Dawah wa Tablig Islamic Website

Help Line = Mob no. +8801783385346 :: Email Address = shalampb@gmail.com

Sura Fatir to Sur Fussilat

সূচী-পত্রে ফিরে যাও

35 নং সূরা – ফাতির – فَاطِر

মাক্বী – আয়াত সংখ্যা: 45
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

01 – ফাতির
ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ فَاطِرِ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ جَاعِلِ ٱلْمَلَٰٓئِكَةِ رُسُلًا أُوۡلِىٓ أَجْنِحَةٍ مَّثْنَىٰ وَثُلَٰثَ وَرُبَٰعَۚ يَزِيدُ فِى ٱلْخَلْقِ مَا يَشَآءُۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ
প্রশংসা আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা আল্লাহরই যিনি বাণীবাহক করেন মালাইকা/ফেরেশতাদেরকে যারা দুই দুই, তিন তিন অথবা চার চার পাখা বিশিষ্ট। তিনি তাঁর সৃষ্টিতে যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সর্ব শক্তিমান।
02 – ফাতির
مَّا يَفْتَحِ ٱللَّهُ لِلنَّاسِ مِن رَّحْمَةٍ فَلَا مُمْسِكَ لَهَاۖ وَمَا يُمْسِكْ فَلَا مُرْسِلَ لَهُۥ مِنۢ بَعْدِهِۦۚ وَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلْحَكِيمُ
আল্লাহ মানুষের প্রতি কোন অনুগ্রহ অবারিত করলে কেহ ওটা নিবারন করতে পারেনা এবং তিনি কিছু নিরুদ্ধ করতে চাইলে অতঃপর কেহ ওর উম্মুক্তকারী নেই। তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
03 – ফাতির
يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ ٱذْكُرُواۡ نِعْمَتَ ٱللَّهِ عَلَيْكُمْۚ هَلْ مِنْ خَٰلِقٍ غَيْرُ ٱللَّهِ يَرْزُقُكُم مِّنَ ٱلسَّمَآءِ وَٱلْأَرْضِۚ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَۖ فَأَنَّىٰ تُؤْفَكُونَ
হে মানুষ! তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ কর। আল্লাহ ছাড়া কি কোন স্রষ্টা আছে যে তোমাদেরকে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী হতে রিয্ক দান করে? তিনি ছাড়া কোন মা‘বূদ নেই। সুতরাং কোথায় তোমরা বিপথে চালিত হচ্ছ?
04 – ফাতির
وَإِن يُكَذِّبُوكَ فَقَدْ كُذِّبَتْ رُسُلٌ مِّن قَبْلِكَۚ وَإِلَى ٱللَّهِ تُرْجَعُ ٱلْأُمُورُ
তারা যদি তোমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করে তাহলে তোমার পূর্বেও রাসূলদের প্রতি মিথ্যা আরোপ করা হয়েছিল। আল্লাহর নিকটই সব কিছু প্রমাণিত হবে।
05 – ফাতির
يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ إِنَّ وَعْدَ ٱللَّهِ حَقٌّۖ فَلَا تَغُرَّنَّكُمُ ٱلْحَيَوٰةُ ٱلدُّنْيَاۖ وَلَا يَغُرَّنَّكُم بِٱللَّهِ ٱلْغَرُورُ
হে মানুষ! আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য; সুতরাং পার্থিব জীবন যেন তোমাদেরকে কিছুতেই প্রতারিত না করে এবং সেই প্রবঞ্চক যেন কিছুতেই আল্লাহ সম্পর্কে প্রবঞ্চিত না করে তোমাদেরকে।
06 – ফাতির
إِنَّ ٱلشَّيْطَٰنَ لَكُمْ عَدُوٌّ فَٱتَّخِذُوهُ عَدُوًّاۚ إِنَّمَا يَدْعُواۡ حِزْبَهُۥ لِيَكُونُواۡ مِنْ أَصْحَٰبِ ٱلسَّعِيرِ
শাইতান তোমাদের শত্রু; সুতরাং তাকে শত্রু হিসাবে গ্রহণ কর। সেতো তার দলবলকে আহবান করে শুধু এ জন্য যে, তারা যেন উত্তপ্ত জাহান্নামের সাথী হয়।
07 – ফাতির
ٱلَّذِينَ كَفَرُواۡ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌۖ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُواۡ وَعَمِلُواۡ ٱلصَّٰلِحَٰتِ لَهُم مَّغْفِرَةٌ وَأَجْرٌ كَبِيرٌ
যারা কুফরী করে তাদের জন্য আছে কঠিন শাস্তি, কিন্তু যারা ঈমান আনে ও সৎ কাজ করে তাদের জন্য আছে ক্ষমা ও মহা পুরস্কার।
08 – ফাতির
أَفَمَن زُيِّنَ لَهُۥ سُوٓءُ عَمَلِهِۦ فَرَءَاهُ حَسَنًاۖ فَإِنَّ ٱللَّهَ يُضِلُّ مَن يَشَآءُ وَيَهْدِى مَن يَشَآءُۖ فَلَا تَذْهَبْ نَفْسُكَ عَلَيْهِمْ حَسَرَٰتٍۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَلِيمٌۢ بِمَا يَصْنَعُونَ
কেহকেও যদি তার মন্দ কাজ শোভন করে দেখানো হয় এবং সে ওটাকে উত্তম মনে করে সেই ব্যক্তি কি তার সমান যে সৎ কাজ করে? আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা সৎ পথে পরিচালিত করেন। অতএব তুমি তাদের জন্য আক্ষেপ করে তোমার প্রাণকে ধ্বংস করনা। তারা যা করে আল্লাহ তা জানেন।
09 – ফাতির
وَٱللَّهُ ٱلَّذِىٓ أَرْسَلَ ٱلرِّيَٰحَ فَتُثِيرُ سَحَابًا فَسُقْنَٰهُ إِلَىٰ بَلَدٍ مَّيِّتٍ فَأَحْيَيْنَا بِهِ ٱلْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَاۚ كَذَٰلِكَ ٱلنُّشُورُ
আল্লাহই বায়ু প্রেরণ করে তা দ্বারা মেঘমালা সঞ্চালিত করেন। অতঃপর আমি তা নির্জীব ভূ-খন্ডের দিকে পরিচালিত করি, অতঃপর আমি ওটা দ্বারা ধরিত্রীকে ওর মৃত্যুর পর সঞ্জীবিত করি। পুনরুত্থান এ রূপেই হবে।
10 – ফাতির
مَن كَانَ يُرِيدُ ٱلْعِزَّةَ فَلِلَّهِ ٱلْعِزَّةُ جَمِيعًاۚ إِلَيْهِ يَصْعَدُ ٱلْكَلِمُ ٱلطَّيِّبُ وَٱلْعَمَلُ ٱلصَّٰلِحُ يَرْفَعُهُۥۚ وَٱلَّذِينَ يَمْكُرُونَ ٱلسَّيِّـَٔاتِ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌۖ وَمَكْرُ أُوۡلَٰٓئِكَ هُوَ يَبُورُ
কেহ ক্ষমতা চাইলে সে জেনে রাখুক যে, সমস্ত ক্ষমতাতো আল্লাহরই। তাঁরই দিকে পবিত্র বাণীসমূহ আরোহণ করে এবং সৎ কাজ ওকে উন্নীত করে, আর যারা মন্দ কর্মের ফন্দি আটে তাদের জন্য আছে কঠিন শাস্তি। তাদের ফন্দি ব্যর্থ হবেই।
11 – ফাতির
وَٱللَّهُ خَلَقَكُم مِّن تُرَابٍ ثُمَّ مِن نُّطْفَةٍ ثُمَّ جَعَلَكُمْ أَزْوَٰجًاۚ وَمَا تَحْمِلُ مِنْ أُنثَىٰ وَلَا تَضَعُ إِلَّا بِعِلْمِهِۦۚ وَمَا يُعَمَّرُ مِن مُّعَمَّرٍ وَلَا يُنقَصُ مِنْ عُمُرِهِۦٓ إِلَّا فِى كِتَٰبٍۚ إِنَّ ذَٰلِكَ عَلَى ٱللَّهِ يَسِيرٌ
আল্লাহ তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন মাটি হতে; অতঃপর শুক্র বিন্দু হতে, অতঃপর তোমাদেরকে করেছেন যুগল! আল্লাহর অজ্ঞাতসারে কোন নারী গর্ভ ধারণ করেনা এবং প্রসবও করেনা; কোন দীর্ঘায়ু ব্যক্তির আয়ু বৃদ্ধি করা হয়না অথবা তার আয়ু হ্রাস করা হয়না। কিন্তু তাতো রয়েছে কিতাবে। এটা আল্লাহর জন্য সহজ।
12 – ফাতির
وَمَا يَسْتَوِى ٱلْبَحْرَانِ هَٰذَا عَذْبٌ فُرَاتٌ سَآئِغٌ شَرَابُهُۥ وَهَٰذَا مِلْحٌ أُجَاجٌۖ وَمِن كُلٍّ تَأْكُلُونَ لَحْمًا طَرِيًّا وَتَسْتَخْرِجُونَ حِلْيَةً تَلْبَسُونَهَاۖ وَتَرَى ٱلْفُلْكَ فِيهِ مَوَاخِرَ لِتَبْتَغُواۡ مِن فَضْلِهِۦ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ
দু’টি দরিয়া একরূপ নয়; একটির পানি সুমিষ্ট ও সুপেয়, অপরটির পানি লোনা, খর। প্রত্যেকটি হতে তোমরা তাজা গোশত আহার কর এবং অলংকার যা তোমরা পরিধান কর, এবং রত্নাবলী আহরণ কর এবং তোমরা দেখ যে, ওর বুক চিরে নৌযান চলাচল করে যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ অনুসন্ধান করতে পার এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হও।
13 – ফাতির
يُولِجُ ٱلَّيْلَ فِى ٱلنَّهَارِ وَيُولِجُ ٱلنَّهَارَ فِى ٱلَّيْلِ وَسَخَّرَ ٱلشَّمْسَ وَٱلْقَمَرَ كُلٌّ يَجْرِى لِأَجَلٍ مُّسَمًّىۚ ذَٰلِكُمُ ٱللَّهُ رَبُّكُمْ لَهُ ٱلْمُلْكُۚ وَٱلَّذِينَ تَدْعُونَ مِن دُونِهِۦ مَا يَمْلِكُونَ مِن قِطْمِيرٍ
তিনি রাতকে দিনে প্রবেশ করান এবং দিনকে প্রবেশ করান রাতে। তিনি সূর্য ও চাঁদকে করেছেন নিয়ন্ত্রিত; প্রত্যেকে পরিভ্রমণ করে এক নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত। তিনিই আল্লাহ! তোমাদের রাবব! সার্বভৌমত্ব তাঁরই। আর তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে ডাক তারাতো খেজুর বীচির আবরণেরও অধিকারী নয়।
14 – ফাতির
إِن تَدْعُوهُمْ لَا يَسْمَعُواۡ دُعَآءَكُمْ وَلَوْ سَمِعُواۡ مَا ٱسْتَجَابُواۡ لَكُمْۖ وَيَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ يَكْفُرُونَ بِشِرْكِكُمْۚ وَلَا يُنَبِّئُكَ مِثْلُ خَبِيرٍ
তোমরা তাদেরকে আহবান করলে তারা তোমাদের আহবান শুনবেনা এবং শুনলেও তোমাদের আহবানে সাড়া দিবেনা। তোমরা তাদেরকে যে শরীক করছ তা তারা কিয়ামাত দিবসে অস্বীকার করবে। তাঁর মত কেহই তোমাকে অবহিত করতে পারেনা, তিনি সর্বজ্ঞ।
15 – ফাতির
يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ أَنتُمُ ٱلْفُقَرَآءُ إِلَى ٱللَّهِۖ وَٱللَّهُ هُوَ ٱلْغَنِىُّ ٱلْحَمِيدُ
হে লোক সকল! তোমরাতো আল্লাহর মুখাপেক্ষী, কিন্তু আল্লাহ অভাবমুক্ত, প্রশংসা।
16 – ফাতির
إِن يَشَأْ يُذْهِبْكُمْ وَيَأْتِ بِخَلْقٍ جَدِيدٍ
তিনি ইচ্ছা করলে তোমাদেরকে অপসারণ করতে পারেন এবং এক নূতন সৃষ্টি আনয়ন করতে পারেন।
17 – ফাতির
وَمَا ذَٰلِكَ عَلَى ٱللَّهِ بِعَزِيزٍ
এটা আল্লাহর পক্ষে কঠিন নয়।
18 – ফাতির
وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَىٰۚ وَإِن تَدْعُ مُثْقَلَةٌ إِلَىٰ حِمْلِهَا لَا يُحْمَلْ مِنْهُ شَىْءٌ وَلَوْ كَانَ ذَا قُرْبَىٰٓۗ إِنَّمَا تُنذِرُ ٱلَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُم بِٱلْغَيْبِ وَأَقَامُواۡ ٱلصَّلَوٰةَۚ وَمَن تَزَكَّىٰ فَإِنَّمَا يَتَزَكَّىٰ لِنَفْسِهِۦۚ وَإِلَى ٱللَّهِ ٱلْمَصِيرُ
কোন বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবেনা, কোন ভারাক্রান্ত ব্যক্তি যদি কেহকেও এটা বহন করতে আহবান করে তাহলে তার কিছুই বহন করা হবেনা, নিকট আত্মীয় হলেও। তুমি শুধু সতর্ক করতে পার তাদেরকে যারা তাদের রাববকে না দেখে ভয় করে এবং সালাত কায়েম করে। যে কেহ নিজেকে পরিশোধন করে সেতো পরিশোধন করে নিজেরই কল্যাণের জন্য। প্রত্যাবর্তনতো আল্লাহরই নিকট।
19 – ফাতির
وَمَا يَسْتَوِى ٱلْأَعْمَىٰ وَٱلْبَصِيرُ
সমান নয় অন্ধ ও চক্ষুম্মান,
20 – ফাতির
وَلَا ٱلظُّلُمَٰتُ وَلَا ٱلنُّورُ
অন্ধকার ও আলো,
21 – ফাতির
وَلَا ٱلظِّلُّ وَلَا ٱلْحَرُورُ
ছায়া ও রোদ,
22 – ফাতির
وَمَا يَسْتَوِى ٱلْأَحْيَآءُ وَلَا ٱلْأَمْوَٰتُۚ إِنَّ ٱللَّهَ يُسْمِعُ مَن يَشَآءُۖ وَمَآ أَنتَ بِمُسْمِعٍ مَّن فِى ٱلْقُبُورِ
আর সমান নয় জীবিত ও মৃত। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা শ্রবণ করান। তুমি শোনাতে সমর্থ হবেনা যারা কাবরে রয়েছে তাদেরকে।
23 – ফাতির
إِنْ أَنتَ إِلَّا نَذِيرٌ
তুমি একজন সতর্ককারী মাত্র।
24 – ফাতির
إِنَّآ أَرْسَلْنَٰكَ بِٱلْحَقِّ بَشِيرًا وَنَذِيرًاۚ وَإِن مِّنْ أُمَّةٍ إِلَّا خَلَا فِيهَا نَذِيرٌ
আমি তোমাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছি সুসংবাদ দাতা ও সতর্ককারী রূপে; এমন কোন সম্প্রদায় নেই যার নিকট সতর্ককারী প্রেরিত হয়নি।
25 – ফাতির
وَإِن يُكَذِّبُوكَ فَقَدْ كَذَّبَ ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ جَآءَتْهُمْ رُسُلُهُم بِٱلْبَيِّنَٰتِ وَبِٱلزُّبُرِ وَبِٱلْكِتَٰبِ ٱلْمُنِيرِ
তারা যদি তোমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করে তাহলে তাদের পূর্ববর্তীরাও মিথ্যা আরোপ করেছিল; তাদের নিকট এসেছিল তাদের রাসূলগণ সুস্পষ্ট নিদর্শন, গ্রন্থাদি ও দীপ্তিমান কিতাবসহ।
26 – ফাতির
ثُمَّ أَخَذْتُ ٱلَّذِينَ كَفَرُواۡۖ فَكَيْفَ كَانَ نَكِيرِ
অতঃপর আমি কাফিরদেরকে শাস্তি দিয়েছিলাম। কি ভয়ংকর আমার শাস্তি!
27 – ফাতির
أَلَمْ تَرَ أَنَّ ٱللَّهَ أَنزَلَ مِنَ ٱلسَّمَآءِ مَآءً فَأَخْرَجْنَا بِهِۦ ثَمَرَٰتٍ مُّخْتَلِفًا أَلْوَٰنُهَاۚ وَمِنَ ٱلْجِبَالِ جُدَدٌۢ بِيضٌ وَحُمْرٌ مُّخْتَلِفٌ أَلْوَٰنُهَا وَغَرَابِيبُ سُودٌ
তুমি কি দেখনা যে, আল্লাহ আকাশ হতে বৃষ্টি বর্ষন করেন এবং উহা দ্বারা আমি বিচিত্র বর্ণের ফলমূল উদ্গত করি? পাহাড়ের মধ্যে আছে বিচিত্র বর্ণের ফল – শুভ্র, লাল ও নিকষ কালো।
28 – ফাতির
وَمِنَ ٱلنَّاسِ وَٱلدَّوَآبِّ وَٱلْأَنْعَٰمِ مُخْتَلِفٌ أَلْوَٰنُهُۥ كَذَٰلِكَۗ إِنَّمَا يَخْشَى ٱللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ ٱلْعُلَمَٰٓؤُاۡۗ إِنَّ ٱللَّهَ عَزِيزٌ غَفُورٌ
এভাবে রং বেরংয়ের মানুষ, জানোয়ার ও চতুস্পদ জন্তু রয়েছে। আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে যারা জ্ঞানী তারাই তাঁকে ভয় করে; আল্লাহ পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল।
29 – ফাতির
إِنَّ ٱلَّذِينَ يَتْلُونَ كِتَٰبَ ٱللَّهِ وَأَقَامُواۡ ٱلصَّلَوٰةَ وَأَنفَقُواۡ مِمَّا رَزَقْنَٰهُمْ سِرًّا وَعَلَانِيَةً يَرْجُونَ تِجَٰرَةً لَّن تَبُورَ
যারা আল্লাহর কিতাব পাঠ করে, সালাত কায়েম করে, আমি তাদেরকে যে রিয্ক দিয়েছি তা গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তারাই আশা করতে পারে তাদের এমন ব্যবসায়ের যার ক্ষয় নেই –
30 – ফাতির
لِيُوَفِّيَهُمْ أُجُورَهُمْ وَيَزِيدَهُم مِّن فَضْلِهِۦٓۚ إِنَّهُۥ غَفُورٌ شَكُورٌ
এ জন্য যে, আল্লাহ তাদের কর্মের পূর্ণ প্রতিফল দিবেন এবং নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে আরো বেশি দিবেন। তিনিতো ক্ষমাশীল, গুণগ্রাহী।
31 – ফাতির
وَٱلَّذِىٓ أَوْحَيْنَآ إِلَيْكَ مِنَ ٱلْكِتَٰبِ هُوَ ٱلْحَقُّ مُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِۗ إِنَّ ٱللَّهَ بِعِبَادِهِۦ لَخَبِيرٌۢ بَصِيرٌ
আমি তোমার প্রতি যে কিতাব অবতীর্ণ করেছি তা সত্য। এটা পূর্ববর্তী কিতাবের সমর্থক। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের সব কিছু জানেন ও দেখেন।
32 – ফাতির
ثُمَّ أَوْرَثْنَا ٱلْكِتَٰبَ ٱلَّذِينَ ٱصْطَفَيْنَا مِنْ عِبَادِنَاۖ فَمِنْهُمْ ظَالِمٌ لِّنَفْسِهِۦ وَمِنْهُم مُّقْتَصِدٌ وَمِنْهُمْ سَابِقٌۢ بِٱلْخَيْرَٰتِ بِإِذْنِ ٱللَّهِۚ ذَٰلِكَ هُوَ ٱلْفَضْلُ ٱلْكَبِيرُ
অতঃপর আমি কিতাবের অধিকারী করলাম আমার বান্দাদের মধ্যে তাদেরকে যাদেরকে আমি মনোনীত করেছি; তবে তাদের কেহ নিজের প্রতি অত্যাচারী, কেহ মধ্য পন্থী এবং কেহ আল্লাহর ইচ্ছায় কল্যাণের কাজে অগ্রগামী। এটাই মহা অনুগ্রহ।
33 – ফাতির
جَنَّٰتُ عَدْنٍ يَدْخُلُونَهَا يُحَلَّوْنَ فِيهَا مِنْ أَسَاوِرَ مِن ذَهَبٍ وَلُؤْلُؤًاۖ وَلِبَاسُهُمْ فِيهَا حَرِيرٌ
তারা প্রবেশ করবে স্থায়ী জান্নাতে, সেখানে তাদেরকে স্বর্ণ নির্মিত কংকন ও মুক্তা দ্বারা অলংকৃত করা হবে এবং সেখানে তাদের পোশাক পরিচ্ছদ হবে রেশমের।
34 – ফাতির
وَقَالُواۡ ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ ٱلَّذِىٓ أَذْهَبَ عَنَّا ٱلْحَزَنَۖ إِنَّ رَبَّنَا لَغَفُورٌ شَكُورٌ
এবং তারা বলবেঃ প্রশংসা আল্লাহর যিনি আমাদের দুঃখ দুর্দশা দূরীভূত করেছেন! আমাদের রাববতো ক্ষমাশীল, গুণগ্রাহী।
35 – ফাতির
ٱلَّذِىٓ أَحَلَّنَا دَارَ ٱلْمُقَامَةِ مِن فَضْلِهِۦ لَا يَمَسُّنَا فِيهَا نَصَبٌ وَلَا يَمَسُّنَا فِيهَا لُغُوبٌ
যিনি নিজ অনুগ্রহে আমাদেরকে স্থায়ী আবাস দিয়েছেন, যেখানে ক্লেশ আমাদেরকে স্পর্শ করে না। এবং ক্লান্তিও স্পর্শ করে না।
36 – ফাতির
وَٱلَّذِينَ كَفَرُواۡ لَهُمْ نَارُ جَهَنَّمَ لَا يُقْضَىٰ عَلَيْهِمْ فَيَمُوتُواۡ وَلَا يُخَفَّفُ عَنْهُم مِّنْ عَذَابِهَاۚ كَذَٰلِكَ نَجْزِى كُلَّ كَفُورٍ
কিন্তু যারা কুফরী করে তাদের জন্য আছে জাহান্নামের আগুন। তাদের মৃত্যুর আদেশ দেয়া হবেনা যে, তারা মরবে এবং তাদের জন্য জাহান্নামের শাস্তিও লাঘব করা হবেনা। এভাবে আমি প্রত্যেক অকৃতজ্ঞকে শাস্তি দিয়ে থাকি।
37 – ফাতির
وَهُمْ يَصْطَرِخُونَ فِيهَا رَبَّنَآ أَخْرِجْنَا نَعْمَلْ صَٰلِحًا غَيْرَ ٱلَّذِى كُنَّا نَعْمَلُۚ أَوَلَمْ نُعَمِّرْكُم مَّا يَتَذَكَّرُ فِيهِ مَن تَذَكَّرَ وَجَآءَكُمُ ٱلنَّذِيرُۖ فَذُوقُواۡ فَمَا لِلظَّٰلِمِينَ مِن نَّصِيرٍ
সেখানে তারা আর্তনাদ করে বলবেঃ হে আমাদের রাবব! আমাদেরকে নিস্কৃতি দিন, আমরা সৎ কাজ করব, পূর্বে যা করতাম তা করবনা। আল্লাহ বলবেনঃ আমি কি তোমাদেরকে এত দীর্ঘ জীবন দান করিনি যে, তখন কেহ সতর্ক হতে চাইলে সতর্ক হতে পারতে? তোমাদের নিকটতো সতর্ককারীরাও এসেছিল। সুতরাং শাস্তি আস্বাদন কর; যালিমদের কোন সাহায্যকারী নেই।
38 – ফাতির
إِنَّ ٱللَّهَ عَٰلِمُ غَيْبِ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِۚ إِنَّهُۥ عَلِيمٌۢ بِذَاتِ ٱلصُّدُورِ
আল্লাহ আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর অদৃশ্য বিষয় অবগত আছেন। অন্তরে যা রয়েছে সে সম্বন্ধে তিনি সবিশেষ অবহিত।
39 – ফাতির
هُوَ ٱلَّذِى جَعَلَكُمْ خَلَٰٓئِفَ فِى ٱلْأَرْضِۚ فَمَن كَفَرَ فَعَلَيْهِ كُفْرُهُۥۖ وَلَا يَزِيدُ ٱلْكَٰفِرِينَ كُفْرُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ إِلَّا مَقْتًاۖ وَلَا يَزِيدُ ٱلْكَٰفِرِينَ كُفْرُهُمْ إِلَّا خَسَارًا
তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করেছেন। সুতরাং কেহ কুফরী করলে তার কুফরীর জন্য সে নিজেই দায়ী হবে। কাফিরদের কুফরী শুধু তাদের রবের ক্রোধই বৃদ্ধি করে এবং কাফিরদের কুফরী তাদের ক্ষতিই বৃদ্ধি করে।
40 – ফাতির
قُلْ أَرَءَيْتُمْ شُرَكَآءَكُمُ ٱلَّذِينَ تَدْعُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ أَرُونِى مَاذَا خَلَقُواۡ مِنَ ٱلْأَرْضِ أَمْ لَهُمْ شِرْكٌ فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ أَمْ ءَاتَيْنَٰهُمْ كِتَٰبًا فَهُمْ عَلَىٰ بَيِّنَتٍ مِّنْهُۚ بَلْ إِن يَعِدُ ٱلظَّٰلِمُونَ بَعْضُهُم بَعْضًا إِلَّا غُرُورًا
বলঃ তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে ডাক সেসব দেবদেবীর কথা ভেবে দেখেছ কি? তারা পৃথিবীতে কিছু সৃষ্টি করে থাকলে আমাকে দেখাও; অথবা আকাশমন্ডলী সৃষ্টিতে তাদের কোন অংশ আছে কি? না কি আমি তাদেরকে এমন কোন কিতাব দিয়েছি যার প্রমাণের উপর এরা নির্ভর করে? বস্তুতঃ যালিমরা একে অপরকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকে।
41 – ফাতির
إِنَّ ٱللَّهَ يُمْسِكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ أَن تَزُولَاۚ وَلَئِن زَالَتَآ إِنْ أَمْسَكَهُمَا مِنْ أَحَدٍ مِّنۢ بَعْدِهِۦٓۚ إِنَّهُۥ كَانَ حَلِيمًا غَفُورًا
আল্লাহ আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীকে সংরক্ষণ করেন যাতে ওরা স্থানচ্যূত না হয়, ওরা স্থানচ্যূত হলে তিনি ব্যতীত কে ওদেরকে সংরক্ষণ করবে? তিনি অতি সহনশীল, ক্ষমাপরায়ণ।
42 – ফাতির
وَأَقْسَمُواۡ بِٱللَّهِ جَهْدَ أَيْمَٰنِهِمْ لَئِن جَآءَهُمْ نَذِيرٌ لَّيَكُونُنَّ أَهْدَىٰ مِنْ إِحْدَى ٱلْأُمَمِۖ فَلَمَّا جَآءَهُمْ نَذِيرٌ مَّا زَادَهُمْ إِلَّا نُفُورًا
তারা দৃঢ়তার সাথে আল্লাহর শপথ করে বলত যে, তাদের নিকট কোন সতর্ককারী এলে তারা অন্য সব সম্প্রদায় অপেক্ষা সৎ পথের অধিকতর অনুসারী হবে। কিন্তু তাদের নিকট যখন সতর্ককারী এলো তখন তারা শুধু তাদের বিমুখতাই বৃদ্ধি করল –
43 – ফাতির
ٱسْتِكْبَارًا فِى ٱلْأَرْضِ وَمَكْرَ ٱلسَّيِّئِۚ وَلَا يَحِيقُ ٱلْمَكْرُ ٱلسَّيِّئُ إِلَّا بِأَهْلِهِۦۚ فَهَلْ يَنظُرُونَ إِلَّا سُنَّتَ ٱلْأَوَّلِينَۚ فَلَن تَجِدَ لِسُنَّتِ ٱللَّهِ تَبْدِيلًاۖ وَلَن تَجِدَ لِسُنَّتِ ٱللَّهِ تَحْوِيلًا
পৃথিবীতে ঔদ্ধত্য প্রকাশ এবং কূট ষড়যন্ত্রের কারণে। কূট ষড়যন্ত্র ওর উদ্যোক্তাদেরকেই পরিবেষ্টন করে। তাহলে কি তারা প্রতীক্ষা করছে পূর্ববর্তীদের প্রতি প্রযুক্ত বিধানের? কিন্তু তুমি আল্লাহর বিধানের কখনও কোন পরিবর্তন পাবেনা এবং আল্লাহর বিধানের কোন ব্যতিক্রমও দেখবেনা।
44 – ফাতির
أَوَلَمْ يَسِيرُواۡ فِى ٱلْأَرْضِ فَيَنظُرُواۡ كَيْفَ كَانَ عَٰقِبَةُ ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ وَكَانُوٓاۡ أَشَدَّ مِنْهُمْ قُوَّةًۚ وَمَا كَانَ ٱللَّهُ لِيُعْجِزَهُۥ مِن شَىْءٍ فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَلَا فِى ٱلْأَرْضِۚ إِنَّهُۥ كَانَ عَلِيمًا قَدِيرًا
তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করেনি? তাহলে তাদের পূর্ববর্তীদের পরিণাম কি হয়েছিল তা দেখতে পেত। তারাতো এদের অপেক্ষা অধিকতর শক্তিশালী ছিল। আল্লাহ এমন নন যে, আকাশমন্ডলী এবং পৃথিবীর কোন কিছুই তাঁকে অক্ষম করতে পারে; তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।
45 – ফাতির
وَلَوْ يُؤَاخِذُ ٱللَّهُ ٱلنَّاسَ بِمَا كَسَبُواۡ مَا تَرَكَ عَلَىٰ ظَهْرِهَا مِن دَآبَّةٍ وَلَٰكِن يُؤَخِّرُهُمْ إِلَىٰٓ أَجَلٍ مُّسَمًّىۖ فَإِذَا جَآءَ أَجَلُهُمْ فَإِنَّ ٱللَّهَ كَانَ بِعِبَادِهِۦ بَصِيرًۢا
আল্লাহ মানুষকে তাদের কৃতকর্মের জন্য শাস্তি দিলে ভূপৃষ্ঠের কোন জীব জন্তুকেই রেহাই দিতেনন।, কিন্তু তিনি এক নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত তাদেরকে অবকাশ দিয়ে থাকেন। অতঃপর তাদের নির্দিষ্ট কাল এসে গেলে আল্লাহ হবেন তাঁর বান্দাদের সম্যক দ্রষ্টা।

