দ্বীন ও দ্বীনের বুঝ
Posted at July 18, 2020 7:26 am by Md Shamsul Alam
| Posted In
Islam
দ্বীন
মুহাম্মাদ (সাঃ) আল্লাহ সুবহানাহুতা‘আলর নিকট থেকে অহী পাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত দ্বীন সম্পর্ক কোন কিছু জানতেন না। তাই নির্দ্বিধায় বলা যায় দ্বীন হচ্ছে আল্লাহর অহী।
দ্বীনের বুঝ
মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) জীব্রাঈল আমিন থেকে যে ভাবে দ্বীন বুঝেছিলেন এবং তিনি তাঁর আসহাবদেরকে যে ভাবে দ্বীনকে বুঝিয়েছিলেন এবং রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর আসহাবগণ তাঁর নিকট থেকে দ্বীনকে যে ভাবে বুঝেছিলেন সেটাই দ্বীনের বুঝ বা দ্বীনের সঠিক বুঝ।
এ দুনিয়াতে বর্তমান ২০২০ (ইসাই সন) মুসলিম (সুন্নি) সমাজে দ্বীনের বুঝ।
বর্তমানে মুসলিম সমাজ ইসলামকে বুঝে বা জানে বহু ভাবে। এগুলো নিয়ে আলোচনা করতে গেলে বড়-সর আলোচনার প্রয়োজন। সংক্ষেপে কিছু আলোচনা করলে চুম্বক ধারণা পাওয়া যাবে।
সাধারণ জনগণ দ্বীন তার বাপদাদার থেকে পেয়ে থাকে। এবং তারা ভাবে আমার বাপ-দাদাগণ যে দ্বীন পালন করেছেন সেটাই আমার জন্য সঠিক। তখন দ্বীনের খুটিনাটি বিষয় জানার জন্য সে খুজতে থাকে যে দ্বীন আমার বাপ-দাদাগণ পালন করেছেন তার পক্ষের আলিমগণকে।
আমাদের দেশে প্রচলিত আলিম সমাজ বহু ভাগে বিভক্ত।
- কুরআন ও সহীহ হাদীস থেকে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ও তাঁর আসহাবগণ যে ভাবে দ্বীন বুঝেছিলেন সে ভাবে বুঝে তার অনুসারী বা মান্যকারী এবং এর বাহিরে যা আছে তারা পরিত্যাগকারী এবং এর বাহিরের সকল কিছু যা আকিদা ও ইবাদতের বিষয় তা জঘণ্য পাপ বিদাত বলে জ্ঞানকারী। এ প্রকার চরিত্রের আলিমগণও মূল চরিত্র থেকে কিছুটা সরে যেয়ে বেশ কয়েক ভাগে বিভ্ক্ত হয়েগেছে।
- কুরআন ও সহীহ হাদীস মানার কথা মুখে বললেও কার্যত তারা প্রচলিত চার মাজহাবের আওতায় তা বুঝে তার অনুসারী বা মান্যকারী এবং এর বাহিরে যা কিছু আছে তার সম্পর্কে আকিদা বিষয়ে তারা কুরআন ও সহীহ হাদীসের অনুকুলে কঠোর কিন্তু আমলী বিষয়ে যেগুলো মতপাথ্যর্ক আছে তা সবই জায়েজ বলে এবং এ ব্যাপারে সহীহ ও যঈফ হাদীসের কোন বিষয় তাদের কাছে ধরতব্য নয়।
- কুরআন ও সহীহ হাদীস মানার কথা মুখে বললেও কার্যত তারা প্রচলিত চার মাজহাবের কোন একটির আওতায় তা বুঝে তার অনুসারী বা মান্যকারী বলে দাবি করলেও তারা আকিদা বিষয়ে যুক্তি তর্ককে কুরআন ও সহীহ হাদীসের উপর প্রাধান্য দানকারী এ ক্ষেত্রে বিদাত, শিরক ও কুফুর তাদের কাছে কিছু নয় এবং কুরআনের আয়াতের ও সহীহ হাদীসের অপব্যাখ্যাকারী এবং এর বাহিরে যা কিছু আছে তা কুরআন ও সহীহ হাদীস হলেও তা তারা পরিত্যাগকারী ও জাল যঈফ হাদীস তাদের মাজহাবের অনুকুলের হলে তা গ্রহণকারী এবং এর বাহিরে সকল কিছু এমন কি কুরআন ও সহীহ হাদীসে কথা হলেও তাকে তারা ফিতনা সৃষ্টিকারী, বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী বলে এবং তাকে বল প্রয়োগ করে দমনকারী। এ প্রকার চরিত্রের আলিমগণও অনেক ভাগে বিভক্ত।
এর সমাধান অহীর সংরক্ষণ ও প্রচার।
- আহলি সুন্নাত ওয়াল জামাতের সকল মূল ইমামগণ ও মহাদ্দিসগণ এর (যারা তাবে তাবেইনগণকে পেয়েছেন) তাদের দ্বারা বাছাই কৃত সহীহ হাদীস গ্রন্থগুলো সংরক্ষণ।
- এসব ইমামগণের লিখিত হাদীস বাছাই করা সম্পর্কে এবং হাদীস সংশ্লিষ্ট সকল কিতাব সংরক্ষণ করা।
- এসব ইমামগণের লিখিত ঈমান আকিদা ও আমল সম্পর্কে লিখিত সকল কিতাব সংরক্ষণ করা।
- এসব বিশুদ্ধ অহীর গ্রন্থ থেকে ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ের মাসালা গ্রহণ করে তা সুবিন্যাস্ত করে রেফারেন্স সাজায়ে লিখে সংরক্ষণ করা।
- মানুষ ভুল-ত্রুটির উর্দ্ধে নয় তাই যে কোন ধরনের ভুল-ভ্রান্তি সংশোধন করার ব্যাবস্থা রাখা।
- এসব কিতাবগুলো আধুনিক তত্ত্ব প্রযুক্তি ব্যাবহার করে দ্রুত একসেস বা প্রবেশ বা অনুশন্ধান বা দালিলীক প্রমাণ উপস্থাপনের কৌশল গ্রহণ করা।
- অহীর প্রচার ও প্রসারে উপরোক্ত তত্ত্ব প্রযুক্তি ব্যাব্হার করে তা ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়া যেমন- ইন্টারনেট ওয়েভ-সাইট, কম্পিউটার এ্যাপস, মোবাইল এ্যাপ্যাস তৈরী করে মানুষের মধ্যে ছড়ায়ে দেওয়া।