَرْفَةٍ وَاحِدَةٍ

১০১. পরিচ্ছেদ : এক আঁজলা পানি দিয়ে দু’হাতে মুখমণ্ডল ধোয়া।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৪০

হাদিসের মান: সহীহ

١٤٠ – حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو سَلَمَةَ الخُزَاعِيُّ مَنْصُورُ بْنُ سَلَمَةَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ بِلَالٍ يَعْنِي سُلَيْمَانَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ «تَوَضَّأَ فَغَسَلَ وَجْهَهُ، أَخَذَ غَرْفَةً مِنْ مَاءٍ، فَمَضْمَضَ بِهَا وَاسْتَنْشَقَ، ثُمَّ أَخَذَ غَرْفَةً مِنْ مَاءٍ، فَجَعَلَ بِهَا هَكَذَا، أَضَافَهَا إِلَى يَدِهِ الأُخْرَى، فَغَسَلَ بِهِمَا وَجْهَهُ، ثُمَّ أَخَذَ غَرْفَةً مِنْ مَاءٍ، فَغَسَلَ بِهَا يَدَهُ اليُمْنَى، ثُمَّ أَخَذَ غَرْفَةً مِنْ مَاءٍ، فَغَسَلَ بِهَا يَدَهُ اليُسْرَى، ثُمَّ مَسَحَ بِرَأْسِهِ، ثُمَّ أَخَذَ غَرْفَةً مِنْ مَاءٍ، فَرَشَّ عَلَى رِجْلِهِ اليُمْنَى حَتَّى غَسَلَهَا، ثُمَّ أَخَذَ غَرْفَةً أُخْرَى، فَغَسَلَ بِهَا رِجْلَهُ، يَعْنِي اليُسْرَى» ثُمَّ قَالَ: هَكَذَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَوَضَّأُ

মু‘হাম্মাদ ইব্‌ন ‘আব্দুর র‘হমান আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: আবূ সালামাহ খুযা‘ঈ মানস্বূর ইব্‌ন সালামাহ আমাদেরকে হাদীসটি সংবাদ দিলেন, তিনি বললেন: ইব্‌ন বিলাল অর্থাৎ সুলায়মান আমাদেরকে হাদীসটি সংবাদ দিলেন যায়দ ইব্‌ন আসলাম থেকে, তিনি ‘আত্বা ইব্‌ন ইয়াসার থেকে, তিনি ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি উযূ করলেন এবং তাঁর মুখমণ্ডল ধুলেন। এক আঁজলা পানি নিয়ে তা দিয়ে কুলি করলেন ও নাকে পানি দিলেন। অতঃপর আর এক আঁজলা পানি নিয়ে তা দিয়ে অনুরূপ করলেন অর্থাৎ আরেক হাতের সাথে মিলিয়ে মুখমণ্ডল ধুলেন। অতঃপর আর এক আঁজলা পানি নিয়ে তা দিয়ে ডান হাত ধুলেন। অতঃপর আর এক আঁজলা পানি নিয়ে তা দিয়ে তাঁর বা হাত ধুলেন। অতঃপর তিনি মাথা মাস্‌হ করলেন। অতঃপর আর এক আঁজলা পানি নিয়ে তা দিয়ে ডান পায়ের উপর ঢেলে দিয়ে তা ধুয়ে ফেললেন। অতঃপর আর এক আঁজলা পানি নিয়ে তা দিয়ে বাম পা ধুলেন। অতঃপর বললেন: “আমি আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে এভাবে উযূ করতে দেখেছি।”

অনুরূপ বর্ণনা : [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৭, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৪২]

١٠٢. ‌‌بَابُ التَّسْمِيَةِ عَلَى كُلِّ حَالٍ وَعِنْدَ الوِقَاعِ

১০২. পরিচ্ছেদ : সর্বাবস্থায়, এমনকি সহবসের সময়েও বিস্‌মিল্লাহ্‌ বলা।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৪১

হাদিসের মান: সহীহ

١٤١ – حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الجَعْدِ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، يَبْلُغُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا أَتَى أَهْلَهُ قَالَ بِاسْمِ اللَّهِ، اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا، فَقُضِيَ بَيْنَهُمَا وَلَدٌ لَمْ يَضُرُّهُ»

‘আলী ইব্‌ন আব্দুল্লাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: জারীর আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন মানস্বূর থেকে, তিনি সালিম ইব্‌ন আবূল জা‘আ্‌দ থেকে, তিনি কুরায়ব থেকে, তিনি ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বললেন: নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ তার স্ত্রীর সাথে মিলনের পূর্বে যদি বলে, بِسْمِ اللَّهِ اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا‏‏ (আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি। আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে শয়তান থেকে দূরে রাখ এবং যা আমাদেরকে দান করবে তাকেও শয়তান থেকে দূরে রাখ)- তারপর (এ মিলনের দ্বারা) তাদের কিসমতে কোন সন্তান থাকলে শয়তান তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না।

অনুরূপ বর্ণনা : [৩২৭১, ৩২৮৩, ৫১৬৫, ৬৩৮৮, ৭৩৯৬; মুসলিম ত্বলাক অধ্যায়, অনুচ্ছেদ ১৭ হাঃ ১৪৩৪, আহমাদ ১৯০৮] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৮, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৪৩]

١٠٣. ‌‌بَابُ مَا يَقُولُ عِنْدَ الخَلَاءِ

১০৩. পরিচ্ছেদ : শৌচাগারে যাওয়ার সময় কী বলতে হয়?

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৪২

হাদিসের মান: সহীহ

١٤٢ – حَدَّثَنَا آدَمُ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ العَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسًا، يَقُولُ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا دَخَلَ الخَلَاءَ قَالَ: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الخُبُثِ وَالخَبَائِثِ» تَابَعَهُ ابْنُ عَرْعَرَةَ، عَنْ شُعْبَةَ، وَقَالَ غُنْدَرٌ، عَنْ شُعْبَةَ «إِذَا أَتَى الخَلَاءَ» وَقَالَ مُوسَى عَنْ حَمَّادٍ «إِذَا دَخَلَ» وَقَالَ سَعِيدُ بْنُ زَيْدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ العَزِيزِ «إِذَا أَرَادَ أَنْ يَدْخُلَ»

আদম আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: শু’বাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন আব্দুল আযীয ইব্‌ন স্বুহায়ব থেকে, তিনি বললেন: আমি আনাস (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) কে বলেতে শুনেছি, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন প্রকৃতির ডাকে শৌচাগারে যেতেন তখন বলতেন, اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ (“হে আল্লাহ্ ! আমি মন্দ কাজ ও শয়তান থেকে আপনার আশ্রয় চাচ্ছি।”) ইব্‌ন ‘আর‘আরা (রহমাহুল্লাহ) শুবা (রহমাহুল্লাহ) সূত্রেও অনুরূপ বর্ণনা করেন। গুনদার (রহমাহুল্লাহ) শুবা (রহমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনা করেন, إِذَا أَتَى الْخَلاَءَ (যখন শৌচাগারে যেতেন)। মূসা (রহমাহুল্লাহ) হাম্মাদ (রহমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনা করেন, إِذَا دَخَلَ (যখন প্রবেশ করতেন)। সা‘ঈদ ইব্‌ন যায়দ (রহমাহুল্লাহ) ‘আবদুল ‘আযীয (রহমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনা করেন, “যখন প্রবেশ করার ইচ্ছা করতেন।”

অনুরূপ বর্ণনা : [৬৩২২; মুসলিম ৩/৪২, হাঃ ৩৭৫, আহমাদ ১১৯৪৭, ১১৯৮৩] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৯, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৪৪]

١٠٤. ‌‌بَابُ وَضْعِ المَاءِ عِنْدَ الخَلَاءِ

১০৪. পরিচ্ছেদ : শৌচগারের কাছে পানি রাখা।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৪৩

হাদিসের মান: সহীহ

١٤٣ – حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ القَاسِمِ، قَالَ: حَدَّثَنَا وَرْقَاءُ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ الخَلَاءَ، فَوَضَعْتُ لَهُ وَضُوءًا قَالَ: «مَنْ وَضَعَ هَذَا فَأُخْبِرَ فَقَالَ اللَّهُمَّ فَقِّهْهُ فِي الدِّينِ»

‘আব্দুল্লাহ ইব্‌ন মু‘হাম্মাদ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: হাশিম ইব্‌ন ক্বাশিম আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ওয়ারক্বা আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ‘উবায়দুল্লাহ ইব্‌ন আবূ ইয়াযিদ থেকে, তিনি ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে- একবার নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শৌচাগারে গেলেন, তখন আমি তাঁর জন্য উযূর পানি রাখলাম। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “এটা কে রেখেছে?” তাঁকে জানানো হলে তিনি বললেন, “ইয়া আল্লাহ! আপনি তাকে দ্বীনের জ্ঞান দান করুন।”

অনুরূপ বর্ণনা : [৭৫; মুসলিম ৪৪/৩০, হাঃ ২৪৭৭, আহমাদ ২৩৯৭, ২৮৮১, ৩০২৩] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪০, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৪৫]

١٠٥. ‌‌بَابٌ: لَا تُسْتَقْبَلُ القِبْلَةُ بِغَائِطٍ أَوْ بَوْلٍ، إِلَّا عِنْدَ البِنَاءِ، جِدَارٍ أَوْ نَحْوِهِ

১০৫. পরিচ্ছেদ : পেশাব পায়খানা করার সময় ক্বিবলামুখী হবে না, তবে দেয়াল অথবা কোন আড় থাকলে ভিন্ন কথা।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৪৪

হাদিসের মান: সহীহ

١٤٤ – حَدَّثَنَا آدَمُ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الأَنْصَارِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «إِذَا أَتَى أَحَدُكُمُ الغَائِطَ، فَلَا يَسْتَقْبِلِ القِبْلَةَ وَلَا يُوَلِّهَا ظَهْرَهُ، شَرِّقُوا أَوْ غَرِّبُوا»

আদম আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ইব্‌ন আবূ যি’ব আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: জুহ্‌রী আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ‘আত্বা ইব্‌ন ইয়াযীদ লাইসী থেকে, তিনি আবূ আইয়ুব আনসারী (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বললেন: আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: তোমাদের কেউ যখন শৌচাগারে যায়, তখন সে যেন ক্বিবলার দিকে মুখ না করে এবং তার দিকে পিঠও না করে, বরং তোমরা পূর্ব দিক এবং পশ্চিম দিকে ফিরে বসবে (এই নির্দেশ মদীনার বাসিন্দাদের জন্য)

অনুরূপ বর্ণনা : [৩৯৪; মুসলিম ২/১৭, হাঃ ২৬৪, আহমাদ ২৩৫৮৩, ২৩৫৯৫] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪১, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৪৬]

ফুটনোট:
১. যাদের ক্বিবলা উত্তর বা দক্ষিণ হবে তাদের জন্য এই হুকুম। আর যাদের ক্বিবলা পূর্ব বা পশ্চিমে তারা উত্তর বা দক্ষিণ দিকে মুখ করে বসবে।

١٠٦. ‌‌بَابُ مَنْ تَبَرَّزَ عَلَى لَبِنَتَيْنِ

১০৬. পরিচ্ছেদ : যে ব্যক্তি দু’ইটের উপর বসে মলমূত্র ত্যাগ করল।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৪৫

হাদিসের মান: সহীহ

١٤٥ – حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، عَنْ عَمِّهِ، وَاسِعِ بْنِ حَبَّانَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ: إِنَّ نَاسًا يَقُولُونَ إِذَا قَعَدْتَ عَلَى حَاجَتِكَ فَلَا تَسْتَقْبِلِ القِبْلَةَ وَلَا بَيْتَ المَقْدِسِ، فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ: لَقَدْ ارْتَقَيْتُ يَوْمًا عَلَى ظَهْرِ بَيْتٍ لَنَا، فَرَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «عَلَى لَبِنَتَيْنِ، مُسْتَقْبِلًا بَيْتَ المَقْدِسِ لِحَاجَتِهِ». وَقَالَ: لَعَلَّكَ مِنَ الَّذِينَ يُصَلُّونَ عَلَى أَوْرَاكِهِمْ؟ فَقُلْتُ: لَا أَدْرِي وَاللَّهِ. قَالَ مَالِكٌ: يَعْنِي الَّذِي يُصَلِّي وَلَا يَرْتَفِعُ عَنِ الأَرْضِ، يَسْجُدُ وَهُوَ لَاصِقٌ بِالأَرْضِ

‘আব্দুল্লাহ ইব্‌ন ইঊসুফ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: মালিক আমাদেরকে হাদীসটি সংবাদ দিলেন ইয়া‘হ্‌ইয়া ইব্‌ন সা‘ঈদ থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইব্‌ন ইয়া‘হ্‌ইয়া ইব্‌ন ‘হাব্বান থেকে, তিনি তাঁর চাচা ওয়াসি’ই ইব্‌ন ‘হাব্বান থেকে, তিনি ‘আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু ‘উমর (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বলেন: “লোকে বলে পেশাব পায়খানা করার সময় ক্বিবলার দিকে এবং বাইতুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে বসবে না।” ‘আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌ন ‘উমর (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) বলেন, “আমি একদা আমাদের ঘরের ছাদে উঠলাম। অতঃপর রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখলাম বাইতুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে দু’টি ইটের উপর স্বীয় প্রয়োজনে বসেছেন।” তিনি [ওয়াসী (রহমাহুল্লাহ)-কে] বললেন, তুমি বোধ হয় তাদের মধ্যে শামিল, যারা পাছায় ভর দিয়ে সালাত আদায় করে। আমি বললাম, “আল্লাহ্‌র কসম! আমি জানি না।” মালিক (রহমাহুল্লাহ) বলেন, (এর অর্থ হলো) যারা সালাত আদায় করে এবং মাটি থেকে পাছা না উঠিয়ে সাজদা দেয়।

অনুরূপ বর্ণনা : [১৪৮,১৪৯,৩১০২ ; মুসলিম ২/১৭, হাঃ ২৬৬, আহমাদ ৪৮১২, ৪৯৯১] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪২ হাদীসের শেষাংশ নেই, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৪৭]

١٠٧. ‌‌بَابُ خُرُوجِ النِّسَاءِ إِلَى البَرَازِ

১০৭. পরিচ্ছেদ : পেশাব পায়খানার জন্য নারীদের বাইরে যাওয়।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৪৬

হাদিসের মান: সহীহ

١٤٦ – حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، قَالَ: حَدَّثَنِي عُقَيْلٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ أَزْوَاجَ النَّبِيّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كُنَّ يَخْرُجْنَ بِاللَّيْلِ إِذَا تَبَرَّزْنَ إِلَى المَنَاصِعِ وَهُوَ صَعِيدٌ أَفْيَحُ ” فَكَانَ عُمَرُ يَقُولُ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: احْجُبْ نِسَاءَكَ، فَلَمْ يَكُنْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَفْعَلُ “، فَخَرَجَتْ سَوْدَةُ بِنْتُ زَمْعَةَ، زَوْجُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، لَيْلَةً مِنَ اللَّيَالِي عِشَاءً، وَكَانَتِ امْرَأَةً طَوِيلَةً، فَنَادَاهَا عُمَرُ: أَلَا قَدْ عَرَفْنَاكِ يَا سَوْدَةُ، حِرْصًا عَلَى أَنْ يَنْزِلَ الحِجَابُ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ آيَةَ الحِجَابِ

ইয়া‘হইয়া ইব্‌ন বুকায়র আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: লাইস আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ‘উক্বায়ল আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন শিহাব থেকে, তিনি ‘উরওয়াহ থেকে, তিনি ‘আয়িশা (রাজিআল্লাহু ‘আনহা) থেকে- নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর স্ত্রীগণ রাতের বেলায় প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে খোলা ময়দানে যেতেন। আর ‘উমর (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতেন, “আপনার স্ত্রীগণকে পর্দায় রাখুন।” কিন্তু আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা করেননি। এক রাতে ‘ইশার সময় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রী সওদা বিনতু যাম‘আ (রাজিআল্লাহু ‘আনহা) প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বের হন। তিনি ছিলেন দীর্ঘাঙ্গী। ‘উমর (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) তাঁকে ডেকে বললেন, “হে সওদা! আমি কিন্তু তোমাকে চিনে ফেলেছি।” যেন পর্দার হুকুম অবতীর্ণ হয় সেই উদ্দেশ্যেই তিনি এ কথা বলেছিলেন। অতঃপর আল্লাহ্‌ তা’আলা পর্দার হুকুম অবতীর্ণ করেন।

অনুরূপ বর্ণনা : [১৪৭, ৪৭৯৫, ৫২৩৭, ৬২৪০ দ্রষ্টব্য] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৩, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৪৮]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৪৭

হাদিসের মান: হীহ

١٤٧ – حَدَّثَنَا زَكَرِيَّاءُ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «قَدْ أُذِنَ أَنْ تَخْرُجْنَ فِي حَاجَتِكُنَّ» قَالَ هِشَامٌ: يَعْنِي البَرَازَ

যাকারিয়া আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: আবূ উসামাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন হিশাম ইব্‌ন ‘উরওয়াহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি ‘আয়িশা (রাজিআল্লাহু ‘আনহা) থেকে- নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: “তোমাদের প্রয়োজনের জন্য বের হবার অনুমতি দেয়া হয়েছে।” হিশাম (রহমাহুল্লাহ) বলেন, অর্থাৎ পেশাব পায়খানার জন্য।

অনুরূপ বর্ণনা : [১৪৬] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৪, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৪৯]

١٠٨. ‌‌بَابُ التَّبَرُّزِ فِي البُيُوتِ

১০৮. পরিচ্ছেদ : গৃহের মধ্যে পেশাব পায়খানা করা।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৪৮

হাদিসের মান: সহীহ

١٤٨ – حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ المُنْذِرِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ عِيَاضٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، عَنْ وَاسِعِ بْنِ حَبَّانَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ: ارْتَقَيْتُ فَوْقَ ظَهْرِ بَيْتِ حَفْصَةَ لِبَعْضِ حَاجَتِي، فَرَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقْضِي حَاجَتَهُ مُسْتَدْبِرَ القِبْلَةِ، مُسْتَقْبِلَ الشَّأْمِ

ইব্রাহীম ইব্‌ন মুনযির আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: আনাস ইব্‌ন ‘ঈয়ায আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ‘উবায়দুল্লাহ থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইব্‌ন ইয়া‘হইয়া ইব্‌ন হাব্বান থেকে, তিনি ওয়াসি’ ইব্‌ন হাব্বান থেকে, তিনি ‘আবদুল্লাহ্ ইব্‌নু ‘উমর (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে- তিনি বললেন- “আমি আমার বিশেষ এক প্রয়োজনে হাফসা (রাজিআল্লাহু ‘আনহা)-এর ঘরের ছাদে উঠলাম। তখন দেখলাম, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ক্বিবলার দিকে পিঠ দিয়ে শাম-এর দিকে মুখ করে তাঁর প্রয়োজনে বসেছেন।”

অনুরূপ বর্ণনা : [১৪৫] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৫, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৫০]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৪৯

হাদিসের মান: হীহ

١٤٩ – حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا يَحْيَى، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، أَنَّ عَمَّهُ، وَاسِعَ بْنَ حَبَّانَ، أَخْبَرَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ أَخْبَرَهُ قَالَ: لَقَدْ ظَهَرْتُ ذَاتَ يَوْمٍ عَلَى ظَهْرِ بَيْتِنَا، فَرَأَيْتُ «رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَاعِدًا عَلَى لَبِنَتَيْنِ مُسْتَقْبِلَ بَيْتِ المَقْدِسِ»

ইয়া’ক্বুব ইব্‌ন ইব্রাহীম আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ইয়াযীদ ইবনু হারুন আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ইয়া‘হইয়া আমাদেরকে সংবাদ দিলেন মুহাম্মাদ ইব্‌ন ইয়াহ ইব্‌ন হাব্বান থেকে, তিনি তাঁর চাচা ওয়াসি‘ই ‘হাব্বান, থেকে, তিনি তাকে সংবাদ দিলেন ‘আবদুল্লাহ্ ইব্‌নু ‘উমর (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বলেন: “একদা আমি আমাদের ঘরের উপর উঠে দেখলাম, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু’টি ইটের উপর বাইতুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বসেছেন।”

অনুরূপ বর্ণনা : [১৪৫] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৬, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৫১]

١٠٩. ‌‌بَابُ الِاسْتِنْجَاءِ بِالْمَاءِ

১০৯. পরিচ্ছেদ : পানি দ্বারা শৌচ কাজ করা।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৫০

হাদিসের মান: সহীহ

١٥٠ – حَدَّثَنَا أَبُو الوَلِيدِ هِشَامُ بْنُ عَبْدِ المَلِكِ قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي مُعَاذٍ، وَاسْمُهُ عَطَاءُ بْنُ أَبِي مَيْمُونَةَ قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «إِذَا خَرَجَ لِحَاجَتِهِ، أَجِيءُ أَنَا وَغُلَامٌ، مَعَنَا إِدَاوَةٌ مِنْ مَاءٍ، يَعْنِي يَسْتَنْجِي بِهِ»

আবূ ওয়ালিদ হিশাম ইব্‌ন ‘আব্দুল মালিক আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: শু’বাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন আবূ মু‘আয থেকে, তিনি শুনলেন ‘আত্বা ইব্‌ন আবূ মায়মূনাহ থেকে, তিনি বললেন: আমি আনাস ইব্‌ন মালিক (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে শুনেছি, তিনি বললেন: নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বের হতেন তখন আমি ও অপর একটি ছেলে পানির পাত্র নিয়ে আসতাম। অর্থাৎ তিনি তা দিয়ে শৌচকার্য সারতেন।

অনুরূপ বর্ণনা : [১৫১, ১৫২, ২১৭, ৫০০; মুসলিম ২/২১, হাঃ ২৭০, আহমাদ ১৩৭১৯, ১৩১০৮] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৭, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৫২]

١١٠. ‌‌بَابُ مَنْ حُمِلَ مَعَهُ المَاءُ لِطُهُورِهِ

وَقَالَ أَبُو الدَّرْدَاءِ: «أَلَيْسَ فِيكُمْ صَاحِبُ النَّعْلَيْنِ وَالطَّهُورِ وَالوِسَادِ؟»

১১০. পরিচ্ছেদ : পবিত্রতা অর্জনের জন্য করো সঙ্গে পানি নিয়ে যাওয়া।

আবু-দারাদা (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) বলেন, তোমাদের মধ্যে কি জুতা, পানি ও বালিশ বহনকারী ব্যক্তিটি [‘আব্দুল্লাহ ইব্‌ন মাস ‘ঊদ (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) নেই?