36 নং সূরা – ইয়াসীন – يس

মাক্বী – আয়াত সংখ্যা: 83
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

01 – ইয়াসীন
يسٓ
ইয়া সীন।
02 – ইয়াসীন
وَٱلْقُرْءَانِ ٱلْحَكِيمِ
শপথ জ্ঞানগর্ভ কুরআনের।
03 – ইয়াসীন
إِنَّكَ لَمِنَ ٱلْمُرْسَلِينَ
তুমি অবশ্যই রাসূলদের অন্তর্ভুক্ত।
04 – ইয়াসীন
عَلَىٰ صِرَٰطٍ مُّسْتَقِيمٍ
তুমি সরল পথে প্রতিষ্ঠিত।
05 – ইয়াসীন
تَنزِيلَ ٱلْعَزِيزِ ٱلرَّحِيمِ
কুরআন অবতীর্ণ পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু আল্লাহর নিকট হতে।
06 – ইয়াসীন
لِتُنذِرَ قَوْمًا مَّآ أُنذِرَ ءَابَآؤُهُمْ فَهُمْ غَٰفِلُونَ
যাতে তুমি সতর্ক করতে পার এমন এক জাতিকে যাদের পিতৃ-পুরুষদেরকে সতর্ক করা হয়নি, যার ফলে তারা গাফিল।
07 – ইয়াসীন
لَقَدْ حَقَّ ٱلْقَوْلُ عَلَىٰٓ أَكْثَرِهِمْ فَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ
তাদের অধিকাংশের জন্য সেই বাণী অবধারিত হয়েছে; সুতরাং তারা ঈমান আনবেনা।
08 – ইয়াসীন
إِنَّا جَعَلْنَا فِىٓ أَعْنَٰقِهِمْ أَغْلَٰلًا فَهِىَ إِلَى ٱلْأَذْقَانِ فَهُم مُّقْمَحُونَ
আমি তাদের গলদেশে চিবুক পর্যন্ত বেড়ি পরিয়েছি, ফলে তারা উর্ধ্বমুখী হয়ে গেছে।
09 – ইয়াসীন
وَجَعَلْنَا مِنۢ بَيْنِ أَيْدِيهِمْ سَدًّا وَمِنْ خَلْفِهِمْ سَدًّا فَأَغْشَيْنَٰهُمْ فَهُمْ لَا يُبْصِرُونَ
আমি তাদের সম্মুখে প্রাচীর ও পশ্চাতে প্রাচীর স্থাপন করেছি এবং তাদেরকে আবৃত করেছি, ফলে তারা দেখতে পায়না।
10 – ইয়াসীন
وَسَوَآءٌ عَلَيْهِمْ ءَأَنذَرْتَهُمْ أَمْ لَمْ تُنذِرْهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ
তুমি তাদেরকে সতর্ক কর কিংবা না কর তাদের জন্য উভয়ই সমান; তারা ঈমান আনবেনা।
11 – ইয়াসীন
إِنَّمَا تُنذِرُ مَنِ ٱتَّبَعَ ٱلذِّكْرَ وَخَشِىَ ٱلرَّحْمَٰنَ بِٱلْغَيْبِۖ فَبَشِّرْهُ بِمَغْفِرَةٍ وَأَجْرٍ كَرِيمٍ
তুমি শুধু তাদেরকেই সতর্ক করতে পার যারা উপদেশ মেনে চলে এবং না দেখে দয়াময় রাহমানকে ভয় করে। অতএব তুমি তাদেরকে ক্ষমা ও মহা পুরস্কারের সংবাদ দাও।
12 – ইয়াসীন
إِنَّا نَحْنُ نُحْىِ ٱلْمَوْتَىٰ وَنَكْتُبُ مَا قَدَّمُواۡ وَءَاثَٰرَهُمْۚ وَكُلَّ شَىْءٍ أَحْصَيْنَٰهُ فِىٓ إِمَامٍ مُّبِينٍ
আমিই মৃতকে করি জীবিত এবং লিখে রাখি যা তারা অগ্রে প্রেরণ করে এবং যা তারা পশ্চাতে রেখে যায়, আমি প্রত্যেক বিষয়কে স্পষ্ট কিতাবে সংরক্ষিত রেখেছি।
13 – ইয়াসীন
وَٱضْرِبْ لَهُم مَّثَلًا أَصْحَٰبَ ٱلْقَرْيَةِ إِذْ جَآءَهَا ٱلْمُرْسَلُونَ
তাদের নিকট উপস্থিত কর এক জনপদের অধিবাসীদের দৃষ্টান্ত; তাদের নিকট এসেছিল রাসূলগণ।
14 – ইয়াসীন
إِذْ أَرْسَلْنَآ إِلَيْهِمُ ٱثْنَيْنِ فَكَذَّبُوهُمَا فَعَزَّزْنَا بِثَالِثٍ فَقَالُوٓاۡ إِنَّآ إِلَيْكُم مُّرْسَلُونَ
যখন আমি তাদের নিকট পাঠিয়েছিলাম দু’জন রাসূল, কিন্তু তারা তাদেরকে মিথ্যাবাদী বলল; তখন আমি তাদেরকে শক্তিশালী করেছিলাম তৃতীয় একজন দ্বারা এবং তারা বলেছিলঃ আমরাতো তোমাদের নিকট প্রেরিত হয়েছি।
15 – ইয়াসীন
قَالُواۡ مَآ أَنتُمْ إِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُنَا وَمَآ أَنزَلَ ٱلرَّحْمَٰنُ مِن شَىْءٍ إِنْ أَنتُمْ إِلَّا تَكْذِبُونَ
তারা বললঃ তোমরাতো আমাদের মত মানুষ, দয়াময় কিছুই অবতীর্ণ করেননি, তোমরা শুধু মিথ্যাই বলছ।
16 – ইয়াসীন
قَالُواۡ رَبُّنَا يَعْلَمُ إِنَّآ إِلَيْكُمْ لَمُرْسَلُونَ
তারা বললঃ আমাদের রাব্ব জানেন যে, আমরা অবশ্যই তোমাদের নিকট প্রেরিত হয়েছি।
17 – ইয়াসীন
وَمَا عَلَيْنَآ إِلَّا ٱلْبَلَٰغُ ٱلْمُبِينُ
স্পষ্টভাবে প্রচার করাই আমাদের দায়িত্ব।
18 – ইয়াসীন
قَالُوٓاۡ إِنَّا تَطَيَّرْنَا بِكُمْۖ لَئِن لَّمْ تَنتَهُواۡ لَنَرْجُمَنَّكُمْ وَلَيَمَسَّنَّكُم مِّنَّا عَذَابٌ أَلِيمٌ
তারা বললঃ আমরা তোমাদেরকে অমঙ্গলের কারণ মনে করি। যদি তোমরা বিরত না হও তাহলে তোমাদেরকে অবশ্যই প্রস্তরাঘাতে হত্যা করব এবং আমাদের পক্ষ হতে তোমাদের উপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি অবশ্যই আপতিত হবে।
19 – ইয়াসীন
قَالُواۡ طَٰٓئِرُكُم مَّعَكُمْۚ أَئِن ذُكِّرْتُمۚ بَلْ أَنتُمْ قَوْمٌ مُّسْرِفُونَ
তারা বললঃ তোমাদের অমঙ্গল তোমাদেরই সাথে, এটা কি এ জন্য যে, আমরা তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছি? বস্তুতঃ তোমরা এক সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়।
20 – ইয়াসীন
وَجَآءَ مِنْ أَقْصَا ٱلْمَدِينَةِ رَجُلٌ يَسْعَىٰ قَالَ يَٰقَوْمِ ٱتَّبِعُواۡ ٱلْمُرْسَلِينَ
নগরীর প্রান্ত হতে এক ব্যক্তি ছুটে এলো, সে বললঃ হে আমার সম্প্রদায়! রাসূলদের অনুসরণ কর।
21 – ইয়াসীন
ٱتَّبِعُواۡ مَن لَّا يَسْـَٔلُكُمْ أَجْرًا وَهُم مُّهْتَدُونَ
অনুসরণ কর তাদের যারা তোমাদের নিকট কোন প্রতিদান চায়না এবং তারা সৎ পথপ্রাপ্ত।
22 – ইয়াসীন
وَمَا لِىَ لَآ أَعْبُدُ ٱلَّذِى فَطَرَنِى وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ
আমার কি যুক্তি আছে যে, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং যাঁর নিকট তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে আমি তাঁর ইবাদাত করবনা?
23 – ইয়াসীন
ءَأَتَّخِذُ مِن دُونِهِۦٓ ءَالِهَةً إِن يُرِدْنِ ٱلرَّحْمَٰنُ بِضُرٍّ لَّا تُغْنِ عَنِّى شَفَٰعَتُهُمْ شَيْـًٔا وَلَا يُنقِذُونِ
আমি কি তাঁর পরিবর্তে অন্য মা‘বূদ গ্রহণ করব? দয়াময় (আল্লাহ) আমাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাইলে তাদের সুপারিশ আমার কোন কাজে আসবেনা এবং তারা আমাকে উদ্ধারও করতে পারবেনা।
24 – ইয়াসীন
إِنِّىٓ إِذًا لَّفِى ضَلَٰلٍ مُّبِينٍ
এরূপ করলে আমি অবশ্যই স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে পতিত হব।
25 – ইয়াসীন
إِنِّىٓ ءَامَنتُ بِرَبِّكُمْ فَٱسْمَعُونِ
আমিতো তোমাদের রবের উপর ঈমান এনেছি, অতএব তোমরা আমার কথা শোন।
26 – ইয়াসীন
قِيلَ ٱدْخُلِ ٱلْجَنَّةَۖ قَالَ يَٰلَيْتَ قَوْمِى يَعْلَمُونَ
তাকে বলা হলঃ জান্নাতে প্রবেশ কর। সে বলে উঠলঃ হায়! আমার সম্প্রদায় যদি জানতে পারত –
27 – ইয়াসীন
بِمَا غَفَرَ لِى رَبِّى وَجَعَلَنِى مِنَ ٱلْمُكْرَمِينَ
কি কারণে আমার রাব্ব আমাকে ক্ষমা করেছেন এবং সম্মানিত করেছেন।
28 – ইয়াসীন
وَمَآ أَنزَلْنَا عَلَىٰ قَوْمِهِۦ مِنۢ بَعْدِهِۦ مِن جُندٍ مِّنَ ٱلسَّمَآءِ وَمَا كُنَّا مُنزِلِينَ
আমি তার মৃত্যুর পর তার সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আকাশ হতে কোন বাহিনী প্রেরণ করিনি এবং প্রেরণের প্রয়োজনও ছিলনা।
29 – ইয়াসীন
إِن كَانَتْ إِلَّا صَيْحَةً وَٰحِدَةً فَإِذَا هُمْ خَٰمِدُونَ
ওটা ছিল শুধুমাত্র এক মহানাদ। ফলে তারা নিথর নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
30 – ইয়াসীন
يَٰحَسْرَةً عَلَى ٱلْعِبَادِۚ مَا يَأْتِيهِم مِّن رَّسُولٍ إِلَّا كَانُواۡ بِهِۦ يَسْتَهْزِءُونَ
পরিতাপ বান্দাদের জন্য! তাদের নিকট যখনই কোন রাসূল এসেছে তখনই তারা তাকে ঠাট্টা বিদ্রুপ করেছে।
31 – ইয়াসীন
أَلَمْ يَرَوْاۡ كَمْ أَهْلَكْنَا قَبْلَهُم مِّنَ ٱلْقُرُونِ أَنَّهُمْ إِلَيْهِمْ لَا يَرْجِعُونَ
তারা কি লক্ষ্য করেনা যে, তাদের পূর্বে কত মানবগোষ্ঠীকে আমি ধ্বংস করেছি যারা তাদের মধ্যে ফিরে আসবেনা?
32 – ইয়াসীন
وَإِن كُلٌّ لَّمَّا جَمِيعٌ لَّدَيْنَا مُحْضَرُونَ
এবং অবশ্যই তাদের সকলকে একত্রে আমার নিকট উপস্থিত করা হবে।
33 – ইয়াসীন
وَءَايَةٌ لَّهُمُ ٱلْأَرْضُ ٱلْمَيْتَةُ أَحْيَيْنَٰهَا وَأَخْرَجْنَا مِنْهَا حَبًّا فَمِنْهُ يَأْكُلُونَ
তাদের জন্য একটি নিদর্শন মৃত ধরিত্রী, যাকে আমি সঞ্জীবিত করি এবং যা হতে উৎপন্ন করি শস্য, যা তারা আহার করে।
34 – ইয়াসীন
وَجَعَلْنَا فِيهَا جَنَّٰتٍ مِّن نَّخِيلٍ وَأَعْنَٰبٍ وَفَجَّرْنَا فِيهَا مِنَ ٱلْعُيُونِ
তাতে আমি সৃষ্টি করি খেজুর ও আঙ্গুরের উদ্যান এবং উৎসারিত করি প্রস্রবণ –
35 – ইয়াসীন
لِيَأْكُلُواۡ مِن ثَمَرِهِۦ وَمَا عَمِلَتْهُ أَيْدِيهِمْۖ أَفَلَا يَشْكُرُونَ
যাতে তারা আহার করতে পারে এর ফলমূল হতে, অথচ তাদের হাত ওটা সৃষ্টি করেনি। তবুও কি তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবেনা?
36 – ইয়াসীন
سُبْحَٰنَ ٱلَّذِى خَلَقَ ٱلْأَزْوَٰجَ كُلَّهَا مِمَّا تُنۢبِتُ ٱلْأَرْضُ وَمِنْ أَنفُسِهِمْ وَمِمَّا لَا يَعْلَمُونَ
পবিত্র মহান তিনি, যিনি উদ্ভিদ, মানুষ এবং তারা যাদেরকে জানেনা তাদের প্রত্যেককে সৃষ্টি করেছেন জোড়ায় জোড়ায়।
37 – ইয়াসীন
وَءَايَةٌ لَّهُمُ ٱلَّيْلُ نَسْلَخُ مِنْهُ ٱلنَّهَارَ فَإِذَا هُم مُّظْلِمُونَ
তাদের এক নিদর্শন রাত, ওটা হতে আমি দিবালোক অপসারিত করি, তখন সকলেই অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।
38 – ইয়াসীন
وَٱلشَّمْسُ تَجْرِى لِمُسْتَقَرٍّ لَّهَاۚ ذَٰلِكَ تَقْدِيرُ ٱلْعَزِيزِ ٱلْعَلِيمِ
এবং সূর্য ভ্রমণ করে ওর নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে। এটা পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞের নিয়ন্ত্রণ।
39 – ইয়াসীন
وَٱلْقَمَرَ قَدَّرْنَٰهُ مَنَازِلَ حَتَّىٰ عَادَ كَٱلْعُرْجُونِ ٱلْقَدِيمِ
এবং চন্দ্রের জন্য আমি নির্দিষ্ট করেছি বিভিন্ন মানযিল, অবশেষে ওটা শুষ্ক বক্র পুরাতন খেজুর শাখার আকার ধারণ করে।
40 – ইয়াসীন
لَا ٱلشَّمْسُ يَنۢبَغِى لَهَآ أَن تُدْرِكَ ٱلْقَمَرَ وَلَا ٱلَّيْلُ سَابِقُ ٱلنَّهَارِۚ وَكُلٌّ فِى فَلَكٍ يَسْبَحُونَ
সূর্যের পক্ষে সম্ভব নয় চাঁদের নাগাল পাওয়া এরং রাতের পক্ষে সম্ভব নয় দিনকে অতিক্রম করা; এবং প্রত্যেকে নিজ নিজ কক্ষপথে সাতার কাটে।
41 – ইয়াসীন
وَءَايَةٌ لَّهُمْ أَنَّا حَمَلْنَا ذُرِّيَّتَهُمْ فِى ٱلْفُلْكِ ٱلْمَشْحُونِ
তাদের এক নিদর্শন এই যে, আমি তাদের বংশধরদের বোঝাই নৌযানে আরোহণ করিয়েছিলাম।
42 – ইয়াসীন
وَخَلَقْنَا لَهُم مِّن مِّثْلِهِۦ مَا يَرْكَبُونَ
এবং তাদের জন্য অনুরূপ যানবাহন সৃষ্টি করেছি যাতে তারা আরোহণ করে।
43 – ইয়াসীন
وَإِن نَّشَأْ نُغْرِقْهُمْ فَلَا صَرِيخَ لَهُمْ وَلَا هُمْ يُنقَذُونَ
আমি ইচ্ছা করলে তাদেরকে নিমজ্জিত করতে পারি; সেই অবস্থায় তারা কোন সাহায্যকারী পাবেনা এবং তারা পরিত্রাণও পাবেনা –
44 – ইয়াসীন
إِلَّا رَحْمَةً مِّنَّا وَمَتَٰعًا إِلَىٰ حِينٍ
আমার অনুগ্রহ না হলে এবং কিছুকালের জন্য জীবনোপকরণ ভোগ করতে না দিলে।
45 – ইয়াসীন
وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ ٱتَّقُواۡ مَا بَيْنَ أَيْدِيكُمْ وَمَا خَلْفَكُمْ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ
যখন তাদেরকে বলা হয়ঃ যা তোমাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে রয়েছে সে সম্বন্ধে সাবধান হও যাতে তোমরা অনুগ্রহভাজন হতে পার।
46 – ইয়াসীন
وَمَا تَأْتِيهِم مِّنْ ءَايَةٍ مِّنْ ءَايَٰتِ رَبِّهِمْ إِلَّا كَانُواۡ عَنْهَا مُعْرِضِينَ
আর যখনই তাদের রবের নিদর্শনাবলীর কোন নিদর্শন তাদের নিকট আসে তখন তারা তা হতে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
47 – ইয়াসীন
وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ أَنفِقُواۡ مِمَّا رَزَقَكُمُ ٱللَّهُ قَالَ ٱلَّذِينَ كَفَرُواۡ لِلَّذِينَ ءَامَنُوٓاۡ أَنُطْعِمُ مَن لَّوْ يَشَآءُ ٱللَّهُ أَطْعَمَهُۥٓ إِنْ أَنتُمْ إِلَّا فِى ضَلَٰلٍ مُّبِينٍ
যখন তাদেরকে বলা হয়, আল্লাহ তোমাদেরকে যে জীবনোপকরণ দিয়েছেন তা হতে ব্যয় কর তখন কাফিরেরা মু’মিনদেরকে বলেঃ যাকে ইচ্ছা করলে আল্লাহ খাওয়াতে পারতেন আমরা কেন তাকে খাওয়াব? তোমরাতো স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছ।
48 – ইয়াসীন
وَيَقُولُونَ مَتَىٰ هَٰذَا ٱلْوَعْدُ إِن كُنتُمْ صَٰدِقِينَ
তারা বলেঃ তোমরা যদি সত্যবাদী হও তাহলে বলঃ এই প্রতিশ্রুতি কখন পূর্ণ হবে?
49 – ইয়াসীন
مَا يَنظُرُونَ إِلَّا صَيْحَةً وَٰحِدَةً تَأْخُذُهُمْ وَهُمْ يَخِصِّمُونَ
এরাতো অপেক্ষায় আছে এক মহানাদের যা এদেরকে আঘাত করবে এদের বাক বিতন্ডা কালে।
50 – ইয়াসীন
فَلَا يَسْتَطِيعُونَ تَوْصِيَةً وَلَآ إِلَىٰٓ أَهْلِهِمْ يَرْجِعُونَ
তখন তারা অসীয়াত করতে সমর্থ হবেনা এবং নিজেদের পরিবার পরিজনের নিকট ফিরেও আসতে পারবেনা।
51 – ইয়াসীন
وَنُفِخَ فِى ٱلصُّورِ فَإِذَا هُم مِّنَ ٱلْأَجْدَاثِ إِلَىٰ رَبِّهِمْ يَنسِلُونَ
যখন শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে তখনই তারা কাবর হতে ছুটে আসবে তাদের রবের দিকে।
52 – ইয়াসীন
قَالُواۡ يَٰوَيْلَنَا مَنۢ بَعَثَنَا مِن مَّرْقَدِنَاۗۜ هَٰذَا مَا وَعَدَ ٱلرَّحْمَٰنُ وَصَدَقَ ٱلْمُرْسَلُونَ
তারা বলবেঃ হায়! দুর্ভোগ আমাদের! কে আমাদেরকে আমাদের নিদ্রাস্থল হতে উঠালো? দয়াময় (আল্লাহ) তো এরই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং রাসূলগণ সত্যই বলেছিলেন।
53 – ইয়াসীন
إِن كَانَتْ إِلَّا صَيْحَةً وَٰحِدَةً فَإِذَا هُمْ جَمِيعٌ لَّدَيْنَا مُحْضَرُونَ
এটা হবে শুধুমাত্র এক মহানাদ; তখনই তাদের সকলকে উপস্থিত করা হবে আমার সম্মুখে।
54 – ইয়াসীন
فَٱلْيَوْمَ لَا تُظْلَمُ نَفْسٌ شَيْـًٔا وَلَا تُجْزَوْنَ إِلَّا مَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ
আজ কারও প্রতি কোন যুলম করা হবেনা এবং তোমরা যা করতে শুধু তারই প্রতিফল দেয়া হবে।
55 – ইয়াসীন
إِنَّ أَصْحَٰبَ ٱلْجَنَّةِ ٱلْيَوْمَ فِى شُغُلٍ فَٰكِهُونَ
এ দিন জান্নাতবাসীরা আনন্দে মগ্ন থাকবে।
56 – ইয়াসীন
هُمْ وَأَزْوَٰجُهُمْ فِى ظِلَٰلٍ عَلَى ٱلْأَرَآئِكِ مُتَّكِـُٔونَ
তারা এবং তাদের সঙ্গিনীরা সুশীতল ছায়ায় সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসবে।
57 – ইয়াসীন
لَهُمْ فِيهَا فَٰكِهَةٌ وَلَهُم مَّا يَدَّعُونَ
সেখানে থাকবে তাদের জন্য ফল-মূল এবং থাকবে যা তারা ফরমায়েশ করবে।
58 – ইয়াসীন
سَلَٰمٌ قَوْلًا مِّن رَّبٍّ رَّحِيمٍ
পরম দয়ালু রবের পক্ষ হতে তাদেরকে বলা হবে ‘সালাম’।
59 – ইয়াসীন
وَٱمْتَٰزُواۡ ٱلْيَوْمَ أَيُّهَا ٱلْمُجْرِمُونَ
আর হে অপরাধীরা! তোমরা আজ পৃথক হয়ে যাও।
60 – ইয়াসীন
أَلَمْ أَعْهَدْ إِلَيْكُمْ يَٰبَنِىٓ ءَادَمَ أَن لَّا تَعْبُدُواۡ ٱلشَّيْطَٰنَۖ إِنَّهُۥ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِينٌ
হে বানী আদম! আমি কি তোমাদেরকে নির্দেশ দেইনি যে, তোমরা শাইতানের দাসত্ব করনা, কারণ সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু?
61 – ইয়াসীন
وَأَنِ ٱعْبُدُونِىۚ هَٰذَا صِرَٰطٌ مُّسْتَقِيمٌ
আর আমার ইবাদাত কর, এটাই সরল পথ?
62 – ইয়াসীন
وَلَقَدْ أَضَلَّ مِنكُمْ جِبِلًّا كَثِيرًاۖ أَفَلَمْ تَكُونُواۡ تَعْقِلُونَ
শাইতানতো তোমাদের বহু দলকে বিভ্রান্ত করেছিল, তবুও কি তোমরা বুঝনি?
63 – ইয়াসীন
هَٰذِهِۦ جَهَنَّمُ ٱلَّتِى كُنتُمْ تُوعَدُونَ
এটা সেই জাহান্নাম যার প্রতিশ্রুতি তোমাদেরকে দেয়া হয়েছিল।
64 – ইয়াসীন
ٱصْلَوْهَا ٱلْيَوْمَ بِمَا كُنتُمْ تَكْفُرُونَ
আজ তোমরা এতে প্রবেশ কর; কারণ তোমরা একে অবিশ্বাস করেছিলে।
65 – ইয়াসীন
ٱلْيَوْمَ نَخْتِمُ عَلَىٰٓ أَفْوَٰهِهِمْ وَتُكَلِّمُنَآ أَيْدِيهِمْ وَتَشْهَدُ أَرْجُلُهُم بِمَا كَانُواۡ يَكْسِبُونَ
আমি আজ এদের মুখে মোহর লাগিয়ে দিব। এদের হাত কথা বলবে আমার সাথে এবং এদের পা সাক্ষ্য দিবে এদের কৃতকর্মের।
66 – ইয়াসীন
وَلَوْ نَشَآءُ لَطَمَسْنَا عَلَىٰٓ أَعْيُنِهِمْ فَٱسْتَبَقُواۡ ٱلصِّرَٰطَ فَأَنَّىٰ يُبْصِرُونَ
আমি ইচ্ছা করলে এদের চক্ষুগুলিকে লোপ করে দিতে পারতাম, তখন এরা পথ চলতে চাইলে কি করে দেখতে পেত?
67 – ইয়াসীন
وَلَوْ نَشَآءُ لَمَسَخْنَٰهُمْ عَلَىٰ مَكَانَتِهِمْ فَمَا ٱسْتَطَٰعُواۡ مُضِيًّا وَلَا يَرْجِعُونَ
এবং আমি ইচ্ছা করলে এদেরকে স্ব স্ব স্থানে বিকৃত করে দিতে পারতাম, ফলে এরা চলতে পারতো না এবং ফিরেও আসতে পারতো না।
68 – ইয়াসীন
وَمَن نُّعَمِّرْهُ نُنَكِّسْهُ فِى ٱلْخَلْقِۖ أَفَلَا يَعْقِلُونَ
আমি যাকে দীর্ঘ জীবন দান করি তার স্বাভাবিক গঠনে অবনতি ঘটাই। তবুও কি তারা বুঝেনা?
69 – ইয়াসীন
وَمَا عَلَّمْنَٰهُ ٱلشِّعْرَ وَمَا يَنۢبَغِى لَهُۥٓۚ إِنْ هُوَ إِلَّا ذِكْرٌ وَقُرْءَانٌ مُّبِينٌ
আমি তাকে কাব্য রচনা করতে শিখাইনি এবং এটা তার পক্ষে শোভনীয় নয়। ইহাতো শুধু উপদেশ এবং সুস্পষ্ট কুরআন।
70 – ইয়াসীন
لِّيُنذِرَ مَن كَانَ حَيًّا وَيَحِقَّ ٱلْقَوْلُ عَلَى ٱلْكَٰفِرِينَ
যাতে সে সতর্ক করতে পারে জীবিতদেরকে এবং যাতে কাফিরদের বিরুদ্ধে শাস্তির কথা সত্য হতে পারে।
71 – ইয়াসীন
أَوَلَمْ يَرَوْاۡ أَنَّا خَلَقْنَا لَهُم مِّمَّا عَمِلَتْ أَيْدِينَآ أَنْعَٰمًا فَهُمْ لَهَا مَٰلِكُونَ
তারা কি লক্ষ্য করেনা যে, নিজ হতে সৃষ্ট বস্তুর মধ্যে তাদের জন্য আমি সৃষ্টি করেছি গৃহ পালিত পশু এবং তারাই ওগুলির অধিকারী।
72 – ইয়াসীন
وَذَلَّلْنَٰهَا لَهُمْ فَمِنْهَا رَكُوبُهُمْ وَمِنْهَا يَأْكُلُونَ
এবং আমি ওগুলিকে তাদের বশীভূত করেছি। ওগুলির কতক তাদের বাহন এবং কতক তারা আহার করে।
73 – ইয়াসীন
وَلَهُمْ فِيهَا مَنَٰفِعُ وَمَشَارِبُۖ أَفَلَا يَشْكُرُونَ
তাদের জন্য ওগুলিতে রয়েছে বহু উপকারিতা, আর আছে পানীয় বস্তু। তবুও কি তারা কৃতজ্ঞ হবেনা?
74 – ইয়াসীন
وَٱتَّخَذُواۡ مِن دُونِ ٱللَّهِ ءَالِهَةً لَّعَلَّهُمْ يُنصَرُونَ
তারাতো আল্লাহর পরিবর্তে অন্য মা‘বূদ গ্রহণ করেছে এ আশায় যে, তারা সাহায্য প্রাপ্ত হবে।
75 – ইয়াসীন
لَا يَسْتَطِيعُونَ نَصْرَهُمْ وَهُمْ لَهُمْ جُندٌ مُّحْضَرُونَ
কিন্তু এসব ইলাহ তাদের সাহায্য করতে সক্ষম নয়, তাদেরকে তাদের বাহিনীরূপে উপস্থিত করা হবে।
76 – ইয়াসীন
فَلَا يَحْزُنكَ قَوْلُهُمْۘ إِنَّا نَعْلَمُ مَا يُسِرُّونَ وَمَا يُعْلِنُونَ
অতএব তাদের কথা তোমাদের যেন দুঃখ না দেয়। আমিতো জানি যা তারা গোপন করে এবং যা তারা ব্যক্ত করে।
77 – ইয়াসীন
أَوَلَمْ يَرَ ٱلْإِنسَٰنُ أَنَّا خَلَقْنَٰهُ مِن نُّطْفَةٍ فَإِذَا هُوَ خَصِيمٌ مُّبِينٌ
মানুষ কি দেখেনা যে, আমি তাকে সৃষ্টি করেছি শুক্র বিন্দু হতে? অথচ পরে সে হয়ে পড়ে প্রকাশ্য বিতন্ডাকারী।
78 – ইয়াসীন
وَضَرَبَ لَنَا مَثَلًا وَنَسِىَ خَلْقَهُۥۖ قَالَ مَن يُحْىِ ٱلْعِظَٰمَ وَهِىَ رَمِيمٌ
আর সে আমার সম্বন্ধে উপমা রচনা করে, অথচ সে নিজের সৃষ্টির কথা ভুলে যায়। বলেঃ অস্থিতে কে প্রাণ সঞ্চার করবে যখন ওটা পচে গলে যাবে?
79 – ইয়াসীন
قُلْ يُحْيِيهَا ٱلَّذِىٓ أَنشَأَهَآ أَوَّلَ مَرَّةٍۖ وَهُوَ بِكُلِّ خَلْقٍ عَلِيمٌ
বলঃ ওর মধ্যে প্রাণ সঞ্চার করবেন তিনিই যিনি ওটা প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি প্রত্যেকটি সৃষ্টি সম্বন্ধে সম্যক অবগত।
80 – ইয়াসীন
ٱلَّذِى جَعَلَ لَكُم مِّنَ ٱلشَّجَرِ ٱلْأَخْضَرِ نَارًا فَإِذَآ أَنتُم مِّنْهُ تُوقِدُونَ
তিনি তোমাদের জন্য সবুজ বৃক্ষ হতে আগুন উৎপাদন করেন এবং তোমরা ওটা দ্বারা প্রজ্জ্বলিত কর।
81 – ইয়াসীন
أَوَلَيْسَ ٱلَّذِى خَلَقَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ بِقَٰدِرٍ عَلَىٰٓ أَن يَخْلُقَ مِثْلَهُمۚ بَلَىٰ وَهُوَ ٱلْخَلَّٰقُ ٱلْعَلِيمُ
যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন তিনি কি তাদের অনুরূপ সৃষ্টি করতে সক্ষম নন? হ্যাঁ, নিশ্চয়ই তিনি মহাস্রষ্টা, সর্বজ্ঞ।
82 – ইয়াসীন
إِنَّمَآ أَمْرُهُۥٓ إِذَآ أَرَادَ شَيْـًٔا أَن يَقُولَ لَهُۥ كُن فَيَكُونُ
তাঁর ব্যাপারতো শুধু এই যে, যখন তিনি কোন কিছুর ইচ্ছা করেন তখন বলেন ‘হও’, ফলে তা হয়ে যায়।
83 – ইয়াসীন
فَسُبْحَٰنَ ٱلَّذِى بِيَدِهِۦ مَلَكُوتُ كُلِّ شَىْءٍ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ
অতএব পবিত্র ও মহান তিনি যাঁর হাতে রয়েছে প্রত্যেক বিষয়ের সার্বভৌম ক্ষমতা এবং তাঁর নিকট তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।

37 নং সূরা – আস-সাফফাত – اَلصَّافَّات

মাক্বী – আয়াত সংখ্যা: 182
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

01 – সাফফাত
وَٱلصَّٰٓفَّٰتِ صَفًّا
শপথ তাদের যারা সারিবদ্ধভাবে দন্ডায়মান।
02 – সাফফাত
فَٱلزَّٰجِرَٰتِ زَجْرًا
এবং যারা কঠোর পরিচালক।
03 – সাফফাত
فَٱلتَّٰلِيَٰتِ ذِكْرًا
এবং যারা জিকর আবৃত্তিতে মশগুল।
04 – সাফফাত
إِنَّ إِلَٰهَكُمْ لَوَٰحِدٌ
নিশ্চয়ই তোমাদের মা‘বূদ এক।
05 – সাফফাত
رَّبُّ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا وَرَبُّ ٱلْمَشَٰرِقِ
যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী এবং এতদুভয়ের অন্তবর্তী সব কিছুর রাব্ব, এবং রাব্ব সকল উদয়স্থলের।
06 – সাফফাত
إِنَّا زَيَّنَّا ٱلسَّمَآءَ ٱلدُّنْيَا بِزِينَةٍ ٱلْكَوَاكِبِ
আমি নিকটবর্তী আকাশকে নক্ষত্ররাজির সুষমা দ্বারা সুশোভিত করেছি।
07 – সাফফাত
وَحِفْظًا مِّن كُلِّ شَيْطَٰنٍ مَّارِدٍ
এবং রক্ষা করেছি প্রত্যেক বিদ্রোহী শাইতান হতে।
08 – সাফফাত
لَّا يَسَّمَّعُونَ إِلَى ٱلْمَلَإِ ٱلْأَعْلَىٰ وَيُقْذَفُونَ مِن كُلِّ جَانِبٍ
ফলে তারা উর্ধ্ব জগতের কিছু শ্রবণ করতে পারেনা এবং তাদের প্রতি উল্কা নিক্ষিপ্ত হয় সকল দিক হতে –
09 – সাফফাত
دُحُورًاۖ وَلَهُمْ عَذَابٌ وَاصِبٌ
বিতাড়নের জন্য এবং তাদের জন্য রয়েছে অবিরাম শাস্তি।
10 – সাফফাত
إِلَّا مَنْ خَطِفَ ٱلْخَطْفَةَ فَأَتْبَعَهُۥ شِهَابٌ ثَاقِبٌ
তবে কেহ হঠাৎ কিছু শুনে ফেললে জ্বলন্ত উল্কাপিন্ড তার পশ্চাদ্ধাবন করে।
11 – সাফফাত
فَٱسْتَفْتِهِمْ أَهُمْ أَشَدُّ خَلْقًا أَم مَّنْ خَلَقْنَآۚ إِنَّا خَلَقْنَٰهُم مِّن طِينٍ لَّازِبٍۭ
তাদেরকে জিজ্ঞেস করঃ তাদেরকে সৃষ্টি করা কঠিনতর নাকি আমি অন্য যা কিছু সৃষ্টি করেছি তা সৃষ্টি কঠিনতর? তাদেরকে আমি সৃষ্টি করেছি আঠাল মাটি হতে।
12 – সাফফাত
بَلْ عَجِبْتَ وَيَسْخَرُونَ
তুমিতো বিস্ময় বোধ করছ, আর তারা করছে বিদ্রুপ।
13 – সাফফাত
وَإِذَا ذُكِّرُواۡ لَا يَذْكُرُونَ
এবং যখন তাদেরকে উপদেশ দেয়া হয় তখন তারা তা গ্রহণ করেনা।
14 – সাফফাত
وَإِذَا رَأَوْاۡ ءَايَةً يَسْتَسْخِرُونَ
তারা কোন নিদর্শন দেখলে উপহাস করে।
15 – সাফফাত
وَقَالُوٓاۡ إِنْ هَٰذَآ إِلَّا سِحْرٌ مُّبِينٌ
এবং বলেঃ এটাতো এক সুস্পষ্ট যাদু ব্যতীত আর কিছুই নয়।
16 – সাফফাত
أَءِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَعِظَٰمًا أَءِنَّا لَمَبْعُوثُونَ
আমরা যখন মরে যাব এবং মাটি ও অস্থিতে পরিণত হব তখন কি আমাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে?
17 – সাফফাত
أَوَءَابَآؤُنَا ٱلْأَوَّلُونَ
এবং আমাদের পূর্ব-পুরুষদেরকেও?
18 – সাফফাত
قُلْ نَعَمْ وَأَنتُمْ دَٰخِرُونَ
বলঃ হ্যাঁ এবং তোমরা হবে লাঞ্ছিত।
19 – সাফফাত
فَإِنَّمَا هِىَ زَجْرَةٌ وَٰحِدَةٌ فَإِذَا هُمْ يَنظُرُونَ
ওটা একটি মাত্র প্রচন্ড শব্দ। আর তখনই তারা প্রত্যক্ষ করবে।
20 – সাফফাত
وَقَالُواۡ يَٰوَيْلَنَا هَٰذَا يَوْمُ ٱلدِّينِ
এবং তারা বলবেঃ হায়! দুর্ভোগ আমাদের! এটাইতো কর্মফল দিন।
21 – সাফফাত
هَٰذَا يَوْمُ ٱلْفَصْلِ ٱلَّذِى كُنتُم بِهِۦ تُكَذِّبُونَ
এটাই ফাইসালার দিন যা তোমরা অস্বীকার করতে।
22 – সাফফাত
ٱحْشُرُواۡ ٱلَّذِينَ ظَلَمُواۡ وَأَزْوَٰجَهُمْ وَمَا كَانُواۡ يَعْبُدُونَ
(মালাইকাকে বলা হবে) একত্রিত কর যালিম ও তাদের সহচরদেরকে এবং তাদেরকে যাদের ইবাদাত করত,
23 – সাফফাত
مِن دُونِ ٱللَّهِ فَٱهْدُوهُمْ إِلَىٰ صِرَٰطِ ٱلْجَحِيمِ
আল্লাহর পরিবর্তে এবং তাদেরকে ধাবিত কর জাহান্নামের পথে।
24 – সাফফাত
وَقِفُوهُمْۖ إِنَّهُم مَّسْـُٔولُونَ
অতঃপর তাদেরকে থামাও, কারণ তাদেরকে প্রশ্ন করা হবে;
25 – সাফফাত
مَا لَكُمْ لَا تَنَاصَرُونَ
তোমাদের কি হল যে, তোমরা একে অপরকে সাহায্য করছনা?
26 – সাফফাত
بَلْ هُمُ ٱلْيَوْمَ مُسْتَسْلِمُونَ
বস্তুতঃ সেদিন তারা আত্মসমর্পন করবে।
27 – সাফফাত
وَأَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ يَتَسَآءَلُونَ
এবং তারা একে অপরের সামনাসামনি হয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে।
28 – সাফফাত
قَالُوٓاۡ إِنَّكُمْ كُنتُمْ تَأْتُونَنَا عَنِ ٱلْيَمِينِ
তারা বলবেঃ তোমরাতো তোমাদের শক্তি নিয়ে আমাদের নিকট আসতে।
29 – সাফফাত
قَالُواۡ بَل لَّمْ تَكُونُواۡ مُؤْمِنِينَ
তারা বলবেঃ তোমরা তো বিশ্বাসীই ছিলে না।
30 – সাফফাত
وَمَا كَانَ لَنَا عَلَيْكُم مِّن سُلْطَٰنٍۭۖ بَلْ كُنتُمْ قَوْمًا طَٰغِينَ
এবং তোমাদের উপর আমাদের কোন কর্তৃত্ব ছিলনা; বস্তুতঃ তোমরাই ছিলে সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়।
31 – সাফফাত
فَحَقَّ عَلَيْنَا قَوْلُ رَبِّنَآۖ إِنَّا لَذَآئِقُونَ
আমাদের বিরুদ্ধে আমাদের রবের কথা সত্য হয়েছে; আমাদেরকে অবশ্যই শাস্তি আস্বাদন করতে হবে।
32 – সাফফাত
فَأَغْوَيْنَٰكُمْ إِنَّا كُنَّا غَٰوِينَ
আমরা তোমাদেরকে বিভ্রান্ত করেছিলাম, কারণ আমরা নিজেরাও ছিলাম বিভ্রান্ত।
33 – সাফফাত
فَإِنَّهُمْ يَوْمَئِذٍ فِى ٱلْعَذَابِ مُشْتَرِكُونَ
তারা সবাই সেদিন শাস্তিতে শরীক হবে।
34 – সাফফাত
إِنَّا كَذَٰلِكَ نَفْعَلُ بِٱلْمُجْرِمِينَ
অপরাধীদের প্রতি আমি এরূপই করে থাকি।
35 – সাফফাত
إِنَّهُمْ كَانُوٓاۡ إِذَا قِيلَ لَهُمْ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا ٱللَّهُ يَسْتَكْبِرُونَ
যখন তাদেরকে বলা হত যে, আল্লাহ ছাড়া কোন মা‘বূদ নেই তখন তারা অহংকার করত।
36 – সাফফাত
وَيَقُولُونَ أَئِنَّا لَتَارِكُوٓاۡ ءَالِهَتِنَا لِشَاعِرٍ مَّجْنُونٍۭ
এবং বলতঃ আমরা কি এক পাগল কবির কথায় আমাদের মা‘বূদদেরকে বর্জন করব?
37 – সাফফাত
بَلْ جَآءَ بِٱلْحَقِّ وَصَدَّقَ ٱلْمُرْسَلِينَ
বরং সেতো সত্য নিয়ে এসেছে এবং সে সমস্ত রাসূলকে সত্য বলে স্বীকার করেছে।
38 – সাফফাত
إِنَّكُمْ لَذَآئِقُواۡ ٱلْعَذَابِ ٱلْأَلِيمِ
তোমরা অবশ্যই মর্মন্তদ শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করবে।
39 – সাফফাত
وَمَا تُجْزَوْنَ إِلَّا مَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ
এবং তোমরা যা করতে তারই প্রতিফল পাবে।
40 – সাফফাত
إِلَّا عِبَادَ ٱللَّهِ ٱلْمُخْلَصِينَ
তবে তারা নয়, যারা আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দা।
41 – সাফফাত
أُوۡلَٰٓئِكَ لَهُمْ رِزْقٌ مَّعْلُومٌ
তাদের জন্য রয়েছে নির্ধারিত রিয্ক –
42 – সাফফাত
فَوَٰكِهُۖ وَهُم مُّكْرَمُونَ
ফল-মূল এবং তারা হবে সম্মানিত।
43 – সাফফাত
فِى جَنَّٰتِ ٱلنَّعِيمِ
সুখ কাননে।
44 – সাফফাত
عَلَىٰ سُرُرٍ مُّتَقَٰبِلِينَ
তারা মুখোমুখি আসনে আসীন হবে।
45 – সাফফাত
يُطَافُ عَلَيْهِم بِكَأْسٍ مِّن مَّعِينٍۭ
তাদেরকে ঘুরে ঘুরে পরিবেশন করা হবে বিশুদ্ধ সূরাপূর্ণ পাত্র –
46 – সাফফাত
بَيْضَآءَ لَذَّةٍ لِّلشَّٰرِبِينَ
শুভ্র উজ্জ্বল, যা হবে পানকারীদের জন্য সুস্বাদু।
47 – সাফফাত
لَا فِيهَا غَوْلٌ وَلَا هُمْ عَنْهَا يُنزَفُونَ
তাতে ক্ষতিকর কিছুই থাকবেনা এবং তারা তাতে মাতালও হবেনা।
48 – সাফফাত
وَعِندَهُمْ قَٰصِرَٰتُ ٱلطَّرْفِ عِينٌ
আর তাদের সঙ্গে থাকবে আনত নয়না আয়তলোচনা হুরবৃন্দ।
49 – সাফফাত
كَأَنَّهُنَّ بَيْضٌ مَّكْنُونٌ
তারা যেন সুরক্ষিত ডিম্ব।
50 – সাফফাত
فَأَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ يَتَسَآءَلُونَ
তারা একে অপরের সাথে পরস্পর জিজ্ঞাসাবাদ করবে।
51 – সাফফাত
قَالَ قَآئِلٌ مِّنْهُمْ إِنِّى كَانَ لِى قَرِينٌ
তাদের কেহ বলবেঃ আমার ছিল এক সঙ্গী।
52 – সাফফাত
يَقُولُ أَءِنَّكَ لَمِنَ ٱلْمُصَدِّقِينَ
সে বলতঃ তুমি কি বিশ্বাস কর যে –
53 – সাফফাত
أَءِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَعِظَٰمًا أَءِنَّا لَمَدِينُونَ
আমরা যখন মরে যাব এবং আমরা মৃত্তিকা ও অস্থিতে পরিণত হব তখনও আমাদেরকে প্রতিফল দেয়া হবে?
54 – সাফফাত
قَالَ هَلْ أَنتُم مُّطَّلِعُونَ
(আল্লাহ) বলবেনঃ তোমরা কি তাকে দেখতে চাও?
55 – সাফফাত
فَٱطَّلَعَ فَرَءَاهُ فِى سَوَآءِ ٱلْجَحِيمِ
অতঃপর সে ঝুকে দেখবে এবং তাকে দেখতে পাবে জাহান্নামের মধ্যস্থলে।
56 – সাফফাত
قَالَ تَٱللَّهِ إِن كِدتَّ لَتُرْدِينِ
সে বলবেঃ আল্লাহর শপথ! তুমিতো আমাকে প্রায় ধ্বংসই করেছিলে।
57 – সাফফাত
وَلَوْلَا نِعْمَةُ رَبِّى لَكُنتُ مِنَ ٱلْمُحْضَرِينَ
আমার রবের অনুগ্রহ না থাকলে আমিও আটক ব্যক্তিদের মধ্যে শামিল হতাম।
58 – সাফফাত
أَفَمَا نَحْنُ بِمَيِّتِينَ
আমাদের আর মৃত্যু হবেনা –
59 – সাফফাত
إِلَّا مَوْتَتَنَا ٱلْأُولَىٰ وَمَا نَحْنُ بِمُعَذَّبِينَ
প্রথম মৃত্যু ছাড়া এবং আমাদেরকে শাস্তিও দেয়া হবেনা!
60 – সাফফাত
إِنَّ هَٰذَا لَهُوَ ٱلْفَوْزُ ٱلْعَظِيمُ
এটাতো মহা সাফল্য।
61 – সাফফাত
لِمِثْلِ هَٰذَا فَلْيَعْمَلِ ٱلْعَٰمِلُونَ
এরূপ সাফল্যের জন্য সাধকদের উচিৎ সাধনা করা।
62 – সাফফাত
أَذَٰلِكَ خَيْرٌ نُّزُلًا أَمْ شَجَرَةُ ٱلزَّقُّومِ
আপ্যায়নের জন্য কি এটাই শ্রেষ্ঠ, না কি যাক্কুম বৃক্ষ?
63 – সাফফাত
إِنَّا جَعَلْنَٰهَا فِتْنَةً لِّلظَّٰلِمِينَ
যালিমদের জন্য আমি ওটা সৃষ্টি করেছি পরীক্ষা স্বরূপ।
64 – সাফফাত
إِنَّهَا شَجَرَةٌ تَخْرُجُ فِىٓ أَصْلِ ٱلْجَحِيمِ
এই বৃক্ষ উদ্গত হয় জাহান্নামের তলদেশ হতে।
65 – সাফফাত
طَلْعُهَا كَأَنَّهُۥ رُءُوسُ ٱلشَّيَٰطِينِ
ওটার মোচা যেন শাইতানের মাথা।
66 – সাফফাত
فَإِنَّهُمْ لَءَاكِلُونَ مِنْهَا فَمَالِـُٔونَ مِنْهَا ٱلْبُطُونَ
ওটা হতে তারা আহার করবে এবং উদর পূর্ণ করবে ওটা দ্বারা।
67 – সাফফাত
ثُمَّ إِنَّ لَهُمْ عَلَيْهَا لَشَوْبًا مِّنْ حَمِيمٍ
তদুপরি তাদের জন্য থাকবে ফুটন্ত পানির মিশ্রণ।
68 – সাফফাত
ثُمَّ إِنَّ مَرْجِعَهُمْ لَإِلَى ٱلْجَحِيمِ
আর তাদের গন্তব্য হবে অবশ্যই প্রজ্জ্বলিত আগুনের দিকে।
69 – সাফফাত
إِنَّهُمْ أَلْفَوْاۡ ءَابَآءَهُمْ ضَآلِّينَ
তারা তাদের পিতৃপুরুষদেরকে পেয়েছিল বিপথগামী।
70 – সাফফাত
فَهُمْ عَلَىٰٓ ءَاثَٰرِهِمْ يُهْرَعُونَ
আর তারা তাদের পদাংক অনুসরণে ধাবিত হয়েছিল।
71 – সাফফাত
وَلَقَدْ ضَلَّ قَبْلَهُمْ أَكْثَرُ ٱلْأَوَّلِينَ
তাদের আগেও পূর্ববর্তীদের অধিকাংশ বিপথগামী হয়েছিল।
72 – সাফফাত
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا فِيهِم مُّنذِرِينَ
এবং আমি তাদের মধ্যে সতর্ককারী প্রেরণ করেছিলাম।
73 – সাফফাত
فَٱنظُرْ كَيْفَ كَانَ عَٰقِبَةُ ٱلْمُنذَرِينَ
সুতরাং লক্ষ্য কর, যাদেরকে সতর্ক করা হয়েছিল তাদের পরিণাম কি হয়েছিল!
74 – সাফফাত
إِلَّا عِبَادَ ٱللَّهِ ٱلْمُخْلَصِينَ
তবে আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দাদের কথা স্বতন্ত্র।
75 – সাফফাত
وَلَقَدْ نَادَىٰنَا نُوحٌ فَلَنِعْمَ ٱلْمُجِيبُونَ
নূহ আমাকে আহবান করেছিল, আর আমি কত উত্তম সাড়া দানকারী।
76 – সাফফাত
وَنَجَّيْنَٰهُ وَأَهْلَهُۥ مِنَ ٱلْكَرْبِ ٱلْعَظِيمِ
তাকে ও তার পরিবারবর্গকে আমি উদ্ধার করেছিলাম মহা সংকট হতে।
77 – সাফফাত
وَجَعَلْنَا ذُرِّيَّتَهُۥ هُمُ ٱلْبَاقِينَ
তার বংশধরদেরকেই আমি বিদ্যমান রেখেছি বংশ পরম্পরায়।
78 – সাফফাত
وَتَرَكْنَا عَلَيْهِ فِى ٱلْءَاخِرِينَ
আমি এটা পরবর্তীদের স্মরণে রেখেছি।
79 – সাফফাত
سَلَٰمٌ عَلَىٰ نُوحٍ فِى ٱلْعَٰلَمِينَ
সমগ্র বিশ্বের মধ্যে নূহের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক।
80 – সাফফাত
إِنَّا كَذَٰلِكَ نَجْزِى ٱلْمُحْسِنِينَ
এভাবেই আমি সৎ কর্মশীলদেরকে পুরস্কৃত করে থাকি।
81 – সাফফাত
إِنَّهُۥ مِنْ عِبَادِنَا ٱلْمُؤْمِنِينَ
সে ছিল আমার মু’মিন বান্দাদের অন্যতম।
82 – সাফফাত
ثُمَّ أَغْرَقْنَا ٱلْءَاخَرِينَ
অবশিষ্ট সকলকে আমি নিমজ্জিত করেছিলাম।
83 – সাফফাত
وَإِنَّ مِن شِيعَتِهِۦ لَإِبْرَٰهِيمَ
ইবরাহীম তার অনুগামীদের অন্তর্ভুক্ত।
84 – সাফফাত
إِذْ جَآءَ رَبَّهُۥ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ
স্মরণ কর, সে তার রবের নিকট উপস্থিত হয়েছিল বিশুদ্ধ চিত্তে।
85 – সাফফাত
إِذْ قَالَ لِأَبِيهِ وَقَوْمِهِۦ مَاذَا تَعْبُدُونَ
যখন সে তার পিতা ও তার সম্প্রদায়কে জিজ্ঞেস করেছিলঃ তোমরা কিসের পূজা করছ?
86 – সাফফাত
أَئِفْكًا ءَالِهَةً دُونَ ٱللَّهِ تُرِيدُونَ
তোমরা কি আল্লাহর পরিবর্তে অলীক মা‘বূদগুলিকে চাও?
87 – সাফফাত
فَمَا ظَنُّكُم بِرَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ
জগতসমূহের রাব্ব সম্বন্ধে তোমাদের ধারণা কি?
88 – সাফফাত
فَنَظَرَ نَظْرَةً فِى ٱلنُّجُومِ
অতঃপর সে একবার তারকারাজির দিকে একবার তাকালো।
89 – সাফফাত
فَقَالَ إِنِّى سَقِيمٌ
এবং বললঃ আমি অসুস্থ।
90 – সাফফাত
فَتَوَلَّوْاۡ عَنْهُ مُدْبِرِينَ
অতঃপর তারা তাকে পশ্চাতে রেখে চলে গেল।
91 – সাফফাত
فَرَاغَ إِلَىٰٓ ءَالِهَتِهِمْ فَقَالَ أَلَا تَأْكُلُونَ
পরে সে সন্তর্পণে তাদের দেবতাগুলির নিকট গেল এবং বললঃ তোমরা খাদ্য গ্রহণ করছ না কেন?
92 – সাফফাত
مَا لَكُمْ لَا تَنطِقُونَ
তোমাদের কি হয়েছে যে, তোমরা কথা বলনা?
93 – সাফফাত
فَرَاغَ عَلَيْهِمْ ضَرْبًۢا بِٱلْيَمِينِ
অতঃপর সে তাদের উপর সবলে ডান হাত দিয়ে আঘাত হানলো।
94 – সাফফাত
فَأَقْبَلُوٓاۡ إِلَيْهِ يَزِفُّونَ
তখন ঐ লোকগুলি তার দিকে ছুটে এল।
95 – সাফফাত
قَالَ أَتَعْبُدُونَ مَا تَنْحِتُونَ
সে বললঃ তোমরা নিজেরা যাদেরকে খোদাই করে নির্মাণ কর, তোমরা কি তাদেরই পূজা কর?
96 – সাফফাত
وَٱللَّهُ خَلَقَكُمْ وَمَا تَعْمَلُونَ
প্রকৃত পক্ষে আল্লাহই সৃষ্টি করেছেন তোমাদেরকে এবং তোমরা যা তৈরী কর তা’ও।
97 – সাফফাত
قَالُواۡ ٱبْنُواۡ لَهُۥ بُنْيَٰنًا فَأَلْقُوهُ فِى ٱلْجَحِيمِ
তারা বললঃ এর জন্য এক ইমারাত তৈরী কর, অতঃপর একে জ্বলন্ত আগুনে নিক্ষেপ কর।
98 – সাফফাত
فَأَرَادُواۡ بِهِۦ كَيْدًا فَجَعَلْنَٰهُمُ ٱلْأَسْفَلِينَ
তারা তার বিরুদ্ধে চক্রান্তের সংকল্প করেছিল; কিন্তু আমি তাদেরকে অতিশয় হেয় করেছিলাম।
99 – সাফফাত
وَقَالَ إِنِّى ذَاهِبٌ إِلَىٰ رَبِّى سَيَهْدِينِ
এবং সে বললঃ আমি আমার রবের দিকে চললাম, তিনি অবশ্যই আমাকে সৎ পথে পরিচালিত করবেন।
100 – সাফফাত
رَبِّ هَبْ لِى مِنَ ٱلصَّٰلِحِينَ
হে আমার রাব্ব! আমাকে এক সৎকর্মপরায়ণ সন্তান দান করুন।
101 – সাফফাত
فَبَشَّرْنَٰهُ بِغُلَٰمٍ حَلِيمٍ
অতঃপর আমি তাকে এক স্থির বুদ্ধিসম্পন্ন পুত্রের সুসংবাদ দিলাম।
102 – সাফফাত
فَلَمَّا بَلَغَ مَعَهُ ٱلسَّعْىَ قَالَ يَٰبُنَىَّ إِنِّىٓ أَرَىٰ فِى ٱلْمَنَامِ أَنِّىٓ أَذْبَحُكَ فَٱنظُرْ مَاذَا تَرَىٰۚ قَالَ يَٰٓأَبَتِ ٱفْعَلْ مَا تُؤْمَرُۖ سَتَجِدُنِىٓ إِن شَآءَ ٱللَّهُ مِنَ ٱلصَّٰبِرِينَ
অতঃপর সে যখন তার পিতার সাথে কাজ করার মত বয়সে উপনীত হল তখন ইবরাহীম বললঃ বৎস! আমি স্বপ্নে দেখি যে, তোমাকে আমি যবাহ করছি, এখন তোমার অভিমত কি, বল। সে বললঃ হে আমার পিতা! আপনি যা আদিষ্ট হয়েছেন তাই করুন। আল্লাহ ইচ্ছা করলে আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন।
103 – সাফফাত
فَلَمَّآ أَسْلَمَا وَتَلَّهُۥ لِلْجَبِينِ
যখন তারা উভয়ে আনুগত্য প্রকাশ করল এবং ইবরাহীম তার পুত্রকে কাত করে শায়িত করল –
104 – সাফফাত
وَنَٰدَيْنَٰهُ أَن يَٰٓإِبْرَٰهِيمُ
তখন আমি তাকে আহবান করে বললামঃ হে ইবরাহীম –
105 – সাফফাত
قَدْ صَدَّقْتَ ٱلرُّءْيَآۚ إِنَّا كَذَٰلِكَ نَجْزِى ٱلْمُحْسِنِينَ
তুমিতো স্বপ্নাদেশ সত্যিই পালন করলে। এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদেরকে পুরস্কৃত করে থাকি।
106 – সাফফাত
إِنَّ هَٰذَا لَهُوَ ٱلْبَلَٰٓؤُاۡ ٱلْمُبِينُ
নিশ্চয়ই এটা ছিল এক স্পষ্ট পরীক্ষা।
107 – সাফফাত
وَفَدَيْنَٰهُ بِذِبْحٍ عَظِيمٍ
আমি তাকে মুক্ত করলাম এক মহান কুরবানীর বিনিময়ে।
108 – সাফফাত
وَتَرَكْنَا عَلَيْهِ فِى ٱلْءَاخِرِينَ
আমি এটা পরবর্তীদের স্মরণে রেখেছি।
109 – সাফফাত
سَلَٰمٌ عَلَىٰٓ إِبْرَٰهِيمَ
ইবরাহীমের উপর শান্তি বর্ষিত হোক।
110 – সাফফাত
كَذَٰلِكَ نَجْزِى ٱلْمُحْسِنِينَ
এভাবে আমি সৎ কর্মশীলদেরকে পুরস্কৃত করে থাকি।
111 – সাফফাত
إِنَّهُۥ مِنْ عِبَادِنَا ٱلْمُؤْمِنِينَ
সে ছিল আমার মু’মিন বান্দাদের অন্যতম।
112 – সাফফাত
وَبَشَّرْنَٰهُ بِإِسْحَٰقَ نَبِيًّا مِّنَ ٱلصَّٰلِحِينَ
আমি তাকে সুসংবাদ দিয়েছিলাম ইসহাকের, সে ছিল এক নাবী, সৎকর্মশীলদের অন্যতম।
113 – সাফফাত
وَبَٰرَكْنَا عَلَيْهِ وَعَلَىٰٓ إِسْحَٰقَۚ وَمِن ذُرِّيَّتِهِمَا مُحْسِنٌ وَظَالِمٌ لِّنَفْسِهِۦ مُبِينٌ
আমি তাকে বারাকাত দান করেছিলাম এবং ইসহাককেও, তাদের বংশধরদের মধ্যে কতক সৎকর্মপরায়ণ এবং কতক নিজেদের প্রতি স্পষ্ট অত্যাচারী।
114 – সাফফাত
وَلَقَدْ مَنَنَّا عَلَىٰ مُوسَىٰ وَهَٰرُونَ
আমি অনুগ্রহ করেছিলাম মূসা ও হারূনের উপর।
115 – সাফফাত
وَنَجَّيْنَٰهُمَا وَقَوْمَهُمَا مِنَ ٱلْكَرْبِ ٱلْعَظِيمِ
এবং তাদেরকে ও তাদের সম্প্রদায়কে আমি উদ্ধার করেছিলাম মহা সংকট হতে।
116 – সাফফাত
وَنَصَرْنَٰهُمْ فَكَانُواۡ هُمُ ٱلْغَٰلِبِينَ
আমি সাহায্য করেছিলাম তাদেরকে, ফলে তারা হয়েছিল বিজয়ী।
117 – সাফফাত
وَءَاتَيْنَٰهُمَا ٱلْكِتَٰبَ ٱلْمُسْتَبِينَ
আমি উভয়কে দিয়েছিলাম সুস্পষ্ট কিতাব।
118 – সাফফাত
وَهَدَيْنَٰهُمَا ٱلصِّرَٰطَ ٱلْمُسْتَقِيمَ
এবং তাদেরকে আমি পরিচালিত করেছিলাম সরল পথে।
119 – সাফফাত
وَتَرَكْنَا عَلَيْهِمَا فِى ٱلْءَاخِرِينَ
আমি তাদের উভয়কে পরবর্তীতে স্মরণে রেখেছি।
120 – সাফফাত
سَلَٰمٌ عَلَىٰ مُوسَىٰ وَهَٰرُونَ
মূসা ও হারূনের উপর শান্তি বর্ষিত হোক।
121 – সাফফাত
إِنَّا كَذَٰلِكَ نَجْزِى ٱلْمُحْسِنِينَ
এভাবে আমি সৎকর্মশীলদেরকে পুরস্কৃত করে থাকি।
122 – সাফফাত
إِنَّهُمَا مِنْ عِبَادِنَا ٱلْمُؤْمِنِينَ
তারা উভয়েই ছিল আমার মু’মিন বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত ।
123 – সাফফাত
وَإِنَّ إِلْيَاسَ لَمِنَ ٱلْمُرْسَلِينَ
ইলিয়াসও ছিল রাসূলদের একজন।
124 – সাফফাত
إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِۦٓ أَلَا تَتَّقُونَ
স্মরণ কর, সে তার সম্প্রদায়কে বলেছিলঃ তোমরা কি সতর্ক হবেনা?
125 – সাফফাত
أَتَدْعُونَ بَعْلًا وَتَذَرُونَ أَحْسَنَ ٱلْخَٰلِقِينَ
তোমরা কি বা’লকে (দেবমূর্তি) ডাকবে এবং পরিত্যাগ করবে শ্রেষ্ঠ স্রষ্টা –
126 – সাফফাত
ٱللَّهَ رَبَّكُمْ وَرَبَّ ءَابَآئِكُمُ ٱلْأَوَّلِينَ
আল্লাহকে, যিনি রাব্ব তোমাদের এবং রাব্ব তোমাদের পূর্ব-পুরুষদের?
127 – সাফফাত
فَكَذَّبُوهُ فَإِنَّهُمْ لَمُحْضَرُونَ
কিন্তু তারা তাকে মিথ্যাবাদী বলেছিল, অতএব তাদেরকে অবশ্যই শাস্তির জন্য উপস্থিত করা হবে।
128 – সাফফাত
إِلَّا عِبَادَ ٱللَّهِ ٱلْمُخْلَصِينَ
তবে আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দাদের কথা স্বতন্ত্র।
129 – সাফফাত
وَتَرَكْنَا عَلَيْهِ فِى ٱلْءَاخِرِينَ
আমি এটা পরবর্তীদের স্মরণে রেখেছি।
130 – সাফফাত
سَلَٰمٌ عَلَىٰٓ إِلْ يَاسِينَ
ইলিয়াসের উপর শান্তি বর্ষিত হোক।
131 – সাফফাত
إِنَّا كَذَٰلِكَ نَجْزِى ٱلْمُحْسِنِينَ
এভাবে আমি সৎকর্মশীলদেরকে পুরস্কৃত করে থাকি।
132 – সাফফাত
إِنَّهُۥ مِنْ عِبَادِنَا ٱلْمُؤْمِنِينَ
সে ছিল আমার মু’মিন বান্দাদের অন্যতম।
133 – সাফফাত
وَإِنَّ لُوطًا لَّمِنَ ٱلْمُرْسَلِينَ
লূত ছিল রাসূলদের একজন।
134 – সাফফাত
إِذْ نَجَّيْنَٰهُ وَأَهْلَهُۥٓ أَجْمَعِينَ
আমি তাকে ও তার পরিবারের সবাইকে উদ্ধার করেছিলাম।
135 – সাফফাত
إِلَّا عَجُوزًا فِى ٱلْغَٰبِرِينَ
এক বৃদ্ধা ব্যতীত, যে ছিল পশ্চাতে অবস্থানকারীদের অন্তর্ভুক্ত।
136 – সাফফাত
ثُمَّ دَمَّرْنَا ٱلْءَاخَرِينَ
অতঃপর অবশিষ্টদেরকে আমি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করেছিলাম।
137 – সাফফাত
وَإِنَّكُمْ لَتَمُرُّونَ عَلَيْهِم مُّصْبِحِينَ
তোমরা তাদের ধ্বংসাবশেষগুলি অতিক্রম করে থাক সকালে –
138 – সাফফাত
وَبِٱلَّيْلِۗ أَفَلَا تَعْقِلُونَ
এবং সন্ধ্যায়। তবুও কি তোমরা অনুধাবন করবেনা?
139 – সাফফাত
وَإِنَّ يُونُسَ لَمِنَ ٱلْمُرْسَلِينَ
ইউনুসও ছিল রাসূলদের একজন।
140 – সাফফাত
إِذْ أَبَقَ إِلَى ٱلْفُلْكِ ٱلْمَشْحُونِ
স্মরণ কর, যখন সে পালিয়ে বোঝাই নৌযানে পৌঁছল।
141 – সাফফাত
فَسَاهَمَ فَكَانَ مِنَ ٱلْمُدْحَضِينَ
অতঃপর সে লটারীতে যোগদান করল এবং পরাভূত হল।
142 – সাফফাত
فَٱلْتَقَمَهُ ٱلْحُوتُ وَهُوَ مُلِيمٌ
পরে এক বৃহদাকার মৎস্য তাকে গিলে ফেলল; তখন সে নিজেকে ধিক্কার দিতে লাগল।
143 – সাফফাত
فَلَوْلَآ أَنَّهُۥ كَانَ مِنَ ٱلْمُسَبِّحِينَ
সে যদি আল্লাহর মহিমা ঘোষণা না করত –
144 – সাফফাত
لَلَبِثَ فِى بَطْنِهِۦٓ إِلَىٰ يَوْمِ يُبْعَثُونَ
তাহলে তাকে পুনরুত্থান দিন পর্যন্ত থাকতে হত ওর উদরে।
145 – সাফফাত
فَنَبَذْنَٰهُ بِٱلْعَرَآءِ وَهُوَ سَقِيمٌ
অতঃপর তাকে আমি নিক্ষেপ করলাম এক তৃণহীন প্রান্তরে এবং সে ছিল রুগ্ন।
146 – সাফফাত
وَأَنۢبَتْنَا عَلَيْهِ شَجَرَةً مِّن يَقْطِينٍ
পরে আমি তার উপর এক লাউ গাছ উদগত করলাম।
147 – সাফফাত
وَأَرْسَلْنَٰهُ إِلَىٰ مِاۡئَةِ أَلْفٍ أَوْ يَزِيدُونَ
তাকে আমি লক্ষ বা ততোধিক লোকের প্রতি প্রেরণ করেছিলাম।
148 – সাফফাত
فَـَٔامَنُواۡ فَمَتَّعْنَٰهُمْ إِلَىٰ حِينٍ
এবং তারা ঈমান এনেছিল; ফলে আমি তাদেরকে কিছু কালের জন্য জীবনোপভোগ করতে দিলাম।
149 – সাফফাত
فَٱسْتَفْتِهِمْ أَلِرَبِّكَ ٱلْبَنَاتُ وَلَهُمُ ٱلْبَنُونَ
এখন তাদেরকে জিজ্ঞেস করঃ তোমার রবের জন্য কি রয়েছে কন্যা সন্তান এবং তাদের জন্য পুত্র সন্তান?
150 – সাফফাত
أَمْ خَلَقْنَا ٱلْمَلَٰٓئِكَةَ إِنَٰثًا وَهُمْ شَٰهِدُونَ
অথবা আমি কি মালাইকাকে নারী রূপে সৃষ্টি করেছি, আর তারা তা প্রত্যক্ষ করেছিল?
151 – সাফফাত
أَلَآ إِنَّهُم مِّنْ إِفْكِهِمْ لَيَقُولُونَ
দেখ তারা মনগড়া কথা বলে যে –
152 – সাফফাত
وَلَدَ ٱللَّهُ وَإِنَّهُمْ لَكَٰذِبُونَ
আল্লাহ সন্তান জন্ম দিয়েছেন। তারা নিশ্চয়ই মিথ্যাবাদী।
153 – সাফফাত
أَصْطَفَى ٱلْبَنَاتِ عَلَى ٱلْبَنِينَ
তিনি কি পুত্র সন্তানের পরিবর্তে কন্যা সন্তান পছন্দ করতেন?
154 – সাফফাত
مَا لَكُمْ كَيْفَ تَحْكُمُونَ
তোমাদের কি হয়েছে, তোমরা কি রূপ বিচার কর?
155 – সাফফাত
أَفَلَا تَذَكَّرُونَ
তাহলে কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবেনা?
156 – সাফফাত
أَمْ لَكُمْ سُلْطَٰنٌ مُّبِينٌ
তোমাদের কি সুস্পষ্ট দলীল প্রমাণ আছে?
157 – সাফফাত
فَأْتُواۡ بِكِتَٰبِكُمْ إِن كُنتُمْ صَٰدِقِينَ
তোমরা সত্যবাদী হলে তোমাদের কিতাব উপস্থিত কর।
158 – সাফফাত
وَجَعَلُواۡ بَيْنَهُۥ وَبَيْنَ ٱلْجِنَّةِ نَسَبًاۚ وَلَقَدْ عَلِمَتِ ٱلْجِنَّةُ إِنَّهُمْ لَمُحْضَرُونَ
আল্লাহ ও জিন জাতির মধ্যে তারা আত্মীয়তার সম্পর্ক স্থির করেছে; অথচ জিনেরা জানে যে, তাদেরকেও উপস্থিত করা হবে শাস্তির জন্য।
159 – সাফফাত
سُبْحَٰنَ ٱللَّهِ عَمَّا يَصِفُونَ
তারা যা বলে তা হতে আল্লাহ পবিত্র, মহান –
160 – সাফফাত
إِلَّا عِبَادَ ٱللَّهِ ٱلْمُخْلَصِينَ
আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দারা ব্যতীত।
161 – সাফফাত
فَإِنَّكُمْ وَمَا تَعْبُدُونَ
তোমরা এবং তোমরা যাদের ইবাদাত কর –
162 – সাফফাত
مَآ أَنتُمْ عَلَيْهِ بِفَٰتِنِينَ
তোমরা কেহই কেহকেও আল্লাহ সম্বন্ধে বিভ্রান্ত করতে পারবেনা –
163 – সাফফাত
إِلَّا مَنْ هُوَ صَالِ ٱلْجَحِيمِ
শুধু প্রজ্জ্বলিত আগুনে প্রবেশকারীকে ব্যতীত।
164 – সাফফাত
وَمَا مِنَّآ إِلَّا لَهُۥ مَقَامٌ مَّعْلُومٌ
‘‘আমাদের প্রত্যেকের জন্যই নির্ধারিত স্থান রয়েছে,
165 – সাফফাত
وَإِنَّا لَنَحْنُ ٱلصَّآفُّونَ
আমরাতো সারিবদ্ধভাবে দন্ডায়মান,
166 – সাফফাত
وَإِنَّا لَنَحْنُ ٱلْمُسَبِّحُونَ
এবং আমরা অবশ্যই তাঁর পবিত্রতা ঘোষণাকারী।
167 – সাফফাত
وَإِن كَانُواۡ لَيَقُولُونَ
তারাইতো বলে এসেছে –
168 – সাফফাত
لَوْ أَنَّ عِندَنَا ذِكْرًا مِّنَ ٱلْأَوَّلِينَ
‘‘পূর্ববর্তীদের কিতাবের মত যদি আমাদের কোন কিতাব থাকত –
169 – সাফফাত
لَكُنَّا عِبَادَ ٱللَّهِ ٱلْمُخْلَصِينَ
তাহলে অবশ্যই আমরা আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দা হতাম’’।
170 – সাফফাত
فَكَفَرُواۡ بِهِۦۖ فَسَوْفَ يَعْلَمُونَ
কিন্তু তারা কুরআন প্রত্যাখ্যান করল এবং শীঘ্রই তারা জানতে পারবে।
171 – সাফফাত
وَلَقَدْ سَبَقَتْ كَلِمَتُنَا لِعِبَادِنَا ٱلْمُرْسَلِينَ
আমার প্রেরিত বান্দাদের সম্পর্কে আমার এই বাক্য পূর্বেই স্থির হয়েছে যে,
172 – সাফফাত
إِنَّهُمْ لَهُمُ ٱلْمَنصُورُونَ
অবশ্যই তারা জয়ী হবে।
173 – সাফফাত
وَإِنَّ جُندَنَا لَهُمُ ٱلْغَٰلِبُونَ
এবং আমার বাহিনীই হবে বিজয়ী।
174 – সাফফাত
فَتَوَلَّ عَنْهُمْ حَتَّىٰ حِينٍ
অতএব কিছু কালের জন্য তুমি তাদেরকে উপেক্ষা কর।
175 – সাফফাত
وَأَبْصِرْهُمْ فَسَوْفَ يُبْصِرُونَ
তুমি তাদেরকে পর্যবেক্ষণ কর, শীঘ্রই তারা প্রত্যক্ষ করবে।
176 – সাফফাত
أَفَبِعَذَابِنَا يَسْتَعْجِلُونَ
তারা কি তাহলে আমার শাস্তি ত্বরান্বিত করতে চায়?
177 – সাফফাত
فَإِذَا نَزَلَ بِسَاحَتِهِمْ فَسَآءَ صَبَاحُ ٱلْمُنذَرِينَ
তাদের আঙ্গিনায় যখন শাস্তি নেমে আসবে তখন সতর্কীকৃতদের প্রভাত হবে কত মন্দ!
178 – সাফফাত
وَتَوَلَّ عَنْهُمْ حَتَّىٰ حِينٍ
অতএব কিছুকালের জন্য তুমি তাদেরকে উপেক্ষা কর।
179 – সাফফাত
وَأَبْصِرْ فَسَوْفَ يُبْصِرُونَ
তুমি তাদেরকে পর্যবেক্ষণ কর, শীঘ্রই তারা পরিণাম প্রত্যক্ষ করবে।
180 – সাফফাত
سُبْحَٰنَ رَبِّكَ رَبِّ ٱلْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُونَ
তারা যা আরোপ করে তা হতে পবিত্র ও মহান তোমার রাব্ব, যিনি সকল ক্ষমতার অধিকারী।
181 – সাফফাত
وَسَلَٰمٌ عَلَى ٱلْمُرْسَلِينَ
শান্তি বর্ষিত হোক রাসূলগণের প্রতি।
182 – সাফফাত
وَٱلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ
প্রশংসা জগতসমূহের রাব্ব আল্লাহরই প্রাপ্য।