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৫১

হাদিসের মান: সহীহ

١٥١ – حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي مُعَاذٍ هُوَ عَطَاءُ بْنُ أَبِي مَيْمُونَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسًا، يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «إِذَا خَرَجَ لِحَاجَتِهِ، تَبِعْتُهُ أَنَا وَغُلَامٌ مِنَّا، مَعَنَا إِدَاوَةٌ مِنْ مَاءٍ»

সুলায়ামান ইব্‌ন হারব আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: শু’বাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন আবূ মু‘আয থেকে তিনি ছিলেন ‘আত্বা ইব্‌ন আবূ মায়মূনাহ, তিনি বললেন: আমি আনাস (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে শুনেছি, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বের হতেন তখন আমি এবং আমাদের অন্য একটি ছেলে তাঁর পিছনে পানির পাত্র নিয়ে যেতাম।

অনুরূপ বর্ণনা : [১৫০] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৮, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৫৩]

١١١. ‌‌بَابُ حَمْلِ العَنَزَةِ مَعَ المَاءِ فِي الِاسْتِنْجَاءِ

১১১. পরিচ্ছেদ : ইস্‌তিন্‌জার জন্য পানির সাথে (লৌহ ফলকযুক্ত) লাঠি নিয়ে যাও।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৫২

হাদিসের মান: সহীহ

١٥٢ – حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي مَيْمُونَةَ، سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «يَدْخُلُ الخَلَاءَ، فَأَحْمِلُ أَنَا وَغُلَامٌ إِدَاوَةً مِنْ مَاءٍ وَعَنَزَةً، يَسْتَنْجِي بِالْمَاءِ» تَابَعَهُ النَّضْرُ وَشَاذَانُ، عَنْ شُعْبَةَ العَنَزَةُ: عَصًا عَلَيْهِ زُجٌّ

মু‘হাম্মাদ ইব্‌ন বাস্‌সার আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: মু‘হাম্মাদ ইব্‌ন জা‘আফার আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: শু’বাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ‘আত্বা ইব্‌ন আবূ মায়মুনাহ থেকে, তিনি আনাস ইব্‌নু মালিক (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে শুনলেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন শৌচাগারে যেতেন তখন আমি এবং একটি ছেলে পানির পাত্র এবং ‘আনাযাহ’ নিয়ে যেতাম। তিনি পানি দ্বারা শৌচকার্য করতেন।

অনুরূপ বর্ণনা : [১৫০] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৯]

ফুটনোটঃ
১. নাযর (রহমাহুল্লাহ) ও শাযান (রহমাহুল্লাহ) শু’বা (রহমাহুল্লাহ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেন। হাদীসে বর্ণিত عَنَزَةً ‘আনাযাহ’ শব্দের অর্থ এমন লাঠি যার মাথায় লোহা লাগানো থাকে। [ই.ফা. ১৫৪]

١١٢. ‌‌بَابُ النَّهْيِ عَنْ الِاسْتِنْجَاءِ بِاليَمِينِ

১১২. পরিচ্ছেদ : ডান হাতে শৌচকার্য করা নিষেধ।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৫৩

হাদিসের মান: সহীহ

١٥٣ – حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ فَضَالَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا هِشَامٌ هُوَ الدَّسْتُوَائِيُّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا شَرِبَ أَحَدُكُمْ فَلَا يَتَنَفَّسْ فِي الإِنَاءِ، وَإِذَا أَتَى الخَلَاءَ فَلَا يَمَسَّ ذَكَرَهُ بِيَمِينِهِ، وَلَا يَتَمَسَّحْ بِيَمِينِهِ»

মু‘আয ইব্‌ন ফাযালাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: হিশাম দাস্‌তুওয়াঈ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ইয়া‘হ্‌ইয়া ইব্‌ন আবূ কাছীর থেকে, তিনি ‘আব্দুল্লাহ ইব্‌ন আবূ ক্বাতাদা (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বললেন: আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “তোমাদের কেউ যখন পান করে, তখন সে যেন পাত্রের মধ্যে নিঃশ্বাস না ছাড়ে। আর যখন শৌচাগারে যায় তখন তার পুরুষাঙ্গ যেন ডান হাত দিয়ে স্পর্শ না করে এবং ডান হাত দিয়ে যেন শৌচকার্য না করে।”

অনুরূপ বর্ণনা : [১৫৪, ৫৬৩০; মুসলিম ২/১৮, হাঃ ২৬৭, আহমাদ ২২৬২৮] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫০, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৫৫]

١١٣. ‌‌بَابٌ: لَا يُمْسِكُ ذَكَرَهُ بِيَمِينِهِ إِذَا بَالَ

১১৩. পরিচ্ছেদ : প্রস্রাব করার সময় ডান হাতে পুরুষাঙ্গ ধরবে না।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৫৪

হাদিসের মান: সহীহ

١٥٤ – حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ: حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ، عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا بَالَ أَحَدُكُمْ فَلَا يَأْخُذَنَّ ذَكَرَهُ بِيَمِينِهِ، وَلَا يَسْتَنْجِي بِيَمِينِهِ، وَلَا يَتَنَفَّسْ فِي الإِنَاءِ»

মু‘হাম্মাদ ইব্‌ন ইউসুফ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: আওযা‘ই আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ইয়া‘হ্‌ইয়া ইব্‌ন আবূ কাছীর থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইব্‌ন আবূ ক্বাতাদা (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি বললেন: নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “তোমাদের কেউ যখন পেশাব করে তখন সে যেন কখনো ডান হাত দিয়ে তার পুরুষাঙ্গ না ধরে এবং ডান হাত দিয়ে শৌচকার্য না করে এবং পান করার সময় যেন পাত্রের মধ্যে শ্বাস না ছাড়ে।”

অনুরূপ বর্ণনা : [১৫৩] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫১, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৫৬]

١١٤. ‌‌بَابُ الِاسْتِنْجَاءِ بِالحِجَارَةِ

১১৪. পরিচ্ছেদ : পাথর দিয়ে ইস্‌তিন্‌জা করা।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৫৫

হাদিসের মান: সহীহ

١٥٥ – حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ المَكِّيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ يَحْيَى بْنِ سَعِيدِ بْنِ عَمْرٍو المَكِّيُّ، عَنْ جَدِّهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: اتَّبَعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَخَرَجَ لِحَاجَتِهِ، فَكَانَ لَا يَلْتَفِتُ، فَدَنَوْتُ مِنْهُ، فَقَالَ: «ابْغِنِي أَحْجَارًا أَسْتَنْفِضْ بِهَا – أَوْ نَحْوَهُ – وَلَا تَأْتِنِي بِعَظْمٍ، وَلَا رَوْثٍ، فَأَتَيْتُهُ بِأَحْجَارٍ بِطَرَفِ ثِيَابِي، فَوَضَعْتُهَا إِلَى جَنْبِهِ، وَأَعْرَضْتُ عَنْهُ، فَلَمَّا قَضَى أَتْبَعَهُ بِهِنَّ»

আ‘হ্‌মাদ ইব্‌ন মু‘হাম্মাদ মাক্কী আমাদেরকে আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ‘আম্‌র ইব্‌ন ইয়া‘হ্‌ইয়া ইব্‌ন সা‘ঈদ ইব্‌ন ‘আমর মাক্কী আমাদেরকে আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন জাদ্দিহ থেকে, তিনি আবূ হুরায়রা (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বললেন: নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বের হলে আমি তাঁর অনুসরণ করলাম। আর তিনি এদিক-ওদিক চাইতেন না। যখন আমি তাঁর নিকটবর্তী হলাম তখন তিনি আমাকে বললেন: “আমাকে কিছু পাথর কুড়িয়ে দাও, আমি তা দিয়ে শৌচকার্য সারব” (বর্ণনাকারী বলেন), বা এ ধরনের কোন কথা বললেন, “আর আমার জন্য হাড্ডি বা গোবর আনবে না”। তখন আমি আমার কাপড়ের কোচায় করে কয়েকটি পাথর এনে তাঁর পাশে রেখে আমি তাঁর নিকট হতে সরে গেলাম। তিনি প্রয়োজন মিটিয়ে সেগুলো কাজে লাগালেন।

অনুরূপ বর্ণনা : [৩৮৬০ দ্রষ্টব্য] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫২, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৫৭]

١١٥. ‌‌بَابٌ: لَا يُسْتَنْجَى بِرَوْثٍ

১১৫. পরিচ্ছেদ : গোবর দ্বারা শৌচকার্য না করা।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৫৬

হাদিসের মান: সহীহ

١٥٦ – حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، قَالَ: – لَيْسَ أَبُو عُبَيْدَةَ ذَكَرَهُ – وَلَكِنْ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الأَسْوَدِ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ اللَّهِ يَقُولُ: «أَتَى النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الغَائِطَ فَأَمَرَنِي أَنْ آتِيَهُ بِثَلَاثَةِ أَحْجَارٍ، فَوَجَدْتُ حَجَرَيْنِ، وَالتَمَسْتُ الثَّالِثَ فَلَمْ أَجِدْهُ، فَأَخَذْتُ رَوْثَةً فَأَتَيْتُهُ بِهَا، فَأَخَذَ الحَجَرَيْنِ وَأَلْقَى الرَّوْثَةَ» وَقَالَ: «هَذَا رِكْسٌ» وَقَالَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ يُوسُفَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ

আবূ নু‘আয়ম আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: যুহায়র আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন আবূ ইস‘হাক্ব থেকে, তিনি বললেন: আবূ ‘উবায়দাহ্‌ তাকে হাদীস বর্ণনা করেন নাই, বরং আব্দুর্‌ র‘হ্‌মান ইব্‌ন আসওয়াদ করেছেন তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ্ (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে শুনলেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদা শৌচ কাজে যাবার সময় তিনটি পাথর কুড়িয়ে দিতে আমাকে নির্দেশ করলেন। তখন আমি দু’টি পাথর পেলাম এবং আরেকটি খুঁজলাম কিন্তু পেলাম না। তাই একখন্ড শুকনো গোবর নিয়ে তাঁর নিকট গেলাম। তিনি পাথর দু’টি নিলেন এবং গোবর খন্ড ফেলে দিয়ে বললেন, “এটা অপবিত্র”।

অনুরূপ বর্ণনা : [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৩]

ফুটনোটঃ
ইব্রাহীম ইব্নু ইউসুফ (রহমাহুল্লাহ), তার পিতা, আবূ ইসহাক (রহমাহুল্লাহ), ‘আবদুর রহমান (রহমাহুল্লাহ)-এর সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেন। (ই.ফা. ১৫৮)

١١٦. ‌‌بَابُ الوُضُوءِ مَرَّةً مَرَّةً

১১৬. পরিচ্ছেদ : উযূর মধ্যে একবার করে ধৌত করা।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৫৭

হাদিসের মান: সহীহ

١٥٧ – حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: «تَوَضَّأَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّةً مَرَّةً»

মু‘হাম্মাদ ইব্‌ন ইউসুফ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: সুফইয়ান আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন যায়দ ইব্‌ন সালাম থেকে, তিনি ‘আত্বা ইব্‌ন ইয়াসির থেকে, তিনি ইব্‌ন আব্বাস (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বলেন: ‘নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক উযূতে একবার করে ধুয়েছেন।

অনুরূপ বর্ণনা : [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৪, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৫৯]

١١٧. ‌‌بَابٌ: الوُضُوءُ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ

১১৭. পরিচ্ছেদ : উযুতে দু’বার করে ধোয়া।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৫৮

হাদিসের মান: সহীহ

١٥٨ – حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عِيسَى، قَالَ: حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا فُلَيْحُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ تَمِيمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «تَوَضَّأَ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ»

‘হুসায়ন ইব্‌ন ‘ঈসা আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ইউনুস ইব্‌ন মু‘হাম্মাদ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ফুলাইহ ইব্‌ন সুলাইমান আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন আব্দুল্লাহ ইব্‌ন আবূ বকর ইব্‌ন ‘আমর ইব্‌ন হামাযা থেকে, তিনি ‘আব্বাদ ইব্‌ন তামীম থেকে, তিনি ‘আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন যায়দ (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বলেন, “নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উযূতে দু’বার করে ধুয়েছেন।”

অনুরূপ বর্ণনা : [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৫, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৬০]

١١٨. ‌‌بَابُ: الوُضُوءُ ثَلَاثًا ثَلَاثًا

১১৮. পরিচ্ছেদ : উযূতে তিনবার করে ধোয়া।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৫৯

হাদিসের মান: সহীহ

١٥٩ – حَدَّثَنَا عَبْدُ العَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الأُوَيْسِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ عَطَاءَ بْنَ يَزِيدَ، أَخْبَرَهُ أَنَّ حُمْرَانَ مَوْلَى عُثْمَانَ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، رَأَى عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ دَعَا بِإِنَاءٍ، فَأَفْرَغَ عَلَى كَفَّيْهِ ثَلَاثَ مِرَارٍ، فَغَسَلَهُمَا، ثُمَّ أَدْخَلَ يَمِينَهُ فِي الإِنَاءِ، فَمَضْمَضَ، وَاسْتَنْشَقَ، ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلَاثًا، وَيَدَيْهِ إِلَى المِرْفَقَيْنِ ثَلَاثَ مِرَارٍ، ثُمَّ مَسَحَ بِرَأْسِهِ، ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَيْهِ ثَلَاثَ مِرَارٍ إِلَى الكَعْبَيْنِ، ثُمَّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «مَنْ تَوَضَّأَ نَحْوَ وُضُوئِي هَذَا، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ لَا يُحَدِّثُ فِيهِمَا نَفْسَهُ، غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ»،

‘আব্দুল ‘আযীয ইব্‌ন ‘আব্দুল্লাহ উওয়াসী আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ইব্‌রাহীম ইব্‌ন সা‘ঈদ আমাকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ইব্‌ন শিহাব থেকে, তিনি ‘আত্বা ইব্‌ন ইয়াযীদ থেকে, তিনি বললেন: ‘উসমান (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) এর স্বাধীন করা গুলাম হুমরান তাঁকে হাদীসটি সংবাদ দিলেন, তিনি বললেন: তিনি ‘উসমান ইব্‌নু আফ্‌ফান (রাজিআল্লাহু ‘আনহু)-কে দেখেছেন যে, “তিনি পানির পাত্র আনিয়ে উভয় হাতের তালুতে তিনবার ঢেলে তা ধুয়ে নিলেন। অতঃপর ডান হাত পাত্রের মধ্যে ঢুকালেন। তারপর কুলি করলেন ও নাকে পানি দিয়ে নাক পরিস্কার করলেন। তারপর তাঁর মুখমন্ডল তিনবার ধুয়ে এবং দু’হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধুলেন। অতঃপর মাথা মাস্‌হ করলেন। অতঃপর দুই পা টাখনু পর্যন্ত তিনবার ধুলেন।” পরে বললেন: আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আমার মত এ রকম উযূ করবে, অতঃপর দু’রাক’আত সালাত আদায় করবে, যাতে দুনিয়ার কোন খেয়াল করবে না, তার পূর্বের গুনাহ্ ক্ষমা করে দেয়া হবে।”

অনুরূপ বর্ণনা : [১৬০, ১৬৪, ১৯৩৪, ৬৪৩৩; মুসলিম ২/৩, হাঃ ২২৬, আহমাদ ৪৯৩, ৫১৩] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৬, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৬১]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৬০

হাদিসের মান: হীহ

١٦٠ – وَعَنْ إِبْرَاهِيمَ قَالَ: قَالَ صَالِحُ بْنُ كَيْسَانَ، قَالَ: ابْنُ شِهَابٍ، وَلَكِنْ عُرْوَةُ، يُحَدِّثُ عَنْ حُمْرَانَ، فَلَمَّا تَوَضَّأَ عُثْمَانُ قَالَ: أَلَا أُحَدِّثُكُمْ حَدِيثًا لَوْلَا آيَةٌ مَا حَدَّثْتُكُمُوهُ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «لَا يَتَوَضَّأُ رَجُلٌ يُحْسِنُ وُضُوءَهُ، وَيُصَلِّي الصَّلَاةَ، إِلَّا غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الصَّلَاةِ حَتَّى يُصَلِّيَهَا» قَالَ عُرْوَةُ: ” الآيَةَ {إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنْزَلْنَا مِنَ البَيِّنَاتِ} [البقرة: ١٥٩] “

এবং ইব্‌রাহিম থেকে (হাদীসটি বর্ণনা করা হয়েছে), তিনি বললেন: স্বালি‘হ ইব্‌ন কায়সান বললেন- ইব্‌ন শিহাব বললেন, বরং ‘উরওয়াহ হাদীসটি বর্ণনা করেন হুরমান থেকে, ‘উসমান (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) যখন উযূ করতেছিলেন তখন তিনি বললেন: আমি তোমাদের নিকট একটি হাদীস পেশ করব। যদি একটি আয়াতে কারীমা না হত, তবে আমি তোমাদের নিকট এ হাদীস বলতাম না। আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, যে কোন ব্যক্তি সুন্দর করে উযূ করবে এবং সালাত আদায় করবে, পরবর্তী সালাত আদায় করা পর্যন্ত তার মধ্যবর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। ‘উরওয়াহ (রহমাহুল্লাহ) বলেন, إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنْزَلْنَا مِنَ الْبَيِّنَاتِ‏ সে আয়াতটি হল : “আমি যে সব স্পষ্ট নিদর্শন অবতীর্ণ করেছি তা যারা গোপন করে…।” [সূরা বাক্বারাহ, ২: ১৫৯]

অনুরূপ বর্ণনা : [১৫৯; মুসলিম ২/৪, হাঃ ২২৭] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৬ শেষাংশ, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৬১ শেষাংশ]

١١٩. ‌‌بَابُ الِاسْتِنْثَارِ فِي الوُضُوءِ

ذَكَرَهُ عُثْمَانُ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدٍ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

১১৯. পরিচ্ছেদ : উযূতে নাকে পানি দিয়ে নাক পরিস্কার করা।

‘উসমান (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) ‘আব্দুল্লাহ্‌ ইব্‌ন যায়দ (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) ও ইব্‌ন ‘আব্বাস (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে এ কথা বর্ণনা করেন।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৬১

হাদিসের মান: সহীহ

١٦١ – حَدَّثَنَا عَبْدَانُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا يُونُسُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبُو إِدْرِيسَ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: «مَنْ تَوَضَّأَ فَلْيَسْتَنْثِرْ، وَمَنِ اسْتَجْمَرَ فَلْيُوتِرْ»

‘আব্‌দান আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ‘আব্দুল্লাহ আমাদেরকে এ হাদীসটি সংবাদ দিলেন, তিনি বললেন: ইঊনুস আমাদেরকে এ হাদীসটি সংবাদ দিলেন যুহুরী থেকে, তিনি বললেন: আবূ ইদরিস আমাকে এ হাদীসটি সংবাদ দিলেন, তিনি আবূ হুরায়রা (রাজিআল্লাহু ‘আনহু)-কে বলতে শুনেছেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি উযূ করে সে যেন নাকে পানি দিয়ে নাক পরিস্কার করে। আর যে শৌচকার্য করে সে যেন বিজোড় সংখ্যক ঢিলা ব্যবহার করে।”

অনুরূপ বর্ণনা : [১৬২; মুসলিম ২/৮, হাঃ ২৩৭, আহমাদ ১০৭২৩] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৭, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৬২]

١٢٠. ‌‌بَابُ الِاسْتِجْمَارِ وِتْرًا

১২০. পরিচ্ছেদ : (শৌচকার্যের জন্য) বিজোড় সংখ্যক ঢিলা ব্যবহার করা।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৬২

হাদিসের মান: সহীহ

١٦٢ – حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا تَوَضَّأَ أَحَدُكُمْ فَلْيَجْعَلْ فِي أَنْفِهِ، ثُمَّ لِيَنْثُرْ، وَمَنِ اسْتَجْمَرَ فَلْيُوتِرْ، وَإِذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ مِنْ نَوْمِهِ فَلْيَغْسِلْ يَدَهُ قَبْلَ أَنْ يُدْخِلَهَا فِي وَضُوئِهِ، فَإِنَّ أَحَدَكُمْ لَا يَدْرِي أَيْنَ بَاتَتْ يَدُهُ»

‘আব্‌দান আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ‘আব্দুল্লাহ আমাদেরকে এ হাদীসটি সংবাদ দিলেন, তিনি বললেন: ইঊনুস আমাদেরকে এ হাদীসটি সংবাদ দিলেন যুহুরী থেকে, তিনি বললেন: আবূ ইদরিস আমাকে এ হাদীসটি সংবাদ দিলেন, তিনি আবূ হুরায়রা (রাজিআল্লাহু ‘আনহু)-কে বলতে শুনেছেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি উযূ করে সে যেন নাকে পানি দিয়ে নাক পরিস্কার করে। আর যে শৌচকার্য করে সে যেন বিজোড় সংখ্যক ঢিলা ব্যবহার করে।”

অনুরূপ বর্ণনা : [১৬১] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৮, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৬৩]

١٢١. ‌‌بَابُ غَسْلِ الرِّجْلَيْنِ، وَلَا يَمْسَحُ عَلَى القَدَمَيْنِ

১২১. পরিচ্ছেদ : দু’পা ধৌত করা এবং তা মাসহ্‌ না করা।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৬৩

হাদিসের মান: সহীহ

١٦٣ – حَدَّثَنَا مُوسَى، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ مَاهَكَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: تَخَلَّفَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنَّا فِي سَفْرَةٍ سَافَرْنَاهَا، فَأَدْرَكَنَا وَقَدْ أَرْهَقْنَا العَصْرَ، فَجَعَلْنَا نَتَوَضَّأُ وَنَمْسَحُ عَلَى أَرْجُلِنَا، فَنَادَى بِأَعْلَى صَوْتِهِ: «وَيْلٌ لِلْأَعْقَابِ مِنَ النَّارِ» مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا

মূসা আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: আবূ ‘আওয়ানাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন আবূ বিশর থেকে, তিনি ইঊসুফ ইব্‌ন মাহাক থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ্ ইব্‌ন ‘আমর (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বলেনঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক সফরে আমাদের পিছনে রয়ে গিয়েছিলেন, অতঃপর তিনি আমাদের নিকট পৌঁছে গেলেন। তখন আমরা আসরের সালাত শুরু করতে দেরী করে ফেলেছিলাম। তাই আমরা উযূ করছিলাম এবং (তাড়াতাড়ির কারণে) আমাদের পা মাস্‌হ করার মতো হালকাভাবে ধুয়ে নিচ্ছিলাম। তখন তিনি উচ্চৈস্বঃরে বললেন, “পায়ের গোড়ালিগুলোর জন্য জাহান্নামের শাস্তি রয়েছে।” দু’বার অথবা তিনবার তিনি একথার পুনরাবৃত্তি করলেন।

অনুরূপ বর্ণনা : [৬০] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৯, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৬৪]

١٢٢. ‌‌بَابُ المَضْمَضَةِ فِي الوُضُوءِ

قَالَهُ ابْنُ عَبَّاسٍ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

১২২. পরিচ্ছেদ : উযূর সময় কুলি করা।

ইব্‌ন ‘আব্বাস (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) ও ‘আব্দুল্লাহ্‌ ইব্‌ন যায়দ (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে তা বর্ণনা করেছেন।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৬৪

হাদিসের মান: সহীহ

١٦٤ – حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عَطَاءُ بْنُ يَزِيدَ، عَنْ حُمْرَانَ، مَوْلَى عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ أَنَّهُ رَأَى عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ دَعَا بِوَضُوءٍ، فَأَفْرَغَ عَلَى يَدَيْهِ مِنْ إِنَائِهِ، فَغَسَلَهُمَا ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، ثُمَّ أَدْخَلَ يَمِينَهُ فِي الوَضُوءِ، ثُمَّ تَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ وَاسْتَنْثَرَ، ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلَاثًا وَيَدَيْهِ إِلَى المِرْفَقَيْنِ ثَلَاثًا، ثُمَّ مَسَحَ بِرَأْسِهِ، ثُمَّ غَسَلَ كُلَّ رِجْلٍ ثَلَاثًا، ثُمَّ قَالَ: رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَوَضَّأُ نَحْوَ وُضُوئِي هَذَا، وَقَالَ: «مَنْ تَوَضَّأَ نَحْوَ وُضُوئِي هَذَا، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ لَا يُحَدِّثُ فِيهِمَا نَفْسَهُ، غَفَرَ اللَّهُ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ»

আবূ ইয়ামান আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: শু‘আয়ব আমাদেরকে হাদীসটি সংবাদ দিলেন যুহুরী থেকে, তিনি বললেন: ‘আত্বা ইব্‌ন ইয়াযীদ আমাকে হাদীসটি সংবাদ দিলেন ‘উসমান ইব্‌নু ‘আফ্‌ফান (রাজিআল্লাহু ‘আনহু)-এর মুক্ত করা দাস হুমরান (রহমাহুল্লাহ) থেকে, “তিনি ‘উসমান (রাজিআল্লাহু ‘আনহু)-কে উযূর পানি আনাতে দেখলেন। অতঃপর তিনি সে পাত্র হতে উভয় হাতের উপর পানি ঢেলে তা তিনবার ধুলেন। অতঃপর তাঁর ডান হাত পানিতে ঢুকালেন। অতঃপর কুলি করলেন এবং নাকে পানি দিয়ে নাক ঝাড়লেন। অতঃপর তাঁর মুখমন্ডল তিনবার এবং উভয় হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধুলেন, অতঃপর মাথা মাস্‌হ করলেন। অতঃপর উভয় পা তিনবার ধোয়ার পর বললেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আমার এ উযূর ন্যায় উযূ করতে দেখেছি” এবং আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “যে ব্যক্তি আমার এ উযূর ন্যায় উযূ করে দু’রাকা’ত সালাত আদায় করবে এবং তার মধ্যে অন্য কোন চিন্তা মনে আনবে না, আল্লাহ্ তা‘আলা তার পূর্বকৃত সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।”

অনুরূপ বর্ণনা : [১৫৯] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬০, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৬৫]

١٢٣. ‌‌بَابُ غَسْلِ الأَعْقَابِ

وَكَانَ ابْنُ سِيرِينَ: «يَغْسِلُ مَوْضِعَ الخَاتَمِ إِذَا تَوَضَّأَ»

১২৩. পরিচ্ছেদ : পায়ের গোড়ালি ধোয়া।

ইব্‌ন সীরীন উযু করার সময় তাঁর আংটির জায়গা ধুতেন।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৬৫

হাদিসের মান: সহীহ

١٦٥ – حَدَّثَنَا آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ زِيَادٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، وَكَانَ يَمُرُّ بِنَا وَالنَّاسُ يَتَوَضَّئُونَ مِنَ المِطْهَرَةِ، قَالَ: أَسْبِغُوا الوُضُوءَ، فَإِنَّ أَبَا القَاسِمِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «وَيْلٌ لِلْأَعْقَابِ مِنَ النَّارِ»

আদম ইব্‌ন ইয়াস আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: শু’বাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: মু‘হাম্মাদ ইব্‌নু যিয়াদ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: আমি আবূ হুরায়রা (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে শুনেছি, তিনি আমাদের নিকট দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। লোকেরা সে সময় পাত্র থেকে উযূ করছিল। তখন তাঁকে বলতে শুনেছি, তোমরা উত্তমরূপে উযূ কর। কারণ আবুল কাসিম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: পায়ের গোড়ালিগুলোর জন্য জাহান্নামের ‘আযাব রয়েছে।