38 নং সূরা – সাদ – ص

মাক্বী – আয়াত সংখ্যা: 88
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

01 – সাদ
صٓۚ وَٱلْقُرْءَانِ ذِى ٱلذِّكْرِ
সা‘দ, শপথ উপদেশপূর্ণ কুরআনের!
02 – সাদ
بَلِ ٱلَّذِينَ كَفَرُواۡ فِى عِزَّةٍ وَشِقَاقٍ
কিন্তু কাফিরেরা ঔদ্ধত্য ও বিরোধিতায় ডুবে আছে।
03 – সাদ
كَمْ أَهْلَكْنَا مِن قَبْلِهِم مِّن قَرْنٍ فَنَادَواۡ وَّلَاتَ حِينَ مَنَاصٍ
এদের পূর্বে আমি কত জনগোষ্ঠী ধ্বংস করেছি, তখন তারা আর্ত চিৎকার করেছিল। কিন্তু তখন পরিত্রাণের কোনই উপায় ছিলনা।
04 – সাদ
وَعَجِبُوٓاۡ أَن جَآءَهُم مُّنذِرٌ مِّنْهُمْۖ وَقَالَ ٱلْكَٰفِرُونَ هَٰذَا سَٰحِرٌ كَذَّابٌ
তারা বিস্ময় বোধ করছে যে, তাদের নিকট তাদেরই মধ্য হতে একজন সতর্ককারী এসেছে এবং কাফিরেরা বলেঃ এতো এক যাদুকর, মিথ্যাবাদী,
05 – সাদ
أَجَعَلَ ٱلْءَالِهَةَ إِلَٰهًا وَٰحِدًاۖ إِنَّ هَٰذَا لَشَىْءٌ عُجَابٌ
সে কি অনেক মা‘বূদের পরিবর্তে এক মা‘বূদ বানিয়ে নিয়েছে? এতো এক অত্যাশ্চর্য ব্যাপার!
06 – সাদ
وَٱنطَلَقَ ٱلْمَلَأُ مِنْهُمْ أَنِ ٱمْشُواۡ وَٱصْبِرُواۡ عَلَىٰٓ ءَالِهَتِكُمْۖ إِنَّ هَٰذَا لَشَىْءٌ يُرَادُ
তাদের প্রধানরা সরে পড়ে এই বলেঃ তোমরা চলে যাও এবং তোমাদের দেবতাগুলির পূজায় তোমরা অটল থাক। নিশ্চয়ই এ ব্যাপারটি উদ্দেশ্যমূলক।
07 – সাদ
مَا سَمِعْنَا بِهَٰذَا فِى ٱلْمِلَّةِ ٱلْءَاخِرَةِ إِنْ هَٰذَآ إِلَّا ٱخْتِلَٰقٌ
আমরাতো অন্য ধর্মাদর্শে এরূপ কথা শুনিনি; এটা এক মনগড়া উক্তি মাত্র।
08 – সাদ
أَءُنزِلَ عَلَيْهِ ٱلذِّكْرُ مِنۢ بَيْنِنَاۚ بَلْ هُمْ فِى شَكٍّ مِّن ذِكْرِىۖ بَل لَّمَّا يَذُوقُواۡ عَذَابِ
আমাদের মধ্য হতে কি তারই উপর কুরআন অবতীর্ণ হল? প্রকৃত পক্ষে তারা আমার কুরআনে সন্দিহান, তারা এখনও আমার শাস্তি আস্বাদন করেনি।
09 – সাদ
أَمْ عِندَهُمْ خَزَآئِنُ رَحْمَةِ رَبِّكَ ٱلْعَزِيزِ ٱلْوَهَّابِ
তাদের নিকট কি রয়েছে অনুগ্রহের ভান্ডার তোমার রবের, যিনি পরাক্রমশালী, মহান দাতা?
10 – সাদ
أَمْ لَهُم مُّلْكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَاۖ فَلْيَرْتَقُواۡ فِى ٱلْأَسْبَٰبِ
তাদের কি সার্বভৌমত্ব আছে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী এবং এতদুভয়ের অন্তবর্তী সব কিছুর উপর? থাকলে তারা সিড়ি বেয়ে আরোহণ করুক।
11 – সাদ
جُندٌ مَّا هُنَالِكَ مَهْزُومٌ مِّنَ ٱلْأَحْزَابِ
বহু দলের এই বাহিনীও সে ক্ষেত্রে অবশ্যই পরাজিত হবে।
12 – সাদ
كَذَّبَتْ قَبْلَهُمْ قَوْمُ نُوحٍ وَعَادٌ وَفِرْعَوْنُ ذُو ٱلْأَوْتَادِ
তাদের পূর্বেও রাসূলদেরকে মিথ্যাবাদী বলেছিল নূহের সম্প্রদায়, ‘আদ, বহু শিবিরের অধিপতি ফির‘আউন –
13 – সাদ
وَثَمُودُ وَقَوْمُ لُوطٍ وَأَصْحَٰبُ لْـَٔيْكَةِۚ أُوۡلَٰٓئِكَ ٱلْأَحْزَابُ
আর সামূদ, লূত সম্প্রদায় ও আইকা’র অধিবাসী। তারা ছিল এক একটি বিশাল বাহিনী।
14 – সাদ
إِن كُلٌّ إِلَّا كَذَّبَ ٱلرُّسُلَ فَحَقَّ عِقَابِ
তাদের প্রত্যেকেই রাসূলদেরকে মিথ্যাবাদী বলেছে। ফলে তাদের ক্ষেত্রে আমার শাস্তি হয়েছে যথার্থ।
15 – সাদ
وَمَا يَنظُرُ هَٰٓؤُلَآءِ إِلَّا صَيْحَةً وَٰحِدَةً مَّا لَهَا مِن فَوَاقٍ
তারাতো অপেক্ষা করছে একটি মাত্র প্রচন্ড নিনাদের যাতে কোন বিরাম থাকবেনা।
16 – সাদ
وَقَالُواۡ رَبَّنَا عَجِّل لَّنَا قِطَّنَا قَبْلَ يَوْمِ ٱلْحِسَابِ
তারা বলেঃ হে আমাদের রাব্ব! বিচার দিনের পূর্বেই আমাদের প্রাপ্য আমাদেরকে শীঘ্র দিয়ে দাও।
17 – সাদ
ٱصْبِرْ عَلَىٰ مَا يَقُولُونَ وَٱذْكُرْ عَبْدَنَا دَاوُۥدَ ذَا ٱلْأَيْدِۖ إِنَّهُۥٓ أَوَّابٌ
তারা যা বলে তাতে তুমি ধৈর্য ধারণ কর। আর স্মরণ কর, আমার শক্তিশালী বান্দা দাঊদের কথা; সে ছিল অতিশয় আল্লাহর অভিমুখী।
18 – সাদ
إِنَّا سَخَّرْنَا ٱلْجِبَالَ مَعَهُۥ يُسَبِّحْنَ بِٱلْعَشِىِّ وَٱلْإِشْرَاقِ
আমি নিয়োজিত করেছিলাম পর্বতমালাকে, ওরা সকাল সন্ধ্যায় তার সাথে আমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করত।
19 – সাদ
وَٱلطَّيْرَ مَحْشُورَةًۖ كُلٌّ لَّهُۥٓ أَوَّابٌ
এবং সমবেত বিহংকুলকেও, সবাই ছিল তার অভিমুখী।
20 – সাদ
وَشَدَدْنَا مُلْكَهُۥ وَءَاتَيْنَٰهُ ٱلْحِكْمَةَ وَفَصْلَ ٱلْخِطَابِ
আমি তার রাজ্যকে সুদৃঢ় করেছিলাম এবং তাকে দিয়েছিলাম প্রজ্ঞা ও ফাইসালাকারী বাগ্মিতা।
21 – সাদ
وَهَلْ أَتَىٰكَ نَبَؤُاۡ ٱلْخَصْمِ إِذْ تَسَوَّرُواۡ ٱلْمِحْرَابَ
তোমার নিকট বিবাদকারী লোকের বৃত্তান্ত পৌঁছেছে কি, যখন তারা প্রাচীর ডিঙ্গিয়ে এল ইবাদাতখানায় –
22 – সাদ
إِذْ دَخَلُواۡ عَلَىٰ دَاوُۥدَ فَفَزِعَ مِنْهُمْۖ قَالُواۡ لَا تَخَفْۖ خَصْمَانِ بَغَىٰ بَعْضُنَا عَلَىٰ بَعْضٍ فَٱحْكُم بَيْنَنَا بِٱلْحَقِّ وَلَا تُشْطِطْ وَٱهْدِنَآ إِلَىٰ سَوَآءِ ٱلصِّرَٰطِ
এবং দাউদের নিকট পৌঁছল, তখন তাদের কারণে সে ভীত হয়ে পড়ল। তারা বললঃ ভীত হবেননা, আমরা দুই বিবাদমান পক্ষ – আমরা একে অপরের উপর যুল্‌ম করেছি; অতএব আমাদের মধ্যে ন্যায় বিচার করুন, অবিচার করবেননা এবং আমাদেরকে সঠিক পথ নির্দেশ করুন।
23 – সাদ
إِنَّ هَٰذَآ أَخِى لَهُۥ تِسْعٌ وَتِسْعُونَ نَعْجَةً وَلِىَ نَعْجَةٌ وَٰحِدَةٌ فَقَالَ أَكْفِلْنِيهَا وَعَزَّنِى فِى ٱلْخِطَابِ
এ আমার ভাই – এর আছে নিরানব্বইটি দুম্বা এবং আমার আছে মাত্র একটি দুম্বা; তবুও সে বলে আমার জিম্মায় এটি দিয়ে দাও, এবং কথায় সে আমার প্রতি কঠোরতা প্রদর্শন করেছে।
24 – সাদ
قَالَ لَقَدْ ظَلَمَكَ بِسُؤَالِ نَعْجَتِكَ إِلَىٰ نِعَاجِهِۦۖ وَإِنَّ كَثِيرًا مِّنَ ٱلْخُلَطَآءِ لَيَبْغِى بَعْضُهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ إِلَّا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواۡ وَعَمِلُواۡ ٱلصَّٰلِحَٰتِ وَقَلِيلٌ مَّا هُمْۗ وَظَنَّ دَاوُۥدُ أَنَّمَا فَتَنَّٰهُ فَٱسْتَغْفَرَ رَبَّهُۥ وَخَرَّ رَاكِعًا وَأَنَابَ۩
দাউদ বললঃ তোমার দুম্বাটিকে তার দুম্বাগুলির সাথে যুক্ত করার দাবী করে সে তোমার প্রতি যুল্‌ম করেছে। শরীকদের অনেকে একে অন্যের উপর অবিচার করে থাকে, করেনা শুধু মু’মিন ও সৎ কর্মশীল ব্যক্তিরা এবং তারা সংখ্যায় স্বল্প। দাউদ বুঝতে পারল যে, আমি তাকে পরীক্ষা করলাম। অতঃপর সে তার রবের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করল এবং নত হয়ে লুটিয়ে পড়ল ও তাঁর অভিমুখী হল। [সাজদাহ]
25 – সাদ
فَغَفَرْنَا لَهُۥ ذَٰلِكَۖ وَإِنَّ لَهُۥ عِندَنَا لَزُلْفَىٰ وَحُسْنَ مَـَٔابٍ
অতঃপর আমি তার ক্রটি ক্ষমা করলাম। আমার নিকট তার জন্য রয়েছে উচ্চ মর্যাদা ও শুভ পরিণাম।
26 – সাদ
يَٰدَاوُۥدُ إِنَّا جَعَلْنَٰكَ خَلِيفَةً فِى ٱلْأَرْضِ فَٱحْكُم بَيْنَ ٱلنَّاسِ بِٱلْحَقِّ وَلَا تَتَّبِعِ ٱلْهَوَىٰ فَيُضِلَّكَ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِۚ إِنَّ ٱلَّذِينَ يَضِلُّونَ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌۢ بِمَا نَسُواۡ يَوْمَ ٱلْحِسَابِ
হে দাউদ! আমি তোমাকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করেছি, অতএব তুমি লোকদের মধ্যে সুবিচার কর এবং খেয়াল খুশীর অনুসরণ করনা, কেননা এটা তোমাকে আল্লাহর পথ হতে বিচ্যুত করবে। যারা আল্লাহর পথ পরিত্যাগ করে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি, কারণ তারা বিচার দিনকে বিস্মৃত হয়ে আছে।
27 – সাদ
وَمَا خَلَقْنَا ٱلسَّمَآءَ وَٱلْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا بَٰطِلًاۚ ذَٰلِكَ ظَنُّ ٱلَّذِينَ كَفَرُواۡۚ فَوَيْلٌ لِّلَّذِينَ كَفَرُواۡ مِنَ ٱلنَّارِ
আমি আকাশ ও পৃথিবী এবং এতদুভয়ের মধ্যস্থিত কোন কিছুই অনর্থক সৃষ্টি করিনি, যদিও কাফিরদের ধারণা তাই। সুতরাং কাফিরদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের দুর্ভোগ।
28 – সাদ
أَمْ نَجْعَلُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواۡ وَعَمِلُواۡ ٱلصَّٰلِحَٰتِ كَٱلْمُفْسِدِينَ فِى ٱلْأَرْضِ أَمْ نَجْعَلُ ٱلْمُتَّقِينَ كَٱلْفُجَّارِ
যারা ঈমান আনে ও সৎ কাজ করে এবং যারা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়ায় আমি কি তাদেরকে সমগন্য করব? আমি কি মুত্তাকীদেরকে অপরাধীদের সমান গন্য করব?
29 – সাদ
كِتَٰبٌ أَنزَلْنَٰهُ إِلَيْكَ مُبَٰرَكٌ لِّيَدَّبَّرُوٓاۡ ءَايَٰتِهِۦ وَلِيَتَذَكَّرَ أُوۡلُواۡ ٱلْأَلْبَٰبِ
এক কল্যাণময় কিতাব ইহা, আমি তোমার উপর অবতীর্ণ করেছি, যাতে মানুষ এর আয়াতসমূহ অনুধাবন করে এবং বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিরা উপদেশ গ্রহণ করে।
30 – সাদ
وَوَهَبْنَا لِدَاوُۥدَ سُلَيْمَٰنَۚ نِعْمَ ٱلْعَبْدُۖ إِنَّهُۥٓ أَوَّابٌ
আমি দাঊদকে দান করলাম সুলাইমান। সে ছিল উত্তম বান্দা এবং সে ছিল অতিশয় আল্লাহ অভিমুখী।
31 – সাদ
إِذْ عُرِضَ عَلَيْهِ بِٱلْعَشِىِّ ٱلصَّٰفِنَٰتُ ٱلْجِيَادُ
যখন অপরাহ্নে তার সামনে ধাবমান উৎকৃষ্ট অশ্বরাজিকে উপস্থিত করা হল –
32 – সাদ
فَقَالَ إِنِّىٓ أَحْبَبْتُ حُبَّ ٱلْخَيْرِ عَن ذِكْرِ رَبِّى حَتَّىٰ تَوَارَتْ بِٱلْحِجَابِ
তখন সে বললঃ আমিতো আমার রবের স্মরণ হতে বিমুখ হয়ে ঐশ্বর্য প্রীতিতে মগ্ন হয়ে পড়েছি, এদিকে সূর্য অস্তমিত হয়ে গেছে।
33 – সাদ
رُدُّوهَا عَلَىَّۖ فَطَفِقَ مَسْحًۢا بِٱلسُّوقِ وَٱلْأَعْنَاقِ
ওগুলোকে পুনরায় আমার সামনে নিয়ে এসো। অতঃপর সে ওগুলোর পা ও গলদেশ ছেদন করতে লাগল।
34 – সাদ
وَلَقَدْ فَتَنَّا سُلَيْمَٰنَ وَأَلْقَيْنَا عَلَىٰ كُرْسِيِّهِۦ جَسَدًا ثُمَّ أَنَابَ
আমি সুলাইমানকে পরীক্ষা করলাম এবং তার আসনের উপর রাখলাম একটি দেহ; অতঃপর সুলাইমান আমার অভিমুখী হল।
35 – সাদ
قَالَ رَبِّ ٱغْفِرْ لِى وَهَبْ لِى مُلْكًا لَّا يَنۢبَغِى لِأَحَدٍ مِّنۢ بَعْدِىٓۖ إِنَّكَ أَنتَ ٱلْوَهَّابُ
সে বললঃ হে আমার রাব্ব! আমাকে ক্ষমা করুন এবং এমন এক রাজ্য দান করুন যার অধিকারী আমি ছাড়া আর কেহ না হয়। আপনিতো পরম দাতা।
36 – সাদ
فَسَخَّرْنَا لَهُ ٱلرِّيحَ تَجْرِى بِأَمْرِهِۦ رُخَآءً حَيْثُ أَصَابَ
তখন আমি তার অধীন করে দিলাম বায়ুকে যা তার আদেশে, সে যেখানে ইচ্ছা করত সেখানে মৃদুমন্দ গতিতে প্রবাহিত হত।
37 – সাদ
وَٱلشَّيَٰطِينَ كُلَّ بَنَّآءٍ وَغَوَّاصٍ
এবং শাইতানদেরকে, যারা সবাই ছিল প্রাসাদ নির্মাণকারী ও ডুবুরী।
38 – সাদ
وَءَاخَرِينَ مُقَرَّنِينَ فِى ٱلْأَصْفَادِ
এবং শৃংখলে আবদ্ধ করলাম আরও অনেককে।
39 – সাদ
هَٰذَا عَطَآؤُنَا فَٱمْنُنْ أَوْ أَمْسِكْ بِغَيْرِ حِسَابٍ
এসব আমার অনুগ্রহ, এটা তুমি অন্যকে দিতে অথবা নিজে রাখতে পার। এ জন্য তোমাকে হিসাব দিতে হবেনা।
40 – সাদ
وَإِنَّ لَهُۥ عِندَنَا لَزُلْفَىٰ وَحُسْنَ مَـَٔابٍ
এবং আমার নিকট তার জন্য রয়েছে উচ্চ মর্যাদা ও শুভ পরিণাম।
41 – সাদ
وَٱذْكُرْ عَبْدَنَآ أَيُّوبَ إِذْ نَادَىٰ رَبَّهُۥٓ أَنِّى مَسَّنِىَ ٱلشَّيْطَٰنُ بِنُصْبٍ وَعَذَابٍ
স্মরণ কর আমার বান্দা আইয়ুবকে! যখন সে তার রাব্বকে আহবান করে বলেছিলঃ শাইতানতো আমাকে যন্ত্রণা ও কষ্টে ফেলেছে।
42 – সাদ
ٱرْكُضْ بِرِجْلِكَۖ هَٰذَا مُغْتَسَلٌۢ بَارِدٌ وَشَرَابٌ
আমি তাকে বললামঃ তুমি তোমার পা দ্বারা ভূমিতে আঘাত কর, এইতো গোসলের সুশীতল পানি ও পান করার পানীয়।
43 – সাদ
وَوَهَبْنَا لَهُۥٓ أَهْلَهُۥ وَمِثْلَهُم مَّعَهُمْ رَحْمَةً مِّنَّا وَذِكْرَىٰ لِأُوۡلِى ٱلْأَلْبَٰبِ
আমি তাকে দিলাম তার পরিজনবর্গ ও তাদের মত আরও, আমার অনুগ্রহস্বরূপ ও বোধশক্তিসম্পন্ন লোকদের জন্য উপদেশস্বরূপ।
44 – সাদ
وَخُذْ بِيَدِكَ ضِغْثًا فَٱضْرِب بِّهِۦ وَلَا تَحْنَثْۗ إِنَّا وَجَدْنَٰهُ صَابِرًاۚ نِّعْمَ ٱلْعَبْدُۖ إِنَّهُۥٓ أَوَّابٌ
আমি তাকে আদেশ করলামঃ এক মুষ্টি তৃণ তুলে নাও এবং তা দ্বারা আঘাত কর ও শপথ ভঙ্গ করনা। আমি তাকে পেলাম ধৈর্যশীল। কত উত্তম বান্দা সে! সে ছিল আমার অভিমুখী।
45 – সাদ
وَٱذْكُرْ عِبَٰدَنَآ إِبْرَٰهِيمَ وَإِسْحَٰقَ وَيَعْقُوبَ أُوۡلِى ٱلْأَيْدِى وَٱلْأَبْصَٰرِ
স্মরণ কর, আমার বান্দা ইবরাহীম, ইসহাক ও ইয়াকূবের কথা, তারা ছিল শক্তিশালী ও সূক্ষ্মদর্শী।
46 – সাদ
إِنَّآ أَخْلَصْنَٰهُم بِخَالِصَةٍ ذِكْرَى ٱلدَّارِ
আমি তাদেরকে অধিকারী করেছিলাম এক বিশেষ গুণের, ওটা ছিল পরকালের স্মরণ।
47 – সাদ
وَإِنَّهُمْ عِندَنَا لَمِنَ ٱلْمُصْطَفَيْنَ ٱلْأَخْيَارِ
অবশ্যই তারা ছিল আমার মনোনীত ও উত্তম বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।
48 – সাদ
وَٱذْكُرْ إِسْمَٰعِيلَ وَٱلْيَسَعَ وَذَا ٱلْكِفْلِۖ وَكُلٌّ مِّنَ ٱلْأَخْيَارِ
স্মরণ কর ইসমাঈল, আল ইয়াসাআ’ ও যুলকিফলের কথা, তারা প্রত্যেকেই ছিল সজ্জন।
49 – সাদ
هَٰذَا ذِكْرٌۚ وَإِنَّ لِلْمُتَّقِينَ لَحُسْنَ مَـَٔابٍ
এটা এক স্মরণীয় বর্ণনা এবং মুত্তাকীদের জন্য রয়েছে উত্তম আবাস –
50 – সাদ
جَنَّٰتِ عَدْنٍ مُّفَتَّحَةً لَّهُمُ ٱلْأَبْوَٰبُ
চিরস্থায়ী জান্নাত, তাদের জন্য উম্মুক্ত রয়েছে যার দ্বার।
51 – সাদ
مُتَّكِـِٔينَ فِيهَا يَدْعُونَ فِيهَا بِفَٰكِهَةٍ كَثِيرَةٍ وَشَرَابٍ
সেখানে তারা আসীন হবে হেলান দিয়ে, সেখানে তারা বহুবিধ ফলমূল ও পানীয়ের জন্য আদেশ দিবে।
52 – সাদ
وَعِندَهُمْ قَٰصِرَٰتُ ٱلطَّرْفِ أَتْرَابٌ
আর তাদের পাশে থাকবে আনত নয়না সমবয়স্কা তরুণীরা।
53 – সাদ
هَٰذَا مَا تُوعَدُونَ لِيَوْمِ ٱلْحِسَابِ
এটাই হিসাব দিনে তোমাদেরকে দেয়া প্রতিশ্রুতি।
54 – সাদ
إِنَّ هَٰذَا لَرِزْقُنَا مَا لَهُۥ مِن نَّفَادٍ
এটাই আমার দেয়া রিয্ক যা নিঃশেষ হবেনা।
55 – সাদ
هَٰذَاۚ وَإِنَّ لِلطَّٰغِينَ لَشَرَّ مَـَٔابٍ
এটা এরূপই! আর সীমালংঘনকারীদের জন্য রয়েছে নিকৃষ্টতম ঠিকানা –
56 – সাদ
جَهَنَّمَ يَصْلَوْنَهَا فَبِئْسَ ٱلْمِهَادُ
জাহান্নাম, সেখানে তারা প্রবেশ করবে, কত নিকৃষ্ট বিশ্রামস্থল।
57 – সাদ
هَٰذَا فَلْيَذُوقُوهُ حَمِيمٌ وَغَسَّاقٌ
এটা সীমালংঘনকারীদের জন্য। সুতরাং তারা আস্বাদন করুক ফুটন্ত পানি ও পুঁজ।
58 – সাদ
وَءَاخَرُ مِن شَكْلِهِۦٓ أَزْوَٰجٌ
আরও আছে এ রূপ বিভিন্ন ধরণের শাস্তি।
59 – সাদ
هَٰذَا فَوْجٌ مُّقْتَحِمٌ مَّعَكُمْۖ لَا مَرْحَبًۢا بِهِمْۚ إِنَّهُمْ صَالُواۡ ٱلنَّارِ
এইতো এক বাহিনী, তোমাদের সাথে প্রবেশ করেছে। তাদের জন্য নেই অভিনন্দন, তারাতো জাহান্নামে জ্বলবে।
60 – সাদ
قَالُواۡ بَلْ أَنتُمْ لَا مَرْحَبًۢا بِكُمْۖ أَنتُمْ قَدَّمْتُمُوهُ لَنَاۖ فَبِئْسَ ٱلْقَرَارُ
অনুসারীরা বলবেঃ বরং তোমরাও, তোমাদের জন্যও তো অভিনন্দন নেই। তোমরাইতো পূর্বে ওটা আমাদের জন্য ব্যবস্থা করেছ, কত নিকৃষ্ট এই আবাসস্থল!
61 – সাদ
قَالُواۡ رَبَّنَا مَن قَدَّمَ لَنَا هَٰذَا فَزِدْهُ عَذَابًا ضِعْفًا فِى ٱلنَّارِ
তারা বলবেঃ হে আমাদের রাব্ব! যে এটা আমাদের সম্মুখীন করেছে জাহান্নামে তার শাস্তি আপনি দ্বিগুণ বর্ধিত করুন!
62 – সাদ
وَقَالُواۡ مَا لَنَا لَا نَرَىٰ رِجَالًا كُنَّا نَعُدُّهُم مِّنَ ٱلْأَشْرَارِ
তারা আরও বলবেঃ আমাদের কি হল যে, আমরা যে সব লোককে মন্দ বলে গণ্য করতাম তাদেরকে দেখতে পাচ্ছিনা?
63 – সাদ
أَتَّخَذْنَٰهُمْ سِخْرِيًّا أَمْ زَاغَتْ عَنْهُمُ ٱلْأَبْصَٰرُ
তাহলে কি আমরা তাদেরকে অহেতুক ঠাট্টা বিদ্রুপের পাত্র মনে করতাম, নাকি তাদের ব্যাপারে আমাদের দৃষ্টি বিভ্রম ঘটেছে?
64 – সাদ
إِنَّ ذَٰلِكَ لَحَقٌّ تَخَاصُمُ أَهْلِ ٱلنَّارِ
এটা নিশ্চিত সত্য জাহান্নামীদের এই বাদ প্রতিবাদ।
65 – সাদ
قُلْ إِنَّمَآ أَنَا۠ مُنذِرٌۖ وَمَا مِنْ إِلَٰهٍ إِلَّا ٱللَّهُ ٱلْوَٰحِدُ ٱلْقَهَّارُ
বলঃ আমিতো একজন সতর্ককারী মাত্র এবং আল্লাহ ছাড়া কোন মা‘বূদ নেই যিনি এক, পরাক্রমশালী –
66 – সাদ
رَبُّ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا ٱلْعَزِيزُ ٱلْغَفَّٰرُ
যিনি আকাশমন্ডলী, পৃথিবী এবং এগুলির মধ্যস্থিত সবকিছুর রাব্ব, যিনি পরাক্রমশালী, মহা ক্ষমাশীল।
67 – সাদ
قُلْ هُوَ نَبَؤٌاۡ عَظِيمٌ
বলঃ এটা এক মহা সংবাদ –
68 – সাদ
أَنتُمْ عَنْهُ مُعْرِضُونَ
যা হতে তোমরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছ।
69 – সাদ
مَا كَانَ لِىَ مِنْ عِلْمٍۭ بِٱلْمَلَإِ ٱلْأَعْلَىٰٓ إِذْ يَخْتَصِمُونَ
উর্ধ্বলোকে তাদের বাদানুবাদ সম্পর্কে আমার কোন জ্ঞান ছিলনা।
70 – সাদ
إِن يُوحَىٰٓ إِلَىَّ إِلَّآ أَنَّمَآ أَنَا۠ نَذِيرٌ مُّبِينٌ
আমার নিকটতো এই অহী এসেছে যে, আমি একজন স্পষ্ট সতর্ককারী।
71 – সাদ
إِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَٰٓئِكَةِ إِنِّى خَٰلِقٌۢ بَشَرًا مِّن طِينٍ
স্মরণ কর, তোমার রাব্ব মালাইকা/ফেরেশতাদেরকে বলেছিলেনঃ আমি মানুষ সৃষ্টি করছি কর্দম হতে।
72 – সাদ
فَإِذَا سَوَّيْتُهُۥ وَنَفَخْتُ فِيهِ مِن رُّوحِى فَقَعُواۡ لَهُۥ سَٰجِدِينَ
যখন আমি ওকে সুষম করব এবং ওতে আমার সৃষ্টি রূহ সঞ্চার করব তখন তোমরা ওর প্রতি সাজদাহবনত হও।
73 – সাদ
فَسَجَدَ ٱلْمَلَٰٓئِكَةُ كُلُّهُمْ أَجْمَعُونَ
তখন মালাইকা/ফেরেশতারা সবাই সাজদাহবনত হল –
74 – সাদ
إِلَّآ إِبْلِيسَ ٱسْتَكْبَرَ وَكَانَ مِنَ ٱلْكَٰفِرِينَ
শুধু ইবলীস ব্যতীত; সে অহংকার করল এবং কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হল।
75 – সাদ
قَالَ يَٰٓإِبْلِيسُ مَا مَنَعَكَ أَن تَسْجُدَ لِمَا خَلَقْتُ بِيَدَىَّۖ أَسْتَكْبَرْتَ أَمْ كُنتَ مِنَ ٱلْعَالِينَ
তিনি বললেনঃ হে ইবলীস! আমি যাকে নিজ হাতে সৃষ্টি করেছি তার প্রতি সাজদাহবনত হতে তোকে কিসে বাধা দিল? তুই কি ঔদ্ধত্য প্রকাশ করলি, নাকি তুই উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন?
76 – সাদ
قَالَ أَنَا۠ خَيْرٌ مِّنْهُۖ خَلَقْتَنِى مِن نَّارٍ وَخَلَقْتَهُۥ مِن طِينٍ
সে বললঃ আমি তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ। আপনি আমাকে আগুন হতে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি হতে।
77 – সাদ
قَالَ فَٱخْرُجْ مِنْهَا فَإِنَّكَ رَجِيمٌ
তিনি বললেনঃ তুই এখান হতে বের হয়ে যা, নিশ্চয়ই তুই বিতাড়িত।
78 – সাদ
وَإِنَّ عَلَيْكَ لَعْنَتِىٓ إِلَىٰ يَوْمِ ٱلدِّينِ
এবং তোর উপর আমার লা’নত স্থায়ী হবে, কর্মফল দিন পর্যন্ত।
79 – সাদ
قَالَ رَبِّ فَأَنظِرْنِىٓ إِلَىٰ يَوْمِ يُبْعَثُونَ
সে বললঃ হে আমার রাব্ব! আপনি আমাকে অবকাশ দিন পুনরুত্থান দিন পর্যন্ত।
80 – সাদ
قَالَ فَإِنَّكَ مِنَ ٱلْمُنظَرِينَ
তিনি বললেনঃ তুই অবকাশ প্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হলি –
81 – সাদ
إِلَىٰ يَوْمِ ٱلْوَقْتِ ٱلْمَعْلُومِ
অবধারিত সময় উপস্থিত হওয়ার দিন পর্যন্ত।
82 – সাদ
قَالَ فَبِعِزَّتِكَ لَأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ
সে বললঃ আপনার ক্ষমতার শপথ! আমি তাদের সবাইকে পথভ্রষ্ট করব।
83 – সাদ
إِلَّا عِبَادَكَ مِنْهُمُ ٱلْمُخْلَصِينَ
তবে তাদের মধ্যে আপনার একনিষ্ঠ বান্দাদেরকে নয়।
84 – সাদ
قَالَ فَٱلْحَقُّ وَٱلْحَقَّ أَقُولُ
তিনি বললেনঃ তবে এটাই সত্য, আর আমি সত্যই বলি –
85 – সাদ
لَأَمْلَأَنَّ جَهَنَّمَ مِنكَ وَمِمَّن تَبِعَكَ مِنْهُمْ أَجْمَعِينَ
তোর দ্বারা ও তোর অনুসারীদের দ্বারা আমি জাহান্নাম পূর্ণ করবই।
86 – সাদ
قُلْ مَآ أَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ وَمَآ أَنَا۠ مِنَ ٱلْمُتَكَلِّفِينَ
বলঃ আমি এর জন্য তোমাদের নিকট কোন প্রতিদান চাইনা এবং যারা মিথ্যা দাবী করে আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত নই।
87 – সাদ
إِنْ هُوَ إِلَّا ذِكْرٌ لِّلْعَٰلَمِينَ
ইহাতো বিশ্বজগতের জন্য উপদেশ মাত্র।
88 – সাদ
وَلَتَعْلَمُنَّ نَبَأَهُۥ بَعْدَ حِينٍۭ
এর সংবাদ তোমরা অবশ্যই জানবে, কিছুকাল পরে।