অনুরূপ বর্ণনা : [মুসলিম ২/৯, হাঃ ২৪২, আহমাদ ৯২৭৬] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬১, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৬৬]

١٢٤. ‌‌بَابُ غَسْلِ الرِّجْلَيْنِ فِي النَّعْلَيْنِ، وَلَا يَمْسَحُ عَلَى النَّعْلَيْنِ

১২৪. পরিচ্ছেদ : জুতা পরা অবস্থায় উভয় পা ধুতে হবে জুতার উপর মাস্‌হ করা যাবে না।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৬৬

হাদিসের মান: সহীহ

١٦٦ – حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ سَعِيدٍ المَقْبُرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ جُرَيْجٍ، أَنَّهُ قَالَ: لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ رَأَيْتُكَ تَصْنَعُ أَرْبَعًا لَمْ أَرَ أَحَدًا مِنْ أَصْحَابِكَ يَصْنَعُهَا، قَالَ: وَمَا هِيَ يَا ابْنَ جُرَيْجٍ قَالَ: رَأَيْتُكَ لَا تَمَسُّ مِنَ الأَرْكَانِ إِلَّا اليَمَانِيَّيْنِ، وَرَأَيْتُكَ تَلْبَسُ النِّعَالَ السِّبْتِيَّةَ، وَرَأَيْتُكَ تَصْبُغُ بِالصُّفْرَةِ، وَرَأَيْتُكَ إِذَا كُنْتَ بِمَكَّةَ أَهَلَّ النَّاسُ إِذَا رَأَوُا الْهِلَالَ وَلَمْ تُهِلَّ أَنْتَ حَتَّى كَانَ يَوْمُ التَّرْوِيَةِ. قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: أَمَّا الأَرْكَانُ: فَإِنِّي لَمْ «أَرَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَمَسُّ إِلَّا اليَمَانِيَّيْنِ»، وَأَمَّا النِّعَالُ السِّبْتِيَّةُ: فَإِنِّي «رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَلْبَسُ النَّعْلَ الَّتِي لَيْسَ فِيهَا شَعَرٌ وَيَتَوَضَّأُ فِيهَا»، فَأَنَا أُحِبُّ أَنْ أَلْبَسَهَا، وَأَمَّا الصُّفْرَةُ: فَإِنِّي «رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصْبُغُ بِهَا، فَأَنَا أُحِبُّ أَنْ أَصْبُغَ بِهَا»، وَأَمَّا الإِهْلَالُ: فَإِنِّي «لَمْ أَرَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُهِلُّ حَتَّى تَنْبَعِثَ بِهِ رَاحِلَتُهُ»

‘আব্দুল্লাহ্‌ ইব্‌ন ইউসুফ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: মালিক আমাদেরকে হাদীসটি সংবাদ দিলেন সা‘ঈদ মাক্ববুরী থেকে, তিনি ‘উবায়দ ইব্‌ন জুরাইজ থেকে- তিনি ‘আবদুল্লাহ্ ইব্‌নু ‘উমর (রাজিআল্লাহু ‘আনহু)-কে বললেন, “হে আবূ ‘আবদুর রহমান! আমি আপনাকে এমন চারটি কাজ করতে দেখি, যা আপনার অন্য কোন সাথীকে দেখি না।” তিনি বললেন, “ইব্‌নু জুরায়জ, সেগুলো কী?” তিনি বললেন, আমি দেখি, (১) আপনি ত্বওয়াফ করার সময় দুই রুকনে ইয়ামানী ব্যতীত অন্য রুক্‌ন স্পর্শ করেন না। (২) আপনি ‘সিবতী’ (পশমবিহীন) জুতা পরিধান করেন; (৩) আপনি (কাপড়ে) হলুদ রং ব্যবহার করেন এবং (৪) আপনি যখন মক্কায় থাকেন লোকে চাঁদ দেখে ইহ্‌রাম বাঁধে; কিন্তু আপনি তারবিয়ার দিন (৮ই যিলহজ্জ) না এলে ইহরাম বাঁধেন না। ‘আবদুল্লাহ্ (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) বললেন: রুক্‌নের কথা যা বলেছ, তা এজন্য করি যে আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ইয়ামানী রুকনদ্বয় ব্যতীত আর কোনটি স্পর্শ করতে দেখিনি। আর “সিবতী” জুতা, আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সিবতী জুতা পরতে এবং তা পরিহিত অবস্থায় উযূ করতে দেখেছি, তাই আমি তা পরতে ভালবাসি। আর হলুদ রং, আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তা দিয়ে কাপড় রঙিন করতে দেখেছি, তাই আমিও তা দিয়ে রঙিন করতে ভালবাসি। আর ইহরাম, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে নিয়ে তাঁর সওয়ারী রওনা না হওয়া পর্যন্ত আমি তাঁকে ইহরাম বাঁধতে দেখিনি।

অনুরূপ বর্ণনা : [১৫১৪, ১৫৫২, ১৬০৯, ২৮৬৫, ৫৮৫১; মুসলিম ১৫/৫, হাঃ ১১৮৭] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬২, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৬৭]

١٢٥. ‌‌بَابُ التَّيَمُّنِ فِي الوُضُوءِ وَالغَسْلِ

১২৫. পরিচ্ছেদ : উযূ এবং গোসলে ডান দিক থেকে শুরু করা

١٦٧ – حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنْ حَفْصَةَ بِنْتِ سِيرِينَ، عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ، قَالَتْ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَهُنَّ فِي غَسْلِ ابْنَتِهِ: «ابْدَأْنَ بِمَيَامِنِهَا وَمَوَاضِعِ الوُضُوءِ مِنْهَا»

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৬৭

হাদিসের মান: সহীহ

মুসাদ্দাদ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করেলেন, তিনি বললেন: ইসমা‘ঈল আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলে, তিনি বললেন: খালিদ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ‘হাফস্বাহ বিন্‌তি সীরীন থেকে, তিনি উম্মু আতিয়্যাহ (রাজিআল্লাহু ‘আনহা) থেকে, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর মেয়ে [যায়নাব (রাজিআল্লাহু ‘আনহা)]-কে গোসল করানোর সময় তাঁদের বলেছিলেন: তোমরা তার ডান দিক হতে এবং উযূর অংগ হতে আরম্ভ কর।

অনুরূপ বর্ণনা : [১২৫৩ হতে ১২৬৩ পর্যন্ত] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬৩, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৬৮]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৬৮

হাদিসের মান: সহীহ

١٦٨ – حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَشْعَثُ بْنُ سُلَيْمٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «يُعْجِبُهُ التَّيَمُّنُ، فِي تَنَعُّلِهِ، وَتَرَجُّلِهِ، وَطُهُورِهِ، وَفِي شَأْنِهِ كُلِّهِ»

‘হাফ্‌স্ব ইব্‌ন ‘উমার আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: শু’বাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ননা করলেন, তিনি বললেন: আশ‘আছ ইব্‌ন সুলায়ম আমাকে হাদীসটি খবর দিলেন, তিনি বললেন: আমি আমার পিতা থেকে হাদীসটি শুনেছিলাম, তিনি মাসরূক থেকে, তিনি ‘আয়িশা (রাজিআল্লাহু ‘আনহা) থেকে, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুতা পরা, চুল আচঁড়ানো এবং পবিত্রতা অর্জন করা তথা প্রত্যেক কাজই ডান দিক হতে আরম্ভ করতে পছন্দ করতেন।

অনুরূপ বর্ণনা : [৪২৬, ৫৩৮০, ৫৮৫৪, ৫৯২৬; মুসলিম ১৫/৫, হাঃ ১১৮৭] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬৪, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৬৯]

١٢٦. ‌‌بَابُ التِمَاسِ الوَضُوءِ إِذَا حَانَتِ الصَّلَاةُ

وَقَالَتْ عَائِشَةُ: «حَضَرَتِ الصُّبْحُ، فَالْتُمِسَ المَاءُ فَلَمْ يُوجَدْ، فَنَزَلَ التَّيَمُّمُ»

১২৬. পরিচ্ছেদ : সালাতের সময় হলে উযূর পানি অনুসন্ধান করা।

আয়িশা (রাজিআল্লাহু ‘আনহা) বলেন: একবার ফজরের সময় হল, তখন পানি তালাশ করা হল; কিন্তু কোথাও পাওয়া গেল না। তখন তায়াম্মুম (এর আয়াত) নাযিল হল।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৬৯

হাদিসের মান: সহীহ

١٦٩ – حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّهُ قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَحَانَتْ صَلَاةُ العَصْرِ، فَالْتَمَسَ النَّاسُ الوَضُوءَ فَلَمْ يَجِدُوهُ، فَأُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِوَضُوءٍ، فَوَضَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي ذَلِكَ الإِنَاءِ يَدَهُ، وَأَمَرَ النَّاسَ أَنْ يَتَوَضَّئُوا مِنْهُ قَالَ: «فَرَأَيْتُ المَاءَ يَنْبُعُ مِنْ تَحْتِ أَصَابِعِهِ حَتَّى تَوَضَّئُوا مِنْ عِنْدِ آخِرِهِمْ»

‘আব্দুল্লাহ ইব্‌ন ইউসুফ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: মালিক আমাদেরকে হাদীসটি সংবাদ দিলেন ইস‘হাক ইব্‌ন ‘আব্দুল্লাহ ইব্‌ন আবূ ত্বাল্‌‘হাহ্‌ থেকে, তিনি আনাস ইব্‌নু মালিক (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বললেন: আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখলাম, তখন আসরের সালাতের সময় হয়ে গিয়েছিল। আর লোকজন উযূর পানি খুঁজতে লাগল কিন্তু পেল না। তারপর আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট কিছু পানি আনা হল। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সে পাত্রে তাঁর হাত রাখলেন এবং লোকজনকে তা থেকে উযূ করতে বললেন। আনাস (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) বলেন, সে সময় আমি দেখলাম, তাঁর আঙ্গুলের নীচ থেকে পানি উপচে পড়ছে। এমনকি তাদের শেষ ব্যক্তি পর্যন্ত তার দ্বারা উযূ করল।

অনুরূপ বর্ণনা : [১৯৫, ২০০, ৩৫৭২ হতে ৩৫৭৫ পর্যন্ত; মুসলিম ৪৩/৩, হাঃ ২২৭৯, আহমাদ ১২৪৯৯] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬৫, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৭০]

١٢٧. ‌‌بَابُ المَاءِ الَّذِي يُغْسَلُ بِهِ شَعَرُ الإِنْسَانِ

وَكَانَ عَطَاءٌ: «لَا يَرَى بِهِ بَأْسًا أَنْ يُتَّخَذَ مِنْهَا الخُيُوطُ وَالحِبَالُ. وَسُؤْرِ الكِلَابِ وَمَمَرِّهَا فِي المَسْجِدِ» وَقَالَ الزُّهْرِيُّ: «إِذَا وَلَغَ فِي إِنَاءٍ لَيْسَ لَهُ وَضُوءٌ غَيْرُهُ يَتَوَضَّأُ بِهِ» وَقَالَ سُفْيَانُ: ” هَذَا الفِقْهُ بِعَيْنِهِ، يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى: {فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا} [النساء: ٤٣] وَهَذَا مَاءٌ، وَفِي النَّفْسِ مِنْهُ شَيْءٌ، يَتَوَضَّأُ بِهِ وَيَتَيَمَّمُ

১২৭. পরিচ্ছেদ : যে পানি দিয়ে মানুষের চুল ধোয়া হয়।

‘আত্বা চুল দিয়ে সুতা এবং রশি প্রস্তুত করায় দোষের কিছু মনে করতেন না। কুকুরের ঝুটা এবং মসজিদের ভিতর দিয়ে কুকুরের যাতায়াত সম্পর্কে যূহরী বলেন, কুকুর যখন কোন পানির পাত্রে মুখ দেয় এবং ঊযু করার জন্য সে পানি ব্যতীত অন্য কোন পানি না থেকে, তবে তা দিয়েই উযূ করবে। সুফিয়ান বলেন, হুবহু এ মাসআলাটি বিধৃত হয়েছে আল্লাহ তা‘আলার এ বাণীতে: “তারপর তোমরা যদি পানি না পাও তবে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়ম্মুম কর।” আর এ তো পানিই। কিন্তু অন্তরে যেহেতু কিছু সন্দেহ রয়েছে তাই তা দিয়ে উযূ করবে, পরে তায়াম্মুমও করবে।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৭০

হাদিসের মান: সহীহ

١٧٠ – حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، قَالَ: قُلْتُ لِعَبِيدَةَ «عِنْدَنَا مِنْ شَعَرِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَصَبْنَاهُ مِنْ قِبَلِ أَنَسٍ أَوْ مِنْ قِبَلِ أَهْلِ أَنَسٍ» فَقَالَ: لَأَنْ تَكُونَ عِنْدِي شَعَرَةٌ مِنْهُ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا

মালিক ইব্‌ন ইসমা‘ঈল আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ইসরাঈল আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ‘আসীম থেকে, তিনি ইব্‌ন সীরীন থেকে, তিনি বলেন: আমি আবীদাকে বললাম, আমাদের নিকট নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চুল রয়েছে যা আমরা আনাস (রাজিআল্লাহু ‘আনহু)-এর নিকট হতে কিংবা আনাস (রাজিআল্লাহু ‘আনহু)-এর পরিবারের নিকট হতে পেয়েছি। তিনি বললেন, তাঁর একটি চুল আমার নিকট থাকাটা দুনিয়া এবং দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু রয়েছে তা অর্জনের চেয়ে অধিক পছন্দের।

অনুরূপ বর্ণনা : [১৭১ দ্রষ্টব্য] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬৬, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৭১]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৭১

হাদিসের মান: সহীহ

١٧١ – حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبَّادٌ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «لَمَّا حَلَقَ رَأْسَهُ كَانَ أَبُو طَلْحَةَ أَوَّلَ مَنْ أَخَذَ مِنْ شَعَرِهِ»

মু‘হাম্মাদ ইব্‌ন আব্দুর রহীম আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: সা‘ঈদ ইব্‌ন সুলায়মান আমাদেরকে হাদীসটি সংবাদ দিলেন, তিনি বললেন: ‘আব্বাদ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ইব্‌ন ‘আউন থেকে, তিনি ইব্‌ন শিরীন থেকে, তিনি আনাস (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে- আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর মাথা মুন্ডন করলে আবূ তালহা (রাজিআল্লাহু ‘আনহু)-ই প্রথমে তাঁর চুল সংগ্রহ করেন।

অনুরূপ বর্ণনা : [১৭০; মুসলিম ১৫/৫৬, হাঃ ১৩০৫, আহমাদ ১২০৯৩] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬৭, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৭২]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৭২

হাদিসের মান: সহীহ

١٧٢ – حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا شَرِبَ الكَلْبُ فِي إِنَاءِ أَحَدِكُمْ فَلْيَغْسِلْهُ سَبْعًا»

‘আব্দুল্লাহ ইব্‌ন ইউসুফ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন আবূ যিনাদ থেকে, তিনি ‘আরাজ থেকে, তিনি আবূ হুরায়রা (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বললেন: আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন- তোমাদের কারো পাত্রে যদি কুকুর পান করে তা যেন সাতবার ধুয়ে নেয়।

অনুরূপ বর্ণনা : [মুসলিম ২/২৭, হাঃ ২৭৯, আহমাদ ৭৩৫০, ৭৩৫১,৭৪৫১] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬৮, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৭৩]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৭৩

হাদিসের মান: সহীহ

١٧٣ – حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، سَمِعْتُ أَبِي، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَنَّ رَجُلًا رَأَى كَلْبًا يَأْكُلُ الثَّرَى مِنَ العَطَشِ، فَأَخَذَ الرَّجُلُ خُفَّهُ، فَجَعَلَ يَغْرِفُ لَهُ بِهِ حَتَّى أَرْوَاهُ، فَشَكَرَ اللَّهُ لَهُ، فَأَدْخَلَهُ الجَنَّةَ»

ইস‘হাক্ব আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: আব্দুস্ স্বামাদ হাদীসটি আমাদেরকে খবর দিলেন, তিনি বললেন: ‘আব্দুর্‌ র‘হমান ইব্‌ন ‘আব্দুল্লাহ ইব্‌ন দীনার আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: আমি আমার পিতা থেকে শুনেছি, তিনি আবূ স্বালিহ থেকে, তিনি আবূ হুরায়রা (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বললেন: নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: (পূর্ব যুগে) জনৈক ব্যক্তি একটি কুকুরকে তৃষ্ণার্ত অবস্থায় ভিজা মাটি চাটতে দেখতে পেয়ে তার মোজা নিল এবং কুকুরটির জন্য কুয়া হতে পানি এনে দিতে লাগল যতক্ষণ না সে ওর তৃষ্ণা মিটাল। আল্লাহ্‌ এর বিনিময় দিলেন এবং তাকে জান্নাতে প্রবেশ করালেন।

অনুরূপ বর্ণনা : [২৩৬৩, ২৪৬৬, ৬০০৯ দ্রষ্টব্য] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৬৯, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৭৪]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৭৪

হাদিসের মান: সহীহ

١٧٤ – وَقَالَ أَحْمَدُ بْنُ شَبِيبٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ يُونُسَ، عَنْ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي حَمْزَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: «كَانَتِ الكِلَابُ تَبُولُ، وَتُقْبِلُ وَتُدْبِرُ فِي المَسْجِدِ، فِي زَمَانِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَلَمْ يَكُونُوا يَرُشُّونَ شَيْئًا مِنْ ذَلِكَ»

এবং আ‘হমাদ ইব্‌ন শাবীব বললেন: আমার পিতা আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ইউনুস থেকে, তিনি ইব্‌ন শিহাব থেকে, তিনি বললেন: ‘হামযাহ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ আমাকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন তাঁর পিতা থেকে, তিনি বলেন: আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যামানায় কুকুর মসজিদের ভিতর দিয়ে আসা-যাওয়া করত অথচ এজন্য তাঁরা কোথাও পানি ছিটিয়ে দিতেন না।

অনুরূপ বর্ণনা : [আ.প্র. ১৬৯ শেষাংশ, ই.ফা. ১৭৪ শেষাংশ]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৭৫

হাদিসের মান: সহীহ

١٧٥ – حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ ابْنِ أَبِي السَّفَرِ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ، قَالَ: سَأَلْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «إِذَا أَرْسَلْتَ كَلْبَكَ المُعَلَّمَ فَقَتَلَ فَكُلْ، وَإِذَا أَكَلَ فَلَا تَأْكُلْ، فَإِنَّمَا أَمْسَكَهُ عَلَى نَفْسِهِ» قُلْتُ: أُرْسِلُ كَلْبِي فَأَجِدُ مَعَهُ كَلْبًا آخَرَ؟ قَالَ: «فَلَا تَأْكُلْ، فَإِنَّمَا سَمَّيْتَ عَلَى كَلْبِكَ وَلَمْ تُسَمِّ عَلَى كَلْبٍ آخَرَ»

‘হাফ্‌স্ব ইব্‌ন ‘উমার আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: শু’বাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ইব্‌ন আবূ সাফার থেকে, তিনি শা’বী থেকে, তিনি ‘আদী ইব্‌নু হাতিম (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বলেন, আমি (প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর সম্পর্কে) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন: তুমি যখন তোমার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর শিকার ধরতে ছেড়ে দাও, তখন সে হত্যা করলে তা তুমি খেতে পার। আর সে তার অংশবিশেষ খেয়ে ফেললে তুমি তা খাবে না। কারণ সে তা নিজের জন্যই শিকার করেছে। আমি বললাম: কখনো কখনো আমি আমার কুকুর (শিকারে) পাঠিয়ে দেই, অতঃপর তার সঙ্গে অন্য এক কুকুরও দেখতে পাই (এমতাবস্থায় শিকারকৃত প্রাণীর কী হুকুম)? তিনি বললেনঃ তবে খেও না। কারণ তুমি বিসমিল্লাহ্‌ বলেছ কেবল তোমার কুকুরের বেলায়, অন্য কুকুরের বেলায় বিসমিল্লাহ্‌ বলনি।

অনুরূপ বর্ণনা : [২০৫৪, ৫৪৭৫, ৫৪৭৬, ৫৪৭৭, ৫৪৮৩ হতে ৫৪৮৭,৭৩৯৭ দ্রষ্টব্য] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭০, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৭৫]

١٢٨. ‌‌بَابُ مَنْ لَمْ يَرَ الوُضُوءَ إِلَّا مِنَ المَخْرَجَيْنِ: مِنَ القُبُلِ وَالدُّبُرِ

وَقَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى: {أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنَ الغَائِطِ} [النساء: ٤٣] وَقَالَ عَطَاءٌ: – فِيمَنْ يَخْرُجُ مِنْ دُبُرِهِ الدُّودُ، أَوْ مِنْ ذَكَرِهِ نَحْوُ القَمْلَةِ – «يُعِيدُ الوُضُوءَ» وَقَالَ جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ: «إِذَا ضَحِكَ فِي الصَّلَاةِ أَعَادَ الصَّلَاةَ وَلَمْ يُعِدِ الوُضُوءَ» وَقَالَ الحَسَنُ: «إِنْ أَخَذَ مِنْ شَعَرِهِ وَأَظْفَارِهِ، أَوْ خَلَعَ خُفَّيْهِ فَلَا وُضُوءَ عَلَيْهِ» وَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: «لَا وُضُوءَ إِلَّا مِنْ حَدَثٍ» وَيُذْكَرُ عَنْ جَابِرٍ: «أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ فِي غَزْوَةِ ذَاتِ الرِّقَاعِ فَرُمِيَ رَجُلٌ بِسَهْمٍ، فَنَزَفَهُ الدَّمُ، فَرَكَعَ، وَسَجَدَ وَمَضَى فِي صَلَاتِهِ» وَقَالَ الحَسَنُ: «مَا زَالَ المُسْلِمُونَ يُصَلُّونَ فِي جِرَاحَاتِهِمْ» وَقَالَ طَاوُسٌ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ، وَعَطَاءٌ، وَأَهْلُ الحِجَازِ لَيْسَ فِي الدَّمِ وُضُوءٌ وَعَصَرَ ابْنُ عُمَرَ بَثْرَةً فَخَرَجَ مِنْهَا الدَّمُ وَلَمْ يَتَوَضَّأْ وَبَزَقَ ابْنُ أَبِي أَوْفَى دَمًا فَمَضَى فِي صَلَاتِهِ ” وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ، وَالحَسَنُ: ” فِيمَنْ يَحْتَجِمُ: لَيْسَ عَلَيْهِ إِلَّا غَسْلُ مَحَاجِمِهِ “

১২৮. পরিচ্ছেদ : সামনের এবং পেছনের রাস্তা দিয়ে কিছু নির্গত হওয়া ব্যতীত অন্য কারণে যিনি উযূর প্রয়োজন মনে করেন না।

আল্লাহ্‌ তা‘আলার এ বাণীর কারণে “অথবা তোমাদের কেউ শৌচাগার হতে আসে।” [সূরা আন-নিসা ৪:৪৩] ‘আত্বা (রহমাহুল্লাহ) বলেন, যার পেছনের রাস্তা দিয়ে পোকা বের হয় অথবা যার পুরুষাঙ্গ দিয়ে উকুনের ন্যায় কিছু বের হয়, তার পুনরায় উযূ করতে হবে। জাবির ইব্‌নু ‘আব্দুল্লাহ (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) বলেন, কেউ সালাত অবস্থায় হেসে ফেললে পুনরায় শুধুমাত্র সালাতই আদায় করবে, পুনঃ উযূ করবে না। হাসান (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) বলেন, কেউ যদি চুল অথবা নখ কাটে অথবা তার মোজা খুলে ফেলে তবে তার পুনরায় উযূ করতে হবে না। আবূ হুরায়রা (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) বলেন, ‘হাদাস’ ব্যাতীত অন্য কিছুতে উযূর প্রয়োজন নেই। জাবির (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) হতে বর্ণিত। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘যাতুর রিক’ -এর যুদ্ধে ছিলেন। সেখানে জনৈক ব্যক্তি তীরবিদ্ধ হলেন এবং ফিনকি দিয়ে রক্ত ছুটল, কিন্তু (সে অবস্থায়ই) রুকূ করলেন, সাজদা করলেন এবং সালাত আদায় করতে লাগলেন। হাসান (রহমাহুল্লাহ) বলেন, মুসলিমগণ সব সময়ই তাদের যখম অবস্থায় সালাত আদায় করতেন এবং তাঊস (রহমাহুল্লাহ), মুহাম্মাদ ইব্‌ন আলী (রহমাহুল্লাহ), আত্বা (রহমাহুল্লাহ) ও হিজাযবাসীগণ বলেন, রক্তক্ষরণে উযূ করতে হয় না। ইব্‌নু ‘উমার (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) ও হাসান (রহমাহুল্লাহ) বলেন, কেউ শিঙ্গা লাগালে কেবল তাঁর শিঙ্গা স্থানই ধুয়ে ফেলা দরকার।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৭৬

হাদিসের মান: সহীহ

١٧٦ – حَدَّثَنَا آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ المَقْبُرِيُّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يَزَالُ العَبْدُ فِي صَلَاةٍ مَا كَانَ فِي المَسْجِدِ يَنْتَظِرُ الصَّلَاةَ مَا لَمْ يُحْدِثْ» فَقَالَ رَجُلٌ أَعْجَمِيٌّ: مَا الحَدَثُ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ؟ قَالَ: الصَّوْتُ يَعْنِي الضَّرْطَةَ

আদম ইব্‌ন আবূ ইয়াসীন আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ইব্‌ন আবূ যি’ব আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, সা‘ঈদ মাক্ববুরী আমাদেরকে হাদীস বর্ণনা করলেন আবূ হুরায়রা (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বলেন: আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: বান্দা যে সময়টা মসজিদে সালাতের অপেক্ষায় থাকে, তার সে পুরো সময়টাই সালাতের মধ্যে গণ্য হয় যতক্ষণ না সে হাদাস করে। জনৈক অনারব বলল, হে আবূ হুরায়রা ! “হাদাস কি?” তিনি বললেন, “শব্দ করে বায়ু বের হওয়া।”

অনুরূপ বর্ণনা : [৪৪৫, ৪৭৭, ৬৪৭, ৬৪৮, ৬৫৯, ২১১৯, ৩২২৯, ৪৭১৭ দ্রষ্টব্য] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭১, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৭৬]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৭৭

হাদিসের মান: সহীহ

١٧٧ – حَدَّثَنَا أَبُو الوَلِيدِ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ تَمِيمٍ، عَنْ عَمِّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا يَنْصَرِفْ حَتَّى يَسْمَعَ صَوْتًا أَوْ يَجِدَ رِيحًا»

আবূ ওয়ালীদ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: সুফইয়ান ইব্‌ন ‘উয়ায়নাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ‘আব্বাদ ইব্‌ন তায়মীম থেকে, তিনি তাঁর চাচা থেকে- নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (কোন মুসল্লী) সালাত থেকে সরে থাকবে না যতক্ষণ না সে শব্দ শুনতে পায় কিংবা গন্ধ পায়।

অনুরূপ বর্ণনা : [১৩৭] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭২, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৭৭]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৭৮

হাদিসের মান: সহীহ

١٧٨ – حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ مُنْذِرٍ أَبِي يَعْلَى الثَّوْرِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ ابْنِ الحَنَفِيَّةِ، قَالَ: قَالَ عَلِيٌّ كُنْتُ رَجُلًا مَذَّاءً فَاسْتَحْيَيْتُ أَنْ أَسْأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَمَرْتُ المِقْدَادَ بْنَ الأَسْوَدِ فَسَأَلَهُ فَقَالَ: «فِيهِ الوُضُوءُ» وَرَوَاهُ شُعْبَةُ، عَنِ الأَعْمَشِ

ক্বুতায়বাহ্‌ ইব্‌ন সা‘ঈদ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: জারীর আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ‘আমাশ থেকে, তিনি মুনযির আবূ ইয়া‘আলাস সাওরী থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইব্‌নুল হানাফিয়্যাহ থেকে, তিনি বলেন: আলী (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) বলেছেন, আমার অধিক পরিমাণে মযী বের হতো। কিন্তু আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে লজ্জাবোধ করছিলাম। তাই আমি মিকদাদ ইব্‌নু আসওয়াদ (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) কে অনুরোধ করলাম, তিনি যেন আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-নিকট জিজ্ঞেস করেন। তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বলেন: এতে শুধু উযূ করতে হয়। হাদীসটি শু’বাহ আ’মাশ থেকে বর্ণনা করেছেন।

অনুরূপ বর্ণনা : [১৩২] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭৩, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৭৮]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৭৯

হাদিসের মান: সহীহ

١٧٩ – حَدَّثَنَا سَعْدُ بْنُ حَفْصٍ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، أَنَّ عَطَاءَ بْنَ يَسَارٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّ زَيْدَ بْنَ خَالِدٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، سَأَلَ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قُلْتُ أَرَأَيْتَ إِذَا جَامَعَ فَلَمْ يُمْنِ، قَالَ عُثْمَانُ «يَتَوَضَّأُ كَمَا يَتَوَضَّأُ لِلصَّلَاةِ وَيَغْسِلُ ذَكَرَهُ» قَالَ عُثْمَانُ سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَأَلْتُ عَنْ ذَلِكَ عَلِيًّا، وَالزُّبَيْرَ، وَطَلْحَةَ، وَأُبَيَّ بْنَ كَعْبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ فَأَمَرُوهُ بِذَلِكَ

সা’দ ইব্‌ন হাফস্ব আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, শায়বান আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ইয়া‘হ্‌ইয়া থেকে, তিনি আবূ সালামাহ থেকে, তিনি ‘আত্বা ইব্‌ন ইয়াসার থেকে, তিনি তাকে হাদীসটি সংবাদ দিলেন যায়দ ইব্‌নু খালিদ (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি ‘উসমান ইব্‌নু আফফান (রাজিআল্লাহু ‘আনহু)-কে জিজ্ঞেস করলেনঃ কেউ যদি স্ত্রী সহবাস করে, কিন্তু মনী (বীর্য) বের না হয় (তবে তার হুকুম কী)? ‘উসমান (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) বললেনঃ ‘সে সালাতের ন্যায় উযূ করে নেবে এবং তার লজ্জাস্থান ধুয়ে ফেলবে। উসমান (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) বলেন, আমি এ কথা আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে শুনেছি। (যায়দ বলেন) তারপর আমি এ সম্পর্কে আলী (রাজিআল্লাহু ‘আনহু), যুবায়র (রাজিআল্লাহু ‘আনহু), তালহা (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) ও উবাই ইব্‌নু কা’ব (রাজিআল্লাহু ‘আনহু)-কে জিজ্ঞেস করেছি। তাঁরা আমাকে এ নির্দেশেই দিয়েছেন।

অনুরূপ বর্ণনা : [২৯২; মুসলিম ৩/২১, হাঃ ৩৪৭, আহমাদ ৪৫৮] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭৪, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৭৯]

ফুটনোটঃ
১. হাদীসটির হুকুম মানসুখ হয়ে গেছে। ইসলামের প্রাথমিক যুগে তা বৈধ ছিল। পুরুষাঙ্গের অগ্রভাগ সামান্যও যদি স্ত্রীর যোনীতে প্রবেশ করে তাহলে বীর্যপাত হোক বা না হোক গোসল ফরয হয়ে যায়। (হাদীসটি মানুসুখ হওয়ার দলীল প্রয়োজন?)

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৮০

হাদিসের মান: সহীহ

١٨٠ – حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا النَّضْرُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الحَكَمِ، عَنْ ذَكْوَانَ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرْسَلَ إِلَى رَجُلٍ مِنَ الأَنْصَارِ فَجَاءَ وَرَأْسُهُ يَقْطُرُ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَعَلَّنَا أَعْجَلْنَاكَ»، فَقَالَ: نَعَمْ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا أُعْجِلْتَ أَوْ قُحِطْتَ فَعَلَيْكَ الوُضُوءُ» تَابَعَهُ وَهْبٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: وَلَمْ يَقُلْ غُنْدَرٌ، وَيَحْيَى، عَنْ شُعْبَةَ الوُضُوءُ

ইস‘হাক আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: নাযর আমাদেরকে হাদীসটি সংবাদ দিলেন, তিনি বললেন: শু’বাহ্‌ আমাদেরকে হাদীসটি সংবাদ দিলেন ‘হাকাম থেকে, তিনি যাক্‌ওয়ান আবূ স্বালি‘হ্‌ থেকে, তিনি আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জনৈক আনসারীর নিকট লোক পাঠালেন। তিনি আসলেন। তখন তাঁর মাথা থেকে পানির ফোঁটা ঝরছিল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ ‘সম্ভবত আমরা তোমাকে তাড়াহুড়া করতে বাধ্য করেছি।’ তিনি বললেন, ‘জী’। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ যখন তাড়াহুড়ার কারণে মনী বের না হবে (অথবা বললেন), মনীর অভাবজনিত কারণে তা বের না হবে তখন উযূ করে নিবে। ওয়াহ্‌ব (রহমাহুল্লাহ) শু’বাহ (রহমাহুল্লাহ) সূত্রে এ রকমই বর্ণনা করেন। তিনি [ শু’বাহ (রহমাহুল্লাহ)] বলেন, আবূ ‘আবদুল্লাহ (রহমাহুল্লাহ) বলেছেনঃ গুনদার (রহমাহুল্লাহ) ও ইয়াহ্‌ইয়া (রহমাহুল্লাহ) শু’বাহ (রহমাহুল্লাহ)- এর সূত্রে বর্ণনায় উযূর কথা উল্লেখ করেন নি।

অনুরূপ বর্ণনা : [মুসলিম ৩/২১, হাঃ ৩৪৫, আহমাদ ১১১৬২, ১১২০৭] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭৫, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৮০]

ফুটনোটঃ
২. হাদীসটির হুকুম মানসুখ হয়ে গেছে। ইসলামের প্রাথমিক যুগে তা বৈধ ছিল। পুরুষাঙ্গের অগ্রভাগ সামান্যও যদি স্ত্রীর যোনীতে প্রবেশ করে তাহলে বীর্যপাত হোক বা না হোক গোসল ফরয হয়ে যায়। (হাদীসটি মানুসুখ হওয়ার দলীল প্রয়োজন?)

١٢٩. ‌‌بَابٌ: الرَّجُلُ يُوَضِّئُ صَاحِبَهُ

১২৯. পরিচ্ছেদ : নিজের সাথীকে উযূ করিয়ে দেয়া।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৮১

হাদিসের মান: সহীহ

١٨١ – حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ سَلَامٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ كُرَيْبٍ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا أَفَاضَ مِنْ عَرَفةَ عَدَلَ إِلَى الشِّعْبِ فَقَضَى حَاجَتَهُ، قَالَ أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ فَجَعَلْتُ أَصُبُّ عَلَيْهِ وَيَتَوَضَّأُ، فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتُصَلِّي؟ فَقَالَ: «المُصَلَّى أَمَامَكَ»

মুহাম্মাদ ইব্‌ন সালাম আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ইয়াযীদ ইব্‌ন হারূন হাদীসটি আমাদেরকে সংবাদ দিলেন ইয়া‘হ্‌ইয়া থেকে, তিনি মুসা ইব্‌ন উক্ববাহ থেকে, তিনি ইব্‌ন আব্বাস (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) এর স্বাধীন করা গুলাম কুরায়ব থেকে, তিনি ‘উসামা ইব্‌নু যায়দ (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বললেন: আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন ‘আরাফা হতে ফিরছিলেন, তখন তিনি একটি গিরিপথের দিকে গিয়ে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিলেন। উসামা (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) বলেন, পরে আমি তাঁকে পানি ঢেলে দিচ্ছিলাম আর তিনি উযূ করেছিলেন। অতঃপর আমি বললাম, “হে আল্লাহর রসূল! আপনি কি সালাত আদায় করবেন? তিনি বললেন: সালাতের স্থান তোমার সম্মুখে (অর্থাৎ মুযদালিফায়)”।

অনুরূপ বর্ণনা : [১৩৯] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭৬, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৮১]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৮২

হাদিসের মান: সহীহ

١٨٢ – حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الوَهَّابِ، قَالَ: سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ سَعِيدٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي سَعْدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَنَّ نَافِعَ بْنَ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ سَمِعَ عُرْوَةَ بْنَ المُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، يُحَدِّثُ عَنِ المُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، أَنَّهُ كَانَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ، وَأَنَّهُ ذَهَبَ لِحَاجَةٍ لَهُ، وَأَنَّ مُغِيرَةَ «جَعَلَ يَصُبُّ المَاءَ عَلَيْهِ وَهُوَ يَتَوَضَّأُ، فَغَسَلَ وَجْهَهُ وَيَدَيْهِ، وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ، وَمَسَحَ عَلَى الخُفَّيْنِ»

‘আমর ইব্‌ন আলী আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ‘আব্দুল ওয়াহ্‌হাব আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ইয়া‘হ্‌ইয়া ইব্‌ন সা‘ঈদ থেকে আমি হাদীসটি শুনেছি, তিনি বললেন: সা’দ ইব্‌ন ইব্‌রাহীম আমাকে হাদীসটি সংবাদ দিলেন, তিনি নাফি’ ইব্‌ন জুবায়র ইব্‌ন মুত্ব‘ইম থেকে, তিনি ‘উরওয়াহ ইব্‌ন মুগীরা ইব্‌নু শু’বাহ থেকে শুনলেন, তিনি হাদীসটি বর্ণনা করছেন মুগীরা ইব্‌ন শু’বাহ (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বললেন: তিনি কোন এক সফরে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর সাথে ছিলেন। এক সময় তিনি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গেলেন। (প্রয়োজন সেরে আসার পর) মুগীরা (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) তাঁকে পানি ঢেলে দিচ্ছিলেন এবং তিনি উযূ করছিলেন। তিনি তাঁর মুখমন্ডল এবং দু’হাত ধুলেন এবং তাঁর মাথা মাস্‌হ করলেন ও উভয় মোজার উপর মাস্‌হ করলেন।

অনুরূপ বর্ণনা : [২০৩, ২০৬, ৩৬৩, ৩৮৮, ২৯১৮, ৪৪২১, ৫৭৯৮, ৫৭৯৯; মুসলিম ২/২২, হাঃ ২৭৪, আহমাদ ১৮১৮৪] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭৭, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৮২]

١٣٠. ‌‌بَابُ قِرَاءَةِ القُرْآنِ بَعْدَ الحَدَثِ وَغَيْرِهِ

وَقَالَ مَنْصُورٌ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ: «لَا بَأْسَ بِالقِرَاءَةِ فِي الحَمَّامِ، وَبِكَتْبِ الرِّسَالَةِ عَلَى غَيْرِ وُضُوءٍ» وَقَالَ حَمَّادٌ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ: «إِنْ كَانَ عَلَيْهِمْ إِزَارٌ فَسَلِّمْ، وَإِلَّا فَلَا تُسَلِّمْ»

১৩০. পরিচ্ছেদ : বিনা উযূতে কুরআন পাঠ।

মানস্বুর বললেন ইবরাহীম থেকে, বিনা উযূতে গোসলখানায় (কুরআন) পাঠ এবং পত্র লেখায় কোন দোষ নেই। হাম্মাদ ইবরাহীম থেকে বর্ণনা করেন, গোসলখানার লোকদের পরনে লুঙ্গি থাকলে সালাম দিও নইলে সালাম দিও না।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৮৩

হাদিসের মান: সহীহ

١٨٣ – حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ: حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ مَخْرَمَةَ بْنِ سُلَيْمَانَ، عَنْ كُرَيْبٍ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ بَاتَ لَيْلَةً عِنْدَ مَيْمُونَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهِيَ خَالَتُهُ فَاضْطَجَعْتُ فِي عَرْضِ الوِسَادَةِ ” وَاضْطَجَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَهْلُهُ فِي طُولِهَا، فَنَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، حَتَّى إِذَا انْتَصَفَ اللَّيْلُ، أَوْ قَبْلَهُ بِقَلِيلٍ أَوْ بَعْدَهُ بِقَلِيلٍ، اسْتَيْقَظَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَجَلَسَ يَمْسَحُ النَّوْمَ عَنْ وَجْهِهِ بِيَدِهِ، ثُمَّ قَرَأَ العَشْرَ الآيَاتِ الخَوَاتِمَ مِنْ سُورَةِ آلِ عِمْرَانَ، ثُمَّ قَامَ إِلَى شَنٍّ مُعَلَّقَةٍ، فَتَوَضَّأَ مِنْهَا فَأَحْسَنَ وُضُوءَهُ، ثُمَّ قَامَ يُصَلِّي. قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: فَقُمْتُ فَصَنَعْتُ مِثْلَ مَا صَنَعَ، ثُمَّ ذَهَبْتُ فَقُمْتُ إِلَى جَنْبِهِ، فَوَضَعَ يَدَهُ اليُمْنَى عَلَى رَأْسِي، وَأَخَذَ بِأُذُنِي اليُمْنَى يَفْتِلُهَا، فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ أَوْتَرَ، ثُمَّ اضْطَجَعَ حَتَّى أَتَاهُ المُؤَذِّنُ، فَقَامَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ، ثُمَّ خَرَجَ فَصَلَّى الصُّبْحَ “

ইসমা‘ঈল আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: মালিক আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন মাখ্‌রামাহ্‌ ইব্‌ন সুলায়মান থেকে, তিনি ইব্‌ন আব্বাস (রাজিআল্লাহু’আনহু) এর আজাদ করা গুলাম কুরায়ব থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ্‌ ইব্‌ন ‘আব্বাস (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি একদা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রী মাইমূনা (রাজিআল্লাহু ‘আনহা)-এর ঘরে রাত কাটান। তিনি ছিলেন ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাজিআল্লাহু ‘আনহু)-এর খালা। ইব্‌নু আব্বাস (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) বলেন: অতঃপর আমি বিছানায় প্রশস্ত দিকে শুলাম এবং আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- ও তার স্ত্রী বিছানার লম্বা দিকে শুলেন; আর আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘুমিয়ে পড়লেন। এমনিভাবে রাত যখন অর্ধেক হয়ে গেল বা তার কিছু পূর্বে কিংবা কিছু পরে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জাগলেন। তিনি বসে হাত দিয়ে তার মুখমন্ডল থেকে ঘুমের আবেশ মুছতে লাগলেন। অতঃপর সূরা আল-‘ইমরানের শেষ দশটি আয়াত তিলাওয়াত করলেন। অতঃপর দাঁড়িয়ে একটি ঝুলন্ত মশক হতে সুন্দরভাবে উযূ করলেন। অতঃপর সালাতে দাড়িঁয়ে গেলেন। ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) বলেন, আমিও উঠে তিনি যেরূপ করেছেন তদ্রুপ করলাম। তারপর গিয়ে তাঁর বাম পাশে দাঁড়ালাম। তিনি তাঁর ডান হাত আমার মাথার উপর রাখলেন এবং আমার ডান কান ধরে একটু নাড়া দিয়ে ডান পাশে এনে দাঁড় করালেন। অতঃপর তিনি দু’রাক’আত সালাত আদায় করলেন। তারপর দু’রাক’আত, তারপর দু’রাক’আত, তারপর দু’রাক’আত, তারপর দু’রাক’আত, তারপর দু’রাক’আত, তারপর বিতর আদায় করলেন। তারপর শুয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ পর তাঁর নিকট মুয়ায্‌যিন এলে তিনি দাঁড়িয়ে হাল্কাভাবে দু’রাক’আত সালাত আদায় করলেন। তারপর বেরিয়ে গিয়ে ফাজরের সালাত আদায় করলেন।

অনুরূপ বর্ণনা : [১১৭; মুসলিম ৬/২৬, হাঃ ৭৬৩] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭৮, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৮৩]

١٣١. ‌‌بَابُ مَنْ لَمْ يَتَوَضَّأْ إِلَّا مِنَ الغَشْيِ المُثْقِلِ

১৩১. পরিচ্ছেদ : অজ্ঞান না হলে উযূ না করা।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৮৪

হাদিসের মান: সহীহ

١٨٤ – حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ: حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ امْرَأَتِهِ فَاطِمَةَ، عَنْ جَدَّتِهَا أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ أَنَّهَا قَالَتْ: أَتَيْتُ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ خَسَفَتِ الشَّمْسُ، فَإِذَا النَّاسُ قِيَامٌ يُصَلُّونَ، وَإِذَا هِيَ قَائِمَةٌ تُصَلِّي، فَقُلْتُ: مَا لِلنَّاسِ؟ فَأَشَارَتْ بِيَدِهَا نَحْوَ السَّمَاءِ، وَقَالَتْ: سُبْحَانَ اللَّهِ، فَقُلْتُ: آيَةٌ؟ فَأَشَارَتْ: أَيْ نَعَمْ، فَقُمْتُ حَتَّى تَجَلَّانِي الغَشْيُ، وَجَعَلْتُ أَصُبُّ فَوْقَ رَأْسِي مَاءً، فَلَمَّا انْصَرَفَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: ” مَا مِنْ شَيْءٍ كُنْتُ لَمْ أَرَهُ إِلَّا قَدْ رَأَيْتُهُ فِي مَقَامِي هَذَا، حَتَّى الجَنَّةَ وَالنَّارَ، وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَيَّ أَنَّكُمْ تُفْتَنُونَ فِي القُبُورِ مِثْلَ – أَوْ قَرِيبَ مِنْ – فِتْنَةِ الدَّجَّالِ – لَا أَدْرِي أَيَّ ذَلِكَ، قَالَتْ: أَسْمَاءُ – يُؤْتَى أَحَدُكُمْ، فَيُقَالُ لَهُ: مَا عِلْمُكَ بِهَذَا الرَّجُلِ؟ فَأَمَّا المُؤْمِنُ أَوِ المُوقِنُ – لَا أَدْرِي أَيَّ ذَلِكَ قَالَتْ: أَسْمَاءُ – فَيَقُولُ: هُوَ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ، جَاءَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَالهُدَى، فَأَجَبْنَا وَآمَنَّا وَاتَّبَعْنَا، فَيُقَالُ لَهُ: نَمْ صَالِحًا، فَقَدْ عَلِمْنَا إِنْ كُنْتَ لَمُؤْمِنًا، وَأَمَّا المُنَافِقُ أَوِ المُرْتَابُ – لَا أَدْرِي أَيَّ ذَلِكَ قَالَتْ أَسْمَاءُ – فَيَقُولُ: لَا أَدْرِي، سَمِعْتُ النَّاسَ يَقُولُونَ شَيْئًا فَقُلْتُهُ “

ইসমা‘ঈল আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: মালিক আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন হিশাম ইব্‌ন ‘উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর স্ত্রী ফাত্বিমাহ্‌ থেকে, তিনি আসমা বিনতু আবূ বক্‌র (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বলেন: আমি একদা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর স্ত্রী ‘আয়িশা (রাজিআল্লাহু ‘আনহা)- এর নিকট আসলাম। তখন সূর্যে গ্রহণ লেগেছিল। দেখলাম সব মানুষ দাড়িঁয়ে সালাত আদায় করছে এবং ‘আয়িশা (রাজিআল্লাহু ‘আনহা)-ও দাড়িঁয়ে সালাত আদায় করছেন। আমি বললাম, লোকদের কী হয়েছে? তিনি তার হাত আকাশের দিকে ইঙ্গিত করে বললেন ‘সুবাহান্নালাহ্‌’! আমি বললাম, এটা কি কোন আলামত? তিনি ইঙ্গিত করে বললেনঃ ‘হাঁ’। অতঃপর আমিও সালাতে দাড়িঁয়ে গেলাম। এমনকি আমার জ্ঞান হারিয়ে ফেলার উপক্রম হলো এবং আমি আমার মাথায় পানি দিতে লাগলাম। অতঃপর আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) [মুসল্লীদের দিকে] ফিরে আল্লাহর হাম্‌দ ও সানা বর্ণনা করে বললেনঃ “যেসব জিনিস আমি ইতোপূর্বে দেখিনি সেসব আমার এ স্থানে আমি দেখতে পেয়েছি, এমনকি জান্নাত এবং জাহান্নামও। আর আমার নিকট ওয়াহী পাঠানো হয়েছে যে, কবরে তোমাদের পরীক্ষা করা হবে দাজ্জালের ফিতনার ন্যায় অথবা কাছাকাছি।” বর্ণনাকারী বলেন: আসমা (রাজিআল্লাহু ‘আনহা) কোন্‌টি বলেছিলেন, আমার জ্ঞানে আসছে না। তোমাদের প্রত্যকের নিকট (ফেরেশতাগণ) উপস্থিত হবে এবং তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, “এ ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি কি জান?”- তারপর “মু’মিন” বা “মু’কিন” আসমা “মুমিন” বলেছিলেন না “মুকিন” তা আমার জ্ঞানে আসছে না, বলবেন, ইনি আল্লাহর রসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। তিনি আমাদের নিকট মু’জিযা ও হিদায়াত নিয়ে আগমন করেছিলেন। আমরা তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েছি, তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছি এবং তাঁর ইত্তেবা’ করেছি। তারপর তাকে বলা হবে, নিশ্চিন্তে ঘুমাও। আমরা জানলাম যে, তুমি মু’মিন ছিলে। আর ‘মুনাফিক’ বা ‘মুরতাব’ আসমা এর কোন্‌টি বলেছিলেন তা আমার জ্ঞানে আসছে না, বলবে- আমি জানি না, – লোকজনকে এর সম্পর্কে কিছু একটা বলতে শুনেছি আর আমিও তা-ই বলেছি।

অনুরূপ বর্ণনা : [৮৬] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭৯, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৮৪]

١٣٢. ‌‌بَابُ مَسْحِ الرَّأْسِ كُلِّهِ

لِقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: {وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ} وَقَالَ ابْنُ المُسَيِّبِ: «المَرْأَةُ بِمَنْزِلَةِ الرَّجُلِ تَمْسَحُ عَلَى رَأْسِهَا» وَسُئِلَ مَالِكٌ: «أَيُجْزِئُ أَنْ يَمْسَحَ بَعْضَ الرَّأْسِ؟ فَاحْتَجَّ بِحَدِيثِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ»