39 নং সূরা – আয-যুমার- اَلزُّمَر

মাক্বী – আয়াত সংখ্যা: 75
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

01 – যুমার
تَنزِيلُ ٱلْكِتَٰبِ مِنَ ٱللَّهِ ٱلْعَزِيزِ ٱلْحَكِيمِ
এই কিতাব অবতীর্ণ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় আল্লাহর নিকট হতে।
02 – যুমার
إِنَّآ أَنزَلْنَآ إِلَيْكَ ٱلْكِتَٰبَ بِٱلْحَقِّ فَٱعْبُدِ ٱللَّهَ مُخْلِصًا لَّهُ ٱلدِّينَ
আমি তোমার নিকট এই কিতাব সত্যসহ অবতীর্ণ করেছি; সুতরাং আল্লাহর ইবাদাত কর তাঁর আনুগত্যে বিশুদ্ধ চিত্ত হয়ে।
03 – যুমার
أَلَا لِلَّهِ ٱلدِّينُ ٱلْخَالِصُۚ وَٱلَّذِينَ ٱتَّخَذُواۡ مِن دُونِهِۦٓ أَوْلِيَآءَ مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَآ إِلَى ٱللَّهِ زُلْفَىٰٓ إِنَّ ٱللَّهَ يَحْكُمُ بَيْنَهُمْ فِى مَا هُمْ فِيهِ يَخْتَلِفُونَۗ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَهْدِى مَنْ هُوَ كَٰذِبٌ كَفَّارٌ
জেনে রেখ, অবিমিশ্র আনুগত্য আল্লাহরই প্রাপ্য। যারা আল্লাহর পরিবর্তে অন্যকে অভিভাবক রূপে গ্রহণ করে তারা বলেঃ আমরা তো এদের পূজা এ জন্যই করি যে, এরা আমাদেরকে আল্লাহর সান্নিধ্য এনে দিবে। তারা যে বিষয়ে নিজেদের মধ্যে মতভেদ করছে আল্লাহ তার ফাইসালা করে দিবেন। যে মিথ্যাবাদী ও কাফির, আল্লাহ তাকে সৎ পথে পরিচালিত করেন না।
04 – যুমার
لَّوْ أَرَادَ ٱللَّهُ أَن يَتَّخِذَ وَلَدًا لَّٱصْطَفَىٰ مِمَّا يَخْلُقُ مَا يَشَآءُۚ سُبْحَٰنَهُۥۖ هُوَ ٱللَّهُ ٱلْوَٰحِدُ ٱلْقَهَّارُ
আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করতে ইচ্ছা করলে তিনি তাঁর সৃষ্টির মধ্যে যাকে ইচ্ছা মনোনীত করতে পারতেন। পবিত্র ও মহান তিনি। তিনিই আল্লাহ এক, প্রবল পরাক্রমশালী।
05 – যুমার
خَلَقَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ بِٱلْحَقِّۖ يُكَوِّرُ ٱلَّيْلَ عَلَى ٱلنَّهَارِ وَيُكَوِّرُ ٱلنَّهَارَ عَلَى ٱلَّيْلِۖ وَسَخَّرَ ٱلشَّمْسَ وَٱلْقَمَرَۖ كُلٌّ يَجْرِى لِأَجَلٍ مُّسَمًّىۗ أَلَا هُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلْغَفَّٰرُ
তিনি যথাযথভাবে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। তিনি রাত দ্বারা দিনকে আচ্ছাদিত করেন এবং রাতকে আচ্ছাদিত করেন দিন দ্বারা। সূর্য ও চন্দ্রকে তিনি করেছেন নিয়মাধীন। প্রত্যেকেই পরিক্রমন করে এক নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত। জেনে রেখ, তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল।
06 – যুমার
خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَٰحِدَةٍ ثُمَّ جَعَلَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَأَنزَلَ لَكُم مِّنَ ٱلْأَنْعَٰمِ ثَمَٰنِيَةَ أَزْوَٰجٍۚ يَخْلُقُكُمْ فِى بُطُونِ أُمَّهَٰتِكُمْ خَلْقًا مِّنۢ بَعْدِ خَلْقٍ فِى ظُلُمَٰتٍ ثَلَٰثٍۚ ذَٰلِكُمُ ٱللَّهُ رَبُّكُمْ لَهُ ٱلْمُلْكُۖ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَۖ فَأَنَّىٰ تُصْرَفُونَ
তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন একই ব্যক্তি হতে। অতঃপর তিনি তা হতে তার সঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন। তিনি তোমাদের দিয়েছেন আট প্রকার গৃহপালিত পশু। তিনি তোমাদের মাতৃগর্ভের ত্রিবিধ অন্ধকারে পর্যায়ক্রমে সৃষ্টি করেছেন। তিনিই আল্লাহ! তোমাদের রাব্ব। সার্বভৌমত্ব তাঁরই, তিনি ছাড়া কোন মা‘বূদ নেই। অতএব তোমরা মুখ ফিরিয়ে কোথায় চলেছ?
07 – যুমার
إِن تَكْفُرُواۡ فَإِنَّ ٱللَّهَ غَنِىٌّ عَنكُمْۖ وَلَا يَرْضَىٰ لِعِبَادِهِ ٱلْكُفْرَۖ وَإِن تَشْكُرُواۡ يَرْضَهُ لَكُمْۗ وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَىٰۗ ثُمَّ إِلَىٰ رَبِّكُم مَّرْجِعُكُمْ فَيُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَۚ إِنَّهُۥ عَلِيمٌۢ بِذَاتِ ٱلصُّدُورِ
তোমরা অকৃতজ্ঞ হলে আল্লাহ তোমাদের মুখাপেক্ষী নন, তিনি তাঁর বান্দাদের অকৃতজ্ঞতা পছন্দ করেননা। যদি তোমরা কৃতজ্ঞ হও তাহলে তিনি তোমাদের জন্য এটাই পছন্দ করেন। একের বোঝা অন্যে বহন করবেনা। অতঃপর তোমাদের রবের নিকট তোমাদের প্রত্যাবর্তন এবং তোমরা যা করতে তিনি তোমাদেরকে তা অবগত করাবেন। অন্তরে যা আছে তা তিনি সম্যক অবগত।
08 – যুমার
وَإِذَا مَسَّ ٱلْإِنسَٰنَ ضُرٌّ دَعَا رَبَّهُۥ مُنِيبًا إِلَيْهِ ثُمَّ إِذَا خَوَّلَهُۥ نِعْمَةً مِّنْهُ نَسِىَ مَا كَانَ يَدْعُوٓاۡ إِلَيْهِ مِن قَبْلُ وَجَعَلَ لِلَّهِ أَندَادًا لِّيُضِلَّ عَن سَبِيلِهِۦۚ قُلْ تَمَتَّعْ بِكُفْرِكَ قَلِيلًاۖ إِنَّكَ مِنْ أَصْحَٰبِ ٱلنَّارِ
মানুষকে যখন দুঃখ দৈন্য স্পর্শ করে তখন সে অনুতপ্ত হয়ে একনিষ্ঠভাবে তার রাব্বকে ডাকে। কিন্তু পরে যখন তিনি তার প্রতি অনুগ্রহ করেন তখন সে বিস্মৃত হয়ে যায় পূর্বে যাকে সে ডেকেছিল তাঁকে এবং সে আল্লাহর সমকক্ষ দাঁড় করায়, অপরকে তাঁর পথ হতে বিভ্রান্ত করার জন্য। বলঃ কুফরীর জীবন অবস্থায় তুমি কিছু কাল উপভোগ করে নাও। বস্তুতঃ তুমিতো জাহান্নামেরই অধিবাসী।
09 – যুমার
أَمَّنْ هُوَ قَٰنِتٌ ءَانَآءَ ٱلَّيْلِ سَاجِدًا وَقَآئِمًا يَحْذَرُ ٱلْءَاخِرَةَ وَيَرْجُواۡ رَحْمَةَ رَبِّهِۦۗ قُلْ هَلْ يَسْتَوِى ٱلَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَٱلَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَۗ إِنَّمَا يَتَذَكَّرُ أُوۡلُواۡ ٱلْأَلْبَٰبِ
যে ব্যক্তি রাতের বিভিন্ন সময়ে সাজদাহবনত হয়ে ও দাঁড়িয়ে আনুগত্য প্রকাশ করে, আখিরাতকে ভয় করে এবং তার রবের অনুগ্রহ প্রত্যাশা করে সে কি তার সমান যে তা করেনা? বলঃ যারা জানে এবং যারা জানেনা তারা কি সমান? বোধশক্তি সম্পন্ন লোকেরাই শুধু উপদেশ গ্রহণ করে।
10 – যুমার
قُلْ يَٰعِبَادِ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواۡ ٱتَّقُواۡ رَبَّكُمْۚ لِلَّذِينَ أَحْسَنُواۡ فِى هَٰذِهِ ٱلدُّنْيَا حَسَنَةٌۗ وَأَرْضُ ٱللَّهِ وَٰسِعَةٌۗ إِنَّمَا يُوَفَّى ٱلصَّٰبِرُونَ أَجْرَهُم بِغَيْرِ حِسَابٍ
বলঃ (আমার এই কথা) হে আমার মু’মিন বান্দারা! তোমরা তোমাদের রাব্বকে ভয় কর। যারা এই দুনিয়ায় কল্যাণকর কাজ করে তাদের জন্য আছে কল্যাণ। প্রশস্ত আল্লাহর পৃথিবী, ধৈর্যশীলদেরকে অপরিমিত পুরষ্কার দেয়া হবে।
11 – যুমার
قُلْ إِنِّىٓ أُمِرْتُ أَنْ أَعْبُدَ ٱللَّهَ مُخْلِصًا لَّهُ ٱلدِّينَ
বলঃ আমি আদিষ্ট হয়েছি আল্লাহর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে তাঁর ইবাদাত করতে।
12 – যুমার
وَأُمِرْتُ لِأَنْ أَكُونَ أَوَّلَ ٱلْمُسْلِمِينَ
আর আদিষ্ট হয়েছি, আমি যেন আত্মসমর্পনকারীদের অগ্রণী হই।
13 – যুমার
قُلْ إِنِّىٓ أَخَافُ إِنْ عَصَيْتُ رَبِّى عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ
বলঃ আমি যদি আমার রবের অবাধ্য হই তাহলে আমি ভয় করি মহা দিনের শাস্তির।
14 – যুমার
قُلِ ٱللَّهَ أَعْبُدُ مُخْلِصًا لَّهُۥ دِينِى
বলঃ আমি ইবাদাত করি আল্লাহরই, তাঁর প্রতি আমার আনুগত্যকে একনিষ্ঠ রেখে।
15 – যুমার
فَٱعْبُدُواۡ مَا شِئْتُم مِّن دُونِهِۦۗ قُلْ إِنَّ ٱلْخَٰسِرِينَ ٱلَّذِينَ خَسِرُوٓاۡ أَنفُسَهُمْ وَأَهْلِيهِمْ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِۗ أَلَا ذَٰلِكَ هُوَ ٱلْخُسْرَانُ ٱلْمُبِينُ
অতএব তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যার ইচ্ছা তার ইবাদাত কর। বলঃ কিয়ামাত দিবসে ক্ষতিগ্রস্ত তারাই যারা নিজেদের ও নিজেদের পরিবারবর্গের ক্ষতিসাধন করে। জেনে রেখ, এটাই সুস্পষ্ট ক্ষতি।
16 – যুমার
لَهُم مِّن فَوْقِهِمْ ظُلَلٌ مِّنَ ٱلنَّارِ وَمِن تَحْتِهِمْ ظُلَلٌۚ ذَٰلِكَ يُخَوِّفُ ٱللَّهُ بِهِۦ عِبَادَهُۥۚ يَٰعِبَادِ فَٱتَّقُونِ
তাদের জন্য থাকবে তাদের উর্ধ্বদিকে আগুনের আচ্ছাদন এবং নিম্নদিকেও আচ্ছাদন। এ দ্বারা আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে সতর্ক করেন। হে আমার বান্দারা! তোমরা আমাকে ভয় কর।
17 – যুমার
وَٱلَّذِينَ ٱجْتَنَبُواۡ ٱلطَّٰغُوتَ أَن يَعْبُدُوهَا وَأَنَابُوٓاۡ إِلَى ٱللَّهِ لَهُمُ ٱلْبُشْرَىٰۚ فَبَشِّرْ عِبَادِ
যারা তাগুতের পূজা হতে দূরে থাকে এবং আল্লাহর অভিমুখী হয় তাদের জন্য আছে সুসংবাদ। অতএব সুসংবাদ দাও আমার বান্দাদেরকে।
18 – যুমার
ٱلَّذِينَ يَسْتَمِعُونَ ٱلْقَوْلَ فَيَتَّبِعُونَ أَحْسَنَهُۥٓۚ أُوۡلَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ هَدَىٰهُمُ ٱللَّهُۖ وَأُوۡلَٰٓئِكَ هُمْ أُوۡلُواۡ ٱلْأَلْبَٰبِ
যারা মনোযোগ সহকারে কথা শুনে এবং ওর মধ্যে যা উত্তম তা গ্রহণ করে তাদেরকে আল্লাহ সৎ পথে পরিচালিত করেন এবং তারাই বোধশক্তি সম্পন্ন।
19 – যুমার
أَفَمَنْ حَقَّ عَلَيْهِ كَلِمَةُ ٱلْعَذَابِ أَفَأَنتَ تُنقِذُ مَن فِى ٱلنَّارِ
যার উপর দন্ডাদেশ অবধারিত হয়েছে, তুমি কি রক্ষা করতে পারবে সেই ব্যক্তিকে যে জাহান্নামে আছে?
20 – যুমার
لَٰكِنِ ٱلَّذِينَ ٱتَّقَوْاۡ رَبَّهُمْ لَهُمْ غُرَفٌ مِّن فَوْقِهَا غُرَفٌ مَّبْنِيَّةٌ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَٰرُۖ وَعْدَ ٱللَّهِۖ لَا يُخْلِفُ ٱللَّهُ ٱلْمِيعَادَ
তবে যারা তাদের রাব্বকে ভয় করে তাদের জন্য আছে বহু প্রাসাদ, যার উপর নির্মিত আরও প্রাসাদ, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত; আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আল্লাহ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেননা।
21 – যুমার
أَلَمْ تَرَ أَنَّ ٱللَّهَ أَنزَلَ مِنَ ٱلسَّمَآءِ مَآءً فَسَلَكَهُۥ يَنَٰبِيعَ فِى ٱلْأَرْضِ ثُمَّ يُخْرِجُ بِهِۦ زَرْعًا مُّخْتَلِفًا أَلْوَٰنُهُۥ ثُمَّ يَهِيجُ فَتَرَىٰهُ مُصْفَرًّا ثُمَّ يَجْعَلُهُۥ حُطَٰمًاۚ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَذِكْرَىٰ لِأُوۡلِى ٱلْأَلْبَٰبِ
তুমি কি দেখনা যে, আল্লাহ আকাশ হতে বারি বর্ষণ করেন; অতঃপর ভূমিতে নির্ঝর রূপে প্রবাহিত করেন এবং তদ্বারা বিবিধ বর্ণের ফসল উৎপন্ন করেন, অতঃপর ওটা শুকিয়ে যায় এবং তোমরা ওটা পীত বর্ণ দেখতে পাও, অবশেষে তিনি ওটা খড়কুটায় পরিণত করেন? এতে অবশ্যই উপদেশ রয়েছে বোধশক্তিসম্পন্নদের জন্য।
22 – যুমার
أَفَمَن شَرَحَ ٱللَّهُ صَدْرَهُۥ لِلْإِسْلَٰمِ فَهُوَ عَلَىٰ نُورٍ مِّن رَّبِّهِۦۚ فَوَيْلٌ لِّلْقَٰسِيَةِ قُلُوبُهُم مِّن ذِكْرِ ٱللَّهِۚ أُوۡلَٰٓئِكَ فِى ضَلَٰلٍ مُّبِينٍ
আল্লাহ ইসলামের জন্য যার বক্ষ উন্মুক্ত করে দিয়েছেন এবং যে তার রবের আলোকে আছে সে কি তার সমান (যে এরূপ নয়); দুর্ভোগ সেই কঠোর হৃদয় ব্যক্তিদের জন্য যারা আল্লাহর স্মরণে পরান্মুখ! তারা স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছে।
23 – যুমার
ٱللَّهُ نَزَّلَ أَحْسَنَ ٱلْحَدِيثِ كِتَٰبًا مُّتَشَٰبِهًا مَّثَانِىَ تَقْشَعِرُّ مِنْهُ جُلُودُ ٱلَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ ثُمَّ تَلِينُ جُلُودُهُمْ وَقُلُوبُهُمْ إِلَىٰ ذِكْرِ ٱللَّهِۚ ذَٰلِكَ هُدَى ٱللَّهِ يَهْدِى بِهِۦ مَن يَشَآءُۚ وَمَن يُضْلِلِ ٱللَّهُ فَمَا لَهُۥ مِنْ هَادٍ
আল্লাহ অবতীর্ণ করেছেন উত্তম বাণী সম্বলিত কিতাব যা সুসামঞ্জস এবং যা পুনঃ পুনঃ আবৃত্তি করা হয়। এতে যারা তাদের রাব্বকে ভয় করে তাদের গাত্র রোমাঞ্চিত হয়, অতঃপর তাদের দেহ-মন প্রশান্ত হয়ে আল্লাহর স্মরণে ঝুঁকে পড়ে; এটাই আল্লাহর পথনির্দেশ, তিনি যাকে ইচ্ছা এটা দ্বারা পথ প্রদর্শন করেন। আল্লাহ যাকে বিভ্রান্ত করেন তার কোন পথ প্রদর্শক নেই।
24 – যুমার
أَفَمَن يَتَّقِى بِوَجْهِهِۦ سُوٓءَ ٱلْعَذَابِ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِۚ وَقِيلَ لِلظَّٰلِمِينَ ذُوقُواۡ مَا كُنتُمْ تَكْسِبُونَ
যে ব্যক্তি কিয়ামাত দিবসে তার মুখমন্ডল দ্বারা কঠিন শাস্তি ঠেকাতে চাবে সে কি তার মত যে নিরাপদ? যালিমদের বলা হবে, তোমরা যা অর্জন করতে তার শাস্তি আস্বাদন কর।
25 – যুমার
كَذَّبَ ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ فَأَتَىٰهُمُ ٱلْعَذَابُ مِنْ حَيْثُ لَا يَشْعُرُونَ
তাদের পূর্ববর্তীরাও মিথ্যা আরোপ করেছিল, ফলে শাস্তি তাদেরকে গ্রাস করল তাদের অজ্ঞাতসারে।
26 – যুমার
فَأَذَاقَهُمُ ٱللَّهُ ٱلْخِزْىَ فِى ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَاۖ وَلَعَذَابُ ٱلْءَاخِرَةِ أَكْبَرُۚ لَوْ كَانُواۡ يَعْلَمُونَ
ফলে আল্লাহ তাদেরকে পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনা ভোগ করালেন এবং আখিরাতের শাস্তিতো কঠিনতর, যদি তারা জানতো!
27 – যুমার
وَلَقَدْ ضَرَبْنَا لِلنَّاسِ فِى هَٰذَا ٱلْقُرْءَانِ مِن كُلِّ مَثَلٍ لَّعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ
আমি এই কুরআনে মানুষের জন্য সর্ব প্রকার দৃষ্টান্ত উপস্থিত করেছি যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।
28 – যুমার
قُرْءَانًا عَرَبِيًّا غَيْرَ ذِى عِوَجٍ لَّعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ
আরাবী ভাষার এই কুরআন বক্রতামুক্ত, যাতে মানুষ সাবধানতা অবলম্বন করে।
29 – যুমার
ضَرَبَ ٱللَّهُ مَثَلًا رَّجُلًا فِيهِ شُرَكَآءُ مُتَشَٰكِسُونَ وَرَجُلًا سَلَمًا لِّرَجُلٍ هَلْ يَسْتَوِيَانِ مَثَلًاۚ ٱلْحَمْدُ لِلَّهِۚ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ
আল্লাহ একটি দৃষ্টান্ত পেশ করছেনঃ এক ব্যক্তির মালিক অনেক যারা পরস্পর বিরুদ্ধ ভাবাপন্ন এবং এক ব্যক্তির মালিক শুধু একজন; এই দুইয়ের অবস্থা কি সমান? প্রশংসা আল্লাহরই প্রাপ্য; কিন্তু তাদের অধিকাংশই এটা জানেনা।
30 – যুমার
إِنَّكَ مَيِّتٌ وَإِنَّهُم مَّيِّتُونَ
তুমিতো মরণশীল এবং তারাও মরণশীল।
31 – যুমার
ثُمَّ إِنَّكُمْ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ عِندَ رَبِّكُمْ تَخْتَصِمُونَ
অতঃপর কিয়ামাত দিবসে তোমরা পরস্পর তোমাদের রবের সামনে বাকবিতন্ডা করবে।
32 – যুমার
فَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّن كَذَبَ عَلَى ٱللَّهِ وَكَذَّبَ بِٱلصِّدْقِ إِذْ جَآءَهُۥٓۚ أَلَيْسَ فِى جَهَنَّمَ مَثْوًى لِّلْكَٰفِرِينَ
যে ব্যক্তি আল্লাহ সম্বন্ধে মিথ্যা বলে এবং সত্য আসার পর তা প্রত্যাখ্যান করে সে অপেক্ষা যালিম আর কে? কাফিরদের আবাসস্থল কি জাহান্নাম নয়?
33 – যুমার
وَٱلَّذِى جَآءَ بِٱلصِّدْقِ وَصَدَّقَ بِهِۦٓۙ أُوۡلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْمُتَّقُونَ
যারা সত্য এনেছে এবং যারা সত্যকে সত্য বলে মেনেছে তারাইতো মুত্তাকী।
34 – যুমার
لَهُم مَّا يَشَآءُونَ عِندَ رَبِّهِمْۚ ذَٰلِكَ جَزَآءُ ٱلْمُحْسِنِينَ
তাদের বাঞ্ছিত সব কিছুই আছে তাদের রবের নিকট। এটাই সৎকর্মশীলদের পুরস্কার।
35 – যুমার
لِيُكَفِّرَ ٱللَّهُ عَنْهُمْ أَسْوَأَ ٱلَّذِى عَمِلُواۡ وَيَجْزِيَهُمْ أَجْرَهُم بِأَحْسَنِ ٱلَّذِى كَانُواۡ يَعْمَلُونَ
কারণ তারা যে সব মন্দ কাজ করেছিল আল্লাহ তা ক্ষমা করে দিবেন এবং তাদেরকে তাদের সৎ কাজের জন্য পুরস্কৃত করবেন।
36 – যুমার
أَلَيْسَ ٱللَّهُ بِكَافٍ عَبْدَهُۥۖ وَيُخَوِّفُونَكَ بِٱلَّذِينَ مِن دُونِهِۦۚ وَمَن يُضْلِلِ ٱللَّهُ فَمَا لَهُۥ مِنْ هَادٍ
আল্লাহ কি তাঁর বান্দার জন্য যথেষ্ট নন? অথচ তারা তোমাদেরকে আল্লাহর পরিবর্তে অপরের ভয় দেখায়। আল্লাহ যাকে বিভ্রান্ত করেন তার জন্য কোন পথ প্রদর্শক নেই।
37 – যুমার
وَمَن يَهْدِ ٱللَّهُ فَمَا لَهُۥ مِن مُّضِلٍّۗ أَلَيْسَ ٱللَّهُ بِعَزِيزٍ ذِى ٱنتِقَامٍ
এবং যাকে আল্লাহ হিদায়াত দান করেন তার জন্য কোন পথভ্রষ্টকারী নেই, আল্লাহ কি পরাক্রমশালী দন্ডবিধায়ক নন?
38 – যুমার
وَلَئِن سَأَلْتَهُم مَّنْ خَلَقَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ لَيَقُولُنَّ ٱللَّهُۚ قُلْ أَفَرَءَيْتُم مَّا تَدْعُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ إِنْ أَرَادَنِىَ ٱللَّهُ بِضُرٍّ هَلْ هُنَّ كَٰشِفَٰتُ ضُرِّهِۦٓ أَوْ أَرَادَنِى بِرَحْمَةٍ هَلْ هُنَّ مُمْسِكَٰتُ رَحْمَتِهِۦۚ قُلْ حَسْبِىَ ٱللَّهُۖ عَلَيْهِ يَتَوَكَّلُ ٱلْمُتَوَكِّلُونَ
তুমি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস করঃ আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী কে সৃষ্টি করেছেন? তারা অবশ্যই বলবেঃ আল্লাহ! বলঃ তোমরা কি ভেবে দেখেছ যে, আল্লাহ আমার অনিষ্ট চাইলে তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে ডাক তারা কি সেই অনিষ্টতা দূর করতে পারবে? অথবা তিনি আমার প্রতি অনুগ্রহ করতে চাইলে তারা কি সেই অনুগ্রহ রোধ করতে পারবে? বলঃ আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। নির্ভরকারীরা আল্লাহর উপর নির্ভর করে।
39 – যুমার
قُلْ يَٰقَوْمِ ٱعْمَلُواۡ عَلَىٰ مَكَانَتِكُمْ إِنِّى عَٰمِلٌۖ فَسَوْفَ تَعْلَمُونَ
বলঃ হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা স্ব স্ব অবস্থায় কাজ করতে থাক, আমিও আমার কাজ করছি। শীঘ্রই জানতে পারবে –
40 – যুমার
مَن يَأْتِيهِ عَذَابٌ يُخْزِيهِ وَيَحِلُّ عَلَيْهِ عَذَابٌ مُّقِيمٌ
কার উপর আসবে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি এবং কার উপর আপতিত হবে স্থায়ী শাস্তি।
41 – যুমার
إِنَّآ أَنزَلْنَا عَلَيْكَ ٱلْكِتَٰبَ لِلنَّاسِ بِٱلْحَقِّۖ فَمَنِ ٱهْتَدَىٰ فَلِنَفْسِهِۦۖ وَمَن ضَلَّ فَإِنَّمَا يَضِلُّ عَلَيْهَاۖ وَمَآ أَنتَ عَلَيْهِم بِوَكِيلٍ
আমি তোমার প্রতি সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছি মানুষের কল্যাণের জন্য। অতঃপর যে সৎ পথ অবলম্বন করে সে তা করে নিজেরই কল্যাণের জন্য এবং যে বিপথগামী হয় সেতো বিপথগামী হয় নিজেরই ধ্বংসের জন্য এবং তুমি তাদের তত্ত্বাবধায়ক নও।
42 – যুমার
ٱللَّهُ يَتَوَفَّى ٱلْأَنفُسَ حِينَ مَوْتِهَا وَٱلَّتِى لَمْ تَمُتْ فِى مَنَامِهَاۖ فَيُمْسِكُ ٱلَّتِى قَضَىٰ عَلَيْهَا ٱلْمَوْتَ وَيُرْسِلُ ٱلْأُخْرَىٰٓ إِلَىٰٓ أَجَلٍ مُّسَمًّىۚ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَٰتٍ لِّقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ
আল্লাহই প্রাণ হরণ করেন জীবসমূহের, তাদের মৃত্যুর সময় এবং যাদের মৃত্যু আসেনি তাদের প্রাণও নিদ্রার সময়। অতঃপর যার জন্য মৃত্যুর সিদ্ধান্ত করেন তার প্রাণ তিনি রেখে দেন এবং অপরগুলি ফিরিয়ে দেন, এক নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। এতে অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য।
43 – যুমার
أَمِ ٱتَّخَذُواۡ مِن دُونِ ٱللَّهِ شُفَعَآءَۚ قُلْ أَوَلَوْ كَانُواۡ لَا يَمْلِكُونَ شَيْـًٔا وَلَا يَعْقِلُونَ
তাহলে কি তারা আল্লাহ ছাড়া অপরকে সুপারিশ সাব্যস্ত করেছে? বলঃ তাদের কোন ক্ষমতা না থাকলেও এবং তারা না বুঝলেও?
44 – যুমার
قُل لِّلَّهِ ٱلشَّفَٰعَةُ جَمِيعًاۖ لَّهُۥ مُلْكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِۖ ثُمَّ إِلَيْهِ تُرْجَعُونَ
বলঃ সুপারিশ ইখতিয়ারে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্ব আল্লাহরই। অতঃপর তাঁরই নিকট তোমরা প্রত্যানীত হবে।
45 – যুমার
وَإِذَا ذُكِرَ ٱللَّهُ وَحْدَهُ ٱشْمَأَزَّتْ قُلُوبُ ٱلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِٱلْءَاخِرَةِۖ وَإِذَا ذُكِرَ ٱلَّذِينَ مِن دُونِهِۦٓ إِذَا هُمْ يَسْتَبْشِرُونَ
একক আল্লাহর কথা বলা হলে, যারা আখিরাতে বিশ্বাস করেনা তাদের অন্তর বিতৃষ্ণায় সংকুচিত হয় এবং আল্লাহর পরিবর্তে তাদের দেবতাগুলির উল্লেখ করা হলে তারা আনন্দে উল্লসিত হয়।
46 – যুমার
قُلِ ٱللَّهُمَّ فَاطِرَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ عَٰلِمَ ٱلْغَيْبِ وَٱلشَّهَٰدَةِ أَنتَ تَحْكُمُ بَيْنَ عِبَادِكَ فِى مَا كَانُواۡ فِيهِ يَخْتَلِفُونَ
বলঃ হে আল্লাহ! আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর স্রষ্টা! দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা! আপনার বান্দারা যে বিষয়ে মতবিরোধ করে, আপনি তাদের মধ্যে ওর ফাইসালা করে দিবেন।
47 – যুমার
وَلَوْ أَنَّ لِلَّذِينَ ظَلَمُواۡ مَا فِى ٱلْأَرْضِ جَمِيعًا وَمِثْلَهُۥ مَعَهُۥ لَٱفْتَدَوْاۡ بِهِۦ مِن سُوٓءِ ٱلْعَذَابِ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِۚ وَبَدَا لَهُم مِّنَ ٱللَّهِ مَا لَمْ يَكُونُواۡ يَحْتَسِبُونَ
যারা যুল্‌ম করেছে, যদি তাদের দুনিয়ায় যা আছে তা সম্পূর্ণ এবং এর সম পরিমাণ সম্পদও থাকে তাহলে কিয়ামাত দিবসে কঠিন শাস্তি হতে মুক্তিপণ স্বরূপ সকল বিষয় সম্পত্তি তারা দিয়ে দিবে এবং তাদের জন্য আল্লাহর নিকট হতে এমন কিছু প্রকাশিত হবে যা তারা কল্পনাও করেনি।
48 – যুমার
وَبَدَا لَهُمْ سَيِّـَٔاتُ مَا كَسَبُواۡ وَحَاقَ بِهِم مَّا كَانُواۡ بِهِۦ يَسْتَهْزِءُونَ
তাদের কৃতকর্মের মন্দ ফল তাদের নিকট প্রকাশ হয়ে পড়বে এবং তারা যা নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রুপ করত তা তাদেরকে পরিবেষ্টন করবে।
49 – যুমার
فَإِذَا مَسَّ ٱلْإِنسَٰنَ ضُرٌّ دَعَانَا ثُمَّ إِذَا خَوَّلْنَٰهُ نِعْمَةً مِّنَّا قَالَ إِنَّمَآ أُوتِيتُهُۥ عَلَىٰ عِلْمٍۭۚ بَلْ هِىَ فِتْنَةٌ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ
মানুষকে দুঃখ দৈন্য স্পর্শ করলে সে আমাকে আহবান করে। অতঃপর যখন আমি তার প্রতি অনুগ্রহ করি তখন সে বলেঃ আমিতো এটা লাভ করেছি আমার জ্ঞানের মাধ্যমে। বস্তুতঃ এটা এক পরীক্ষা, কিন্তু তাদের অধিকাংশই বুঝেনা।
50 – যুমার
قَدْ قَالَهَا ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ فَمَآ أَغْنَىٰ عَنْهُم مَّا كَانُواۡ يَكْسِبُونَ
তাদের পূর্ববর্তীরাও এটাই বলত, কিন্তু তাদের কৃতকর্ম তাদের কোন কাজে আসেনি।
51 – যুমার
فَأَصَابَهُمْ سَيِّـَٔاتُ مَا كَسَبُواۡۚ وَٱلَّذِينَ ظَلَمُواۡ مِنْ هَٰٓؤُلَآءِ سَيُصِيبُهُمْ سَيِّـَٔاتُ مَا كَسَبُواۡ وَمَا هُم بِمُعْجِزِينَ
তাদের কর্মের মন্দ ফল তাদের উপর আপতিত হয়েছে, তাদের মধ্যে যারা যুল্‌ম করে তাদের উপরও তাদের কর্মের মন্দ ফল আপতিত হবে এবং তারা ব্যর্থও করতে পারবেনা।
52 – যুমার
أَوَلَمْ يَعْلَمُوٓاۡ أَنَّ ٱللَّهَ يَبْسُطُ ٱلرِّزْقَ لِمَن يَشَآءُ وَيَقْدِرُۚ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَٰتٍ لِّقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ
তারা কি জানেনা, আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছা তার রিয্ক বৃদ্ধি করেন অথবা হ্রাস করেন। এতে অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে মু’মিন সম্প্রদায়ের জন্য।
53 – যুমার
قُلْ يَٰعِبَادِىَ ٱلَّذِينَ أَسْرَفُواۡ عَلَىٰٓ أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُواۡ مِن رَّحْمَةِ ٱللَّهِۚ إِنَّ ٱللَّهَ يَغْفِرُ ٱلذُّنُوبَ جَمِيعًاۚ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلْغَفُورُ ٱلرَّحِيمُ
বলঃ (আমার এ কথা) হে আমার বান্দারা! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছ – আল্লাহর অনুগ্রহ হতে নিরাশ হয়োনা; আল্লাহ সমুদয় পাপ ক্ষমা করে দিবেন। তিনিতো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
54 – যুমার
وَأَنِيبُوٓاۡ إِلَىٰ رَبِّكُمْ وَأَسْلِمُواۡ لَهُۥ مِن قَبْلِ أَن يَأْتِيَكُمُ ٱلْعَذَابُ ثُمَّ لَا تُنصَرُونَ
তোমরা তোমাদের রবের অভিমুখী হও এবং তাঁর নিকট আত্মসমর্পণ কর তোমাদের নিকট শাস্তি আসার পূর্বে, অতঃপর তোমাদেরকে সাহায্য করা হবেনা।
55 – যুমার
وَٱتَّبِعُوٓاۡ أَحْسَنَ مَآ أُنزِلَ إِلَيْكُم مِّن رَّبِّكُم مِّن قَبْلِ أَن يَأْتِيَكُمُ ٱلْعَذَابُ بَغْتَةً وَأَنتُمْ لَا تَشْعُرُونَ
অনুসরণ কর তোমাদের প্রতি তোমাদের রবের নিকট হতে উত্তম যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তার, তোমাদের উপর অতর্কিতভাবে তোমাদের অজ্ঞাতে শাস্তি আসার পূর্বে –
56 – যুমার
أَن تَقُولَ نَفْسٌ يَٰحَسْرَتَىٰ عَلَىٰ مَا فَرَّطتُ فِى جَنۢبِ ٱللَّهِ وَإِن كُنتُ لَمِنَ ٱلسَّٰخِرِينَ
যাতে কেহকেও বলতে না হয়ঃ হায়! আল্লাহর প্রতি আমার কর্তব্যে আমি যে শৈথিল্য করেছি তার জন্য আফসোস! আমিতো ঠাট্টাকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম।
57 – যুমার
أَوْ تَقُولَ لَوْ أَنَّ ٱللَّهَ هَدَىٰنِى لَكُنتُ مِنَ ٱلْمُتَّقِينَ
অথবা কেহ যেন না বলেঃ আল্লাহ আমাকে পথ প্রদর্শন করলে আমিতো অবশ্যই মুত্তাকীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম।
58 – যুমার
أَوْ تَقُولَ حِينَ تَرَى ٱلْعَذَابَ لَوْ أَنَّ لِى كَرَّةً فَأَكُونَ مِنَ ٱلْمُحْسِنِينَ
অথবা শাস্তি প্রত্যক্ষ করলে যেন কেহকে বলতে না হয়ঃ আহা! যদি একবার পৃথিবীতে আমার প্রত্যাবর্তন ঘটত তাহলে আমি সৎকর্মশীল হতাম।
59 – যুমার
بَلَىٰ قَدْ جَآءَتْكَ ءَايَٰتِى فَكَذَّبْتَ بِهَا وَٱسْتَكْبَرْتَ وَكُنتَ مِنَ ٱلْكَٰفِرِينَ
প্রকৃত ব্যাপারতো এই যে, আমার নিদর্শন তোমার নিকট এসেছিল, কিন্তু তুমি এগুলিকে মিথ্যা বলেছিলে এবং অহংকার করেছিলে; আর তুমিতো ছিলে কাফিরদের একজন।
60 – যুমার
وَيَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ تَرَى ٱلَّذِينَ كَذَبُواۡ عَلَى ٱللَّهِ وُجُوهُهُم مُّسْوَدَّةٌۚ أَلَيْسَ فِى جَهَنَّمَ مَثْوًى لِّلْمُتَكَبِّرِينَ
যারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে, তুমি কিয়ামাত দিবসে তাদের মুখমন্ডল কালো দেখবে। ঔদ্ধত্যদের আবাসস্থল কি জাহান্নাম নয়?
61 – যুমার
وَيُنَجِّى ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ ٱتَّقَوْاۡ بِمَفَازَتِهِمْ لَا يَمَسُّهُمُ ٱلسُّوٓءُ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ
আল্লাহ মুত্তাকীদের উদ্ধার করবেন তাদের সাফল্যসহ; তাদেরকে অমঙ্গল স্পর্শ করবেনা এবং তারা দুঃখও পাবেনা।
62 – যুমার
ٱللَّهُ خَٰلِقُ كُلِّ شَىْءٍۖ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍ وَكِيلٌ
আল্লাহ সব কিছুর স্রষ্টা এবং তিনি সব কিছুর কর্মবিধায়ক।
63 – যুমার
لَّهُۥ مَقَالِيدُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِۗ وَٱلَّذِينَ كَفَرُواۡ بِـَٔايَٰتِ ٱللَّهِ أُوۡلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْخَٰسِرُونَ
আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর চাবি তাঁরই নিকট। যারা আল্লাহর আয়াতকে অস্বীকার করে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।
64 – যুমার
قُلْ أَفَغَيْرَ ٱللَّهِ تَأْمُرُوٓنِّىٓ أَعْبُدُ أَيُّهَا ٱلْجَٰهِلُونَ
বলঃ হে অজ্ঞ ব্যক্তিরা! তোমরা কি আমাকে আল্লাহ ব্যতীত অন্যের ইবাদাত করতে বলছ?
65 – যুমার
وَلَقَدْ أُوحِىَ إِلَيْكَ وَإِلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِكَ لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ ٱلْخَٰسِرِينَ
তোমার প্রতি, তোমার পূর্ববর্তীদের প্রতি অবশ্যই অহী হয়েছে; তুমি আল্লাহর শরীক স্থির করলে তোমার কাজ নিস্ফল হবে এবং তুমি হবে ক্ষতিগ্রস্ত।
66 – যুমার
بَلِ ٱللَّهَ فَٱعْبُدْ وَكُن مِّنَ ٱلشَّٰكِرِينَ
অতএব তুমি আল্লাহরই ইবাদাত কর এবং কৃতজ্ঞ হও।
67 – যুমার
وَمَا قَدَرُواۡ ٱللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِۦ وَٱلْأَرْضُ جَمِيعًا قَبْضَتُهُۥ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ وَٱلسَّمَٰوَٰتُ مَطْوِيَّٰتٌۢ بِيَمِينِهِۦۚ سُبْحَٰنَهُۥ وَتَعَٰلَىٰ عَمَّا يُشْرِكُونَ
তারা আল্লাহর যথোচিত সম্মান করেনা। কিয়ামাত দিবসে সমস্ত পৃথিবী থাকবে তাঁর হাতের মুষ্টিতে এবং আকাশমন্ডলী ভাঁজ করা থাকবে তাঁর ডান হাতে। পবিত্র ও মহান তিনি, তারা যাকে শরীক করে তিনি তার উর্ধ্বে।
68 – যুমার
وَنُفِخَ فِى ٱلصُّورِ فَصَعِقَ مَن فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَن فِى ٱلْأَرْضِ إِلَّا مَن شَآءَ ٱللَّهُۖ ثُمَّ نُفِخَ فِيهِ أُخْرَىٰ فَإِذَا هُمْ قِيَامٌ يَنظُرُونَ
এবং শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে, ফলে যাদেরকে আল্লাহ ইচ্ছা করবেন তারা ব্যতীত আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সবাই মুর্ছিত হয়ে পড়বে। অতঃপর আবার শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে, তৎক্ষণাৎ তারা দন্ডায়মান হয়ে তাকাতে থাকবে।
69 – যুমার
وَأَشْرَقَتِ ٱلْأَرْضُ بِنُورِ رَبِّهَا وَوُضِعَ ٱلْكِتَٰبُ وَجِاۡىٓءَ بِٱلنَّبِيِّۦنَ وَٱلشُّهَدَآءِ وَقُضِىَ بَيْنَهُم بِٱلْحَقِّ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ
যমীন ওর রবের জ্যোতিতে উদ্ভাসিত হবে, ‘আমলনামা পেশ করা হবে এবং নাবীদেরকে ও সাক্ষীদেরকে হাযির করা হবে এবং সকলের মধ্যে ন্যায় বিচার করা হবে ও তাদের প্রতি যুলম করা হবেনা।
70 – যুমার
وَوُفِّيَتْ كُلُّ نَفْسٍ مَّا عَمِلَتْ وَهُوَ أَعْلَمُ بِمَا يَفْعَلُونَ
প্রত্যেকের কৃতকর্মের পূর্ণ প্রতিফল দেয়া হবে। তারা যা করে সেই সম্পর্কে আল্লাহ সবিশেষ অবহিত।
71 – যুমার
وَسِيقَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓاۡ إِلَىٰ جَهَنَّمَ زُمَرًاۖ حَتَّىٰٓ إِذَا جَآءُوهَا فُتِحَتْ أَبْوَٰبُهَا وَقَالَ لَهُمْ خَزَنَتُهَآ أَلَمْ يَأْتِكُمْ رُسُلٌ مِّنكُمْ يَتْلُونَ عَلَيْكُمْ ءَايَٰتِ رَبِّكُمْ وَيُنذِرُونَكُمْ لِقَآءَ يَوْمِكُمْ هَٰذَاۚ قَالُواۡ بَلَىٰ وَلَٰكِنْ حَقَّتْ كَلِمَةُ ٱلْعَذَابِ عَلَى ٱلْكَٰفِرِينَ
কাফিরদেরকে জাহান্নামের দিকে দলে দলে হাঁকিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। যখন তারা সেখানে উপস্থিত হবে তখন ওর প্রবেশ দ্বারগুলি খুলে দেয়া হবে এবং জাহান্নামের রক্ষীরা তাদেরকে বলবেঃ তোমাদের নিকট কি তোমাদের মধ্য হতে রাসূল আসেনি যারা তোমাদের নিকট তোমাদের রবের আয়াত আবৃত্তি করত এবং এই দিনের সাক্ষাৎ সম্বন্ধে সতর্ক করত? তারা বলবেঃ অবশ্যই এসেছিল। বস্তুতঃ কাফিরদের প্রতি শাস্তির কথা বাস্তবায়িত হয়েছে।
72 – যুমার
قِيلَ ٱدْخُلُوٓاۡ أَبْوَٰبَ جَهَنَّمَ خَٰلِدِينَ فِيهَاۖ فَبِئْسَ مَثْوَى ٱلْمُتَكَبِّرِينَ
তাদেরকে বলা হবেঃ জাহান্নামের দ্বারসমূহে প্রবেশ কর, তাতে স্থায়ীভাবে অবস্থিতির জন্য। কত নিকৃষ্ট উদ্ধতদের আবাসস্থল!
73 – যুমার
وَسِيقَ ٱلَّذِينَ ٱتَّقَوْاۡ رَبَّهُمْ إِلَى ٱلْجَنَّةِ زُمَرًاۖ حَتَّىٰٓ إِذَا جَآءُوهَا وَفُتِحَتْ أَبْوَٰبُهَا وَقَالَ لَهُمْ خَزَنَتُهَا سَلَٰمٌ عَلَيْكُمْ طِبْتُمْ فَٱدْخُلُوهَا خَٰلِدِينَ
যারা তাদের রাব্বকে ভয় করত তাদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। যখন তারা সেখানে উপস্থিত হবে তখন ওর দ্বারসমূহ খুলে দেয়া হবে এবং জান্নাতের রক্ষীরা তাদেরকে বলবেঃ তোমাদের প্রতি সালাম, তোমরা সুখী হও এবং জান্নাতে প্রবেশ কর স্থায়ীভাবে অবস্থানের জন্য।
74 – যুমার
وَقَالُواۡ ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ ٱلَّذِى صَدَقَنَا وَعْدَهُۥ وَأَوْرَثَنَا ٱلْأَرْضَ نَتَبَوَّأُ مِنَ ٱلْجَنَّةِ حَيْثُ نَشَآءُۖ فَنِعْمَ أَجْرُ ٱلْعَٰمِلِينَ
তারা প্রবেশ করে বলবেঃ প্রশংসা আল্লাহর যিনি আমাদের প্রতি তাঁর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন এবং আমাদের অধিকারী করেছেন এই ভূমির; আমরা জান্নাতে যেখানে ইচ্ছা বসবাস করব। সদাচারীদের পুরস্কার কত উত্তম!
75 – যুমার
وَتَرَى ٱلْمَلَٰٓئِكَةَ حَآفِّينَ مِنْ حَوْلِ ٱلْعَرْشِ يُسَبِّحُونَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْۖ وَقُضِىَ بَيْنَهُم بِٱلْحَقِّ وَقِيلَ ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ
এবং তুমি মালাইকা/ফেরেশতাদেরকে দেখতে পাবে যে, তারা আরশের চতুস্পার্শ্বে ঘিরে তাদের রবের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছে। আর তাদের বিচার করা হবে ন্যায়ের সাথে। বলা হবেঃ প্রশংসা জগতসমূহের রাব্ব আল্লাহর প্রাপ্য।