১৩২. পরিচ্ছেদ : পূর্ণ মাথা মাস্‌হ করা।

আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ “আর তোমাদের মাথা মাস্‌হ কর” [সূরা আল- মায়িদাহ্‌ ৫:৬] ইব্‌নুল মুসায়্যিব বলেন, নারী পুরুষের মধ্যে মাথা মাস্‌হ করার ব্যাপারে কোন ভেদাভেদ নেই। ইমাম মালিক (রহমাহুল্লাহ)-কে জিজ্ঞাস করা হল, মাথার কিছু অংশ মাস্‌হ করা কি যথেষ্ট হবে? তিনি ‘আব্দুল্লাহ্ ইব্‌ন যায়দ (রাজিআল্লাহু ‘আনহু)-এর হদীস দলিল হিসেবে পেশ করলেন।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৮৫

হাদিসের মান: সহীহ

١٨٥ – حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى المَازِنِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَجُلًا، قَالَ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ، وَهُوَ جَدُّ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى أَتَسْتَطِيعُ أَنْ تُرِيَنِي، كَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَوَضَّأُ؟ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدٍ: نَعَمْ، فَدَعَا بِمَاءٍ، فَأَفْرَغَ عَلَى يَدَيْهِ فَغَسَلَ مَرَّتَيْنِ، ثُمَّ مَضْمَضَ وَاسْتَنْثَرَ ثَلَاثًا، ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلَاثًا، ثُمَّ غَسَلَ يَدَيْهِ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ إِلَى المِرْفَقَيْنِ، ثُمَّ مَسَحَ رَأْسَهُ بِيَدَيْهِ، فَأَقْبَلَ بِهِمَا وَأَدْبَرَ، بَدَأَ بِمُقَدَّمِ رَأْسِهِ حَتَّى ذَهَبَ بِهِمَا إِلَى قَفَاهُ، ثُمَّ رَدَّهُمَا إِلَى المَكَانِ الَّذِي بَدَأَ مِنْهُ، ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَيْهِ “

‘আব্দুল্লাহ্‌ ইব্‌ন ইউসুফ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: মালিক আমাদেরকে হাদীসটি খবর দিলেন ‘আমর ইব্‌ন ইয়া‘হ্‌ইয়া মাযিনী থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, জনৈক ব্যক্তি ‘আবদুল্লাহ ইব্‌নু যায়দ (রাজিআল্লাহু ‘আনহু)-কে (তিনি ‘আমর ইব্‌নু ইয়াহ্‌ইয়ার দাদা) জিজ্ঞেস করল: আপনি কি আমাদেরকে দেখাতে পারেন, কীভাবে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উযূ করতেন? ‘আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু যায়দ (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) বললেন: ‘হাঁ’। অতঃপর তিনি পানি আনালেন। হাতের উপর সে পানি ঢেলে দু’বার তাঁর হাত ধুলেন। তারপর কুলি করলেন এবং তিনবার নাকে পানি দিয়ে নাক ঝাড়লেন। অতঃপর চেহারা তিনবার ধুলেন। তারপর দু’হাত কনুই পর্যন্ত দু’বার করে ধুলেন। তারপর দু’হাত দিয়ে মাথা মাস্‌হ করলেন। অর্থাৎ হাত দু’টি সামনে ও পেছনে নিলেন। মাথার সম্মুখ ভাগ থেকে শুরু করে উভয় হাত পেছনের চুলের শেষ পর্যন্ত নিলেন। তারপর আবার যেখান থেকে শুরু করেছিলেন, সেখানেই ফিরিয়ে আনলেন। তারপর দু’পা ধুলেন।

অনুরূপ বর্ণনা : [১৮৬, ১৯১, ১৯২, ১৯৭, ১৯৯; মুসলিম ২/৭, হাঃ ২৩৫, আহমাদ ১৬৪৪৫] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮০, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৮৫]

١٣٣. ‌‌بَابُ غَسْلِ الرِّجْلَيْنِ إِلَى الكَعْبَيْنِ

১৩৩. পরিচ্ছেদ : উভয় পা টাখনু পর্যন্ত ধোয়া।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৮৬

হাদিসের মান: সহীহ

١٨٦ – حَدَّثَنَا مُوسَى، قَالَ: حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ أَبِيهِ، شَهِدْتُ عَمْرَو بْنَ أَبِي حَسَنٍ، سَأَلَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ زَيْدٍ، عَنْ وُضُوءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَدَعَا بِتَوْرٍ مِنْ مَاءٍ، فَتَوَضَّأَ لَهُمْ وُضُوءَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، «فَأَكْفَأَ عَلَى يَدِهِ مِنَ التَّوْرِ، فَغَسَلَ يَدَيْهِ ثَلَاثًا، ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَهُ فِي التَّوْرِ، فَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ وَاسْتَنْثَرَ، ثَلَاثَ غَرَفَاتٍ، ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَهُ فَغَسَلَ وَجْهَهُ ثَلَاثًا، ثُمَّ غَسَلَ يَدَيْهِ مَرَّتَيْنِ إِلَى المِرْفَقَيْنِ، ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَهُ فَمَسَحَ رَأْسَهُ، فَأَقْبَلَ بِهِمَا وَأَدْبَرَ مَرَّةً وَاحِدَةً، ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَيْهِ إِلَى الكَعْبَيْنِ»

মুসা আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: উহায়ব আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ‘আমর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ‘আমর ইব্‌নু আবূ হাসান (রহমাহুল্লাহ) থেকে, তিনি বললেন: ‘আবদুল্লাহ ইব্‌নু যায়দ (রাজিআল্লাহু ‘আনহু)- কে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর উযূ সম্পর্কে প্রশ্ন করলে, তিনি এক পাত্র পানি আনলেন এবং তাঁদের (দেখাবার) জন্য নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর মত উযূ করলেন। তিনি পাত্র থেকে দু’হাতে পানি ঢাললেন। তা দিয়ে হাত দু’টি তিনবার ধুলেন। অতঃপর পাত্রের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে তিন খাবল পানি নিয়ে কুলি করলেন এবং নাকে পানি দিয়ে নাক ঝাড়লেন। তারপর আবার হাত ঢুকালেন। তিনবার তাঁর মুখমন্ডল ধুলেন। তারপর আবার হাত ঢুকিয়ে (পানি নিয়ে) দুই হাত কনুই পর্যন্ত দু’বার ধুলেন। তারপর আবার হাত ঢুকিয়ে উভয় হাত দিয়ে সামনে এবং পেছনে একবার মাত্র মাথা মাস্‌হ করলেন। তারপর দু’পা টাখনু পর্যন্ত ধুলেন।

অনুরূপ বর্ণনা : [১৮৫] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮১, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৮৬]

١٣٤. ‌‌بَابُ اسْتِعْمَالِ فَضْلِ وَضُوءِ النَّاسِ

وَأَمَرَ جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ: «أَهْلَهُ أَنْ يَتَوَضَّئُوا بِفَضْلِ سِوَاكِهِ»

১৩৪. পরিচ্ছেদ : উযূর অবশিষ্ট পানি ব্যবহার।

জাবির ইব্‌নু ‘আব্দুল্লাহ (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) তাঁর পরিবারকে মিসওয়াক ধোয়া অবশিষ্ট পানি দিয়ে উযূ করতে নির্দেশ দেন।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৮৭

হাদিসের মান: সহীহ

١٨٧ – حَدَّثَنَا آدَمُ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ: حَدَّثَنَا الحَكَمُ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا جُحَيْفَةَ، يَقُولُ: خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالهَاجِرَةِ، فَأُتِيَ بِوَضُوءٍ فَتَوَضَّأَ، فَجَعَلَ النَّاسُ يَأْخُذُونَ مِنْ فَضْلِ وَضُوئِهِ فَيَتَمَسَّحُونَ بِهِ، فَصَلَّى النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الظُّهْرَ رَكْعَتَيْنِ، وَالعَصْرَ رَكْعَتَيْنِ، وَبَيْنَ يَدَيْهِ عَنَزَةٌ

আদম আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: শু’বাহ্‌ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ‘হাকাম হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: আমি আবূ জুহাইফা (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে শুনেছি, তিনি বলছেন- একদা দুপুর বেলা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিকট এলেন। তাঁকে উযূর পানি এনে দেয়া হলে তিনি উযূ করলেন। লোকে তার উযুর ব্যবহৃত পানি নিয়ে গায়ে মাখতে লাগল। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুহরের দু’রাক‘আত এবং ‘আসরের দু’রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। আর তাঁর সামনে ছিল একটি লাঠি।

অনুরূপ বর্ণনা : [৩৭৬, ৪৯৫, ৪৯৯, ৫০১, ৬৩৩, ৬৩৪, ৩৫৫৩, ৩৫৬৬, ৫৭৮৬, ৫৮৫৯] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮২, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৮৭]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৮৮

হাদিসের মান: সহীহ

١٨٨ – وَقَالَ أَبُو مُوسَى: دَعَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقَدَحٍ فِيهِ مَاءٌ، فَغَسَلَ يَدَيْهِ وَوَجْهَهُ فِيهِ، وَمَجَّ فِيهِ، ثُمَّ قَالَ لَهُمَا: «اشْرَبَا مِنْهُ، وَأَفْرِغَا عَلَى وُجُوهِكُمَا وَنُحُورِكُمَا»

এবং আবূ মূসা (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) বললেন: নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি পাত্র আনালেন যাতে পানি ছিল। অতঃপর তিনি তার মধ্যে উভয় হাত ও মুখমন্ডল ধুলেন এবং তার দ্বারা কুলি করলেন। অতঃপর তাদের দু’জন [আবূ মূসা (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) ও বিলাল (রাজিআল্লাহু ‘আনহু)]-কে বললেন: “তোমরা এ থেকে পান কর এবং তোমাদের মুখমন্ডলে ও বুকে ঢাল”।

অনুরূপ বর্ণনা : [১৯৬, ৪৩২৮; মুসলিম ৪/৪৭, হাঃ ৫০৩, আহমাদ ১৮৭৬৯, ১৮৭৮২] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮২ শেষাংশ, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৮৭ শেষাংশ]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৮৯

হাদিসের মান: সহীহ

١٨٩ – حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي مَحْمُودُ بْنُ الرَّبِيعِ، قَالَ «وَهُوَ الَّذِي مَجَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي وَجْهِهِ وَهُوَ غُلَامٌ مِنْ بِئْرِهِمْ» وَقَالَ عُرْوَةُ، عَنِ المِسْوَرِ، وَغَيْرِهِ يُصَدِّقُ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا صَاحِبَهُ «وَإِذَا تَوَضَّأَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَادُوا يَقْتَتِلُونَ عَلَى وَضُوئِهِ»

আলী ইব্‌ন ‘আব্দুল্লাহ্‌ আমদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ইয়া’কূব ইব্‌ন ইব্রাহীম ইব্‌ন সা’দ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: আমার পিতা আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন স্বালি‘হ থেকে, তিনি শিহাব থেকে, তিনি বললেন: মাহমূদ ইব্‌ন রাবী’ আমাকে হাদীসটি সংবাদ দিলেন, তিনি বলেন: তিনি সে ব্যক্তি, যার মুখমন্ডলে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের কুয়া হতে পানি নিয়ে কুলির পানি দিয়েছিলেন। তিনি তখন বালক ছিলেন। ‘উরওয়া (রহমাহুল্লাহ) মিসওয়ার (রহমাহুল্লাহ) প্রমুখের নিকট হতে হাদীস বর্ণনা করেন। এ উভয় বর্ণনা একটি অন্যটির সত্যায়ন স্বরূপ। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন উযূ করতেন তখন তাঁর ব্যবহৃত পানির উপর তাঁরা (সাহাবায়ে কিরাম) যেন হুমড়ি খেয়ে পড়তেন।

অনুরূপ বর্ণনা : [১৯৬, ৪৩২৮ দ্রষ্টব্য] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৩ কিন্তু প্রথমাংশ নেই, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৮৮]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৯০

হাদিসের মান: সহীহ

١٩٠ – حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ يُونُسَ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنِ الجَعْدِ، قَالَ: سَمِعْتُ السَّائِبَ بْنَ يَزِيدَ، يَقُولُ: ذَهَبَتْ بِي خَالَتِي إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ ابْنَ أُخْتِي وَجِعٌ «فَمَسَحَ رَأْسِي وَدَعَا لِي بِالْبَرَكَةِ، ثُمَّ تَوَضَّأَ، فَشَرِبْتُ مِنْ وَضُوئِهِ، ثُمَّ قُمْتُ خَلْفَ ظَهْرِهِ، فَنَظَرْتُ إِلَى خَاتَمِ النُّبُوَّةِ بَيْنَ كَتِفَيْهِ، مِثْلَ زِرِّ الحَجَلَةِ»

‘আব্দুর রহমান ইব্‌ন ইউনুস আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ‘হাতিম ইব্‌ন ইসমা‘ঈল আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন জা’দ থেকে, তিনি বললেন: আমি সাইব ইব্‌ন ইয়াযীদ থেকে শুনলাম, তিনি বলছেন: আমার খালা আমাকে নিয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন: “হে আল্লাহর রসূল! আমার ভাগিনা অসুস্থ”। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার মাথায় হাত বুলালেন এবং বরকতের দু‘আ করলেন। অতঃপর উযূ করলেন। আমি তাঁর উযুর (অবশিষ্ট) পানি পান করলাম। তারপর তাঁর পিছনে দাঁড়ালাম। তখন আমি তাঁর উভয় কাঁধের মধ্যস্থলে নবুওয়াতের মোহর দেখতে পেলাম। তা ছিল পর্দার ঘুণ্টির মত।

অনুরূপ বর্ণনা : [৩৫৪০, ৩৫৪১, ৫৬৭০, ৬৩৫২; মুসলিম ৪৩/৩০, হাঃ ২৩৪৫] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৪, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৮৯]

١٣٥. ‌‌بَابُ مَنْ مَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ مِنْ غَرْفَةٍ وَاحِدَةٍ

১৩৫. পরিচ্ছেদ : এক আঁজলা পানি দিয়ে কুলি করা ও নিকে পানি দেয়া।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৯১

হাদিসের মান: সহীহ

١٩١ – حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ يَحْيَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ، أَنَّهُ أَفْرَغَ مِنَ الإِنَاءِ عَلَى يَدَيْهِ فَغَسَلَهُمَا، ثُمَّ غَسَلَ – أَوْ مَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ – مِنْ كَفَّةٍ وَاحِدَةٍ، فَفَعَلَ ذَلِكَ ثَلَاثًا، فَغَسَلَ يَدَيْهِ إِلَى المِرْفَقَيْنِ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ، وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ، مَا أَقْبَلَ وَمَا أَدْبَرَ، وَغَسَلَ رِجْلَيْهِ إِلَى الكَعْبَيْنِ، ثُمَّ قَالَ: «هَكَذَا وُضُوءُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ»

মুসাদ্দাদ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: খালিদ ইব্‌ন ‘আব্দুল্লাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ‘আমর ইব্‌ন ইয়া‘হ্‌ইয়া আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন তাঁর পিতা থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইব্‌ন যায়দ (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, একদা তিনি পাত্র হতে দু’হাতে পানি ঢেলে দু’হাত ধৌত করলেন। অতঃপর এক খাবল পানি দিয়ে (মুখ) ধুলেন বা কুলি করলেন এবং নাকে পানি দিলেন। তিনবার এরূপ করলেন। তারপর দু’হাত কনুই পর্যন্ত দু’-দু’বার ধুলেন এবং মাথার সামনের অংশ এবং পেছনের অংশ মাস্‌হ করলেন। আর টাখনু পর্যন্ত দু’পা ধুলেন। অতঃপর বললেন: “আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উযূ এরূপ ছিল।”

অনুরূপ বর্ণনা : [১৮৫] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৫, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৯০]

١٣٦. ‌‌بَابُ مَسْحِ الرَّأْسِ مَرَّةً

১৩৬. পরিচ্ছেদ : একবার মাথা মাস্‌হ করা।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৯২

হাদিসের মান: সহীহ

١٩٢ – حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ يَحْيَى، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: شَهِدْتُ عَمْرَو بْنَ أَبِي حَسَنٍ، سَأَلَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ زَيْدٍ عَنْ وُضُوءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «فَدَعَا بِتَوْرٍ مِنْ مَاءٍ فَتَوَضَّأَ لَهُمْ، فَكَفَأَ عَلَى يَدَيْهِ فَغَسَلَهُمَا ثَلَاثًا، ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَهُ فِي الإِنَاءِ فَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ وَاسْتَنْثَرَ ثَلَاثًا، بِثَلَاثِ غَرَفَاتٍ مِنْ مَاءٍ، ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَهُ فِي الإِنَاءِ، فَغَسَلَ وَجْهَهُ ثَلَاثًا، ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَهُ فِي الإِنَاءِ، فَغَسَلَ يَدَيْهِ إِلَى المِرْفَقَيْنِ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ، ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَهُ فِي الإِنَاءِ فَمَسَحَ بِرَأْسِهِ، فَأَقْبَلَ بِيَدَيْهِ وَأَدْبَرَ بِهِمَا، ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَهُ فِي الإِنَاءِ فَغَسَلَ رِجْلَيْهِ» وحَدَّثَنَا مُوسَى قَالَ: حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ قَالَ: مَسَحَ رَأْسَهُ مَرَّةً

সুলায়মান ইব্‌ন ‘হারব আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: উহায়ব আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ‘আমর ইব্‌ন ইয়া‘হ্‌ইয়া আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন তাঁর পিতা থেকে, তিনি বললেন: “আমি একদা ‘আমর ইব্‌নু আবূ হাসান (রাজিআল্লাহু ‘আনহু)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি ‘আবদুল্লাহ ইব্‌নু যায়দ (রাজিআল্লাহু ‘আনহু)-কে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উযূ সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন। অতঃপর তিনি পানির একটি পাত্র এনে তাঁদের উযূ করে দেখালেন। তিনি পাত্রটি কাত করে উভয় হাতের উপর পানি ঢেলে তিনবার তা ধুয়ে ফেলেন। তারপর পাত্রের মধ্যে হাত ঢুকালেন এবং তিন খাবল পানি দিয়ে তিনবার করে কুলি করলেন এবং নাকে পানি দিয়ে তা ঝাড়লেন। অতঃপর পুনরায় পাত্রের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে তিনবার মুখমন্ডল ধুলেন। অতঃপর পুনরায় পাত্রের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে উভয় হাত কনুই পর্যন্ত দু’-দু’বার ধুলেন। অতঃপর পুনরায় পাত্রের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে তাঁর মাথা হাত দিয়ে সামনে এবং পেছনে মাস্‌হ করলেন। তারপর আবার পাত্রের মধ্যে তাঁর হাত ঢুকিয়ে দুই পা ধুলেন।”

অনুরূপ বর্ণনা : [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৬, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৯১]

উহায়ব (রহমাহুল্লাহ) সূত্রে মূসা (রহমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেন, মাথা একবার মাসেহ করেন। (১৮৫) (ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৯২)

ফুটনোটঃ
১. ঘাড় মাস্‌হ করা বিদ‘আত। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে ঘাড় মাস্‌হ প্রমাণিত নয়। সহীহ্‌ মুসলিমের ভাষ্যকার ইমাম নাবাবী (রহমাহুল্লাহ) একে বিদ‘আত বলেছেন।

١٣٧. ‌‌بَابُ وُضُوءِ الرَّجُلِ مَعَ امْرَأَتِهِ، وَفَضْلِ وَضُوءِ المَرْأَةِ

وَتَوَضَّأَ عُمَرُ بِالحَمِيمِ وَمِنْ بَيْتِ نَصْرَانِيَّةٍ

১৩৭. পরিচ্ছেদ : স্বীয় স্ত্রীর সঙ্গে উযূ করা এবং স্ত্রীর উযূর পানি (ব্যবহার করা)

‘উমর (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) গরম পানি দিয়ে এবং খৃষ্টান মহিলার ঘরের পানি দিয়ে উযূ করেন।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৯৩

হাদিসের মান: সহীহ

١٩٣ – حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ قَالَ: «كَانَ الرِّجَالُ وَالنِّسَاءُ يَتَوَضَّئُونَ فِي زَمَانِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَمِيعًا»

‘আব্দুল্লাহ ইব্‌ন ইঊসুফ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: মালিক আমদেরকে হাদীসটি সংবাদ দিলেন নাফি’ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইব্‌ন ‘উ,মার থেকে, তিনি বলেন: আল্লাহর রসূল –এর সময় পুরুষ এবং মহিলা একত্রে (এক পাত্র হতে) উযূ করতেন।

অনুরূপ বর্ণনা : [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৭, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৯৩]

١٣٨. ‌‌بَابُ صَبِّ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَضُوءهُ عَلَى المُغْمَى عَلَيْهِ

১৩৮. পরিচ্ছেদ : অজ্ঞান লোকের উপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উযূর পানি ছিটিয়ে দেয়া।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৯৪

হাদিসের মান: সহীহ

١٩٤ – حَدَّثَنَا أَبُو الوَلِيدِ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ المُنْكَدِرِ، قَالَ: سَمِعْتُ جَابِرًا يَقُولُ جَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعُودُنِي، وَأَنَا مَرِيضٌ لَا أَعْقِلُ، فَتَوَضَّأَ وَصَبَّ عَلَيَّ مِنْ وَضُوئِهِ، فَعَقَلْتُ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ لِمَنِ المِيرَاثُ؟ إِنَّمَا يَرِثُنِي كَلَالَةٌ، فَنَزَلَتْ آيَةُ الفَرَائِضِ

আবূ ওয়ালীদ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: শু’বাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন মু‘হাম্মাদ ইব্‌ন মুনকাদির থেকে, তিনি বললেন: আমি জাবির (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে শুনলাম, তিনি বলছেন: আমি অসুস্থ থাকা অবস্থায় একবার আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার খোঁজ-খবর নিতে এলেন। আমি তখন এতই অসুস্থ ছিলাম যে আমার জ্ঞান ছিল না। তারপর তিনি উযূ করলেন এবং তাঁর উযূর পানি আমার উপর ছিঁটিয়ে দিলেন। তখন আমার জ্ঞান ফিরে এল। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রসূল! (আমার) ‘মীরাস’ কে পাবে? আমার একমাত্র ওয়ারিস হল কালালাহ । তখন ফারায়েযের আয়াত অবতীর্ণ হল।

অনুরূপ বর্ণনা : [৪৫৭৭, ৫৬৫১, ৫৬৬৪, ৫৬৭৬, ৫৭২৩, ৬৭২৩, ৬৭৪৩, ৭৩০৯ দ্রষ্টব্য] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৮, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৯৪]

ফুটনোটঃ
১. কালালাহঃ যার ছেলেমেয়ে ও পিতা নেই তার উত্তরাধিকারীকে কালালাহ বলা হয়।

١٣٩. ‌‌بَابُ الغُسْلِ وَالوُضُوءِ فِي المِخْضَبِ وَالقَدَحِ وَالخَشَبِ وَالحِجَارَةِ

১৩৯. গামলা, কাঠ ও পাথরের পাত্রে উযূ-গোসল করা।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৯৫

হাদিসের মান: সহীহ

١٩٥ – حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُنِيرٍ، سَمِعَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ بَكْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ: حَضَرَتِ الصَّلَاةُ، فَقَامَ مَنْ كَانَ قَرِيبَ الدَّارِ إِلَى أَهْلِهِ، وَبَقِيَ قَوْمٌ، «فَأُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمِخْضَبٍ مِنْ حِجَارَةٍ فِيهِ مَاءٌ، فَصَغُرَ المِخْضَبُ أَنْ يَبْسُطَ فِيهِ كَفَّهُ، فَتَوَضَّأَ القَوْمُ كُلُّهُمْ» قُلْنَا: كَمْ كُنْتُمْ؟ قَالَ: «ثَمَانِينَ وَزِيَادَةً»

আব্দুল্লাহ ইব্‌ন মুনীর আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, ‘আব্দুল্লাহ ইব্‌ন বাকর শুনলেন, তিনি বললেন: হুমায়দ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন আনাস (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বললেন: একদা সালাতের সময় উপস্থিত হলে যাঁদের বাড়ি নিকটে ছিল তাঁরা (উযূ করার জন্য) বাড়ি চলে গেলেন। আর কিছু লোক রয়ে গেলেন (তাঁদের কোন উযূর ব্যবস্থা ছিল না)। তখন আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য একটি পাথরের পাত্রে পানি আনা হল। পাত্রটি এত ছোট ছিল যে, তার মধ্যে তাঁর উভয় হাত মেলে দেয়া সম্ভব ছিল না। তা থেকেই কওমের সকল লোক উযূ করলেন। আমরা জিজ্ঞেস করলাম: “আপনারা কতজন ছিলেন’? তিনি বললেনঃ ‘আশিজন বা তারও কিছু অধিক”।