40 নং সূরা – গাফির – غَافِر

মাক্বী – আয়াত সংখ্যা: 85
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

01 – গাফির
حمٓ
হা- মীম।
02 – গাফির
تَنزِيلُ ٱلْكِتَٰبِ مِنَ ٱللَّهِ ٱلْعَزِيزِ ٱلْعَلِيمِ
এই কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহর নিকট হতে –
03 – গাফির
غَافِرِ ٱلذَّنۢبِ وَقَابِلِ ٱلتَّوْبِ شَدِيدِ ٱلْعِقَابِ ذِى ٱلطَّوْلِۖ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَۖ إِلَيْهِ ٱلْمَصِيرُ
যিনি পাপ ক্ষমা করেন এবং তাওবাহ কবূল করেন, যিনি শাস্তি দানে কঠোর, শক্তিশালী। তিনি ব্যতীত কোন মা‘বূদ নেই। প্রত্যাবর্তন তাঁরই নিকট।
04 – গাফির
مَا يُجَٰدِلُ فِىٓ ءَايَٰتِ ٱللَّهِ إِلَّا ٱلَّذِينَ كَفَرُواۡ فَلَا يَغْرُرْكَ تَقَلُّبُهُمْ فِى ٱلْبِلَٰدِ
শুধু কাফিরেরাই আল্লাহর নিদর্শন সম্বন্ধে বিতর্ক করে; সুতরাং দেশে দেশে তাদের অবাধ বিচরণ যেন তোমাদের বিভ্রান্ত না করে।
05 – গাফির
كَذَّبَتْ قَبْلَهُمْ قَوْمُ نُوحٍ وَٱلْأَحْزَابُ مِنۢ بَعْدِهِمْۖ وَهَمَّتْ كُلُّ أُمَّةٍۭ بِرَسُولِهِمْ لِيَأْخُذُوهُۖ وَجَٰدَلُواۡ بِٱلْبَٰطِلِ لِيُدْحِضُواۡ بِهِ ٱلْحَقَّ فَأَخَذْتُهُمْۖ فَكَيْفَ كَانَ عِقَابِ
তাদের পূর্বে নূহের সম্প্রদায় এবং তাদের পরে অন্যান্য দলও মিথ্যা আরোপ করেছিল। প্রত্যেক সম্প্রদায় নিজ নিজ রাসূলকে আবদ্ধ করার জন্য অভিসন্ধি করেছিল এবং তারা অসার তর্কে লিপ্ত হয়েছিল, সত্যকে ব্যর্থ করে দেয়ার জন্য। ফলে আমি তাদেরকে পাকড়াও করলাম এবং কত কঠোর ছিল আমার শাস্তি!
06 – গাফির
وَكَذَٰلِكَ حَقَّتْ كَلِمَتُ رَبِّكَ عَلَى ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓاۡ أَنَّهُمْ أَصْحَٰبُ ٱلنَّارِ
এভাবে কাফিরদের ক্ষেত্রে সত্য হল তোমার রবের বাণী – এরা জাহান্নামী।
07 – গাফির
ٱلَّذِينَ يَحْمِلُونَ ٱلْعَرْشَ وَمَنْ حَوْلَهُۥ يُسَبِّحُونَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَيُؤْمِنُونَ بِهِۦ وَيَسْتَغْفِرُونَ لِلَّذِينَ ءَامَنُواۡ رَبَّنَا وَسِعْتَ كُلَّ شَىْءٍ رَّحْمَةً وَعِلْمًا فَٱغْفِرْ لِلَّذِينَ تَابُواۡ وَٱتَّبَعُواۡ سَبِيلَكَ وَقِهِمْ عَذَابَ ٱلْجَحِيمِ
যারা আরশ ধারণ করে আছে এবং যারা এর চতুস্পার্শ্ব ঘিরে আছে তারা তাদের রবের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে প্রশংসার সাথে এবং তাতে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং মু’মিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেঃ হে আমাদের রাব্ব! আপনার দয়া ও জ্ঞান সর্বব্যাপী, অতএব যারা তাওবাহ করে ও আপনার পথ অবলম্বন করে, আপনি তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং জাহান্নামের শাস্তি হতে রক্ষা করুন।
08 – গাফির
رَبَّنَا وَأَدْخِلْهُمْ جَنَّٰتِ عَدْنٍ ٱلَّتِى وَعَدتَّهُمْ وَمَن صَلَحَ مِنْ ءَابَآئِهِمْ وَأَزْوَٰجِهِمْ وَذُرِّيَّٰتِهِمْۚ إِنَّكَ أَنتَ ٱلْعَزِيزُ ٱلْحَكِيمُ
হে আমাদের রাব্ব! আপনি তাদেরকে দাখিল করুন স্থায়ী জান্নাতে, যার প্রতিশ্রুতি আপনি তাদেরকে দিয়েছেন এবং তাদের মাতা-পিতা, পতি-পত্নী ও সন্তান-সন্ততির মধ্যে যারা সৎ কাজ করেছে তাদেরকেও। আপনিতো পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
09 – গাফির
وَقِهِمُ ٱلسَّيِّـَٔاتِۚ وَمَن تَقِ ٱلسَّيِّـَٔاتِ يَوْمَئِذٍ فَقَدْ رَحِمْتَهُۥۚ وَذَٰلِكَ هُوَ ٱلْفَوْزُ ٱلْعَظِيمُ
এবং আপনি তাদেরকে পাপ হতে রক্ষা করুন, সেই দিন আপনি যাকে শাস্তি হতে রক্ষা করবেন তাকেতো অনুগ্রহই করবেন, এটাইতো মহাসাফল্য।
10 – গাফির
إِنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُواۡ يُنَادَوْنَ لَمَقْتُ ٱللَّهِ أَكْبَرُ مِن مَّقْتِكُمْ أَنفُسَكُمْ إِذْ تُدْعَوْنَ إِلَى ٱلْإِيمَٰنِ فَتَكْفُرُونَ
কাফিরদেরকে উচ্চ কন্ঠে বলা হবেঃ তোমাদের নিজেদের প্রতি তোমাদের ক্ষোভ অপেক্ষা আল্লাহর অপ্রসন্নতা ছিল অধিক, যখন তোমাদের ঈমানের প্রতি আহবান করা হয়েছিল, আর তোমরা তা অস্বীকার করেছিলে।
11 – গাফির
قَالُواۡ رَبَّنَآ أَمَتَّنَا ٱثْنَتَيْنِ وَأَحْيَيْتَنَا ٱثْنَتَيْنِ فَٱعْتَرَفْنَا بِذُنُوبِنَا فَهَلْ إِلَىٰ خُرُوجٍ مِّن سَبِيلٍ
তারা বলবেঃ হে আমাদের রাব্ব! আপনি আমাদেরকে প্রাণহীন অবস্থায় দু’বার রেখেছেন এবং দু’বার আমাদেরকে প্রাণ দিয়েছেন। আমরা আমাদের অপরাধ স্বীকার করছি; এখন নিস্ক্রমণের কোন পথ মিলবে কি?
12 – গাফির
ذَٰلِكُم بِأَنَّهُۥٓ إِذَا دُعِىَ ٱللَّهُ وَحْدَهُۥ كَفَرْتُمْۖ وَإِن يُشْرَكْ بِهِۦ تُؤْمِنُواۡۚ فَٱلْحُكْمُ لِلَّهِ ٱلْعَلِىِّ ٱلْكَبِيرِ
তোমাদের এই পার্থিব শাস্তি এ জন্য যে, যখন এক আল্লাহকে ডাকা হত তখন তোমরা তাঁকে অস্বীকার করতে এবং আল্লাহর শরীক স্থির করা হলে তোমরা তা বিশ্বাস করতে। বস্তুতঃ মহান আল্লাহরই সমস্ত কর্তৃত্ব।
13 – গাফির
هُوَ ٱلَّذِى يُرِيكُمْ ءَايَٰتِهِۦ وَيُنَزِّلُ لَكُم مِّنَ ٱلسَّمَآءِ رِزْقًاۚ وَمَا يَتَذَكَّرُ إِلَّا مَن يُنِيبُ
তিনিই তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনাবলী দেখান এবং আকাশ হতে প্রেরণ করেন তোমাদের জন্য রিযক। আল্লাহর অভিমুখী ব্যক্তিই উপদেশ গ্রহণ করে থাকে।
14 – গাফির
فَٱدْعُواۡ ٱللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ ٱلدِّينَ وَلَوْ كَرِهَ ٱلْكَٰفِرُونَ
সুতরাং আল্লাহকে ডাক তাঁর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে, যদিও কাফিরেরা এটা অপছন্দ করে।
15 – গাফির
رَفِيعُ ٱلدَّرَجَٰتِ ذُو ٱلْعَرْشِ يُلْقِى ٱلرُّوحَ مِنْ أَمْرِهِۦ عَلَىٰ مَن يَشَآءُ مِنْ عِبَادِهِۦ لِيُنذِرَ يَوْمَ ٱلتَّلَاقِ
তিনি সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী, আরশের অধিপতি, তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছা অহী প্রেরণ করেন স্বীয় আদেশসহ যাতে সে সতর্ক করতে পারে কিয়ামাতের দিন সম্পর্কে –
16 – গাফির
يَوْمَ هُم بَٰرِزُونَۖ لَا يَخْفَىٰ عَلَى ٱللَّهِ مِنْهُمْ شَىْءٌۚ لِّمَنِ ٱلْمُلْكُ ٱلْيَوْمَۖ لِلَّهِ ٱلْوَٰحِدِ ٱلْقَهَّارِ
যেদিন মানুষ বের হয়ে পড়বে। সেদিন আল্লাহর নিকট তাদের কিছুই গোপন থাকবেনা। ঐ দিন কর্তৃত্ব কার? এক, পরাক্রমশালী আল্লাহরই।
17 – গাফির
ٱلْيَوْمَ تُجْزَىٰ كُلُّ نَفْسٍۭ بِمَا كَسَبَتْۚ لَا ظُلْمَ ٱلْيَوْمَۚ إِنَّ ٱللَّهَ سَرِيعُ ٱلْحِسَابِ
এদিন প্রত্যেককে তার কৃতকর্মের ফল দেয়া হবে; কারও প্রতি যুলম করা হবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ হিসাব গ্রহণে তৎপর।
18 – গাফির
وَأَنذِرْهُمْ يَوْمَ ٱلْءَازِفَةِ إِذِ ٱلْقُلُوبُ لَدَى ٱلْحَنَاجِرِ كَٰظِمِينَۚ مَا لِلظَّٰلِمِينَ مِنْ حَمِيمٍ وَلَا شَفِيعٍ يُطَاعُ
তাদেরকে সতর্ক করে দাও আসন্ন দিন সম্পর্কে, যখন দুঃখ কষ্টে তাদের প্রাণ কন্ঠাগত হবে। যালিমদের জন্য কোন অন্তরঙ্গ বন্ধু নেই, যার সুপারিশ গ্রাহ্য হবে এমন কোন সুপারিশকারীও নেই।
19 – গাফির
يَعْلَمُ خَآئِنَةَ ٱلْأَعْيُنِ وَمَا تُخْفِى ٱلصُّدُورُ
চক্ষুর অপব্যবহার ও অন্তরে যা গোপন আছে সেই সম্বন্ধে তিনি অবহিত।
20 – গাফির
وَٱللَّهُ يَقْضِى بِٱلْحَقِّۖ وَٱلَّذِينَ يَدْعُونَ مِن دُونِهِۦ لَا يَقْضُونَ بِشَىْءٍۗ إِنَّ ٱللَّهَ هُوَ ٱلسَّمِيعُ ٱلْبَصِيرُ
আল্লাহ বিচার করেন সঠিকভাবে; আল্লাহর পরিবর্তে তারা যাদেরকে ডাকে তারা বিচার করতে অক্ষম। আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।
21 – গাফির
أَوَلَمْ يَسِيرُواۡ فِى ٱلْأَرْضِ فَيَنظُرُواۡ كَيْفَ كَانَ عَٰقِبَةُ ٱلَّذِينَ كَانُواۡ مِن قَبْلِهِمْۚ كَانُواۡ هُمْ أَشَدَّ مِنْهُمْ قُوَّةً وَءَاثَارًا فِى ٱلْأَرْضِ فَأَخَذَهُمُ ٱللَّهُ بِذُنُوبِهِمْ وَمَا كَانَ لَهُم مِّنَ ٱللَّهِ مِن وَاقٍ
তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করেনা? তাহলে দেখতে পেত তাদের পূর্ববর্তীদের পরিণাম কি হয়েছিল? পৃথিবীতে তারা ছিল এদের অপেক্ষা শক্তিতে এবং কীর্তিতে প্রবলতর। অতঃপর আল্লাহ তাদেরকে শাস্তি দিয়েছিলেন তাদের অপরাধের জন্য এবং আল্লাহর শাস্তি হতে তাদেরকে রক্ষা করার কেহ ছিলনা।
22 – গাফির
ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ كَانَت تَّأْتِيهِمْ رُسُلُهُم بِٱلْبَيِّنَٰتِ فَكَفَرُواۡ فَأَخَذَهُمُ ٱللَّهُۚ إِنَّهُۥ قَوِىٌّ شَدِيدُ ٱلْعِقَابِ
এটা এ জন্য যে, তাদের নিকট তাদের রাসূলগণ নিদর্শনসহ এলে তারা তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। ফলে আল্লাহ তাদেরকে শাস্তি দিলেন। তিনিতো শক্তিশালী, শাস্তি দানে কঠোর।
23 – গাফির
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا مُوسَىٰ بِـَٔايَٰتِنَا وَسُلْطَٰنٍ مُّبِينٍ
আমি আমার নিদর্শন ও স্পষ্ট প্রমাণসহ মূসাকে প্রেরণ করেছিলাম –
24 – গাফির
إِلَىٰ فِرْعَوْنَ وَهَٰمَٰنَ وَقَٰرُونَ فَقَالُواۡ سَٰحِرٌ كَذَّابٌ
ফির‘আউন, হামান ও কারূণের নিকট; কিন্তু তারা বলেছিলঃ এতো এক যাদুকর, চরম মিথ্যাবাদী।
25 – গাফির
فَلَمَّا جَآءَهُم بِٱلْحَقِّ مِنْ عِندِنَا قَالُواۡ ٱقْتُلُوٓاۡ أَبْنَآءَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواۡ مَعَهُۥ وَٱسْتَحْيُواۡ نِسَآءَهُمْۚ وَمَا كَيْدُ ٱلْكَٰفِرِينَ إِلَّا فِى ضَلَٰلٍ
অতঃপর যখন মূসা আমার নিকট হতে সত্য নিয়ে তাদের নিকট উপস্থিত হল তখন তারা বললঃ মূসার উপর যারা ঈমান এনেছে তাদের পুত্র সন্তানদেরকে হত্যা কর এবং নারীদেরকে জীবিত রাখ। কিন্তু কাফিরদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হবেই।
26 – গাফির
وَقَالَ فِرْعَوْنُ ذَرُونِىٓ أَقْتُلْ مُوسَىٰ وَلْيَدْعُ رَبَّهُۥٓۖ إِنِّىٓ أَخَافُ أَن يُبَدِّلَ دِينَكُمْ أَوْ أَن يُظْهِرَ فِى ٱلْأَرْضِ ٱلْفَسَادَ
ফির‘আউন বললঃ আমাকে ছেড়ে দাও, আমি মূসাকে হত্যা করি এবং সে তার রবের শরণাপন্ন হোক। আমি আশংকা করি যে, সে তোমাদের দীনের পরিবর্তন ঘটাবে অথবা সে পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে।
27 – গাফির
وَقَالَ مُوسَىٰٓ إِنِّى عُذْتُ بِرَبِّى وَرَبِّكُم مِّن كُلِّ مُتَكَبِّرٍ لَّا يُؤْمِنُ بِيَوْمِ ٱلْحِسَابِ
মূসা বললঃ যারা বিচার দিনে বিশ্বাস করেনা, সেই সব উদ্ধত ব্যক্তি হতে আমি আমার ও তোমাদের রবের শরণাপন্ন হচ্ছি।
28 – গাফির
وَقَالَ رَجُلٌ مُّؤْمِنٌ مِّنْ ءَالِ فِرْعَوْنَ يَكْتُمُ إِيمَٰنَهُۥٓ أَتَقْتُلُونَ رَجُلًا أَن يَقُولَ رَبِّىَ ٱللَّهُ وَقَدْ جَآءَكُم بِٱلْبَيِّنَٰتِ مِن رَّبِّكُمْۖ وَإِن يَكُ كَٰذِبًا فَعَلَيْهِ كَذِبُهُۥۖ وَإِن يَكُ صَادِقًا يُصِبْكُم بَعْضُ ٱلَّذِى يَعِدُكُمْۖ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَهْدِى مَنْ هُوَ مُسْرِفٌ كَذَّابٌ
ফির‘আউন বংশের এক ব্যক্তি যে মু’মিন ছিল এবং নিজ ঈমান গোপন রাখত, বললঃ তোমরা কি এক ব্যক্তিকে এ জন্য হত্যা করবে যে, সে বলেঃ আমার রাব্ব আল্লাহ, অথচ সে তোমাদের রবের নিকট হতে সুস্পষ্ট প্রমাণসহ তোমাদের নিকট এসেছে? সে মিথ্যাবাদী হলে তার মিথ্যাবাদিতার জন্য সে দায়ী হবে, আর যদি সে সত্যবাদী হয় তাহলে সে তোমাদেরকে যে শাস্তির কথা বলে তার কিছুতো তোমাদের উপর আপতিত হবেই। নিশ্চয়ই সীমা লংঘনকারী ও মিথ্যাবাদীকে আল্লাহ সৎ পথে পরিচালিত করেননা।
29 – গাফির
يَٰقَوْمِ لَكُمُ ٱلْمُلْكُ ٱلْيَوْمَ ظَٰهِرِينَ فِى ٱلْأَرْضِ فَمَن يَنصُرُنَا مِنۢ بَأْسِ ٱللَّهِ إِن جَآءَنَاۚ قَالَ فِرْعَوْنُ مَآ أُرِيكُمْ إِلَّا مَآ أَرَىٰ وَمَآ أَهْدِيكُمْ إِلَّا سَبِيلَ ٱلرَّشَادِ
হে আমার সম্প্রদায়! আজ কর্তৃত্ব তোমাদের, দেশে তোমরাই প্রবল; কিন্তু আমাদের উপর আল্লাহর শাস্তি এসে পড়লে কে আমাদেরকে সাহায্য করবে? ফির‘আউন বললঃ আমি যা বুঝি, আমি তোমাদের তাই বলছি। আমি তোমাদেরকে শুধু সৎ পথই দেখিয়ে থাকি।
30 – গাফির
وَقَالَ ٱلَّذِىٓ ءَامَنَ يَٰقَوْمِ إِنِّىٓ أَخَافُ عَلَيْكُم مِّثْلَ يَوْمِ ٱلْأَحْزَابِ
মু’মিন ব্যক্তিটি বললঃ হে আমার সম্প্রদায়! আমি তোমাদের জন্য পূর্ববর্তী সম্প্রদায়সমূহের শাস্তির দিনের অনুরূপ দুর্দিনের আশংকা করি –
31 – গাফির
مِثْلَ دَأْبِ قَوْمِ نُوحٍ وَعَادٍ وَثَمُودَ وَٱلَّذِينَ مِنۢ بَعْدِهِمْۚ وَمَا ٱللَّهُ يُرِيدُ ظُلْمًا لِّلْعِبَادِ
যেমন ঘটেছিল নূহের কাওম, আদ, সামূদ এবং তাদের পরবর্তীদের ক্ষেত্রে। আল্লাহতো বান্দাদের প্রতি কোন যুলম করতে চান না।
32 – গাফির
وَيَٰقَوْمِ إِنِّىٓ أَخَافُ عَلَيْكُمْ يَوْمَ ٱلتَّنَادِ
হে আমার সম্প্রদায়! আমি তোমাদের জন্য আশংকা করি কিয়ামাত দিবসের –
33 – গাফির
يَوْمَ تُوَلُّونَ مُدْبِرِينَ مَا لَكُم مِّنَ ٱللَّهِ مِنْ عَاصِمٍۗ وَمَن يُضْلِلِ ٱللَّهُ فَمَا لَهُۥ مِنْ هَادٍ
যেদিন তোমরা পশ্চাৎ ফিরে পলায়ন করতে চাবে, আল্লাহর শাস্তি হতে তোমাদেরকে রক্ষা করার কেহ থাকবেনা। আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার জন্য কোন পথ প্রদর্শক নেই।
34 – গাফির
وَلَقَدْ جَآءَكُمْ يُوسُفُ مِن قَبْلُ بِٱلْبَيِّنَٰتِ فَمَا زِلْتُمْ فِى شَكٍّ مِّمَّا جَآءَكُم بِهِۦۖ حَتَّىٰٓ إِذَا هَلَكَ قُلْتُمْ لَن يَبْعَثَ ٱللَّهُ مِنۢ بَعْدِهِۦ رَسُولًاۚ كَذَٰلِكَ يُضِلُّ ٱللَّهُ مَنْ هُوَ مُسْرِفٌ مُّرْتَابٌ
পূর্বেও তোমাদের নিকট ইউসুফ এসেছিল স্পষ্ট নিদর্শনসহ; কিন্তু সে যা নিয়ে এসেছিল তোমরা তাতে বার বার সন্দেহ পোষণ করতে। পরিশেষে যখন তার মৃত্যু হল তখন তোমরা বলেছিলেঃ অতঃপর আল্লাহ আর কেহকেও রাসূল করে প্রেরণ করবেন না। এভাবে আল্লাহ বিভ্রান্ত করেন সীমালংঘনকারী ও সংশয়বাদীদেরকে।
35 – গাফির
ٱلَّذِينَ يُجَٰدِلُونَ فِىٓ ءَايَٰتِ ٱللَّهِ بِغَيْرِ سُلْطَٰنٍ أَتَىٰهُمْۖ كَبُرَ مَقْتًا عِندَ ٱللَّهِ وَعِندَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواۡۚ كَذَٰلِكَ يَطْبَعُ ٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ قَلْبِ مُتَكَبِّرٍ جَبَّارٍ
যারা নিজেদের নিকট কোন দলীল প্রমাণ না থাকলেও আল্লাহর নিদর্শন সম্পর্কে বিতন্ডায় লিপ্ত হয় তাদের এ কাজ আল্লাহ এবং মু’মিনদের দৃষ্টিতে অতিশয় ঘৃণাহ। এভাবে আল্লাহ প্রত্যেক উদ্ধত ও স্বৈরাচারী ব্যক্তির হৃদয়কে মোহর করে দেন।
36 – গাফির
وَقَالَ فِرْعَوْنُ يَٰهَٰمَٰنُ ٱبْنِ لِى صَرْحًا لَّعَلِّىٓ أَبْلُغُ ٱلْأَسْبَٰبَ
ফির‘আউন বললঃ হে হামান! আমার জন্য তুমি নির্মাণ কর এক সুউচ্চ প্রাসাদ যাতে আমি পাই অবলম্বন –
37 – গাফির
أَسْبَٰبَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ فَأَطَّلِعَ إِلَىٰٓ إِلَٰهِ مُوسَىٰ وَإِنِّى لَأَظُنُّهُۥ كَٰذِبًاۚ وَكَذَٰلِكَ زُيِّنَ لِفِرْعَوْنَ سُوٓءُ عَمَلِهِۦ وَصُدَّ عَنِ ٱلسَّبِيلِۚ وَمَا كَيْدُ فِرْعَوْنَ إِلَّا فِى تَبَابٍ
আসমানে আরোহনের অবলম্বন, যেন আমি দেখতে পাই মূসার মা‘বূদকে; তবে আমিতো তাকে মিথ্যাবাদী মনে করি। এভাবেই ফির‘আউনের নিকট শোভনীয় করা হয়েছিল তার মন্দ কাজকে এবং তাকে নিবৃত্ত করা হয়েছিল সরল পথ হতে এবং ফির‘আউনের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছিল সম্পূর্ণ রূপে।
38 – গাফির
وَقَالَ ٱلَّذِىٓ ءَامَنَ يَٰقَوْمِ ٱتَّبِعُونِ أَهْدِكُمْ سَبِيلَ ٱلرَّشَادِ
মু’মিন ব্যক্তিটি বললঃ হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আমার অনুসরণ কর, আমি তোমাদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করব।
39 – গাফির
يَٰقَوْمِ إِنَّمَا هَٰذِهِ ٱلْحَيَوٰةُ ٱلدُّنْيَا مَتَٰعٌ وَإِنَّ ٱلْءَاخِرَةَ هِىَ دَارُ ٱلْقَرَارِ
হে আমার সম্প্রদায়! এ পার্থিব জীবনতো অস্থায়ী উপভোগের বস্তু এবং আখিরাতই হচ্ছে চিরস্থায়ী আবাস।
40 – গাফির
مَنْ عَمِلَ سَيِّئَةً فَلَا يُجْزَىٰٓ إِلَّا مِثْلَهَاۖ وَمَنْ عَمِلَ صَٰلِحًا مِّن ذَكَرٍ أَوْ أُنثَىٰ وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَأُوۡلَٰٓئِكَ يَدْخُلُونَ ٱلْجَنَّةَ يُرْزَقُونَ فِيهَا بِغَيْرِ حِسَابٍ
কেহ মন্দ কাজ করলে সে শুধু তার কাজের অনুরূপ শাস্তি পাবে এবং পুরুষ কিংবা নারীর মধ্যে যারা মু’মিন হয়ে সৎ কাজ করে তারা দাখিল হবে জান্নাতে, সেখানে তাদেরকে দেয়া হবে অপরিমিত জীবনোপকরণ।
41 – গাফির
وَيَٰقَوْمِ مَا لِىٓ أَدْعُوكُمْ إِلَى ٱلنَّجَوٰةِ وَتَدْعُونَنِىٓ إِلَى ٱلنَّارِ