অনুরূপ বর্ণনা : [১৬৯] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৯, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৯৫]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৯৬

হাদিসের মান: সহীহ

١٩٦ – حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ العَلَاءِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ بُرَيْدٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «دَعَا بِقَدَحٍ فِيهِ مَاءٌ، فَغَسَلَ يَدَيْهِ وَوَجْهَهُ فِيهِ، وَمَجَّ فِيهِ»

মু‘হাম্মাদ ইব্‌ন ‘আলা আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: আবূ উসামাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন বুরায়দ থেকে, তিনি আবূ বুরদাহ থেকে, তিনি আবূ মূসা (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, একদা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি পানি ভর্তি পাত্র আনালেন। তাতে তাঁর উভয় হাত ও মুখমন্ডল ধুলেন এবং কুলি করলেন।

অনুরূপ বর্ণনা : [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৯০]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৯৭

হাদিসের মান: সহীহ

١٩٧ – حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ العَزِيزِ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ يَحْيَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ قَالَ: «أَتَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَخْرَجْنَا لَهُ مَاءً فِي تَوْرٍ مِنْ صُفْرٍ فَتَوَضَّأَ، فَغَسَلَ وَجْهَهُ ثَلَاثًا، وَيَدَيْهِ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ، وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ، فَأَقْبَلَ بِهِ وَأَدْبَرَ، وَغَسَلَ رِجْلَيْهِ»

আ‘হমাদ ইব্‌ন ইঊনুস আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ‘আব্দুল আযীয ইব্‌ন আবূ সালামাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ‘আমর ইব্‌ন ইয়া‘হইয়া আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন তাঁর পিতা থেকে, তিনি ‘আবদুল্লাহ ইব্‌নু যায়দ (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বললেন: একদা আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের বাড়ি এলেন। আমরা তাঁকে পিতলের একটি পাত্রে পানি দিলে তা দিয়ে তিনি উযূ করলেন। তাঁর মুখমন্ডল তিনবার ও উভয় হাত দু’-দু’বার করে ধুলেন এবং তাঁর হাত সামনে ও পেছনে এনে মাথা মাস্‌হ করলেন আর উভয় পা ধুলেন।

অনুরূপ বর্ণনা : [১৮৫] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৯১, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৯৬]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৯৮

হাদিসের মান: সহীহ

١٩٨ – حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، أَنَّ عَائِشَةَ، قَالَتْ: لَمَّا ثَقُلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاشْتَدَّ بِهِ وَجَعُهُ، اسْتَأْذَنَ أَزْوَاجَهُ فِي أَنْ يُمَرَّضَ فِي بَيْتِي، فَأَذِنَّ لَهُ، فَخَرَجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَ رَجُلَيْنِ، تَخُطُّ رِجْلَاهُ فِي الأَرْضِ، بَيْنَ عَبَّاسٍ وَرَجُلٍ آخَرَ. قَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ: فَأَخْبَرْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ فَقَالَ: ” أَتَدْرِي مَنِ الرَّجُلُ الآخَرُ؟ قُلْتُ: لَا. قَالَ: هُوَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ” وَكَانَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا تُحَدِّثُ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ، بَعْدَمَا دَخَلَ بَيْتَهُ وَاشْتَدَّ وَجَعُهُ: «هَرِيقُوا عَلَيَّ مِنْ سَبْعِ قِرَبٍ، لَمْ تُحْلَلْ أَوْكِيَتُهُنَّ، لَعَلِّي أَعْهَدُ إِلَى النَّاسِ» وَأُجْلِسَ فِي مِخْضَبٍ لِحَفْصَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ طَفِقْنَا نَصُبُّ عَلَيْهِ تِلْكَ، حَتَّى طَفِقَ يُشِيرُ إِلَيْنَا: «أَنْ قَدْ فَعَلْتُنَّ». ثُمَّ خَرَجَ إِلَى النَّاسِ

আবূল ইয়ামান আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: শু‘আয়ব আমাদেরকে হাদীসটি খবর দিলেন যুহ্‌রী থেকে, তিনি বললেন: ‘উবায়দুল্লাহ ইব্‌ন ‘আব্দুল্লাহ ইব্‌ন ‘উতবাহ আমাদেরকে হাদীসটি সংবাদ দিলেন ‘আয়িশা (রাজিআল্লাহু ‘আনহা) থেকে, তিনি বললেন: নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অসুস্থতা বেড়ে গেলে তিনি আমার ঘরে শুশ্রূষার জন্য তাঁর স্ত্রীদের নিকট অনুমতি চাইলে তাঁরা অনুমতি দিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (আমার ঘরে আসার জন্য) দু’ব্যক্তির উপর ভর করে বের হলেন। আর তাঁর পা দু’খানি তখন মাটিতে চিহ্ন রেখে যাচ্ছিল। তিনি ‘আব্বাস (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) ও অন্য এক ব্যক্তির মাঝখানে ছিলেন। ‘উবাইদুল্লাহ (রহমাহুল্লাহ) বলেনঃ আমি ‘আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাজিআল্লাহু ‘আনহু)-কে এ কথা জানালাম। তিনি বললেনঃ সে অন্য ব্যক্তিটি কে তা কি তুমি জান? আমি বললাম, না। তিনি বললেনঃ তিনি হলেন ‘আলী ইব্‌নু আবূ ত্বলিব (রাজিআল্লাহু ‘আনহু)। ‘আয়িশা (রাজিআল্লাহু ‘আনহা) বর্ণনা করেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর ঘরে আসলে অসুস্থতা আরো বৃদ্ধি পেল। তিনি বললেনঃ ‘তোমরা আমার উপর মুখের বাঁধন খোলা হয়নি এমন সাতটি মশকের পানি ঢেলে দাও, তাহলে হয়ত আমি মানুষকে কিছু উপদেশ দিতে পারব। ‘তাঁকে তাঁর স্ত্রী হাফসা (রাজিআল্লাহু ‘আনহা)–এর একটি বড় পাত্রে বসিয়ে দেয়া হল। অতঃপর আমরা তাঁর উপর সেই সাত মশক পানি ঢালতে লাগলাম। এভাবে ঢালার পর এক সময় তিনি আমাদের প্রতি ইঙ্গিত করলেন, (এখন থাম) তোমরা তোমাদের কাজ করেছ। অতঃপর তিনি বের হয়ে জনসম্মুক্ষে গেলেন।

অনুরূপ বর্ণনা : [৬৬৪, ৬৬৫, ৬৭৯, ৬৮৩, ৬৮৭, ৭১২, ৭১৩, ৭১৬, ২৫৮৮, ৩০৯৯, ৩৩৮৪, ৪৪৪২, ৪৪৪৫, ৫৭১৪, ৭৩০৩ দ্রষ্টব্য] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৯২, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৯৮]

١٤٠. ‌‌بَابُ الوُضُوءِ مِنَ التَّوْرِ

১৪০. পরিচ্ছেদ : গামলা হতে উযূ করা।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৯৯

হাদিসের মান: সহীহ

١٩٩ – حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلَالٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ يَحْيَى، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: كَانَ عَمِّي يُكْثِرُ مِنَ الوُضُوءِ، قَالَ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ: أَخْبِرْنِيا كَيْفَ رَأَيْتَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَوَضَّأُ؟ «فَدَعَا بِتَوْرٍ مِنْ مَاءٍ، فَكَفَأَ عَلَى يَدَيْهِ، فَغَسَلَهُمَا ثَلَاثَ مِرَارٍ، ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَهُ فِي التَّوْرِ، فَمَضْمَضَ وَاسْتَنْثَرَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ مِنْ غَرْفَةٍ وَاحِدَةٍ، ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَهُ فَاغْتَرَفَ بِهَا، فَغَسَلَ وَجْهَهُ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، ثُمَّ غَسَلَ يَدَيْهِ إِلَى المِرْفَقَيْنِ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ، ثُمَّ أَخَذَ بِيَدِهِ مَاءً فَمَسَحَ رَأْسَهُ، فَأَدْبَرَ بِهِ وَأَقْبَلَ، ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَيْهِ» فَقَالَ: هَكَذَا رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَوَضَّأُ

খালিদ ইব্‌ন মাখলাদ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: সুলায়মান ইব্‌ন বিলাল আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ‘আমর ইব্‌ন ইয়া‘হ্‌ইয়া আমাকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন তাঁর পিতা থেকে, তিনি বললেন: আমার চাচা উযূর পানি অধিক খরচ করতেন। একদা তিনি ‘আব্দুল্লাহ্‌ ইব্‌নু যায়দ (রাজিআল্লাহু ‘আনহু)-কে বললেন: “নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কীভাবে উযূ করতেন আপনি কি তা দেখেছেন?” তিনি এক গামলা পানি আনালেন। সেটি উভয় হাতে কাত করে (তা থেকে পানি ঢেলে) হাত দু’টি তিনবার ধুলেন, অতঃপর তার হাত গামলায় ঢুকালেন। অতঃপর এক খাবল (করে) পানি দিয়ে তিনবার কুলি করলেন এবং নাক ঝাড়লেন। তারপর পানিতে তাঁর হাত ঢুকালেন। উভয় হাতে এক খাবল (করে) পানি নিয়ে মুখমন্ডল তিনবার ধুলেন। অতঃপর উভয় হাত কনুই পর্যন্ত দু’বার করে ধুলেন। অতঃপর উভয় হাতে পানি নিয়ে মাথার সামনে এবং পেছনে মাস্‌হ করলেন এবং দু’পা ধুলেন। তারপর বললেন: “আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এভাবেই উযূ করতে দেখেছি”।

অনুরূপ বর্ণনা : [১৮৫] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৯৩, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৯৯]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২০০

হাদিসের মান: সহীহ

٢٠٠ – حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «دَعَا بِإِنَاءٍ مِنْ مَاءٍ، فَأُتِيَ بِقَدَحٍ رَحْرَاحٍ، فِيهِ شَيْءٌ مِنْ مَاءٍ، فَوَضَعَ أَصَابِعَهُ فِيهِ» قَالَ أَنَسٌ: «فَجَعَلْتُ أَنْظُرُ إِلَى المَاءِ يَنْبُعُ مِنْ بَيْنِ أَصَابِعِهِ» قَالَ أَنَسٌ: فَحَزَرْتُ مَنْ تَوَضَّأَ، مَا بَيْنَ السَّبْعِينَ إِلَى الثَّمَانِينَ

মুসাদ্দাদ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ‘হাম্মাদ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ছাবিত থেকে, তিনি আনাস (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে- নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একপাত্র পানি চাইলে একটি বড় পাত্র তাঁর নিকট আনা হল, তাতে সামান্য পানি ছিল। তারপর তিনি তার মধ্যে তাঁর আঙ্গুল রাখলেন। আনাস (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) বলেনঃ আমি পানির দিকে তাকাতে লাগলাম। তাঁর আঙ্গুলের ভেতর দিয়ে পানি উপচে পড়তে লাগল। আনাস (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) বলেন: যারা উযূ করেছিল, আমি অনুমান করলাম তাদের সংখ্যা ছিল সত্তর হতে আশি জনের মত।

অনুরূপ বর্ণনা : [১৬৯] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৯৪, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২০০]

١٤١. ‌‌بَابُ الوُضُوءِ بِالْمُدِّ

১৪১. পরিচ্ছেদ : এক মুদ (পানি) দিয়ে উযূ করা।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২০১

হাদিসের মান: সহীহ

٢٠١ – حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مِسْعَرٌ، قَالَ: حَدَّثَنِي ابْنُ جَبْرٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسًا، يَقُولُ: «كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَغْسِلُ، أَوْ كَانَ يَغْتَسِلُ، بِالصَّاعِ إِلَى خَمْسَةِ أَمْدَادٍ، وَيَتَوَضَّأُ بِالْمُدِّ»

আবূ নু‘আয়ম আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: মিস‘আর আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ইব্‌ন জাব্‌র আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: আমি আনাস (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে শুনলাম, তিনি বলছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক সা (৪ মুদ) হতে পাঁচ মুদ পর্যন্ত পানি দিয়ে গোসল করতেন এবং উযূ করতেন এক মুদ দিয়ে।

অনুরূপ বর্ণনা : [মুসলিম ৩/১০, হাঃ ৩২৫, আহমাদ ১৪০০২, ১৪০৯৫] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৯৫, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২০১]

ফুটনোটঃ
১. এক মুদ (আয়তন) = ৬০০ গ্রাম পানি (ওজন ৪° সেন্টিগ্রেট তাপমাত্রায়) বা ৬০০ মি. লিটার (আয়তন), চার মুদ = ১ সা’ (আয়তন) যা প্রায় ২.৪ লিটার এর সমান। কেজি ও গ্রাম ওজন ভিত্তিক পরিমাপ, মিলিলিটার ও লিটার আয়তন ভিত্তিক পরিমাপ। আরবীতে মুদ এবং সা’ আয়তন ভিত্তিক পরিমাপ। তাই মুদ বা সা’ কে আমরা মিলিলিটার বা লিটার হিসাবে প্রকাশ করব কারণ উভয় পরিমাপই আয়তন ভিত্তিক, এটা সকল বস্তুর জন্য প্রযোয্য। আর কেজি বা গ্রাম ওজন ভিত্তক পরিমাপ তাই আয়তন ভিত্তক পরিমাপের সমতুল্যে বিভিন্ন বস্তুর ঘনত্ব অনুযাই ভিন্ন ভিন্ন হয়।

١٤٢. بَابُ المَسْحِ عَلَى الخُفَّيْنِ

১৪২. পরিচ্ছেদ : মোজার উপর মাস্‌হ করা।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২০২

হাদিসের মান: সহীহ

٢٠٢ – حَدَّثَنَا أَصْبَغُ بْنُ الفَرَجِ المِصْرِيُّ، عَنِ ابْنِ وَهْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ الحَارِثِ، حَدَّثَنِي أَبُو النَّضْرِ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ عَنْ «النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ مَسَحَ عَلَى الخُفَّيْنِ» وَأَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ سَأَلَ عُمَرَ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ: نَعَمْ، إِذَا حَدَّثَكَ شَيْئًا سَعْدٌ، عَنِ النَّبِيّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَلَا تَسْأَلْ عَنْهُ غَيْرَهُ. وَقَالَ مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ: أَخْبَرَنِي أَبُو النَّضْرِ، أَنَّ أَبَا سَلَمَةَ، أَخْبَرَهُ أَنَّ سَعْدًا حَدَّثَهُ، فَقَالَ عُمَرُ لِعَبْدِ اللَّهِ: نَحْوَهُ

আস্ববাগ ইব্‌ন ফারাজ মিস্বরী আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ইব্‌ন ওয়াহ্‌ব থেকে, তিনি বললেন: ‘আমর ইব্‌ন ‘হারিছ আমাকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন আবূ নাযর থেকে, তিনি আবূ সালামাহ ইব্‌ন ‘আব্দুর রহ্‌মান থেকে, তিনি ‘আব্দুল্লাহ ইব্‌ন ‘উমার থেকে, তিনি সা‘দ ইব্‌নু আবূ ওয়াককাস (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বললেন: নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর উভয় মোজার উপর মাস্‌হ করেছেন। ‘আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু ‘উমর (তাঁর পিতা) ‘উমর (রাজিআল্লাহু ‘আনহু)-কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন: “হাঁ! সা’দ (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে কিছু বর্ণনা করলে সে ব্যাপারে আর অন্যকে জিজ্ঞেস করো না”।

এবং মূসা ইব্‌নু ‘উকবাহ (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) বললেন: আবূ নযর হাদীসটি আমাকে সংবাদ দিলেন আবূ সালামাহ থেকে, তিনি সা’দ (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে। তিনি বলেনঃ অতঃপর ‘উমর (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) ‘আবদুল্লাহ (রাজিআল্লাহু ‘আনহু)-কে অনুরূপ বললেন।

অনুরূপ বর্ণনা : [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৯৬, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২০২]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২০৩

হাদিসের মান: সহীহ

٢٠٣ – حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ خَالِدٍ الحَرَّانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ المُغِيرَةِ، عَنْ أَبِيهِ المُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَنَّهُ خَرَجَ لِحَاجَتِهِ، فَاتَّبَعَهُ المُغِيرَةُ بِإِدَاوَةٍ فِيهَا مَاءٌ، فَصَبَّ عَلَيْهِ حِينَ فَرَغَ مِنْ حَاجَتِهِ فَتَوَضَّأَ وَمَسَحَ عَلَى الخُفَّيْنِ»

‘আমার ইব্‌ন খালিদ হার্‌রানী আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: লাইস আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ইয়া‘হ্‌ইয়া ইব্‌ন সাঈদ থেকে, তিনি সা’দ ইব্‌ন ইব্রাহীম থেকে, তিনি নাফি’ ইব্‌ন জুবায়র থেকে, তিনি ‘উরওয়াহ ইব্‌ন মুগীরাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা মুগীরাহ ইব্‌নু শু‘বাহ (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বলেনঃ একদা আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বাইরে গেলে তিনি [ মুগীরা (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) ] পানি সহ একটা পাত্র নিয়ে তাঁর অনুসরণ করলেন। অতঃপর আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রাকৃতিক প্রয়োজন শেষ করে এলে তিনি তাঁকে পানি ঢেলে দিলেন। আর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উযূ করলেন এবং উভয় মোজার উপর মাস্‌হ করলেন।

অনুরূপ বর্ণনা : [১৮২] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৯৭, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২০৩]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২০৪

হাদিসের মান: সহীহ

٢٠٤ – حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ عَمْرِو بْنِ أُمَيَّةَ الضَّمْرِيِّ، أَنَّ أَبَاهُ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ «رَأَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَمْسَحُ عَلَى الخُفَّيْنِ» وَتَابَعَهُ حَرْبُ بْنُ شَدَّادٍ، وَأَبَانُ، عَنْ يَحْيَى

আবূ নু‘আয়ম আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: শায়বান আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ইয়া‘হ্‌ইয়া থেকে, তিনি আবূ সালামাহ থেকে, তিনি জা’ফার ইব্‌ন ‘আমর ইব্‌ন উমায়ইয়াহ যামরী থেকে, তিনি তার পিতা থেকে- তিনি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে উভয় মোজার উপর মাস্‌হ করতে দেখেছেন। হার্‌ব ও আবান (রহমাহুল্লাহ) ইয়াহ্‌ইয়া (রহমাহুল্লাহ) হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

অনুরূপ বর্ণনা : [২০৫ দ্রষ্টব্য] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৯৮, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২০৪]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২০৫

হাদিসের মান: সহীহ

٢٠٥ – حَدَّثَنَا عَبْدَانُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الأَوْزَاعِيُّ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ عَمْرِو بْنِ أُمَيَّةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: «رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَمْسَحُ عَلَى عِمَامَتِهِ وَخُفَّيْهِ» وَتَابَعَهُ مَعْمَرٌ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَمْرٍو قَالَ: رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

‘আবদান আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ‘আব্দুল্লাহ আমাদেরকে হাদীসটি সংবাদ দিলেন, তিনি বললেন: আওযা‘ই আমাদেরকে হাদীসটি সংবাদ দিলেন ইয়া‘হ্‌ইয়া থেকে, তিনি আবূ সালামাহ থেকে, তিনি জা’ফার ইব্‌ন ‘আমর ইব্‌ন উমাইয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি বলেনঃ ‘আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাঁর পাগড়ীর উপর এবং উভয় মোজার উপর মাস্‌হ করতে দেখেছি’। মা‘মার (রহমাহুল্লাহ) ‘আম্‌র (রহমাহুল্লাহ) হতে অনুরূপ বর্ণনা করেনঃ ‘আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তা করতে দেখেছি।’

অনুরূপ বর্ণনা : [২০৪] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৯৯, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২০৫]

١٤٣. ‌‌بَابُ إِذَا أَدْخَلَ رِجْلَيْهِ وَهُمَا طَاهِرَتَانِ

১৪৩. পরিচ্ছেদ : পবিত্র অবস্থায় উভয় পা (মোজায়) প্রবেশ করানো।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২০৬

হাদিসের মান: সহীহ

٢٠٦ – حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا زَكَرِيَّاءُ، عَنْ عَامِرٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ المُغِيرَةِ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: كُنْتُ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ، فَأَهْوَيْتُ لِأَنْزِعَ خُفَّيْهِ، فَقَالَ: «دَعْهُمَا، فَإِنِّي أَدْخَلْتُهُمَا طَاهِرَتَيْنِ». فَمَسَحَ عَلَيْهِمَا

আবূ নু‘আয়ম আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: যাকারীয়া আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ‘আম্‌র থেকে, তিনি ‘উরওয়াহ ইব্‌ন মুগীর (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি বললেনঃ আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে কোন এক সফরে ছিলাম। (উযূ করার সময়) আমি তাঁর মোজা দু’টি খুলতে চাইলে তিনি বললেনঃ ‘ও দু’টো থাক, আমি পবিত্র অবস্থায় ও দু’টি পরেছিলাম’। (এই বলে) তিনি তার উপর মাস্‌হ করলেন।

অনুরূপ বর্ণনা : [১৮২] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ২০০, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২০৬]

١٤٤. ‌‌بَابُ مَنْ لَمْ يَتَوَضَّأْ مِنْ لَحْمِ الشَّاةِ وَالسَّوِيقِ وَأَكَلَ أَبُو بَكْرٍ، وَعُمَرُ، وَعُثْمَانُ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ، «فَلَمْ يَتَوَضَّئُوا»

১৪৪. পরিচ্ছেদ : বকরীর গোশত ও ছাতু খেয়ে উযূ না করা। আবূ বক্‌র, ‘উমর ও ‘উসমান (রাজিআল্লাহু ‘আনহুম) গোশত খেয়ে উযূ করেননি।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২০৭

হাদিসের মান: সহীহ

٢٠٧ – حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ الهَِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «أَكَلَ كَتِفَ شَاةٍ، ثُمَّ صَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ»

‘আব্দুল্লাহ ইব্‌ন ইউসুফ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: মালিক আমাদেরকে হাদীসটি সংবাদ দিলেন যায়দ ইব্‌ন সালাম থেকে, তিনি ‘আত্বা ইব্‌ন ইয়াসার থেকে, তিনি ‘আবদুল্লাহ ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বলেনঃ একদা আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বকরীর কাঁধের গোশত খেলেন। অতঃপর সালাত আদায় করলেন; কিন্তু উযূ করলেন না।

অনুরূপ বর্ণনা : [৫৪০৪, ৫৪০৫; মুসলিম ৩/২৪, হাঃ ৩৫৪, আহমাদ ১৯৯৪, ১৯৮৮] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ২০১, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২০৭]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২০৮

হাদিসের মান: সহীহ

٢٠٨ – حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي جَعْفَرُ بْنُ عَمْرِو بْنِ أُمَيَّةَ، أَنَّ أَبَاهُ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ رَأَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «يَحْتَزُّ مِنْ كَتِفِ شَاةٍ، فَدُعِيَ إِلَى الصَّلَاةِ، فَأَلْقَى السِّكِّينَ، فَصَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ»

ইয়া‘হ্‌ইয়া ইব্‌ন বুকায়র আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: লায়স আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ‘উক্বায়ল থেকে, তিনি ইব্‌ন শিহাব থেকে, তিনি বললেন: জা’ফার ইব্‌ন ‘আম্‌র ইব্‌ন উমাইয়াহ (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে- তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে একটি বকরীর কাঁধের গোশ্‌ত কেটে খেতে দেখলেন। এ সময় সালাতের জন্য আহ্বান হল। তিনি ছুরিটি ফেলে দিলেন, অতঃপর সালাত আদায় করলেন; কিন্তু উযূ করলেন না।

অনুরূপ বর্ণনা : [৬৭৫, ২৯২৩, ৫৪০৮, ৫৪২২, ৫৪৬২; মুসলিম ৩/২৪, হাঃ ৩৫৫, আহমাদ ১৭২৫০] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ২০২, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২০৮]

١٤٥. ‌‌بَابُ مَنْ مَضْمَضَ مِنَ السَّوِيقِ وَلَمْ يَتَوَضَّأْ

১৪৫. পরিচ্ছেদ : ছাতু খেয়ে উযূ না করে কুলি করা যথেষ্ট।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২০৯

হাদিসের মান: সহীহ

٢٠٩ – حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ بُشَيْرِ بْنِ يَسَارٍ، مَوْلَى بَنِي حَارِثَةَ أَنَّ سُوَيْدَ بْنَ النُّعْمَانِ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ خَرَجَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَ خَيْبَرَ، حَتَّى إِذَا كَانُوا بِالصَّهْبَاءِ، وَهِيَ أَدْنَى خَيْبَرَ، «فَصَلَّى العَصْرَ، ثُمَّ دَعَا بِالأَزْوَادِ، فَلَمْ يُؤْتَ إِلَّا بِالسَّوِيقِ، فَأَمَرَ بِهِ فَثُرِّيَ، فَأَكَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَكَلْنَا، ثُمَّ قَامَ إِلَى المَغْرِبِ، فَمَضْمَضَ وَمَضْمَضْنَا، ثُمَّ صَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ»

‘আব্দুল্লাহ ইব্‌ন ইউসুফ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: মালিক আমাদেরকে হাদীসটি সংবাদ দিলেন ইয়া‘হ্‌ইয়া ইব্‌ন সা‘ঈদ থেকে, তিনি ইব্‌ন ‘হারিসার আজাদ করা গুলাম বুশায়র ইব্‌ন ইয়াসার থেকে, তিনি সুওয়াইদ ইব্‌নু নু’মান (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বলেনঃ খায়বার যুদ্ধের বছর তিনি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে বের হলেন। চলতে চলতে তাঁরা সাহবা-য় পৌঁছলেন, এটি খায়বরের নিকটবর্তী অঞ্চল, তখন তিনি আসরের সালাত আদায় করলেন। অতঃপর খাবার আনতে বললেনঃ কিন্তু ছাতু ব্যতীত আর কিছুই আনা হল না। অতঃপর তিনি নির্দেশ দিলে তাতে পানি মেশানো হয়। আল্লাহর রসূল তা খেলেন এবং আমরাও খেলাম। অতঃপর তিনি মাগরিবের জন্য দাঁড়ালেন এবং কুলি করলেন এবং আমরাও কুলি করলাম। পরে তিনি সালাত আদায় করলেন; উযূ করলেন না।

অনুরূপ বর্ণনা : [২১৫, ২৯৮১, ৪১৭৫, ৪১৯৫, ৫৩৮৪, ৫৩৯০, ৫৪৫৪, ৫৪৫৫] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ২০৩, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২০৯]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২১০

হাদিসের মান: সহীহ

٢١٠ – وحَدَّثَنَا أَصْبَغُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الحَارِثِ، عَنْ بُكَيْرٍ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنْ مَيْمُونَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «أَكَلَ عِنْدَهَا كَتِفًا، ثُمَّ صَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ»

এবং আস্ববাগ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ইব্‌ন ওয়াহ্‌ব আমাদেরকে হাদীসটি সংবাদ দিলেন, তিনি বললেন: ‘আম্‌র ইব্‌ন ‘হারিস আমাকে হাদীসটি সংবাদ দিলেন বুকায়র থেকে, তিনি কুরায়ব থেকে, তিনি উম্মুল মু’মিনীন মাইমূনা (রাজিআল্লাহু ‘আনহা) থেকে- একদা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর (বকরীর) কাঁধের গোশত খেলেন, অতঃপর সালাত আদায় করলেন অথচ উযূ করলেন না।

অনুরূপ বর্ণনা : [মুসলিম ৩/২৪, হাঃ ৩৫৬] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ২০৪, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২১০]

١٤٦. ‌‌بَابٌ: هَلْ يُمَضْمِضُ مِنَ اللَّبَنِ؟

১৪৬. পরিচ্ছেদ : দুধ পান করে কি কুলি করতে হবে?

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২১১

হাদিসের মান: সহীহ

٢١١ – حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، وَقُتَيْبَةُ، قَالَا: حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ” شَرِبَ لَبَنًا فَمَضْمَضَ، وَقَالَ: «إِنَّ لَهُ دَسَمًا» تَابَعَهُ يُونُسُ ، وَصَالِحُ بْنُ كَيْسَانَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ

ইয়া‘হ্‌ইয়া ইব্‌ন বুক্বায়র আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, এবং ক্বুতায়বাহও, তাঁরা উভয়ই বললেন: লায়স আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ‘উক্বায়ল থেকে, তিনি ইব্‌ন শিহাব থেকে, তিনি ‘উবায়দুল্লাহ ইব্‌ন ‘আব্দুল্লাহ ইব্‌ন ‘উতবাহ থেকে, তিনি ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে- একদা আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুধ পান করলেন। অতঃপর কুলি করলেন এবং বললেনঃ ‘এতে রয়েছে তৈলাক্ত বস্তু’ (কাজেই কুলি করা উত্তম)। ইউনুস ও সালিহ ইব্‌নু কায়সার (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) যুহরী (রহমাহুল্লাহ) হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

অনুরূপ বর্ণনা : [৫৬০৯; মুসলিম ৩/২৪, হাঃ ৩৫৮, আহমাদ ১৯৫১, ৩০৫১] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ২০৫, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২১১]

١٤٧. ‌‌بَابُ الوُضُوءِ مِنَ النَّوْمِ، وَمَنْ لَمْ يَرَ مِنَ النَّعْسَةِ وَالنَّعْسَتَيْنِ، أَوِ الخَفْقَةِ وُضُوءًا

১৪৭. পরিচ্ছেদ : ঘুমালে উযূ করা এবং দু’একবার তন্দ্রাচ্ছন্ন হলে বা মাথা ঝুঁকে পড়লে উযূ না করা।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২১২

হাদিসের মান: সহীহ

٢١٢ – حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا نَعَسَ أَحَدُكُمْ وَهُوَ يُصَلِّي فَلْيَرْقُدْ، حَتَّى يَذْهَبَ عَنْهُ النَّوْمُ، فَإِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا صَلَّى وَهُوَ نَاعِسٌ، لَا يَدْرِي لَعَلَّهُ يَسْتَغْفِرُ فَيَسُبُّ نَفْسَهُ»

‘আব্দুল্লাহ ইব্‌ন ইউসুফ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: মালিক আমাদেরকে হাদীসটি সংবাদ দিলেন হিশাম ইব্‌ন ‘উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ‘আয়িশা (রাজিআল্লাহু ‘আনহা) থেকে, তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ সালাতরত অবস্থায় তোমাদের কেউ তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লে সে যেন ঘুমের আমেজ চলে না যাওয়া পর্যন্ত ঘুমিয়ে নেয়। কারণ, যে তন্দ্রাচ্ছন্ন সালাত আদায় করে সে জানে না যে, সে কি ইস্তেগফার করছে নাকি নিজেকে গালি দিচ্ছে।

অনুরূপ বর্ণনা : [মুসলিম ৬/৩১, হাঃ ৭৮৬, আহমাদ ২৪৩৪১, ২৫৭৫৭] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ২০৬, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২১২]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২১৩

হাদিসের মান: সহীহ

٢١٣ – حَدَّثَنَا أَبُو مَعْمَرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الوَارِثِ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ أَبِي قِلَابَةَ، عَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا نَعَسَ أَحَدُكُمْ فِي الصَّلَاةِ فَلْيَنَمْ، حَتَّى يَعْلَمَ مَا يَقْرَأُ»

আবূ মা’মার আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ‘আব্দুল ওয়ারিস আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, আয়ইউব আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন আবূ ক্বিলাবাহ থেকে, তিনি আনাস (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বলেনঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কেউ যদি সালাতে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে, সে যেন ততক্ষণ ঘুমিয়ে নেয়, যতক্ষণ না সে কী পড়ছে, তা অনুধাবন করতে সক্ষম হয়।

অনুরূপ বর্ণনা : [আধুনিক প্রকাশনীঃ ২০৭, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২১৩]

١٤٨. ‌‌بَابُ الوُضُوءِ مِنْ غَيْرِ حَدَثٍ

১৪৮. পরিচ্ছেদ : হাদাস ব্যতীত উযূ করা।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২১৪

হাদিসের মান: সহীহ

٢١٤ – حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ عَامِرٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، قَالَ: ح وحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ عَامِرٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «يَتَوَضَّأُ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ» قُلْتُ: كَيْفَ كُنْتُمْ تَصْنَعُونَ؟ قَالَ: يُجْزِئُ أَحَدَنَا الوُضُوءُ مَا لَمْ يُحْدِثْ

মু‘হাম্মাদ ইব্‌ন ইউসুফ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: সুফইয়ান আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ‘আম্‌র ইব্‌ন ‘আমির থেকে, তিনি বললেন: আমি আনাস ইব্‌ন মালিক (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে শুনলাম, তিনি বলেনঃ অন্য বর্ণনায়: মুসাদ্দাদ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ইয়াহ’ইয়া আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন সুফইয়ান থেকে, তিনি বললেন: ‘আমর ইব্‌ন ‘আমিরআমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন আনাস ইব্‌ন মালিক থেকে, তিনি বললেন: নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রত্যেক সালাতের সময় উযূ করতেন। আমি বললাম : আপনারা কী করতেন? তিনি বললেন: হাদাস (উযূ ভঙ্গের কারণ) না হওয়া পর্যন্ত আমাদের (পূর্বের) উযূ যথেষ্ট হত।

অনুরূপ বর্ণনা : [আধুনিক প্রকাশনীঃ ২০৮, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২১৪]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২১৫

হাদিসের মান: সহীহ

٢١٥ – حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلَالٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي بُشَيْرُ بْنُ يَسَارٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي سُوَيْدُ بْنُ النُّعْمَانِ، قَالَ: خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَ خَيْبَرَ، حَتَّى إِذَا كُنَّا بِالصَّهْبَاءِ، «صَلَّى لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ العَصْرَ، فَلَمَّا صَلَّى دَعَا بِالأَطْعِمَةِ، فَلَمْ يُؤْتَ إِلَّا بِالسَّوِيقِ، فَأَكَلْنَا وَشَرِبْنَا، ثُمَّ قَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى المَغْرِبِ، فَمَضْمَضَ، ثُمَّ صَلَّى لَنَا المَغْرِبَ وَلَمْ يَتَوَضَّأْ»

খালিদ ইব্‌ন মাখলাদ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: সুলায়মান ইব্‌ন বিলাল আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ইয়া‘হ্‌ইয়া ইব্‌ন সা‘ঈদ আমাকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: বুশায়র ইব্‌ন ইয়াসার আমাদেরকে হাদীসটি সংবাদ দিলেন, তিনি বললেন: সুওয়াইদ ইব্‌নু নু’মান (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) আমাকে হাদীসটি সংবাদ দিলেন, তিনি বলেনঃ খায়বার যুদ্ধের বছর আমরা আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে বের হলাম। সহ্‌বা নামক স্থানে পৌঁছে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিয়ে আসরের সালাত আদায় করলেন। সালাত শেষে তিনি খাবার আনতে বললেন। ছাতু ব্যতীত আর কিছুই আনা হল না। আমরা তা খেলাম এবং পান করলাম। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাগরিবের জন্য দাঁড়ালেন, অতঃপর কুলি করলেন; অতঃপর আমাদের নিয়ে মাগরিবের সালাত আদায় করলেন অথচ তিনি (নতুন) উযূ করলেন না।

অনুরূপ বর্ণনা : [২০৯] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ২০৯, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২১৫]

١٤٩. ‌‌بَابٌ: مِنَ الكَبَائِرِ أَنْ لَا يَسْتَتِرَ مِنْ بَوْلِهِ

১৪৯. পরিচ্ছেদ : পেশাবের অপবিত্রতা হতে হুশিয়ার না হওয়া কাবীরা গুনাহর অন্তর্ভুক্ত।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২১৬

হাদিসের মান: সহীহ

٢١٦ – حَدَّثَنَا عُثْمَانُ، قَالَ: حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: مَرَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِحَائِطٍ مِنْ حِيطَانِ المَدِينَةِ، أَوْ مَكَّةَ، فَسَمِعَ صَوْتَ إِنْسَانَيْنِ يُعَذَّبَانِ فِي قُبُورِهِمَا، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يُعَذَّبَانِ، وَمَا يُعَذَّبَانِ فِي كَبِيرٍ» ثُمَّ قَالَ: «بَلَى، كَانَ أَحَدُهُمَا لَا يَسْتَتِرُ مِنْ بَوْلِهِ، وَكَانَ الآخَرُ يَمْشِي بِالنَّمِيمَةِ». ثُمَّ دَعَا بِجَرِيدَةٍ، فَكَسَرَهَا كِسْرَتَيْنِ، فَوَضَعَ عَلَى كُلِّ قَبْرٍ مِنْهُمَا كِسْرَةً، فَقِيلَ لَهُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، لِمَ فَعَلْتَ هَذَا؟ قَالَ: «لَعَلَّهُ أَنْ يُخَفَّفَ عَنْهُمَا مَا لَمْ تَيْبَسَا» أَوْ: «إِلَى أَنْ يَيْبَسَا»

‘উসমান আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: জারীর আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন মানস্বুর থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি ইব্‌ন ‘আব্বাস (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বলেনঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদা মদীনা বা মক্কার বাগানগুলোর মধ্য হতে কোন এক বাগানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি এমন দু’ ব্যক্তির আওয়ায শুনতে পেলেন যে, তাদেরকে কবরে আযাব দেয়া হচ্ছিল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এদের দু’জনকে আযাব দেয়া হচ্ছে, অথচ কোন গুরুতর অপরাধে তাদের শাস্তি দেয়া হচ্ছে না। তারপর তিনি বললেনঃ ‘হ্যাঁ, এদের একজন পেশাব করতে গিয়ে সতর্কতা অবলম্বন করত না। অপর ব্যক্তি চোগলখোরী করত। অতঃপর তিনি একটি খেজুরের ডাল আনতে বললেন, এবং তা ভেঙ্গে দু’ টুকরা করে প্রত্যেকের কবরের উপর এক টুকরা করে রাখলেন। তাঁকে বলা হল, ‘হে আল্লাহর রসূল! কেন এমন করলেন?’ তিনি বললেনঃ আশা করা যেতে পারে যতক্ষণ পর্যন্ত এ দু’টি শুকিয়ে না যায় তাদের আযাব কিছুটা হালকা করা হবে।

অনুরূপ বর্ণনা : [২১৮, ১৩৬১, ১৩৭৮, ৬০৫২, ৬০৫৫; মুসলিম ২/৩৪, হাঃ ২৯২, আহমাদ ১৯৮০] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১০, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২১৬]

١٥٠. ‌‌بَابُ مَا جَاءَ فِي غَسْلِ البَوْلِ

وَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِصَاحِبِ القَبْرِ: «كَانَ لَا يَسْتَتِرُ مِنْ بَوْلِهِ». وَلَمْ يَذْكُرْ سِوَى بَوْلِ النَّاسِ

১৫০. পরিচ্ছেদ : পেশাব ধোয়া সম্পর্কে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে।

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জনৈক কবরবাসী সম্পর্কে বলেছেন, সে তার পেশাব থেকে সতর্ক থাকত না। তিনি শুধু মানুষের পেশাব সম্পর্কেই উল্লেখ করেছেন।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২১৭

হাদিসের মান: সহীহ

٢١٧ – حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنِي رَوْحُ بْنُ القَاسِمِ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَطَاءُ بْنُ أَبِي مَيْمُونَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «إِذَا تَبَرَّزَ لِحَاجَتِهِ، أَتَيْتُهُ بِمَاءٍ فَيَغْسِلُ بِهِ»

ইয়াক্বুব ইব্‌ন ইব্রাহীম আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ইসমা‘ঈল ইব্‌ন ইব্রাহীম আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: রাও‘হ ইব্‌ন ক্বাসিম আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ‘আতা ইব্‌ন আবূ মায়মুনাহ আমাকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন আনাস ইব্‌নু মালিক (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বলেনঃ আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বের হলে আমি তাঁর নিকট পানি নিয়ে যেতাম। তিনি তা দিয়ে শৌচকার্য করতেন।

অনুরূপ বর্ণনা : [১৫০] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১১, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২১৭]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২১৮

হাদিসের মান: সহীহ

٢١٨ – حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ المُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَازِمٍ ، قَالَ: حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: مَرَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقَبْرَيْنِ، فَقَالَ: «إِنَّهُمَا لَيُعَذَّبَانِ، وَمَا يُعَذَّبَانِ فِي كَبِيرٍ، أَمَّا أَحَدُهُمَا فَكَانَ لَا يَسْتَتِرُ مِنَ البَوْلِ، وَأَمَّا الآخَرُ فَكَانَ يَمْشِي بِالنَّمِيمَةِ» ثُمَّ أَخَذَ جَرِيدَةً رَطْبَةً، فَشَقَّهَا نِصْفَيْنِ، فَغَرَزَ فِي كُلِّ قَبْرٍ وَاحِدَةً، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، لِمَ فَعَلْتَ هَذَا؟ قَالَ: «لَعَلَّهُ يُخَفِّفُ عَنْهُمَا مَا لَمْ يَيْبَسَا» وَقَالَ مُحَمَّدُ بْنُ المُثَنَّى، وَحَدَّثَنَا وَكِيعٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، قَالَ: سَمِعْتُ مُجَاهِدًا مِثْلَهُ: «يَسْتَتِرُ مِنْ بَوْلِهِ»

মু‘হাম্মাদ ইব্‌ন মুসান্না আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: মু‘হাম্মাদ ইব্‌ন খাযিম আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: আ’মাশ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন মুজাহিদ থেকে, তিনি ত্বাউস থেকে, তিনি ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বলেনঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদা দু’টি কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। এ সময় তিনি বললেনঃ এদের ‘আযাব দেয়া হচ্ছে, কোন গুরুতর অপরাধের জন্য তাদের শাস্তি দেয়া হচ্ছে না। তাদের একজন পেশাব হতে সতর্ক থাকত না। আর অপরজন চোগলখোরী করে বেড়াত। তারপর তিনি একখানি কাঁচা খেজুরের ডাল নিয়ে ভেঙ্গে দু’ভাগ করলেন এবং প্রত্যেক কবরের উপর একখানি গেড়ে দিলেন। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! কেন এমন করলেন? তিনি বললেনঃ আশা করা যেতে পারে যতক্ষণ পর্যন্ত এ দু’টি শুকিয়ে না যায় তাদের আযাব কিছুটা হালকা করা হবে। ইব্‌নুল মুসান্না (রহমাহুল্লাহ) আ’মাশ (রহমাহুল্লাহ) বলেনঃ আমি মুজাহিদ (রহমাহুল্লাহ) হতে অনুরূপ শুনেছি। সে তার পেশাব হতে সতর্ক থাকত।

অনুরূপ বর্ণনা : [২১৬] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১২, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২১৮]

١٥١. ‌‌بَابُ تَرْكِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالنَّاسِ الأَعْرَابِيَّ حَتَّى فَرَغَ مِنْ بَوْلِهِ فِي المَسْجِدِ

১৫১. পরিচ্ছেদ : জনৈক বেদুঈন মসজিদে পেশাব করলে পেশাব শেষ না করা পর্যন্ত নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং অন্যান্য লোকের পক্ষ হতে অবকাশ দেয়া।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২১৯

হাদিসের মান: সহীহ

٢١٩ – حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ: حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَى أَعْرَابِيًّا يَبُولُ فِي المَسْجِدِ فَقَالَ: «دَعُوهُ حَتَّى إِذَا فَرَغَ دَعَا بِمَاءٍ فَصَبَّهُ عَلَيْهِ»

মূসা ইব্‌ন ইসমা‘ঈল আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: হাম্মাম আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ইস‘হাক আমাদেরকে হাদীসটি সংবাদ দিলেন আনাস ইব্‌নু মালিক (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক বেদুঈনকে মসজিদে পেশাব করতে দেখলেন। তখন তিনি বললেন: “তাকে ছেড়ে দাও”। সে পেশাব শেষ করলে পানি নিয়ে আসতে বললেন, অতঃপর তা সেখানে ঢেলে দিলেন।

অনুরূপ বর্ণনা : [২২১, ৬০২৫ দ্রষ্টব্য] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১৩, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২১৯]

١٥٢. ‌‌بَابُ صَبِّ المَاءِ عَلَى البَوْلِ فِي المَسْجِدِ

১৫২. পরিচ্ছেদ : মসজিদে পেশাবের উপর পানি ঢেলে দেয়া।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২২০

হাদিসের মান: সহীহ

٢٢٠ – حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَامَ أَعْرَابِيٌّ فَبَالَ فِي المَسْجِدِ، فَتَنَاوَلَهُ النَّاسُ، فَقَالَ لَهُمُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «دَعُوهُ وَهَرِيقُوا عَلَى بَوْلِهِ سَجْلًا مِنْ مَاءٍ، أَوْ ذَنُوبًا مِنْ مَاءٍ، فَإِنَّمَا بُعِثْتُمْ مُيَسِّرِينَ، وَلَمْ تُبْعَثُوا مُعَسِّرِينَ»

আবূ ইয়ামান আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: শু‘আয়ব আমাদেরকে হাদিসটি সংবাদ দিলেন যুহুরী থেকে, তিনি বললেন: ‘উবায়দুল্লাহ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ ইব্‌ন ‘উতবাহ ইব্‌ন মাস‘ঊদ আমাকে হাদীসটি সংবাদ দিলেন আবূ হুরায়রা (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বলেনঃ একদা জনৈক বেদুঈন দাঁড়িয়ে মসজিদে পেশাব করল। তখন লোকেরা তাকে বাধা দিতে গেলে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের বললেনঃ তোমরা তাকে ছেড়ে দাও এবং ওর পেশাবের উপর এক বালতি পানি ঢেলে দাও। কারণ তোমাদেরকে কোমল ও সুন্দর আচরণ করার জন্য পাঠানো হয়েছে, রূঢ় আচরণ করার জন্য পাঠানো হয়নি।

অনুরূপ বর্ণনা : [৬১২৮] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১৪, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২২০]

١٥٣. ‌‌بَابُ: يُهَرِيقُ المَاءَ عَلَى البَوْلِ

حَدَّثَنَا عَبْدَانُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلّى الله عليه وسلم

১৫৩. পরিচ্ছেদ : পেশাবের উপর পানি ঢেলে দেয়া।

‘আবদান আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ‘আব্দুল্লাহ আমাদেরকে হাদীসটি সংবদ দিলেন, তিনি বললেন: ইয়া‘হইয়া ইব্‌ন সা‘ঈদ আমাদেরকে হাদীসটি খবর দিলেন, তিনি বললেন: আমি আনাস ইব্‌নু মালিক (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে শুনেছি, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। [২১৯]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২২১

হাদিসের মান: সহীহ

٢٢١ – حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ، قَالَ: وَحَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ قَالَ: جَاءَ أَعْرَابِيٌّ فَبَالَ فِي طَائِفَةِ المَسْجِدِ، فَزَجَرَهُ النَّاسُ، «فَنَهَاهُمُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا قَضَى بَوْلَهُ أَمَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِذَنُوبٍ مِنْ مَاءٍ فَأُهْرِيقَ عَلَيْهِ»

খালিদ ইব্‌ন মাখলাদ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: সুলায়মান আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন ইয়া‘হ্‌ইয়া ইব্‌ন সা‘ঈদ থেকে, তিনি বললেন: আমি আনাস ইব্‌নু মালিক (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে শুনেছি, তিনি বলেনঃ একবার এক বেদুঈন এসে মসজিদের এক পাশে পেশাব করে দিল। তা দেখে লোকজন তাকে ধমকাতে লাগল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের নিষেধ করলেন। তার পেশাব শেষ হলে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আদেশে এর উপর এক বালতি পানি ঢেলে দেওয়া হল।

অনুরূপ বর্ণনা : [২১৯ নম্বর হাদিসের অনুরুপ]

١٥٤. ‌‌بَابُ بَوْلِ الصِّبْيَانِ

১৫৪. পরিচ্ছেদ : বাচ্চাদের পেশাব।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২২২

হাদিসের মান: সহীহ

٢٢٢ – حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ المُؤْمِنِينَ أَنَّهَا قَالَتْ: «أُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِصَبِيٍّ، فَبَالَ عَلَى ثَوْبِهِ، فَدَعَا بِمَاءٍ فَأَتْبَعَهُ إِيَّاهُ»

আব্দুল্লাহ ইব্‌ন ইউসুফ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: মালিক আমাদেরকে হাদীসটি খবর দিলেন হিশাম ইব্‌ন ‘উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি উম্মুল মু’মিনীন মা ‘আয়িশা (রাজিআল্লাহু ‘আনহা) থেকে, তিনি বলেনঃ আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট একটি ছেলে শিশুকে আনা হল। শিশুটি তাঁর কাপড়ে পেশাব করে দিল। তিনি পানি আনালেন এবং এর উপর ঢেলে দিলেন।

অনুরূপ বর্ণনা : [৫৪৬৮, ৬০০২, ৬৩৫৫ দ্রষ্টব্য] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১৬, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২২২]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২২৩

হাদিসের মান: সহীহ

٢٢٣ – حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنْ أُمِّ قَيْسٍ بِنْتِ مِحْصَنٍ، أَنَّهَا «أَتَتْ بِابْنٍ لَهَا صَغِيرٍ، لَمْ يَأْكُلِ الطَّعَامَ، إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَجْلَسَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي حَجْرِهِ، فَبَالَ عَلَى ثَوْبِهِ، فَدَعَا بِمَاءٍ، فَنَضَحَهُ وَلَمْ يَغْسِلْهُ»

‘আব্দুল্লাহ ইব্‌ন ইউসুফ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: মালিক আমাদেরকে হাদীসটি খবর দিলেন ইব্‌ন শিহাব থেকে, তিনি ‘উবায়দুল্লাহ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ ইব্‌ন ‘উতবাহ থেকে, তিনি উম্মু কায়স বিন্‌ত মিহসান (রাজিআল্লাহু ‘আনহা) থেকে- তিনি তাঁর এমন একটি ছোট ছেলেকে নিয়ে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এলেন যে তখনো খাবার খেতে শিখেনি। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শিশুটিকে তাঁর কোলে বসালেন। তখন সে তাঁর কাপড়ে পেশাব করে দিল। তিনি পানি আনিয়ে এর উপর ছিটিয়ে দিলেন এবং তা ধৌত করলেন না।