হে আমার সম্প্রদায়! কি আশ্চর্য, আমি তোমাদেরকে আহবান করছি মুক্তির দিকে, আর তোমরা আমাকে আহবান করছ জাহান্নামের দিকে।
42 – গাফির
تَدْعُونَنِى لِأَكْفُرَ بِٱللَّهِ وَأُشْرِكَ بِهِۦ مَا لَيْسَ لِى بِهِۦ عِلْمٌ وَأَنَا۠ أَدْعُوكُمْ إِلَى ٱلْعَزِيزِ ٱلْغَفَّٰرِ
তোমরা আমাকে বলছ আল্লাহকে অস্বীকার করতে এবং তাঁর সমকক্ষ দাঁড় করাতে, যার সম্পর্কে আমার কোন জ্ঞান নেই; পক্ষান্তরে আমি তোমাদেরকে আহবান করছি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল আল্লাহর দিকে।
43 – গাফির
لَا جَرَمَ أَنَّمَا تَدْعُونَنِىٓ إِلَيْهِ لَيْسَ لَهُۥ دَعْوَةٌ فِى ٱلدُّنْيَا وَلَا فِى ٱلْءَاخِرَةِ وَأَنَّ مَرَدَّنَآ إِلَى ٱللَّهِ وَأَنَّ ٱلْمُسْرِفِينَ هُمْ أَصْحَٰبُ ٱلنَّارِ
নিশ্চয়ই তোমরা আমাকে আহবান করছো এমন এক জনের দিকে যে দুনিয়া ও আখিরাতে কোথাও আহবানযোগ্য নয়। বস্তুতঃ আমাদের প্রত্যাবর্তনতো আল্লাহর নিকট এবং সীমালংঘনকারীরাই জাহান্নামের অধিবাসী।
44 – গাফির
فَسَتَذْكُرُونَ مَآ أَقُولُ لَكُمْۚ وَأُفَوِّضُ أَمْرِىٓ إِلَى ٱللَّهِۚ إِنَّ ٱللَّهَ بَصِيرٌۢ بِٱلْعِبَادِ
আমি তোমাদেরকে যা বলছি, তোমরা তা অচিরেই স্মরণ করবে এবং আমি আমার ব্যাপার আল্লাহয় অপর্ণ করছি; আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি সবিশেষ দৃষ্টি রাখেন।
45 – গাফির
فَوَقَىٰهُ ٱللَّهُ سَيِّـَٔاتِ مَا مَكَرُواۡۖ وَحَاقَ بِـَٔالِ فِرْعَوْنَ سُوٓءُ ٱلْعَذَابِ
অতঃপর আল্লাহ তাকে তাদের ষড়যন্ত্রের অনিষ্টতা হতে রক্ষা করলেন এবং কঠিন শাস্তি পরিবেষ্টন করল ফির‘আউন সম্প্রদায়কে।
46 – গাফির
ٱلنَّارُ يُعْرَضُونَ عَلَيْهَا غُدُوًّا وَعَشِيًّاۖ وَيَوْمَ تَقُومُ ٱلسَّاعَةُ أَدْخِلُوٓاۡ ءَالَ فِرْعَوْنَ أَشَدَّ ٱلْعَذَابِ
সকাল-সন্ধ্যায় তাদেরকে উপস্থিত করা হয় আগুনের সম্মুখে এবং যেদিন কিয়ামাত সংঘটিত হবে সেদিন বলা হবেঃ ফির‘আউন সম্প্রদায়কে নিক্ষেপ কর কঠিনতম শাস্তিতে।
47 – গাফির
وَإِذْ يَتَحَآجُّونَ فِى ٱلنَّارِ فَيَقُولُ ٱلضُّعَفَٰٓؤُاۡ لِلَّذِينَ ٱسْتَكْبَرُوٓاۡ إِنَّا كُنَّا لَكُمْ تَبَعًا فَهَلْ أَنتُم مُّغْنُونَ عَنَّا نَصِيبًا مِّنَ ٱلنَّارِ
যখন তারা জাহান্নামে পরস্পর বিতর্কে লিপ্ত হবে তখন দুর্বলেরা দাম্ভিকদেরকে বলবেঃ আমরাতো তোমাদের অনুসারী ছিলাম, এখন কি তোমরা আমাদের থেকে জাহান্নামের আগুনের কিয়দংশ নিবারণ করবে?
48 – গাফির
قَالَ ٱلَّذِينَ ٱسْتَكْبَرُوٓاۡ إِنَّا كُلٌّ فِيهَآ إِنَّ ٱللَّهَ قَدْ حَكَمَ بَيْنَ ٱلْعِبَادِ
দাম্ভিকেরা বলবেঃ আমরা সবাইতো জাহান্নামে আছি, নিশ্চয়ই আল্লাহ বান্দাদের বিচার করে ফেলেছেন।
49 – গাফির
وَقَالَ ٱلَّذِينَ فِى ٱلنَّارِ لِخَزَنَةِ جَهَنَّمَ ٱدْعُواۡ رَبَّكُمْ يُخَفِّفْ عَنَّا يَوْمًا مِّنَ ٱلْعَذَابِ
জাহান্নামীরা ওর প্রহরীদেরকে বলবেঃ তোমাদের রবের নিকট প্রার্থনা কর, তিনি যেন আমাদের হতে লাঘব করেন শাস্তি, এক দিনের জন্য।
50 – গাফির
قَالُوٓاۡ أَوَلَمْ تَكُ تَأْتِيكُمْ رُسُلُكُم بِٱلْبَيِّنَٰتِۖ قَالُواۡ بَلَىٰۚ قَالُواۡ فَٱدْعُواۡۗ وَمَا دُعَٰٓؤُاۡ ٱلْكَٰفِرِينَ إِلَّا فِى ضَلَٰلٍ
তারা বলবেঃ তোমাদের নিকট কি স্পষ্ট নিদর্শনসহ তোমাদের রাসূলগণ আসেননি? জাহান্নামীরা বলবেঃ অবশ্যই এসেছিল। প্রহরীরা বলবেঃ তাহলে তোমরাই প্রার্থনা কর, আর কাফিরদের প্রার্থনা ব্যর্থই হয়।
51 – গাফির
إِنَّا لَنَنصُرُ رُسُلَنَا وَٱلَّذِينَ ءَامَنُواۡ فِى ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا وَيَوْمَ يَقُومُ ٱلْأَشْهَٰدُ
নিশ্চয়ই আমি আমার রাসূলদেরকে ও মু’মিনদেরকে সাহায্য করব পার্থিব জীবনে এবং যেদিন সাক্ষীগণ দন্ডায়মান হবে,
52 – গাফির
يَوْمَ لَا يَنفَعُ ٱلظَّٰلِمِينَ مَعْذِرَتُهُمْۖ وَلَهُمُ ٱللَّعْنَةُ وَلَهُمْ سُوٓءُ ٱلدَّارِ
যেদিন যালিমদের কোনো ওযর আপত্তি কোন কাজে আসবেনা, তাদের জন্য রয়েছে লা’নত এবং নিকৃষ্ট আবাস।
53 – গাফির
وَلَقَدْ ءَاتَيْنَا مُوسَى ٱلْهُدَىٰ وَأَوْرَثْنَا بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ ٱلْكِتَٰبَ
আমি অবশ্যই মূসাকে দান করেছিলাম পথনির্দেশ এবং বানী ইসরাঈলকে উত্তরাধিকারী করেছিলাম সেই কিতাবের –
54 – গাফির
هُدًى وَذِكْرَىٰ لِأُوۡلِى ٱلْأَلْبَٰبِ
পথনির্দেশ ও উপদেশ স্বরূপ; বোধশক্তি সম্পন্ন লোকদের জন্য।
55 – গাফির
فَٱصْبِرْ إِنَّ وَعْدَ ٱللَّهِ حَقٌّ وَٱسْتَغْفِرْ لِذَنۢبِكَ وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ بِٱلْعَشِىِّ وَٱلْإِبْكَٰرِ
অতএব তুমি ধৈর্য ধারণ কর; নিশ্চয়ই আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য, তুমি তোমার ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং সকাল-সন্ধ্যায় তোমার রবের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর।
56 – গাফির
إِنَّ ٱلَّذِينَ يُجَٰدِلُونَ فِىٓ ءَايَٰتِ ٱللَّهِ بِغَيْرِ سُلْطَٰنٍ أَتَىٰهُمْۙ إِن فِى صُدُورِهِمْ إِلَّا كِبْرٌ مَّا هُم بِبَٰلِغِيهِۚ فَٱسْتَعِذْ بِٱللَّهِۖ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلسَّمِيعُ ٱلْبَصِيرُ
যারা নিজেদের নিকট কোন দলীল না থাকলেও আল্লাহর নিদর্শন সম্পর্কে বিতর্কে লিপ্ত হয় তাদের অন্তরে আছে শুধু অহংকার, যা সফল হবার নয়। অতএব আল্লাহর শরণাপন্ন হও, তিনিতো সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।
57 – গাফির
لَخَلْقُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ أَكْبَرُ مِنْ خَلْقِ ٱلنَّاسِ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَ ٱلنَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ
মানব সৃষ্টি অপেক্ষা আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিতো কঠিনতর, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ এটা জানেনা।
58 – গাফির
وَمَا يَسْتَوِى ٱلْأَعْمَىٰ وَٱلْبَصِيرُ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُواۡ وَعَمِلُواۡ ٱلصَّٰلِحَٰتِ وَلَا ٱلْمُسِىٓءُۚ قَلِيلًا مَّا تَتَذَكَّرُونَ
সমান নয় অন্ধ ও চক্ষুম্মান এবং যারা ঈমান আনে ও সৎ কাজ করে, আর যারা দুস্কৃতিপরায়ণ। তোমরা অল্পই উপদেশ গ্রহণ করে থাক।
59 – গাফির
إِنَّ ٱلسَّاعَةَ لَءَاتِيَةٌ لَّا رَيْبَ فِيهَا وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَ ٱلنَّاسِ لَا يُؤْمِنُونَ
কিয়ামাত অবশ্যম্ভাবী, এতে কোন সন্দেহ নেই, কিন্তু অধিকাংশ লোক বিশ্বাস করেনা।
60 – গাফির
وَقَالَ رَبُّكُمُ ٱدْعُونِىٓ أَسْتَجِبْ لَكُمْۚ إِنَّ ٱلَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِى سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ
তোমাদের রাব্ব বললেনঃ তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিব। কিন্তু যারা অহংকারে আমার ইবাদাতে বিমুখ তারা অবশ্যই জাহান্নামে প্রবেশ করবে লাঞ্ছিত হয়ে।
61 – গাফির
ٱللَّهُ ٱلَّذِى جَعَلَ لَكُمُ ٱلَّيْلَ لِتَسْكُنُواۡ فِيهِ وَٱلنَّهَارَ مُبْصِرًاۚ إِنَّ ٱللَّهَ لَذُو فَضْلٍ عَلَى ٱلنَّاسِ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَ ٱلنَّاسِ لَا يَشْكُرُونَ
আল্লাহই তোমাদের বিশ্রামের জন্য সৃষ্টি করেছেন রাত এবং আলোকজ্জ্বল করেছেন দিনকে। আল্লাহতো মানুষের প্রতি অনুগ্রহশীল, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেনা।
62 – গাফির
ذَٰلِكُمُ ٱللَّهُ رَبُّكُمْ خَٰلِقُ كُلِّ شَىْءٍ لَّآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَۖ فَأَنَّىٰ تُؤْفَكُونَ
তিনিই আল্লাহ তোমাদের রাব্ব, সব কিছুর স্রষ্টা; তিনি ব্যতীত কোন মা‘বূদ নেই; সুতরাং তোমরা কিভাবে বিপথগামী হচ্ছ?
63 – গাফির
كَذَٰلِكَ يُؤْفَكُ ٱلَّذِينَ كَانُواۡ بِـَٔايَٰتِ ٱللَّهِ يَجْحَدُونَ
এভাবেই বিপথগামী হয় তারা যারা আল্লাহর নিদর্শনাবলিকে অস্বীকার করে।
64 – গাফির
ٱللَّهُ ٱلَّذِى جَعَلَ لَكُمُ ٱلْأَرْضَ قَرَارًا وَٱلسَّمَآءَ بِنَآءً وَصَوَّرَكُمْ فَأَحْسَنَ صُوَرَكُمْ وَرَزَقَكُم مِّنَ ٱلطَّيِّبَٰتِۚ ذَٰلِكُمُ ٱللَّهُ رَبُّكُمْۖ فَتَبَارَكَ ٱللَّهُ رَبُّ ٱلْعَٰلَمِينَ
আল্লাহই তোমাদের জন্য পৃথিবীকে করেছেন বাসোপযোগী এবং আকাশকে করেছেন ছাদ এবং তোমাদের আকৃতি করেছেন উৎকৃষ্ট এবং তোমাদেরকে দান করেছেন উৎকৃষ্ট রিয্ক। এইতো আল্লাহ, তোমাদের রাব্ব। কত মহান জগতসমূহের রাব্ব আল্লাহ!
65 – গাফির
هُوَ ٱلْحَىُّ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ فَٱدْعُوهُ مُخْلِصِينَ لَهُ ٱلدِّينَۗ ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ
তিনি চিরঞ্জীব, তিনি ব্যতীত কোন মা‘বূদ নেই। সুতরাং তোমরা তাঁকেই ডাক, তাঁর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে। প্রশংসা জগতসমূহের রাব্ব আল্লাহর প্রাপ্য।
66 – গাফির
قُلْ إِنِّى نُهِيتُ أَنْ أَعْبُدَ ٱلَّذِينَ تَدْعُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ لَمَّا جَآءَنِىَ ٱلْبَيِّنَٰتُ مِن رَّبِّى وَأُمِرْتُ أَنْ أُسْلِمَ لِرَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ
বলঃ আমার রবের নিকট হতে আমার নিকট সুস্পষ্ট নিদর্শন আসার পূর্বে তোমরা আল্লাহ ব্যতীত যাদেরকে আহবান কর তাদের ইবাদাত করতে আমাকে নিষেধ করা হয়েছে এবং আমি আদিষ্ট হয়েছি জগতসমূহের রবের নিকট আত্মসমর্পণ করতে।
67 – গাফির
هُوَ ٱلَّذِى خَلَقَكُم مِّن تُرَابٍ ثُمَّ مِن نُّطْفَةٍ ثُمَّ مِنْ عَلَقَةٍ ثُمَّ يُخْرِجُكُمْ طِفْلًا ثُمَّ لِتَبْلُغُوٓاۡ أَشُدَّكُمْ ثُمَّ لِتَكُونُواۡ شُيُوخًاۚ وَمِنكُم مَّن يُتَوَفَّىٰ مِن قَبْلُۖ وَلِتَبْلُغُوٓاۡ أَجَلًا مُّسَمًّى وَلَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ
তিনিই তোমাদের সৃষ্টি করেছেন মাটি হতে, পরে শুক্র বিন্দু হতে, তারপর তাদেরকে বের করেন শিশু রূপে, অতঃপর তোমরা উপনীত হও যৌবনে, তারপর হও বৃদ্ধ। তোমাদের মধ্যে কারও এর পূর্বেই মৃত্যু ঘটে এবং এটা এ জন্য যে, তোমরা নির্ধারিত কাল প্রাপ্ত হও এবং যাতে তোমরা অনুধাবন করতে পার –
68 – গাফির
هُوَ ٱلَّذِى يُحْىِۦ وَيُمِيتُۖ فَإِذَا قَضَىٰٓ أَمْرًا فَإِنَّمَا يَقُولُ لَهُۥ كُن فَيَكُونُ
তিনিই জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান এবং যখন তিনি কিছু করা স্থির করেন তখন তিনি বলেনঃ হও, এবং তা হয়ে যায়।
69 – গাফির
أَلَمْ تَرَ إِلَى ٱلَّذِينَ يُجَٰدِلُونَ فِىٓ ءَايَٰتِ ٱللَّهِ أَنَّىٰ يُصْرَفُونَ
তুমি কি লক্ষ্য করনা তাদের প্রতি যারা আল্লাহর নিদর্শন সম্পর্কে বিতর্ক করে? কিভাবে তাদেরকে বিপথগামী করা হচ্ছে?
70 – গাফির
ٱلَّذِينَ كَذَّبُواۡ بِٱلْكِتَٰبِ وَبِمَآ أَرْسَلْنَا بِهِۦ رُسُلَنَاۖ فَسَوْفَ يَعْلَمُونَ
যারা অস্বীকার করে কিতাব ও যা সহ আমি রাসূলদেরকে প্রেরণ করেছিলাম তা, শীঘ্রই তারা জানতে পারবে –
71 – গাফির
إِذِ ٱلْأَغْلَٰلُ فِىٓ أَعْنَٰقِهِمْ وَٱلسَّلَٰسِلُ يُسْحَبُونَ
যখন তাদের গলদেশে বেড়ি ও শৃংখল পড়িয়ে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে –
72 – গাফির
فِى ٱلْحَمِيمِ ثُمَّ فِى ٱلنَّارِ يُسْجَرُونَ
ফুটন্ত পানিতে। অতঃপর তাদেরকে দগ্ধ করা হবে আগুনে।
73 – গাফির
ثُمَّ قِيلَ لَهُمْ أَيْنَ مَا كُنتُمْ تُشْرِكُونَ
এরপর তাদেরকে বলা হবেঃ কোথায় তারা যাদেরকে তোমরা তাঁর শরীক করতে –
74 – গাফির
مِن دُونِ ٱللَّهِۖ قَالُواۡ ضَلُّواۡ عَنَّا بَل لَّمْ نَكُن نَّدْعُواۡ مِن قَبْلُ شَيْـًٔاۚ كَذَٰلِكَ يُضِلُّ ٱللَّهُ ٱلْكَٰفِرِينَ
আল্লাহ ব্যতীত? তারা বলবেঃ তারাতো আমাদের নিকট হতে অদৃশ্য হয়েছে, বস্তুতঃ পূর্বে আমরা এমন কিছুকেই আহবান করিনি। এভাবে আল্লাহ কাফিরদের বিভ্রান্ত করেন।
75 – গাফির
ذَٰلِكُم بِمَا كُنتُمْ تَفْرَحُونَ فِى ٱلْأَرْضِ بِغَيْرِ ٱلْحَقِّ وَبِمَا كُنتُمْ تَمْرَحُونَ
এটা এ কারণে যে, তোমরা পৃথিবীতে অযথা উল্লাস করতে এবং এ কারণে যে, তোমরা দম্ভ করতে।
76 – গাফির
ٱدْخُلُوٓاۡ أَبْوَٰبَ جَهَنَّمَ خَٰلِدِينَ فِيهَاۖ فَبِئْسَ مَثْوَى ٱلْمُتَكَبِّرِينَ
তোমরা জাহান্নামের বিভিন্ন দরজা দিয়ে প্রবেশ কর তাতে স্থায়ীভাবে অবস্থিতির জন্য, আর কতই না নিকৃষ্ট উদ্ধতদের আবাসস্থল!
77 – গাফির
فَٱصْبِرْ إِنَّ وَعْدَ ٱللَّهِ حَقٌّۚ فَإِمَّا نُرِيَنَّكَ بَعْضَ ٱلَّذِى نَعِدُهُمْ أَوْ نَتَوَفَّيَنَّكَ فَإِلَيْنَا يُرْجَعُونَ
সুতরাং তুমি ধৈর্য ধারণ কর। আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য। আমি তাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি প্রদান করি তার কিছু যদি দেখিয়েই দিই অথবা তোমার মৃত্যু ঘটাই – তাদের প্রত্যাবর্তনতো আমারই নিকট।
78 – গাফির
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلًا مِّن قَبْلِكَ مِنْهُم مَّن قَصَصْنَا عَلَيْكَ وَمِنْهُم مَّن لَّمْ نَقْصُصْ عَلَيْكَۗ وَمَا كَانَ لِرَسُولٍ أَن يَأْتِىَ بِـَٔايَةٍ إِلَّا بِإِذْنِ ٱللَّهِۚ فَإِذَا جَآءَ أَمْرُ ٱللَّهِ قُضِىَ بِٱلْحَقِّ وَخَسِرَ هُنَالِكَ ٱلْمُبْطِلُونَ
আমিতো তোমার পূর্বে অনেক রাসূল প্রেরণ করেছিলাম; তাদের কারও কারও কথা তোমার নিকট বিবৃত করেছি এবং কারও কারও কথা তোমার নিকট বিবৃত করিনি। আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোন নিদর্শন উপস্থিত করা কোন রাসূলের কাজ নয়। আল্লাহর আদেশ এলে, ন্যায় সংগতভাবে ফাইসালা হয়ে যাবে। তখন মিথ্যাশ্রয়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
79 – গাফির
ٱللَّهُ ٱلَّذِى جَعَلَ لَكُمُ ٱلْأَنْعَٰمَ لِتَرْكَبُواۡ مِنْهَا وَمِنْهَا تَأْكُلُونَ
আল্লাহই তোমাদের জন্য চতুস্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছেন, কতক আরোহণ করার জন্য এবং কতক তোমরা আহার করে থাক।
80 – গাফির
وَلَكُمْ فِيهَا مَنَٰفِعُ وَلِتَبْلُغُواۡ عَلَيْهَا حَاجَةً فِى صُدُورِكُمْ وَعَلَيْهَا وَعَلَى ٱلْفُلْكِ تُحْمَلُونَ
এতে তোমাদের জন্য রয়েছে প্রচুর উপকার; তোমরা যা প্রয়োজন বোধ কর এটা দ্বারা তা পূর্ণ করে থাক এবং এদের উপর ও নৌযানের উপর তোমাদেরকে বহন করা হয়।
81 – গাফির
وَيُرِيكُمْ ءَايَٰتِهِۦ فَأَىَّ ءَايَٰتِ ٱللَّهِ تُنكِرُونَ
তিনি তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনাবলী দেখিয়ে থাকেন। সুতরাং তোমরা আল্লাহর কোন্ কোন্ নি‘আমাত অস্বীকার করবে?
82 – গাফির
أَفَلَمْ يَسِيرُواۡ فِى ٱلْأَرْضِ فَيَنظُرُواۡ كَيْفَ كَانَ عَٰقِبَةُ ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْۚ كَانُوٓاۡ أَكْثَرَ مِنْهُمْ وَأَشَدَّ قُوَّةً وَءَاثَارًا فِى ٱلْأَرْضِ فَمَآ أَغْنَىٰ عَنْهُم مَّا كَانُواۡ يَكْسِبُونَ
তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করেনি ও দেখেনি তাদের পূর্ববর্তীদের কি পরিণাম হয়েছিল? পৃথিবীতে তারা ছিল এদের অপেক্ষা সংখ্যায় অধিক এবং শক্তিতে ও কীর্তিতে অধিক প্রবল। তারা যা করত তা তাদের কোন কাজে আসেনি।
83 – গাফির
فَلَمَّا جَآءَتْهُمْ رُسُلُهُم بِٱلْبَيِّنَٰتِ فَرِحُواۡ بِمَا عِندَهُم مِّنَ ٱلْعِلْمِ وَحَاقَ بِهِم مَّا كَانُواۡ بِهِۦ يَسْتَهْزِءُونَ
তাদের নিকট যখন স্পষ্ট নিদর্শনসহ তাদের রাসূল আসত তখন তারা নিজেদের জ্ঞানের দম্ভ করত। তারা যা নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রুপ করত তাই তাদেরকে বেষ্টন করল।
84 – গাফির
فَلَمَّا رَأَوْاۡ بَأْسَنَا قَالُوٓاۡ ءَامَنَّا بِٱللَّهِ وَحْدَهُۥ وَكَفَرْنَا بِمَا كُنَّا بِهِۦ مُشْرِكِينَ
অতঃপর যখন তারা আমার শাস্তি প্রত্যক্ষ করল তখন বললঃ আমরা এক আল্লাহয়ই ঈমান আনলাম এবং আমরা তাঁর সাথে যাদেরকে শরীক করতাম তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করলাম।
85 – গাফির
فَلَمْ يَكُ يَنفَعُهُمْ إِيمَٰنُهُمْ لَمَّا رَأَوْاۡ بَأْسَنَاۖ سُنَّتَ ٱللَّهِ ٱلَّتِى قَدْ خَلَتْ فِى عِبَادِهِۦۖ وَخَسِرَ هُنَالِكَ ٱلْكَٰفِرُونَ
তারা যখন আমার শাস্তি প্রত্যক্ষ করল তখন তাদের ঈমান তাদের কোন উপকারে এলোনা। আল্লাহর এই বিধান পূর্ব হতেই তার বান্দাদের মধ্যে চলে আসছে এবং সেই ক্ষেত্রে কাফিরেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