অনুরূপ বর্ণনা : [৫৬৯৩; মুসলিম ২/৩১, হাঃ ২৮৭, আহমাদ ২৭০৬৪, ২৭০৭২] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১৭, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২২৩]

ফুটনোটঃ
১. পেশাব অপবিত্র। তবে পেশাব লেগে যাওয়া বস্তুকে পবিত্র করার পদ্ধতি দু রকম। এক : প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি অথবা দুগ্ধপোষ্য মেয়ে হলে তার পেশাব অবশ্যই ধুয়ে ফেলতে হবে। দুই : যদি দুগ্ধপোষ্য ছেলে হয় তবে পানির ছিটা দিলে তা পবিত্র হয়ে যাবে।

١٥٥. ‌‌بَابُ البَوْلِ قَائِمًا وَقَاعِدًا

১৫৫. পরিচ্ছেদ : দাঁড়িয়ে ও বসে পেশাব করা।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২২৪

হাদিসের মান: সহীহ

٢٢٤ – حَدَّثَنَا آدَمُ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ «أَتَى النَّبِيُّ صلّى الله عليه وسلم سُبَاطَةَ قَوْمٍ فَبَالَ قَائِمًا، ثُمَّ دَعَا بِمَاءٍ فَجِئْتُهُ بِمَاءٍ فَتَوَضَّأَ»

আদম আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: শু’বাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন আ’মাশ থেকে, তিনি আবূ ওয়াইল থেকে, তিনি হুযাইফা (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বলেনঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদা গোত্রের ময়লা আবর্জনা ফেলার স্থানে আসলেন। তিনি সেখানে দাঁড়িয়ে পেশাব করলেন।১ অতঃপর পানি আনতে বললেন। আমি তাঁকে পানি এনে দিলে তিনি উযূ করলেন।১

অনুরূপ বর্ণনা : [২২৫, ২২৬, ২৪৭১ দ্রষ্টব্য] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১৮, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২২৪]

ফুটনোটঃ
১. সাধারণত বসে পেশাব করাই ছিল রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অভ্যাস । এ জন্যই হযরত আয়িশা (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) বলেন, “যে ব্যাক্তি তোমাদের বলবে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাঁড়িয়ে পেশাব করেছেন -– তার কথা বিশ্বাস করো না” (তিরমিযী, নাসাঈ) । এই একটি মাত্র স্থানেই তাঁর অভ্যাসের ব্যতিক্রম পাওয়া যায় । এর কারণ সম্পর্কে আবূ হুরায়রা (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) বলেন, “রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোমর ব্যাথার কারণে দাঁড়িয়ে পেশাব করেছেন ।” (বায়হাকী, হাকেম)

١٥٦. ‌‌بَابُ البَوْلِ عِنْدَ صَاحِبِهِ، وَالتَّسَتُّرِ بِالحَائِطِ

১৫৬. পরিচ্ছেদ : সাথীকে নিকটে অপেক্ষায় রেখে পেশাব করা এবং দেয়ালের আড়াল করা।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২২৫

হাদিসের মান: সহীহ

٢٢٥ – حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ: «رَأَيْتُنِي أَنَا وَالنَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَتَمَاشَى، فَأَتَى سُبَاطَةَ قَوْمٍ خَلْفَ حَائِطٍ، فَقَامَ كَمَا يَقُومُ أَحَدُكُمْ، فَبَالَ، فَانْتَبَذْتُ مِنْهُ، فَأَشَارَ إِلَيَّ فَجِئْتُهُ، فَقُمْتُ عِنْدَ عَقِبِهِ حَتَّى فَرَغَ»

‘উসমান ইব্‌ন আবূ শায়বাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: জারীর আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন মানস্বুর থেকে, তিনি আবূ ওয়াইল থেকে, তিনি হুযাইফা (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বলেনঃ আমার স্মরণ আছে যে, একদা আমি ও নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক সাথে চলছিলাম। তিনি দেয়ালের পিছনে মহল্লার একটি আবর্জনা ফেলার জায়গায় এলেন। অতঃপর তোমাদের কেউ যেভাবে দাঁড়ায় সে ভাবে দাঁড়িয়ে তিনি পেশাব করলেন। এ সময় আমি তাঁর নিকট হতে সরে যাচ্ছিলাম কিন্তু তিনি আমাকে ইঙ্গিত করলেন। আমি এসে তাঁর পেশাব করা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে রইলাম।

অনুরূপ বর্ণনা : [২২৪; মুসলিম ২/২২, হাঃ ২৭৩, আহমাদ ২৩৩০১, ২৩৪০৫] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১৯, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২২৫]

١٥٧. ‌‌بَابُ البَوْلِ عِنْدَ سُبَاطَةِ قَوْمٍ

১৫৭. পরিচ্ছেদ : গোত্রের আবর্জনা ফেলার স্থানে পেশাব করা।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২২৬

হাদিসের মান: সহীহ

٢٢٦ – حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَرْعَرَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، قَالَ: كَانَ أَبُو مُوسَى الأَشْعَرِيُّ يُشَدِّدُ فِي البَوْلِ، وَيَقُولُ: ” إِنَّ: بَنِي إِسْرَائِيلَ كَانَ إِذَا أَصَابَ ثَوْبَ أَحَدِهِمْ قَرَضَهُ “، فَقَالَ: حُذَيْفَةُ لَيْتَهُ أَمْسَكَ «أَتَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُبَاطَةَ قَوْمٍ فَبَالَ قَائِمًا»

মু‘হাম্মাদ ইব্‌ন ‘আর্‌‘আরাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: শু’বাহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন মানুস্বুর থেকে, তিনি আবূ ওয়াইল (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বলেনঃ আবূ মূসা (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) পেশাবের ব্যাপারে খুব কঠোরতা আরোপ করতেন এবং বলতেন : বনী ইসরাঈলের কারো কাপড়ে (পেশাব) লাগলে তা কেটে ফেলত। হুযায়ফা (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) বললেন, আবূ মূসা (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) যদি এ হতে বিরত থাকতেন (তবে ভাল হত)। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মহল্লার আবর্জনা ফেলার স্থানে গিয়ে দাঁড়িয়ে পেশাব করেছেন।

অনুরূপ বর্ণনা : [২২৪] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২০, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২২৬]

١٥٨. ‌‌بَابُ غَسْلِ الدَّمِ

১৫৮. পরিচ্ছেদ : রক্ত ধুয়ে ফেলা।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২২৭

হাদিসের মান: সহীহ

٢٢٧ – حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ المُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ هِشَامٍ، قَالَ: حَدَّثَتْنِي فَاطِمَةُ، عَنْ أَسْمَاءَ، قَالَتْ: جَاءَتِ امْرَأَةٌ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ: أَرَأَيْتَ إِحْدَانَا تَحِيضُ فِي الثَّوْبِ، كَيْفَ تَصْنَعُ؟ قَالَ: «تَحُتُّهُ، ثُمَّ تَقْرُصُهُ بِالْمَاءِ، وَتَنْضَحُهُ، وَتُصَلِّي فِيهِ»

মু‘হাম্মাদ ইব্‌ন মুসান্না আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ইয়া‘হ্‌ইয়া আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন হিশাম থেকে, তিনি বললেন: ফাত্বিমাহ্‌ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন আসমা (রাজিআল্লাহু ‘আনহা) থেকে, তিনি বলেন, জনৈকা মহিলা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বললেনঃ (হে আল্লাহর রসূল!) বলুন, আমাদের কারো কাপড়ে হায়যের রক্ত লেগে গেলে সে কী করবে? তিনি বললেনঃ সে তা ঘষে ফেলবে, তারপর পানি দিয়ে রগড়াবে এবং ভাল করে ধুয়ে ফেলবে। অতঃপর সেই কাপড়ে সালাত আদায় করবে।

অনুরূপ বর্ণনা : [৩০৭; মুসলিম ২/৩৩, হাঃ ২৯১, আহমাদ ৬৯৯৮, ২৭০৪৯] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২১, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২২৭]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২২৮

হাদিসের মান: সহীহ

٢٢٨ – حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ هُوَ ابْنُ سَلَامٍ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: جَاءَتْ فَاطِمَةُ بِنْتُ أَبِي حُبَيْشٍ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي امْرَأَةٌ أُسْتَحَاضُ فَلَا أَطْهُرُ أَفَأَدَعُ الصَّلَاةَ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا، إِنَّمَا ذَلِكِ عِرْقٌ، وَلَيْسَ بِحَيْضٍ، فَإِذَا أَقْبَلَتْ حَيْضَتُكِ فَدَعِي الصَّلَاةَ، وَإِذَا أَدْبَرَتْ فَاغْسِلِي عَنْكِ الدَّمَ ثُمَّ صَلِّي» – قَالَ: وَقَالَ أَبِي: – «ثُمَّ تَوَضَّئِي لِكُلِّ صَلَاةٍ، حَتَّى يَجِيءَ ذَلِكَ الوَقْتُ»

মু‘হাম্মাদ, তিনি ছিলেন ইব্‌ন সালাম আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: আবূ মু‘আবিয়াহ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: হিশাম ইব্‌ন ‘উরওয়া আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন তাঁর পিতা থেকে, তিনি ‘আয়িশা (রাজিআল্লাহু ‘আনহা) থেকে, তিনি বলেন: ফাতিমা বিন্‌তু আবূ হুবায়শ (রাজিআল্লাহু ‘আনহা) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমি একজন রক্ত-প্রদর রোগগ্রস্তা (ইস্তিহাযাহ) মহিলা। আমি কখনো পবিত্র হতে পারি না। এমতাবস্থায় আমি কি সালাত পরিত্যাগ করবো?’ আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ না, এতো শিরা হতে নির্গত রক্ত; হায়য নয়। তাই যখন তোমার হায়য আসবে তখন সালাত ছেড়ে দিও। আর যখন তা বন্ধ হবে তখন রক্ত ধুয়ে ফেলবে, তারপর সালাত আদায় করবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমার পিতা বলেছেনঃ অতঃপর এভাবে আরেক হায়য না আসা পর্যন্ত প্রত্যেক সালাতের জন্য উযূ করবে।

অনুরূপ বর্ণনা : [মুসলিম ৩/১৪, হাঃ ৩৩৩, আহমাদ ২৪৫৭৭] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২২, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২২৮]

١٥٩. ‌‌بَابُ غَسْلِ المَنِيِّ وَفَرْكِهِ، وَغَسْلِ مَا يُصِيبُ مِنَ المَرْأَةِ

১৫৯. পরিচ্ছেদ : বীর্য ধোয়া এবং ঘষে ফেলা এবং স্ত্রীলোক হতে যা লেগে যায় তা ধুয়ে ফেলা।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২২৯

হাদিসের মান: সহীহ

٢٢٩ – حَدَّثَنَا عَبْدَانُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ المُبَارَكِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ مَيْمُونٍ الجَزَرِيُّ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: «كُنْتُ أَغْسِلُ الجَنَابَةَ مِنْ ثَوْبِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَيَخْرُجُ إِلَى الصَّلَاةِ، وَإِنَّ بُقَعَ المَاءِ فِي ثَوْبِهِ»

‘আবদান আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: আব্দুল্লাহ ইব্‌ন মুবারক আমাদেরকে হাদীসটি খবর দিলেন, তিনি বললেন: ‘আম্‌র ইব্‌ন মায়মূনা জাযারী আমাদেরকে হাদীসটি খবর দিলেন সুলায়মান ইব্‌ন ইয়াসার থেকে, তিনি ‘আয়িশা (রাজিআল্লাহু ‘আনহা) থেকে, তিনি বলেনঃ আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাপড় হতে অপবিত্রতার চিহ্ন ধুয়ে দিতাম এবং কাপড়ে ভিজা চিহ্ন নিয়ে তিনি সালাতে বের হতেন।

অনুরূপ বর্ণনা : [২৩০, ২৩১, ২৩২; মুসলিম ২/৩২, হাঃ ২৮৯] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৩, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২২৯]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৩০

হাদিসের মান: সহীহ

٢٣٠ – حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَمْرٌو يَعْنِي ابْنَ مَيْمُونٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، قَالَ: سَمِعْتُ عَائِشَةَ، ح وحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الوَاحِدِ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مَيْمُونٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، قَالَ: سَأَلْتُ عَائِشَةَ عَنِ المَنِيِّ، يُصِيبُ الثَّوْبَ؟ فَقَالَتْ: «كُنْتُ أَغْسِلُهُ مِنْ ثَوْبِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَيَخْرُجُ إِلَى الصَّلَاةِ، وَأَثَرُ الغَسْلِ فِي ثَوْبِهِ» بُقَعُ المَاءِ

ক্বুতায়বাহ্‌ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ইয়াযীদ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ‘আম্‌র অর্থাৎ ইব্‌ন মায়মূনা আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন সুলাইমান ইব্‌নু ইয়াসার (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বললেন: আমি ‘আয়িশা (রাজিআল্লাহু ‘আনহা) থেকে শুনেছি, অন্য বর্ণনায়: মুসাদ্দাদ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ‘আব্দুল ওয়াহি’দ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: আমার ইব্‌ন মায়মুনা আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন সুলায়মান ইব্‌ন ইয়াসার থেকে, তিনি বললেন: ‘আমি ‘আয়িশা (রাজিআল্লাহু ‘আনহা)-কে কাপড়ে লাগা বীর্য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম।’ তিনি বললেনঃ আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাপড় হতে তা ধুয়ে ফেলতাম। তিনি কাপড় ধোয়ার ভিজা দাগ নিয়ে সালাতে বের হতেন।

অনুরূপ বর্ণনা : [২২৯] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৪, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২৩০]

١٦٠. ‌‌بَابُ إِذَا غَسَلَ الجَنَابَةَ أَوْ غَيْرَهَا فَلَمْ يَذْهَبْ أَثَرُهُ

১৬০. পরিচ্ছেদ : জানাবাতের অপবিত্রতা বা অন্য কিছু ধোয়ার পর যদি ভিজা চিহ্ন রয়ে যায়।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৩১

হাদিসের মান: সহীহ

٢٣١ – حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ المِنْقَرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الوَاحِدِ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مَيْمُونٍ، قَالَ: سَأَلْتُ سُلَيْمَانَ بْنَ يَسَارٍ فِي الثَّوْبِ تُصِيبُهُ الجَنَابَةُ، قَالَ: قَالَتْ عَائِشَةُ: «كُنْتُ أَغْسِلُهُ مِنْ ثَوْبِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ يَخْرُجُ إِلَى الصَّلَاةِ، وَأَثَرُ الغَسْلِ فِيهِ» بُقَعُ المَاءِ

মূসা ইব্‌ন ইসমা‘ঈল মিনক্বারী আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ‘আব্দুল ওয়া‘হিদ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ‘আম্‌র ইব্‌ন মায়মূনা (রাজিআল্লাহু ‘আনহা) আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: কাপড়ে জানাবাতের অপবিত্রতা লাগা সম্পর্কে আমি সুলায়মান ইব্‌নু ইয়াসার (রহমাহুল্লাহ)-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ ‘আয়িশা (রাজিআল্লাহু ‘আনহা) বলেছেনঃ আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাপড় হতে তা ধুয়ে ফেলতাম। অতঃপর তিনি সালাতে বেরিয়ে যেতেন আর তাতে পানি দিয়ে ধোয়ার চিহ্ন অবশিষ্ট থাকত।

অনুরূপ বর্ণনা : [২২৯] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৫, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২৩১]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৩২

হাদিসের মান: সহীহ

٢٣٢ – حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ خَالِدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مَيْمُونِ بْنِ مِهْرَانَ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ عَائِشَةَ: أَنَّهَا كَانَتْ تَغْسِلُ المَنِيَّ مِنْ ثَوْبِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ أَرَاهُ فِيهِ بُقْعَةً أَوْ بُقَعًا “

‘আম্‌র ইব্‌ন খালিদ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: যুহায়র আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ‘আম্‌র ইব্‌ন মায়মূনা ইব্‌ন মিহ্‌রান আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন সুলায়মান ইব্‌ন ইয়াসার থেকে, তিনি ‘আয়িশা (রাজিআল্লাহু ‘আনহা) থেকে- তিনি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাপড় হতে বীর্য ধুয়ে ফেলতেন। ‘আয়িশা (রাজিআল্লাহু ‘আনহা) বললেনঃ তারপর আমি তাতে পানির একটি বা কয়েকটি দাগ দেখতে পেতাম।

অনুরূপ বর্ণনা : [২২৯] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৬, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২৩২]

١٦١. ‌‌بَابُ أَبْوَالِ الإِبِلِ، وَالدَّوَابِّ، وَالغَنَمِ وَمَرَابِضِهَا

وَصَلَّى أَبُو مُوسَى فِي دَارِ البَرِيدِ وَالسِّرْقِينِ، وَالبَرِّيَّةُ إِلَى جَنْبِهِ، فَقَالَ: «هَاهُنَا وَثَمَّ سَوَاءٌ»

১৬১. পরিচ্ছেদ : উট, চতুষ্পদ জন্তু ও বকরীর পেশাব এবং বকরীর খোঁয়াড় প্রসঙ্গে।

আবু মূসা (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) দারুল বারীদের (কূফার একটি স্থান, যেখানে সরকারী ডাক বহনকারীরা অবতরণ করতেন) সালাত আদায় করেন। আর তার পাশেই গোবর এবং খালি ময়দান ছিল। তিনি বললেন: এ জায়গা এবং ঐ জায়গা একই পর্যায়ের।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৩৩

হাদিসের মান: সহীহ

٢٣٣ – حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلَابَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَدِمَ أُنَاسٌ مِنْ عُكْلٍ أَوْ عُرَيْنَةَ، فَاجْتَوَوْا المَدِينَةَ «فَأَمَرَهُمُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، بِلِقَاحٍ، وَأَنْ يَشْرَبُوا مِنْ أَبْوَالِهَا وَأَلْبَانِهَا» فَانْطَلَقُوا، فَلَمَّا صَحُّوا، قَتَلُوا رَاعِيَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَاسْتَاقُوا النَّعَمَ، فَجَاءَ الخَبَرُ فِي أَوَّلِ النَّهَارِ، فَبَعَثَ فِي آثَارِهِمْ، فَلَمَّا ارْتَفَعَ النَّهَارُ جِيءَ بِهِمْ، «فَأَمَرَ فَقَطَعَ أَيْدِيَهُمْ وَأَرْجُلَهُمْ، وَسُمِرَتْ أَعْيُنُهُمْ، وَأُلْقُوا فِي الحَرَّةِ، يَسْتَسْقُونَ فَلَا يُسْقَوْنَ». قَالَ أَبُو قِلَابَةَ: «فَهَؤُلَاءِ سَرَقُوا وَقَتَلُوا، وَكَفَرُوا بَعْدَ إِيمَانِهِمْ، وَحَارَبُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ»

সুলায়মান ইব্‌ন ‘হার্‌ব আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: ‘হাম্মাদ ইব্‌ন যায়দ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন আয়ূব থেকে, তিনি আবূ ক্বিলাবাহ্‌ থেকে, তিনি আনাস ইব্‌ন মালিক (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বলেনঃ ‘উকল বা ‘উরাইনাহ গোত্রের কিছু লোক (ইসলাম গ্রহণের উদ্দেশে) মদীনায় এলে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের (সদকার) উটের নিকট যাবার এবং উটের পেশাব ও দুধ পান করার নির্দেশ দিলেন। তারা সেখানে চলে গেল। অতঃপর তারা সুস্থ হয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর রাখালকে হত্যা করল এবং উটগুলো তাড়িয়ে নিয়ে গেল। এ সংবাদ দিনের প্রথম ভাগেই (তাঁর নিকট) এসে পৌঁছল। তিনি তাদের পশ্চাদ্ধাবন করার জন্য লোক পাঠালেন। বেলা বাড়লে তাদেরকে পাকড়াও করে আনা হল। অতঃপর তাঁর আদেশে তাদের হাত পা কেটে ফেলা হল। উত্তপ্ত শলাকা দিয়ে তাদের চোখ ফুটিয়ে দেয়া হল এবং গরম পাথুরে ভূমিতে তাদের নিক্ষেপ করা হল। তারা পানি চাইছিল, কিন্তু তাদেরকে পানি দেয়া হয়নি।

আবূ কিলাবাহ (রহমাহুল্লাহ) বলেন, এরা চুরি করেছিল, হত্যাকান্ড ঘটিয়েছিল, ঈমান আনার পর কুফরী করেছিল এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল।

অনুরূপ বর্ণনা : [১৫০১, ৩০১৮, ৪১৯২, ৪১৯৩, ৪৬১০, ৫৬৮৫, ৫৬৮৬, ৫৭২৭, ৬৮০২, ৬৮০৩, ৬৮০৪, ৬৮০৫, ৬৮৯৯; মুসলিম ২৮/২, হাঃ ১৬৭১, আহমাদ ১২৯৩৫] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৭, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২৩৩]

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৩৪

হাদিসের মান: সহীহ

٢٣٤ – حَدَّثَنَا آدَمُ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو التَّيَّاحِ يَزِيدُ بْنُ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ: «كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي، قَبْلَ أَنْ يُبْنَى المَسْجِدُ، فِي مَرَابِضِ الغَنَمِ»

আদম আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: শু’বাহ্‌ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তিনি বললেন: আবূত তায়্‌ইয়া‘হ্‌ ইব্‌ন ‘হুমায়্‌দ আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন আনাস (রাজিআল্লাহু ‘আনহু) থেকে, তিনি বলেনঃ মসজিদে নাবাবী নির্মিত হবার পূর্বে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বকরীর খোঁয়াড়ে সালাত আদায় করতেন।১

অনুরূপ বর্ণনা : [৪২৮, ৪২৯, ১৮৬৪, ২১০৬, ২৭৭১, ২৭৭৪, ২৭৭৯, ৩৯৩২; মুসলিম ৫/১, হাঃ ৫২৪, আহমাদ ১৩০১৭] [আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৮, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২৩৪]

ফুটনোটঃ
১. যে পশুর গোশত হালাল তার পেশাব ও গোবর অপবিত্র নয়।

١٦٢. ‌‌بَابُ مَا يَقَعُ مِنَ النَّجَاسَاتِ فِي السَّمْنِ وَالمَاءِ

وَقَالَ الزُّهْرِيُّ: «لَا بَأْسَ بِالْمَاءِ مَا لَمْ يُغَيِّرْهُ طَعْمٌ أَوْ رِيحٌ أَوْ لَوْنٌ» وَقَالَ حَمَّادٌ: «لَا بَأْسَ بِرِيشِ المَيْتَةِ» وَقَالَ الزُّهْرِيُّ: ” فِي عِظَامِ المَوْتَى، نَحْوَ الفِيلِ وَغَيْرِهِ: أَدْرَكْتُ نَاسًا مِنْ سَلَفِ العُلَمَاءِ، يَمْتَشِطُونَ بِهَا، وَيَدَّهِنُونَ فِيهَا، لَا يَرَوْنَ بِهِ بَأْسًا ” وَقَالَ ابْنُ سِيرِينَ وَإِبْرَاهِيمُ: «وَلَا بَأْسَ بِتِجَارَةِ العَاجِ»

১৬২. পরিচ্ছেদ : ঘি এবং পানিতে নাপাকী পড়া

যুহরী (রহমাহুল্লাহ) বলেন: পানিতে অপবিত্রতা পড়লে কোন ক্ষতি নেই, যতক্ষণ তার স্বাদ, গন্ধ বা রং বদলে না যায়। হাম্মাদ (রহমাহুল্লাহ) বলেন: মৃত (পাখির) পালক (পানিতে পড়লে) কোন দোষ নেই। যুহরী (রহমাহুল্লাহ) মৃত জন্তু, যথা : হাতী প্রভৃতির হাড় সম্পর্কে বলেনঃ আমি পূর্ববর্তী আলিমদের মধ্যে কিছু আলিমকে পেয়েছি, তাঁরা তা (চিরুনী বানিয়ে) চুল আঁচরাতেন এবং তার পাত্রে তেল রেখে ব্যবহার করতেন, এতে তাঁরা কোনরূপ দোষ মনে করতেন না। ইব্‌নু সীরীন (রহমাহুল্লাহ) ও ইবরাহীম (রহমাহুল্লাহ) বলেনঃ হাতীর দাঁতের ব্যবসায়ে কোন দোষ নেই।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৩৫

হাদিসের মান: সহীহ

٢٣٥ – حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ: حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ مَيْمُونَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: سُئِلَ عَنْ فَأْرَةٍ سَقَطَتْ فِي سَمْنٍ، فَقَالَ: «أَلْقُوهَا وَمَا حَوْلَهَا فَاطْرَحُوهُ، وَكُلُوا سَمْنَكُمْ»

ইস