41 নং সূরা – ফুসসিলাত (হা-মীম সিজদাহ) – فُصِّلَت

মাক্বী – আয়াত সংখ্যা: 54
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

01 – ফুসসিলাত
حمٓ
হা মীম।
02 – ফুসসিলাত
تَنزِيلٌ مِّنَ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
ইহা দয়াময়, পরম দয়ালুর নিকট হতে অবতীর্ণ।
03 – ফুসসিলাত
كِتَٰبٌ فُصِّلَتْ ءَايَٰتُهُۥ قُرْءَانًا عَرَبِيًّا لِّقَوْمٍ يَعْلَمُونَ
এটা এক কিতাব, বিশদভাবে বিবৃত হয়েছে এর আয়াতসমূহ আরাবী ভাষায়, কুরআনরূপে জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য –
04 – ফুসসিলাত
بَشِيرًا وَنَذِيرًا فَأَعْرَضَ أَكْثَرُهُمْ فَهُمْ لَا يَسْمَعُونَ
সুসংবাদ দাতা ও সতর্ককারীরূপে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিমুখ হয়েছে। সুতরাং তারা শুনবে না।
05 – ফুসসিলাত
وَقَالُواۡ قُلُوبُنَا فِىٓ أَكِنَّةٍ مِّمَّا تَدْعُونَآ إِلَيْهِ وَفِىٓ ءَاذَانِنَا وَقْرٌ وَمِنۢ بَيْنِنَا وَبَيْنِكَ حِجَابٌ فَٱعْمَلْ إِنَّنَا عَٰمِلُونَ
তারা বলেঃ তুমি যার প্রতি আমাদেরকে আহবান করছ সেই বিষয়ে আমাদের অন্তর আবরণে আচ্ছাদিত, কর্ণে আছে বধিরতা এবং তোমার ও আমাদের মধ্যে আছে অন্তরাল; সুতরাং তুমি তোমার কাজ কর এবং আমরা আমাদের কাজ করি।
06 – ফুসসিলাত
قُلْ إِنَّمَآ أَنَا۠ بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ يُوحَىٰٓ إِلَىَّ أَنَّمَآ إِلَٰهُكُمْ إِلَٰهٌ وَٰحِدٌ فَٱسْتَقِيمُوٓاۡ إِلَيْهِ وَٱسْتَغْفِرُوهُۗ وَوَيْلٌ لِّلْمُشْرِكِينَ
বলঃ আমিতো তোমাদের মতই একজন মানুষ, আমার প্রতি অহী হয় যে, তোমাদের মা‘বূদ একমাত্র মা‘বূদ। অতএব তাঁরই পথ দৃঢ়ভাবে অবলম্বন কর এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর। দুর্ভোগ অংশীবাদীদের জন্য –
07 – ফুসসিলাত
ٱلَّذِينَ لَا يُؤْتُونَ ٱلزَّكَوٰةَ وَهُم بِٱلْءَاخِرَةِ هُمْ كَٰفِرُونَ
যারা যাকাত প্রদান করেনা এবং তারা আখিরাতেও অবিশ্বাসী।
08 – ফুসসিলাত
إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواۡ وَعَمِلُواۡ ٱلصَّٰلِحَٰتِ لَهُمْ أَجْرٌ غَيْرُ مَمْنُونٍ
যারা ঈমান আনে ও সৎ কাজ করে তাদের জন্য রয়েছে নিরবচ্ছিন্ন পুরস্কার।
09 – ফুসসিলাত
قُلْ أَئِنَّكُمْ لَتَكْفُرُونَ بِٱلَّذِى خَلَقَ ٱلْأَرْضَ فِى يَوْمَيْنِ وَتَجْعَلُونَ لَهُۥٓ أَندَادًاۚ ذَٰلِكَ رَبُّ ٱلْعَٰلَمِينَ
বলঃ তোমরা কি তাকে অস্বীকার করবেই যিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন দুই দিনে এবং তোমরা তাঁর সমকক্ষ দাঁড় করাতে চাও? তিনিতো জগতসমূহের রাব্ব।
10 – ফুসসিলাত
وَجَعَلَ فِيهَا رَوَٰسِىَ مِن فَوْقِهَا وَبَٰرَكَ فِيهَا وَقَدَّرَ فِيهَآ أَقْوَٰتَهَا فِىٓ أَرْبَعَةِ أَيَّامٍ سَوَآءً لِّلسَّآئِلِينَ
তিনি স্থাপন করেছেন অটল পর্বতমালা ভূপৃষ্ঠে এবং তাতে রেখেছেন কল্যাণ এবং চার দিনে ব্যবস্থা করেছেন খাদ্যের – সমভাবে, যাঞ্চাকারীদের জন্য।
11 – ফুসসিলাত
ثُمَّ ٱسْتَوَىٰٓ إِلَى ٱلسَّمَآءِ وَهِىَ دُخَانٌ فَقَالَ لَهَا وَلِلْأَرْضِ ٱئْتِيَا طَوْعًا أَوْ كَرْهًا قَالَتَآ أَتَيْنَا طَآئِعِينَ
অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোনিবেশ করেন যা ছিল ধূম্রপুঞ্জ বিশেষ। অতঃপর তিনি ওটাকে এবং পৃথিবীকে বললেনঃ তোমরা উভয়ে এসো স্বেচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়। তারা বললঃ আমরা এলাম অনুগত হয়ে।
12 – ফুসসিলাত
فَقَضَىٰهُنَّ سَبْعَ سَمَٰوَاتٍ فِى يَوْمَيْنِ وَأَوْحَىٰ فِى كُلِّ سَمَآءٍ أَمْرَهَاۚ وَزَيَّنَّا ٱلسَّمَآءَ ٱلدُّنْيَا بِمَصَٰبِيحَ وَحِفْظًاۚ ذَٰلِكَ تَقْدِيرُ ٱلْعَزِيزِ ٱلْعَلِيمِ
অতঃপর তিনি আকাশমন্ডলীকে দুই দিনে সপ্তাকাশে পরিণত করলেন এবং প্রত্যেক আকাশে উহার বিধান ব্যক্ত করলেন এবং আমি নিকটবর্তী আকাশকে সুশোভিত করলাম প্রদীপমালা দ্বারা এবং করলাম সুরক্ষিত। এটা পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহর ব্যবস্থাপনা।
13 – ফুসসিলাত
فَإِنْ أَعْرَضُواۡ فَقُلْ أَنذَرْتُكُمْ صَٰعِقَةً مِّثْلَ صَٰعِقَةِ عَادٍ وَثَمُودَ
তবুও তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে বলঃ আমিতো তোমাদেরকে সতর্ক করছি এক ধ্বংসকর শাস্তির; আদ ও সামূদ জাতির অনুরূপ।
14 – ফুসসিলাত
إِذْ جَآءَتْهُمُ ٱلرُّسُلُ مِنۢ بَيْنِ أَيْدِيهِمْ وَمِنْ خَلْفِهِمْ أَلَّا تَعْبُدُوٓاۡ إِلَّا ٱللَّهَۖ قَالُواۡ لَوْ شَآءَ رَبُّنَا لَأَنزَلَ مَلَٰٓئِكَةً فَإِنَّا بِمَآ أُرْسِلْتُم بِهِۦ كَٰفِرُونَ
যখন তাদের নিকট রাসূলগণ এসেছিল তাদের সম্মুখ ও পশ্চাৎ হতে এবং বলেছিলঃ তোমরা আল্লাহ ব্যতীত কারও ইবাদাত করনা তখন তারা বলেছিলঃ আমাদের রবের এই রূপ ইচ্ছা হলে তিনি অবশ্যই মালাক/ফেরেশতা প্রেরণ করতেন। অতএব তোমরা যাসহ প্রেরিত হয়েছ আমরা তা প্রত্যাখ্যান করছি।
15 – ফুসসিলাত
فَأَمَّا عَادٌ فَٱسْتَكْبَرُواۡ فِى ٱلْأَرْضِ بِغَيْرِ ٱلْحَقِّ وَقَالُواۡ مَنْ أَشَدُّ مِنَّا قُوَّةًۖ أَوَلَمْ يَرَوْاۡ أَنَّ ٱللَّهَ ٱلَّذِى خَلَقَهُمْ هُوَ أَشَدُّ مِنْهُمْ قُوَّةًۖ وَكَانُواۡ بِـَٔايَٰتِنَا يَجْحَدُونَ
আর ‘আদ সম্প্রদায়ের ব্যাপার এই যে, তারা পৃথিবীতে অযথা দম্ভ করত এবং বলতঃ আমাদের অপেক্ষা শক্তিশালী কে আছে? তারা কি তাহলে লক্ষ্য করেনি, যে আল্লাহ তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন তিনি তাদের অপেক্ষা শক্তিশালী? অথচ তারা আমার নিদর্শনাবলীকে অস্বীকার করত।
16 – ফুসসিলাত
فَأَرْسَلْنَا عَلَيْهِمْ رِيحًا صَرْصَرًا فِىٓ أَيَّامٍ نَّحِسَاتٍ لِّنُذِيقَهُمْ عَذَابَ ٱلْخِزْىِ فِى ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَاۖ وَلَعَذَابُ ٱلْءَاخِرَةِ أَخْزَىٰۖ وَهُمْ لَا يُنصَرُونَ
অতঃপর আমি তাদেরকে পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি আস্বাদন করার জন্য তাদের বিরূদ্ধে প্রেরণ করেছিলাম ঝঞ্ঝা-বায়ু, অমঙ্গলজনক দিনে। আখিরাতের শাস্তিতো অধিকতর লাঞ্ছনাদায়ক এবং তাদের সাহায্য করা হবেনা।
17 – ফুসসিলাত
وَأَمَّا ثَمُودُ فَهَدَيْنَٰهُمْ فَٱسْتَحَبُّواۡ ٱلْعَمَىٰ عَلَى ٱلْهُدَىٰ فَأَخَذَتْهُمْ صَٰعِقَةُ ٱلْعَذَابِ ٱلْهُونِ بِمَا كَانُواۡ يَكْسِبُونَ
আর সামূদ সম্প্রদায়ের ব্যাপার এই যে, আমি তাদেরকে পথ নির্দেশ করেছিলাম, কিন্তু তারা সৎ পথের পরিবর্তে ভ্রান্ত পথ অবলম্বন করেছিল। অতঃপর তাদেরকে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি আঘাত হানলো তাদের কৃতকর্মের পরিণাম স্বরূপ।
18 – ফুসসিলাত
وَنَجَّيْنَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواۡ وَكَانُواۡ يَتَّقُونَ
আমি উদ্ধার করলাম তাদেরকে যারা ঈমান এনেছিল এবং যারা তাকওয়া অবলম্বন করত।
19 – ফুসসিলাত
وَيَوْمَ يُحْشَرُ أَعْدَآءُ ٱللَّهِ إِلَى ٱلنَّارِ فَهُمْ يُوزَعُونَ
যেদিন আল্লাহর শত্রুদেরকে জাহান্নাম অভিমুখে সমবেত করা হবে সেদিন তাদেরকে বিন্যস্ত করা হবে বিভিন্ন দলে।
20 – ফুসসিলাত
حَتَّىٰٓ إِذَا مَا جَآءُوهَا شَهِدَ عَلَيْهِمْ سَمْعُهُمْ وَأَبْصَٰرُهُمْ وَجُلُودُهُم بِمَا كَانُواۡ يَعْمَلُونَ
পরিশেষে যখন তারা জাহান্নামের সন্নিকটে পৌঁছবে তখন তাদের কান, চোখ ও ত্বক তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে সাক্ষ্য দিবে।
21 – ফুসসিলাত
وَقَالُواۡ لِجُلُودِهِمْ لِمَ شَهِدتُّمْ عَلَيْنَاۖ قَالُوٓاۡ أَنطَقَنَا ٱللَّهُ ٱلَّذِىٓ أَنطَقَ كُلَّ شَىْءٍ وَهُوَ خَلَقَكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ
জাহান্নামীরা তাদের ত্বককে জিজ্ঞেস করবেঃ তোমরা আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছ কেন? উত্তরে তারা বলবেঃ আল্লাহ! যিনি সব কিছুকে বাকশক্তি দিয়েছেন তিনি আমাদেরকেও বাকশক্তি দিয়েছেন। তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন প্রথমবার এবং তাঁরই নিকট তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।
22 – ফুসসিলাত
وَمَا كُنتُمْ تَسْتَتِرُونَ أَن يَشْهَدَ عَلَيْكُمْ سَمْعُكُمْ وَلَآ أَبْصَٰرُكُمْ وَلَا جُلُودُكُمْ وَلَٰكِن ظَنَنتُمْ أَنَّ ٱللَّهَ لَا يَعْلَمُ كَثِيرًا مِّمَّا تَعْمَلُونَ
তোমরা কিছু গোপন করতে না এই বিশ্বাসে যে, তোমাদের কর্ণ, চক্ষু এবং ত্বক তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবেনা; উপরন্ত তোমরা মনে করতে যে, তোমরা যা করতে তার অনেক কিছুই আল্লাহ জানেননা।
23 – ফুসসিলাত
وَذَٰلِكُمْ ظَنُّكُمُ ٱلَّذِى ظَنَنتُم بِرَبِّكُمْ أَرْدَىٰكُمْ فَأَصْبَحْتُم مِّنَ ٱلْخَٰسِرِينَ
তোমাদের রাব্ব সম্বন্ধে তোমাদের এই ধারণাই তোমাদের ধ্বংস এনেছে। ফলে তোমরা হয়েছ ক্ষতিগ্রস্ত।
24 – ফুসসিলাত
فَإِن يَصْبِرُواۡ فَٱلنَّارُ مَثْوًى لَّهُمْۖ وَإِن يَسْتَعْتِبُواۡ فَمَا هُم مِّنَ ٱلْمُعْتَبِينَ
এখন তারা ধৈর্য ধারণ করলেও জাহান্নামই হবে তাদের আবাস স্থল এবং তারা অনুগ্রহ চাইলেও অনুগ্রহ প্রাপ্ত হবেনা।
25 – ফুসসিলাত
وَقَيَّضْنَا لَهُمْ قُرَنَآءَ فَزَيَّنُواۡ لَهُم مَّا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَحَقَّ عَلَيْهِمُ ٱلْقَوْلُ فِىٓ أُمَمٍ قَدْ خَلَتْ مِن قَبْلِهِم مِّنَ ٱلْجِنِّ وَٱلْإِنسِۖ إِنَّهُمْ كَانُواۡ خَٰسِرِينَ
আমি তাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম সহচর যারা তাদের সম্মুখ ও পশ্চাতে যা আছে তা তাদের দৃষ্টিতে শোভন করে দেখিয়েছিল এবং তাদের ব্যাপারেও তাদের পূর্ববর্তী জিন ও মানবদের ন্যায় শাস্তির কথা বাস্তব হয়েছে। তারাতো ছিল ক্ষতিগ্রস্ত।
26 – ফুসসিলাত
وَقَالَ ٱلَّذِينَ كَفَرُواۡ لَا تَسْمَعُواۡ لِهَٰذَا ٱلْقُرْءَانِ وَٱلْغَوْاۡ فِيهِ لَعَلَّكُمْ تَغْلِبُونَ
কাফিরেরা বলেঃ তোমরা এই কুরআন শ্রবণ করনা এবং তা আবৃত্তি কালে শোরগোল সৃষ্টি কর যাতে তোমরা জয়ী হতে পার।
27 – ফুসসিলাত
فَلَنُذِيقَنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُواۡ عَذَابًا شَدِيدًا وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَسْوَأَ ٱلَّذِى كَانُواۡ يَعْمَلُونَ
আমি অবশ্যই কাফিরদের কঠিন শাস্তি আস্বাদন করাব এবং নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে নিকৃষ্ট কার্যকলাপের প্রতিফল দিব –
28 – ফুসসিলাত
ذَٰلِكَ جَزَآءُ أَعْدَآءِ ٱللَّهِ ٱلنَّارُۖ لَهُمْ فِيهَا دَارُ ٱلْخُلْدِۖ جَزَآءًۢ بِمَا كَانُواۡ بِـَٔايَٰتِنَا يَجْحَدُونَ
জাহান্নাম; এটাই আল্লাহর শত্রুদের পরিণাম; সেখানে তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী আবাস, আমার নিদর্শনাবলী অস্বীকৃতির প্রতিফল স্বরূপ।
29 – ফুসসিলাত
وَقَالَ ٱلَّذِينَ كَفَرُواۡ رَبَّنَآ أَرِنَا ٱلَّذَيْنِ أَضَلَّانَا مِنَ ٱلْجِنِّ وَٱلْإِنسِ نَجْعَلْهُمَا تَحْتَ أَقْدَامِنَا لِيَكُونَا مِنَ ٱلْأَسْفَلِينَ
কাফিরেরা বলবেঃ হে আমাদের রাব্ব! যে সব জিন ও মানুষ আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল তাদের উভয়কে দেখিয়ে দিন, আমরা উভয়কে পদদলিত করব, যাতে তারা লাঞ্ছিত হয়।
30 – ফুসসিলাত
إِنَّ ٱلَّذِينَ قَالُواۡ رَبُّنَا ٱللَّهُ ثُمَّ ٱسْتَقَٰمُواۡ تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ ٱلْمَلَٰٓئِكَةُ أَلَّا تَخَافُواۡ وَلَا تَحْزَنُواۡ وَأَبْشِرُواۡ بِٱلْجَنَّةِ ٱلَّتِى كُنتُمْ تُوعَدُونَ
যারা বলেঃ আমাদের রাব্ব আল্লাহ! অতঃপর অবিচল থাকে, তাদের নিকট অবতীর্ণ হয় মালাইকা (ফেরেশতা) এবং বলেঃ তোমরা ভীত হয়োনা, চিন্তিত হয়োনা এবং তোমাদেরকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল তার জন্য আনন্দিত হও।
31 – ফুসসিলাত
نَحْنُ أَوْلِيَآؤُكُمْ فِى ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا وَفِى ٱلْءَاخِرَةِۖ وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَشْتَهِىٓ أَنفُسُكُمْ وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَدَّعُونَ
আমরাই তোমাদের বন্ধু – দুনিয়ার জীবনে ও আখিরাতে। সেখানে তোমাদের জন্য রয়েছে যা কিছু তোমাদের মন চায় এবং সেখানে তোমাদের জন্য রয়েছে যা তোমরা ফরমায়েস কর।
32 – ফুসসিলাত
نُزُلًا مِّنْ غَفُورٍ رَّحِيمٍ
এটা হবে ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু আল্লাহর পক্ষ হতে আপ্যায়ন।
33 – ফুসসিলাত
وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِّمَّن دَعَآ إِلَى ٱللَّهِ وَعَمِلَ صَٰلِحًا وَقَالَ إِنَّنِى مِنَ ٱلْمُسْلِمِينَ
ঐ ব্যক্তি অপেক্ষা কথায় কে উত্তম যে আল্লাহর প্রতি মানুষকে আহবান করে, সৎ কাজ করে এবং বলেঃ আমিতো আত্মসমর্পনকারীদের অন্তর্ভুক্ত।
34 – ফুসসিলাত
وَلَا تَسْتَوِى ٱلْحَسَنَةُ وَلَا ٱلسَّيِّئَةُۚ ٱدْفَعْ بِٱلَّتِى هِىَ أَحْسَنُ فَإِذَا ٱلَّذِى بَيْنَكَ وَبَيْنَهُۥ عَدَٰوَةٌ كَأَنَّهُۥ وَلِىٌّ حَمِيمٌ
ভাল কাজ এবং মন্দ কাজ সমান হতে পারেনা। মন্দ প্রতিহত কর উৎকৃষ্ট দ্বারা; ফলে তোমার সাথে যার শত্রুতা আছে সে হয়ে যাবে অন্তরঙ্গ বন্ধুর মত।
35 – ফুসসিলাত
وَمَا يُلَقَّىٰهَآ إِلَّا ٱلَّذِينَ صَبَرُواۡ وَمَا يُلَقَّىٰهَآ إِلَّا ذُو حَظٍّ عَظِيمٍ
এই গুণের অধিকারী করা হয় শুধু তাদেরকেই যারা ধৈর্যশীল, এই গুণের অধিকারী করা হয় শুধু তাদেরকেই যারা মহা ভাগ্যবান।
36 – ফুসসিলাত
وَإِمَّا يَنزَغَنَّكَ مِنَ ٱلشَّيْطَٰنِ نَزْغٌ فَٱسْتَعِذْ بِٱللَّهِۖ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلسَّمِيعُ ٱلْعَلِيمُ
যদি শাইতানের কু-মন্ত্রণা তোমাকে প্ররোচিত করে তাহলে আল্লাহকে স্মরণ করবে; তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
37 – ফুসসিলাত
وَمِنْ ءَايَٰتِهِ ٱلَّيْلُ وَٱلنَّهَارُ وَٱلشَّمْسُ وَٱلْقَمَرُۚ لَا تَسْجُدُواۡ لِلشَّمْسِ وَلَا لِلْقَمَرِ وَٱسْجُدُواۡ لِلَّهِ ٱلَّذِى خَلَقَهُنَّ إِن كُنتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُونَ
তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে রাত ও দিন, সূর্য ও চাঁদ। তোমরা সূর্যকে সাজদাহ করনা, চাঁদকেও নয়; সাজদাহ কর আল্লাহকে, যিনি এগুলি সৃষ্টি করেছেন, যদি তোমরা প্রকৃতই তাঁর ইবাদাত কর।
38 – ফুসসিলাত
فَإِنِ ٱسْتَكْبَرُواۡ فَٱلَّذِينَ عِندَ رَبِّكَ يُسَبِّحُونَ لَهُۥ بِٱلَّيْلِ وَٱلنَّهَارِ وَهُمْ لَا يَسْـَٔمُونَ۩
তারা অহংকার করলেও যারা তোমার রবের সান্নিধ্যে রয়েছে তারাতো দিন ও রাতে তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে এবং তারা ক্লান্তিও বোধ করেনা। [সাজদাহ]
39 – ফুসসিলাত
وَمِنْ ءَايَٰتِهِۦٓ أَنَّكَ تَرَى ٱلْأَرْضَ خَٰشِعَةً فَإِذَآ أَنزَلْنَا عَلَيْهَا ٱلْمَآءَ ٱهْتَزَّتْ وَرَبَتْۚ إِنَّ ٱلَّذِىٓ أَحْيَاهَا لَمُحْىِ ٱلْمَوْتَىٰٓۚ إِنَّهُۥ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ
আর তাঁর একটি নিদর্শন এই যে, তুমি ভূমিকে দেখতে পাও শুষ্ক উষর, অতঃপর আমি তাতে বৃষ্টি বর্ষণ করলে তা আন্দোলিত ও স্ফীত হয়; যিনি জীব দেন তিনিই মৃতের জীবন দানকারী। তিনিতো সর্ব বিষয়ে সর্ব শক্তিমান।
40 – ফুসসিলাত
إِنَّ ٱلَّذِينَ يُلْحِدُونَ فِىٓ ءَايَٰتِنَا لَا يَخْفَوْنَ عَلَيْنَآۗ أَفَمَن يُلْقَىٰ فِى ٱلنَّارِ خَيْرٌ أَم مَّن يَأْتِىٓ ءَامِنًا يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِۚ ٱعْمَلُواۡ مَا شِئْتُمْۖ إِنَّهُۥ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ
যারা আমার আয়াতসমূহকে বিকৃত করে তারা আমার অগোচর নয়। শ্রেষ্ঠ কে? যে ব্যক্তি জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে সে, নাকি যে কিয়ামাত দিবসে নিরাপদে থাকবে সে? তোমাদের যা ইচ্ছা তা কর; তোমরা যা কর তিনি তার দ্রষ্টা।
41 – ফুসসিলাত
إِنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُواۡ بِٱلذِّكْرِ لَمَّا جَآءَهُمْۖ وَإِنَّهُۥ لَكِتَٰبٌ عَزِيزٌ
যারা তাদের নিকট কুরআন আসার পর তা প্রত্যাখ্যান করে তাদের মধ্যে চিন্তা ভাবনার অভাব রয়েছে। ইহা অবশ্যই এক মহিমাময় গ্রন্থ।
42 – ফুসসিলাত
لَّا يَأْتِيهِ ٱلْبَٰطِلُ مِنۢ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلَا مِنْ خَلْفِهِۦۖ تَنزِيلٌ مِّنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ
কোন মিথ্যা এতে অনুপ্রবেশ করবেনা। সম্মুখ হতেও নয়, পশ্চাৎ হতেও নয়; এটা প্রজ্ঞাময় প্রশংসা আল্লাহর নিকট হতে অবতীর্ণ।
43 – ফুসসিলাত
مَّا يُقَالُ لَكَ إِلَّا مَا قَدْ قِيلَ لِلرُّسُلِ مِن قَبْلِكَۚ إِنَّ رَبَّكَ لَذُو مَغْفِرَةٍ وَذُو عِقَابٍ أَلِيمٍ
তোমার সম্বন্ধেতো তাই বলা হয় যা বলা হত তোমার পূর্ববর্তী রাসূলদের সম্পর্কে। তোমার রাব্ব অবশ্যই ক্ষমাশীল এবং কঠিন শাস্তিদাতা।
44 – ফুসসিলাত
وَلَوْ جَعَلْنَٰهُ قُرْءَانًا أَعْجَمِيًّا لَّقَالُواۡ لَوْلَا فُصِّلَتْ ءَايَٰتُهُۥٓۖ ءَا۬عْجَمِىٌّ وَعَرَبِىٌّۗ قُلْ هُوَ لِلَّذِينَ ءَامَنُواۡ هُدًى وَشِفَآءٌۖ وَٱلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ فِىٓ ءَاذَانِهِمْ وَقْرٌ وَهُوَ عَلَيْهِمْ عَمًىۚ أُوۡلَٰٓئِكَ يُنَادَوْنَ مِن مَّكَانٍۭ بَعِيدٍ
আমি যদি আরাবী ভাষায় কুরআন অবতীর্ণ না করতাম তাহলে তারা অবশ্যই বলত, এর আয়াতগুলি বিশদভাবে বিবৃত হয়নি কেন? কি আশ্চর্য যে, এর ভাষা আজমী, অথচ রাসূল আরাবীয়। বলঃ মু’মিনদের জন্য ইহা (কুরআন) পথ নির্দেশ ও ব্যাধির প্রতিকার। কিন্তু যারা অবিশ্বাসী তাদের কর্ণে রয়েছে বধিরতা এবং কুরআন হবে তাদের জন্য অন্ধত্ব। তারা এমন যে, যেন তাদেরকে আহবান করা হয় বহু দূর হতে।
45 – ফুসসিলাত
وَلَقَدْ ءَاتَيْنَا مُوسَى ٱلْكِتَٰبَ فَٱخْتُلِفَ فِيهِۗ وَلَوْلَا كَلِمَةٌ سَبَقَتْ مِن رَّبِّكَ لَقُضِىَ بَيْنَهُمْۚ وَإِنَّهُمْ لَفِى شَكٍّ مِّنْهُ مُرِيبٍ
আমিতো মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম, অতঃপর এতে মতভেদ ঘটেছিল। তোমার রবের পক্ষ হতে পূর্ব সিদ্ধান্ত না থাকলে তাদের মীমাংসা হয়ে যেত। তারা অবশ্যই এ সম্বন্ধে বিভ্রান্তকর সন্দেহে রয়েছে।
46 – ফুসসিলাত
مَّنْ عَمِلَ صَٰلِحًا فَلِنَفْسِهِۦۖ وَمَنْ أَسَآءَ فَعَلَيْهَاۗ وَمَا رَبُّكَ بِظَلَّٰمٍ لِّلْعَبِيدِ
যে সৎ কাজ করে সে নিজের কল্যাণের জন্যই তা করে এবং কেহ মন্দ কাজ করলে ওর প্রতিফল সে’ই ভোগ করবে। তোমার রাব্ব বান্দাদের প্রতি কোন যুলম করেন না।
47 – ফুসসিলাত
إِلَيْهِ يُرَدُّ عِلْمُ ٱلسَّاعَةِۚ وَمَا تَخْرُجُ مِن ثَمَرَٰتٍ مِّنْ أَكْمَامِهَا وَمَا تَحْمِلُ مِنْ أُنثَىٰ وَلَا تَضَعُ إِلَّا بِعِلْمِهِۦۚ وَيَوْمَ يُنَادِيهِمْ أَيْنَ شُرَكَآءِى قَالُوٓاۡ ءَاذَنَّٰكَ مَا مِنَّا مِن شَهِيدٍ
কিয়ামাতের জ্ঞান শুধু আল্লাহর কাছেই ন্যস্ত, তাঁর অজ্ঞাতসারে কোন ফল আবরণ হতে বের হয়না, কোন নারী গর্ভধারণ করেনা এবং সন্তানও প্রসব করেনা। যেদিন আল্লাহ তাদেরকে ডেকে বলবেনঃ আমার শরীকরা কোথায়? তখন তারা বলবেঃ আমরা আপনার নিকট নিবেদন করছি যে, এ ব্যাপারে আমরা কিছুই জানিনা।
48 – ফুসসিলাত
وَضَلَّ عَنْهُم مَّا كَانُواۡ يَدْعُونَ مِن قَبْلُۖ وَظَنُّواۡ مَا لَهُم مِّن مَّحِيصٍ
পূর্বে তারা যাদেরকে আহবান করত তারা অদৃশ্য হয়ে যাবে এবং অংশীবাদীরা উপলদ্ধি করবে যে, তাদের নিস্কৃতির কোন উপায় নেই।
49 – ফুসসিলাত
لَّا يَسْـَٔمُ ٱلْإِنسَٰنُ مِن دُعَآءِ ٱلْخَيْرِ وَإِن مَّسَّهُ ٱلشَّرُّ فَيَـُٔوسٌ قَنُوطٌ
মানুষ ধন-সম্পদ প্রার্থনায় কোন ক্লান্তি বোধ করেনা, কিন্তু যখন তাকে দুঃখ দৈন্য স্পর্শ করে তখন সে অত্যন্ত নিরাশ ও হতাশ হয়ে পড়ে।
50 – ফুসসিলাত
وَلَئِنْ أَذَقْنَٰهُ رَحْمَةً مِّنَّا مِنۢ بَعْدِ ضَرَّآءَ مَسَّتْهُ لَيَقُولَنَّ هَٰذَا لِى وَمَآ أَظُنُّ ٱلسَّاعَةَ قَآئِمَةً وَلَئِن رُّجِعْتُ إِلَىٰ رَبِّىٓ إِنَّ لِى عِندَهُۥ لَلْحُسْنَىٰۚ فَلَنُنَبِّئَنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُواۡ بِمَا عَمِلُواۡ وَلَنُذِيقَنَّهُم مِّنْ عَذَابٍ غَلِيظٍ
দুঃখ দৈন্য স্পর্শ করার পর যদি তাকে আমি অনুগ্রহের আস্বাদ দিই তখন সে বলেই থাকেঃ এটা আমার প্রাপ্য এবং আমি মনে করিনা যে, কিয়ামাত সংঘটিত হবে; আর আমি যদি আমার রবের নিকট প্রত্যাবর্তিত হইও তাহলে তাঁর নিকটতো আমার জন্য কল্যাণই থাকবে। আমি কাফিরদেরকে তাদের কৃতকর্ম সম্বন্ধে অবশ্যই অবহিত করব এবং তাদেরকে আস্বাদন করাব কঠোর শাস্তি।
51 – ফুসসিলাত
وَإِذَآ أَنْعَمْنَا عَلَى ٱلْإِنسَٰنِ أَعْرَضَ وَنَـَٔا بِجَانِبِهِۦ وَإِذَا مَسَّهُ ٱلشَّرُّ فَذُو دُعَآءٍ عَرِيضٍ
যখন আমি মানুষের প্রতি অনুগ্রহ করি তখন সে মুখ ফিরিয়ে নেয় ও দূরে সরে যায় এবং তাকে অনিষ্টতা স্পর্শ করলে সে তখন দীর্ঘ প্রার্থনায় রত হয়।
52 – ফুসসিলাত
قُلْ أَرَءَيْتُمْ إِن كَانَ مِنْ عِندِ ٱللَّهِ ثُمَّ كَفَرْتُم بِهِۦ مَنْ أَضَلُّ مِمَّنْ هُوَ فِى شِقَاقٍۭ بَعِيدٍ
বলঃ তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি এই কুরআন আল্লাহর নিকট থেকে অবতীর্ণ হয়ে থাকে এবং তোমরা ইহা প্রত্যাখ্যান কর, তাহলে যে ব্যক্তি ঘোর বিরুদ্ধাচরণে লিপ্ত সে অপেক্ষা অধিক বিভ্রান্ত আর কে?
53 – ফুসসিলাত
سَنُرِيهِمْ ءَايَٰتِنَا فِى ٱلْءَافَاقِ وَفِىٓ أَنفُسِهِمْ حَتَّىٰ يَتَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُ ٱلْحَقُّۗ أَوَلَمْ يَكْفِ بِرَبِّكَ أَنَّهُۥ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍ شَهِيدٌ
আমি শীঘ্র তাদের জন্য আমার নিদর্শনাবলী ব্যক্ত করব বিশ্বজগতে এবং তাদের নিজেদের মধ্যে। ফলে তাদের নিকট সুস্পষ্ট হয়ে উঠবে যে ওটাই সত্য। এটা কি যথেষ্ট নয় যে, তোমার রাব্ব সর্ব বিষয়ে অবহিত?
54 – ফুসসিলাত
أَلَآ إِنَّهُمْ فِى مِرْيَةٍ مِّن لِّقَآءِ رَبِّهِمْۗ أَلَآ إِنَّهُۥ بِكُلِّ شَىْءٍ مُّحِيطٌۢ
জেনে রেখ, এরা এদের রবের সাথে সাক্ষাৎকারে সন্ধিহান। জেনে রেখ, সব কিছুকে আল্লাহ পরিবেষ্টন করে রেখেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

শাইখ আব্দুর রব আফ্ফান- দাওয়াহ ওয়া তাবলীগ ক্লাস, বিষয়- আকিদা (শবেবরাত)-২০, তাং- ১০-৫-২০১৭
শাইখ সাইফুদ্দিন বেলাল মাদানী – DWT class, বিষয়- রাসূলের আনুগত্য- ১৮, তাং- ১৭-০৮-২০১৭
শাইখ সাইফুদ্দিন বেলালা মাদানী- কুরবানী-২০১৭, তাং- ১০-০৮-২০১৭
শাইখ জাকির হুসাইন- দাওয়াহ ওয়া তবলীগ ক্লাস, বিষয়- আরবী ভাষা শিক্ষা-৫, তাং- ২০-১১-২০১৬
শাইখ সাইফুদ্দিন বেলাল – DWT ক্লাস, বিষয়- যিলহজ্জ্ব মাসের ১০ দিনের আমল ও ফযিল, তাং- ১-৮-২০১৭
আহলি সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদা, শাইখ সাইফুদ্দিন বেলাল মাদানী
© Dawah wa Tablig since 2013